বরিশালের ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ঘোষিত সদ্য কমিটি নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই কমিটিতে স্বৈরাচারের দোসর ছাত্রলীগসহ অনেক অছাত্র স্থান পাওয়ায় পদবঞ্চিত একটি বৃহৎ অংশ সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে, যা নিয়ে নেতিবাচক লেখালেখিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুদিন ধরে তোলপাড় চলছে। পাশাপাশি পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের ফেসবুকে তীর্যক মন্তব্যে তীব্র অসন্তোস এবং ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে।
বঞ্চিত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নবগঠিত কমিটির অনেকে আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে আবার কেউ জাতীয় পার্টির ছাত্রসংগঠন ছাত্রসমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। অনেকের আবার ছাত্রত্বও নেই। কিন্তু তারপরেও তাদের ছাত্রদলের কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছে, যা তামাশার সামিল।
এর আগে গত শুক্রবার রাতে বরিশাল সদর ব্যতিত ৯টি উপজেলার ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি ঘোষণা করে বরিশাল জেলা ছাত্রদল। জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারেক আল ইমরান এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম ইমরান এই কমিটি অনুমোদন করেন। মূলত এ কমিটির অনুলিপি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেই ফেসবুককে ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়।
অভিযোগ আছে, বাবুগঞ্জ সরকারি আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সভাপতি মল্লিক সাকিব, তিনি উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়ন ছাত্রসমাজের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। এমনকি স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাথে তার ব্যাপক সখ্যতাও ছিল, যা নিয়ে ফেসবুকে দুদিন ধরে নেতিবাচক লেখালেখি হচ্ছে। এই অভিযোগ করেছেন বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ। তিনি রূপালী বাংলাদেশকে জানান, কমিটি ঘোষণার আগে কেন্দ্রীয় নেতারা বাবুগঞ্জে কর্মিসভা করেছেন। সেখানে সাকিবের সাথে জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগের জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু এরপরেও সেই বিতর্কিত ব্যক্তিকেই সভাপতি করা হয়েছে। ফলে ত্যাগিরা উপেক্ষিত রয়েছেন এবং তাদের যথার্থ মূল্যায়ন করা হয়নি।
আত্মপক্ষ সমর্থনে সভাপতি সাকিব বলছেন, কেন্দ্রীয় নেতারা যাচাই-বাছাই করেই তাকে পদ দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। ছাত্রদল নেতার দাবি, কোরামভিত্তিক জটিলতার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মুলাদী উপজেলার চরকালেখান আদর্শ ডিগ্রি কলেজের নতুন কমিটির সহ-সভাপতি আল-আমিনের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের পদে থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ ওই কলেজের ছাত্র নন বলে জানা গেছে, যা নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনা করছেন স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
চরকালেখান ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব হোসেন রূপালী বাংলাদেশের কাছে অভিযোগ করেন, কমিটিতে ত্যাগিদের রাখা হয়নি। এবং সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন, এমনকি তার ছাত্রত্বও নেই।
তবে আল-আমিন বলছেন, ‘তিনি ছাত্রদল করে অনেক নিপিড়নের শিকার হয়েছেন এবং আন্দোলন করতে গিয়ে একাধিক মামলার আসামিও হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সমূলে মিথ্যে বলে দাবি করেন আল আমিন।
চরকালেখান আদর্শ ডিগ্রি কলেজে নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক হয়েছে জানিয়ে মুলাদী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন ঢালী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, কমিটির এই দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ করতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, গৌরনদী উপজেলার কাশেমাবাদ সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসার ছাত্রদলের কমিটিতে প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রবিউল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, গৌরনদীর আওয়ামী লীগের নেতা হারিছুর রহমান হারিছের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। কমিটিতে তিনি স্থান পাওয়া নিয়ে সমালোচনা চলছে। এছাড়া জেলার হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ, উজিরপুর এবং বানারীপাড়ার বিভিন্ন কলেজের নতুন কমিটি নিয়েও একই ধরনের বিতর্ক চলমান রয়েছে।
পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বরিশালে কমিটি ঘোষিত ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৮, মেহেন্দিগঞ্জের ৯, হিজলার ৪, বানারীপাড়ার ৫, উজিরপুরের ৭, বাবুগঞ্জের ৪, মুলাদীর ৯, গৌরনদীর ৫ ও আগৈলঝাড়ার ৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটিতেই স্বৈরাচারের দোসর এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে। কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রে স্ব-স্ব উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর থাকার কথা থাকলেও সেখানে জেলার নেতাদের নাম দেখা যাচ্ছে। ফলে এখানে গঠনতন্ত্র উপেক্ষিত রয়েছে, এই বিষয়টি অনেকেই সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না। তবে কমিটিতে নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতাদের কোনো হস্তক্ষেপ নেই বলে দাবি করেছেন সভাপতি তারেক আল ইমরান এবং সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম ইমরান।
নেতাদ্বয় রূপালী বাংলাদেশকে জানান, পক্ষকালের বেশি সময় ধরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রিয়াদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল এবং মো. আরিফুল ইসলাম বরিশালে অবস্থান করেন এবং তারাই সকলের কাছ থেকে সিভি সংগ্রহ করেছেন। এমনকি বরিশাল বিএনপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের ডেকে সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উপজেলার নেতাদের সাথে সমন্বয় করে কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের নেতৃত্ব চূড়ান্ত করেছেন। বলা যায়, সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে স্বচ্ছতার সাথে, যেখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।
কমিটি যদি স্বচ্ছতার সাথে দেওয়া হয় তাহলে এত বিতর্ক কেনো, এমন প্রশ্নে উত্তরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা আরিফুর রহমান জানান, এক সঙ্গে এতগুলো কমিটি ঘোষণার অতীত উদাহরণ নেই বললেই চলে। ৭০০ কর্মীকে এক সাথে ছাত্রদলের পরিচয় দেওয়া হয়েছে, অনেকে বাদ পড়েছেন। তারাই সম্ভবত ক্ষুব্ধ হয়ে ফেসবুকে নেতিবাচক পোস্ট করে চলছেন। কিন্তু কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কোনো রূপ স্বজনপ্রীতি বা অনিয়ম করা হয়নি।’
ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে তুমুল বিতর্ক
স্থান পেয়েছেন ছাত্রলীগ-ছাত্রসমাজের নেতাকর্মীরাসহ বিতর্কিতরাও
বরিশালের ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ঘোষিত সদ্য কমিটি নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই কমিটিতে স্বৈরাচারের দোসর ছাত্রলীগসহ অনেক অছাত্র স্থান পাওয়ায় পদবঞ্চিত একটি বৃহৎ অংশ সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে, যা নিয়ে নেতিবাচক লেখালেখিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুদিন ধরে তোলপাড় চলছে। পাশাপাশি পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের ফেসবুকে তীর্যক মন্তব্যে তীব্র অসন্তোস এবং ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে।
বঞ্চিত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নবগঠিত কমিটির অনেকে আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে আবার কেউ জাতীয় পার্টির ছাত্রসংগঠন ছাত্রসমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। অনেকের আবার ছাত্রত্বও নেই। কিন্তু তারপরেও তাদের ছাত্রদলের কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছে, যা তামাশার সামিল।
এর আগে গত শুক্রবার রাতে বরিশাল সদর ব্যতিত ৯টি উপজেলার ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি ঘোষণা করে বরিশাল জেলা ছাত্রদল। জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারেক আল ইমরান এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম ইমরান এই কমিটি অনুমোদন করেন। মূলত এ কমিটির অনুলিপি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেই ফেসবুককে ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়।
অভিযোগ আছে, বাবুগঞ্জ সরকারি আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সভাপতি মল্লিক সাকিব, তিনি উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়ন ছাত্রসমাজের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। এমনকি স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাথে তার ব্যাপক সখ্যতাও ছিল, যা নিয়ে ফেসবুকে দুদিন ধরে নেতিবাচক লেখালেখি হচ্ছে। এই অভিযোগ করেছেন বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ। তিনি রূপালী বাংলাদেশকে জানান, কমিটি ঘোষণার আগে কেন্দ্রীয় নেতারা বাবুগঞ্জে কর্মিসভা করেছেন। সেখানে সাকিবের সাথে জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগের জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু এরপরেও সেই বিতর্কিত ব্যক্তিকেই সভাপতি করা হয়েছে। ফলে ত্যাগিরা উপেক্ষিত রয়েছেন এবং তাদের যথার্থ মূল্যায়ন করা হয়নি।
আত্মপক্ষ সমর্থনে সভাপতি সাকিব বলছেন, কেন্দ্রীয় নেতারা যাচাই-বাছাই করেই তাকে পদ দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। ছাত্রদল নেতার দাবি, কোরামভিত্তিক জটিলতার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মুলাদী উপজেলার চরকালেখান আদর্শ ডিগ্রি কলেজের নতুন কমিটির সহ-সভাপতি আল-আমিনের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের পদে থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ ওই কলেজের ছাত্র নন বলে জানা গেছে, যা নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনা করছেন স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
