টিকটক থেকে পরিচয় হয় ভৈরবের মেয়ে নদী (১৮) ও ফেনীর মেয়ে ফারহানা (২৩) নামের দুই নারীর। দিনভর মোবাইলে কথোপকথন থেকে সম্পর্ক গভীর হয় তাদের।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ভৈরব থেকে স্বামীর সংসার ও ১৫ মাসের বাচ্চা রেখে পালিয়ে যায় নদী। এ বিষয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভৈরব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে থানা সামনে কথাগুলো বলছিলেন স্বামী কাউসার মিয়া।
স্বামী কাউসার মিয়ার নিজ বাড়ি উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ছনছাড়া গ্রামে। তিনি একজন পাদুকা শ্রমিক। ভাড়া থাকেন উপজেলা পরিষদসংলগ্ন পাদুকা মার্কেট এলাকায়। তার স্ত্রী নদী বেগমের বাড়ি একই ইউনিয়নের টানকৃষ্ণনগর গ্রামে। অপর দিকে অভিযুক্ত নারী ফারহানা বেগমের শ্বশুর বাড়ি নোয়াখালী জেলা সেনবাগ থানার রাজারামপুর এলাকায়।
কাউসার মিয়া বলেন, ‘আমি গত প্রায় ২ বছর আগে নদীকে বিবাহ করি। আমাদের বিবাহের পর আমাদের সংসার খুবই ভালো চলছিল এবং আমার স্ত্রীর সাথে সুসম্পর্ক ছিল। আমাদের ১৫ মাসের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। আমার স্ত্রী টিকটকে আসক্ত ছিল। সেই সুবাদে নোয়াখালীর ফারহানা নামের এক নারীর সাথে পরিচয় হয়। তারা প্রতিনিয়ত ফোনে কথা বলত। এমনকি আমিও মাঝে মধ্যে নোয়াখালীর মেয়ের সাথে কথা বলতাম। হঠাৎ আমার স্ত্রী গত ১ সপ্তাহ আগে আমার দুধের বাচ্চাকে আমার মায়ের কাছে রেখে আমার আলমারিতে রাখা ৭ হাজার টাকা এবং আমার মোবাইল ফোন নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। আমি নোয়াখালী যোগাযোগ করলে জানতে পারি সেই মেয়েটিও বাড়িতে নাই। আমরা উভয় পরিবারই থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আমার জন্য না হোক আমার দুধের বাচ্চার জন্য আমার স্ত্রীকে ফিরে পেতে চাই।’
ফারহানা বেগমের ভাই ফায়েজ মিয়া বলেন, ১ সপ্তাহ আগে আমার বোন তার ৪ বছরের মেয়েকে আমাদের বাড়িতে রেখে নিখোঁজ হয়েছে। ভৈরব থেকে কাউসার জানিয়েছে তার বউ বাড়িতে নাই। যদিও নদী ও ফারহানার মাঝে সুসম্পর্ক ছিল। আমার বোনের শ্বশুর বাড়ির লোকজন বলছে কোনো এক ছেলের সাথে সম্পর্কের কারণে আমার বোন পালিয়েছে। বিদেশে আমার বোন জামাই কান্নাকাটি করছে। আমরা জানি না কীভাবে কী হয়েছে। আমরা চাই আমার বোন ও ভৈরবের মেয়েকে উদ্ধার করা হোক।’
ভৈরব থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, এক নারীর সাথে আরেক নারী কোথাও যাওয়া ভিন্ন ব্যাপার; কিন্তু তাদের সম্পর্কের বিষয়টাও ভিত্তি নেই। তবে নোয়াখালী এলাকার নারীর স্বামী যেহেতু বিদেশে থাকে সেটা সন্দেহজনক। এক মেয়ের প্ররোচনায় আরেক মেয়ে বিদেশ যাচ্ছে এমনও অনেক বিষয় থাকে। অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। দ্রুত উদ্ধার করা চেষ্টা চলছে।

০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০১
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে অবৈধভাবে ইউরিয়া সার মজুদের দায়ে মনিরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক সার ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তিনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছোট ধোপাকান্দি গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মনিরুল ইসলামের বাড়ি থেকে ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়।
মনিরুল ইসলাম ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। স্থানীয়দের কাছ থেকে অবৈধভাবে সার মজুদের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, মনিরুল ইসলাম তার গুদাম থেকে বাড়িতে নিয়ে সার মজুদ করছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সার ব্যবস্থাপনা আইনে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসাইন ও কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে অবৈধভাবে ইউরিয়া সার মজুদের দায়ে মনিরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক সার ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তিনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছোট ধোপাকান্দি গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মনিরুল ইসলামের বাড়ি থেকে ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়।
মনিরুল ইসলাম ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। স্থানীয়দের কাছ থেকে অবৈধভাবে সার মজুদের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, মনিরুল ইসলাম তার গুদাম থেকে বাড়িতে নিয়ে সার মজুদ করছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সার ব্যবস্থাপনা আইনে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসাইন ও কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৮
