
০১ মার্চ, ২০২৬ ১৫:০৭
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: শিলন্দিয়ার শনিবারের রাতটা শুধু আগুনের নয়, একটি দরিদ্র পরিবারের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার রাত। দিনমজুর মুজাম্মেল হক মল্লিকের চোখের সামনে একে একে পুড়ে মরল ২১টি ছাগল আর দুইটি গরু।
প্রাণগুলোর সঙ্গেই যেন নিভে গেল মুজাম্মেল পরিবারের আগামী দিনের আলো। এখনো দগ্ধ অবস্থায় একটি গরু এবং ছয়টি ছাগল রয়েছে।
গৃহপালিত এই পশুগুলোকে আদৌ বাঁচাতে পারবেন কি না, তা নিয়েও দুশ্চিন্তার শেষ নেই পরিবারটির। মুজাম্মেল হক বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের শিলন্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
দিনমজুরির পাশাপাশি গরু-ছাগল পালন করেন তিনি। স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে মুজাম্মেল হকের বসতঘরে আগুন লাগে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েলের আগুন থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বসতঘর, রান্নাঘর ও গবাদিপশুর ঘরে।
সূত্র জানায়, সকালে কাজ মিললে দিন চলে, না মিললে হাঁড়ি চড়ে না। এই অনিশ্চিত জীবনের মাঝখানে মুজাম্মেলের নিশ্চিত ভরসার জায়গা ছিল গরু-ছাগল।
এখান থেকেই ঘরে আসতো চাল-ডাল। গাভীর দুধে চলতো নিত্য খরচ। অসুখ-বিসুখে ওগুলোই ছিল শেষ অবলম্বন। আগুন সেই সবকিছু মুহূর্তেই কেড়ে নিয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, গোয়ালঘরে জ্বালানো মশার কয়েল থেকেই আগুনের সূত্রপাত।
কিন্তু আগুনের কাছে কারণের কোনো দাম নেই। মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রাম জেগে ওঠে চিৎকারে। মানুষ দৌড়ে আসে, পানি ঢালে, চেষ্টা করে। কিন্তু চোখের সামনে পশুগুলো নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস রওনা দিয়েছিল। কিন্তু ভাঙা রাস্তা আর দূরত্ব পেরোতে পেরোতেই সব শেষ। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পশুগুলো ছিল মুজাম্মেল হকের ব্যাংক; তার সঞ্চয়, তার ভবিষ্যৎ। আজ সেই ব্যাংক আগুনে পুড়ে শূন্য।
বসতঘর ভস্মীভূত; গোয়ালঘর নেই, আয়ের কোনো পথও নেই। আগুন কেবল প্রাণ নেয়নি, কেড়ে নিয়েছে একজন দিনমজুরের মাথা তুলে দাঁড়ানোর শক্তিটুকুও।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা আজ রবিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: শিলন্দিয়ার শনিবারের রাতটা শুধু আগুনের নয়, একটি দরিদ্র পরিবারের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার রাত। দিনমজুর মুজাম্মেল হক মল্লিকের চোখের সামনে একে একে পুড়ে মরল ২১টি ছাগল আর দুইটি গরু।
প্রাণগুলোর সঙ্গেই যেন নিভে গেল মুজাম্মেল পরিবারের আগামী দিনের আলো। এখনো দগ্ধ অবস্থায় একটি গরু এবং ছয়টি ছাগল রয়েছে।
গৃহপালিত এই পশুগুলোকে আদৌ বাঁচাতে পারবেন কি না, তা নিয়েও দুশ্চিন্তার শেষ নেই পরিবারটির। মুজাম্মেল হক বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের শিলন্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
দিনমজুরির পাশাপাশি গরু-ছাগল পালন করেন তিনি। স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে মুজাম্মেল হকের বসতঘরে আগুন লাগে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েলের আগুন থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বসতঘর, রান্নাঘর ও গবাদিপশুর ঘরে।
সূত্র জানায়, সকালে কাজ মিললে দিন চলে, না মিললে হাঁড়ি চড়ে না। এই অনিশ্চিত জীবনের মাঝখানে মুজাম্মেলের নিশ্চিত ভরসার জায়গা ছিল গরু-ছাগল।
এখান থেকেই ঘরে আসতো চাল-ডাল। গাভীর দুধে চলতো নিত্য খরচ। অসুখ-বিসুখে ওগুলোই ছিল শেষ অবলম্বন। আগুন সেই সবকিছু মুহূর্তেই কেড়ে নিয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, গোয়ালঘরে জ্বালানো মশার কয়েল থেকেই আগুনের সূত্রপাত।
কিন্তু আগুনের কাছে কারণের কোনো দাম নেই। মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রাম জেগে ওঠে চিৎকারে। মানুষ দৌড়ে আসে, পানি ঢালে, চেষ্টা করে। কিন্তু চোখের সামনে পশুগুলো নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস রওনা দিয়েছিল। কিন্তু ভাঙা রাস্তা আর দূরত্ব পেরোতে পেরোতেই সব শেষ। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পশুগুলো ছিল মুজাম্মেল হকের ব্যাংক; তার সঞ্চয়, তার ভবিষ্যৎ। আজ সেই ব্যাংক আগুনে পুড়ে শূন্য।
