
১৪ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:২৫
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
প্রচুর ভিটামিন সি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা–সম্পন্ন অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ জনপ্রিয় ফল পেয়ারার রাজধানী বরিশালে এর উৎপাদন বছরে ৪০ হাজার টন অতিক্রম করতে যাচ্ছে। বছরে প্রায় পৌনে ২শ কোটি টাকার পেয়ারার বাজার তৈরি হয়েছে ইতোমধ্যে। এমনকি বরিশালের পেয়ারা বাজার ইতোমধ্যে সারা দেশে সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিকভাবে তা সীমান্ত অতিক্রম করে পার্শ্ববর্তী দেশের আগরতলা, শিলং, জলপাইগুড়ি, নিউ জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং বনগাঁওসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। ভালো দাম পেয়ে বরিশালের কৃষিযোদ্ধাগণও পেয়ারা আবাদে আরও আগ্রহী হচ্ছেন বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল মহল। চলতি মৌসুমে খোলা বাজারে প্রতি কেজি পেয়ারা ৬০–৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাগান পর্যায়ে অবশ্য উৎপাদকরা ৪০ টাকার বেশি দাম পাচ্ছেন না। পাইকারি হাটে এসে তা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এমনকি পেয়ারা বিপণনে আটঘর কুড়িয়ানা ও ভিমরুলি এলাকায় বিশাল ভাসমান পেয়ারার হাট ইতোমধ্যে এ অঞ্চলের অর্থনীতির বিশাল চালিকাশক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে। শুধু পেয়ারা বেচাকেনাই নয়, এ ভাসমান হাট ও পেয়ারার বাগান দেখতেও প্রতিদিন সারাদেশের বিপুল সংখ্যক পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে আটঘর কুড়িয়ানা ও ভিমরুলি এলাকা। ফলে পেয়ারা উৎপাদন ও বিপণনকে ঘিরে পর্যটন শিল্পও নতুন হাতছানি দিচ্ছে এ এলাকায়। এসব পর্যটকের কাছে বরিশাল একটি ট্রানজিট পয়েন্ট। রাজধানী ঢাকা–সহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকগণ বরিশালে পৌঁছে এখান থেকে পেয়ারা বাগান ও ভাসমান পেয়ারা হাট দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন।
এমনকি ‘মকুন্দপুরি’সহ সনাতন জাতের পেয়ারা–সাথে আমাদের কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বারি’ উদ্ভাবিত ‘কাজী পেয়ারা’, ‘বারি পেয়ারা–২’, ‘বারি পেয়ারা–৩’, বীজবিহীন ‘বারি পেয়ারা–৪’ এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত ‘বাউ পেয়ারা–১’ থেকে ‘বাউ পেয়ারা–৯’ এবং ‘থাই পেয়ারা–৫’ ও ‘থাই পেয়ারা–৭’ নামের উন্নতমানের সুমিষ্ট পেয়ারা আবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে। ইতোমধ্যে এ অঞ্চলে পেয়ারার আবাদ ১০ হাজার একর অতিক্রম করেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)–এর মতে, দেশে বর্তমানে যে প্রায় ৪০ হাজার একরে পেয়ারার আবাদ হচ্ছে, এককভাবে বরিশালেই তার অবদান প্রায় ১০ সহস্রাধিক একর। প্রতিবছরই এ অঞ্চলে পেয়ারার আবাদ ও উৎপাদন বাড়ছে। এমনকি গত কয়েকটি বছর ধরে কাজী পেয়ারা ও থাই পেয়ারা আবাদ সম্প্রসারণে এক ধরনের নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে এ অঞ্চলে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরিশালের ইসাকাঠী ও রহমতপুরে হর্টিকালচার নার্সারি ছাড়াও লেবুখালী নার্সারি থেকে সব সময়ই উন্নত জাত ও মানের পেয়ারার চারা ও কলম সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
ভিটামিন–সি–সমৃদ্ধ পেয়ারা মূলত গ্রীষ্মকালীন ফল হলেও কৃষিবিজ্ঞানের কল্যাণে এখন তা সারা বছরই উৎপাদন হচ্ছে। এমনকি সরাসরি ফল হিসেবে খাবার পাশাপাশি পেয়ারা দিয়ে এখন জ্যাম ও জেলি ছাড়াও জুস পর্যন্ত তৈরি হচ্ছে সারা বিশ্বে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দক্ষিণাঞ্চলের লক্ষাধিক হেক্টর জমিতে বছরে ২৫ লক্ষাধিক টন বিভিন্ন ধরনের ফল উৎপাদন হলেও এ অঞ্চলে আজ পর্যন্ত কোনো প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে উঠেনি।
