Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:১৯
রমজান এলে মুসলিম বিশ্বের বহু দেশে বাজারে স্বস্তির হাওয়া লাগে। সৌদি আরব, তুরস্ক, মালয়েশিয়া কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতে সরকার ও ব্যবসায়ীরা যৌথভাবে নিত্যপণ্যের দাম কমাতে উদ্যোগ নেয়—বিশেষ ছাড়, ভর্তুকি, ভ্রাম্যমাণ বাজার, কঠোর নজরদারি। অথচ আমাদের বাস্তবতা প্রায় উল্টো। চাঁদ দেখা যাওয়ার আগেই চাল, ডাল, তেল, চিনি, খেজুর, ছোলা, মাংস—প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, সরবরাহ ব্যবস্থায় ‘অতিরিক্ত খরচ’ যার বড় অংশই চাঁদাবাজি।
উৎপাদক থেকে পাইকার, পাইকার থেকে খুচরা—প্রতিটি ধাপে যদি জোরপূর্বক অর্থ আদায় হয়, তবে তার বোঝা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাঁধেই পড়ে। অর্থনীতির ভাষায় এটি ‘ট্রানজ্যাকশন কস্ট’; কিন্তু বাস্তবে এটি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আদায় করা অবৈধ টাকা।
দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে বাস, ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, টেম্পো-লেগুনা—সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি টাকার মতো চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায় ৩ হাজার স্পট থেকে এই আদায় চলে। কোথাও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার নামে, কোথাও পার্কিং ফি, কোথাও পৌর টোলের সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ, আবার কোথাও ‘লাইনম্যান’ খরচ বা ‘গেট পাস’—এভাবেই চলছে চাঁদাবাজি।
পরিসংখ্যান বলছে, সিটি বাস প্রায় ৮ হাজার; প্রতিটি থেকে দৈনিক গড়ে ৮০০ টাকা করে আদায় হলে ৬৪ লাখ টাকা। দূরপাল্লার বাস ৬০ হাজারের বেশি; প্রতিটি থেকে ৫০০ টাকা ধরলে প্রায় ৩ কোটি টাকা। ঢাকায় ১৮ হাজার সিএনজি অটোরিকশা থেকে দৈনিক ১৫০ টাকা করে ২৭ লাখ টাকা। ব্যাটারিচালিত রিকশা—ঢাকায় ১০ লাখ, সারা দেশে আরও প্রায় ৫০ লাখ; গড়ে ৮০-১৫০ টাকা করে দৈনিক কয়েক কোটি টাকা। ট্রাক প্রায় ৪ লাখ; প্রতিটি থেকে ১ হাজার টাকা ধরলে ৪০ কোটি টাকা। টেম্পো-লেগুনা মিলিয়ে আরও লক্ষ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে অঙ্কটি শতকোটি ছুঁয়ে যায়।
এই বিপুল পরিমাণ টাকা তারা কার কাছ থেকে তুলে নেয়? যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের ভাড়া বাড়িয়ে—অর্থাৎ সাধারণ মানুষ থেকে।
মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই টাকা আদায় হয় ইচ্ছার বিরুদ্ধে। নির্ধারিত অঙ্ক না দিলে গাড়ি আটকে দেওয়া, ভাঙচুর, এমনকি মারধরের ঘটনাও ঘটে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে ডিজিটাল ভাড়া পরিশোধ ও ক্যামেরাভিত্তিক মামলা পদ্ধতি চালু হলে সড়কে নগদ লেনদেন কমবে, চাঁদাবাজির সুযোগও সংকুচিত হবে। বর্তমানে সমঝোতার নামে যে অর্থ আদায় হচ্ছে, তা তদন্ত করে প্রকৃত সত্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত।
অন্যদিকে শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রহিম বক্স দুদু দাবি করেন, সরাসরি চাঁদা তোলা হয় না; তবে নানা নামে আদায় বন্ধ হয়নি। মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সাইফুল আলম বলেন, এটি ব্যবস্থাপনা খরচ, স্বেচ্ছায় দেওয়া ফি। প্রশ্ন হচ্ছে—স্বেচ্ছার সংজ্ঞা কী, যখন চাঁদা না দিলে রাস্তায় গাড়িই নামানো যায় না?