বসতঘর ভস্মীভূত; গোয়ালঘর নেই, আয়ের কোনো পথও নেই। আগুন কেবল প্রাণ নেয়নি, কেড়ে নিয়েছে একজন দিনমজুরের মাথা তুলে দাঁড়ানোর শক্তিটুকুও।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা আজ রবিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:৩৯

০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:৩৪
তিনদিন পর বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণ। পূর্বের ঘোষিত কর্মসূচি স্থগিত করে রোববার (১ মার্চ) সকাল থেকে আদালতে ফিরেছেন আইনজীবীরা। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বিচারপ্রার্থীরা।
এর আগে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনূসের জামিন আদেশ ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিচারকের উপস্থিতিতেই এজলাসে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ অন্তত ২০ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়। মামলায় সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
ওই ঘটনার পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতার জামিন বাতিল, সংশ্লিষ্ট বিচারকের অপসারণ এবং সমিতির সভাপতি লিংকনের মুক্তির দাবিতে টানা তিন দিন আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।
পরে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে পূর্বঘোষিত আদালত বর্জনের কর্মসূচি স্থগিত করেছেন বরিশালের আইনজীবীরা। একই সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, বরিশাল ইউনিটও। ফলে রোববার থেকে বরিশালের আদালতগুলোতে স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ থেকে মামলার হাজিরা দিতে আসা মো. কালাম হোসেন বলেন, বুধবার একবার এসে ফিরে গেছি, তখন দেখেছি আইনজীবীরা আদালত বর্জন করেছিল। আজকে আবার এসেছি, এখন আশা করছি জামিন কার্যক্রম করাতে পারবো।
জেলা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মির্জা মো. রিয়াজ হোসেন বলেন, সাধারণ মানুষ ও বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে। সে কারণেই আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আইনজীবী সমিতির এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের বরিশাল ইউনিট। পৃথক বিবৃতিতে সংগঠনটির আহ্বায়ক মো. নাজিম উদ্দিন আহমেদ পান্না ও সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন জানান, পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আদালত বর্জনের কর্মসূচি স্থগিত থাকবে।

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:০৫
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের আঞ্চলিক সংগঠন ‘বরিশাল বিভাগীয় স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন’র নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়ছে।
নতুন এ কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টি টেকনোলজি বিভাগের ২০২১-২০২২ সেশনের শিক্ষার্থী মো. জাবির মৃধা ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন একই সেশনের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের হাসিব আহমেদ সিদ্দিকি রাফি। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
কমিটির অন্যান্যরা হলেন সহ-সভাপতি শাহরিয়ার, সৈয়দ আহমেদ ওতি, মো. জুবায়ের হোসেন সায়েম, ইশতিয়াক আহমেদ, জুয়েল মাহমুদ ও মো. সাইফুল ইসলাম নুয়াস। সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক হিসেবে তরিকুল ইসলাম ওভি, সহসাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস হাসান, সৈয়দ আহমেদ, মো. রিফাত, নুসরাত জাহান মিথিলা, শাদাত হোসেন, বৃষ্টি হাওলাদার ও নাহিদ হাসান মনোনীত হয়েছেন।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মো. ওসমান গণি, সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মো.আবুল কালাম ইমন, রাবিতা হাসান, সৈকত মন্ডল, মশিউর রহমান শুভ ও নাজিফা তাসনিম নাজাহ, কোষাধ্যক্ষ প্রিতম ঘোষ, সহকারী কোষাধ্যক্ষ সাজিদ রহমান, প্রচার সম্পাদক সালমান মোল্লা, সহকারী প্রচার সম্পাদক নাহিদ আহসান, ক্রীড়া সম্পাদক সুব্রতলাল মুহুরি, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক আফরাজুর রহমান এবং সহকারী তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম স্বাধীন দায়িত্ব পেয়েছেন।
