Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৮:৪২
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল লতিফ (৫৫) নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে অপ রাজনীতির অভিযোগ উঠেছে।
দুই বিএনপি কর্মীর তর্কাতর্কীর জেরে এই হত্যাকান্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মামলায় আসামী করা হয়েছে মসজিদের ইমামসহ কয়েকজন জামায়াতের নেতাকর্মীকে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ইব্রাহীম হাওলাদার বলেন, শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে করফাকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে স্থানীয় বিএনপি কর্মী দেলোয়ার হোসেন ঘরামীর সঙ্গে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক
আবদুল লতিফের। একপর্যায়ে দেলোয়ার হোসেন ঘরামী কয়েকটি থাপ্পর মারেন আবদুল লতিফকে। এতে আবদুল লতিফ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এখানে শুরু থেকেই উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় আল মামুন, ইসমাইল চৌকিদার, হিরু হাওলাদার ও মনির সহ আরো অনেকে। অথচ দায়েরকৃত মামলাটিতে প্রকৃত প্রত্যক্ষদর্শী এসব ব্যক্তিদেরকে স্বাক্ষী রাখা হয়নি।
তিনি বলেন, আবদুল লতিফকে চরথাপ্পর মেরেছে দেলোয়ার। কোন সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা দেখিনি। ওখানে উপস্থিত অন্যান্যরা উভয়কে ছাড়িয়ে দিয়েছে। আমি নিজে আবদুল লতিফকে হাসপাতালে নিতে সাহায্য করেছি।
অথচ মামলায় আমাকেও আসামী করা হয়েছে। তাছাড়া জামায়াতের কয়েকজন নেতাকে আসামী করা হয়েছে যারা আদৌ সেদিন ঘটনাস্থলেই ছিলেন না। এমনকি মসজিদের ইমাম সাহেবকেও আসামী করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, অভিযুক্ত দেলোয়ার একজন বিএনপি কর্মী। গত ৬ সেপ্টেম্বর বিএনপির ওয়ার্ড কমিটি গঠন অনুষ্ঠানে তার ছিল সরব উপস্থিতি। সেই ছবি এখনো অনলাইন ও ফেসবুকে রয়েছে।
করফাকর বায়তুল আমান জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা জাহিদুল ইসলাম বলেন, আবদুল লতিফ ভাই আমার মসজিদের মুসল্লী ছিলেন। আসরের নামাজের পর মারামারির সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই।
কিন্তু ততক্ষণে লতিফ ভাইকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। অথচ আমাকেও এই মামলায় আসামী করা হয়েছে। আমি অত্যন্ত আশ্চার্যম্বিত হয়েছি। তাছাড়া এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে রমরমা মামলা বাণিজ্য।
নিহতের পরিবারকে জিম্মি করে মামলায় নীরিহ জামায়াতের লোকদের আসামী করে এই বাণিজ্য করছে একটি মহল। এ ঘটনায় অসংখ্য নির্দোষ পুরুষ এখন বাড়িছাড়া ।
ঘটনার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী আল মামুন বলেন, যেহেতু মামলা হয়েছে। তাই অযথা এই মুহুর্তে কোন কথা বলে বিপদে পড়তে চাইনা। কেননা এলাকায় অনেকেই এখন আতঙ্কে আছে।
সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ফেরদাউস বলেন, ঘটনার দিন আমি ছিলাম উজিরপুরে। সেখান থেকে আমি এলাকায় ফিরে মৃধাবাড়ি মসজিদে আসরের নামাজ পড়ি। এরপর শুনতে পাই করফাকর স্কুল প্রাঙ্গনে মারামারি হয়েছে।
আমি আদৌ ঘটনাস্থলেই যাইনি। অথচ আমি সহ জামায়াতের নায়েবে আমির হাফেজ নাজিমউদ্দিন ও যুব জামায়াতের নেতা জাহিদুল ইসলামকে আসামী করা হয়েছে। বিএনপি নেতারা আমাদেরকে আসামী করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এলাকায় দফায় দফায় মিছিল বের করে।
তিনি আরো বলেন, মামলায় বাদীপক্ষকে জবরদস্তি করে জামায়াতের লোকদেরকে আসামী দিয়েছে বিএনপি নেতারা। এতে একদিকে নিরীহ লোকজন হয়ারানি হচ্ছে।
অপরদিকে হত্যাকান্ডের ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া অভিযুক্ত দেলোয়ার একজন বিএনপি কর্মী। তাকে এখন জামায়াত সাজিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা চলছে।
সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন জামায়াতের নায়েবে আমির হাফেজ নাজিম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি ঘটার অনেক সময় পরে আমি খবর পেয়েছি। অথচ আমাকেও আসামী করা হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা এটিকে নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছে। তারা নিহতের পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে নির্দোষ লোকগুলোকে আসামী দিয়েছে। জামায়াতের উপরে দায় চাপিয়ে তারা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা চালাচ্ছে। নিরপেক্ষ তদন্ত করলে সব বেরিয়ে আসবে।
