
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

২৮ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:৩৬
বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরে ভোরের নরম আলো। নদীর বুকজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কুয়াশা, তার ফাঁক দিয়ে ধীরে ধীরে ওঠা সূর্যের রুপালি আভা, সব মিলিয়ে এক অন্যরকম সকাল। এমন ভোরে দূর থেকে ভেসে এলো প্যাডেল স্টিমারের বাঁশির মৃদু সুর, মনে হয় যেন সময় বহু বছর পেছনে ফিরে গেছে। কবি জীবনানন্দ দাশ হয়তো এমনই কোনো সকালের আলো ও হাওয়ায় দাঁড়িয়ে দেখেছিলেন নদীর নীরব সৌন্দর্য।
দীর্ঘ বিরতির পর শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকালেই আবারও চালু হয়েছে বিআইডব্লিউটিসির ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল স্টিমার পিএস মাহসুদ। শতবর্ষী এই স্টিমার শুধু নৌযান নয়—এ দেশের নদীপথ, দক্ষিণাঞ্চলের জীবনযাত্রা এবং জীবনানন্দ দাশের স্মৃতিতে ভরপুর একটি জীবন্ত ইতিহাস। নতুন প্রজন্মের জন্য এটি যেন নদীর বুকে ভাসমান এক সময়-সাক্ষী।
জীবনানন্দ দাশের জীবনে নদীপথ ছিল নীরব সঙ্গী। ১৯১৭ থেকে ১৯৩৫ এই সময়টায় পড়াশোনা, চাকরি ও পারিবারিক প্রয়োজনে তিনি নিয়মিত স্টিমারে বরিশাল-খুলনা-কলকাতা রুটে যাতায়াত করতেন। তখন ট্রেনে বরিশাল যাওয়ার সুযোগ ছিল না; নদীই ছিল একমাত্র পথ। জীবনানন্দ গবেষক হেনরী স্বপন জানান, সেই সময়ের পিএস মাহসুদ, পিএস অস্ট্রিচ, পিএস লেপচা ও পিএস টার্ন—এসব স্টিমারে কবি নিয়মিত ভ্রমণ করতেন। তার লেখায় বারবার ফিরে এসেছে স্টিমারের আলো-অন্ধকার, রাতের নিঃশব্দ হাওয়া, চাকার শব্দ ও নদীর আবহ।
অর্থনৈতিক টানাপড়েনে কবির প্রায় সব ভ্রমণই হতো থার্ড ক্লাসে। কাঠের বেঞ্চ, ভিড়, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ—এসব অভিজ্ঞতা আজকের প্রজন্মের পক্ষে কল্পনা করাও কঠিন। কিন্তু সেই বাস্তবতা কবির কবিতা ও গদ্যের গভীরে জায়গা করে নিয়েছে। নদীর নরম অন্ধকার, স্টিমারের বাঁশির টান—এসব তাঁর সাহিত্যকে দিয়েছে এক বিশেষ আবহ।
আঠারো শতকের শেষ দিকে ব্রিটিশরা এ অঞ্চলে প্রথম প্যাডেল স্টিমার চালু করে। নৌযানের দুই পাশে বিশাল চাকা থাকায় একে চলাচলে ‘রকেট’ বলা হতো। পরে নকশা বদলে চাকা পেছনে নেওয়া হয়। শেষ তিনটি প্যাডেল স্টিমারের চলাচল ২০২২ সালে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়। এক ঈদে বিশেষ ভ্রমণের পর আর চালু হয়নি। মনে হচ্ছিল, এ যুগে এগুলো আর নদীতে ফিরবে না। কিন্তু মানুষের ভালোবাসা ও ইতিহাসের টান শেষ পর্যন্ত এগুলোকে ফের আলোয় এনেছে। পিএস মাহসুদ সংস্কার করে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে—ইঞ্জিন বদলানো, কাঠের ডেক ঠিক করা, চাকা রং করা। তবু স্টিমারের পুরোনো গন্ধ, বাঁশির সুর, কাঠের সিঁড়ির শব্দ—এসব আগের মতোই রাখা হয়েছে। প্রকৌশলীদের মতে, স্টিমারে পা রাখলেই মনে হবে যেন এক সময়-যন্ত্রে চড়ে অন্য যুগে ফিরে যাওয়া।