
৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:৪১
গাজীপুরের টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ি নেজামের অধীনে চলমান পাঁচ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমার তৃতীয় দিনে আরো দুই মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে পাঁচজন মুসল্লি মারা গেলেন। আজ রবিবার (৩০ নভেম্বর) আয়োজক কমিটি এই তথ্য জানায়।
মৃতরা হলেন— সিলেট সদর উপজেলার ভার্থখোলা এলাকার আব্দুল জহিরের ছেলে আবুল আসাদ বাদল (৬২) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার কোট্টাপাড়া এলাকায় নাজির উদ্দিনের ছেলে মইনউদ্দিন (১০০)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ি নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, আবুল আসাদ বাদল শ্বাসকষ্টজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে মেডিক্যালে মারা যান। মইনইউদ্দিন আজ ভোররাতে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানেই স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন।
টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে ২৮ নভেম্বর থেকে জোড় ইজতেমা শুরু হয়েছে। ২ ডিসেম্বর আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে।
আগামী বছর জাতীয় নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব ইজতেমা।
গাজীপুরের টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ি নেজামের অধীনে চলমান পাঁচ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমার তৃতীয় দিনে আরো দুই মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে পাঁচজন মুসল্লি মারা গেলেন। আজ রবিবার (৩০ নভেম্বর) আয়োজক কমিটি এই তথ্য জানায়।
মৃতরা হলেন— সিলেট সদর উপজেলার ভার্থখোলা এলাকার আব্দুল জহিরের ছেলে আবুল আসাদ বাদল (৬২) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার কোট্টাপাড়া এলাকায় নাজির উদ্দিনের ছেলে মইনউদ্দিন (১০০)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ি নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, আবুল আসাদ বাদল শ্বাসকষ্টজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে মেডিক্যালে মারা যান। মইনইউদ্দিন আজ ভোররাতে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানেই স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন।
টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে ২৮ নভেম্বর থেকে জোড় ইজতেমা শুরু হয়েছে। ২ ডিসেম্বর আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে।
আগামী বছর জাতীয় নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব ইজতেমা।

৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ২০:৪৫
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে এডিস মশাজনিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৩৮২ জনের মৃত্যুর তথ্য দিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে নভেম্বর মাসে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ।
এদিকে গত এক দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৩৬ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৯৪ হাজার ৪০২ জনে।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯২ হাজার ২৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে দুই হাজার ৩৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩৮২ জনের। যার মধ্যে নভেম্বর মাসেই মৃত্যু হয়েছে ৯৯ ডেঙ্গু রোগীর। যা চলতি বছরে এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যু।
গত অক্টোবর মাসে মৃত্যু হয়েছে ৮০ জনের। আর সেপ্টেম্বরে ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল ডেঙ্গুতে।
এ ছাড়া জানুয়ারিতে ১০, ফেব্রুয়ারি মাসে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মার্চ ছিল মৃত্যুহীন। এপ্রিলে ৭, মে মাসে ৩ জনের মৃত্যু হলেও বাড়তে থাকে জুন মাস থেকে।
জুনে ডেঙ্গুতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। জুলাইয়ে সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৪১ জনে আর আগস্টে মৃত্যু ছিল ৩৯ জনের।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে এডিস মশাজনিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৩৮২ জনের মৃত্যুর তথ্য দিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে নভেম্বর মাসে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ।
এদিকে গত এক দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৩৬ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৯৪ হাজার ৪০২ জনে।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯২ হাজার ২৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে দুই হাজার ৩৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩৮২ জনের। যার মধ্যে নভেম্বর মাসেই মৃত্যু হয়েছে ৯৯ ডেঙ্গু রোগীর। যা চলতি বছরে এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যু।
গত অক্টোবর মাসে মৃত্যু হয়েছে ৮০ জনের। আর সেপ্টেম্বরে ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল ডেঙ্গুতে।
এ ছাড়া জানুয়ারিতে ১০, ফেব্রুয়ারি মাসে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মার্চ ছিল মৃত্যুহীন। এপ্রিলে ৭, মে মাসে ৩ জনের মৃত্যু হলেও বাড়তে থাকে জুন মাস থেকে।
জুনে ডেঙ্গুতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। জুলাইয়ে সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৪১ জনে আর আগস্টে মৃত্যু ছিল ৩৯ জনের।

৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ১৩:৫২
খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে দুইজনকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা আদালতের সামনের গেটের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত দুইজনের নাম রাজন (২৮) ও আতিক (২৯)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আজ রোববার দুপুরে আদালতের সামনে দুইজনকে গুলি করা হয়। তবে তারা আদালতে কেন আসছিলেন তা এখনও নিশ্চত হওয়া যায়নি।
বিস্তারিত আসছে...
খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে দুইজনকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা আদালতের সামনের গেটের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত দুইজনের নাম রাজন (২৮) ও আতিক (২৯)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আজ রোববার দুপুরে আদালতের সামনে দুইজনকে গুলি করা হয়। তবে তারা আদালতে কেন আসছিলেন তা এখনও নিশ্চত হওয়া যায়নি।
বিস্তারিত আসছে...

৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:৪৯
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সমন্বয়ক ও এনসিপি নেতা আরিফুল ইসলাম তালুকদার জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন। ২৮ নভেম্বর তিনি দলের আহ্বায়ক বরাবর আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠকের পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার অভিযোগ, দল অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি এবং বিভিন্ন জায়গায় ক্ষমতার অপব্যবহার, সিদ্ধান্তহীনতা ও অনিয়মের কারণে তিনি পদত্যাগ করছেন।
সদস্যসচিব বরাবর তিনি লিখেছেন, ‘আমি আপনার দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক কমিটির সংগঠকের দায়িত্ব পাই। যদিও পদ-পদবি নিয়ে আমার কোনো পছন্দই ছিল না। কারণ আমি চেয়েছিলাম ২০১৮ এবং ২০২৪-দুটো আন্দোলনের দেশপ্রেমিক তারুণ্যের শক্তি একত্রিত হয়ে বাংলাদেশে তারুণ্যের নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বিনির্মাণ করুক।
একতাবদ্ধ তারুণ্যের শক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিক। সেজন্য নিজের জায়গা থেকে যথাসাধ্য কাজ করেছি। তারুণ্যের দুটো আলোচিত শক্তি একতাবদ্ধ হওয়ার একদম দ্বারপ্রান্তে এসেও কিছু হীনমন্যতা ও অদূরদর্শী আচরণের কাছে পরাজিত হয়ে শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।
অন্যদিকে একই প্রেক্ষাপটে উঠে আসা আমাদের দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি অংশ বিস্ময়কর রকম অর্থসম্পদের মালিক হয়েছে, যা সাধারণ জনগণসহ জুলাইয়ের সব শরিকের দৃষ্টিগোচর হয়েছে এবং শরিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করে জুলাইয়ের সম্পূর্ণ অবদান নিজেদের কাছে কুক্ষিগত করেছে।
যার ফলে জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হয়েছে এবং আমাদের বিপ্লবকে অনেকটাই বিবর্ণ করেছে। যা আমাকে অত্যন্ত ব্যথিত করেছে।
জুলাইয়ের আহতদের প্রকৃত তালিকাকরণে সীমাহীন অবিচার করা হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট রাষ্ট্রের প্রায় অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র একটি নির্দিষ্ট বলয় দখল করেছে। সচিবালয়সহ পুরো রাষ্ট্রের ৯০ ভাগেরও বেশি ফ্যাসিবাদী আমলা বহাল রয়েছে।
গণহত্যার বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি, এমনকি গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসর জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের বিষয়ে যথাযথ কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আমি বিস্ময়ের সঙ্গে আরো লক্ষ্য করেছি, যে আমলারা গত ৩টি নির্বাচন মাফিয়ার হয়ে করে দিয়েছে—সেই আমলাদের মাধ্যমেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পন্ন। আর এসবের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা হচ্ছে না। এমনকি মাফিয়ার রেখে যাওয়া রাষ্ট্রপতির অধীনেই সবকিছু পরিচালিত হচ্ছে। একের পর এক ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, নিজস্ব বলয়-সৃষ্টি ও দুর্নীতির বিষয়গুলো সামনে আসছে যার দায়ভার আমাকেও নিতে হচ্ছে।