মামলার বাদী ও নিহতের স্ত্রী পারভীনা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, আমি তিনজন আসামীর নাম দিয়েছি। এই তিনজনের মধ্যে জামায়াতের কারো নাম ছিলো না, অন্যান্য নাম অন্তর্ভূক্তির বিষয়ে পুলিশ ও বিএনপি নেতারা বলতে পারবেন।
আমি ন্যায় বিচার চাই। এ বিষয়ে সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, যেসব লোকদের আসামী করা হয়েছে তারা অনেকে ঘটনাস্থলে ছিল, অনেকে কাছাকাছি ছিল। কেননা আসামীরা সকলেই করফাকরের বাসিন্দা।
আমরা এটা নিয়ে রাজনীতি করার ইচ্ছা থাকলে তো পুরো উপজেলা জামায়াতের লোকজনকে আসামী দিতে পারতাম, তা তো দেইনি।
বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ মৃধা বলেন, আমরা এটা নিয়ে কোন রাজনীতি করছিনা।
ভুক্তভোগী পরিবারকে সহযোগিতা করছি। কেননা আবদুল লতিফ ছিল দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা। হত্যাকারী দেলোয়ার বিএনপির কর্মী নয়, সে জামায়াতের সমর্থক বলে মন্তব্য করেন রিয়াজ মৃধা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আরাফাত হাসান বলেন, মামলাটি তদন্তনাধীন আছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বানারীপাড়া থানার ওসির দায়িত্বে থাকা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শতদল মজুমদার বলেন, হ্যাকান্ডের পর ভুক্তভোগী পরিবার মামলা দিয়েছে।
আসামী ও স্বাক্ষীদের নাম তারাই দিয়েছে। তবে কোন নির্দোষ ব্যক্তি আসামী হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই আমরা প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনবো।
প্রসঙ্গত, সৈয়দকাঠি ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে হত্যাকান্ডের শিকার হন। রোবাবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিহতেরর স্ত্রী পারভীনা বেগম বাদী হয়ে তিন জামায়াত নেতাসহ ৯ জনকে সুনির্দিষ্ট ও বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে বানারীপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে মামলার এজাহারনামীয় দুই নম্বর আসামী তুহিনকে ভোলা শহর থেকে র ্যাব-পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়।
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল লতিফ (৫৫) নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে অপ রাজনীতির অভিযোগ উঠেছে।
দুই বিএনপি কর্মীর তর্কাতর্কীর জেরে এই হত্যাকান্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মামলায় আসামী করা হয়েছে মসজিদের ইমামসহ কয়েকজন জামায়াতের নেতাকর্মীকে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ইব্রাহীম হাওলাদার বলেন, শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে করফাকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে স্থানীয় বিএনপি কর্মী দেলোয়ার হোসেন ঘরামীর সঙ্গে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক
আবদুল লতিফের। একপর্যায়ে দেলোয়ার হোসেন ঘরামী কয়েকটি থাপ্পর মারেন আবদুল লতিফকে। এতে আবদুল লতিফ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এখানে শুরু থেকেই উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় আল মামুন, ইসমাইল চৌকিদার, হিরু হাওলাদার ও মনির সহ আরো অনেকে। অথচ দায়েরকৃত মামলাটিতে প্রকৃত প্রত্যক্ষদর্শী এসব ব্যক্তিদেরকে স্বাক্ষী রাখা হয়নি।
তিনি বলেন, আবদুল লতিফকে চরথাপ্পর মেরেছে দেলোয়ার। কোন সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা দেখিনি। ওখানে উপস্থিত অন্যান্যরা উভয়কে ছাড়িয়ে দিয়েছে। আমি নিজে আবদুল লতিফকে হাসপাতালে নিতে সাহায্য করেছি।
অথচ মামলায় আমাকেও আসামী করা হয়েছে। তাছাড়া জামায়াতের কয়েকজন নেতাকে আসামী করা হয়েছে যারা আদৌ সেদিন ঘটনাস্থলেই ছিলেন না। এমনকি মসজিদের ইমাম সাহেবকেও আসামী করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, অভিযুক্ত দেলোয়ার একজন বিএনপি কর্মী। গত ৬ সেপ্টেম্বর বিএনপির ওয়ার্ড কমিটি গঠন অনুষ্ঠানে তার ছিল সরব উপস্থিতি। সেই ছবি এখনো অনলাইন ও ফেসবুকে রয়েছে।
