Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

০২ অক্টোবর, ২০২৫ ১৪:২৭
বরগুনায় সরকারি টেলিযোগাযোগ সংস্থা বিটিসিএল এর প্রায় ৯ শতাধিক গ্রাহকের কাছে টেলিফোন বিল বকেয়া রয়েছে। আর এসব গ্রাহকের অধিকাংশের প্রকৃত তথ্য জানা না থাকায় এবং জনবল সংকটের কারণে বকেয়া বিল আদায়ে বিড়ম্বনায় পড়ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তাদের ধারণা, বর্তমানে গ্রাহকের কাছে বিল বকেয়া রয়েছে অন্তত অর্ধকোটি টাকা। তবে এসব বকেয়া বিল আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বরগুনার বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ।
টেলিযোগাযোগ সংস্থা বিটিসিএল বরগুনা অফিস সূত্রে জানা যায়, বরগুনায় বকেয়া বিলসহ বিভিন্ন কারণে বর্তমানে ৯ শতাধিক গ্রাহকের সংযোগ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী বরগুনা সদরসহ ছয়টি উপজেলায় মোট ৬৯৪টি টেলিফোন সংযোগ সচল রয়েছে।
এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩৭৪টি, পাথরঘাটায় ৫২টি, আমতলী ৭৭টি, বেতাগী ৫১টি, বামনা ৩৭টি এবং তালতলীতে রয়েছে ২৫টি। এছাড়াও এডিএসএল সংযোগ রয়েছে ৭৮টি এবং জিপন সংযোগ রয়েছে আরও ১০৭৫টি।
বরগুনায় টেলিফোন সার্ভিসের বিভিন্ন সুবিধা পেতে সংযোগ নেওয়া গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিল বকেয়া থাকা ১৫ গ্রাহককে সনাক্ত করছে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ। প্রায় ১০ লাখ টাকা বকেয়া বিল আদায় করতে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেছেন বিটিসিএল।
এছাড়া ৭ লাখ ৫৯ হাজার টাকা বকেয়া বিল আদায় করতে আরও ২০ গ্রাহকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে অনেক গ্রাহকেরই সঠিক পরিচয় এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় খুঁজে না পাওয়ায় বকেয়া আদায়ে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন না বরগুনার বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ।
বিটিসিএল বরগুনা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বরগুনা পৌর শহরের কলেজ রোড নামক এলাকার বাসিন্দা স্বপন কুমার রায় নামে এক গ্রাহকের কাছে টেলিফোন বিল বকেয়া রয়েছে।
তবে ওই এলাকায় স্বপন কুমার বা তার কোনো স্বজনকেও খুঁজে না পাওয়ায় আদায় করা যাচ্ছে না তার কাছে পাওনা টেলিফোন বিলের ২ লাখ ৯ হাজার টাকা। এছাড়াও খোঁজ নেই পৌর শহরের বালিকা বিদ্যালয় সড়কের আরেক গ্রাহক কামরুল ইসলাম কাঞ্চনের। তার কাছেও বর্তমানে টেলিফোন বিল বকেয়া রয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার টাকা। এদের মতোই খোঁজ মিলছে বরগুনার আরও অনেক গ্রাহকের।
সরেজমিনে কলেজ রোড এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তেমন কেউই স্বপন কুমার নামে কাউকে চেনেন না। আবার অনেকে বলেছেন তিনি দীর্ঘদিন আগেই বরগুনা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বর্তমানে তিনি ভারতে বসবাস করছেন এমন কথাও বলছেন অনেকে।
ওই এলাকার স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা শান্তি রঞ্জন সরকার বলেন, এলাকর বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় সকলেরই আমি নাম বলতে পারি। তবে স্বপন কুমার রায় নামে কাউকে আমি চিনি না। এবং তিনি যদি এ এলাকায় থাকেনও তবে তার টেলিফোন সংযোগ ছিল কীনা তা আমার জানা নেই।
কলেজ রোড এলাকায় রতন নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, আমি ছোট থেকেই এ এলাকায় বসবাস করছি, কিন্তু স্বপন কুমার রায় নামে কাউকে চিনি না। এমনকি এ নামের কেউ এ এলাকায় আছেন তাও শুনিনি।
অজয় নামে স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, স্বপন কুমার রায়ের বাবার নাম ছিল স্বর্ণ কর্মকার। রায় বংশ বলে পরিচিত থাকলেও মূলত তারা ছিল কর্মকার। আমি যতটুকু জানি প্রায় ২০-২৫ বছর আগে বরগুনায় থাকা তাদের সকল পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে ভারতে চলে গেছেন।
বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন মেয়াদে এভাবেই বিটিসিএল এর টেলিফোন বিল বকেয়া রয়েছে বরগুনার প্রায় ৯ শতাধিক গ্রাহকের। এদের মধ্যে অনেকেরই পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণ না থাকায় পরিচয় শনাক্ত করতে পারছে না বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ। ফলে আটকে আছে বকেয়া বিল আদায় প্রক্রিয়া।
বিটিসিএল বরগুনা কার্যালয়ের অফিস সহকারী ওবায়দুর রহমান ফজলু বলেন, বরগুনায় ১৯৮০-১৯৯৫ সালের দিকে যে সমস্ত সংযোগ দেওয়া হয়েছে সেখানে শুধুমাত্র গ্রাহকেরই নাম আছে। কোন এলাকার বাসিন্দা এবং গ্রাহকের বাবার নাম কী তাও উল্লেখ নেই। এ কারণেই ওই সময়ে সংযোগ প্রাপ্ত গ্রাহকদের খুঁজে বের করে বকেয়া আদায় করতে পারছি না।
রাষ্ট্রের টাকা কোনোভাবে অনাদায়ী রাখার সুযোগ নেই জানিয়ে বরগুনা জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, গ্রাহকদের যখন সংযোগ দেওয়া হয়েছে তখন ব্যাংকে টাকা জমা নেওয়া হয়েছে। হয়তো তারা কিছু বিল জমাও দিয়েছেন।
ব্যক্তি পর্যায়ে এখন যারা বকেয়া বিল দিচ্ছে না এবং যাদের সনাক্ত করা যাচ্ছে না তাদেরকে ওই সময় যারা সংযোগ দিয়েছেন তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন। বিটিসিএল কোনোভাবেই তাদের দায় দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। বরগুনায় বকেয়া বিল আদায় করতে বিটিসিএল কর্তৃক যেকোনো আইনি পদক্ষেপে আমাদের সহযোগিতা থাকবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বরগুনা টেলিকম উপ-বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. বনি আমিন বলেন, দীর্ঘদিন যাদের বিল বকেয়া থাকে তাদের সংযোগগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় যাতে পরবর্তীতে তাদের বিল আরও বাড়তে না পারে। এছাড়াও বকেয়া থাকা প্রত্যেক গ্রাহককেই আমরা পরপর তিনটি নোটিশ প্রদান করি। নোটিশের জবাব পেলে অথবা না পেলে সেই অনুযায়ী আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের রেভিনিউ শাখা রয়েছে কিন্তু জনবল শূন্য। একজন টেকনিক্যাল পার্সনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার জানাশোনা কম এবং প্রশিক্ষণের ঘাটতিসহ জনবল কম থাকায় সবকিছু সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হয়।
বরগুনায় বকেয়া বিলের প্রকৃত তথ্য অজানা থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, বিটিসিএল এর জিপন সার্ভিসটি আসার পর ২০২২ সালের আগস্ট থেকে অনলাইন সিস্টেম চালু হয়েছে। ওই সময়ের পর থেকে আমাদের সকল গ্রাহকদের তথ্য হালনাগাদ করা আছে।
তবে এর আগে লেজার সিস্টেম থাকায় তা দেখে দেখে ওই সময়ের গ্রাহকদের সনাক্ত করতে হয়। কিন্তু আমাদের জনবল ঘাটতি এবং আগের কপার সিস্টেমে যে গ্রাহক আছেন তাদের বকেয়া বিল এখন পর্যন্ত হালনাগাদ করতে পারিনি। তবে পর্যাপ্ত জনবল পেলে আমরা দ্রুতই সবকিছু হালনাগাদ করতে পারবো।
বরগুনায় সরকারি টেলিযোগাযোগ সংস্থা বিটিসিএল এর প্রায় ৯ শতাধিক গ্রাহকের কাছে টেলিফোন বিল বকেয়া রয়েছে। আর এসব গ্রাহকের অধিকাংশের প্রকৃত তথ্য জানা না থাকায় এবং জনবল সংকটের কারণে বকেয়া বিল আদায়ে বিড়ম্বনায় পড়ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তাদের ধারণা, বর্তমানে গ্রাহকের কাছে বিল বকেয়া রয়েছে অন্তত অর্ধকোটি টাকা। তবে এসব বকেয়া বিল আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বরগুনার বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ।
টেলিযোগাযোগ সংস্থা বিটিসিএল বরগুনা অফিস সূত্রে জানা যায়, বরগুনায় বকেয়া বিলসহ বিভিন্ন কারণে বর্তমানে ৯ শতাধিক গ্রাহকের সংযোগ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী বরগুনা সদরসহ ছয়টি উপজেলায় মোট ৬৯৪টি টেলিফোন সংযোগ সচল রয়েছে।
এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩৭৪টি, পাথরঘাটায় ৫২টি, আমতলী ৭৭টি, বেতাগী ৫১টি, বামনা ৩৭টি এবং তালতলীতে রয়েছে ২৫টি। এছাড়াও এডিএসএল সংযোগ রয়েছে ৭৮টি এবং জিপন সংযোগ রয়েছে আরও ১০৭৫টি।
বরগুনায় টেলিফোন সার্ভিসের বিভিন্ন সুবিধা পেতে সংযোগ নেওয়া গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিল বকেয়া থাকা ১৫ গ্রাহককে সনাক্ত করছে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ। প্রায় ১০ লাখ টাকা বকেয়া বিল আদায় করতে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেছেন বিটিসিএল।
এছাড়া ৭ লাখ ৫৯ হাজার টাকা বকেয়া বিল আদায় করতে আরও ২০ গ্রাহকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে অনেক গ্রাহকেরই সঠিক পরিচয় এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় খুঁজে না পাওয়ায় বকেয়া আদায়ে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন না বরগুনার বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ।
বিটিসিএল বরগুনা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বরগুনা পৌর শহরের কলেজ রোড নামক এলাকার বাসিন্দা স্বপন কুমার রায় নামে এক গ্রাহকের কাছে টেলিফোন বিল বকেয়া রয়েছে।
তবে ওই এলাকায় স্বপন কুমার বা তার কোনো স্বজনকেও খুঁজে না পাওয়ায় আদায় করা যাচ্ছে না তার কাছে পাওনা টেলিফোন বিলের ২ লাখ ৯ হাজার টাকা। এছাড়াও খোঁজ নেই পৌর শহরের বালিকা বিদ্যালয় সড়কের আরেক গ্রাহক কামরুল ইসলাম কাঞ্চনের। তার কাছেও বর্তমানে টেলিফোন বিল বকেয়া রয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার টাকা। এদের মতোই খোঁজ মিলছে বরগুনার আরও অনেক গ্রাহকের।
সরেজমিনে কলেজ রোড এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তেমন কেউই স্বপন কুমার নামে কাউকে চেনেন না। আবার অনেকে বলেছেন তিনি দীর্ঘদিন আগেই বরগুনা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বর্তমানে তিনি ভারতে বসবাস করছেন এমন কথাও বলছেন অনেকে।
ওই এলাকার স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা শান্তি রঞ্জন সরকার বলেন, এলাকর বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় সকলেরই আমি নাম বলতে পারি। তবে স্বপন কুমার রায় নামে কাউকে আমি চিনি না। এবং তিনি যদি এ এলাকায় থাকেনও তবে তার টেলিফোন সংযোগ ছিল কীনা তা আমার জানা নেই।
কলেজ রোড এলাকায় রতন নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, আমি ছোট থেকেই এ এলাকায় বসবাস করছি, কিন্তু স্বপন কুমার রায় নামে কাউকে চিনি না। এমনকি এ নামের কেউ এ এলাকায় আছেন তাও শুনিনি।
অজয় নামে স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, স্বপন কুমার রায়ের বাবার নাম ছিল স্বর্ণ কর্মকার। রায় বংশ বলে পরিচিত থাকলেও মূলত তারা ছিল কর্মকার। আমি যতটুকু জানি প্রায় ২০-২৫ বছর আগে বরগুনায় থাকা তাদের সকল পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে ভারতে চলে গেছেন।
বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন মেয়াদে এভাবেই বিটিসিএল এর টেলিফোন বিল বকেয়া রয়েছে বরগুনার প্রায় ৯ শতাধিক গ্রাহকের। এদের মধ্যে অনেকেরই পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণ না থাকায় পরিচয় শনাক্ত করতে পারছে না বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ। ফলে আটকে আছে বকেয়া বিল আদায় প্রক্রিয়া।
বিটিসিএল বরগুনা কার্যালয়ের অফিস সহকারী ওবায়দুর রহমান ফজলু বলেন, বরগুনায় ১৯৮০-১৯৯৫ সালের দিকে যে সমস্ত সংযোগ দেওয়া হয়েছে সেখানে শুধুমাত্র গ্রাহকেরই নাম আছে। কোন এলাকার বাসিন্দা এবং গ্রাহকের বাবার নাম কী তাও উল্লেখ নেই। এ কারণেই ওই সময়ে সংযোগ প্রাপ্ত গ্রাহকদের খুঁজে বের করে বকেয়া আদায় করতে পারছি না।
রাষ্ট্রের টাকা কোনোভাবে অনাদায়ী রাখার সুযোগ নেই জানিয়ে বরগুনা জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, গ্রাহকদের যখন সংযোগ দেওয়া হয়েছে তখন ব্যাংকে টাকা জমা নেওয়া হয়েছে। হয়তো তারা কিছু বিল জমাও দিয়েছেন।