এছাড়া দপ্তর সম্পাদক হিসেবে বিন্তু মন্ডল, সহ-দপ্তর সম্পাদক ফাহমিদা জাবিন প্রমি, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাপ্পি কুমার বিপ্লব ও সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ফাতিহা মুন।
কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন জাবির শান্ত, মো. শাহেদুর রহমান, রাকাদুল ইমন, নুসরাত হক ফাইজা, রাইয়ান রাফিন অর্নব, জালিছ মাহমুদ, ইয়াসিন আরাফাত এবং মো. মেহেদী হাসান রাকিব।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
নেতৃত্বসারির নেতাদের সাথে আপসরফার গুঞ্জন, বিএনপির তৃণমূলে বাড়ছে ক্ষোভ।
বহু অঘটন পটিয়াসি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী গ্রেপ্তার এবং জনরোষের ভয়ে এলাকা ত্যাগ করলেও হঠাৎ করে তারা ফিরতে শুরু করেছেন। তাদের নামে জুলাই আন্দোলনের একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তারা প্রকাশ্যে ঘুরছেন এবং গাড়িযোগে এলাকায় মহড়া দিচ্ছেন। এনিয়ে জুলাই আন্দোলনকারীদের ভেতরকার প্রচন্ড ক্ষোভ আছে এবং আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনে খোদ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বকে দোষারোপ করা হচ্ছে। বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন লিটন লিটন মোল্লা শুক্রবার রাতে কোনো এক সময় গড়িয়ারপাড় এলাকায় গাড়ি নিয়ে কর্মী-সমর্থকসমেত মহড়া দেন এবং এর বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছড়িয়ে পড়লে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল বিতর্ক দেখা দেয়। একাধিক মামলার আসামি হয়েও কাশিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লিটন মোল্লা কি ভাবে এলাকায় প্রকাশ্যে মহড়া দিলেন তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানববন্দর থানা পুলিশকেও বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতার মহড়ার বিষয়ে বিমানবন্দর থানা পুলিশ মিডিয়ায় দায়সাড়া বক্তব্য রাখলেও ইউনিয়নের তৃণমূল বিএনপিতে ক্ষোভ চরমাকারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের পদধারী একাধিক নেতা গত ১৬ বছর গোটা বরিশাল শহর দাপিয়ে বেরিয়েছেন এবং দলীয় ব্যানারে বিভিন্ন অপকর্ম করা ও বিএনপি-জামায়াতসহ সাধারণ মানুষকে নিপিড়ন করে বিতর্কের শীর্ষ আছেন তারা একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে ঘুরছেন। এনিয়ে তৃণমূল বিএনপিতে ক্ষোভ থাকলেও নেতৃত্বসারির নেতাদের রহস্যজনক নিরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অভিযোগ আছে, সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশও স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ইস্যুতে এক ধরনের নমনীয়তা দেখাচ্ছেন। বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা কাশিপুরের চেয়ারম্যান লিটন মোল্লার ক্ষেত্রে পুলিশকে একটু বেশিমাত্রায় উদাসীন দেখা যাচ্ছে।
বিগত সময়ে মামলা-হামলার শিকার তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীর অভিযোগ, বরিশাল শহরের উত্তর-পশ্চিম গড়িয়ারপাড় এলাকায় লিটন মোল্লা এবং তার ভাই কালাম মোল্লা গত ১৭ বছর এক ধরনের শাসন-শোষণ করেছেন। তাদের ভুমিদস্যুতা-চাঁদাবাজি এবং অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বহু মানুষ হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। কিন্তু তাদের ক্ষমতার প্রভাবের কাছে কেউ মুখ খোলার সাহস দেখাননি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে তারা দুই ভাইসহ বাহিনীর অপরাপর সদস্যরা জনরোষ এবং গ্রেপ্তার এড়াতে কিছুদিনের জন্য অন্তর্ধানে চলে যান। কিন্তু তারা পলাতক থাকলেও সরকারকে বিপদে ফেলতে বিভিন্ন মাধ্যম তৎপরতা অব্যাহত রাখেন।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, আলোচিত সন্ত্রাসী লিটনের ভাই বরিশাল সিটির ৩০ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কালাম মোল্লা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় বলয়ের মধ্যে সন্ত্রাসীদের নিয়ে মশালমিছিল করে নিজের শক্তি জানান দিয়েছেন। সেই ঘটনায় পুলিশ-প্রশাসন কজনকে গ্রেপ্তার করলেও কালাম মোল্লা এখনও পলাতক আছেন। এবার দীর্ঘ ১৮ মাস পরে প্রকাশ্যে মহড়া দিয়ে আলোচনায় এসেছেন তারই আপন ভাই কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিটন মোল্লা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে লিটন মোল্লা একটি প্রাইভেটকারযোগে গড়িয়ারপাড়ে আসেন। এবং তার সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপও ছিল। তারা বেশ কিছুক্ষণ ৩০ নং ওয়ার্ডের গড়িয়ারপাড়ে অবস্থান নিয়ে ছিলেন এবং কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বিশেষ দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্যও রাখেন। এসময় সেখানে এক উত্তেজনাকর পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