অথচ এ অঞ্চলে উৎপাদিত প্রায় ৩০ হাজার টন আমড়া ও ৩০ হাজার টন পেয়ারা সাথে পৌনে ৪ লাখ টন ইলিশ মাছ নিয়ে একটি ইপিজেড বা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতির বিশ্লেষকগণ। এছাড়াও প্রায় ১৪ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত বরিশাল কৃষি অঞ্চলে যে প্রায় ১৭ লাখ টন সবজি উৎপাদন হচ্ছে, তারও অনেকগুলোই প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। তবে বিশ্বের যে শতাধিক দেশে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি হচ্ছে, সেখানের বরিশালের সবজিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
উর্বর বেলে দো–আঁশ মাটিতে পেয়ারা আবাদে পরামর্শ দিয়ে থাকেন কৃষিবিদগণ। জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পেয়ারার চারা বা কলম রোপণের উপযুক্ত সময়। চারা থেকে চারার দূরত্ব ৪ মিটার এবং ৩ মিটার দূরত্বের লাইনে পেয়ারা চারা রোপণ অত্যন্ত আদর্শ ও উপযুক্ত বলে মনে করেন কৃষিবিদগণ। রোপণের আগে ৫০ সেন্টিমিটার বা দেড় হাত দৈর্ঘ্য–প্রস্থ ও গভীর গর্ত করে সেখানে ১৫–২০ কেজি গোবর, ১–২ কেজি পচা খৈল এবং ১৫০ গ্রাম টিএসপি ও ৭৫–১০০ গ্রাম এমওপি সার প্রয়োগ করে গর্ত বুজিয়ে ১৫–২০ দিন পরে সেখানে চারা রোপণের পরামর্শ দিয়েছেন কৃষিবিদগণ। মাটিতে রসের অভাব হলে খরার সময় ২–৩ বার সেচ প্রয়োগ করতে হবে।
পেয়ারার ভালো ফলন পেতে গাছের অঙ্গছাঁটাই, ডাল নুয়ে দেওয়া, ফল পাতলাকরণ এবং ফল ঢেকে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন কৃষিবিদগণ। পাশাপাশি সুষ্ঠু সার ও বালাই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করারও তাগিদ দিয়েছেন কৃষিবিদগণ।
পেয়ারার বাগান ও গাছে ‘অ্যানথ্রাকনোজ’, ‘উইল্ট বা ঢলে পড়া’ রোগ ছাড়াও ‘সাদা মাছি পোকা’র আক্রমণ অত্যন্ত ক্ষতিকর। এসব বালাই থেকে পেয়ারা ফল ও গাছকে রক্ষায় আক্রান্ত পাতা ও ডগা ছাঁটাই করে ধ্বংস করা ছাড়াও ‘ইমিডাক্লোপ্রিড’ গ্রুপের কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলিলিটার হারে ১০ দিন অন্তর ২–৩ বার স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষিবিদগণ।
প্রচুর ভিটামিন সি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা–সম্পন্ন অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ জনপ্রিয় ফল পেয়ারার রাজধানী বরিশালে এর উৎপাদন বছরে ৪০ হাজার টন অতিক্রম করতে যাচ্ছে। বছরে প্রায় পৌনে ২শ কোটি টাকার পেয়ারার বাজার তৈরি হয়েছে ইতোমধ্যে। এমনকি বরিশালের পেয়ারা বাজার ইতোমধ্যে সারা দেশে সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিকভাবে তা সীমান্ত অতিক্রম করে পার্শ্ববর্তী দেশের আগরতলা, শিলং, জলপাইগুড়ি, নিউ জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং বনগাঁওসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। ভালো দাম পেয়ে বরিশালের কৃষিযোদ্ধাগণও পেয়ারা আবাদে আরও আগ্রহী হচ্ছেন বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল মহল। চলতি মৌসুমে খোলা বাজারে প্রতি কেজি পেয়ারা ৬০–৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাগান পর্যায়ে অবশ্য উৎপাদকরা ৪০ টাকার বেশি দাম পাচ্ছেন না। পাইকারি হাটে এসে তা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এমনকি পেয়ারা বিপণনে আটঘর কুড়িয়ানা ও ভিমরুলি এলাকায় বিশাল ভাসমান পেয়ারার হাট ইতোমধ্যে এ অঞ্চলের অর্থনীতির বিশাল চালিকাশক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে। শুধু পেয়ারা বেচাকেনাই নয়, এ ভাসমান হাট ও পেয়ারার বাগান দেখতেও প্রতিদিন সারাদেশের বিপুল সংখ্যক পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে আটঘর কুড়িয়ানা ও ভিমরুলি এলাকা। ফলে পেয়ারা উৎপাদন ও বিপণনকে ঘিরে পর্যটন শিল্পও নতুন হাতছানি দিচ্ছে এ এলাকায়। এসব পর্যটকের কাছে বরিশাল একটি ট্রানজিট পয়েন্ট। রাজধানী ঢাকা–সহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকগণ বরিশালে পৌঁছে এখান থেকে পেয়ারা বাগান ও ভাসমান পেয়ারা হাট দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন।
