বরগুনায় সরকারি টেলিযোগাযোগ সংস্থা বিটিসিএল এর প্রায় ৯ শতাধিক গ্রাহকের কাছে টেলিফোন বিল বকেয়া রয়েছে। আর এসব গ্রাহকের অধিকাংশের প্রকৃত তথ্য জানা না থাকায় এবং জনবল সংকটের কারণে বকেয়া বিল আদায়ে বিড়ম্বনায় পড়ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তাদের ধারণা, বর্তমানে গ্রাহকের কাছে বিল বকেয়া রয়েছে অন্তত অর্ধকোটি টাকা। তবে এসব বকেয়া বিল আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বরগুনার বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ।
টেলিযোগাযোগ সংস্থা বিটিসিএল বরগুনা অফিস সূত্রে জানা যায়, বরগুনায় বকেয়া বিলসহ বিভিন্ন কারণে বর্তমানে ৯ শতাধিক গ্রাহকের সংযোগ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী বরগুনা সদরসহ ছয়টি উপজেলায় মোট ৬৯৪টি টেলিফোন সংযোগ সচল রয়েছে।
এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩৭৪টি, পাথরঘাটায় ৫২টি, আমতলী ৭৭টি, বেতাগী ৫১টি, বামনা ৩৭টি এবং তালতলীতে রয়েছে ২৫টি। এছাড়াও এডিএসএল সংযোগ রয়েছে ৭৮টি এবং জিপন সংযোগ রয়েছে আরও ১০৭৫টি।
বরগুনায় টেলিফোন সার্ভিসের বিভিন্ন সুবিধা পেতে সংযোগ নেওয়া গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিল বকেয়া থাকা ১৫ গ্রাহককে সনাক্ত করছে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ। প্রায় ১০ লাখ টাকা বকেয়া বিল আদায় করতে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেছেন বিটিসিএল।
এছাড়া ৭ লাখ ৫৯ হাজার টাকা বকেয়া বিল আদায় করতে আরও ২০ গ্রাহকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে অনেক গ্রাহকেরই সঠিক পরিচয় এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় খুঁজে না পাওয়ায় বকেয়া আদায়ে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন না বরগুনার বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ।
বিটিসিএল বরগুনা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বরগুনা পৌর শহরের কলেজ রোড নামক এলাকার বাসিন্দা স্বপন কুমার রায় নামে এক গ্রাহকের কাছে টেলিফোন বিল বকেয়া রয়েছে।
তবে ওই এলাকায় স্বপন কুমার বা তার কোনো স্বজনকেও খুঁজে না পাওয়ায় আদায় করা যাচ্ছে না তার কাছে পাওনা টেলিফোন বিলের ২ লাখ ৯ হাজার টাকা। এছাড়াও খোঁজ নেই পৌর শহরের বালিকা বিদ্যালয় সড়কের আরেক গ্রাহক কামরুল ইসলাম কাঞ্চনের। তার কাছেও বর্তমানে টেলিফোন বিল বকেয়া রয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার টাকা। এদের মতোই খোঁজ মিলছে বরগুনার আরও অনেক গ্রাহকের।
সরেজমিনে কলেজ রোড এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তেমন কেউই স্বপন কুমার নামে কাউকে চেনেন না। আবার অনেকে বলেছেন তিনি দীর্ঘদিন আগেই বরগুনা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বর্তমানে তিনি ভারতে বসবাস করছেন এমন কথাও বলছেন অনেকে।
ওই এলাকার স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা শান্তি রঞ্জন সরকার বলেন, এলাকর বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় সকলেরই আমি নাম বলতে পারি। তবে স্বপন কুমার রায় নামে কাউকে আমি চিনি না। এবং তিনি যদি এ এলাকায় থাকেনও তবে তার টেলিফোন সংযোগ ছিল কীনা তা আমার জানা নেই।
কলেজ রোড এলাকায় রতন নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, আমি ছোট থেকেই এ এলাকায় বসবাস করছি, কিন্তু স্বপন কুমার রায় নামে কাউকে চিনি না। এমনকি এ নামের কেউ এ এলাকায় আছেন তাও শুনিনি।
অজয় নামে স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, স্বপন কুমার রায়ের বাবার নাম ছিল স্বর্ণ কর্মকার। রায় বংশ বলে পরিচিত থাকলেও মূলত তারা ছিল কর্মকার। আমি যতটুকু জানি প্রায় ২০-২৫ বছর আগে বরগুনায় থাকা তাদের সকল পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে ভারতে চলে গেছেন।
বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন মেয়াদে এভাবেই বিটিসিএল এর টেলিফোন বিল বকেয়া রয়েছে বরগুনার প্রায় ৯ শতাধিক গ্রাহকের। এদের মধ্যে অনেকেরই পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণ না থাকায় পরিচয় শনাক্ত করতে পারছে না বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ। ফলে আটকে আছে বকেয়া বিল আদায় প্রক্রিয়া।