জেলা থেকে জেলায় একই চিত্র
চট্টগ্রামে গত ১৬ বছরে পরিবহণ খাতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠে এসেছে একটি মামলার এজাহারে। রাজশাহীতে বাসপ্রতি ৬২০ টাকা শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের নামে আদায় হলেও তার বড় অংশ তছরুপের অভিযোগ রয়েছে। খুলনায় টার্মিনালভিত্তিক প্রতিটি বাসকে ৩৫০-৫২০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। সিলেটে রসিদের রং বদলালেও চাঁদা বাণিজ্য থামেনি। বরিশালে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, কিন্তু টার্মিনাল নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন আসেনি। রংপুরে বছরে প্রায় ৭ কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে চাঁদা আদায় হয়।
এই চিত্র প্রমাণ করে—এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেওয়া এক অর্থনৈতিক ব্যাধি।
চাঁদাবাজির অর্থনৈতিক অভিঘাত
১. পরিবহণ ভাড়া বৃদ্ধি : ট্রাকচালক যদি প্রতিদিন ১ হাজার টাকা অতিরিক্ত দেয়, তা পণ্যের ভাড়ায় যোগ হবে।
২. সরবরাহ শৃঙ্খলে মূল্যস্ফীতি : উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ‘অদৃশ্য কর’ যুক্ত হয়।
৩. মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস : আয় স্থির, কিন্তু ব্যয় বাড়ে।
৪. বাজারে সিন্ডিকেট শক্তিশালী হওয়া : চাঁদার অর্থ দিয়ে প্রভাবশালী চক্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার করে।
৫. প্রতিযোগিতা কমে যাওয়া : ছোট মালিক বা নতুন উদ্যোক্তা বাজারে টিকতে পারে না।
রমজানে চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বাড়ে। কিন্তু চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগে যদি পরিবহণ ব্যয়, গুদাম ব্যয়, টার্মিনাল ফি সব জায়গায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় হয়, তবে দাম কমার বদলে বাড়বেই। মুসলিম বিশ্বের বহু দেশে সরকার ভর্তুকি দেয়; আমাদের এখানে বাজারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, মালিক-শ্রমিক সংগঠনের একাংশ চাঁদার অর্থে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। সরকার বদলালেও আপসের রাজনীতি বদলায় না। ফলে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। চাঁদাবাজি একটি ফৌজদারি অপরাধ এ কথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও স্বীকার করেছেন।
সমাধানের রূপরেখা
১. স্বাধীন তদন্ত কমিশন : সড়ক, স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ কমিটি; প্রতিবেদন প্রকাশ বাধ্যতামূলক।
২. ডিজিটাল পেমেন্ট ও ই-টিকিটিং : নগদ লেনদেন কমালে অনিয়ম কমবে।
৩. টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা : আয়-ব্যয়ের অডিট প্রতিবছর প্রকাশ।
৪. হটলাইন ও হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা : চালক-শ্রমিক যেন ভয় ছাড়া অভিযোগ করতে পারেন।
৫. রমজানকেন্দ্রিক বিশেষ নজরদারি : চাহিদা বৃদ্ধির সময়ে কঠোর বাজার তদারকি।
৬. রাজনৈতিক সদিচ্ছা : দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।
চাঁদাবাজি এক ধরনের অদৃশ্য কর, যা জনগণের ঘামঝরা আয়ের ওপর আরোপিত হয়। রমজানের সংযম ও ন্যায়ের শিক্ষার সঙ্গে এই সংস্কৃতি সাংঘর্ষিক।
যদি সত্যিই বাজারে স্বস্তি আনতে হয়, তবে কেবল সিন্ডিকেট ভাঙার কথা বললেই হবে না—পরিবহণ খাতের প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় সরকার বদলাবে, মন্ত্রী বদলাবেন, রসিদের রং বদলাবে—কিন্তু বাজারে সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস কোনদিনই বদলাবে না।
বরিশাল টাইমস
ছবি: সংগৃহীত
রমজান এলে মুসলিম বিশ্বের বহু দেশে বাজারে স্বস্তির হাওয়া লাগে। সৌদি আরব, তুরস্ক, মালয়েশিয়া কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতে সরকার ও ব্যবসায়ীরা যৌথভাবে নিত্যপণ্যের দাম কমাতে উদ্যোগ নেয়—বিশেষ ছাড়, ভর্তুকি, ভ্রাম্যমাণ বাজার, কঠোর নজরদারি। অথচ আমাদের বাস্তবতা প্রায় উল্টো। চাঁদ দেখা যাওয়ার আগেই চাল, ডাল, তেল, চিনি, খেজুর, ছোলা, মাংস—প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, সরবরাহ ব্যবস্থায় ‘অতিরিক্ত খরচ’ যার বড় অংশই চাঁদাবাজি।
উৎপাদক থেকে পাইকার, পাইকার থেকে খুচরা—প্রতিটি ধাপে যদি জোরপূর্বক অর্থ আদায় হয়, তবে তার বোঝা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাঁধেই পড়ে। অর্থনীতির ভাষায় এটি ‘ট্রানজ্যাকশন কস্ট’; কিন্তু বাস্তবে এটি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আদায় করা অবৈধ টাকা।
দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে বাস, ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, টেম্পো-লেগুনা—সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি টাকার মতো চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায় ৩ হাজার স্পট থেকে এই আদায় চলে। কোথাও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার নামে, কোথাও পার্কিং ফি, কোথাও পৌর টোলের সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ, আবার কোথাও ‘লাইনম্যান’ খরচ বা ‘গেট পাস’—এভাবেই চলছে চাঁদাবাজি।