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় শতবর্ষী স্টিমার পিএস মাহসুদের ভাড়া নির্ধারণ করেছে—সুলভ শ্রেণি: ৬০০ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণি: ১,৬৫০ টাকা, প্রথম শ্রেণি: ২,৬০০ টাকা (ভ্যাটসহ)। ঢাকা থেকে চাঁদপুর হয়ে বরিশালের পথে স্টিমারটি শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় যাত্রা শুরু করবে। বরিশালে স্থায়ী ঘাট না থাকায় আপাতত ত্রিশ গোডাউন পন্টুনে ভেড়ানো হবে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে আবার ঢাকার পথে রওনা দেবে। গত সপ্তাহে ভাড়া চূড়ান্ত না হওয়ায় প্রথম যাত্রা বাতিল হয়েছিল। এখনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি ও ফিটনেস সনদ মেলেনি, তবু আজ শুক্রবার থেকেই স্টিমারটি চলাচল শুরু করেছে।
১৯২২ সালে নির্মিত পিএস মাহসুদ শত বছর ধরে নদীপথের ইতিহাস বহন করে আসছে। কিন্তু এর আসল আকর্ষণ বিলাসিতা নয়—তার আত্মা লুকিয়ে আছে স্মৃতিতে। কাঠের ডেকে দাঁড়িয়ে নদীর দিকে তাকালে মনে হয়, এখান দিয়েই হয়তো হেঁটে গিয়েছিলেন জীবনানন্দ; চাঁদের আলো পড়েছিল ঢেউয়ের ভাঁজে, আর নদী নীরবে গল্প বলেছিল তাকে। এই স্টিমার তাই শুধু যাত্রা নয়—নদীর ওপর বয়ে যাওয়া এক অতীতের স্পর্শ।
বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরে ভোরের নরম আলো। নদীর বুকজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কুয়াশা, তার ফাঁক দিয়ে ধীরে ধীরে ওঠা সূর্যের রুপালি আভা, সব মিলিয়ে এক অন্যরকম সকাল। এমন ভোরে দূর থেকে ভেসে এলো প্যাডেল স্টিমারের বাঁশির মৃদু সুর, মনে হয় যেন সময় বহু বছর পেছনে ফিরে গেছে। কবি জীবনানন্দ দাশ হয়তো এমনই কোনো সকালের আলো ও হাওয়ায় দাঁড়িয়ে দেখেছিলেন নদীর নীরব সৌন্দর্য।
দীর্ঘ বিরতির পর শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকালেই আবারও চালু হয়েছে বিআইডব্লিউটিসির ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল স্টিমার পিএস মাহসুদ। শতবর্ষী এই স্টিমার শুধু নৌযান নয়—এ দেশের নদীপথ, দক্ষিণাঞ্চলের জীবনযাত্রা এবং জীবনানন্দ দাশের স্মৃতিতে ভরপুর একটি জীবন্ত ইতিহাস। নতুন প্রজন্মের জন্য এটি যেন নদীর বুকে ভাসমান এক সময়-সাক্ষী।
জীবনানন্দ দাশের জীবনে নদীপথ ছিল নীরব সঙ্গী। ১৯১৭ থেকে ১৯৩৫ এই সময়টায় পড়াশোনা, চাকরি ও পারিবারিক প্রয়োজনে তিনি নিয়মিত স্টিমারে বরিশাল-খুলনা-কলকাতা রুটে যাতায়াত করতেন। তখন ট্রেনে বরিশাল যাওয়ার সুযোগ ছিল না; নদীই ছিল একমাত্র পথ। জীবনানন্দ গবেষক হেনরী স্বপন জানান, সেই সময়ের পিএস মাহসুদ, পিএস অস্ট্রিচ, পিএস লেপচা ও পিএস টার্ন—এসব স্টিমারে কবি নিয়মিত ভ্রমণ করতেন। তার লেখায় বারবার ফিরে এসেছে স্টিমারের আলো-অন্ধকার, রাতের নিঃশব্দ হাওয়া, চাকার শব্দ ও নদীর আবহ।
অর্থনৈতিক টানাপড়েনে কবির প্রায় সব ভ্রমণই হতো থার্ড ক্লাসে। কাঠের বেঞ্চ, ভিড়, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ—এসব অভিজ্ঞতা আজকের প্রজন্মের পক্ষে কল্পনা করাও কঠিন। কিন্তু সেই বাস্তবতা কবির কবিতা ও গদ্যের গভীরে জায়গা করে নিয়েছে। নদীর নরম অন্ধকার, স্টিমারের বাঁশির টান—এসব তাঁর সাহিত্যকে দিয়েছে এক বিশেষ আবহ।