বিটিসিএল বরগুনা কার্যালয়ের অফিস সহকারী ওবায়দুর রহমান ফজলু বলেন, বরগুনায় ১৯৮০-১৯৯৫ সালের দিকে যে সমস্ত সংযোগ দেওয়া হয়েছে সেখানে শুধুমাত্র গ্রাহকেরই নাম আছে। কোন এলাকার বাসিন্দা এবং গ্রাহকের বাবার নাম কী তাও উল্লেখ নেই। এ কারণেই ওই সময়ে সংযোগ প্রাপ্ত গ্রাহকদের খুঁজে বের করে বকেয়া আদায় করতে পারছি না।
রাষ্ট্রের টাকা কোনোভাবে অনাদায়ী রাখার সুযোগ নেই জানিয়ে বরগুনা জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, গ্রাহকদের যখন সংযোগ দেওয়া হয়েছে তখন ব্যাংকে টাকা জমা নেওয়া হয়েছে। হয়তো তারা কিছু বিল জমাও দিয়েছেন।
ব্যক্তি পর্যায়ে এখন যারা বকেয়া বিল দিচ্ছে না এবং যাদের সনাক্ত করা যাচ্ছে না তাদেরকে ওই সময় যারা সংযোগ দিয়েছেন তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন। বিটিসিএল কোনোভাবেই তাদের দায় দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। বরগুনায় বকেয়া বিল আদায় করতে বিটিসিএল কর্তৃক যেকোনো আইনি পদক্ষেপে আমাদের সহযোগিতা থাকবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বরগুনা টেলিকম উপ-বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. বনি আমিন বলেন, দীর্ঘদিন যাদের বিল বকেয়া থাকে তাদের সংযোগগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় যাতে পরবর্তীতে তাদের বিল আরও বাড়তে না পারে। এছাড়াও বকেয়া থাকা প্রত্যেক গ্রাহককেই আমরা পরপর তিনটি নোটিশ প্রদান করি। নোটিশের জবাব পেলে অথবা না পেলে সেই অনুযায়ী আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের রেভিনিউ শাখা রয়েছে কিন্তু জনবল শূন্য। একজন টেকনিক্যাল পার্সনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার জানাশোনা কম এবং প্রশিক্ষণের ঘাটতিসহ জনবল কম থাকায় সবকিছু সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হয়।
বরগুনায় বকেয়া বিলের প্রকৃত তথ্য অজানা থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, বিটিসিএল এর জিপন সার্ভিসটি আসার পর ২০২২ সালের আগস্ট থেকে অনলাইন সিস্টেম চালু হয়েছে। ওই সময়ের পর থেকে আমাদের সকল গ্রাহকদের তথ্য হালনাগাদ করা আছে।
তবে এর আগে লেজার সিস্টেম থাকায় তা দেখে দেখে ওই সময়ের গ্রাহকদের সনাক্ত করতে হয়। কিন্তু আমাদের জনবল ঘাটতি এবং আগের কপার সিস্টেমে যে গ্রাহক আছেন তাদের বকেয়া বিল এখন পর্যন্ত হালনাগাদ করতে পারিনি। তবে পর্যাপ্ত জনবল পেলে আমরা দ্রুতই সবকিছু হালনাগাদ করতে পারবো।

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৪৯
বরগুনার উপকূলজুড়ে প্রতিদিনই দৃশ্যপট বদলে দিচ্ছে নদী ও সাগরের ভাঙন। কোথাও জোয়ারের পানিতে হারিয়ে যাচ্ছে সৈকতের অংশ, কোথাও ঢেউয়ের আঘাতে উপড়ে পড়ছে ঝাউগাছ। আবার কোথাও বেড়িবাঁধের মাটি সরে গিয়ে বাড়ছে জনপদ প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা। দীর্ঘদিনের এ ভাঙনে ইতোমধ্যে বসতভিটা, ফসলি জমি, সড়ক ও জীবিকার নানা অবলম্বন হারাচ্ছেন উপকূলের মানুষ।
বরগুনা সদর, তালতলী, পাথরঘাটা ও আমতলী উপজেলার বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে সঙ্কুচিত হচ্ছে নলটোনা ইউনিয়ন। অন্যদিকে সাগরের ভাঙনে ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তালতলীর শুভসন্ধ্যা সৈকত ও সংলগ্ন ঝাউবন। ঢেউয়ের আঘাতে বালু সরে গিয়ে অনেক গাছের শিকড় বেরিয়ে পড়েছে। কোথাও গাছ উপড়ে পড়েছে, আবার কোথাও সৈকতের অংশ চলে গেছে পানির নিচে। লালদিয়া চরেও দেখা দিয়েছে ভাঙনের তীব্রতা। পর্যটনের সম্ভাবনাময় এসব এলাকা রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
নদী ও সাগরঘেঁষা বেড়িবাঁধ নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। অস্বাভাবিক জোয়ার, ঘূর্ণিঝড় ও নিম্নচাপের সময় দুর্বল বাঁধ দিয়ে পানি ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে। বাঁধ ভেঙে বা উপচে পানি ঢুকে পড়লে দ্রুত প্লাবিত হয় বসতবাড়ি ও ফসলের মাঠ। লবণাক্ত পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষিজমি ও মিঠাপানির উৎস।
