সাত দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া লংমার্চের রুট চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর রাজধানী থেকে শুরু হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা অতিক্রম করে কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে এ কর্মসূচি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে লংমার্চের রুট ও পথসভার স্থান চূড়ান্ত করা হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সকাল ৮টায় গাড়িবহর পদ্মা সেতু হয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করবে।
লংমার্চের গাড়িবহর পদ্মা সেতু পার হয়ে প্রথমে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা এলাকায় পথসভায় অংশ নেবে। এরপর ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও মাদারীপুরের টেকেরহাট হয়ে গোপালগঞ্জে প্রবেশ করবে।
তবে গোপালগঞ্জে কোনো পথসভা রাখা হয়নি। শহর অতিক্রম করে গাড়িবহর বাগেরহাটের ফকিরহাটে যাবে। সেখানে কাটাখালী মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর রূপসা সেতু পার হয়ে খুলনা নগরীর শিববাড়ী মোড়ে পথসভা হবে। খুলনার ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরেও আরেকটি পথসভা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পরে গাড়িবহর যশোরের চাচড়া মোড়ে পথসভায় অংশ নেবে। এরপর ঝিনাইদহ জেলা শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পথসভা শেষে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করবে।
লংমার্চের শেষ কর্মসূচি হবে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ। পুরো লংমার্চের রুট প্রায় ৪০০ কিলোমিটার।
পূজার কারণে আগে ঘোষিত ১০ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা এবং ২৪ অক্টোবরের ঢাকা-সিলেট লংমার্চের কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-খুলনা লংমার্চের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ অক্টোবর। আর ঢাকা-সিলেট লংমার্চের নতুন তারিখ আগামী নভেম্বরে নির্ধারণ করা হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
১১ দলের ঘোষিত সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি।
গত বছরের জুলাইয়ে এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষে কয়েকজন নিহত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এবারের লংমার্চে গোপালগঞ্জে কোনো পথসভা না রাখার সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও রংপুরের লংমার্চের মতো দক্ষিণাঞ্চলের কর্মসূচিও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা হবে। গোপালগঞ্জের মানুষের সঙ্গে তাদের ভালোবাসার সম্পর্ক রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কেউ উসকানি বা অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে। ১১ দলের নেতাকর্মীরা কোনো ধরনের উসকানিতে পা দেবেন না বলেও তিনি জানান।
লংমার্চের রুট: ঢাকা → জাজিরা → ভাঙ্গা → টেকেরহাট → গোপালগঞ্জ → ফকিরহাট → খুলনা → ফুলতলা → যশোর → ঝিনাইদহ → কুষ্টিয়া।

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:০৮
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তথ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬-এর ‘পদক প্রদান অনুষ্ঠান’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “যারা ফ্যাসিবাদের, আওয়ামী শক্তির দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পারবে, তাদের আমরা পুরস্কৃত করব।” তিনি জানান, গত সপ্তাহে এ ধরনের দুজনকে এবং শুক্রবার আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের গোয়েন্দা সক্ষমতা ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এতদিন এসব ব্যক্তি দেশে থেকেও আত্মগোপনে ছিলেন। তাদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের গোয়েন্দা সহায়তা আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। অন্য সংস্থার গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে তুলনা করে প্রয়োজনীয় তথ্য কাজে লাগানোরও নির্দেশ দেন তিনি।
দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বক্তব্যে সাম্প্রতিক ও অতীতের বিভিন্ন সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জাতিসংঘের হিসাব উল্লেখ করে বলেন, এক মাসে বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন। একই সঙ্গে গত ১৭ বছরের বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও হেফাজতে মৃত্যুর বিভিন্ন হিসাবের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতের সহিংসতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়নি। তাঁর দাবি, এসব ব্যক্তির কেউ কেউ বর্তমানে দেশের বাইরে থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন।
শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের, শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের ফেরত দেওয়ার জন্য চুক্তি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হলে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ৯৮ জন পুলিশ সদস্যকে পিপিএম ও বিপিএম পদক পরিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তথ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬-এর ‘পদক প্রদান অনুষ্ঠান’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “যারা ফ্যাসিবাদের, আওয়ামী শক্তির দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পারবে, তাদের আমরা পুরস্কৃত করব।” তিনি জানান, গত সপ্তাহে এ ধরনের দুজনকে এবং শুক্রবার আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের গোয়েন্দা সক্ষমতা ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এতদিন এসব ব্যক্তি দেশে থেকেও আত্মগোপনে ছিলেন। তাদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের গোয়েন্দা সহায়তা আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। অন্য সংস্থার গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে তুলনা করে প্রয়োজনীয় তথ্য কাজে লাগানোরও নির্দেশ দেন তিনি।
দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বক্তব্যে সাম্প্রতিক ও অতীতের বিভিন্ন সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জাতিসংঘের হিসাব উল্লেখ করে বলেন, এক মাসে বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন। একই সঙ্গে গত ১৭ বছরের বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও হেফাজতে মৃত্যুর বিভিন্ন হিসাবের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতের সহিংসতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়নি। তাঁর দাবি, এসব ব্যক্তির কেউ কেউ বর্তমানে দেশের বাইরে থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন।
শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের, শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের ফেরত দেওয়ার জন্য চুক্তি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হলে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ৯৮ জন পুলিশ সদস্যকে পিপিএম ও বিপিএম পদক পরিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:৩০
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তার মামা ওবায়দুর রহমান। তিনি একসময় গাজী নজরুল ইসলামের গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি পুলিশও নিশ্চিত করেছে।
মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের দাবি, মরিয়ম তার কাছে মেয়ের মতো ছিলেন। তার লেখাপড়ার খরচও তিনি বহন করতেন। মরিয়মের এমন পরিণতি তিনি মেনে নিতে পারছেন না বলেও জানান।
মরিয়মের মৃত্যুর আগে পারিবারিক পরিস্থিতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ব্যক্তিগত ভিডিও নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুর বলেন, ওই ঘটনার পর তিনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি। তার দাবি, মরিয়মের বিয়ে জোর করে দেওয়া হয়েছিল এবং গাজী নজরুলের কিছু কর্মকাণ্ড তিনি মেনে নিতে পারেননি।
এর আগে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা হয়। পরে গাজী নজরুল ওই তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন বলে জানান। এ ঘটনার পর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে মরিয়মের মৃত্যু হত্যাকাণ্ড, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে—এ বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। পুলিশও এখনো এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিশ্চিত করেনি।'
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তার মামা ওবায়দুর রহমান। তিনি একসময় গাজী নজরুল ইসলামের গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি পুলিশও নিশ্চিত করেছে।
মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের দাবি, মরিয়ম তার কাছে মেয়ের মতো ছিলেন। তার লেখাপড়ার খরচও তিনি বহন করতেন। মরিয়মের এমন পরিণতি তিনি মেনে নিতে পারছেন না বলেও জানান।
মরিয়মের মৃত্যুর আগে পারিবারিক পরিস্থিতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ব্যক্তিগত ভিডিও নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুর বলেন, ওই ঘটনার পর তিনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি। তার দাবি, মরিয়মের বিয়ে জোর করে দেওয়া হয়েছিল এবং গাজী নজরুলের কিছু কর্মকাণ্ড তিনি মেনে নিতে পারেননি।
এর আগে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা হয়। পরে গাজী নজরুল ওই তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন বলে জানান। এ ঘটনার পর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে মরিয়মের মৃত্যু হত্যাকাণ্ড, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে—এ বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। পুলিশও এখনো এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিশ্চিত করেনি।'

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৫৭
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজকের পত্রিকা এ তথ্য জানিয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধান চলাকালে তিনি বিদেশে চলে গেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হবে।
দুদক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচার, সরকারি পদে নিয়োগ ও পদায়নে অর্থ লেনদেন, টেন্ডার-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অভিযোগের তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর মধ্যে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও অনুসন্ধানে এসেছে বলে জানিয়েছে দুদক। অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে অর্থ পাচার করে সম্পদ কেনা ও ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে এসব এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে; এর সত্যতা প্রমাণিত হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে আসিফ মাহমুদ এর আগে আপত্তি জানিয়েছেন। স্বাভাবিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় দুদকের অনুসন্ধান হলে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দুদকের কিছু বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে আইনি পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছেন।