আলোচিত সন্ত্রাসী লিটন মোল্লার এলাকায় উপস্থিতি সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবগত না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তৃণমূল বিএনপি অভিযোগ করেছে, আলোচিত জল কাদের মোল্লার তিন সন্তান কালাম মোল্লা, লিটন মোল্লা এবং মুন্না মোল্লা সকলেই অতীতে আওয়ামী লীগ শাসনামলে বহুমুখী সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। এবং জুলাই আন্দোলনে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়। এরপরে গণরোষ এবং পুলিশী হয়রানি এড়াতে তারা কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও ধীরে ধীরে বিএনপির নেতৃত্বসারির নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলতে সক্ষম হন। শোনা যাচ্ছে, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে তারা থানা পুলিশের সাথেও আপসরফা করেছেন, এই কারণে থানাসংলগ্ন তাদের বাসা হওয়া সত্ত্বেও পুলিশকে সেখানে অভিযান চালাতে দেখা যাচ্ছে না।
অবশ্য প্রতাপশালী এই পরিবারের সাথে যে বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমানের যোগাযোগের বিষয়টি শোনা যায়, তাও অমুলক বলছে না স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা। কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা বিএনপি কর্মী আবির আহমেদ রূপালী বাংলাদেশের কাছে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে তাদের তিন ভাইয়ের সন্ত্রাসের ভয়ংকর রূপ কাশিপুর-বাবুগঞ্জসহ আশপাশের মানুষ কিছুটা হলেও দেখেছে। দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তারা একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়েও সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মহড়া দিচ্ছে, যা আতঙ্ক-উদ্বেগের বটে।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের এমন প্রত্যার্বতনে বিএনপির কর্মীরা তাদের দলের ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতৃত্বসারির নেতাদের দোষারোপ করেছেন। অনেকে বলছেন, নেতারা টাকার কাছে ম্যানেজ হয়ে গেছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, লোকবল এবং অর্থ দুটিতেই আওয়ামী লীগের নেতারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। ফলে তাদের সাথে ঝামেলা না করে বিএনপি নেতারা সমঝোতা বা আপসরফার পথ বেচে নিচ্ছেন।
তবে লিটন মোল্লা বা কোনো কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা এলাকায় মহড়া দেওয়ার বিষয়ে তেমন কিছু জানা নেই বলে দাবি করেছেন কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির ওয়াসিম। তার সাথে আপসরফার বিষয়টি অস্বীকার করে বলছেন, লিটন বা কালামের নামে একাধিক মামলা আছে, পুলিশ ইচ্ছা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।
তাহলে কি পুলিশের নির্লুপ্তায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাহিনী নিয়ে মহড়া দেওয়ার সাহস বা শক্তি প্রদর্শন করছেন- এমন প্রশ্নে উত্তরে ওয়াসিম বলেন, এই বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারেন।
পুলিশের সাথে লিটন মোল্লার সখ্যতার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, লিটন মোল্লা শুক্রবার রাতে গাড়িযোগে গড়িয়ারপাড়ে এসেছিলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি এর আগেই স্থান ত্যাগ করায় তাকে আর আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ, লিটন মোল্লা নির্বাচনের পর থেকে এলাকায় ঘুরছেন এবং বাসায় রাত্রিযাপন করেন? এই প্রশ্নে ওসি মিজানুর রহমান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে কাজ করছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, নিষিদ্ধ কোনো গোষ্ঠীকে সক্রিয় হতে দেওয়ার সুযোগ নেই। মাঠপুলিশকে এমন নির্দেশনা দেওয়া আছে। এক্ষেত্রে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্যর যদি গাফলতি দেখা যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।’