চরকালেখান ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব হোসেন রূপালী বাংলাদেশের কাছে অভিযোগ করেন, কমিটিতে ত্যাগিদের রাখা হয়নি। এবং সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন, এমনকি তার ছাত্রত্বও নেই।
তবে আল-আমিন বলছেন, ‘তিনি ছাত্রদল করে অনেক নিপিড়নের শিকার হয়েছেন এবং আন্দোলন করতে গিয়ে একাধিক মামলার আসামিও হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সমূলে মিথ্যে বলে দাবি করেন আল আমিন।
চরকালেখান আদর্শ ডিগ্রি কলেজে নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক হয়েছে জানিয়ে মুলাদী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন ঢালী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, কমিটির এই দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ করতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, গৌরনদী উপজেলার কাশেমাবাদ সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসার ছাত্রদলের কমিটিতে প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রবিউল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, গৌরনদীর আওয়ামী লীগের নেতা হারিছুর রহমান হারিছের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। কমিটিতে তিনি স্থান পাওয়া নিয়ে সমালোচনা চলছে। এছাড়া জেলার হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ, উজিরপুর এবং বানারীপাড়ার বিভিন্ন কলেজের নতুন কমিটি নিয়েও একই ধরনের বিতর্ক চলমান রয়েছে।
পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বরিশালে কমিটি ঘোষিত ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৮, মেহেন্দিগঞ্জের ৯, হিজলার ৪, বানারীপাড়ার ৫, উজিরপুরের ৭, বাবুগঞ্জের ৪, মুলাদীর ৯, গৌরনদীর ৫ ও আগৈলঝাড়ার ৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটিতেই স্বৈরাচারের দোসর এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে। কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রে স্ব-স্ব উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর থাকার কথা থাকলেও সেখানে জেলার নেতাদের নাম দেখা যাচ্ছে। ফলে এখানে গঠনতন্ত্র উপেক্ষিত রয়েছে, এই বিষয়টি অনেকেই সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না। তবে কমিটিতে নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতাদের কোনো হস্তক্ষেপ নেই বলে দাবি করেছেন সভাপতি তারেক আল ইমরান এবং সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম ইমরান।
নেতাদ্বয় রূপালী বাংলাদেশকে জানান, পক্ষকালের বেশি সময় ধরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রিয়াদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল এবং মো. আরিফুল ইসলাম বরিশালে অবস্থান করেন এবং তারাই সকলের কাছ থেকে সিভি সংগ্রহ করেছেন। এমনকি বরিশাল বিএনপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের ডেকে সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উপজেলার নেতাদের সাথে সমন্বয় করে কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের নেতৃত্ব চূড়ান্ত করেছেন। বলা যায়, সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে স্বচ্ছতার সাথে, যেখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।
কমিটি যদি স্বচ্ছতার সাথে দেওয়া হয় তাহলে এত বিতর্ক কেনো, এমন প্রশ্নে উত্তরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা আরিফুর রহমান জানান, এক সঙ্গে এতগুলো কমিটি ঘোষণার অতীত উদাহরণ নেই বললেই চলে। ৭০০ কর্মীকে এক সাথে ছাত্রদলের পরিচয় দেওয়া হয়েছে, অনেকে বাদ পড়েছেন। তারাই সম্ভবত ক্ষুব্ধ হয়ে ফেসবুকে নেতিবাচক পোস্ট করে চলছেন। কিন্তু কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কোনো রূপ স্বজনপ্রীতি বা অনিয়ম করা হয়নি।’

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪৮
বরিশালের উজিরপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে এক শয্যাশায়ী ব্যক্তির বসতঘর থেকে চিকিৎসার জন্য রাখা ১৫ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গৌরনদী সার্কেলের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে গত এক মাসে দুই দফায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত বিলাঞ্চল ওড়াবাশবাড়ি গ্রামের কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযানে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন সাদা পোশাকে আসা ডিএনসি সদস্যরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী কামরুজ্জামান কালুর চিকিৎসার জন্য বালিশের নিচে ১৫ হাজার টাকা রাখা ছিল। ঘরে তল্লাশির সময় ওই টাকা নিয়ে যান অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করেছেন কালুর স্ত্রী সুখী বেগম।
সুখী বেগমের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে ফাইজুল ইসলাম ও হৃদয়সহ চার থেকে পাঁচজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে আসেন। শুরুতে নিজেদের পরিচয় না দিয়ে তাঁর স্বামীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন তাঁরা।