এমনকি ‘মকুন্দপুরি’সহ সনাতন জাতের পেয়ারা–সাথে আমাদের কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বারি’ উদ্ভাবিত ‘কাজী পেয়ারা’, ‘বারি পেয়ারা–২’, ‘বারি পেয়ারা–৩’, বীজবিহীন ‘বারি পেয়ারা–৪’ এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত ‘বাউ পেয়ারা–১’ থেকে ‘বাউ পেয়ারা–৯’ এবং ‘থাই পেয়ারা–৫’ ও ‘থাই পেয়ারা–৭’ নামের উন্নতমানের সুমিষ্ট পেয়ারা আবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে। ইতোমধ্যে এ অঞ্চলে পেয়ারার আবাদ ১০ হাজার একর অতিক্রম করেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)–এর মতে, দেশে বর্তমানে যে প্রায় ৪০ হাজার একরে পেয়ারার আবাদ হচ্ছে, এককভাবে বরিশালেই তার অবদান প্রায় ১০ সহস্রাধিক একর। প্রতিবছরই এ অঞ্চলে পেয়ারার আবাদ ও উৎপাদন বাড়ছে। এমনকি গত কয়েকটি বছর ধরে কাজী পেয়ারা ও থাই পেয়ারা আবাদ সম্প্রসারণে এক ধরনের নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে এ অঞ্চলে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরিশালের ইসাকাঠী ও রহমতপুরে হর্টিকালচার নার্সারি ছাড়াও লেবুখালী নার্সারি থেকে সব সময়ই উন্নত জাত ও মানের পেয়ারার চারা ও কলম সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
ভিটামিন–সি–সমৃদ্ধ পেয়ারা মূলত গ্রীষ্মকালীন ফল হলেও কৃষিবিজ্ঞানের কল্যাণে এখন তা সারা বছরই উৎপাদন হচ্ছে। এমনকি সরাসরি ফল হিসেবে খাবার পাশাপাশি পেয়ারা দিয়ে এখন জ্যাম ও জেলি ছাড়াও জুস পর্যন্ত তৈরি হচ্ছে সারা বিশ্বে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দক্ষিণাঞ্চলের লক্ষাধিক হেক্টর জমিতে বছরে ২৫ লক্ষাধিক টন বিভিন্ন ধরনের ফল উৎপাদন হলেও এ অঞ্চলে আজ পর্যন্ত কোনো প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে উঠেনি।
অথচ এ অঞ্চলে উৎপাদিত প্রায় ৩০ হাজার টন আমড়া ও ৩০ হাজার টন পেয়ারা সাথে পৌনে ৪ লাখ টন ইলিশ মাছ নিয়ে একটি ইপিজেড বা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতির বিশ্লেষকগণ। এছাড়াও প্রায় ১৪ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত বরিশাল কৃষি অঞ্চলে যে প্রায় ১৭ লাখ টন সবজি উৎপাদন হচ্ছে, তারও অনেকগুলোই প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। তবে বিশ্বের যে শতাধিক দেশে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি হচ্ছে, সেখানের বরিশালের সবজিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
উর্বর বেলে দো–আঁশ মাটিতে পেয়ারা আবাদে পরামর্শ দিয়ে থাকেন কৃষিবিদগণ। জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পেয়ারার চারা বা কলম রোপণের উপযুক্ত সময়। চারা থেকে চারার দূরত্ব ৪ মিটার এবং ৩ মিটার দূরত্বের লাইনে পেয়ারা চারা রোপণ অত্যন্ত আদর্শ ও উপযুক্ত বলে মনে করেন কৃষিবিদগণ। রোপণের আগে ৫০ সেন্টিমিটার বা দেড় হাত দৈর্ঘ্য–প্রস্থ ও গভীর গর্ত করে সেখানে ১৫–২০ কেজি গোবর, ১–২ কেজি পচা খৈল এবং ১৫০ গ্রাম টিএসপি ও ৭৫–১০০ গ্রাম এমওপি সার প্রয়োগ করে গর্ত বুজিয়ে ১৫–২০ দিন পরে সেখানে চারা রোপণের পরামর্শ দিয়েছেন কৃষিবিদগণ। মাটিতে রসের অভাব হলে খরার সময় ২–৩ বার সেচ প্রয়োগ করতে হবে।
পেয়ারার ভালো ফলন পেতে গাছের অঙ্গছাঁটাই, ডাল নুয়ে দেওয়া, ফল পাতলাকরণ এবং ফল ঢেকে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন কৃষিবিদগণ। পাশাপাশি সুষ্ঠু সার ও বালাই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করারও তাগিদ দিয়েছেন কৃষিবিদগণ।
পেয়ারার বাগান ও গাছে ‘অ্যানথ্রাকনোজ’, ‘উইল্ট বা ঢলে পড়া’ রোগ ছাড়াও ‘সাদা মাছি পোকা’র আক্রমণ অত্যন্ত ক্ষতিকর। এসব বালাই থেকে পেয়ারা ফল ও গাছকে রক্ষায় আক্রান্ত পাতা ও ডগা ছাঁটাই করে ধ্বংস করা ছাড়াও ‘ইমিডাক্লোপ্রিড’ গ্রুপের কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলিলিটার হারে ১০ দিন অন্তর ২–৩ বার স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষিবিদগণ।

১৭ মার্চ, ২০২৬ ০০:৩৯