করফাকর বায়তুল আমান জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা জাহিদুল ইসলাম বলেন, আবদুল লতিফ ভাই আমার মসজিদের মুসল্লী ছিলেন। আসরের নামাজের পর মারামারির সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই।
কিন্তু ততক্ষণে লতিফ ভাইকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। অথচ আমাকেও এই মামলায় আসামী করা হয়েছে। আমি অত্যন্ত আশ্চার্যম্বিত হয়েছি। তাছাড়া এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে রমরমা মামলা বাণিজ্য।
নিহতের পরিবারকে জিম্মি করে মামলায় নীরিহ জামায়াতের লোকদের আসামী করে এই বাণিজ্য করছে একটি মহল। এ ঘটনায় অসংখ্য নির্দোষ পুরুষ এখন বাড়িছাড়া ।
ঘটনার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী আল মামুন বলেন, যেহেতু মামলা হয়েছে। তাই অযথা এই মুহুর্তে কোন কথা বলে বিপদে পড়তে চাইনা। কেননা এলাকায় অনেকেই এখন আতঙ্কে আছে।
সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ফেরদাউস বলেন, ঘটনার দিন আমি ছিলাম উজিরপুরে। সেখান থেকে আমি এলাকায় ফিরে মৃধাবাড়ি মসজিদে আসরের নামাজ পড়ি। এরপর শুনতে পাই করফাকর স্কুল প্রাঙ্গনে মারামারি হয়েছে।
আমি আদৌ ঘটনাস্থলেই যাইনি। অথচ আমি সহ জামায়াতের নায়েবে আমির হাফেজ নাজিমউদ্দিন ও যুব জামায়াতের নেতা জাহিদুল ইসলামকে আসামী করা হয়েছে। বিএনপি নেতারা আমাদেরকে আসামী করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এলাকায় দফায় দফায় মিছিল বের করে।
তিনি আরো বলেন, মামলায় বাদীপক্ষকে জবরদস্তি করে জামায়াতের লোকদেরকে আসামী দিয়েছে বিএনপি নেতারা। এতে একদিকে নিরীহ লোকজন হয়ারানি হচ্ছে।
অপরদিকে হত্যাকান্ডের ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া অভিযুক্ত দেলোয়ার একজন বিএনপি কর্মী। তাকে এখন জামায়াত সাজিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা চলছে।
সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন জামায়াতের নায়েবে আমির হাফেজ নাজিম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি ঘটার অনেক সময় পরে আমি খবর পেয়েছি। অথচ আমাকেও আসামী করা হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা এটিকে নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছে। তারা নিহতের পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে নির্দোষ লোকগুলোকে আসামী দিয়েছে। জামায়াতের উপরে দায় চাপিয়ে তারা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা চালাচ্ছে। নিরপেক্ষ তদন্ত করলে সব বেরিয়ে আসবে।
মামলার বাদী ও নিহতের স্ত্রী পারভীনা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, আমি তিনজন আসামীর নাম দিয়েছি। এই তিনজনের মধ্যে জামায়াতের কারো নাম ছিলো না, অন্যান্য নাম অন্তর্ভূক্তির বিষয়ে পুলিশ ও বিএনপি নেতারা বলতে পারবেন।
আমি ন্যায় বিচার চাই। এ বিষয়ে সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, যেসব লোকদের আসামী করা হয়েছে তারা অনেকে ঘটনাস্থলে ছিল, অনেকে কাছাকাছি ছিল। কেননা আসামীরা সকলেই করফাকরের বাসিন্দা।
আমরা এটা নিয়ে রাজনীতি করার ইচ্ছা থাকলে তো পুরো উপজেলা জামায়াতের লোকজনকে আসামী দিতে পারতাম, তা তো দেইনি।
বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ মৃধা বলেন, আমরা এটা নিয়ে কোন রাজনীতি করছিনা।
ভুক্তভোগী পরিবারকে সহযোগিতা করছি। কেননা আবদুল লতিফ ছিল দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা। হত্যাকারী দেলোয়ার বিএনপির কর্মী নয়, সে জামায়াতের সমর্থক বলে মন্তব্য করেন রিয়াজ মৃধা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আরাফাত হাসান বলেন, মামলাটি তদন্তনাধীন আছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বানারীপাড়া থানার ওসির দায়িত্বে থাকা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শতদল মজুমদার বলেন, হ্যাকান্ডের পর ভুক্তভোগী পরিবার মামলা দিয়েছে।
আসামী ও স্বাক্ষীদের নাম তারাই দিয়েছে। তবে কোন নির্দোষ ব্যক্তি আসামী হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই আমরা প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনবো।