নেতৃত্বসারির নেতাদের সাথে আপসরফার গুঞ্জন, বিএনপির তৃণমূলে বাড়ছে ক্ষোভ।
বহু অঘটন পটিয়াসি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী গ্রেপ্তার এবং জনরোষের ভয়ে এলাকা ত্যাগ করলেও হঠাৎ করে তারা ফিরতে শুরু করেছেন। তাদের নামে জুলাই আন্দোলনের একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তারা প্রকাশ্যে ঘুরছেন এবং গাড়িযোগে এলাকায় মহড়া দিচ্ছেন। এনিয়ে জুলাই আন্দোলনকারীদের ভেতরকার প্রচন্ড ক্ষোভ আছে এবং আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনে খোদ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বকে দোষারোপ করা হচ্ছে। বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন লিটন লিটন মোল্লা শুক্রবার রাতে কোনো এক সময় গড়িয়ারপাড় এলাকায় গাড়ি নিয়ে কর্মী-সমর্থকসমেত মহড়া দেন এবং এর বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছড়িয়ে পড়লে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল বিতর্ক দেখা দেয়। একাধিক মামলার আসামি হয়েও কাশিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লিটন মোল্লা কি ভাবে এলাকায় প্রকাশ্যে মহড়া দিলেন তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানববন্দর থানা পুলিশকেও বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতার মহড়ার বিষয়ে বিমানবন্দর থানা পুলিশ মিডিয়ায় দায়সাড়া বক্তব্য রাখলেও ইউনিয়নের তৃণমূল বিএনপিতে ক্ষোভ চরমাকারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের পদধারী একাধিক নেতা গত ১৬ বছর গোটা বরিশাল শহর দাপিয়ে বেরিয়েছেন এবং দলীয় ব্যানারে বিভিন্ন অপকর্ম করা ও বিএনপি-জামায়াতসহ সাধারণ মানুষকে নিপিড়ন করে বিতর্কের শীর্ষ আছেন তারা একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে ঘুরছেন। এনিয়ে তৃণমূল বিএনপিতে ক্ষোভ থাকলেও নেতৃত্বসারির নেতাদের রহস্যজনক নিরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অভিযোগ আছে, সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশও স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ইস্যুতে এক ধরনের নমনীয়তা দেখাচ্ছেন। বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা কাশিপুরের চেয়ারম্যান লিটন মোল্লার ক্ষেত্রে পুলিশকে একটু বেশিমাত্রায় উদাসীন দেখা যাচ্ছে।
বিগত সময়ে মামলা-হামলার শিকার তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীর অভিযোগ, বরিশাল শহরের উত্তর-পশ্চিম গড়িয়ারপাড় এলাকায় লিটন মোল্লা এবং তার ভাই কালাম মোল্লা গত ১৭ বছর এক ধরনের শাসন-শোষণ করেছেন। তাদের ভুমিদস্যুতা-চাঁদাবাজি এবং অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বহু মানুষ হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। কিন্তু তাদের ক্ষমতার প্রভাবের কাছে কেউ মুখ খোলার সাহস দেখাননি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে তারা দুই ভাইসহ বাহিনীর অপরাপর সদস্যরা জনরোষ এবং গ্রেপ্তার এড়াতে কিছুদিনের জন্য অন্তর্ধানে চলে যান। কিন্তু তারা পলাতক থাকলেও সরকারকে বিপদে ফেলতে বিভিন্ন মাধ্যম তৎপরতা অব্যাহত রাখেন।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, আলোচিত সন্ত্রাসী লিটনের ভাই বরিশাল সিটির ৩০ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কালাম মোল্লা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় বলয়ের মধ্যে সন্ত্রাসীদের নিয়ে মশালমিছিল করে নিজের শক্তি জানান দিয়েছেন। সেই ঘটনায় পুলিশ-প্রশাসন কজনকে গ্রেপ্তার করলেও কালাম মোল্লা এখনও পলাতক আছেন। এবার দীর্ঘ ১৮ মাস পরে প্রকাশ্যে মহড়া দিয়ে আলোচনায় এসেছেন তারই আপন ভাই কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিটন মোল্লা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে লিটন মোল্লা একটি প্রাইভেটকারযোগে গড়িয়ারপাড়ে আসেন। এবং তার সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপও ছিল। তারা বেশ কিছুক্ষণ ৩০ নং ওয়ার্ডের গড়িয়ারপাড়ে অবস্থান নিয়ে ছিলেন এবং কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বিশেষ দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্যও রাখেন। এসময় সেখানে এক উত্তেজনাকর পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
