বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের সর্বাধিক বিতর্কিত কর্মকর্তা ওসি মিজানুর রহমানকে শাস্তিমূলক অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কয়েকটি মামলা এবং সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে বাণিজ্য করার বিস্তর অভিযোগ আছে। এই নীতিবিবর্জিত কর্মকর্তাকে কীর্তনখোলা তীরের জনপদ বরিশাল থেকে সরিয়ে নেওয়ায় এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন এবং হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন।
মাঠপুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে পুলিশের চেইন অব কমান্ড কার্যত অচল হয়ে পড়ে। তৎকালীন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মোস্তফিজুর রহমানকে সরিয়ে বেতাগীর সন্তান মিজানুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পুলিশ কর্মকর্তা যোগদানের পরপরই জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় একাধিক মামলা হয়, যার অধিকাংশতে বরিশালের আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ-ব্যবসায়ী, এমনকি বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করা হয়।
সূত্র জানায়, এই মামলাগুলো নিয়ে ওসি মিজান এবং কতিপয় সমন্বয়ক পরিচয়দানকারী যুবক মিলেমিশে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করেন। অসংখ্য নিরীহ মানুষকে ফোন করে থানায় ডেকে নিয়ে তিনি ব্যাপক অর্থ হাতিয়েছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকদের কাকে কয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখাবেন তা নিয়ে বাণিজ্য করেন ওসি মিজান।
আইনসিক্ত নয় এমন বিষয়গুলো নিয়ে থানা পুলিশের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে নানা কানাঘুষা চললেও অপরাপর কর্মকর্তারা মুখ খোলাস সাহস দেখাননি। তবে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চমহলসহ সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ে অসংখ্য অভিযোগ করা হয়।
পরবর্তীতে তাকে বদলি করে মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে সেখানে গিয়ে তিনি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকর্তা জড়িয়ে পড়েন। এবং তার দেওয়া দিকনির্দেশনায় ছাত্রশক্তির মারযুক আব্দুল্লাহসহ একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন লোকদের মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেন।
কিন্তু সেখানে তিনি শেষ পর্যন্ত আর থাকতে পারলেন না। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের শীর্ষমহলে রদবদল আসার পরপরই তার মামলা-বাণিজ্য এবং সাধারণ নিরীহ মানুষ জিম্মি অপকৌশল প্রকাশ হয়ে যায়।
দুদিন পূর্বে তাকে বরিশাল থেকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়। বিতর্কিত এই পুলিশ কর্মকর্তার বদলি নিয়ে বরিশাল পুলিশ কোনো ব্যাখ্যা না দিলেও বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওসি মিজানকে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে তার বদলি যে শাস্তিমূলক তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
ওসি মিজানের বদলিতে স্বস্তিপ্রকাশ করে কোতয়ালি মডেল থানা এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, গত ২ বছর তিনি পুলিশের পোশাক পরে বহুমুখী অপরাধ করেছেন। নিরীহ এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা লুটে নিয়েছে, এর সাথে কজন যুবকও জড়িত আছে, তাদের একজন মারযুক আব্দুল্লাহ।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গত ২ জুলাই বরিশাল আদালতে ছাত্রশক্তির নেতা মারযুক আব্দুল্লাহ যে মামলাটি করে, তাতে ঘটনাস্থল ওসি মিজানের বিমানবন্দর থানা এলাকা দেখানো হয়। কোনো ধরনের ঘটনা ছাড়াই বরিশাল আদালতে মামলাটি হওয়ায় তুমুল বিতর্ক দেখা দেয়। এবং এই মামলাটিতে ওসি মিজানের যোগসূত্র থাকার একটি সম্ভবনা সামনে আসে। এনিয়ে বরিশাল পুলিশের উচ্চমহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে ওসি মিজানকে বিমানবন্দর থানা থেকে সরিয়ে খুলনায় বদলি করা হয়।
এই বিষয়টি নিয়ে জানতে পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, হেডকোয়াটার্সের নির্দেশে ওসি মিজানুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে পুলিশ সদর দপ্তর তদন্ত করে ব্যবস্থাগ্রহণ করবে।’

২৯ জুলাই, ২০২৬ ০০:৩০
সমাজের অবহেলা, বৈষম্য আর বঞ্চনাকে পেছনে ফেলে নতুন জীবনের পথে হাঁটতে শুরু করলেন তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক মাইদুল ইসলাম অভি। বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) মজুরিভিত্তিক চাকরি পেয়েছেন তিনি, যা শুধু একটি নিয়োগ নয়—বরং সমতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল বার্তা।
মঙ্গলবার বিকেলে নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে অভির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এ সময় তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম শর্ত।
বিসিসি সূত্র জানায়, নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভি যোগদানের দিন থেকেই মাসিক ১৬ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পাবেন। কোন শাখায় দায়িত্ব পালন করবেন তা এখনো নির্ধারণ না হলেও তাঁকে সম্মানজনক দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত অভি বলেন, “আমাদের মতো মানুষদের প্রতিনিয়ত অবহেলা ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়। এই চাকরি শুধু কর্মসংস্থান নয়, এটি আমার জন্য সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার নতুন সুযোগ। এখন আমি আত্মমর্যাদা নিয়ে জীবনযাপন করতে পারব।”
বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। সুযোগ পেলে তারাও সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।”
বরিশাল সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ অনেকের কাছে একটি চাকরির খবর হলেও, বাস্তবে এটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—যেখানে পরিচয় নয়, যোগ্যতা ও মানবিকতাই হবে মানুষের মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।’