প্রসঙ্গত, সৈয়দকাঠি ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে হত্যাকান্ডের শিকার হন। রোবাবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিহতেরর স্ত্রী পারভীনা বেগম বাদী হয়ে তিন জামায়াত নেতাসহ ৯ জনকে সুনির্দিষ্ট ও বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে বানারীপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে মামলার এজাহারনামীয় দুই নম্বর আসামী তুহিনকে ভোলা শহর থেকে র ্যাব-পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়।

১৭ মার্চ, ২০২৬ ০০:৩৯
আজ ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৭তম জন্মদিন। ১৯২০ সালের এই দিনে ফরিদপুর জেলার তৎকালীন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে সম্ভ্রান্ত শেখ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর তিনি প্রথমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
ব্রিটিশ ভারত এবং পরবর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তানে মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেও তিনি সোচ্চার ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে তাকে বহুবার কারাবরণ করতে হয়।
১৯৬৬ সালে তিনি ঐতিহাসিক ৬ দফা পেশ করেন। ১৯৬৮ সালে তাকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামি করা হয়। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গণঅভ্যুত্থান ও জনগণের চাপের মুখে পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবসহ অন্যান্য আসামিকে মুক্তি দেয়। মুক্তিলাভের পর ছাত্র-জনতা শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দিয়ে সম্মানিত করেন। শিশুকালে ‘খোকা’ নামে পরিচিত মুজিবের ১৯৭১ সালে দেওয়া ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে ইউনেস্কো।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করে আওয়ামী লীগ। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি চালায়। এ প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। ওই বছরের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ঐতিহাসিক ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু। ২৫ মার্চ রাতে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস পাকিস্তানের কারাগারে ছিলেন। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির বাসভবনে সপরিবারের নিহত হন বঙ্গবন্ধু।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দিনটির রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সরকারি ছুটি বাতিল করে। সেইসঙ্গে ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া জাতীয় শিশু দিবস পালনও বন্ধ হয়ে যায়। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে এবারও বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ঘিরে কোনো কর্মসূচি পালন হচ্ছে না।’

১৬ মার্চ, ২০২৬ ২০:২৪
বরিশালে ওষুধ কোম্পানি অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যালসের গ্লোবাল ক্যাপসুল কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে নগরীর রূপাতলী কারখানায় এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, কারখানার বয়লারের জ্বালানির জন্য কাঠের গুড়ি স্তূপ করে রাখা ছিল। অসাবধানতাবশত ওই কাঠের গুড়িতে আগুন লেগে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা খবর পেয়ে ছুটে এসে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কাঠের গুড়ি হওয়ায় পুরোপুরি নিভে যেতে সময় লাগবে।
রবিউল ইসলাম আরও বলেন, কী কারণে আগুনের সূত্রপাত ও কত টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তাৎক্ষণিক জানা সম্ভব নয়, পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক তথ্য জানা যাবে।

১৬ মার্চ, ২০২৬ ২০:১৭
আজ ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৭তম জন্মদিন। ১৯২০ সালের এই দিনে ফরিদপুর জেলার তৎকালীন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে সম্ভ্রান্ত শেখ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর তিনি প্রথমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