স্থানীয় পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘন ঘন নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়, অস্বাভাবিক জোয়ার এবং ভূমিক্ষয়ের সম্মিলিত প্রভাবেই বরগুনার উপকূলের ঝুঁকি বাড়ছে। শুধু বাঁধ মেরামত করে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নদী-সাগরের গতিপথ, ভাঙনের ধরন ও ঝুঁকিপূর্ণ জনপদ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঝাউবন, ম্যানগ্রোভসহ প্রাকৃতিক প্রতিরোধব্যবস্থা রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, “বরগুনার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমরা সাধ্যমতো বাঁধ সুরক্ষার চেষ্টা করছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই বরগুনার জন্য কার্যক্রম শুরু করা যাবে।”
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাঙন দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে সাময়িক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ফলে এক মৌসুমে মেরামত করা বাঁধ পরের মৌসুমেই আবার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
পরিবেশবিদদের মতে, বরগুনার উপকূল রক্ষায় এখনই সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা, টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ভাঙন পর্যবেক্ষণ, প্রাকৃতিক বনাঞ্চল সংরক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনপদের জন্য আগাম সুরক্ষা পরিকল্পনা নিতে হবে। অন্যথায় উপকূলীয় জনপদ, কৃষি ও জীবিকার ওপর ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে।
বরগুনার উপকূলজুড়ে প্রতিদিনই দৃশ্যপট বদলে দিচ্ছে নদী ও সাগরের ভাঙন। কোথাও জোয়ারের পানিতে হারিয়ে যাচ্ছে সৈকতের অংশ, কোথাও ঢেউয়ের আঘাতে উপড়ে পড়ছে ঝাউগাছ। আবার কোথাও বেড়িবাঁধের মাটি সরে গিয়ে বাড়ছে জনপদ প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা। দীর্ঘদিনের এ ভাঙনে ইতোমধ্যে বসতভিটা, ফসলি জমি, সড়ক ও জীবিকার নানা অবলম্বন হারাচ্ছেন উপকূলের মানুষ।
বরগুনা সদর, তালতলী, পাথরঘাটা ও আমতলী উপজেলার বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে সঙ্কুচিত হচ্ছে নলটোনা ইউনিয়ন। অন্যদিকে সাগরের ভাঙনে ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তালতলীর শুভসন্ধ্যা সৈকত ও সংলগ্ন ঝাউবন। ঢেউয়ের আঘাতে বালু সরে গিয়ে অনেক গাছের শিকড় বেরিয়ে পড়েছে। কোথাও গাছ উপড়ে পড়েছে, আবার কোথাও সৈকতের অংশ চলে গেছে পানির নিচে। লালদিয়া চরেও দেখা দিয়েছে ভাঙনের তীব্রতা। পর্যটনের সম্ভাবনাময় এসব এলাকা রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
নদী ও সাগরঘেঁষা বেড়িবাঁধ নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। অস্বাভাবিক জোয়ার, ঘূর্ণিঝড় ও নিম্নচাপের সময় দুর্বল বাঁধ দিয়ে পানি ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে। বাঁধ ভেঙে বা উপচে পানি ঢুকে পড়লে দ্রুত প্লাবিত হয় বসতবাড়ি ও ফসলের মাঠ। লবণাক্ত পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষিজমি ও মিঠাপানির উৎস।
স্থানীয় পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘন ঘন নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়, অস্বাভাবিক জোয়ার এবং ভূমিক্ষয়ের সম্মিলিত প্রভাবেই বরগুনার উপকূলের ঝুঁকি বাড়ছে। শুধু বাঁধ মেরামত করে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নদী-সাগরের গতিপথ, ভাঙনের ধরন ও ঝুঁকিপূর্ণ জনপদ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঝাউবন, ম্যানগ্রোভসহ প্রাকৃতিক প্রতিরোধব্যবস্থা রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, “বরগুনার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমরা সাধ্যমতো বাঁধ সুরক্ষার চেষ্টা করছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই বরগুনার জন্য কার্যক্রম শুরু করা যাবে।”
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাঙন দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে সাময়িক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ফলে এক মৌসুমে মেরামত করা বাঁধ পরের মৌসুমেই আবার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