সুখী বেগম বলেন, অভিযানে আসা ব্যক্তিরা তাঁকে বলেন, তাঁর স্বামী মাদক সেবন ছেড়ে দিলেও ডোপ টেস্টের মাধ্যমে আগের মাদক সেবনের বিষয়টি বের করে মামলা দেওয়া হবে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁর ও মেয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন বাড়িতে জড়ো হন। পরে গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেনকে খবর দেওয়া হয়। তাঁর উপস্থিতিতে বসতঘরে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি বলে জানান স্থানীয়রা।
সুখী বেগমের অভিযোগ, তল্লাশির একপর্যায়ে বালিশের নিচে রাখা চিকিৎসার ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, স্বামী কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। অথচ তাঁকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএনসি গৌরনদী সার্কেলের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার। তাঁর নেতৃত্বে অভিযানে রুবেল হোসেন, ফয়সাল হোসেনসহ কয়েকজন সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।
ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা যায়নি। এটি তাঁদের একটি ‘নিষ্ফল অভিযান’ ছিল।
তবে তল্লাশির সময় টাকা চুরি এবং এর আগে দুই দফায় টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেন বলেন, সাদা পোশাকে ডিএনসি কর্মকর্তারা কালুর বাড়িতে এসেছিলেন। স্থানীয়দের ফোন পেয়ে তিনি সেখানে যান। তবে বাড়ি থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তানভীর হোসেন খান বলেন, গৌরনদী সার্কেল থেকে সকালে একটি অভিযান পরিচালনার তথ্য তাঁর জানা আছে। তবে সেটি উজিরপুরে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নন।
টাকা চুরি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাবেন। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসআই ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার দীর্ঘ সাত বছর ধরে গৌরনদী সার্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন। একই স্টেশনে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগে তিনি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরা মাদকবিরোধী অভিযানের নামে আগৈলঝাড়া ও উজিরপুরের প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য জমানো টাকা হারানোর অভিযোগ তুলে সুখী বেগম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের বিষয়ে ডিএনসি কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং তদন্তে কী উঠে আসে।
বরিশালের উজিরপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে এক শয্যাশায়ী ব্যক্তির বসতঘর থেকে চিকিৎসার জন্য রাখা ১৫ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গৌরনদী সার্কেলের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে গত এক মাসে দুই দফায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত বিলাঞ্চল ওড়াবাশবাড়ি গ্রামের কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযানে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন সাদা পোশাকে আসা ডিএনসি সদস্যরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী কামরুজ্জামান কালুর চিকিৎসার জন্য বালিশের নিচে ১৫ হাজার টাকা রাখা ছিল। ঘরে তল্লাশির সময় ওই টাকা নিয়ে যান অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করেছেন কালুর স্ত্রী সুখী বেগম।
সুখী বেগমের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে ফাইজুল ইসলাম ও হৃদয়সহ চার থেকে পাঁচজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে আসেন। শুরুতে নিজেদের পরিচয় না দিয়ে তাঁর স্বামীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন তাঁরা।
সুখী বেগম বলেন, অভিযানে আসা ব্যক্তিরা তাঁকে বলেন, তাঁর স্বামী মাদক সেবন ছেড়ে দিলেও ডোপ টেস্টের মাধ্যমে আগের মাদক সেবনের বিষয়টি বের করে মামলা দেওয়া হবে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁর ও মেয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন বাড়িতে জড়ো হন। পরে গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেনকে খবর দেওয়া হয়। তাঁর উপস্থিতিতে বসতঘরে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি বলে জানান স্থানীয়রা।
সুখী বেগমের অভিযোগ, তল্লাশির একপর্যায়ে বালিশের নিচে রাখা চিকিৎসার ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, স্বামী কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। অথচ তাঁকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএনসি গৌরনদী সার্কেলের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার। তাঁর নেতৃত্বে অভিযানে রুবেল হোসেন, ফয়সাল হোসেনসহ কয়েকজন সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।
ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা যায়নি। এটি তাঁদের একটি ‘নিষ্ফল অভিযান’ ছিল।
তবে তল্লাশির সময় টাকা চুরি এবং এর আগে দুই দফায় টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেন বলেন, সাদা পোশাকে ডিএনসি কর্মকর্তারা কালুর বাড়িতে এসেছিলেন। স্থানীয়দের ফোন পেয়ে তিনি সেখানে যান। তবে বাড়ি থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তানভীর হোসেন খান বলেন, গৌরনদী সার্কেল থেকে সকালে একটি অভিযান পরিচালনার তথ্য তাঁর জানা আছে। তবে সেটি উজিরপুরে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নন।
