ছবি: সংগৃহীত
রমজান এলে মুসলিম বিশ্বের বহু দেশে বাজারে স্বস্তির হাওয়া লাগে। সৌদি আরব, তুরস্ক, মালয়েশিয়া কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতে সরকার ও ব্যবসায়ীরা যৌথভাবে নিত্যপণ্যের দাম কমাতে উদ্যোগ নেয়—বিশেষ ছাড়, ভর্তুকি, ভ্রাম্যমাণ বাজার, কঠোর নজরদারি। অথচ আমাদের বাস্তবতা প্রায় উল্টো। চাঁদ দেখা যাওয়ার আগেই চাল, ডাল, তেল, চিনি, খেজুর, ছোলা, মাংস—প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, সরবরাহ ব্যবস্থায় ‘অতিরিক্ত খরচ’ যার বড় অংশই চাঁদাবাজি।
উৎপাদক থেকে পাইকার, পাইকার থেকে খুচরা—প্রতিটি ধাপে যদি জোরপূর্বক অর্থ আদায় হয়, তবে তার বোঝা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাঁধেই পড়ে। অর্থনীতির ভাষায় এটি ‘ট্রানজ্যাকশন কস্ট’; কিন্তু বাস্তবে এটি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আদায় করা অবৈধ টাকা।
দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে বাস, ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, টেম্পো-লেগুনা—সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি টাকার মতো চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায় ৩ হাজার স্পট থেকে এই আদায় চলে। কোথাও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার নামে, কোথাও পার্কিং ফি, কোথাও পৌর টোলের সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ, আবার কোথাও ‘লাইনম্যান’ খরচ বা ‘গেট পাস’—এভাবেই চলছে চাঁদাবাজি।
পরিসংখ্যান বলছে, সিটি বাস প্রায় ৮ হাজার; প্রতিটি থেকে দৈনিক গড়ে ৮০০ টাকা করে আদায় হলে ৬৪ লাখ টাকা। দূরপাল্লার বাস ৬০ হাজারের বেশি; প্রতিটি থেকে ৫০০ টাকা ধরলে প্রায় ৩ কোটি টাকা। ঢাকায় ১৮ হাজার সিএনজি অটোরিকশা থেকে দৈনিক ১৫০ টাকা করে ২৭ লাখ টাকা। ব্যাটারিচালিত রিকশা—ঢাকায় ১০ লাখ, সারা দেশে আরও প্রায় ৫০ লাখ; গড়ে ৮০-১৫০ টাকা করে দৈনিক কয়েক কোটি টাকা। ট্রাক প্রায় ৪ লাখ; প্রতিটি থেকে ১ হাজার টাকা ধরলে ৪০ কোটি টাকা। টেম্পো-লেগুনা মিলিয়ে আরও লক্ষ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে অঙ্কটি শতকোটি ছুঁয়ে যায়।
এই বিপুল পরিমাণ টাকা তারা কার কাছ থেকে তুলে নেয়? যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের ভাড়া বাড়িয়ে—অর্থাৎ সাধারণ মানুষ থেকে।
মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই টাকা আদায় হয় ইচ্ছার বিরুদ্ধে। নির্ধারিত অঙ্ক না দিলে গাড়ি আটকে দেওয়া, ভাঙচুর, এমনকি মারধরের ঘটনাও ঘটে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে ডিজিটাল ভাড়া পরিশোধ ও ক্যামেরাভিত্তিক মামলা পদ্ধতি চালু হলে সড়কে নগদ লেনদেন কমবে, চাঁদাবাজির সুযোগও সংকুচিত হবে। বর্তমানে সমঝোতার নামে যে অর্থ আদায় হচ্ছে, তা তদন্ত করে প্রকৃত সত্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত।
অন্যদিকে শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রহিম বক্স দুদু দাবি করেন, সরাসরি চাঁদা তোলা হয় না; তবে নানা নামে আদায় বন্ধ হয়নি। মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সাইফুল আলম বলেন, এটি ব্যবস্থাপনা খরচ, স্বেচ্ছায় দেওয়া ফি। প্রশ্ন হচ্ছে—স্বেচ্ছার সংজ্ঞা কী, যখন চাঁদা না দিলে রাস্তায় গাড়িই নামানো যায় না?
জেলা থেকে জেলায় একই চিত্র
চট্টগ্রামে গত ১৬ বছরে পরিবহণ খাতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠে এসেছে একটি মামলার এজাহারে। রাজশাহীতে বাসপ্রতি ৬২০ টাকা শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের নামে আদায় হলেও তার বড় অংশ তছরুপের অভিযোগ রয়েছে। খুলনায় টার্মিনালভিত্তিক প্রতিটি বাসকে ৩৫০-৫২০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। সিলেটে রসিদের রং বদলালেও চাঁদা বাণিজ্য থামেনি। বরিশালে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, কিন্তু টার্মিনাল নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন আসেনি। রংপুরে বছরে প্রায় ৭ কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে চাঁদা আদায় হয়।
এই চিত্র প্রমাণ করে—এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেওয়া এক অর্থনৈতিক ব্যাধি।
চাঁদাবাজির অর্থনৈতিক অভিঘাত
১. পরিবহণ ভাড়া বৃদ্ধি : ট্রাকচালক যদি প্রতিদিন ১ হাজার টাকা অতিরিক্ত দেয়, তা পণ্যের ভাড়ায় যোগ হবে।
২. সরবরাহ শৃঙ্খলে মূল্যস্ফীতি : উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ‘অদৃশ্য কর’ যুক্ত হয়।
৩. মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস : আয় স্থির, কিন্তু ব্যয় বাড়ে।
৪. বাজারে সিন্ডিকেট শক্তিশালী হওয়া : চাঁদার অর্থ দিয়ে প্রভাবশালী চক্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার করে।
৫. প্রতিযোগিতা কমে যাওয়া : ছোট মালিক বা নতুন উদ্যোক্তা বাজারে টিকতে পারে না।
রমজানে চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বাড়ে। কিন্তু চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগে যদি পরিবহণ ব্যয়, গুদাম ব্যয়, টার্মিনাল ফি সব জায়গায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় হয়, তবে দাম কমার বদলে বাড়বেই। মুসলিম বিশ্বের বহু দেশে সরকার ভর্তুকি দেয়; আমাদের এখানে বাজারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, মালিক-শ্রমিক সংগঠনের একাংশ চাঁদার অর্থে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। সরকার বদলালেও আপসের রাজনীতি বদলায় না। ফলে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। চাঁদাবাজি একটি ফৌজদারি অপরাধ এ কথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও স্বীকার করেছেন।
সমাধানের রূপরেখা
১. স্বাধীন তদন্ত কমিশন : সড়ক, স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ কমিটি; প্রতিবেদন প্রকাশ বাধ্যতামূলক।
২. ডিজিটাল পেমেন্ট ও ই-টিকিটিং : নগদ লেনদেন কমালে অনিয়ম কমবে।
৩. টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা : আয়-ব্যয়ের অডিট প্রতিবছর প্রকাশ।
৪. হটলাইন ও হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা : চালক-শ্রমিক যেন ভয় ছাড়া অভিযোগ করতে পারেন।
৫. রমজানকেন্দ্রিক বিশেষ নজরদারি : চাহিদা বৃদ্ধির সময়ে কঠোর বাজার তদারকি।
৬. রাজনৈতিক সদিচ্ছা : দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।
চাঁদাবাজি এক ধরনের অদৃশ্য কর, যা জনগণের ঘামঝরা আয়ের ওপর আরোপিত হয়। রমজানের সংযম ও ন্যায়ের শিক্ষার সঙ্গে এই সংস্কৃতি সাংঘর্ষিক।
যদি সত্যিই বাজারে স্বস্তি আনতে হয়, তবে কেবল সিন্ডিকেট ভাঙার কথা বললেই হবে না—পরিবহণ খাতের প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় সরকার বদলাবে, মন্ত্রী বদলাবেন, রসিদের রং বদলাবে—কিন্তু বাজারে সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস কোনদিনই বদলাবে না।
বরিশাল টাইমস

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৪
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৩১
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১২
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:১৯
রমজান এলে মুসলিম বিশ্বের বহু দেশে বাজারে স্বস্তির হাওয়া লাগে। সৌদি আরব, তুরস্ক, মালয়েশিয়া কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতে সরকার ও ব্যবসায়ীরা যৌথভাবে নিত্যপণ্যের দাম কমাতে উদ্যোগ নেয়—বিশেষ ছাড়, ভর্তুকি, ভ্রাম্যমাণ বাজার, কঠোর নজরদারি। অথচ আমাদের বাস্তবতা প্রায় উল্টো। চাঁদ দেখা যাওয়ার আগেই চাল, ডাল, তেল, চিনি, খেজুর, ছোলা, মাংস—প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, সরবরাহ ব্যবস্থায় ‘অতিরিক্ত খরচ’ যার বড় অংশই চাঁদাবাজি।
উৎপাদক থেকে পাইকার, পাইকার থেকে খুচরা—প্রতিটি ধাপে যদি জোরপূর্বক অর্থ আদায় হয়, তবে তার বোঝা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাঁধেই পড়ে। অর্থনীতির ভাষায় এটি ‘ট্রানজ্যাকশন কস্ট’; কিন্তু বাস্তবে এটি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আদায় করা অবৈধ টাকা।
দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে বাস, ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, টেম্পো-লেগুনা—সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি টাকার মতো চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায় ৩ হাজার স্পট থেকে এই আদায় চলে। কোথাও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার নামে, কোথাও পার্কিং ফি, কোথাও পৌর টোলের সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ, আবার কোথাও ‘লাইনম্যান’ খরচ বা ‘গেট পাস’—এভাবেই চলছে চাঁদাবাজি।
পরিসংখ্যান বলছে, সিটি বাস প্রায় ৮ হাজার; প্রতিটি থেকে দৈনিক গড়ে ৮০০ টাকা করে আদায় হলে ৬৪ লাখ টাকা। দূরপাল্লার বাস ৬০ হাজারের বেশি; প্রতিটি থেকে ৫০০ টাকা ধরলে প্রায় ৩ কোটি টাকা। ঢাকায় ১৮ হাজার সিএনজি অটোরিকশা থেকে দৈনিক ১৫০ টাকা করে ২৭ লাখ টাকা। ব্যাটারিচালিত রিকশা—ঢাকায় ১০ লাখ, সারা দেশে আরও প্রায় ৫০ লাখ; গড়ে ৮০-১৫০ টাকা করে দৈনিক কয়েক কোটি টাকা। ট্রাক প্রায় ৪ লাখ; প্রতিটি থেকে ১ হাজার টাকা ধরলে ৪০ কোটি টাকা। টেম্পো-লেগুনা মিলিয়ে আরও লক্ষ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে অঙ্কটি শতকোটি ছুঁয়ে যায়।
এই বিপুল পরিমাণ টাকা তারা কার কাছ থেকে তুলে নেয়? যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের ভাড়া বাড়িয়ে—অর্থাৎ সাধারণ মানুষ থেকে।
মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই টাকা আদায় হয় ইচ্ছার বিরুদ্ধে। নির্ধারিত অঙ্ক না দিলে গাড়ি আটকে দেওয়া, ভাঙচুর, এমনকি মারধরের ঘটনাও ঘটে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে ডিজিটাল ভাড়া পরিশোধ ও ক্যামেরাভিত্তিক মামলা পদ্ধতি চালু হলে সড়কে নগদ লেনদেন কমবে, চাঁদাবাজির সুযোগও সংকুচিত হবে। বর্তমানে সমঝোতার নামে যে অর্থ আদায় হচ্ছে, তা তদন্ত করে প্রকৃত সত্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত।
অন্যদিকে শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রহিম বক্স দুদু দাবি করেন, সরাসরি চাঁদা তোলা হয় না; তবে নানা নামে আদায় বন্ধ হয়নি। মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সাইফুল আলম বলেন, এটি ব্যবস্থাপনা খরচ, স্বেচ্ছায় দেওয়া ফি। প্রশ্ন হচ্ছে—স্বেচ্ছার সংজ্ঞা কী, যখন চাঁদা না দিলে রাস্তায় গাড়িই নামানো যায় না?
জেলা থেকে জেলায় একই চিত্র
চট্টগ্রামে গত ১৬ বছরে পরিবহণ খাতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠে এসেছে একটি মামলার এজাহারে। রাজশাহীতে বাসপ্রতি ৬২০ টাকা শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের নামে আদায় হলেও তার বড় অংশ তছরুপের অভিযোগ রয়েছে। খুলনায় টার্মিনালভিত্তিক প্রতিটি বাসকে ৩৫০-৫২০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। সিলেটে রসিদের রং বদলালেও চাঁদা বাণিজ্য থামেনি। বরিশালে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, কিন্তু টার্মিনাল নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন আসেনি। রংপুরে বছরে প্রায় ৭ কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে চাঁদা আদায় হয়।
এই চিত্র প্রমাণ করে—এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেওয়া এক অর্থনৈতিক ব্যাধি।
চাঁদাবাজির অর্থনৈতিক অভিঘাত
১. পরিবহণ ভাড়া বৃদ্ধি : ট্রাকচালক যদি প্রতিদিন ১ হাজার টাকা অতিরিক্ত দেয়, তা পণ্যের ভাড়ায় যোগ হবে।
২. সরবরাহ শৃঙ্খলে মূল্যস্ফীতি : উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ‘অদৃশ্য কর’ যুক্ত হয়।
৩. মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস : আয় স্থির, কিন্তু ব্যয় বাড়ে।
৪. বাজারে সিন্ডিকেট শক্তিশালী হওয়া : চাঁদার অর্থ দিয়ে প্রভাবশালী চক্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার করে।
৫. প্রতিযোগিতা কমে যাওয়া : ছোট মালিক বা নতুন উদ্যোক্তা বাজারে টিকতে পারে না।
রমজানে চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বাড়ে। কিন্তু চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগে যদি পরিবহণ ব্যয়, গুদাম ব্যয়, টার্মিনাল ফি সব জায়গায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় হয়, তবে দাম কমার বদলে বাড়বেই। মুসলিম বিশ্বের বহু দেশে সরকার ভর্তুকি দেয়; আমাদের এখানে বাজারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, মালিক-শ্রমিক সংগঠনের একাংশ চাঁদার অর্থে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। সরকার বদলালেও আপসের রাজনীতি বদলায় না। ফলে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। চাঁদাবাজি একটি ফৌজদারি অপরাধ এ কথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও স্বীকার করেছেন।
সমাধানের রূপরেখা
১. স্বাধীন তদন্ত কমিশন : সড়ক, স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ কমিটি; প্রতিবেদন প্রকাশ বাধ্যতামূলক।
২. ডিজিটাল পেমেন্ট ও ই-টিকিটিং : নগদ লেনদেন কমালে অনিয়ম কমবে।
৩. টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা : আয়-ব্যয়ের অডিট প্রতিবছর প্রকাশ।
৪. হটলাইন ও হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা : চালক-শ্রমিক যেন ভয় ছাড়া অভিযোগ করতে পারেন।
৫. রমজানকেন্দ্রিক বিশেষ নজরদারি : চাহিদা বৃদ্ধির সময়ে কঠোর বাজার তদারকি।
৬. রাজনৈতিক সদিচ্ছা : দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।
চাঁদাবাজি এক ধরনের অদৃশ্য কর, যা জনগণের ঘামঝরা আয়ের ওপর আরোপিত হয়। রমজানের সংযম ও ন্যায়ের শিক্ষার সঙ্গে এই সংস্কৃতি সাংঘর্ষিক।
যদি সত্যিই বাজারে স্বস্তি আনতে হয়, তবে কেবল সিন্ডিকেট ভাঙার কথা বললেই হবে না—পরিবহণ খাতের প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় সরকার বদলাবে, মন্ত্রী বদলাবেন, রসিদের রং বদলাবে—কিন্তু বাজারে সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস কোনদিনই বদলাবে না।
বরিশাল টাইমস
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:১২
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:১৩
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৪৩
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৫