ব্রিটিশ ভারত এবং পরবর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তানে মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেও তিনি সোচ্চার ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে তাকে বহুবার কারাবরণ করতে হয়।
১৯৬৬ সালে তিনি ঐতিহাসিক ৬ দফা পেশ করেন। ১৯৬৮ সালে তাকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামি করা হয়। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গণঅভ্যুত্থান ও জনগণের চাপের মুখে পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবসহ অন্যান্য আসামিকে মুক্তি দেয়। মুক্তিলাভের পর ছাত্র-জনতা শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দিয়ে সম্মানিত করেন। শিশুকালে ‘খোকা’ নামে পরিচিত মুজিবের ১৯৭১ সালে দেওয়া ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে ইউনেস্কো।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করে আওয়ামী লীগ। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি চালায়। এ প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। ওই বছরের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ঐতিহাসিক ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু। ২৫ মার্চ রাতে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস পাকিস্তানের কারাগারে ছিলেন। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির বাসভবনে সপরিবারের নিহত হন বঙ্গবন্ধু।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দিনটির রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সরকারি ছুটি বাতিল করে। সেইসঙ্গে ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া জাতীয় শিশু দিবস পালনও বন্ধ হয়ে যায়। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে এবারও বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ঘিরে কোনো কর্মসূচি পালন হচ্ছে না।’
বরিশালে ওষুধ কোম্পানি অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যালসের গ্লোবাল ক্যাপসুল কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে নগরীর রূপাতলী কারখানায় এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, কারখানার বয়লারের জ্বালানির জন্য কাঠের গুড়ি স্তূপ করে রাখা ছিল। অসাবধানতাবশত ওই কাঠের গুড়িতে আগুন লেগে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা খবর পেয়ে ছুটে এসে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কাঠের গুড়ি হওয়ায় পুরোপুরি নিভে যেতে সময় লাগবে।
রবিউল ইসলাম আরও বলেন, কী কারণে আগুনের সূত্রপাত ও কত টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তাৎক্ষণিক জানা সম্ভব নয়, পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক তথ্য জানা যাবে।
বরিশালের বাবুগঞ্জে কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী কিশোরের বিরুদ্ধে। রোববার (১৫ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অগ্নিসংযোগের পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত শিশু রাইসা বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দিনমজুর নজরুল ইসলামের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী বলে জানা গেছে।
মৃত্যুর আগে অগ্নিদগ্ধ রাইসার একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে রাইসাকে বলতে শোনা যায়, আমারে খারাপ জিনিস কইছে, আমি হুনিনাই দেইখা শিফাত আমার গায় আগুন দিছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা তসলিম জানান, রাইসারা এক ভাই, এক বোন। মা তাদের ফেলে রেখে অন্যত্র বিয়ে করেছেন। বড় ভাই ঢাকার একটি ফলের দোকানে চাকরি করেন। বাবা কাঠমিস্ত্রি।
তিনি বলেন, রাইসা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ঘটনার সময় ওর বাবা বাড়িতে ছিল না। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানুষের ডাকাডাকি এবং রাইসার চিৎকার শুনে ওর ঘরের সামনে ছুটে যায়। দেখতে পাই সারা শরীরের দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। দ্রুত এক বাতলি পানি মেরে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। পরে ওরে কোলে নিয়ে পাশে থাকা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আগুন নেভাই।