ব্যক্তি পর্যায়ে এখন যারা বকেয়া বিল দিচ্ছে না এবং যাদের সনাক্ত করা যাচ্ছে না তাদেরকে ওই সময় যারা সংযোগ দিয়েছেন তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন। বিটিসিএল কোনোভাবেই তাদের দায় দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। বরগুনায় বকেয়া বিল আদায় করতে বিটিসিএল কর্তৃক যেকোনো আইনি পদক্ষেপে আমাদের সহযোগিতা থাকবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বরগুনা টেলিকম উপ-বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. বনি আমিন বলেন, দীর্ঘদিন যাদের বিল বকেয়া থাকে তাদের সংযোগগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় যাতে পরবর্তীতে তাদের বিল আরও বাড়তে না পারে। এছাড়াও বকেয়া থাকা প্রত্যেক গ্রাহককেই আমরা পরপর তিনটি নোটিশ প্রদান করি। নোটিশের জবাব পেলে অথবা না পেলে সেই অনুযায়ী আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের রেভিনিউ শাখা রয়েছে কিন্তু জনবল শূন্য। একজন টেকনিক্যাল পার্সনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার জানাশোনা কম এবং প্রশিক্ষণের ঘাটতিসহ জনবল কম থাকায় সবকিছু সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হয়।
বরগুনায় বকেয়া বিলের প্রকৃত তথ্য অজানা থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, বিটিসিএল এর জিপন সার্ভিসটি আসার পর ২০২২ সালের আগস্ট থেকে অনলাইন সিস্টেম চালু হয়েছে। ওই সময়ের পর থেকে আমাদের সকল গ্রাহকদের তথ্য হালনাগাদ করা আছে।
তবে এর আগে লেজার সিস্টেম থাকায় তা দেখে দেখে ওই সময়ের গ্রাহকদের সনাক্ত করতে হয়। কিন্তু আমাদের জনবল ঘাটতি এবং আগের কপার সিস্টেমে যে গ্রাহক আছেন তাদের বকেয়া বিল এখন পর্যন্ত হালনাগাদ করতে পারিনি। তবে পর্যাপ্ত জনবল পেলে আমরা দ্রুতই সবকিছু হালনাগাদ করতে পারবো।

১৫ মার্চ, ২০২৬ ২০:৩৩
বরগুনায় বেশি দামে পেট্রোল বিক্রির করায় মো. আবুল বাসার (৪৮) নামে এক ব্যাবসায়ীকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে লিটার প্রতি ৩০-৪০ টাকা বেশি রাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
রোববার (১৫ মার্চ) বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের পৌর বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন খেজুরতলা নামক এলাকায় ফাহিম স্টোর নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরগুনার বিভিন্ন এলাকার কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিমভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করে অবৈধভাবে বেশি দামে বিক্রি করছেন।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গোপনে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যরা বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি করেন। এ সময় সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের পৌর বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন খেজুরতলা নামক এলাকার ব্যবসায়ী আবুল বাসারকে নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় লিটার প্রতি ৩০-৪০ টাকা বেশি দামে পেট্রোল বিক্রি করতে দেখেন তারা।
এ ছাড়া, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে না রেখে পেছনে থাকা বাড়িতে পেট্রোল রেখে বিক্রি করছিলেন তিনি। পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম আইন অনুযায়ী ব্যবসায়ী মো. আবুল বাসারকে ৬ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা শেষে বরগুনা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বৈশ্বিক একটি প্রেক্ষাপটে সারা দেশে জ্বালানি তেলের একটি কৃত্রিম সংকটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এ সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। আমরা সে লক্ষেই জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছি। আশাকরি বরগুনায় কোনো সংকট তৈরি হবে না। অভিযানে অংশ হিসেবেই ব্যবসায়ী মো. আবুল বাসারকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বরগুনায় কেউ যদি কৃত্রিমভাবে জ্বালানি তেলের সংকট সৃষ্টি করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বরগুনাবাসীকে স্বস্তি দিতে এবং জ্বালানি তেল সংকট রোধে যা যা করা প্রয়োজন জেলা প্রশাসন তাই করবেন।

১২ মার্চ, ২০২৬ ১৯:৫৫
টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল জীবিকা উন্নয়নের লক্ষ্যে কাঁকড়া চাষীদের মাঝে উৎপাদন সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)-এর অর্থায়নে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগিতায় বাস্তবায়িত (আরএইচএল) প্রকল্পের আওতায় কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের (কোডেক) বাস্তবায়নে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা চরদুয়ানী, কাঠালতলী ও পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ২০ জন কাঁকড়া চাষীদের মাঝে বিভিন্ন উৎপাদন সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়।
প্রতি উপকারভোগী সদস্য ১৮০ হাত সুপারির গড়া,১টি ডিজিটাল মিটার স্কেল,১টি পিএইচ ও এমোনিয়া টেস্ট কিট,২০০ গজ বেষ্টনী জাল, ৬টি কাঁকড়ার খাঁচা, ১টি ফিড ট্রেসহ মোট ৯ আইটেমের উৎপাদন সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
এই উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, পাথরঘাটার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো.হাসিবুল হক, প্রকল্প সমন্বয়কারী আবু বকর ছিদ্দিক, এরিয়া ম্যানেজার আসাদুজ্জামান শেখ, পাথরঘাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অমল তালুকদার ও শফিকুল ইসলাম খোকন।
কাঁকড়া চাষি কৃষ্ণা রানী বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে কাঁকড়া চাষ করি। কিন্তু কোন প্রশিক্ষণ ছিলো না। প্রশিক্ষণসহ উপকরণ পেয়ে আমি কাঁকড়া চাষে আরও উদ্বুদ্ধ হয়েছি।
উপজেলা সমন্বয়কারী আবু বকর বলেন, এই উপকরণগুলো কাঁকড়া চাষীদের টেকসই ও বিজ্ঞানভিত্তিক কাঁকড়া চাষে সহায়তা করবে। স্থানীয় জলবায়ুগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাঁকড়া চাষ একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প জীবিকা হিসেবে কাজ করছে। এই সহায়তা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীল জীবিকা গড়ে তুলতে অবদান রাখবে যা আরএইচএল প্রকল্পের অন্যতম মূল লক্ষ্য।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, উপকূলে কাঁকড়া চাষ এখন লাভজনক ও টেকসই। প্রকল্পের আওতায় উপকূলীয় অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য জলবায়ু সহনশীল কাঁকড়া চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে চাষীদের মাঝে। কাঁকড়া চাষে উপকূলীয় জনগণের জীবন ও জীবিকায় স্থায়িত্ব আনবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

১১ মার্চ, ২০২৬ ১৩:৫৪
বরগুনার তালতলীতে গৃহবধূ আছিয়া আক্তার হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় মায়ের হত্যার বিচার দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকা আছিয়ার চার বছরের শিশু সন্তান উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মৌরভী এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ছয় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা ‘আছিয়া হত্যার বিচার চাই’ এবং ‘হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানান।
এ সময় বক্তব্য দেন নিহত আছিয়ার বাবা মজিবর জমাদ্দার, চাচা জাহাঙ্গীর জমাদ্দার, বোন মনিরা বেগম, স্থানীয় মসজিদের ইমামসহ গ্রামবাসী। বক্তারা অভিযোগ করেন, যৌতুকের টাকার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন আছিয়া আক্তার। সামান্য ঈদের কাপড়চোপড়ের টাকা দিতে দেরি হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়।
তারা আরও অভিযোগ করেন, হত্যাকারীরা ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করেছিল। পুলিশ যখন মৃতদেহ উদ্ধার করতে যায়, তখনই আসামিরা পালিয়ে যায়, যা প্রমাণ করে তারা প্রকৃতপক্ষে হত্যাকারী।
নিহত আছিয়ার শিশু সন্তান যে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে ছিল, তাতে লেখা ছিল, ‘বাবা, আমার মাকে ফিরিয়ে দাও। আমার মা কেন কবরে? প্রশাসনের কাছে জবাব চাই।’ হৃদয়বিদারক এ দৃশ্য উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে।
[125311
মানববন্ধনে বক্তারা প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, ‘এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় এলাকাবাসী তালতলী থানা ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।’
তালতলী থানার ওসি আশাদুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। আমরা মামলাটি তদন্ত করছি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
বরিশাল টাইমস
বরগুনায় বেশি দামে পেট্রোল বিক্রির করায় মো. আবুল বাসার (৪৮) নামে এক ব্যাবসায়ীকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে লিটার প্রতি ৩০-৪০ টাকা বেশি রাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
রোববার (১৫ মার্চ) বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের পৌর বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন খেজুরতলা নামক এলাকায় ফাহিম স্টোর নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরগুনার বিভিন্ন এলাকার কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিমভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করে অবৈধভাবে বেশি দামে বিক্রি করছেন।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গোপনে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যরা বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি করেন। এ সময় সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের পৌর বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন খেজুরতলা নামক এলাকার ব্যবসায়ী আবুল বাসারকে নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় লিটার প্রতি ৩০-৪০ টাকা বেশি দামে পেট্রোল বিক্রি করতে দেখেন তারা।
এ ছাড়া, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে না রেখে পেছনে থাকা বাড়িতে পেট্রোল রেখে বিক্রি করছিলেন তিনি। পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম আইন অনুযায়ী ব্যবসায়ী মো. আবুল বাসারকে ৬ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা শেষে বরগুনা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বৈশ্বিক একটি প্রেক্ষাপটে সারা দেশে জ্বালানি তেলের একটি কৃত্রিম সংকটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এ সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। আমরা সে লক্ষেই জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছি। আশাকরি বরগুনায় কোনো সংকট তৈরি হবে না। অভিযানে অংশ হিসেবেই ব্যবসায়ী মো. আবুল বাসারকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বরগুনায় কেউ যদি কৃত্রিমভাবে জ্বালানি তেলের সংকট সৃষ্টি করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বরগুনাবাসীকে স্বস্তি দিতে এবং জ্বালানি তেল সংকট রোধে যা যা করা প্রয়োজন জেলা প্রশাসন তাই করবেন।
টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল জীবিকা উন্নয়নের লক্ষ্যে কাঁকড়া চাষীদের মাঝে উৎপাদন সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)-এর অর্থায়নে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগিতায় বাস্তবায়িত (আরএইচএল) প্রকল্পের আওতায় কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের (কোডেক) বাস্তবায়নে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা চরদুয়ানী, কাঠালতলী ও পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ২০ জন কাঁকড়া চাষীদের মাঝে বিভিন্ন উৎপাদন সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়।