সমাজের অবহেলা, বৈষম্য আর বঞ্চনাকে পেছনে ফেলে নতুন জীবনের পথে হাঁটতে শুরু করলেন তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক মাইদুল ইসলাম অভি। বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) মজুরিভিত্তিক চাকরি পেয়েছেন তিনি, যা শুধু একটি নিয়োগ নয়—বরং সমতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল বার্তা।
মঙ্গলবার বিকেলে নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে অভির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এ সময় তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম শর্ত।
বিসিসি সূত্র জানায়, নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভি যোগদানের দিন থেকেই মাসিক ১৬ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পাবেন। কোন শাখায় দায়িত্ব পালন করবেন তা এখনো নির্ধারণ না হলেও তাঁকে সম্মানজনক দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত অভি বলেন, “আমাদের মতো মানুষদের প্রতিনিয়ত অবহেলা ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়। এই চাকরি শুধু কর্মসংস্থান নয়, এটি আমার জন্য সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার নতুন সুযোগ। এখন আমি আত্মমর্যাদা নিয়ে জীবনযাপন করতে পারব।”
বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। সুযোগ পেলে তারাও সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।”
বরিশাল সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ অনেকের কাছে একটি চাকরির খবর হলেও, বাস্তবে এটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—যেখানে পরিচয় নয়, যোগ্যতা ও মানবিকতাই হবে মানুষের মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।’

২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩৬
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু এবং জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টু প্রমুখ।’
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু এবং জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টু প্রমুখ।’

২৭ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৩১
বরিশালের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকার কর্মক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন। দীর্ঘফষন তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকলেও মাঠপর্যায়ের এই কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে ২২ জুলাই চাকরিচ্যুৎ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি জমি অবৈধভাবে ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ সৃষ্টি হওয়ার আগের পদবি ব্যবহার করে শঙ্কর চন্দ্র মালাকার প্রায় ২৫৮ একর ২৬ শতাংশ সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেন। এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিত আরও ২২২ একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়। এছাড়া স্থানীয় রামানন্দী মৌজার একটি নামজারি মামলায় ভিন্ন তারিখ ব্যবহার এবং দ্বৈত খতিয়ান সৃষ্টির অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া যায়।
এইসব অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরে ২২ জুলাই তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুৎ করা হয়। ওই দিন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪ (৩) (ঘ) অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলার তদন্তে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারের বিরুদ্ধে আনা একাধিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা যায়, তিনি হিজলা উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের সরকারি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অবৈধভাবে খাজনা আদায় করে হোল্ডিং খুলে দিয়ে সরকারের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছেন এবং ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করেন। এবং দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার অনুমোদিত ১০৫টি দাখিলার মধ্যে ৮৭ টির মাধ্যমে সরকারের প্রায় দুই হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিবিবর্জিত এই কর্মকর্তাকে রাজস্ব প্রশাসনে বহাল রাখা জনস্বার্থ ও সরকারি স্বার্থের পরিপন্থী। তাই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেহাত হওয়া সরকারি খাসজমি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল রূপালী বাংলাদেশকে জানান, সাময়িক বরখাস্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) উপজেলা ভূমি অফিসে আদেশ পৌঁছেছে। ওই আদেশের আগেই প্রায় সব খাসজমি উদ্ধার করা হয়। এরপরেও খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় আছে কি না তা তদন্তের জন্য সার্ভেয়ারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
বরিশালের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকার কর্মক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন। দীর্ঘফষন তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকলেও মাঠপর্যায়ের এই কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে ২২ জুলাই চাকরিচ্যুৎ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি জমি অবৈধভাবে ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ সৃষ্টি হওয়ার আগের পদবি ব্যবহার করে শঙ্কর চন্দ্র মালাকার প্রায় ২৫৮ একর ২৬ শতাংশ সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেন। এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিত আরও ২২২ একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়। এছাড়া স্থানীয় রামানন্দী মৌজার একটি নামজারি মামলায় ভিন্ন তারিখ ব্যবহার এবং দ্বৈত খতিয়ান সৃষ্টির অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া যায়।
এইসব অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরে ২২ জুলাই তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুৎ করা হয়। ওই দিন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪ (৩) (ঘ) অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলার তদন্তে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারের বিরুদ্ধে আনা একাধিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা যায়, তিনি হিজলা উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের সরকারি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অবৈধভাবে খাজনা আদায় করে হোল্ডিং খুলে দিয়ে সরকারের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছেন এবং ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করেন। এবং দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার অনুমোদিত ১০৫টি দাখিলার মধ্যে ৮৭ টির মাধ্যমে সরকারের প্রায় দুই হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিবিবর্জিত এই কর্মকর্তাকে রাজস্ব প্রশাসনে বহাল রাখা জনস্বার্থ ও সরকারি স্বার্থের পরিপন্থী। তাই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেহাত হওয়া সরকারি খাসজমি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল রূপালী বাংলাদেশকে জানান, সাময়িক বরখাস্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) উপজেলা ভূমি অফিসে আদেশ পৌঁছেছে। ওই আদেশের আগেই প্রায় সব খাসজমি উদ্ধার করা হয়। এরপরেও খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় আছে কি না তা তদন্তের জন্য সার্ভেয়ারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

০৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৪৯
বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের সর্বাধিক বিতর্কিত কর্মকর্তা ওসি মিজানুর রহমানকে শাস্তিমূলক অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কয়েকটি মামলা এবং সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে বাণিজ্য করার বিস্তর অভিযোগ আছে। এই নীতিবিবর্জিত কর্মকর্তাকে কীর্তনখোলা তীরের জনপদ বরিশাল থেকে সরিয়ে নেওয়ায় এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন এবং হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন।
মাঠপুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে পুলিশের চেইন অব কমান্ড কার্যত অচল হয়ে পড়ে। তৎকালীন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মোস্তফিজুর রহমানকে সরিয়ে বেতাগীর সন্তান মিজানুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পুলিশ কর্মকর্তা যোগদানের পরপরই জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় একাধিক মামলা হয়, যার অধিকাংশতে বরিশালের আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ-ব্যবসায়ী, এমনকি বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করা হয়।
সূত্র জানায়, এই মামলাগুলো নিয়ে ওসি মিজান এবং কতিপয় সমন্বয়ক পরিচয়দানকারী যুবক মিলেমিশে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করেন। অসংখ্য নিরীহ মানুষকে ফোন করে থানায় ডেকে নিয়ে তিনি ব্যাপক অর্থ হাতিয়েছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকদের কাকে কয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখাবেন তা নিয়ে বাণিজ্য করেন ওসি মিজান।
আইনসিক্ত নয় এমন বিষয়গুলো নিয়ে থানা পুলিশের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে নানা কানাঘুষা চললেও অপরাপর কর্মকর্তারা মুখ খোলাস সাহস দেখাননি। তবে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চমহলসহ সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ে অসংখ্য অভিযোগ করা হয়।
পরবর্তীতে তাকে বদলি করে মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে সেখানে গিয়ে তিনি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকর্তা জড়িয়ে পড়েন। এবং তার দেওয়া দিকনির্দেশনায় ছাত্রশক্তির মারযুক আব্দুল্লাহসহ একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন লোকদের মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেন।
কিন্তু সেখানে তিনি শেষ পর্যন্ত আর থাকতে পারলেন না। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের শীর্ষমহলে রদবদল আসার পরপরই তার মামলা-বাণিজ্য এবং সাধারণ নিরীহ মানুষ জিম্মি অপকৌশল প্রকাশ হয়ে যায়।
দুদিন পূর্বে তাকে বরিশাল থেকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়। বিতর্কিত এই পুলিশ কর্মকর্তার বদলি নিয়ে বরিশাল পুলিশ কোনো ব্যাখ্যা না দিলেও বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওসি মিজানকে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে তার বদলি যে শাস্তিমূলক তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
ওসি মিজানের বদলিতে স্বস্তিপ্রকাশ করে কোতয়ালি মডেল থানা এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, গত ২ বছর তিনি পুলিশের পোশাক পরে বহুমুখী অপরাধ করেছেন। নিরীহ এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা লুটে নিয়েছে, এর সাথে কজন যুবকও জড়িত আছে, তাদের একজন মারযুক আব্দুল্লাহ।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গত ২ জুলাই বরিশাল আদালতে ছাত্রশক্তির নেতা মারযুক আব্দুল্লাহ যে মামলাটি করে, তাতে ঘটনাস্থল ওসি মিজানের বিমানবন্দর থানা এলাকা দেখানো হয়। কোনো ধরনের ঘটনা ছাড়াই বরিশাল আদালতে মামলাটি হওয়ায় তুমুল বিতর্ক দেখা দেয়। এবং এই মামলাটিতে ওসি মিজানের যোগসূত্র থাকার একটি সম্ভবনা সামনে আসে। এনিয়ে বরিশাল পুলিশের উচ্চমহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে ওসি মিজানকে বিমানবন্দর থানা থেকে সরিয়ে খুলনায় বদলি করা হয়।
এই বিষয়টি নিয়ে জানতে পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, হেডকোয়াটার্সের নির্দেশে ওসি মিজানুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে পুলিশ সদর দপ্তর তদন্ত করে ব্যবস্থাগ্রহণ করবে।’