
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৪৯
বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের সর্বাধিক বিতর্কিত কর্মকর্তা ওসি মিজানুর রহমানকে শাস্তিমূলক অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কয়েকটি মামলা এবং সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে বাণিজ্য করার বিস্তর অভিযোগ আছে। এই নীতিবিবর্জিত কর্মকর্তাকে কীর্তনখোলা তীরের জনপদ বরিশাল থেকে সরিয়ে নেওয়ায় এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন এবং হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন।
মাঠপুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে পুলিশের চেইন অব কমান্ড কার্যত অচল হয়ে পড়ে। তৎকালীন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মোস্তফিজুর রহমানকে সরিয়ে বেতাগীর সন্তান মিজানুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পুলিশ কর্মকর্তা যোগদানের পরপরই জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় একাধিক মামলা হয়, যার অধিকাংশতে বরিশালের আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ-ব্যবসায়ী, এমনকি বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করা হয়।
সূত্র জানায়, এই মামলাগুলো নিয়ে ওসি মিজান এবং কতিপয় সমন্বয়ক পরিচয়দানকারী যুবক মিলেমিশে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করেন। অসংখ্য নিরীহ মানুষকে ফোন করে থানায় ডেকে নিয়ে তিনি ব্যাপক অর্থ হাতিয়েছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকদের কাকে কয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখাবেন তা নিয়ে বাণিজ্য করেন ওসি মিজান।
আইনসিক্ত নয় এমন বিষয়গুলো নিয়ে থানা পুলিশের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে নানা কানাঘুষা চললেও অপরাপর কর্মকর্তারা মুখ খোলাস সাহস দেখাননি। তবে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চমহলসহ সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ে অসংখ্য অভিযোগ করা হয়।
পরবর্তীতে তাকে বদলি করে মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে সেখানে গিয়ে তিনি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকর্তা জড়িয়ে পড়েন। এবং তার দেওয়া দিকনির্দেশনায় ছাত্রশক্তির মারযুক আব্দুল্লাহসহ একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন লোকদের মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেন।
কিন্তু সেখানে তিনি শেষ পর্যন্ত আর থাকতে পারলেন না। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের শীর্ষমহলে রদবদল আসার পরপরই তার মামলা-বাণিজ্য এবং সাধারণ নিরীহ মানুষ জিম্মি অপকৌশল প্রকাশ হয়ে যায়।
দুদিন পূর্বে তাকে বরিশাল থেকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়। বিতর্কিত এই পুলিশ কর্মকর্তার বদলি নিয়ে বরিশাল পুলিশ কোনো ব্যাখ্যা না দিলেও বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওসি মিজানকে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে তার বদলি যে শাস্তিমূলক তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
ওসি মিজানের বদলিতে স্বস্তিপ্রকাশ করে কোতয়ালি মডেল থানা এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, গত ২ বছর তিনি পুলিশের পোশাক পরে বহুমুখী অপরাধ করেছেন। নিরীহ এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা লুটে নিয়েছে, এর সাথে কজন যুবকও জড়িত আছে, তাদের একজন মারযুক আব্দুল্লাহ।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গত ২ জুলাই বরিশাল আদালতে ছাত্রশক্তির নেতা মারযুক আব্দুল্লাহ যে মামলাটি করে, তাতে ঘটনাস্থল ওসি মিজানের বিমানবন্দর থানা এলাকা দেখানো হয়। কোনো ধরনের ঘটনা ছাড়াই বরিশাল আদালতে মামলাটি হওয়ায় তুমুল বিতর্ক দেখা দেয়। এবং এই মামলাটিতে ওসি মিজানের যোগসূত্র থাকার একটি সম্ভবনা সামনে আসে। এনিয়ে বরিশাল পুলিশের উচ্চমহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে ওসি মিজানকে বিমানবন্দর থানা থেকে সরিয়ে খুলনায় বদলি করা হয়।
এই বিষয়টি নিয়ে জানতে পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, হেডকোয়াটার্সের নির্দেশে ওসি মিজানুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে পুলিশ সদর দপ্তর তদন্ত করে ব্যবস্থাগ্রহণ করবে।’
বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের সর্বাধিক বিতর্কিত কর্মকর্তা ওসি মিজানুর রহমানকে শাস্তিমূলক অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কয়েকটি মামলা এবং সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে বাণিজ্য করার বিস্তর অভিযোগ আছে। এই নীতিবিবর্জিত কর্মকর্তাকে কীর্তনখোলা তীরের জনপদ বরিশাল থেকে সরিয়ে নেওয়ায় এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন এবং হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন।
মাঠপুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে পুলিশের চেইন অব কমান্ড কার্যত অচল হয়ে পড়ে। তৎকালীন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মোস্তফিজুর রহমানকে সরিয়ে বেতাগীর সন্তান মিজানুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পুলিশ কর্মকর্তা যোগদানের পরপরই জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় একাধিক মামলা হয়, যার অধিকাংশতে বরিশালের আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ-ব্যবসায়ী, এমনকি বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করা হয়।
সূত্র জানায়, এই মামলাগুলো নিয়ে ওসি মিজান এবং কতিপয় সমন্বয়ক পরিচয়দানকারী যুবক মিলেমিশে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করেন। অসংখ্য নিরীহ মানুষকে ফোন করে থানায় ডেকে নিয়ে তিনি ব্যাপক অর্থ হাতিয়েছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকদের কাকে কয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখাবেন তা নিয়ে বাণিজ্য করেন ওসি মিজান।
আইনসিক্ত নয় এমন বিষয়গুলো নিয়ে থানা পুলিশের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে নানা কানাঘুষা চললেও অপরাপর কর্মকর্তারা মুখ খোলাস সাহস দেখাননি। তবে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চমহলসহ সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ে অসংখ্য অভিযোগ করা হয়।
পরবর্তীতে তাকে বদলি করে মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে সেখানে গিয়ে তিনি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকর্তা জড়িয়ে পড়েন। এবং তার দেওয়া দিকনির্দেশনায় ছাত্রশক্তির মারযুক আব্দুল্লাহসহ একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন লোকদের মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেন।
কিন্তু সেখানে তিনি শেষ পর্যন্ত আর থাকতে পারলেন না। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের শীর্ষমহলে রদবদল আসার পরপরই তার মামলা-বাণিজ্য এবং সাধারণ নিরীহ মানুষ জিম্মি অপকৌশল প্রকাশ হয়ে যায়।
দুদিন পূর্বে তাকে বরিশাল থেকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়। বিতর্কিত এই পুলিশ কর্মকর্তার বদলি নিয়ে বরিশাল পুলিশ কোনো ব্যাখ্যা না দিলেও বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওসি মিজানকে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে তার বদলি যে শাস্তিমূলক তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
ওসি মিজানের বদলিতে স্বস্তিপ্রকাশ করে কোতয়ালি মডেল থানা এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, গত ২ বছর তিনি পুলিশের পোশাক পরে বহুমুখী অপরাধ করেছেন। নিরীহ এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা লুটে নিয়েছে, এর সাথে কজন যুবকও জড়িত আছে, তাদের একজন মারযুক আব্দুল্লাহ।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গত ২ জুলাই বরিশাল আদালতে ছাত্রশক্তির নেতা মারযুক আব্দুল্লাহ যে মামলাটি করে, তাতে ঘটনাস্থল ওসি মিজানের বিমানবন্দর থানা এলাকা দেখানো হয়। কোনো ধরনের ঘটনা ছাড়াই বরিশাল আদালতে মামলাটি হওয়ায় তুমুল বিতর্ক দেখা দেয়। এবং এই মামলাটিতে ওসি মিজানের যোগসূত্র থাকার একটি সম্ভবনা সামনে আসে। এনিয়ে বরিশাল পুলিশের উচ্চমহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে ওসি মিজানকে বিমানবন্দর থানা থেকে সরিয়ে খুলনায় বদলি করা হয়।
এই বিষয়টি নিয়ে জানতে পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, হেডকোয়াটার্সের নির্দেশে ওসি মিজানুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে পুলিশ সদর দপ্তর তদন্ত করে ব্যবস্থাগ্রহণ করবে।’
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৫:১১
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৪৪
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৩:৩৫
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১৯:১৭

১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৫:১১
বরিশাল শহরে ৫০ বছর বয়সি জনৈক বৃদ্ধা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। নগরের আমিরকুটির এলাকার ফাতেমা মঞ্জিলের ভাড়াটিয়া সালেহা বেগম শনিবার দুপুরে ফ্ল্যাট বাসার দরজা আটকে গলায় ফাঁস দেন। খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে এবং সিআইডির টিম আলামত সংগ্রহ করেছে।
সালেহা বেগমের ছেলে আইনজীবী লতিফ সিকদার জানান, রোববার সকালে তিনি আদালতে যান এবং তার স্ত্রী বাচ্চা নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলেন। স্কুল ছুটির পরে সন্তান নিয়ে বাসায় ফিরে দেখতে পান দরজা ভেতর থেকে লক করা আছে। এবং অনেক ডাকাডাকির পরেও শ্বাশুড়ি কোনো সাড়া দিচ্ছেন না। পরে সে (স্ত্রী) আমাকে ফোন দিয়ে বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে দেখি আমার মা ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছেন।
ছেলে লতিফের দাবি তার মা শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন, কিছুদিন পূর্বে তার পেটে অস্ত্রপচার হয়। কিন্তু তার শারীরিকভাবে উন্নতি হয়নি, অসহ্য যন্ত্রণার কারণে নিজেকে সামলাতে পারছিলেন না। এর আগেও ২/৩ বার তিনি আত্মহত্যা গিয়েছিলেন, তবে ব্যর্থ হয়েছেন। আজ বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন, দাবি লতিফের।
বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুন উল ইসলাম বরিশালটাইমসকে জানান, বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনজীবী ছেলে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দাবি করেছেন। তারপরেও পুলিশ এবং সিআইডি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে, মন্তব্য করেন ওসি।’
বরিশাল শহরে ৫০ বছর বয়সি জনৈক বৃদ্ধা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। নগরের আমিরকুটির এলাকার ফাতেমা মঞ্জিলের ভাড়াটিয়া সালেহা বেগম শনিবার দুপুরে ফ্ল্যাট বাসার দরজা আটকে গলায় ফাঁস দেন। খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে এবং সিআইডির টিম আলামত সংগ্রহ করেছে।
সালেহা বেগমের ছেলে আইনজীবী লতিফ সিকদার জানান, রোববার সকালে তিনি আদালতে যান এবং তার স্ত্রী বাচ্চা নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলেন। স্কুল ছুটির পরে সন্তান নিয়ে বাসায় ফিরে দেখতে পান দরজা ভেতর থেকে লক করা আছে। এবং অনেক ডাকাডাকির পরেও শ্বাশুড়ি কোনো সাড়া দিচ্ছেন না। পরে সে (স্ত্রী) আমাকে ফোন দিয়ে বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে দেখি আমার মা ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছেন।
ছেলে লতিফের দাবি তার মা শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন, কিছুদিন পূর্বে তার পেটে অস্ত্রপচার হয়। কিন্তু তার শারীরিকভাবে উন্নতি হয়নি, অসহ্য যন্ত্রণার কারণে নিজেকে সামলাতে পারছিলেন না। এর আগেও ২/৩ বার তিনি আত্মহত্যা গিয়েছিলেন, তবে ব্যর্থ হয়েছেন। আজ বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন, দাবি লতিফের।
বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুন উল ইসলাম বরিশালটাইমসকে জানান, বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনজীবী ছেলে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দাবি করেছেন। তারপরেও পুলিশ এবং সিআইডি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে, মন্তব্য করেন ওসি।’

১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৩:৩৫
রাজধানী ঢাকায় সদরঘাটের শ্যামবাজার ঘাট এলাকায় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী সুন্দরবন-১২ লঞ্চের ধাক্কায় একটি নতুন ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় ট্রলারে থাকা ১০ আরোহীর মধ্যে ৮ জন প্রাণে রক্ষা পেলেও ২ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সদরঘাট নৌ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহাগ রানা সাংবাদিকদের জানান, গাজীপুরের কড্ডাবাজার থেকে তৈরি সম্পূর্ণ নতুন ট্রলারটি কুমিল্লার মুরাদনগর নেওয়া হচ্ছিল। সদরঘাট এলাকায় পৌঁছালে ট্রলারটির প্রপেলার কোনো কিছুর সঙ্গে আটকে যায়। এতে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে ট্রলারটি নদীর মধ্যে স্থির হয়ে পড়ে। এ সময় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী সুন্দরবন-১২ লঞ্চটি ট্রলারটিকে ধাক্কা দিলে সেটি ডুবে যায়।
এদিকে ট্রলারডুবির খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিসহ উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, ট্রলারে থাকা ১০ জনের মধ্যে ৮ জন সাঁতরে বা অন্যভাবে তীরে উঠেছেন। নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
সর্বশেষ বেলা ১১টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা যায়, নিখোঁজ দুজনের সন্ধান মেলেনি। পাশাপাশি ডুবে যাওয়া ট্রলারটিও এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
রাজধানী ঢাকায় সদরঘাটের শ্যামবাজার ঘাট এলাকায় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী সুন্দরবন-১২ লঞ্চের ধাক্কায় একটি নতুন ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় ট্রলারে থাকা ১০ আরোহীর মধ্যে ৮ জন প্রাণে রক্ষা পেলেও ২ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সদরঘাট নৌ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহাগ রানা সাংবাদিকদের জানান, গাজীপুরের কড্ডাবাজার থেকে তৈরি সম্পূর্ণ নতুন ট্রলারটি কুমিল্লার মুরাদনগর নেওয়া হচ্ছিল। সদরঘাট এলাকায় পৌঁছালে ট্রলারটির প্রপেলার কোনো কিছুর সঙ্গে আটকে যায়। এতে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে ট্রলারটি নদীর মধ্যে স্থির হয়ে পড়ে। এ সময় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী সুন্দরবন-১২ লঞ্চটি ট্রলারটিকে ধাক্কা দিলে সেটি ডুবে যায়।
এদিকে ট্রলারডুবির খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিসহ উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, ট্রলারে থাকা ১০ জনের মধ্যে ৮ জন সাঁতরে বা অন্যভাবে তীরে উঠেছেন। নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
সর্বশেষ বেলা ১১টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা যায়, নিখোঁজ দুজনের সন্ধান মেলেনি। পাশাপাশি ডুবে যাওয়া ট্রলারটিও এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১৯:১০
গণভোটের রায় না মানলে ঢাকায় মহাসমাবেশ: বরিশালে জামায়াত আমির
গণভোটের রায় মানতে বিএনপির নেতৃত্বধীন সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াত ইসলামির আমির ডা. মো. শফিকুল রহমান। আগামী ২৫ জুলাইয়ের আগে গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন না হয় তাহলে রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশ করার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তিনি। শনিবার (১৮ জুলাই) বরিশাল বান্দরোডস্থ কেন্দ্রীয় ঈদগাঁহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আল্টিমেটাম মিশ্রিত হুঁশিয়ারি দেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আবার গর্জে উঠবো, অধিকার আদায় করেই ছাড়বো। ভুল পথ থেকে ফিরে আসুন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন। ২৫ জুলাই সিলেটে সমাবেশের আগেই গণভোটের রায় মেনে নিন। নতুবা রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
তিনি বলেন, অমরা নতুন শাসন ব্যবস্থা চাই, গণভোটের রায়ের বাস্তবায়ন চাই। কিন্তু ম্যাকানিজম করে ক্ষমতায় গিয়ে সরকার গণভোটের রায় ভুলে গেছেন। এবং সংসদে একজন অবৈতনিক একজন শিক্ষক আছেন, যিনি সংসদে প্রায়ই সংবিধান শেখান। প্রতারণা করলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন। আপনারা ফ্যাসিবাদের পথে হাটছেন। এটা জাতির সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা, মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান।
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার তাগিদ দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ফরিদপুরের ভাঙার পরে পুরো রাস্তা ভাঙা, ভোলাবাসীর ন্যায্য দাবি ব্রিজ দিতে হবে, রেল লাইন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অধিকার। বরিশালকে বঞ্চিত রেখে দেশের সুষম উন্নয়ন হবে না।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও বরিশাল অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি, নিয়োগ বাণিজ্য চলছে। যারা নির্বাচনের আগে ওয়াদা দেন একরকম আর কাজ করেন ভিন্ন, তারাই মুনাফিক।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির আহবায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার যদি গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে তাহলে গণআন্দোলন এবং গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে বাধ্য হবো। আমরা এখনও হরতাল, অবরোধের মতো কর্মসূচি দেইনি।
২৪’র গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শক্তি নাহিদ বলেন, যেকোনো সময় সেই ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার জন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা এই মুহূর্তে এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়ার পক্ষে ছিলাম না। কিন্তু সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রমশ পরিস্থিতিকে সেই দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক ভালো ভালো কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু, অন্তরে ছলনা। যেই গণভোটের পক্ষে তিনি হ্যাঁ এর প্রচারণা করলেন, সেখানে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ৭০ ভাগ জনগণ রায় দেওয়া সত্ত্বেও তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছেন না। অথচ মুখে বলে যাচ্ছেন জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। গণঅভ্যুত্থানের সময় আমাদের একটি স্লোগান ছিল নাটক কম করো প্রিয়। তারেক রহমানকেও বলে দিচ্ছি নাটক কম করেন প্রিয়। বাংলাদেশের জনগণ আপনাকে ক্ষমতা দিয়েছে মানে এই নয় যে আপনার যা খুশি ছলনা করবেন।
নাহিদ বলেন, বিএনপি গত ১৬ বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে লড়াই করে যাচ্ছে। আসল কথা হচ্ছে, বিএনপি কখনো জনগণের পক্ষে ছিল না, তারা লড়াই করেছিল ক্ষমতার জন্য, স্বার্থ হাসিলের জন্য। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা তাদের কুক্ষিগত হয়েছে। এখন তারা সংবিধান সংস্কার কমিশনের কথা বলে না, এখন তারা ৩১ দফার কথা বলে না।
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকারকে বলতে চাই সংবিধান সংশোধনের নামে কোনো প্রহসন বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে না।
এর আগে বক্তব্য রাখে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ফেরার কোন সুযোগ নেই, তাদের উস্কানিমূলক বক্তব্যে আমরা কান দেবোনা। আমরা চাই এদেশ থেকে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মাস্তানি বন্ধ হোক’।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের গুন্ডারা বিএনপির সাথে আর্থিক লেনদেন ও পৃষ্ঠপোষকতায় ফেরার পায়তারা করছেন। এই অপচেষ্টা সফল হতে দিব না।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘বাকশাল ও ভারতীয় অধিপত্যবাদ থেকে বাঁচার জন্য আমরা সংগ্রাম করেছিলাম’।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, যারা মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে চাপ দিয়ে চাঁদা দাবি করে তাদের কাছে উন্নয়ন দাবি করে কোন লাভ নেই। যারা কথায় কথায় মিথ্যা কথা বলে, যারা জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি করে তাদের সাথে কোন আপস নেই, মুনাফিকদের সাথে আপস নেই।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমদ।
এনসিপির যুগ্ম মূখ্য সমন্বয়ক ডা. মাহমুদা আলম মিতু বলেন, ‘সংস্কার করলে চাঁদাবাজি করা যাবে না, তাই তারা এখন সংস্কারের কথা ভুলে গেছেন। খালেদা জিয়া বলে গেছেন, আওয়ামী লীগের সংবিধান ছুড়ে ফেলা হবে, অথচ বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের সংবিধান আগলে রাখতে চাইছে’।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, বিচার ও সংস্কারকে ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য তারা ফ্যাসিবাদীদের মতো উন্নয়নের ধোয়া তুলছে।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান, ঢাকা ৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নাল আবেদীন বরিশাল জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবদুল জব্বার এবং বিএম কলেজের সাবেক এজিএস শেখ নেয়ামুল করিম।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, বরিশাল অঞ্চল জামায়াতের টিম সদস্য ফখরুদ্দিন খান রাজী, এনসিপির বরিশাল জেলা আহবায়ক আবু সাঈদ মুসা, সদস্য সচিব আবু সাঈদ ফেরদৌস, মহানগর আহবায়ক মিজানুর রহমান এবং সদস্যসচিব এম আনোয়ার হোসেন।
সমাবেশ শুরুর আগে সকাল থেকেই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা উপজেলার নেতাকর্মীরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে হাজির হন। দুপুরের আগেই সমাবেশস্থল কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। সকাল ১০টা থেকে স্থানীয় নেতাদের বক্তব্যের মাঝে উদ্দীপনামূলক কোরাস সংগীত পরিবেশন করেন দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ বরিশাল অঞ্চলের আওতাধীন ৬ জেলা ও মহানগর শিল্পীরা।’
গণভোটের রায় না মানলে ঢাকায় মহাসমাবেশ: বরিশালে জামায়াত আমির
গণভোটের রায় মানতে বিএনপির নেতৃত্বধীন সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াত ইসলামির আমির ডা. মো. শফিকুল রহমান। আগামী ২৫ জুলাইয়ের আগে গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন না হয় তাহলে রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশ করার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তিনি। শনিবার (১৮ জুলাই) বরিশাল বান্দরোডস্থ কেন্দ্রীয় ঈদগাঁহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আল্টিমেটাম মিশ্রিত হুঁশিয়ারি দেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আবার গর্জে উঠবো, অধিকার আদায় করেই ছাড়বো। ভুল পথ থেকে ফিরে আসুন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন। ২৫ জুলাই সিলেটে সমাবেশের আগেই গণভোটের রায় মেনে নিন। নতুবা রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
তিনি বলেন, অমরা নতুন শাসন ব্যবস্থা চাই, গণভোটের রায়ের বাস্তবায়ন চাই। কিন্তু ম্যাকানিজম করে ক্ষমতায় গিয়ে সরকার গণভোটের রায় ভুলে গেছেন। এবং সংসদে একজন অবৈতনিক একজন শিক্ষক আছেন, যিনি সংসদে প্রায়ই সংবিধান শেখান। প্রতারণা করলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন। আপনারা ফ্যাসিবাদের পথে হাটছেন। এটা জাতির সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা, মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান।
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার তাগিদ দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ফরিদপুরের ভাঙার পরে পুরো রাস্তা ভাঙা, ভোলাবাসীর ন্যায্য দাবি ব্রিজ দিতে হবে, রেল লাইন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অধিকার। বরিশালকে বঞ্চিত রেখে দেশের সুষম উন্নয়ন হবে না।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও বরিশাল অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি, নিয়োগ বাণিজ্য চলছে। যারা নির্বাচনের আগে ওয়াদা দেন একরকম আর কাজ করেন ভিন্ন, তারাই মুনাফিক।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির আহবায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার যদি গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে তাহলে গণআন্দোলন এবং গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে বাধ্য হবো। আমরা এখনও হরতাল, অবরোধের মতো কর্মসূচি দেইনি।
২৪’র গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শক্তি নাহিদ বলেন, যেকোনো সময় সেই ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার জন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা এই মুহূর্তে এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়ার পক্ষে ছিলাম না। কিন্তু সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রমশ পরিস্থিতিকে সেই দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক ভালো ভালো কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু, অন্তরে ছলনা। যেই গণভোটের পক্ষে তিনি হ্যাঁ এর প্রচারণা করলেন, সেখানে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ৭০ ভাগ জনগণ রায় দেওয়া সত্ত্বেও তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছেন না। অথচ মুখে বলে যাচ্ছেন জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। গণঅভ্যুত্থানের সময় আমাদের একটি স্লোগান ছিল নাটক কম করো প্রিয়। তারেক রহমানকেও বলে দিচ্ছি নাটক কম করেন প্রিয়। বাংলাদেশের জনগণ আপনাকে ক্ষমতা দিয়েছে মানে এই নয় যে আপনার যা খুশি ছলনা করবেন।
নাহিদ বলেন, বিএনপি গত ১৬ বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে লড়াই করে যাচ্ছে। আসল কথা হচ্ছে, বিএনপি কখনো জনগণের পক্ষে ছিল না, তারা লড়াই করেছিল ক্ষমতার জন্য, স্বার্থ হাসিলের জন্য। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা তাদের কুক্ষিগত হয়েছে। এখন তারা সংবিধান সংস্কার কমিশনের কথা বলে না, এখন তারা ৩১ দফার কথা বলে না।
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকারকে বলতে চাই সংবিধান সংশোধনের নামে কোনো প্রহসন বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে না।
এর আগে বক্তব্য রাখে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ফেরার কোন সুযোগ নেই, তাদের উস্কানিমূলক বক্তব্যে আমরা কান দেবোনা। আমরা চাই এদেশ থেকে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মাস্তানি বন্ধ হোক’।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের গুন্ডারা বিএনপির সাথে আর্থিক লেনদেন ও পৃষ্ঠপোষকতায় ফেরার পায়তারা করছেন। এই অপচেষ্টা সফল হতে দিব না।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘বাকশাল ও ভারতীয় অধিপত্যবাদ থেকে বাঁচার জন্য আমরা সংগ্রাম করেছিলাম’।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, যারা মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে চাপ দিয়ে চাঁদা দাবি করে তাদের কাছে উন্নয়ন দাবি করে কোন লাভ নেই। যারা কথায় কথায় মিথ্যা কথা বলে, যারা জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি করে তাদের সাথে কোন আপস নেই, মুনাফিকদের সাথে আপস নেই।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমদ।
এনসিপির যুগ্ম মূখ্য সমন্বয়ক ডা. মাহমুদা আলম মিতু বলেন, ‘সংস্কার করলে চাঁদাবাজি করা যাবে না, তাই তারা এখন সংস্কারের কথা ভুলে গেছেন। খালেদা জিয়া বলে গেছেন, আওয়ামী লীগের সংবিধান ছুড়ে ফেলা হবে, অথচ বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের সংবিধান আগলে রাখতে চাইছে’।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, বিচার ও সংস্কারকে ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য তারা ফ্যাসিবাদীদের মতো উন্নয়নের ধোয়া তুলছে।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান, ঢাকা ৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নাল আবেদীন বরিশাল জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবদুল জব্বার এবং বিএম কলেজের সাবেক এজিএস শেখ নেয়ামুল করিম।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, বরিশাল অঞ্চল জামায়াতের টিম সদস্য ফখরুদ্দিন খান রাজী, এনসিপির বরিশাল জেলা আহবায়ক আবু সাঈদ মুসা, সদস্য সচিব আবু সাঈদ ফেরদৌস, মহানগর আহবায়ক মিজানুর রহমান এবং সদস্যসচিব এম আনোয়ার হোসেন।
সমাবেশ শুরুর আগে সকাল থেকেই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা উপজেলার নেতাকর্মীরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে হাজির হন। দুপুরের আগেই সমাবেশস্থল কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। সকাল ১০টা থেকে স্থানীয় নেতাদের বক্তব্যের মাঝে উদ্দীপনামূলক কোরাস সংগীত পরিবেশন করেন দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ বরিশাল অঞ্চলের আওতাধীন ৬ জেলা ও মহানগর শিল্পীরা।’