পরিবেশবিদদের মতে, বরগুনার উপকূল রক্ষায় এখনই সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা, টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ভাঙন পর্যবেক্ষণ, প্রাকৃতিক বনাঞ্চল সংরক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনপদের জন্য আগাম সুরক্ষা পরিকল্পনা নিতে হবে। অন্যথায় উপকূলীয় জনপদ, কৃষি ও জীবিকার ওপর ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০২:৫৪
উপকূলীয় জেলা বরগুনায় প্রায় ১৭ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা ২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় জনবল সংকটে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনুমোদিত ৮১টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে প্রশাসনিক দায়িত্বসহ কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৭ জন। নানা কারণে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন না কয়েকজন। ফলে কার্যত ৬ থেকে ৭ জন চিকিৎসককে দিয়ে সামলাতে হচ্ছে বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা জেলায় চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ২৩১টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৭৮ জন। জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের চিত্র আরও সংকটপূর্ণ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কর্মরত চিকিৎসকদের মধ্যে দুজন ওএসডি হিসেবে রয়েছেন। একজন দন্ত চিকিৎসক ও একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। এছাড়া একজন চিকিৎসক যোগদানের পর কর্মস্থলে আর ফেরেননি, একজন রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। আরও চারজন চিকিৎসকের উপস্থিতি সপ্তাহে মাত্র একদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সংখ্যা কার্যত ৬ থেকে ৭ জনে নেমে এসেছে।
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি রয়েছে নার্সেরও ঘাটতি। হাসপাতালটিতে নার্সের অনুমোদিত পদ ১০৯টি। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৬৫ জন।২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন আরও প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী। বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে শিশু ওয়ার্ডে। শিশুদের জন্য নির্ধারিত ৫০টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ভর্তি থাকছে শতাধিক শিশু। ফলে শয্যার সংকটে অনেক শিশুকে মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীর স্বজনদের। এতে শিশুদের চিকিৎসা ও হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।রোগীর স্বজন খোরশেদ আলম মামুন বলেন, 'রোগী অনেক, কিন্তু ডাক্তার খুব কম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ঠিকমতো চিকিৎসা পাওয়া যায় না। চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।'
চিকিৎসা নিতে আসা সোনাকাটা ইউনিয়নের শাকিল বলেন, 'সকালে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এত বড় জেলার হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট থাকা দুঃখজনক। দ্রুত এ সংকটের সমাধান হওয়া দরকার।'
রোগীর স্বজন আল-আমীন বলেন, তাঁর এক বছর বয়সী ছেলে কয়েকদিন ধরে জ্বর ও ঠান্ডায় ভুগছে। একাধিকবার হাসপাতালে এসেও প্রত্যাশিত সেবা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, 'হাসপাতালে চিকিৎসকই যদি না থাকেন, তাহলে আমরা সেবা পাব কীভাবে? উপকূলের মানুষ সারা বছর নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে থাকি। শিশু ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় মেঝেতেও থাকতে হচ্ছে।'
বরগুনা জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি মনির হোসেন কামাল বলেন, 'উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা এই হাসপাতাল। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও নার্স সংকট থাকলেও এর কার্যকর সমাধান হয়নি। দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা না হলে স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ আরও বাড়বে।'
২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে একদিকে রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। ফলে চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় নানা ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্স সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সীমিত জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ বরগুনায় সরকারি চিকিৎসাসেবার ওপর মানুষের নির্ভরতা তুলনামূলক বেশি। ডেঙ্গু, হাম, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় হাসপাতালে রোগীর চাপ আরও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় চিকিৎসক ও নার্সের শূন্যপদ পূরণের পাশাপাশি শিশু ওয়ার্ডসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ জরুরি।
হাসপাতালে অনুমোদিত পদ রয়েছে, রয়েছে অবকাঠামোও; কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেই সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে একদিকে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে। কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্সের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে সেবার মানেও।
উপকূলের বিপুল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তাই দ্রুত চিকিৎসক-নার্সের শূন্যপদ পূরণ, শিশু ওয়ার্ডের শয্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণের দাবি উঠেছে। এখন প্রশ্ন, মাত্র ৬ থেকে ৭ জন কার্যকর চিকিৎসক দিয়ে আর কতদিন সামলানো সম্ভব ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালের বিপুল রোগীর চাপ?
উপকূলীয় জেলা বরগুনায় প্রায় ১৭ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা ২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় জনবল সংকটে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনুমোদিত ৮১টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে প্রশাসনিক দায়িত্বসহ কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৭ জন। নানা কারণে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন না কয়েকজন। ফলে কার্যত ৬ থেকে ৭ জন চিকিৎসককে দিয়ে সামলাতে হচ্ছে বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা জেলায় চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ২৩১টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৭৮ জন। জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের চিত্র আরও সংকটপূর্ণ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কর্মরত চিকিৎসকদের মধ্যে দুজন ওএসডি হিসেবে রয়েছেন। একজন দন্ত চিকিৎসক ও একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। এছাড়া একজন চিকিৎসক যোগদানের পর কর্মস্থলে আর ফেরেননি, একজন রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। আরও চারজন চিকিৎসকের উপস্থিতি সপ্তাহে মাত্র একদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সংখ্যা কার্যত ৬ থেকে ৭ জনে নেমে এসেছে।
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি রয়েছে নার্সেরও ঘাটতি। হাসপাতালটিতে নার্সের অনুমোদিত পদ ১০৯টি। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৬৫ জন।২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন আরও প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী। বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে শিশু ওয়ার্ডে। শিশুদের জন্য নির্ধারিত ৫০টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ভর্তি থাকছে শতাধিক শিশু। ফলে শয্যার সংকটে অনেক শিশুকে মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীর স্বজনদের। এতে শিশুদের চিকিৎসা ও হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।রোগীর স্বজন খোরশেদ আলম মামুন বলেন, 'রোগী অনেক, কিন্তু ডাক্তার খুব কম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ঠিকমতো চিকিৎসা পাওয়া যায় না। চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।'