পরিসংখ্যান বলছে, সিটি বাস প্রায় ৮ হাজার; প্রতিটি থেকে দৈনিক গড়ে ৮০০ টাকা করে আদায় হলে ৬৪ লাখ টাকা। দূরপাল্লার বাস ৬০ হাজারের বেশি; প্রতিটি থেকে ৫০০ টাকা ধরলে প্রায় ৩ কোটি টাকা। ঢাকায় ১৮ হাজার সিএনজি অটোরিকশা থেকে দৈনিক ১৫০ টাকা করে ২৭ লাখ টাকা। ব্যাটারিচালিত রিকশা—ঢাকায় ১০ লাখ, সারা দেশে আরও প্রায় ৫০ লাখ; গড়ে ৮০-১৫০ টাকা করে দৈনিক কয়েক কোটি টাকা। ট্রাক প্রায় ৪ লাখ; প্রতিটি থেকে ১ হাজার টাকা ধরলে ৪০ কোটি টাকা। টেম্পো-লেগুনা মিলিয়ে আরও লক্ষ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে অঙ্কটি শতকোটি ছুঁয়ে যায়।
এই বিপুল পরিমাণ টাকা তারা কার কাছ থেকে তুলে নেয়? যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের ভাড়া বাড়িয়ে—অর্থাৎ সাধারণ মানুষ থেকে।
মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই টাকা আদায় হয় ইচ্ছার বিরুদ্ধে। নির্ধারিত অঙ্ক না দিলে গাড়ি আটকে দেওয়া, ভাঙচুর, এমনকি মারধরের ঘটনাও ঘটে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে ডিজিটাল ভাড়া পরিশোধ ও ক্যামেরাভিত্তিক মামলা পদ্ধতি চালু হলে সড়কে নগদ লেনদেন কমবে, চাঁদাবাজির সুযোগও সংকুচিত হবে। বর্তমানে সমঝোতার নামে যে অর্থ আদায় হচ্ছে, তা তদন্ত করে প্রকৃত সত্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত।
অন্যদিকে শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রহিম বক্স দুদু দাবি করেন, সরাসরি চাঁদা তোলা হয় না; তবে নানা নামে আদায় বন্ধ হয়নি। মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সাইফুল আলম বলেন, এটি ব্যবস্থাপনা খরচ, স্বেচ্ছায় দেওয়া ফি। প্রশ্ন হচ্ছে—স্বেচ্ছার সংজ্ঞা কী, যখন চাঁদা না দিলে রাস্তায় গাড়িই নামানো যায় না?
জেলা থেকে জেলায় একই চিত্র
চট্টগ্রামে গত ১৬ বছরে পরিবহণ খাতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠে এসেছে একটি মামলার এজাহারে। রাজশাহীতে বাসপ্রতি ৬২০ টাকা শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের নামে আদায় হলেও তার বড় অংশ তছরুপের অভিযোগ রয়েছে। খুলনায় টার্মিনালভিত্তিক প্রতিটি বাসকে ৩৫০-৫২০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। সিলেটে রসিদের রং বদলালেও চাঁদা বাণিজ্য থামেনি। বরিশালে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, কিন্তু টার্মিনাল নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন আসেনি। রংপুরে বছরে প্রায় ৭ কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে চাঁদা আদায় হয়।
এই চিত্র প্রমাণ করে—এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেওয়া এক অর্থনৈতিক ব্যাধি।
চাঁদাবাজির অর্থনৈতিক অভিঘাত
১. পরিবহণ ভাড়া বৃদ্ধি : ট্রাকচালক যদি প্রতিদিন ১ হাজার টাকা অতিরিক্ত দেয়, তা পণ্যের ভাড়ায় যোগ হবে।
২. সরবরাহ শৃঙ্খলে মূল্যস্ফীতি : উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ‘অদৃশ্য কর’ যুক্ত হয়।
৩. মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস : আয় স্থির, কিন্তু ব্যয় বাড়ে।
৪. বাজারে সিন্ডিকেট শক্তিশালী হওয়া : চাঁদার অর্থ দিয়ে প্রভাবশালী চক্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার করে।
৫. প্রতিযোগিতা কমে যাওয়া : ছোট মালিক বা নতুন উদ্যোক্তা বাজারে টিকতে পারে না।
রমজানে চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বাড়ে। কিন্তু চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগে যদি পরিবহণ ব্যয়, গুদাম ব্যয়, টার্মিনাল ফি সব জায়গায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় হয়, তবে দাম কমার বদলে বাড়বেই। মুসলিম বিশ্বের বহু দেশে সরকার ভর্তুকি দেয়; আমাদের এখানে বাজারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, মালিক-শ্রমিক সংগঠনের একাংশ চাঁদার অর্থে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। সরকার বদলালেও আপসের রাজনীতি বদলায় না। ফলে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। চাঁদাবাজি একটি ফৌজদারি অপরাধ এ কথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও স্বীকার করেছেন।
সমাধানের রূপরেখা
১. স্বাধীন তদন্ত কমিশন : সড়ক, স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ কমিটি; প্রতিবেদন প্রকাশ বাধ্যতামূলক।
২. ডিজিটাল পেমেন্ট ও ই-টিকিটিং : নগদ লেনদেন কমালে অনিয়ম কমবে।
৩. টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা : আয়-ব্যয়ের অডিট প্রতিবছর প্রকাশ।
৪. হটলাইন ও হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা : চালক-শ্রমিক যেন ভয় ছাড়া অভিযোগ করতে পারেন।
৫. রমজানকেন্দ্রিক বিশেষ নজরদারি : চাহিদা বৃদ্ধির সময়ে কঠোর বাজার তদারকি।
৬. রাজনৈতিক সদিচ্ছা : দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।