টাকা চুরি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাবেন। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসআই ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার দীর্ঘ সাত বছর ধরে গৌরনদী সার্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন। একই স্টেশনে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগে তিনি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরা মাদকবিরোধী অভিযানের নামে আগৈলঝাড়া ও উজিরপুরের প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য জমানো টাকা হারানোর অভিযোগ তুলে সুখী বেগম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের বিষয়ে ডিএনসি কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং তদন্তে কী উঠে আসে।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:১১
বরিশালের বানারীপাড়ায় নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই শ্রমিক। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এসএস প্রি-ক্যাডেট স্কুলসংলগ্ন ব্যবসায়ী রিয়াজ হোসেনের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে জামাল হোসেন (৫০) এবং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চুন্নু মিয়ার ছেলে মো. সোহাগ (৪২)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সৃষ্টি শিক্ষা একাডেমির শিক্ষক জাকির হোসেন জানান, দুপুরে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের বাঁশ খুলতে গিয়ে দুই শ্রমিক ভেতরে পড়ে যান। ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির কারণে তাঁরা বিপদে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, বেলা পৌনে ১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শ্রমিককে ট্যাংকের ভেতরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষাক্ত গ্যাসের কারণে প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে অক্সিজেন ব্যবহার করে গ্যাস অপসারণের পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
পরে তাঁদের বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, সেপটিক ট্যাংকে সেন্টারিংয়ের কাজ করার সময় দুই শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লুৎফুর আজিজের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
বরিশালের বানারীপাড়ায় নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই শ্রমিক। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এসএস প্রি-ক্যাডেট স্কুলসংলগ্ন ব্যবসায়ী রিয়াজ হোসেনের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে জামাল হোসেন (৫০) এবং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চুন্নু মিয়ার ছেলে মো. সোহাগ (৪২)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সৃষ্টি শিক্ষা একাডেমির শিক্ষক জাকির হোসেন জানান, দুপুরে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের বাঁশ খুলতে গিয়ে দুই শ্রমিক ভেতরে পড়ে যান। ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির কারণে তাঁরা বিপদে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, বেলা পৌনে ১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শ্রমিককে ট্যাংকের ভেতরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষাক্ত গ্যাসের কারণে প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে অক্সিজেন ব্যবহার করে গ্যাস অপসারণের পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
পরে তাঁদের বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, সেপটিক ট্যাংকে সেন্টারিংয়ের কাজ করার সময় দুই শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লুৎফুর আজিজের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১৭
কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটকবাহী একটি বাস বরগুনার আমতলীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়েছে। এতে অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত ৪ থেকে ৫ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বরগুনার আমতলী উপজেলার বান্দ্রা বাজার এলাকায় বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ইমরান পরিবহনের বাসটি বুধবার রাতে ঢাকা থেকে পর্যটক ও অন্যান্য যাত্রী নিয়ে কুয়াকাটার উদ্দেশে রওনা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগে একটি বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের আমতলী ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত ৪ থেকে ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. মাহবুবুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। বাসটির বেশির ভাগ যাত্রীই কুয়াকাটার পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন, বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগের একটি স্টপেজে বাসের চালক নেমে যান। এরপর বাসটি চালাচ্ছিলেন তাঁর সহকারী (হেলপার)। সড়কের একটি বাঁক ঘোরার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বাসের চালক ও সহকারী পলাতক থাকায় তাঁদের আটক করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটকবাহী একটি বাস বরগুনার আমতলীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়েছে। এতে অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত ৪ থেকে ৫ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বরগুনার আমতলী উপজেলার বান্দ্রা বাজার এলাকায় বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ইমরান পরিবহনের বাসটি বুধবার রাতে ঢাকা থেকে পর্যটক ও অন্যান্য যাত্রী নিয়ে কুয়াকাটার উদ্দেশে রওনা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগে একটি বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের আমতলী ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত ৪ থেকে ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. মাহবুবুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। বাসটির বেশির ভাগ যাত্রীই কুয়াকাটার পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন, বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগের একটি স্টপেজে বাসের চালক নেমে যান। এরপর বাসটি চালাচ্ছিলেন তাঁর সহকারী (হেলপার)। সড়কের একটি বাঁক ঘোরার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বাসের চালক ও সহকারী পলাতক থাকায় তাঁদের আটক করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

০১ জুন, ২০২৫ ১০:১৮
বরিশালের ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ঘোষিত সদ্য কমিটি নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই কমিটিতে স্বৈরাচারের দোসর ছাত্রলীগসহ অনেক অছাত্র স্থান পাওয়ায় পদবঞ্চিত একটি বৃহৎ অংশ সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে, যা নিয়ে নেতিবাচক লেখালেখিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুদিন ধরে তোলপাড় চলছে। পাশাপাশি পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের ফেসবুকে তীর্যক মন্তব্যে তীব্র অসন্তোস এবং ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে।
বঞ্চিত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নবগঠিত কমিটির অনেকে আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে আবার কেউ জাতীয় পার্টির ছাত্রসংগঠন ছাত্রসমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। অনেকের আবার ছাত্রত্বও নেই। কিন্তু তারপরেও তাদের ছাত্রদলের কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছে, যা তামাশার সামিল।
এর আগে গত শুক্রবার রাতে বরিশাল সদর ব্যতিত ৯টি উপজেলার ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি ঘোষণা করে বরিশাল জেলা ছাত্রদল। জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারেক আল ইমরান এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম ইমরান এই কমিটি অনুমোদন করেন। মূলত এ কমিটির অনুলিপি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেই ফেসবুককে ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়।
অভিযোগ আছে, বাবুগঞ্জ সরকারি আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সভাপতি মল্লিক সাকিব, তিনি উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়ন ছাত্রসমাজের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। এমনকি স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাথে তার ব্যাপক সখ্যতাও ছিল, যা নিয়ে ফেসবুকে দুদিন ধরে নেতিবাচক লেখালেখি হচ্ছে। এই অভিযোগ করেছেন বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ। তিনি রূপালী বাংলাদেশকে জানান, কমিটি ঘোষণার আগে কেন্দ্রীয় নেতারা বাবুগঞ্জে কর্মিসভা করেছেন। সেখানে সাকিবের সাথে জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগের জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু এরপরেও সেই বিতর্কিত ব্যক্তিকেই সভাপতি করা হয়েছে। ফলে ত্যাগিরা উপেক্ষিত রয়েছেন এবং তাদের যথার্থ মূল্যায়ন করা হয়নি।
আত্মপক্ষ সমর্থনে সভাপতি সাকিব বলছেন, কেন্দ্রীয় নেতারা যাচাই-বাছাই করেই তাকে পদ দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। ছাত্রদল নেতার দাবি, কোরামভিত্তিক জটিলতার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মুলাদী উপজেলার চরকালেখান আদর্শ ডিগ্রি কলেজের নতুন কমিটির সহ-সভাপতি আল-আমিনের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের পদে থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ ওই কলেজের ছাত্র নন বলে জানা গেছে, যা নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনা করছেন স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
চরকালেখান ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব হোসেন রূপালী বাংলাদেশের কাছে অভিযোগ করেন, কমিটিতে ত্যাগিদের রাখা হয়নি। এবং সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন, এমনকি তার ছাত্রত্বও নেই।
তবে আল-আমিন বলছেন, ‘তিনি ছাত্রদল করে অনেক নিপিড়নের শিকার হয়েছেন এবং আন্দোলন করতে গিয়ে একাধিক মামলার আসামিও হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সমূলে মিথ্যে বলে দাবি করেন আল আমিন।