আজ ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৭তম জন্মদিন। ১৯২০ সালের এই দিনে ফরিদপুর জেলার তৎকালীন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে সম্ভ্রান্ত শেখ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর তিনি প্রথমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
ব্রিটিশ ভারত এবং পরবর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তানে মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেও তিনি সোচ্চার ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে তাকে বহুবার কারাবরণ করতে হয়।
১৯৬৬ সালে তিনি ঐতিহাসিক ৬ দফা পেশ করেন। ১৯৬৮ সালে তাকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামি করা হয়। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গণঅভ্যুত্থান ও জনগণের চাপের মুখে পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবসহ অন্যান্য আসামিকে মুক্তি দেয়। মুক্তিলাভের পর ছাত্র-জনতা শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দিয়ে সম্মানিত করেন। শিশুকালে ‘খোকা’ নামে পরিচিত মুজিবের ১৯৭১ সালে দেওয়া ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে ইউনেস্কো।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করে আওয়ামী লীগ। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি চালায়। এ প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। ওই বছরের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ঐতিহাসিক ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু। ২৫ মার্চ রাতে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস পাকিস্তানের কারাগারে ছিলেন। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির বাসভবনে সপরিবারের নিহত হন বঙ্গবন্ধু।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দিনটির রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সরকারি ছুটি বাতিল করে। সেইসঙ্গে ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া জাতীয় শিশু দিবস পালনও বন্ধ হয়ে যায়। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে এবারও বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ঘিরে কোনো কর্মসূচি পালন হচ্ছে না।’
আজ ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৭তম জন্মদিন। ১৯২০ সালের এই দিনে ফরিদপুর জেলার তৎকালীন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে সম্ভ্রান্ত শেখ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর তিনি প্রথমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
ব্রিটিশ ভারত এবং পরবর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তানে মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেও তিনি সোচ্চার ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে তাকে বহুবার কারাবরণ করতে হয়।
১৯৬৬ সালে তিনি ঐতিহাসিক ৬ দফা পেশ করেন। ১৯৬৮ সালে তাকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামি করা হয়। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গণঅভ্যুত্থান ও জনগণের চাপের মুখে পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবসহ অন্যান্য আসামিকে মুক্তি দেয়। মুক্তিলাভের পর ছাত্র-জনতা শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দিয়ে সম্মানিত করেন। শিশুকালে ‘খোকা’ নামে পরিচিত মুজিবের ১৯৭১ সালে দেওয়া ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে ইউনেস্কো।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করে আওয়ামী লীগ। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি চালায়। এ প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। ওই বছরের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ঐতিহাসিক ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু। ২৫ মার্চ রাতে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস পাকিস্তানের কারাগারে ছিলেন। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির বাসভবনে সপরিবারের নিহত হন বঙ্গবন্ধু।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দিনটির রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সরকারি ছুটি বাতিল করে। সেইসঙ্গে ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া জাতীয় শিশু দিবস পালনও বন্ধ হয়ে যায়। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে এবারও বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ঘিরে কোনো কর্মসূচি পালন হচ্ছে না।’