প্রতি উপকারভোগী সদস্য ১৮০ হাত সুপারির গড়া,১টি ডিজিটাল মিটার স্কেল,১টি পিএইচ ও এমোনিয়া টেস্ট কিট,২০০ গজ বেষ্টনী জাল, ৬টি কাঁকড়ার খাঁচা, ১টি ফিড ট্রেসহ মোট ৯ আইটেমের উৎপাদন সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
এই উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, পাথরঘাটার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো.হাসিবুল হক, প্রকল্প সমন্বয়কারী আবু বকর ছিদ্দিক, এরিয়া ম্যানেজার আসাদুজ্জামান শেখ, পাথরঘাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অমল তালুকদার ও শফিকুল ইসলাম খোকন।
কাঁকড়া চাষি কৃষ্ণা রানী বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে কাঁকড়া চাষ করি। কিন্তু কোন প্রশিক্ষণ ছিলো না। প্রশিক্ষণসহ উপকরণ পেয়ে আমি কাঁকড়া চাষে আরও উদ্বুদ্ধ হয়েছি।
উপজেলা সমন্বয়কারী আবু বকর বলেন, এই উপকরণগুলো কাঁকড়া চাষীদের টেকসই ও বিজ্ঞানভিত্তিক কাঁকড়া চাষে সহায়তা করবে। স্থানীয় জলবায়ুগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাঁকড়া চাষ একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প জীবিকা হিসেবে কাজ করছে। এই সহায়তা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীল জীবিকা গড়ে তুলতে অবদান রাখবে যা আরএইচএল প্রকল্পের অন্যতম মূল লক্ষ্য।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, উপকূলে কাঁকড়া চাষ এখন লাভজনক ও টেকসই। প্রকল্পের আওতায় উপকূলীয় অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য জলবায়ু সহনশীল কাঁকড়া চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে চাষীদের মাঝে। কাঁকড়া চাষে উপকূলীয় জনগণের জীবন ও জীবিকায় স্থায়িত্ব আনবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
বরগুনার তালতলীতে গৃহবধূ আছিয়া আক্তার হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় মায়ের হত্যার বিচার দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকা আছিয়ার চার বছরের শিশু সন্তান উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মৌরভী এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ছয় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা ‘আছিয়া হত্যার বিচার চাই’ এবং ‘হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানান।
এ সময় বক্তব্য দেন নিহত আছিয়ার বাবা মজিবর জমাদ্দার, চাচা জাহাঙ্গীর জমাদ্দার, বোন মনিরা বেগম, স্থানীয় মসজিদের ইমামসহ গ্রামবাসী। বক্তারা অভিযোগ করেন, যৌতুকের টাকার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন আছিয়া আক্তার। সামান্য ঈদের কাপড়চোপড়ের টাকা দিতে দেরি হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়।
তারা আরও অভিযোগ করেন, হত্যাকারীরা ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করেছিল। পুলিশ যখন মৃতদেহ উদ্ধার করতে যায়, তখনই আসামিরা পালিয়ে যায়, যা প্রমাণ করে তারা প্রকৃতপক্ষে হত্যাকারী।
নিহত আছিয়ার শিশু সন্তান যে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে ছিল, তাতে লেখা ছিল, ‘বাবা, আমার মাকে ফিরিয়ে দাও। আমার মা কেন কবরে? প্রশাসনের কাছে জবাব চাই।’ হৃদয়বিদারক এ দৃশ্য উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে।
[125311
মানববন্ধনে বক্তারা প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, ‘এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় এলাকাবাসী তালতলী থানা ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।’
তালতলী থানার ওসি আশাদুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। আমরা মামলাটি তদন্ত করছি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
বরিশাল টাইমস