চরকালেখান আদর্শ ডিগ্রি কলেজে নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক হয়েছে জানিয়ে মুলাদী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন ঢালী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, কমিটির এই দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ করতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, গৌরনদী উপজেলার কাশেমাবাদ সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসার ছাত্রদলের কমিটিতে প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রবিউল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, গৌরনদীর আওয়ামী লীগের নেতা হারিছুর রহমান হারিছের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। কমিটিতে তিনি স্থান পাওয়া নিয়ে সমালোচনা চলছে। এছাড়া জেলার হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ, উজিরপুর এবং বানারীপাড়ার বিভিন্ন কলেজের নতুন কমিটি নিয়েও একই ধরনের বিতর্ক চলমান রয়েছে।
পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বরিশালে কমিটি ঘোষিত ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৮, মেহেন্দিগঞ্জের ৯, হিজলার ৪, বানারীপাড়ার ৫, উজিরপুরের ৭, বাবুগঞ্জের ৪, মুলাদীর ৯, গৌরনদীর ৫ ও আগৈলঝাড়ার ৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটিতেই স্বৈরাচারের দোসর এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে। কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রে স্ব-স্ব উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর থাকার কথা থাকলেও সেখানে জেলার নেতাদের নাম দেখা যাচ্ছে। ফলে এখানে গঠনতন্ত্র উপেক্ষিত রয়েছে, এই বিষয়টি অনেকেই সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না। তবে কমিটিতে নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতাদের কোনো হস্তক্ষেপ নেই বলে দাবি করেছেন সভাপতি তারেক আল ইমরান এবং সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম ইমরান।
নেতাদ্বয় রূপালী বাংলাদেশকে জানান, পক্ষকালের বেশি সময় ধরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রিয়াদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল এবং মো. আরিফুল ইসলাম বরিশালে অবস্থান করেন এবং তারাই সকলের কাছ থেকে সিভি সংগ্রহ করেছেন। এমনকি বরিশাল বিএনপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের ডেকে সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উপজেলার নেতাদের সাথে সমন্বয় করে কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের নেতৃত্ব চূড়ান্ত করেছেন। বলা যায়, সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে স্বচ্ছতার সাথে, যেখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।
কমিটি যদি স্বচ্ছতার সাথে দেওয়া হয় তাহলে এত বিতর্ক কেনো, এমন প্রশ্নে উত্তরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা আরিফুর রহমান জানান, এক সঙ্গে এতগুলো কমিটি ঘোষণার অতীত উদাহরণ নেই বললেই চলে। ৭০০ কর্মীকে এক সাথে ছাত্রদলের পরিচয় দেওয়া হয়েছে, অনেকে বাদ পড়েছেন। তারাই সম্ভবত ক্ষুব্ধ হয়ে ফেসবুকে নেতিবাচক পোস্ট করে চলছেন। কিন্তু কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কোনো রূপ স্বজনপ্রীতি বা অনিয়ম করা হয়নি।’
ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে তুমুল বিতর্ক
স্থান পেয়েছেন ছাত্রলীগ-ছাত্রসমাজের নেতাকর্মীরাসহ বিতর্কিতরাও
বরিশালের ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ঘোষিত সদ্য কমিটি নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই কমিটিতে স্বৈরাচারের দোসর ছাত্রলীগসহ অনেক অছাত্র স্থান পাওয়ায় পদবঞ্চিত একটি বৃহৎ অংশ সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে, যা নিয়ে নেতিবাচক লেখালেখিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুদিন ধরে তোলপাড় চলছে। পাশাপাশি পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের ফেসবুকে তীর্যক মন্তব্যে তীব্র অসন্তোস এবং ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে।
বঞ্চিত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নবগঠিত কমিটির অনেকে আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে আবার কেউ জাতীয় পার্টির ছাত্রসংগঠন ছাত্রসমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। অনেকের আবার ছাত্রত্বও নেই। কিন্তু তারপরেও তাদের ছাত্রদলের কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছে, যা তামাশার সামিল।
এর আগে গত শুক্রবার রাতে বরিশাল সদর ব্যতিত ৯টি উপজেলার ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি ঘোষণা করে বরিশাল জেলা ছাত্রদল। জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারেক আল ইমরান এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম ইমরান এই কমিটি অনুমোদন করেন। মূলত এ কমিটির অনুলিপি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেই ফেসবুককে ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়।
অভিযোগ আছে, বাবুগঞ্জ সরকারি আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সভাপতি মল্লিক সাকিব, তিনি উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়ন ছাত্রসমাজের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। এমনকি স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাথে তার ব্যাপক সখ্যতাও ছিল, যা নিয়ে ফেসবুকে দুদিন ধরে নেতিবাচক লেখালেখি হচ্ছে। এই অভিযোগ করেছেন বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ। তিনি রূপালী বাংলাদেশকে জানান, কমিটি ঘোষণার আগে কেন্দ্রীয় নেতারা বাবুগঞ্জে কর্মিসভা করেছেন। সেখানে সাকিবের সাথে জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগের জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু এরপরেও সেই বিতর্কিত ব্যক্তিকেই সভাপতি করা হয়েছে। ফলে ত্যাগিরা উপেক্ষিত রয়েছেন এবং তাদের যথার্থ মূল্যায়ন করা হয়নি।