তসলিম বলেন, ‘রাইসাকে উদ্ধার করে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাই তখন প্রতিবেশী জালাল সিকদারকে রাইসা দেখতে পায়। তখন রাইসা কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকে— জালাল সিকদারের ছেলে শিফাতের জন্য তার শরীরের আগুন লেগেছে।
তবে ঘটনার পর শিফাতকে ঘটনাস্থলের আশপাশে দেখা যায়নি। আদৌ কেউ ওর গায়ে আগুন দিয়েছে নাকি আগুন লেগেছে, অথবা নিজেই আগুন দিয়েছে কিনা আমার জানা নেই।
তসলিম জানান, ঘটনার পর রাইসাকে পার্শ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অবস্থা খারাপ হওয়ায় সেখানেও তাকে না রেখে ঢাকা মেডিকেলের শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করে। সেখানে পৌঁছাতে রাত হয়ে যায়। ভর্তি করে অপারেশন থিয়েটার পর্যন্ত যেতে ২ ঘণ্টা সময় লাগে।
চিকিৎসক জানান, রাইসার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে, অবস্থা ভালো না। এরপর অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই চিকিৎসক জানান রাইসা মারা গেছে। তখন রাত সাড়ে ১০টার মতো বাজতে পারে। বর্তমানে রাইসার মরদেহ মর্গে রয়েছে।
বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মো. এহতেশামুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন একটি ঘটনার ভিডিও দেখেছি। তবে এমন অভিযোগ নিয়ে কেউ থানায় আসেনি বা কেউ পুলিশকে জানায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশালের বাবুগঞ্জে কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী কিশোরের বিরুদ্ধে। রোববার (১৫ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অগ্নিসংযোগের পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত শিশু রাইসা বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দিনমজুর নজরুল ইসলামের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী বলে জানা গেছে।
মৃত্যুর আগে অগ্নিদগ্ধ রাইসার একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে রাইসাকে বলতে শোনা যায়, আমারে খারাপ জিনিস কইছে, আমি হুনিনাই দেইখা শিফাত আমার গায় আগুন দিছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা তসলিম জানান, রাইসারা এক ভাই, এক বোন। মা তাদের ফেলে রেখে অন্যত্র বিয়ে করেছেন। বড় ভাই ঢাকার একটি ফলের দোকানে চাকরি করেন। বাবা কাঠমিস্ত্রি।
তিনি বলেন, রাইসা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ঘটনার সময় ওর বাবা বাড়িতে ছিল না। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানুষের ডাকাডাকি এবং রাইসার চিৎকার শুনে ওর ঘরের সামনে ছুটে যায়। দেখতে পাই সারা শরীরের দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। দ্রুত এক বাতলি পানি মেরে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। পরে ওরে কোলে নিয়ে পাশে থাকা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আগুন নেভাই।
তসলিম বলেন, ‘রাইসাকে উদ্ধার করে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাই তখন প্রতিবেশী জালাল সিকদারকে রাইসা দেখতে পায়। তখন রাইসা কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকে— জালাল সিকদারের ছেলে শিফাতের জন্য তার শরীরের আগুন লেগেছে।
তবে ঘটনার পর শিফাতকে ঘটনাস্থলের আশপাশে দেখা যায়নি। আদৌ কেউ ওর গায়ে আগুন দিয়েছে নাকি আগুন লেগেছে, অথবা নিজেই আগুন দিয়েছে কিনা আমার জানা নেই।
তসলিম জানান, ঘটনার পর রাইসাকে পার্শ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অবস্থা খারাপ হওয়ায় সেখানেও তাকে না রেখে ঢাকা মেডিকেলের শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করে। সেখানে পৌঁছাতে রাত হয়ে যায়। ভর্তি করে অপারেশন থিয়েটার পর্যন্ত যেতে ২ ঘণ্টা সময় লাগে।
চিকিৎসক জানান, রাইসার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে, অবস্থা ভালো না। এরপর অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই চিকিৎসক জানান রাইসা মারা গেছে। তখন রাত সাড়ে ১০টার মতো বাজতে পারে। বর্তমানে রাইসার মরদেহ মর্গে রয়েছে।
বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মো. এহতেশামুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন একটি ঘটনার ভিডিও দেখেছি। তবে এমন অভিযোগ নিয়ে কেউ থানায় আসেনি বা কেউ পুলিশকে জানায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।