চাঁদাবাজি এক ধরনের অদৃশ্য কর, যা জনগণের ঘামঝরা আয়ের ওপর আরোপিত হয়। রমজানের সংযম ও ন্যায়ের শিক্ষার সঙ্গে এই সংস্কৃতি সাংঘর্ষিক।
যদি সত্যিই বাজারে স্বস্তি আনতে হয়, তবে কেবল সিন্ডিকেট ভাঙার কথা বললেই হবে না—পরিবহণ খাতের প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় সরকার বদলাবে, মন্ত্রী বদলাবেন, রসিদের রং বদলাবে—কিন্তু বাজারে সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস কোনদিনই বদলাবে না।
বরিশাল টাইমস

২১ জুন, ২০২৬ ২৩:২৯
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সাইফুল ইসলাম (২২) নামের এক ছাত্রশিবির কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় সালাউদ্দিন নামের আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার (২১ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত সাইফুল ইসলাম বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং শিমুল তাইড় গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে বাটি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে মুকুলের কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। ওই সময় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল ইসলাম ও সালাউদ্দিন সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে এমন আচরণের প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মুকুল, তার সহোদর ভাই পলাশ এবং জনৈক আশরাফ ধারালো ছুরি দিয়ে সাইফুল ও সালাউদ্দিনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় সালাউদ্দিনকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

২১ জুন, ২০২৬ ১৯:২৬
সিলেটে দুই ওলি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে কাজ শুরুর আলোচিত ঘটনার মধ্যে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সিলেট জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে বর্তমান পদ থেকে প্রত্যাহারপূর্বক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘উপসচিব (সংযুক্ত)’ পদে বদলিপূর্বক পদায়ন করা হলো।
জনস্বার্থে জারীকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন এক সময় মো. সারওয়ার আলমের বদলির আদেশ এলো, যখন সিলেটে দুই ওলির মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে জেলা প্রশাসনের নানা পদক্ষেপ দেশ-বিদেশে আলোচিত হচ্ছে। এমন পদক্ষেপের পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
বেশির ভাগ মানুষ প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। এ রকম সময় এমন সিদ্ধান্ত নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ১২ জুন শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শনে যান সিলেটে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সেদিনই দরগাহের দানবাক্সগুলোতে তালা দেওয়া হয়।
এরপর ১৮ জুন বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ডেগ সিলগালা করা হয়। পাশাপাশি নতুন দানবাক্স স্থাপন করে নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্যও নিয়োজিত করা হয়।
এর এক দিন পর ২০ জুন শনিবার বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজার প্রাঙ্গণে দান বাক্সের ওপরে ও ডেগে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।
এর আগের দিন ১৯ জুন শুক্রবার জুমার নামাজের আগে শাহপরান (রহ.) মাজার পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এ সময় তিনি শাহপরান (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাজার এলাকায় মদ ও গাঁজার আসর বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
যদিও জেলা প্রশাসনের এসব উদ্যোগকে বাড়াবাড়ি ও জোরজবরদস্তি আখ্যায়িত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাজারসংশ্লিষ্টরা। এ রকম পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের বদলির আদেশ নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

২১ জুন, ২০২৬ ১৭:০১
সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু সই করা এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গত বছরের ২১ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেছিলেন সারওয়ার আলম। মাজারগুলোতে যেন মদ-গাঁজার আসর না বসে: সিলেটের ডিসি সারওয়ার
২৭তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আলোচিত ছিলেন। সিনিয়র সহকারী সচিব পদে থাকাকালীন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিন শতাধিক ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে ব্যাপক প্রশংসিত ছিলেন তিনি। ভেজাল, অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আলোচিত এবং মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
হঠাৎ ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়।তিনবার বঞ্চিত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট উপসচিব পদে পদোন্নতি পান তিনি। এর আগে তিনি বঞ্চিত হলে নিজের ক্ষোভ জানিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন।
স্ট্যাটাস দেওয়ার বিষয়টিকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে ‘তিরস্কার’র শাস্তি দেয়। ২০২২ সালের মে মাসে তাকে শাস্তি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সাইফুল ইসলাম (২২) নামের এক ছাত্রশিবির কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় সালাউদ্দিন নামের আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার (২১ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত সাইফুল ইসলাম বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং শিমুল তাইড় গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে বাটি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে মুকুলের কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। ওই সময় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল ইসলাম ও সালাউদ্দিন সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে এমন আচরণের প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মুকুল, তার সহোদর ভাই পলাশ এবং জনৈক আশরাফ ধারালো ছুরি দিয়ে সাইফুল ও সালাউদ্দিনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় সালাউদ্দিনকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
সিলেটে দুই ওলি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে কাজ শুরুর আলোচিত ঘটনার মধ্যে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সিলেট জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে বর্তমান পদ থেকে প্রত্যাহারপূর্বক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘উপসচিব (সংযুক্ত)’ পদে বদলিপূর্বক পদায়ন করা হলো।
জনস্বার্থে জারীকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন এক সময় মো. সারওয়ার আলমের বদলির আদেশ এলো, যখন সিলেটে দুই ওলির মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে জেলা প্রশাসনের নানা পদক্ষেপ দেশ-বিদেশে আলোচিত হচ্ছে। এমন পদক্ষেপের পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
বেশির ভাগ মানুষ প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। এ রকম সময় এমন সিদ্ধান্ত নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ১২ জুন শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শনে যান সিলেটে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সেদিনই দরগাহের দানবাক্সগুলোতে তালা দেওয়া হয়।
এরপর ১৮ জুন বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ডেগ সিলগালা করা হয়। পাশাপাশি নতুন দানবাক্স স্থাপন করে নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্যও নিয়োজিত করা হয়।
এর এক দিন পর ২০ জুন শনিবার বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজার প্রাঙ্গণে দান বাক্সের ওপরে ও ডেগে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।
এর আগের দিন ১৯ জুন শুক্রবার জুমার নামাজের আগে শাহপরান (রহ.) মাজার পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এ সময় তিনি শাহপরান (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাজার এলাকায় মদ ও গাঁজার আসর বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
যদিও জেলা প্রশাসনের এসব উদ্যোগকে বাড়াবাড়ি ও জোরজবরদস্তি আখ্যায়িত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাজারসংশ্লিষ্টরা। এ রকম পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের বদলির আদেশ নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু সই করা এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গত বছরের ২১ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেছিলেন সারওয়ার আলম। মাজারগুলোতে যেন মদ-গাঁজার আসর না বসে: সিলেটের ডিসি সারওয়ার
২৭তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আলোচিত ছিলেন। সিনিয়র সহকারী সচিব পদে থাকাকালীন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিন শতাধিক ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে ব্যাপক প্রশংসিত ছিলেন তিনি। ভেজাল, অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আলোচিত এবং মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
হঠাৎ ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়।তিনবার বঞ্চিত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট উপসচিব পদে পদোন্নতি পান তিনি। এর আগে তিনি বঞ্চিত হলে নিজের ক্ষোভ জানিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন।
স্ট্যাটাস দেওয়ার বিষয়টিকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে ‘তিরস্কার’র শাস্তি দেয়। ২০২২ সালের মে মাসে তাকে শাস্তি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
২২ জুন, ২০২৬ ০১:০১
২১ জুন, ২০২৬ ২৩:২৯
২১ জুন, ২০২৬ ১৯:৫১
২১ জুন, ২০২৬ ১৯:২৬