আত্মপক্ষ সমর্থনে সভাপতি সাকিব বলছেন, কেন্দ্রীয় নেতারা যাচাই-বাছাই করেই তাকে পদ দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। ছাত্রদল নেতার দাবি, কোরামভিত্তিক জটিলতার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মুলাদী উপজেলার চরকালেখান আদর্শ ডিগ্রি কলেজের নতুন কমিটির সহ-সভাপতি আল-আমিনের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের পদে থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ ওই কলেজের ছাত্র নন বলে জানা গেছে, যা নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনা করছেন স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
চরকালেখান ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব হোসেন রূপালী বাংলাদেশের কাছে অভিযোগ করেন, কমিটিতে ত্যাগিদের রাখা হয়নি। এবং সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন, এমনকি তার ছাত্রত্বও নেই।
তবে আল-আমিন বলছেন, ‘তিনি ছাত্রদল করে অনেক নিপিড়নের শিকার হয়েছেন এবং আন্দোলন করতে গিয়ে একাধিক মামলার আসামিও হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সমূলে মিথ্যে বলে দাবি করেন আল আমিন।
চরকালেখান আদর্শ ডিগ্রি কলেজে নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক হয়েছে জানিয়ে মুলাদী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন ঢালী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, কমিটির এই দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ করতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, গৌরনদী উপজেলার কাশেমাবাদ সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসার ছাত্রদলের কমিটিতে প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রবিউল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, গৌরনদীর আওয়ামী লীগের নেতা হারিছুর রহমান হারিছের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। কমিটিতে তিনি স্থান পাওয়া নিয়ে সমালোচনা চলছে। এছাড়া জেলার হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ, উজিরপুর এবং বানারীপাড়ার বিভিন্ন কলেজের নতুন কমিটি নিয়েও একই ধরনের বিতর্ক চলমান রয়েছে।
পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বরিশালে কমিটি ঘোষিত ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৮, মেহেন্দিগঞ্জের ৯, হিজলার ৪, বানারীপাড়ার ৫, উজিরপুরের ৭, বাবুগঞ্জের ৪, মুলাদীর ৯, গৌরনদীর ৫ ও আগৈলঝাড়ার ৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটিতেই স্বৈরাচারের দোসর এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে। কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রে স্ব-স্ব উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর থাকার কথা থাকলেও সেখানে জেলার নেতাদের নাম দেখা যাচ্ছে। ফলে এখানে গঠনতন্ত্র উপেক্ষিত রয়েছে, এই বিষয়টি অনেকেই সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না। তবে কমিটিতে নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতাদের কোনো হস্তক্ষেপ নেই বলে দাবি করেছেন সভাপতি তারেক আল ইমরান এবং সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম ইমরান।
নেতাদ্বয় রূপালী বাংলাদেশকে জানান, পক্ষকালের বেশি সময় ধরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রিয়াদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল এবং মো. আরিফুল ইসলাম বরিশালে অবস্থান করেন এবং তারাই সকলের কাছ থেকে সিভি সংগ্রহ করেছেন। এমনকি বরিশাল বিএনপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের ডেকে সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উপজেলার নেতাদের সাথে সমন্বয় করে কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের নেতৃত্ব চূড়ান্ত করেছেন। বলা যায়, সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে স্বচ্ছতার সাথে, যেখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।
কমিটি যদি স্বচ্ছতার সাথে দেওয়া হয় তাহলে এত বিতর্ক কেনো, এমন প্রশ্নে উত্তরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা আরিফুর রহমান জানান, এক সঙ্গে এতগুলো কমিটি ঘোষণার অতীত উদাহরণ নেই বললেই চলে। ৭০০ কর্মীকে এক সাথে ছাত্রদলের পরিচয় দেওয়া হয়েছে, অনেকে বাদ পড়েছেন। তারাই সম্ভবত ক্ষুব্ধ হয়ে ফেসবুকে নেতিবাচক পোস্ট করে চলছেন। কিন্তু কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কোনো রূপ স্বজনপ্রীতি বা অনিয়ম করা হয়নি।’
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৬
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:১১
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৫৮
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪৮