
২৯ মে, ২০২৫ ১৬:৩৫
বরিশাল মিডিয়ার নেতৃত্ব দেওয়ার নামে সেচ্ছাচারিতা ও বিরোধী মনোস্কদের কোনঠাসা করে দীর্ঘদিনে প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে তরুণরা ফুঁসে ওঠায় তাদের দমনে এখন নেওয়া হয়েছে দুই পরিকল্পনা। একদিকে মামলা দিয়ে দৌড়ের ওপর রাখা পাশাপাশি তরুণদের কর্মক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠান কর্ণধরদের দ্বারা চাকরিচ্যুৎ করার এই নীল নকশা বাস্তবায়ন ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
বরিশাল মিডিয়ার কথিত ‘ভগবান’ একজন সাংবাদিক নেতার মস্তিস্ক থেকে আবিস্কৃত ওই পরিকল্পনায় আজ সোমবার দুপুরে দুই তরুণ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গল্প-কাহিনী সাজানো এই মামলার এজাহারে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, বিচার-বিশ্লেষণ করলে বাদী যে মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছে তা প্রতীয়মাণ হচ্ছে।
একদিন আগে রোববার বরিশালের একই আদালতে ‘নিউজ এডিটরস্ কাউন্সিল’র সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক খন্দকার রাকিব বাদী হয়ে ৫ জনের নামোল্লেখ করে মামলা দায়েরের পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এই কাউন্টার মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, সাংবাদিক হাসিব-রাকিবকে আসামি করে সোমবারে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদী সোহরাব হোসেনের অভিযোগ হচ্ছে, তার পুত্র আল আমিন সাগরের কাছে চাঁদার প্রেক্ষাপটে তিনি এই আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।
অথচ ঘটনার সূত্রপাত সেই ০১ সেপ্টেম্বর নগরীর স্বরোডে একজন নারীর অনুরোধে নিউজ এডিটরস্ কাউন্সিল’র সভাপতি হাসিবুল ইসলাম তার বাসার সামনে উপস্থিত হলে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা বিতর্কিত সাংবাদিক নেতা এসএম জাকির হোসেনর বেশ কয়েকজন অনুসারী অবরুদ্ধ করে। খবর পেয়ে খন্দকার রাকিব সেখানে যাওয়া মাত্রা তার ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়।
এই হামলার পেছনের কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে স্পষ্ট হয়েছে জাকিরসহ ৬ জনকে আসামি ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে খন্দকার রাকিব মামলা করায় তাকে শায়েস্তা করতেই হাসিবকে ডেকে নিয়ে একটি ফাঁদ পাতা হয়েছিল। যাতে একদিকে হাসিবকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা অন্যদিকে রাকিবকে শারীরিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হামলায় অংশগ্রহণকারীরা জাকিরের অনুসারী হিসেবে চিহ্নিত এবং একজন যুবক ব্যতিত সকলে তার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী। পুলিশের উপস্থিতিতে সন্ধ্যারাতের ওই ঘটনা গভীর রাতে সমাপ্তি টানার পরদিন জাকির তার নতুন সংগঠন প্রকাশক-সম্পাদক পরিষদের বৈঠক ডেকে দুই তরুণের বিরুদ্ধে নৈতিবাচক সংবাদ প্রকাশে সিদ্ধান্ত নেয়।
দেখা গেছে- পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের সমর্থিত বেশ কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের উল্লেখ করা হয়েছে তানিয়া নামক এক নারীরে একজন যুবকের পক্ষে চাপ সৃষ্টি করতেই হাসিব-রাকিবের সেখানে উপস্থিতি ঘটে। অথচ আজ সোমবার দায়েরকৃত মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে ওই নারীর কাছে হাসিব-রাকিব ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে ব্যর্থ হয় আল আমিন সাগর নামক এক যুবক প্রতিবাদ করায়। একপর্যায়ে ওই যুবককে ৫০ হাজার টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করলে সেখানে সংঘাতে সৃষ্টি হয়। এবং আল আমিন সাগরকে পিটিয়ে আহত করা হয়।
মামলার এজাহারের সাথে ঘটনার পরদিন প্রকাশিত সংবাদের বেমিল খুঁজে পাওয়ায় অনেকের ধারণা খোড়া অজুহাতে থানায় মামলা দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর আদালতে মিথ্যাচারের মাধ্যমে আইনে আশ্রয় নিতে কৌশল নিয়েছে প্রতিপক্ষ। সেখানে মামলার বাদী আল আমিন সাগরের পিতা সোহরাব হোসেন সমুলে মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে আদালতের সাথে এক ধরনের প্রতারণা করল।
এদিকে খবর পাওয়া গেছে, বিদ্রোহী তরুণেরা জাকিরসহ কথিত সেই ‘ভগবান’র সাংবাদিকদের প্রতি অনাচারের কারণে মিডিয়ার মধ্যে চলমান বিভাজনে মূলত তরুণদের সাথে পেরে না ওঠায় এখন তাদের কর্মস্থল টার্গেট করে চাকরিচ্যুত করার আরেকটি পরিকল্পনায় হয়েছে। তার আলামত হচ্ছে, ওই দিনের ঘটনার সূত্রপাত টেনে সাংবাদিক নেতা জাকির প্রসঙ্গে দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল পত্রিকায় একটি তথ্যবহুল দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করায় তার কৈফিয়ত চেয়ে উকিল নোটিস পাঠানো হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে ডাকযোগে আসা ওই নোটিসে প্রতিবেদক মো. আসাদুজ্জামানসহ পত্রিকা মালিকপক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থনে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, নচেৎ তারা আইনের আশ্রয় নেওয়ার এক ধরনের সতর্ক বার্তা জানিয়েছে নোটিসদাতা এসএম জাকির হোসেনের পক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান।
এদিকে আরেকটি সূত্র বলছে, হাসিবুল ইসলামের কর্মক্ষেত্র জাতীয় দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকা কর্তৃপক্ষের সাথেও ওই মহলটি যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, যাতে তাকে চাকরিচ্যুৎ করা যায়। সেই লক্ষ্য পূরণে দীর্ঘ একটি অভিযোগপত্র সাজিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা মিসাইল আকারে ওই পত্রিকা দপ্তরে নিক্ষেপে সুযোগের অপেক্ষমান রয়েছে। উল্লেখ্য হাসিব ওই দৈনিক পত্রিকাটির প্রকাশলগ্ন থেকে বরিশাল ব্যুরো চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, প্রবীণদের সাথে নবীণদের এই নীতিগত দ্বন্দ্বে সামাজিক-প্রশাসনিক মহল বিস্মিত এবং মৌনভাবে নিন্দা প্রকাশ করলেও নেতৃত্ব ধরে রাখাসহ প্রতিশোধ নেওয়ার স্বার্থে তারা সমঝোতা বা নমনীয় হতে নারাজ। বরং কিভাবে বিদ্রোহী তরুণদের দমন করা যায়, এনিয়ে দফায় দফায় বৈঠক অব্যাহত রেখেছে কথিত ‘ভগবাগরুপী’ এক সাংবাদিক নেতার পত্রিকা কার্যালয়ে, যাকে কী না মাজার হিসেবে এখন আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
সেই সূত্রটি জানায়, আজ সন্ধ্যায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং আগামীর পরিকল্পনা কি হবে তা নিয়ে সেই মাজারে বৈঠক ডাকা হয়েছে। সম্ভবত অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে এসএম জাকিরের বিরুদ্ধে আদালতে দায়েরকৃত এজাহারটি থানায় মামলা গ্রহণ পরবর্তী যাতে আসামিদের হয়রানি না করা হয়, সে লক্ষ্যে পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রভাবিত প্রাথমিক প্রস্তাব রয়েছে।
তাছাড়া তাদের পক্ষের মামলার দুই আসামি হাসিব-রাকিবকে যেকোন পন্থায় আটকে পুলিশকে চাপের মধ্যে রাখার ছক আঁকা হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ, একদিনের ব্যবধানে পাল্টাপাল্টি দুটি মামলার এজাহার থানা পুলিশকে গ্রহণে বিচারকের নির্দেশনামা আজ বিকেল নাগাদ কাউনিয়া থানায় পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।’
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বরিশাল মিডিয়ার এই বিভাজনের লড়াই এবং নেতৃত্ব থাকা ব্যক্তি-বর্গের অতীত ইতিহাস অবগত ও স্বরোডের ওই হামলার ঘটনায় তারা বিব্রতকর পরিস্থিতির মাঝে কৌশলী পন্থা গ্রহণ করেছে। যাতে কোন পক্ষই নাখোশ না হয়। কিন্তু কথিত সেই ‘ভগবানরুপী’ সাংবাদিক নেতা লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে যেমন যোগাযোগ রাখছেন, তেমনই তাদের স্বপক্ষে অন্তত ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় একটি অংশকে কাছে পেতে মরিয়া হয়ে বিভিন্ন দরজায় কড়া নাড়ছেন।
তাদের ভেতরকার আরেকটি সূত্র আভাস দিয়ে বলছে, তরুণরা বিদ্রোহী হয়ে ওঠার পেছনে কারা সাহস যুগিয়েছে এবং অর্থের যোগান কিভাবে আসছে তা নির্ণয় করে সেই পথ রোধে বেশ কয়েকজন গুপ্তচরকে মাঠে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এসব খবর আর গোপন থাকছে না। ফলে বরিশালের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও প্রগতিশীল ধারার সংবাদকর্মীরা এখন ক্রমান্বয়ে তরুণদের পক্ষে সমর্থন দিতে শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এভাবে বিভাজনের রেখা দীর্ঘায়িত হলে কলম রেখে সংঘাত-রক্তপাত অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে, এমনটিই চাচ্ছেন নেতৃত্ব অভিলাসী চক্রটি।’
বরিশাল মিডিয়ার নেতৃত্ব দেওয়ার নামে সেচ্ছাচারিতা ও বিরোধী মনোস্কদের কোনঠাসা করে দীর্ঘদিনে প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে তরুণরা ফুঁসে ওঠায় তাদের দমনে এখন নেওয়া হয়েছে দুই পরিকল্পনা। একদিকে মামলা দিয়ে দৌড়ের ওপর রাখা পাশাপাশি তরুণদের কর্মক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠান কর্ণধরদের দ্বারা চাকরিচ্যুৎ করার এই নীল নকশা বাস্তবায়ন ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
বরিশাল মিডিয়ার কথিত ‘ভগবান’ একজন সাংবাদিক নেতার মস্তিস্ক থেকে আবিস্কৃত ওই পরিকল্পনায় আজ সোমবার দুপুরে দুই তরুণ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গল্প-কাহিনী সাজানো এই মামলার এজাহারে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, বিচার-বিশ্লেষণ করলে বাদী যে মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছে তা প্রতীয়মাণ হচ্ছে।
একদিন আগে রোববার বরিশালের একই আদালতে ‘নিউজ এডিটরস্ কাউন্সিল’র সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক খন্দকার রাকিব বাদী হয়ে ৫ জনের নামোল্লেখ করে মামলা দায়েরের পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এই কাউন্টার মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, সাংবাদিক হাসিব-রাকিবকে আসামি করে সোমবারে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদী সোহরাব হোসেনের অভিযোগ হচ্ছে, তার পুত্র আল আমিন সাগরের কাছে চাঁদার প্রেক্ষাপটে তিনি এই আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।
অথচ ঘটনার সূত্রপাত সেই ০১ সেপ্টেম্বর নগরীর স্বরোডে একজন নারীর অনুরোধে নিউজ এডিটরস্ কাউন্সিল’র সভাপতি হাসিবুল ইসলাম তার বাসার সামনে উপস্থিত হলে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা বিতর্কিত সাংবাদিক নেতা এসএম জাকির হোসেনর বেশ কয়েকজন অনুসারী অবরুদ্ধ করে। খবর পেয়ে খন্দকার রাকিব সেখানে যাওয়া মাত্রা তার ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়।
এই হামলার পেছনের কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে স্পষ্ট হয়েছে জাকিরসহ ৬ জনকে আসামি ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে খন্দকার রাকিব মামলা করায় তাকে শায়েস্তা করতেই হাসিবকে ডেকে নিয়ে একটি ফাঁদ পাতা হয়েছিল। যাতে একদিকে হাসিবকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা অন্যদিকে রাকিবকে শারীরিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হামলায় অংশগ্রহণকারীরা জাকিরের অনুসারী হিসেবে চিহ্নিত এবং একজন যুবক ব্যতিত সকলে তার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী। পুলিশের উপস্থিতিতে সন্ধ্যারাতের ওই ঘটনা গভীর রাতে সমাপ্তি টানার পরদিন জাকির তার নতুন সংগঠন প্রকাশক-সম্পাদক পরিষদের বৈঠক ডেকে দুই তরুণের বিরুদ্ধে নৈতিবাচক সংবাদ প্রকাশে সিদ্ধান্ত নেয়।
দেখা গেছে- পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের সমর্থিত বেশ কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের উল্লেখ করা হয়েছে তানিয়া নামক এক নারীরে একজন যুবকের পক্ষে চাপ সৃষ্টি করতেই হাসিব-রাকিবের সেখানে উপস্থিতি ঘটে। অথচ আজ সোমবার দায়েরকৃত মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে ওই নারীর কাছে হাসিব-রাকিব ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে ব্যর্থ হয় আল আমিন সাগর নামক এক যুবক প্রতিবাদ করায়। একপর্যায়ে ওই যুবককে ৫০ হাজার টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করলে সেখানে সংঘাতে সৃষ্টি হয়। এবং আল আমিন সাগরকে পিটিয়ে আহত করা হয়।
মামলার এজাহারের সাথে ঘটনার পরদিন প্রকাশিত সংবাদের বেমিল খুঁজে পাওয়ায় অনেকের ধারণা খোড়া অজুহাতে থানায় মামলা দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর আদালতে মিথ্যাচারের মাধ্যমে আইনে আশ্রয় নিতে কৌশল নিয়েছে প্রতিপক্ষ। সেখানে মামলার বাদী আল আমিন সাগরের পিতা সোহরাব হোসেন সমুলে মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে আদালতের সাথে এক ধরনের প্রতারণা করল।
এদিকে খবর পাওয়া গেছে, বিদ্রোহী তরুণেরা জাকিরসহ কথিত সেই ‘ভগবান’র সাংবাদিকদের প্রতি অনাচারের কারণে মিডিয়ার মধ্যে চলমান বিভাজনে মূলত তরুণদের সাথে পেরে না ওঠায় এখন তাদের কর্মস্থল টার্গেট করে চাকরিচ্যুত করার আরেকটি পরিকল্পনায় হয়েছে। তার আলামত হচ্ছে, ওই দিনের ঘটনার সূত্রপাত টেনে সাংবাদিক নেতা জাকির প্রসঙ্গে দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল পত্রিকায় একটি তথ্যবহুল দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করায় তার কৈফিয়ত চেয়ে উকিল নোটিস পাঠানো হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে ডাকযোগে আসা ওই নোটিসে প্রতিবেদক মো. আসাদুজ্জামানসহ পত্রিকা মালিকপক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থনে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, নচেৎ তারা আইনের আশ্রয় নেওয়ার এক ধরনের সতর্ক বার্তা জানিয়েছে নোটিসদাতা এসএম জাকির হোসেনের পক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান।
এদিকে আরেকটি সূত্র বলছে, হাসিবুল ইসলামের কর্মক্ষেত্র জাতীয় দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকা কর্তৃপক্ষের সাথেও ওই মহলটি যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, যাতে তাকে চাকরিচ্যুৎ করা যায়। সেই লক্ষ্য পূরণে দীর্ঘ একটি অভিযোগপত্র সাজিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা মিসাইল আকারে ওই পত্রিকা দপ্তরে নিক্ষেপে সুযোগের অপেক্ষমান রয়েছে। উল্লেখ্য হাসিব ওই দৈনিক পত্রিকাটির প্রকাশলগ্ন থেকে বরিশাল ব্যুরো চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, প্রবীণদের সাথে নবীণদের এই নীতিগত দ্বন্দ্বে সামাজিক-প্রশাসনিক মহল বিস্মিত এবং মৌনভাবে নিন্দা প্রকাশ করলেও নেতৃত্ব ধরে রাখাসহ প্রতিশোধ নেওয়ার স্বার্থে তারা সমঝোতা বা নমনীয় হতে নারাজ। বরং কিভাবে বিদ্রোহী তরুণদের দমন করা যায়, এনিয়ে দফায় দফায় বৈঠক অব্যাহত রেখেছে কথিত ‘ভগবাগরুপী’ এক সাংবাদিক নেতার পত্রিকা কার্যালয়ে, যাকে কী না মাজার হিসেবে এখন আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
সেই সূত্রটি জানায়, আজ সন্ধ্যায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং আগামীর পরিকল্পনা কি হবে তা নিয়ে সেই মাজারে বৈঠক ডাকা হয়েছে। সম্ভবত অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে এসএম জাকিরের বিরুদ্ধে আদালতে দায়েরকৃত এজাহারটি থানায় মামলা গ্রহণ পরবর্তী যাতে আসামিদের হয়রানি না করা হয়, সে লক্ষ্যে পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রভাবিত প্রাথমিক প্রস্তাব রয়েছে।
তাছাড়া তাদের পক্ষের মামলার দুই আসামি হাসিব-রাকিবকে যেকোন পন্থায় আটকে পুলিশকে চাপের মধ্যে রাখার ছক আঁকা হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ, একদিনের ব্যবধানে পাল্টাপাল্টি দুটি মামলার এজাহার থানা পুলিশকে গ্রহণে বিচারকের নির্দেশনামা আজ বিকেল নাগাদ কাউনিয়া থানায় পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।’
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বরিশাল মিডিয়ার এই বিভাজনের লড়াই এবং নেতৃত্ব থাকা ব্যক্তি-বর্গের অতীত ইতিহাস অবগত ও স্বরোডের ওই হামলার ঘটনায় তারা বিব্রতকর পরিস্থিতির মাঝে কৌশলী পন্থা গ্রহণ করেছে। যাতে কোন পক্ষই নাখোশ না হয়। কিন্তু কথিত সেই ‘ভগবানরুপী’ সাংবাদিক নেতা লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে যেমন যোগাযোগ রাখছেন, তেমনই তাদের স্বপক্ষে অন্তত ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় একটি অংশকে কাছে পেতে মরিয়া হয়ে বিভিন্ন দরজায় কড়া নাড়ছেন।
তাদের ভেতরকার আরেকটি সূত্র আভাস দিয়ে বলছে, তরুণরা বিদ্রোহী হয়ে ওঠার পেছনে কারা সাহস যুগিয়েছে এবং অর্থের যোগান কিভাবে আসছে তা নির্ণয় করে সেই পথ রোধে বেশ কয়েকজন গুপ্তচরকে মাঠে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এসব খবর আর গোপন থাকছে না। ফলে বরিশালের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও প্রগতিশীল ধারার সংবাদকর্মীরা এখন ক্রমান্বয়ে তরুণদের পক্ষে সমর্থন দিতে শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এভাবে বিভাজনের রেখা দীর্ঘায়িত হলে কলম রেখে সংঘাত-রক্তপাত অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে, এমনটিই চাচ্ছেন নেতৃত্ব অভিলাসী চক্রটি।’

১২ জুলাই, ২০২৬ ১৫:১৯

০৬ জুলাই, ২০২৬ ১০:০৩

০৬ মে, ২০২৬ ০৩:১৫
ভারতের মহারাষ্ট্রে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কুসংস্কার চর্চা এবং গৃহনির্যাতনের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। সাবেক এই এমপির পুত্রবধূ গিরিজা রাউত অভিযোগ করেছেন, তাকে জোর করে গোমূত্র পান করানো, তান্ত্রিক আচার পালনে বাধ্য করা এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, থানে জেলার এই ঘটনায় পুলিশ সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত, তার স্ত্রী, ছেলে ও স্থানীয় কাউন্সিলর গীতেশ রাউতের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রের কুসংস্কারবিরোধী আইনে মামলা করেছে। মামলার এজাহারে ফিরোজ ও কাজি নামের কথিত দুই তান্ত্রিকের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গিরিজা রাউতের অভিযোগ, বিয়ের পর গত সাত বছর ধরে তিনি শ্বশুরবাড়িতে নিয়মিত মানসিক, সামাজিক ও আবেগগত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার দাবি, স্বামীর কথিত বন্ধ্যাত্বজনিত সমস্যার সমাধানের নামে তাকে বারবার তান্ত্রিকদের কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। একপর্যায়ে সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে তাঁকে জোরপূর্বক গোমূত্র পান করান এবং কুসংস্কারমূলক আচার পালনের অংশ হিসেবে মাথা থেকে চুলও ছিঁড়ে নেন।
সাংবাদিকদের কাছে গিরিজা বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের বিরুদ্ধে এতদিন অভিযোগ করার সাহস পাননি। পরিবারের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও শ্বশুর বিনায়ক রাউত কখনো তার পক্ষে অবস্থান নেননি, বরং এই কুসংস্কার চর্চায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। গিরিজা আরও দাবি করেন, বিয়ের পর উটির হানিমুনে গেলেও তার স্বামী শারীরিক সম্পর্ক এড়িয়ে চলেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁকে অপমান ও দূরে সরিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি স্বামী তাকে বলেছিলেন, ভারতের বাইরে কোনো দেশে গেলেই কেবল তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক সম্ভব।
এ ছাড়া পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অপমান, নিয়মিত মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং মারধরের অভিযোগও করেছেন গিরিজা। তার ভাষ্য, ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরেও তিনি একই ধরনের আচরণের শিকার হন। সে সময় তান্ত্রিকদের বরাত দিয়ে তাঁকে বলা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হলে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হবে।
পুত্রবধূর অভিযোগে শুধু স্বামী নন, শ্বশুর বিনায়ক রাউতসহ শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অশালীন আচরণ এবং গৃহ-নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।’
ভারতের মহারাষ্ট্রে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কুসংস্কার চর্চা এবং গৃহনির্যাতনের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। সাবেক এই এমপির পুত্রবধূ গিরিজা রাউত অভিযোগ করেছেন, তাকে জোর করে গোমূত্র পান করানো, তান্ত্রিক আচার পালনে বাধ্য করা এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, থানে জেলার এই ঘটনায় পুলিশ সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত, তার স্ত্রী, ছেলে ও স্থানীয় কাউন্সিলর গীতেশ রাউতের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রের কুসংস্কারবিরোধী আইনে মামলা করেছে। মামলার এজাহারে ফিরোজ ও কাজি নামের কথিত দুই তান্ত্রিকের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গিরিজা রাউতের অভিযোগ, বিয়ের পর গত সাত বছর ধরে তিনি শ্বশুরবাড়িতে নিয়মিত মানসিক, সামাজিক ও আবেগগত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার দাবি, স্বামীর কথিত বন্ধ্যাত্বজনিত সমস্যার সমাধানের নামে তাকে বারবার তান্ত্রিকদের কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। একপর্যায়ে সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে তাঁকে জোরপূর্বক গোমূত্র পান করান এবং কুসংস্কারমূলক আচার পালনের অংশ হিসেবে মাথা থেকে চুলও ছিঁড়ে নেন।
সাংবাদিকদের কাছে গিরিজা বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের বিরুদ্ধে এতদিন অভিযোগ করার সাহস পাননি। পরিবারের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও শ্বশুর বিনায়ক রাউত কখনো তার পক্ষে অবস্থান নেননি, বরং এই কুসংস্কার চর্চায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। গিরিজা আরও দাবি করেন, বিয়ের পর উটির হানিমুনে গেলেও তার স্বামী শারীরিক সম্পর্ক এড়িয়ে চলেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁকে অপমান ও দূরে সরিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি স্বামী তাকে বলেছিলেন, ভারতের বাইরে কোনো দেশে গেলেই কেবল তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক সম্ভব।
এ ছাড়া পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অপমান, নিয়মিত মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং মারধরের অভিযোগও করেছেন গিরিজা। তার ভাষ্য, ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরেও তিনি একই ধরনের আচরণের শিকার হন। সে সময় তান্ত্রিকদের বরাত দিয়ে তাঁকে বলা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হলে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হবে।
পুত্রবধূর অভিযোগে শুধু স্বামী নন, শ্বশুর বিনায়ক রাউতসহ শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অশালীন আচরণ এবং গৃহ-নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।’
আবহমান বাংলার মধুমাস বলে খ্যাত জ্যৈষ্ঠের দেশীয় বিভিন্ন ফল দিয়ে বাবুগঞ্জে মধুমাস উৎসব-২০২৬'এর বর্ণাঢ্য শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আইএফআইসি (IFIC) ব্যাংক পিএলসি'র বাবুগঞ্জ শাখার উদ্যোগে রোববার প্রধান অতিথি হিসেবে ওই মধুমাস উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন ব্যাংকের অন্যতম সম্মানিত গ্রাহক বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না।
আইএফআইসি ব্যাংকের বাবুগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক (অফিসার ইনচার্জ) মোঃ রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে উৎসবে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের বরিশাল প্রধান শাখার সিনিয়র অফিসার ইব্রাহিম খলিল ও বাবুগঞ্জ শাখার ক্যাশ ইনচার্জ কাজী নাফিউন আলম। এসময় আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহিদা আক্তার, সাধনা রায় চৌধুরী, শিশির কুমার চক্রবর্তী, আলী হাসান আকন, মাসুদ পারভেজ, মরিয়ম বেগম, ডেন্টিস্ট সোহেল রানা, ব্যবসায়ী ফয়েজ হোসেন, ইব্রাহিম খান প্রমুখ।