এই কথাগুলো আপনাকে বলছি কারণ, বিপ্লবোত্তর দেশের এই সংকটের দায় পুরোপুরি আপনাদের। অভ্যুত্থানের শক্তি হিসেবে যারা বছরের পর বছর জীবন ও ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়ে কাজ করেছে—তাদের স্বীকৃতি কেড়ে নেওয়ার দায়সহ দেশের উদ্ভূত সংকটগুলোর দায় কেবল তাদের যারা অভ্যুত্থানের শক্তি হিসেবে নিজেদের বলয়কে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করেছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের দায়িত্ব আপনাদের হাতেই দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সে দায়িত্ব পালনে আপনারা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন, কেননা আপনাদের পছন্দসই উপদেষ্টা পরিষদ বিগত দেড় বছরে ব্যর্থতা ও অনৈক্য ছাড়া বাংলাদেশকে তেমন কিছুই উপহার দিতে পারেনি। আর এই দায় সরাসরি আপনাদের উপরই বর্তায়।
আমি জুলাই বিপ্লবে আন্তর্জাতিক যোগাযোগগুলো সম্পন্ন করেছিলাম এবং মাফিয়ার পলায়নে সেখানে আমার প্রত্যক্ষ অবদান রয়েছে—যা আপনি জানেন না। আমি বাংলাদেশ এবং তার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ধারণ করি। জুলাইকে পণ্য মনে করি না, জুলাইকে অনুভব করি।
আমার মনে হচ্ছে, এনসিপি যেহেতু জুলাইয়ের তারুণ্যের শক্তিকে একত্রিত করতে পারেনি, জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করেছে। মূলত দলটি ক্ষমতার জন্যই সব করছে এবং গত ৫৪ বছরের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারাবাহিকতাই রক্ষা করছে। আরো একটি বিষয় আমি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে দেখেছি—আপনার দলটি বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়ে বিস্ময়কর রকম উদাসীন। বর্তমান সময়ে দলটি নিয়ন্ত্রণ করছে এমন একটি বলয় যারা এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অনুভবকে ধারণ করে না, বরং বিদ্বেষ লালন করে।
উপরোক্ত সব বিষয় পর্যালোচনা করে আমি এই দলের সঙ্গে আমার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলার কোনো বিশেষ প্রয়োজন অনুভব করছি না। অতএব দুঃখভরা হৃদয় ও এক বুক হতাশা নিয়ে আপনার দল থেকে পদত্যাগ করলাম।
আমরা যেমন বাংলাদেশের প্রত্যাশায় ’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান ঘটিয়েছি এবং তারুণ্যের যে রাজনীতি বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখে দেশের জন্য কাজ করেছি—সেটির সম্ভাবনা জাগ্রত হলে ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই আবার একসঙ্গে রাজপথে দেখা হবে।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সমন্বয়ক ও এনসিপি নেতা আরিফুল ইসলাম তালুকদার জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন। ২৮ নভেম্বর তিনি দলের আহ্বায়ক বরাবর আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠকের পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার অভিযোগ, দল অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি এবং বিভিন্ন জায়গায় ক্ষমতার অপব্যবহার, সিদ্ধান্তহীনতা ও অনিয়মের কারণে তিনি পদত্যাগ করছেন।
সদস্যসচিব বরাবর তিনি লিখেছেন, ‘আমি আপনার দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক কমিটির সংগঠকের দায়িত্ব পাই। যদিও পদ-পদবি নিয়ে আমার কোনো পছন্দই ছিল না। কারণ আমি চেয়েছিলাম ২০১৮ এবং ২০২৪-দুটো আন্দোলনের দেশপ্রেমিক তারুণ্যের শক্তি একত্রিত হয়ে বাংলাদেশে তারুণ্যের নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বিনির্মাণ করুক।
একতাবদ্ধ তারুণ্যের শক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিক। সেজন্য নিজের জায়গা থেকে যথাসাধ্য কাজ করেছি। তারুণ্যের দুটো আলোচিত শক্তি একতাবদ্ধ হওয়ার একদম দ্বারপ্রান্তে এসেও কিছু হীনমন্যতা ও অদূরদর্শী আচরণের কাছে পরাজিত হয়ে শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।
অন্যদিকে একই প্রেক্ষাপটে উঠে আসা আমাদের দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি অংশ বিস্ময়কর রকম অর্থসম্পদের মালিক হয়েছে, যা সাধারণ জনগণসহ জুলাইয়ের সব শরিকের দৃষ্টিগোচর হয়েছে এবং শরিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করে জুলাইয়ের সম্পূর্ণ অবদান নিজেদের কাছে কুক্ষিগত করেছে।