১৬ মার্চ, ২০২৬ ২০:২৪
বরিশালে ওষুধ কোম্পানি অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যালসের গ্লোবাল ক্যাপসুল কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে নগরীর রূপাতলী কারখানায় এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, কারখানার বয়লারের জ্বালানির জন্য কাঠের গুড়ি স্তূপ করে রাখা ছিল। অসাবধানতাবশত ওই কাঠের গুড়িতে আগুন লেগে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা খবর পেয়ে ছুটে এসে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কাঠের গুড়ি হওয়ায় পুরোপুরি নিভে যেতে সময় লাগবে।
রবিউল ইসলাম আরও বলেন, কী কারণে আগুনের সূত্রপাত ও কত টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তাৎক্ষণিক জানা সম্ভব নয়, পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক তথ্য জানা যাবে।
বরিশালে ওষুধ কোম্পানি অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যালসের গ্লোবাল ক্যাপসুল কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে নগরীর রূপাতলী কারখানায় এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, কারখানার বয়লারের জ্বালানির জন্য কাঠের গুড়ি স্তূপ করে রাখা ছিল। অসাবধানতাবশত ওই কাঠের গুড়িতে আগুন লেগে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা খবর পেয়ে ছুটে এসে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কাঠের গুড়ি হওয়ায় পুরোপুরি নিভে যেতে সময় লাগবে।
রবিউল ইসলাম আরও বলেন, কী কারণে আগুনের সূত্রপাত ও কত টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তাৎক্ষণিক জানা সম্ভব নয়, পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক তথ্য জানা যাবে।

১৬ মার্চ, ২০২৬ ২০:১৭
বরিশালের বাবুগঞ্জে কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী কিশোরের বিরুদ্ধে। রোববার (১৫ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অগ্নিসংযোগের পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত শিশু রাইসা বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দিনমজুর নজরুল ইসলামের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী বলে জানা গেছে।
মৃত্যুর আগে অগ্নিদগ্ধ রাইসার একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে রাইসাকে বলতে শোনা যায়, আমারে খারাপ জিনিস কইছে, আমি হুনিনাই দেইখা শিফাত আমার গায় আগুন দিছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা তসলিম জানান, রাইসারা এক ভাই, এক বোন। মা তাদের ফেলে রেখে অন্যত্র বিয়ে করেছেন। বড় ভাই ঢাকার একটি ফলের দোকানে চাকরি করেন। বাবা কাঠমিস্ত্রি।
তিনি বলেন, রাইসা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ঘটনার সময় ওর বাবা বাড়িতে ছিল না। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানুষের ডাকাডাকি এবং রাইসার চিৎকার শুনে ওর ঘরের সামনে ছুটে যায়। দেখতে পাই সারা শরীরের দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। দ্রুত এক বাতলি পানি মেরে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। পরে ওরে কোলে নিয়ে পাশে থাকা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আগুন নেভাই।
তসলিম বলেন, ‘রাইসাকে উদ্ধার করে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাই তখন প্রতিবেশী জালাল সিকদারকে রাইসা দেখতে পায়। তখন রাইসা কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকে— জালাল সিকদারের ছেলে শিফাতের জন্য তার শরীরের আগুন লেগেছে।