আলোচিত সন্ত্রাসী লিটন মোল্লার এলাকায় উপস্থিতি সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবগত না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তৃণমূল বিএনপি অভিযোগ করেছে, আলোচিত জল কাদের মোল্লার তিন সন্তান কালাম মোল্লা, লিটন মোল্লা এবং মুন্না মোল্লা সকলেই অতীতে আওয়ামী লীগ শাসনামলে বহুমুখী সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। এবং জুলাই আন্দোলনে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়। এরপরে গণরোষ এবং পুলিশী হয়রানি এড়াতে তারা কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও ধীরে ধীরে বিএনপির নেতৃত্বসারির নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলতে সক্ষম হন। শোনা যাচ্ছে, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে তারা থানা পুলিশের সাথেও আপসরফা করেছেন, এই কারণে থানাসংলগ্ন তাদের বাসা হওয়া সত্ত্বেও পুলিশকে সেখানে অভিযান চালাতে দেখা যাচ্ছে না।
অবশ্য প্রতাপশালী এই পরিবারের সাথে যে বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমানের যোগাযোগের বিষয়টি শোনা যায়, তাও অমুলক বলছে না স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা। কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা বিএনপি কর্মী আবির আহমেদ রূপালী বাংলাদেশের কাছে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে তাদের তিন ভাইয়ের সন্ত্রাসের ভয়ংকর রূপ কাশিপুর-বাবুগঞ্জসহ আশপাশের মানুষ কিছুটা হলেও দেখেছে। দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তারা একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়েও সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মহড়া দিচ্ছে, যা আতঙ্ক-উদ্বেগের বটে।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের এমন প্রত্যার্বতনে বিএনপির কর্মীরা তাদের দলের ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতৃত্বসারির নেতাদের দোষারোপ করেছেন। অনেকে বলছেন, নেতারা টাকার কাছে ম্যানেজ হয়ে গেছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, লোকবল এবং অর্থ দুটিতেই আওয়ামী লীগের নেতারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। ফলে তাদের সাথে ঝামেলা না করে বিএনপি নেতারা সমঝোতা বা আপসরফার পথ বেচে নিচ্ছেন।
তবে লিটন মোল্লা বা কোনো কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা এলাকায় মহড়া দেওয়ার বিষয়ে তেমন কিছু জানা নেই বলে দাবি করেছেন কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির ওয়াসিম। তার সাথে আপসরফার বিষয়টি অস্বীকার করে বলছেন, লিটন বা কালামের নামে একাধিক মামলা আছে, পুলিশ ইচ্ছা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।
তাহলে কি পুলিশের নির্লুপ্তায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাহিনী নিয়ে মহড়া দেওয়ার সাহস বা শক্তি প্রদর্শন করছেন- এমন প্রশ্নে উত্তরে ওয়াসিম বলেন, এই বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারেন।
পুলিশের সাথে লিটন মোল্লার সখ্যতার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, লিটন মোল্লা শুক্রবার রাতে গাড়িযোগে গড়িয়ারপাড়ে এসেছিলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি এর আগেই স্থান ত্যাগ করায় তাকে আর আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ, লিটন মোল্লা নির্বাচনের পর থেকে এলাকায় ঘুরছেন এবং বাসায় রাত্রিযাপন করেন? এই প্রশ্নে ওসি মিজানুর রহমান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে কাজ করছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, নিষিদ্ধ কোনো গোষ্ঠীকে সক্রিয় হতে দেওয়ার সুযোগ নেই। মাঠপুলিশকে এমন নির্দেশনা দেওয়া আছে। এক্ষেত্রে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্যর যদি গাফলতি দেখা যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।’