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. নাজমুল ঠাকুরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রাতুল নাহিদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাজমুল ঠাকুরের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারের পরামর্শে এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবিরের নির্দেশক্রমে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবির বলেন, নাজমুল ঠাকুরের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দলের নজরে আসে। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে নাজমুল ঠাকুরের ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি ভিডিওটিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে বলেছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নন। বিষয়টি যাচাই করতে ভিডিওটি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. নাজমুল ঠাকুরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রাতুল নাহিদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাজমুল ঠাকুরের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারের পরামর্শে এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবিরের নির্দেশক্রমে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবির বলেন, নাজমুল ঠাকুরের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দলের নজরে আসে। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে নাজমুল ঠাকুরের ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি ভিডিওটিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে বলেছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নন। বিষয়টি যাচাই করতে ভিডিওটি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০২
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ও আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কৃতদের তালিকা প্রকাশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন—গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।
এ ছাড়া স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, হাফিজুর রহমান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহবুবার রহমান ওরফে বাবু, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া, এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন এবং প্রক্টর দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।
তার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ও আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কৃতদের তালিকা প্রকাশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন—গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।
এ ছাড়া স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, হাফিজুর রহমান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহবুবার রহমান ওরফে বাবু, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া, এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন এবং প্রক্টর দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।
তার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়।

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:৩২
টিকটক থেকে পরিচয় হয় ভৈরবের মেয়ে নদী (১৮) ও ফেনীর মেয়ে ফারহানা (২৩) নামের দুই নারীর। দিনভর মোবাইলে কথোপকথন থেকে সম্পর্ক গভীর হয় তাদের।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ভৈরব থেকে স্বামীর সংসার ও ১৫ মাসের বাচ্চা রেখে পালিয়ে যায় নদী। এ বিষয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভৈরব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে থানা সামনে কথাগুলো বলছিলেন স্বামী কাউসার মিয়া।
স্বামী কাউসার মিয়ার নিজ বাড়ি উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ছনছাড়া গ্রামে। তিনি একজন পাদুকা শ্রমিক। ভাড়া থাকেন উপজেলা পরিষদসংলগ্ন পাদুকা মার্কেট এলাকায়। তার স্ত্রী নদী বেগমের বাড়ি একই ইউনিয়নের টানকৃষ্ণনগর গ্রামে। অপর দিকে অভিযুক্ত নারী ফারহানা বেগমের শ্বশুর বাড়ি নোয়াখালী জেলা সেনবাগ থানার রাজারামপুর এলাকায়।
কাউসার মিয়া বলেন, ‘আমি গত প্রায় ২ বছর আগে নদীকে বিবাহ করি। আমাদের বিবাহের পর আমাদের সংসার খুবই ভালো চলছিল এবং আমার স্ত্রীর সাথে সুসম্পর্ক ছিল। আমাদের ১৫ মাসের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। আমার স্ত্রী টিকটকে আসক্ত ছিল। সেই সুবাদে নোয়াখালীর ফারহানা নামের এক নারীর সাথে পরিচয় হয়। তারা প্রতিনিয়ত ফোনে কথা বলত। এমনকি আমিও মাঝে মধ্যে নোয়াখালীর মেয়ের সাথে কথা বলতাম। হঠাৎ আমার স্ত্রী গত ১ সপ্তাহ আগে আমার দুধের বাচ্চাকে আমার মায়ের কাছে রেখে আমার আলমারিতে রাখা ৭ হাজার টাকা এবং আমার মোবাইল ফোন নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। আমি নোয়াখালী যোগাযোগ করলে জানতে পারি সেই মেয়েটিও বাড়িতে নাই। আমরা উভয় পরিবারই থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আমার জন্য না হোক আমার দুধের বাচ্চার জন্য আমার স্ত্রীকে ফিরে পেতে চাই।’
ফারহানা বেগমের ভাই ফায়েজ মিয়া বলেন, ১ সপ্তাহ আগে আমার বোন তার ৪ বছরের মেয়েকে আমাদের বাড়িতে রেখে নিখোঁজ হয়েছে। ভৈরব থেকে কাউসার জানিয়েছে তার বউ বাড়িতে নাই। যদিও নদী ও ফারহানার মাঝে সুসম্পর্ক ছিল। আমার বোনের শ্বশুর বাড়ির লোকজন বলছে কোনো এক ছেলের সাথে সম্পর্কের কারণে আমার বোন পালিয়েছে। বিদেশে আমার বোন জামাই কান্নাকাটি করছে। আমরা জানি না কীভাবে কী হয়েছে। আমরা চাই আমার বোন ও ভৈরবের মেয়েকে উদ্ধার করা হোক।’
ভৈরব থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, এক নারীর সাথে আরেক নারী কোথাও যাওয়া ভিন্ন ব্যাপার; কিন্তু তাদের সম্পর্কের বিষয়টাও ভিত্তি নেই। তবে নোয়াখালী এলাকার নারীর স্বামী যেহেতু বিদেশে থাকে সেটা সন্দেহজনক। এক মেয়ের প্ররোচনায় আরেক মেয়ে বিদেশ যাচ্ছে এমনও অনেক বিষয় থাকে। অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। দ্রুত উদ্ধার করা চেষ্টা চলছে।