মধুমাস উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না বলেন, 'আইএফআইসি ব্যাংক দেশের স্বনামধন্য ও নির্ভরযোগ্য একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন বেসরকারি ব্যাংক, যা ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আইএফআইসি ব্যাংক একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি (পিএলসি) হলেও এর প্রায় ৩৩% মালিকানা রয়েছে সরকারের কাছে। ব্যাংকটির গত অর্ধশতাব্দীর গৌরবময় পথচলায় নানান অর্জন রয়েছে। গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যাংকটির বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম প্রশংসনীয়। তাছাড়া গ্রাহকদের সম্মানে প্রতিবছর তারা দেশীয় বিভিন্ন রসালো ফলের সমারোহে মধুমাস উৎসবের আয়োজন করে গ্রাহকদের আপ্যায়ন করে। এমন উৎসবের আয়োজন নিঃসন্দেহে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে ধারণ এবং লালন করে। দেশের মাটি ও মানুষের আস্থার ব্যাংকে পরিনত হোক আইএফআইসি।'
সভাপতির বক্তব্যে আইএফআইসি ব্যাংকের বাবুগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক (অফিসার ইনচার্জ) মোঃ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, 'গ্রাহক সন্তুষ্টিই আইএফআইসি ব্যাংকের মূল লক্ষ্য। সেবার মান ও গ্রাহকের আস্থা অর্জন করে দেশে ১৪০০'এর অধিক শাখা-উপশাখা নিয়ে এগিয়ে চলছে আমাদের ব্যাংক। প্রতিবছর আমাদের সম্মানিত গ্রাহকদের সম্মানে আমরা মধুমাস উৎসবের আয়োজন করে আসছি। এবার বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও আমাদের যেসব সম্মানিত গ্রাহকরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে উপস্থিত হয়ে মধুমাস উৎসবকে সার্থক করেছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আশাকরি এভাবেই সবাই পাশে থেকে আইএফআইসি ব্যাংকের আগামীর গৌরবময় পথচলার সাথী হবেন।' #
আবহমান বাংলার মধুমাস বলে খ্যাত জ্যৈষ্ঠের দেশীয় বিভিন্ন ফল দিয়ে বাবুগঞ্জে মধুমাস উৎসব-২০২৬'এর বর্ণাঢ্য শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আইএফআইসি (IFIC) ব্যাংক পিএলসি'র বাবুগঞ্জ শাখার উদ্যোগে রোববার প্রধান অতিথি হিসেবে ওই মধুমাস উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন ব্যাংকের অন্যতম সম্মানিত গ্রাহক বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না।
আইএফআইসি ব্যাংকের বাবুগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক (অফিসার ইনচার্জ) মোঃ রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে উৎসবে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের বরিশাল প্রধান শাখার সিনিয়র অফিসার ইব্রাহিম খলিল ও বাবুগঞ্জ শাখার ক্যাশ ইনচার্জ কাজী নাফিউন আলম। এসময় আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহিদা আক্তার, সাধনা রায় চৌধুরী, শিশির কুমার চক্রবর্তী, আলী হাসান আকন, মাসুদ পারভেজ, মরিয়ম বেগম, ডেন্টিস্ট সোহেল রানা, ব্যবসায়ী ফয়েজ হোসেন, ইব্রাহিম খান প্রমুখ।
মধুমাস উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না বলেন, 'আইএফআইসি ব্যাংক দেশের স্বনামধন্য ও নির্ভরযোগ্য একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন বেসরকারি ব্যাংক, যা ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আইএফআইসি ব্যাংক একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি (পিএলসি) হলেও এর প্রায় ৩৩% মালিকানা রয়েছে সরকারের কাছে। ব্যাংকটির গত অর্ধশতাব্দীর গৌরবময় পথচলায় নানান অর্জন রয়েছে। গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যাংকটির বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম প্রশংসনীয়। তাছাড়া গ্রাহকদের সম্মানে প্রতিবছর তারা দেশীয় বিভিন্ন রসালো ফলের সমারোহে মধুমাস উৎসবের আয়োজন করে গ্রাহকদের আপ্যায়ন করে। এমন উৎসবের আয়োজন নিঃসন্দেহে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে ধারণ এবং লালন করে। দেশের মাটি ও মানুষের আস্থার ব্যাংকে পরিনত হোক আইএফআইসি।'
সভাপতির বক্তব্যে আইএফআইসি ব্যাংকের বাবুগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক (অফিসার ইনচার্জ) মোঃ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, 'গ্রাহক সন্তুষ্টিই আইএফআইসি ব্যাংকের মূল লক্ষ্য। সেবার মান ও গ্রাহকের আস্থা অর্জন করে দেশে ১৪০০'এর অধিক শাখা-উপশাখা নিয়ে এগিয়ে চলছে আমাদের ব্যাংক। প্রতিবছর আমাদের সম্মানিত গ্রাহকদের সম্মানে আমরা মধুমাস উৎসবের আয়োজন করে আসছি। এবার বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও আমাদের যেসব সম্মানিত গ্রাহকরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে উপস্থিত হয়ে মধুমাস উৎসবকে সার্থক করেছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আশাকরি এভাবেই সবাই পাশে থেকে আইএফআইসি ব্যাংকের আগামীর গৌরবময় পথচলার সাথী হবেন।' #
বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের ইতিহাস মানেই বিশাল সব জলযানের রাজত্ব। আজকের দিনে আমরা যখন এমভি মানামী, অ্যাডভেঞ্চার বা সুরভী-এর মতো দানবীয় ও আধুনিক লঞ্চ দেখি, তখন প্রবীণ যাত্রী ও নৌ-প্রেমীদের স্মৃতিতে আজও অম্লান হয়ে আছে একটি নাম— ‘সামাদ’। এক সময় এই রুটে ‘সামাদ’ ছিল আভিজাত্য, গতি এবং নির্ভরতার সমার্থক। আধুনিক লঞ্চের ভিড়ে সেই পুরনো দিনের ঐতিহ্যবাহী সামাদ লঞ্চের গল্প আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যায়, আশি এবং নব্বইয়ের দশকে যখন ঢাকা-বরিশাল রুটে আজকের মতো শত শত কেবিন সমৃদ্ধ লঞ্চ ছিল না, তখন সামাদ লঞ্চ ছিল যাত্রীদের প্রথম পছন্দ। বিশেষ করে এর গঠনশৈলী এবং নদীতে চলার সময় এর রাজকীয় ভঙ্গিমা মানুষকে মুগ্ধ করত। সেই সময় এই লঞ্চটি ছিল এ অঞ্চলের মানুষের কাছে এক প্রকার গর্বের বিষয়। তৎকালীন সময়ে বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য এই লঞ্চের কেবিন পাওয়া ছিল রীতিমতো ভাগ্যের ব্যাপার।
পুরনো লঞ্চগুলোর মধ্যে সামাদ-এর বিশেষত্ব ছিল এর মজবুত কাঠামো এবং কাঠের নিখুঁত কারুকাজ। আজকের লঞ্চগুলোতে স্টিল আর কাঁচের আধিক্য থাকলেও, সামাদ লঞ্চের অন্দরসজ্জায় ছিল আভিজাত্যের ছোঁয়া। বড় বড় কাঠের জানালা, প্রশস্ত ডেক এবং মাঝ বরাবর চলে যাওয়া গলিগুলো আজও প্রবীণদের নস্টালজিক করে তোলে। লঞ্চটির সার্চলাইট যখন রাতের আঁধারে মেঘনার বুকে আছড়ে পড়ত, তীরের মানুষ বুঝত— ‘সামাদ’ যাচ্ছে।
যাত্রীদের গভীর আবেগ
বরিশাল-ঢাকা রুটের নিয়মিত যাত্রীদের কাছে সামাদ কেবল একটি নৌযান ছিল না, বরং ছিল যাতায়াতের এক নিরাপদ আশ্রয়। লঞ্চের মাস্টার থেকে শুরু করে সারেং ও সুকানিদের সাথে যাত্রীদের গড়ে উঠত এক নিবিড় সম্পর্ক। এই লঞ্চের ডাইনিং বা ক্যান্টিনের রান্নার স্বাদও ছিল লোকমুখে প্রচলিত। নদীর টাটকা ইলিশ আর ঘন ডাল দিয়ে রাতের ডিনার সেরে ডেকের ওপর চাদর বিছিয়ে শুয়ে থাকার যে আনন্দ, তা আজকের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিনে অনেক যাত্রীই খুঁজে পান না।
কালের বিবর্তনে প্রস্থান
সময়ের সাথে সাথে নৌ-প্রকৌশল বিদ্যায় এসেছে বিশাল পরিবর্তন। নতুন নতুন স্টিল বডি ও ডাবল ডেকার-ট্রিপল ডেকার লঞ্চের ভিড়ে পুরনো কাঠের অবকাঠামোর লঞ্চগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। নাব্য সংকট, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে এক সময় ঐতিহ্যের সামাদ লঞ্চটি এই রুট থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয়। যদিও সামাদ নামধারী বিভিন্ন নৌযান পরবর্তী সময়ে এসেছে, কিন্তু সেই আদি ও অকৃত্রিম ‘সামাদ’ আজও মানুষের স্মৃতির পাতায় এক সোনালী অধ্যায় হয়ে আছে।
সূত্র বলছে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় বিমানের গোলার আঘাতে জাহাজটি কীর্তনখোলা নদীতে ডুবে গিয়েছিল। স্বাধীনতার পর বরিশালের এক ব্যবসায়ী নিজ খরচে জাহাজটি উদ্ধার করে কুমিল্লার দাউদকান্দির সাবেক এমপি মুন্সী আবদুল আলীর কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে মুন্সী আবদুল আলী এটিকে একটি আধুনিক যাত্রীবাহী লঞ্চে রূপান্তরিত করেন এবং নিজের বাবার নামানুসারে লঞ্চটির নামকরণ করেন 'এম ভি সামাদ'। অবশ্য ১৯৮৮ সালের জুলাই মাসে বরিশালের প্রখ্যাত ব্যবসায়ী মোহন মিয়া লঞ্চটি কিনে নেন।
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের সেই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে কীর্তনখোলা নদীর কাউয়ার চরে লঞ্চটিকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের কারণে বেঁধে রাখা হয়েছিল। প্রবল বাতাস এবং জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে লঞ্চটি মাঝ নদীতে উল্টে গিয়ে সলিল সমাধি ঘটে। পরবর্তীতে একটি স্যালভেজ কোম্পানি লঞ্চটি কেটে পানি থেকে উদ্ধার করে, যার মাধ্যমেই চিরতরে বিলীন হয়ে যায় ইতিহাসের এই কিংবদন্তি।
বর্তমানে বরিশাল-ঢাকা রুটে হয়তো এর চেয়েও দশগুণ বড় ও বিলাসবহুল লঞ্চ চলাচল করে। কিন্তু বরিশালের প্রবীণ মানুষরা যখন আজও স্টিমার ঘাটে দাঁড়ান, তখন তারা সেই পুরনো ভোঁ-র শব্দ আর কাঠের কাঠামোর সামাদ লঞ্চটিকে মিস করেন। এটি কেবল একটি পরিবহন ছিল না, এটি ছিল একটি সময়ের প্রতিনিধি।
নৌপথের আধুনিকায়ন অবশ্যই কাম্য, তবে সামাদের মতো যেসব লঞ্চ এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে, তাদের ইতিহাস সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। বরিশালের নৌ-সংস্কৃতিতে ‘সামাদ’ লঞ্চটি তাই কেবল একটি নাম নয়, বরং এক অবিনাশী ঐতিহ্য হিসেবে চিরকাল বেঁচে থাকবে।’
বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের ইতিহাস মানেই বিশাল সব জলযানের রাজত্ব। আজকের দিনে আমরা যখন এমভি মানামী, অ্যাডভেঞ্চার বা সুরভী-এর মতো দানবীয় ও আধুনিক লঞ্চ দেখি, তখন প্রবীণ যাত্রী ও নৌ-প্রেমীদের স্মৃতিতে আজও অম্লান হয়ে আছে একটি নাম— ‘সামাদ’। এক সময় এই রুটে ‘সামাদ’ ছিল আভিজাত্য, গতি এবং নির্ভরতার সমার্থক। আধুনিক লঞ্চের ভিড়ে সেই পুরনো দিনের ঐতিহ্যবাহী সামাদ লঞ্চের গল্প আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যায়, আশি এবং নব্বইয়ের দশকে যখন ঢাকা-বরিশাল রুটে আজকের মতো শত শত কেবিন সমৃদ্ধ লঞ্চ ছিল না, তখন সামাদ লঞ্চ ছিল যাত্রীদের প্রথম পছন্দ। বিশেষ করে এর গঠনশৈলী এবং নদীতে চলার সময় এর রাজকীয় ভঙ্গিমা মানুষকে মুগ্ধ করত। সেই সময় এই লঞ্চটি ছিল এ অঞ্চলের মানুষের কাছে এক প্রকার গর্বের বিষয়। তৎকালীন সময়ে বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য এই লঞ্চের কেবিন পাওয়া ছিল রীতিমতো ভাগ্যের ব্যাপার।
পুরনো লঞ্চগুলোর মধ্যে সামাদ-এর বিশেষত্ব ছিল এর মজবুত কাঠামো এবং কাঠের নিখুঁত কারুকাজ। আজকের লঞ্চগুলোতে স্টিল আর কাঁচের আধিক্য থাকলেও, সামাদ লঞ্চের অন্দরসজ্জায় ছিল আভিজাত্যের ছোঁয়া। বড় বড় কাঠের জানালা, প্রশস্ত ডেক এবং মাঝ বরাবর চলে যাওয়া গলিগুলো আজও প্রবীণদের নস্টালজিক করে তোলে। লঞ্চটির সার্চলাইট যখন রাতের আঁধারে মেঘনার বুকে আছড়ে পড়ত, তীরের মানুষ বুঝত— ‘সামাদ’ যাচ্ছে।
যাত্রীদের গভীর আবেগ
বরিশাল-ঢাকা রুটের নিয়মিত যাত্রীদের কাছে সামাদ কেবল একটি নৌযান ছিল না, বরং ছিল যাতায়াতের এক নিরাপদ আশ্রয়। লঞ্চের মাস্টার থেকে শুরু করে সারেং ও সুকানিদের সাথে যাত্রীদের গড়ে উঠত এক নিবিড় সম্পর্ক। এই লঞ্চের ডাইনিং বা ক্যান্টিনের রান্নার স্বাদও ছিল লোকমুখে প্রচলিত। নদীর টাটকা ইলিশ আর ঘন ডাল দিয়ে রাতের ডিনার সেরে ডেকের ওপর চাদর বিছিয়ে শুয়ে থাকার যে আনন্দ, তা আজকের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিনে অনেক যাত্রীই খুঁজে পান না।
কালের বিবর্তনে প্রস্থান
সময়ের সাথে সাথে নৌ-প্রকৌশল বিদ্যায় এসেছে বিশাল পরিবর্তন। নতুন নতুন স্টিল বডি ও ডাবল ডেকার-ট্রিপল ডেকার লঞ্চের ভিড়ে পুরনো কাঠের অবকাঠামোর লঞ্চগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। নাব্য সংকট, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে এক সময় ঐতিহ্যের সামাদ লঞ্চটি এই রুট থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয়। যদিও সামাদ নামধারী বিভিন্ন নৌযান পরবর্তী সময়ে এসেছে, কিন্তু সেই আদি ও অকৃত্রিম ‘সামাদ’ আজও মানুষের স্মৃতির পাতায় এক সোনালী অধ্যায় হয়ে আছে।
সূত্র বলছে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় বিমানের গোলার আঘাতে জাহাজটি কীর্তনখোলা নদীতে ডুবে গিয়েছিল। স্বাধীনতার পর বরিশালের এক ব্যবসায়ী নিজ খরচে জাহাজটি উদ্ধার করে কুমিল্লার দাউদকান্দির সাবেক এমপি মুন্সী আবদুল আলীর কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে মুন্সী আবদুল আলী এটিকে একটি আধুনিক যাত্রীবাহী লঞ্চে রূপান্তরিত করেন এবং নিজের বাবার নামানুসারে লঞ্চটির নামকরণ করেন 'এম ভি সামাদ'। অবশ্য ১৯৮৮ সালের জুলাই মাসে বরিশালের প্রখ্যাত ব্যবসায়ী মোহন মিয়া লঞ্চটি কিনে নেন।
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের সেই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে কীর্তনখোলা নদীর কাউয়ার চরে লঞ্চটিকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের কারণে বেঁধে রাখা হয়েছিল। প্রবল বাতাস এবং জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে লঞ্চটি মাঝ নদীতে উল্টে গিয়ে সলিল সমাধি ঘটে। পরবর্তীতে একটি স্যালভেজ কোম্পানি লঞ্চটি কেটে পানি থেকে উদ্ধার করে, যার মাধ্যমেই চিরতরে বিলীন হয়ে যায় ইতিহাসের এই কিংবদন্তি।
বর্তমানে বরিশাল-ঢাকা রুটে হয়তো এর চেয়েও দশগুণ বড় ও বিলাসবহুল লঞ্চ চলাচল করে। কিন্তু বরিশালের প্রবীণ মানুষরা যখন আজও স্টিমার ঘাটে দাঁড়ান, তখন তারা সেই পুরনো ভোঁ-র শব্দ আর কাঠের কাঠামোর সামাদ লঞ্চটিকে মিস করেন। এটি কেবল একটি পরিবহন ছিল না, এটি ছিল একটি সময়ের প্রতিনিধি।
নৌপথের আধুনিকায়ন অবশ্যই কাম্য, তবে সামাদের মতো যেসব লঞ্চ এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে, তাদের ইতিহাস সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। বরিশালের নৌ-সংস্কৃতিতে ‘সামাদ’ লঞ্চটি তাই কেবল একটি নাম নয়, বরং এক অবিনাশী ঐতিহ্য হিসেবে চিরকাল বেঁচে থাকবে।’
১৮ জুলাই, ২০২৬ ০২:৩৩
১৭ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩৭
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৮:০৮
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৪:১৭