চিকিৎসা নিতে আসা সোনাকাটা ইউনিয়নের শাকিল বলেন, 'সকালে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এত বড় জেলার হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট থাকা দুঃখজনক। দ্রুত এ সংকটের সমাধান হওয়া দরকার।'
রোগীর স্বজন আল-আমীন বলেন, তাঁর এক বছর বয়সী ছেলে কয়েকদিন ধরে জ্বর ও ঠান্ডায় ভুগছে। একাধিকবার হাসপাতালে এসেও প্রত্যাশিত সেবা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, 'হাসপাতালে চিকিৎসকই যদি না থাকেন, তাহলে আমরা সেবা পাব কীভাবে? উপকূলের মানুষ সারা বছর নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে থাকি। শিশু ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় মেঝেতেও থাকতে হচ্ছে।'
বরগুনা জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি মনির হোসেন কামাল বলেন, 'উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা এই হাসপাতাল। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও নার্স সংকট থাকলেও এর কার্যকর সমাধান হয়নি। দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা না হলে স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ আরও বাড়বে।'
২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে একদিকে রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। ফলে চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় নানা ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্স সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সীমিত জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ বরগুনায় সরকারি চিকিৎসাসেবার ওপর মানুষের নির্ভরতা তুলনামূলক বেশি। ডেঙ্গু, হাম, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় হাসপাতালে রোগীর চাপ আরও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় চিকিৎসক ও নার্সের শূন্যপদ পূরণের পাশাপাশি শিশু ওয়ার্ডসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ জরুরি।
হাসপাতালে অনুমোদিত পদ রয়েছে, রয়েছে অবকাঠামোও; কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেই সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে একদিকে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে। কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্সের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে সেবার মানেও।
উপকূলের বিপুল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তাই দ্রুত চিকিৎসক-নার্সের শূন্যপদ পূরণ, শিশু ওয়ার্ডের শয্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণের দাবি উঠেছে। এখন প্রশ্ন, মাত্র ৬ থেকে ৭ জন কার্যকর চিকিৎসক দিয়ে আর কতদিন সামলানো সম্ভব ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালের বিপুল রোগীর চাপ?

২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৪৮
বরগুনার আমতলীতে আমড়া ও লেবু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৮ বছরের এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হোসেন হাওলাদার আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে শিশুটি সহপাঠীদের সঙ্গে স্থানীয় একটি মসজিদে আরবি পড়তে যাচ্ছিল। পথে হোসেন হাওলাদার আমড়া ও লেবু দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন বলে অভিযোগ। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে সহপাঠীরা তার চাচিকে খবর দেয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সাত দিনেও কোনো সমাধান না হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে শিশুটির বাবা আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