যার ফলে জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হয়েছে এবং আমাদের বিপ্লবকে অনেকটাই বিবর্ণ করেছে। যা আমাকে অত্যন্ত ব্যথিত করেছে।
জুলাইয়ের আহতদের প্রকৃত তালিকাকরণে সীমাহীন অবিচার করা হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট রাষ্ট্রের প্রায় অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র একটি নির্দিষ্ট বলয় দখল করেছে। সচিবালয়সহ পুরো রাষ্ট্রের ৯০ ভাগেরও বেশি ফ্যাসিবাদী আমলা বহাল রয়েছে।
গণহত্যার বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি, এমনকি গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসর জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের বিষয়ে যথাযথ কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আমি বিস্ময়ের সঙ্গে আরো লক্ষ্য করেছি, যে আমলারা গত ৩টি নির্বাচন মাফিয়ার হয়ে করে দিয়েছে—সেই আমলাদের মাধ্যমেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পন্ন। আর এসবের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা হচ্ছে না। এমনকি মাফিয়ার রেখে যাওয়া রাষ্ট্রপতির অধীনেই সবকিছু পরিচালিত হচ্ছে। একের পর এক ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, নিজস্ব বলয়-সৃষ্টি ও দুর্নীতির বিষয়গুলো সামনে আসছে যার দায়ভার আমাকেও নিতে হচ্ছে।
এই কথাগুলো আপনাকে বলছি কারণ, বিপ্লবোত্তর দেশের এই সংকটের দায় পুরোপুরি আপনাদের। অভ্যুত্থানের শক্তি হিসেবে যারা বছরের পর বছর জীবন ও ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়ে কাজ করেছে—তাদের স্বীকৃতি কেড়ে নেওয়ার দায়সহ দেশের উদ্ভূত সংকটগুলোর দায় কেবল তাদের যারা অভ্যুত্থানের শক্তি হিসেবে নিজেদের বলয়কে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করেছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের দায়িত্ব আপনাদের হাতেই দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সে দায়িত্ব পালনে আপনারা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন, কেননা আপনাদের পছন্দসই উপদেষ্টা পরিষদ বিগত দেড় বছরে ব্যর্থতা ও অনৈক্য ছাড়া বাংলাদেশকে তেমন কিছুই উপহার দিতে পারেনি। আর এই দায় সরাসরি আপনাদের উপরই বর্তায়।
আমি জুলাই বিপ্লবে আন্তর্জাতিক যোগাযোগগুলো সম্পন্ন করেছিলাম এবং মাফিয়ার পলায়নে সেখানে আমার প্রত্যক্ষ অবদান রয়েছে—যা আপনি জানেন না। আমি বাংলাদেশ এবং তার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ধারণ করি। জুলাইকে পণ্য মনে করি না, জুলাইকে অনুভব করি।
আমার মনে হচ্ছে, এনসিপি যেহেতু জুলাইয়ের তারুণ্যের শক্তিকে একত্রিত করতে পারেনি, জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করেছে। মূলত দলটি ক্ষমতার জন্যই সব করছে এবং গত ৫৪ বছরের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারাবাহিকতাই রক্ষা করছে। আরো একটি বিষয় আমি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে দেখেছি—আপনার দলটি বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়ে বিস্ময়কর রকম উদাসীন। বর্তমান সময়ে দলটি নিয়ন্ত্রণ করছে এমন একটি বলয় যারা এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অনুভবকে ধারণ করে না, বরং বিদ্বেষ লালন করে।
উপরোক্ত সব বিষয় পর্যালোচনা করে আমি এই দলের সঙ্গে আমার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলার কোনো বিশেষ প্রয়োজন অনুভব করছি না। অতএব দুঃখভরা হৃদয় ও এক বুক হতাশা নিয়ে আপনার দল থেকে পদত্যাগ করলাম।
আমরা যেমন বাংলাদেশের প্রত্যাশায় ’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান ঘটিয়েছি এবং তারুণ্যের যে রাজনীতি বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখে দেশের জন্য কাজ করেছি—সেটির সম্ভাবনা জাগ্রত হলে ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই আবার একসঙ্গে রাজপথে দেখা হবে।’

Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.