তবে ঘটনার পর শিফাতকে ঘটনাস্থলের আশপাশে দেখা যায়নি। আদৌ কেউ ওর গায়ে আগুন দিয়েছে নাকি আগুন লেগেছে, অথবা নিজেই আগুন দিয়েছে কিনা আমার জানা নেই।
তসলিম জানান, ঘটনার পর রাইসাকে পার্শ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অবস্থা খারাপ হওয়ায় সেখানেও তাকে না রেখে ঢাকা মেডিকেলের শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করে। সেখানে পৌঁছাতে রাত হয়ে যায়। ভর্তি করে অপারেশন থিয়েটার পর্যন্ত যেতে ২ ঘণ্টা সময় লাগে।
চিকিৎসক জানান, রাইসার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে, অবস্থা ভালো না। এরপর অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই চিকিৎসক জানান রাইসা মারা গেছে। তখন রাত সাড়ে ১০টার মতো বাজতে পারে। বর্তমানে রাইসার মরদেহ মর্গে রয়েছে।
বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মো. এহতেশামুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন একটি ঘটনার ভিডিও দেখেছি। তবে এমন অভিযোগ নিয়ে কেউ থানায় আসেনি বা কেউ পুলিশকে জানায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশালের বাবুগঞ্জে কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী কিশোরের বিরুদ্ধে। রোববার (১৫ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অগ্নিসংযোগের পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত শিশু রাইসা বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দিনমজুর নজরুল ইসলামের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী বলে জানা গেছে।
মৃত্যুর আগে অগ্নিদগ্ধ রাইসার একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে রাইসাকে বলতে শোনা যায়, আমারে খারাপ জিনিস কইছে, আমি হুনিনাই দেইখা শিফাত আমার গায় আগুন দিছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা তসলিম জানান, রাইসারা এক ভাই, এক বোন। মা তাদের ফেলে রেখে অন্যত্র বিয়ে করেছেন। বড় ভাই ঢাকার একটি ফলের দোকানে চাকরি করেন। বাবা কাঠমিস্ত্রি।
তিনি বলেন, রাইসা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ঘটনার সময় ওর বাবা বাড়িতে ছিল না। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানুষের ডাকাডাকি এবং রাইসার চিৎকার শুনে ওর ঘরের সামনে ছুটে যায়। দেখতে পাই সারা শরীরের দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। দ্রুত এক বাতলি পানি মেরে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। পরে ওরে কোলে নিয়ে পাশে থাকা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আগুন নেভাই।
তসলিম বলেন, ‘রাইসাকে উদ্ধার করে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাই তখন প্রতিবেশী জালাল সিকদারকে রাইসা দেখতে পায়। তখন রাইসা কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকে— জালাল সিকদারের ছেলে শিফাতের জন্য তার শরীরের আগুন লেগেছে।
তবে ঘটনার পর শিফাতকে ঘটনাস্থলের আশপাশে দেখা যায়নি। আদৌ কেউ ওর গায়ে আগুন দিয়েছে নাকি আগুন লেগেছে, অথবা নিজেই আগুন দিয়েছে কিনা আমার জানা নেই।
তসলিম জানান, ঘটনার পর রাইসাকে পার্শ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অবস্থা খারাপ হওয়ায় সেখানেও তাকে না রেখে ঢাকা মেডিকেলের শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করে। সেখানে পৌঁছাতে রাত হয়ে যায়। ভর্তি করে অপারেশন থিয়েটার পর্যন্ত যেতে ২ ঘণ্টা সময় লাগে।
চিকিৎসক জানান, রাইসার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে, অবস্থা ভালো না। এরপর অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই চিকিৎসক জানান রাইসা মারা গেছে। তখন রাত সাড়ে ১০টার মতো বাজতে পারে। বর্তমানে রাইসার মরদেহ মর্গে রয়েছে।
বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মো. এহতেশামুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন একটি ঘটনার ভিডিও দেখেছি। তবে এমন অভিযোগ নিয়ে কেউ থানায় আসেনি বা কেউ পুলিশকে জানায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।