শিশুটির বাবা বলেন, মসজিদে যাওয়ার পথে তার মেয়েকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তের স্ত্রী মমতাজ বেগম। তার দাবি, জমি নিয়ে বাদীপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরে তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, শিশুটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণচেষ্টার মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বরগুনার আমতলীতে আমড়া ও লেবু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৮ বছরের এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হোসেন হাওলাদার আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে শিশুটি সহপাঠীদের সঙ্গে স্থানীয় একটি মসজিদে আরবি পড়তে যাচ্ছিল। পথে হোসেন হাওলাদার আমড়া ও লেবু দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন বলে অভিযোগ। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে সহপাঠীরা তার চাচিকে খবর দেয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সাত দিনেও কোনো সমাধান না হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে শিশুটির বাবা আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
শিশুটির বাবা বলেন, মসজিদে যাওয়ার পথে তার মেয়েকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তের স্ত্রী মমতাজ বেগম। তার দাবি, জমি নিয়ে বাদীপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরে তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, শিশুটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণচেষ্টার মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

০২ অক্টোবর, ২০২৫ ১৪:২৭
বরগুনায় সরকারি টেলিযোগাযোগ সংস্থা বিটিসিএল এর প্রায় ৯ শতাধিক গ্রাহকের কাছে টেলিফোন বিল বকেয়া রয়েছে। আর এসব গ্রাহকের অধিকাংশের প্রকৃত তথ্য জানা না থাকায় এবং জনবল সংকটের কারণে বকেয়া বিল আদায়ে বিড়ম্বনায় পড়ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তাদের ধারণা, বর্তমানে গ্রাহকের কাছে বিল বকেয়া রয়েছে অন্তত অর্ধকোটি টাকা। তবে এসব বকেয়া বিল আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বরগুনার বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ।
টেলিযোগাযোগ সংস্থা বিটিসিএল বরগুনা অফিস সূত্রে জানা যায়, বরগুনায় বকেয়া বিলসহ বিভিন্ন কারণে বর্তমানে ৯ শতাধিক গ্রাহকের সংযোগ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী বরগুনা সদরসহ ছয়টি উপজেলায় মোট ৬৯৪টি টেলিফোন সংযোগ সচল রয়েছে।
এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩৭৪টি, পাথরঘাটায় ৫২টি, আমতলী ৭৭টি, বেতাগী ৫১টি, বামনা ৩৭টি এবং তালতলীতে রয়েছে ২৫টি। এছাড়াও এডিএসএল সংযোগ রয়েছে ৭৮টি এবং জিপন সংযোগ রয়েছে আরও ১০৭৫টি।
বরগুনায় টেলিফোন সার্ভিসের বিভিন্ন সুবিধা পেতে সংযোগ নেওয়া গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিল বকেয়া থাকা ১৫ গ্রাহককে সনাক্ত করছে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ। প্রায় ১০ লাখ টাকা বকেয়া বিল আদায় করতে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেছেন বিটিসিএল।
এছাড়া ৭ লাখ ৫৯ হাজার টাকা বকেয়া বিল আদায় করতে আরও ২০ গ্রাহকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে অনেক গ্রাহকেরই সঠিক পরিচয় এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় খুঁজে না পাওয়ায় বকেয়া আদায়ে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন না বরগুনার বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ।
বিটিসিএল বরগুনা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বরগুনা পৌর শহরের কলেজ রোড নামক এলাকার বাসিন্দা স্বপন কুমার রায় নামে এক গ্রাহকের কাছে টেলিফোন বিল বকেয়া রয়েছে।
তবে ওই এলাকায় স্বপন কুমার বা তার কোনো স্বজনকেও খুঁজে না পাওয়ায় আদায় করা যাচ্ছে না তার কাছে পাওনা টেলিফোন বিলের ২ লাখ ৯ হাজার টাকা। এছাড়াও খোঁজ নেই পৌর শহরের বালিকা বিদ্যালয় সড়কের আরেক গ্রাহক কামরুল ইসলাম কাঞ্চনের। তার কাছেও বর্তমানে টেলিফোন বিল বকেয়া রয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার টাকা। এদের মতোই খোঁজ মিলছে বরগুনার আরও অনেক গ্রাহকের।
সরেজমিনে কলেজ রোড এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তেমন কেউই স্বপন কুমার নামে কাউকে চেনেন না। আবার অনেকে বলেছেন তিনি দীর্ঘদিন আগেই বরগুনা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বর্তমানে তিনি ভারতে বসবাস করছেন এমন কথাও বলছেন অনেকে।