দুদক জানিয়েছে, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটির সচিবও বলেছেন, এ অনুসন্ধান কোনো রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজকের পত্রিকা এ তথ্য জানিয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধান চলাকালে তিনি বিদেশে চলে গেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হবে।
দুদক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচার, সরকারি পদে নিয়োগ ও পদায়নে অর্থ লেনদেন, টেন্ডার-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অভিযোগের তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর মধ্যে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও অনুসন্ধানে এসেছে বলে জানিয়েছে দুদক। অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে অর্থ পাচার করে সম্পদ কেনা ও ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে এসব এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে; এর সত্যতা প্রমাণিত হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে আসিফ মাহমুদ এর আগে আপত্তি জানিয়েছেন। স্বাভাবিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় দুদকের অনুসন্ধান হলে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দুদকের কিছু বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে আইনি পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছেন।
দুদক জানিয়েছে, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটির সচিবও বলেছেন, এ অনুসন্ধান কোনো রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।

০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪৫
সাত দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া লংমার্চের রুট চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর রাজধানী থেকে শুরু হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা অতিক্রম করে কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে এ কর্মসূচি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে লংমার্চের রুট ও পথসভার স্থান চূড়ান্ত করা হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সকাল ৮টায় গাড়িবহর পদ্মা সেতু হয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করবে।
লংমার্চের গাড়িবহর পদ্মা সেতু পার হয়ে প্রথমে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা এলাকায় পথসভায় অংশ নেবে। এরপর ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও মাদারীপুরের টেকেরহাট হয়ে গোপালগঞ্জে প্রবেশ করবে।
তবে গোপালগঞ্জে কোনো পথসভা রাখা হয়নি। শহর অতিক্রম করে গাড়িবহর বাগেরহাটের ফকিরহাটে যাবে। সেখানে কাটাখালী মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর রূপসা সেতু পার হয়ে খুলনা নগরীর শিববাড়ী মোড়ে পথসভা হবে। খুলনার ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরেও আরেকটি পথসভা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পরে গাড়িবহর যশোরের চাচড়া মোড়ে পথসভায় অংশ নেবে। এরপর ঝিনাইদহ জেলা শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পথসভা শেষে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করবে।
লংমার্চের শেষ কর্মসূচি হবে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ। পুরো লংমার্চের রুট প্রায় ৪০০ কিলোমিটার।
পূজার কারণে আগে ঘোষিত ১০ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা এবং ২৪ অক্টোবরের ঢাকা-সিলেট লংমার্চের কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-খুলনা লংমার্চের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ অক্টোবর। আর ঢাকা-সিলেট লংমার্চের নতুন তারিখ আগামী নভেম্বরে নির্ধারণ করা হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
১১ দলের ঘোষিত সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি।
গত বছরের জুলাইয়ে এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষে কয়েকজন নিহত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এবারের লংমার্চে গোপালগঞ্জে কোনো পথসভা না রাখার সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও রংপুরের লংমার্চের মতো দক্ষিণাঞ্চলের কর্মসূচিও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা হবে। গোপালগঞ্জের মানুষের সঙ্গে তাদের ভালোবাসার সম্পর্ক রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কেউ উসকানি বা অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে। ১১ দলের নেতাকর্মীরা কোনো ধরনের উসকানিতে পা দেবেন না বলেও তিনি জানান।
লংমার্চের রুট: ঢাকা → জাজিরা → ভাঙ্গা → টেকেরহাট → গোপালগঞ্জ → ফকিরহাট → খুলনা → ফুলতলা → যশোর → ঝিনাইদহ → কুষ্টিয়া।
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪৫
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:১১
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৪৯
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০৩