তিনদিন পর বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণ। পূর্বের ঘোষিত কর্মসূচি স্থগিত করে রোববার (১ মার্চ) সকাল থেকে আদালতে ফিরেছেন আইনজীবীরা। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বিচারপ্রার্থীরা।
এর আগে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনূসের জামিন আদেশ ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিচারকের উপস্থিতিতেই এজলাসে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ অন্তত ২০ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়। মামলায় সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
ওই ঘটনার পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতার জামিন বাতিল, সংশ্লিষ্ট বিচারকের অপসারণ এবং সমিতির সভাপতি লিংকনের মুক্তির দাবিতে টানা তিন দিন আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।
পরে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে পূর্বঘোষিত আদালত বর্জনের কর্মসূচি স্থগিত করেছেন বরিশালের আইনজীবীরা। একই সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, বরিশাল ইউনিটও। ফলে রোববার থেকে বরিশালের আদালতগুলোতে স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ থেকে মামলার হাজিরা দিতে আসা মো. কালাম হোসেন বলেন, বুধবার একবার এসে ফিরে গেছি, তখন দেখেছি আইনজীবীরা আদালত বর্জন করেছিল। আজকে আবার এসেছি, এখন আশা করছি জামিন কার্যক্রম করাতে পারবো।
জেলা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মির্জা মো. রিয়াজ হোসেন বলেন, সাধারণ মানুষ ও বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে। সে কারণেই আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আইনজীবী সমিতির এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের বরিশাল ইউনিট। পৃথক বিবৃতিতে সংগঠনটির আহ্বায়ক মো. নাজিম উদ্দিন আহমেদ পান্না ও সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন জানান, পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আদালত বর্জনের কর্মসূচি স্থগিত থাকবে।
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের আঞ্চলিক সংগঠন ‘বরিশাল বিভাগীয় স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন’র নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়ছে।
নতুন এ কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টি টেকনোলজি বিভাগের ২০২১-২০২২ সেশনের শিক্ষার্থী মো. জাবির মৃধা ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন একই সেশনের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের হাসিব আহমেদ সিদ্দিকি রাফি। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
কমিটির অন্যান্যরা হলেন সহ-সভাপতি শাহরিয়ার, সৈয়দ আহমেদ ওতি, মো. জুবায়ের হোসেন সায়েম, ইশতিয়াক আহমেদ, জুয়েল মাহমুদ ও মো. সাইফুল ইসলাম নুয়াস। সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক হিসেবে তরিকুল ইসলাম ওভি, সহসাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস হাসান, সৈয়দ আহমেদ, মো. রিফাত, নুসরাত জাহান মিথিলা, শাদাত হোসেন, বৃষ্টি হাওলাদার ও নাহিদ হাসান মনোনীত হয়েছেন।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মো. ওসমান গণি, সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মো.আবুল কালাম ইমন, রাবিতা হাসান, সৈকত মন্ডল, মশিউর রহমান শুভ ও নাজিফা তাসনিম নাজাহ, কোষাধ্যক্ষ প্রিতম ঘোষ, সহকারী কোষাধ্যক্ষ সাজিদ রহমান, প্রচার সম্পাদক সালমান মোল্লা, সহকারী প্রচার সম্পাদক নাহিদ আহসান, ক্রীড়া সম্পাদক সুব্রতলাল মুহুরি, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক আফরাজুর রহমান এবং সহকারী তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম স্বাধীন দায়িত্ব পেয়েছেন।
এছাড়া দপ্তর সম্পাদক হিসেবে বিন্তু মন্ডল, সহ-দপ্তর সম্পাদক ফাহমিদা জাবিন প্রমি, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাপ্পি কুমার বিপ্লব ও সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ফাতিহা মুন।
কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন জাবির শান্ত, মো. শাহেদুর রহমান, রাকাদুল ইমন, নুসরাত হক ফাইজা, রাইয়ান রাফিন অর্নব, জালিছ মাহমুদ, ইয়াসিন আরাফাত এবং মো. মেহেদী হাসান রাকিব।