ওই এলাকার স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা শান্তি রঞ্জন সরকার বলেন, এলাকর বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় সকলেরই আমি নাম বলতে পারি। তবে স্বপন কুমার রায় নামে কাউকে আমি চিনি না। এবং তিনি যদি এ এলাকায় থাকেনও তবে তার টেলিফোন সংযোগ ছিল কীনা তা আমার জানা নেই।
কলেজ রোড এলাকায় রতন নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, আমি ছোট থেকেই এ এলাকায় বসবাস করছি, কিন্তু স্বপন কুমার রায় নামে কাউকে চিনি না। এমনকি এ নামের কেউ এ এলাকায় আছেন তাও শুনিনি।
অজয় নামে স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, স্বপন কুমার রায়ের বাবার নাম ছিল স্বর্ণ কর্মকার। রায় বংশ বলে পরিচিত থাকলেও মূলত তারা ছিল কর্মকার। আমি যতটুকু জানি প্রায় ২০-২৫ বছর আগে বরগুনায় থাকা তাদের সকল পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে ভারতে চলে গেছেন।
বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন মেয়াদে এভাবেই বিটিসিএল এর টেলিফোন বিল বকেয়া রয়েছে বরগুনার প্রায় ৯ শতাধিক গ্রাহকের। এদের মধ্যে অনেকেরই পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণ না থাকায় পরিচয় শনাক্ত করতে পারছে না বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ। ফলে আটকে আছে বকেয়া বিল আদায় প্রক্রিয়া।
বিটিসিএল বরগুনা কার্যালয়ের অফিস সহকারী ওবায়দুর রহমান ফজলু বলেন, বরগুনায় ১৯৮০-১৯৯৫ সালের দিকে যে সমস্ত সংযোগ দেওয়া হয়েছে সেখানে শুধুমাত্র গ্রাহকেরই নাম আছে। কোন এলাকার বাসিন্দা এবং গ্রাহকের বাবার নাম কী তাও উল্লেখ নেই। এ কারণেই ওই সময়ে সংযোগ প্রাপ্ত গ্রাহকদের খুঁজে বের করে বকেয়া আদায় করতে পারছি না।
রাষ্ট্রের টাকা কোনোভাবে অনাদায়ী রাখার সুযোগ নেই জানিয়ে বরগুনা জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, গ্রাহকদের যখন সংযোগ দেওয়া হয়েছে তখন ব্যাংকে টাকা জমা নেওয়া হয়েছে। হয়তো তারা কিছু বিল জমাও দিয়েছেন।
ব্যক্তি পর্যায়ে এখন যারা বকেয়া বিল দিচ্ছে না এবং যাদের সনাক্ত করা যাচ্ছে না তাদেরকে ওই সময় যারা সংযোগ দিয়েছেন তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন। বিটিসিএল কোনোভাবেই তাদের দায় দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। বরগুনায় বকেয়া বিল আদায় করতে বিটিসিএল কর্তৃক যেকোনো আইনি পদক্ষেপে আমাদের সহযোগিতা থাকবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বরগুনা টেলিকম উপ-বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. বনি আমিন বলেন, দীর্ঘদিন যাদের বিল বকেয়া থাকে তাদের সংযোগগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় যাতে পরবর্তীতে তাদের বিল আরও বাড়তে না পারে। এছাড়াও বকেয়া থাকা প্রত্যেক গ্রাহককেই আমরা পরপর তিনটি নোটিশ প্রদান করি। নোটিশের জবাব পেলে অথবা না পেলে সেই অনুযায়ী আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের রেভিনিউ শাখা রয়েছে কিন্তু জনবল শূন্য। একজন টেকনিক্যাল পার্সনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার জানাশোনা কম এবং প্রশিক্ষণের ঘাটতিসহ জনবল কম থাকায় সবকিছু সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হয়।
বরগুনায় বকেয়া বিলের প্রকৃত তথ্য অজানা থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, বিটিসিএল এর জিপন সার্ভিসটি আসার পর ২০২২ সালের আগস্ট থেকে অনলাইন সিস্টেম চালু হয়েছে। ওই সময়ের পর থেকে আমাদের সকল গ্রাহকদের তথ্য হালনাগাদ করা আছে।
তবে এর আগে লেজার সিস্টেম থাকায় তা দেখে দেখে ওই সময়ের গ্রাহকদের সনাক্ত করতে হয়। কিন্তু আমাদের জনবল ঘাটতি এবং আগের কপার সিস্টেমে যে গ্রাহক আছেন তাদের বকেয়া বিল এখন পর্যন্ত হালনাগাদ করতে পারিনি। তবে পর্যাপ্ত জনবল পেলে আমরা দ্রুতই সবকিছু হালনাগাদ করতে পারবো।
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২২
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২১
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৪
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৪০