আঠারো শতকের শেষ দিকে ব্রিটিশরা এ অঞ্চলে প্রথম প্যাডেল স্টিমার চালু করে। নৌযানের দুই পাশে বিশাল চাকা থাকায় একে চলাচলে ‘রকেট’ বলা হতো। পরে নকশা বদলে চাকা পেছনে নেওয়া হয়। শেষ তিনটি প্যাডেল স্টিমারের চলাচল ২০২২ সালে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়। এক ঈদে বিশেষ ভ্রমণের পর আর চালু হয়নি। মনে হচ্ছিল, এ যুগে এগুলো আর নদীতে ফিরবে না। কিন্তু মানুষের ভালোবাসা ও ইতিহাসের টান শেষ পর্যন্ত এগুলোকে ফের আলোয় এনেছে। পিএস মাহসুদ সংস্কার করে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে—ইঞ্জিন বদলানো, কাঠের ডেক ঠিক করা, চাকা রং করা। তবু স্টিমারের পুরোনো গন্ধ, বাঁশির সুর, কাঠের সিঁড়ির শব্দ—এসব আগের মতোই রাখা হয়েছে। প্রকৌশলীদের মতে, স্টিমারে পা রাখলেই মনে হবে যেন এক সময়-যন্ত্রে চড়ে অন্য যুগে ফিরে যাওয়া।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় শতবর্ষী স্টিমার পিএস মাহসুদের ভাড়া নির্ধারণ করেছে—সুলভ শ্রেণি: ৬০০ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণি: ১,৬৫০ টাকা, প্রথম শ্রেণি: ২,৬০০ টাকা (ভ্যাটসহ)। ঢাকা থেকে চাঁদপুর হয়ে বরিশালের পথে স্টিমারটি শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় যাত্রা শুরু করবে। বরিশালে স্থায়ী ঘাট না থাকায় আপাতত ত্রিশ গোডাউন পন্টুনে ভেড়ানো হবে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে আবার ঢাকার পথে রওনা দেবে। গত সপ্তাহে ভাড়া চূড়ান্ত না হওয়ায় প্রথম যাত্রা বাতিল হয়েছিল। এখনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি ও ফিটনেস সনদ মেলেনি, তবু আজ শুক্রবার থেকেই স্টিমারটি চলাচল শুরু করেছে।
১৯২২ সালে নির্মিত পিএস মাহসুদ শত বছর ধরে নদীপথের ইতিহাস বহন করে আসছে। কিন্তু এর আসল আকর্ষণ বিলাসিতা নয়—তার আত্মা লুকিয়ে আছে স্মৃতিতে। কাঠের ডেকে দাঁড়িয়ে নদীর দিকে তাকালে মনে হয়, এখান দিয়েই হয়তো হেঁটে গিয়েছিলেন জীবনানন্দ; চাঁদের আলো পড়েছিল ঢেউয়ের ভাঁজে, আর নদী নীরবে গল্প বলেছিল তাকে। এই স্টিমার তাই শুধু যাত্রা নয়—নদীর ওপর বয়ে যাওয়া এক অতীতের স্পর্শ।

২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:৪৩
পাঠদান বন্ধ রেখে বরিশাল-৫ (সদর ও নগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের সঙ্গে ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকেরা মতবিনিময় করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বেলা ১টার দিকে সদর উপজেলা ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে নগরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধুর বটতলা এলাকায় সরোয়ারের বাসভবনে এই মতবিনিময় সভা হয়।
সভায় ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার ইবতেদায়ি শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষকদের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ করার আশ্বাস দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সভায় অংশ নেওয়া একাধিক ইবতেদায়ি মাদ্রাসাশিক্ষক জানান, সমিতির নেতারা তাঁদের দুপুর ১২টার মধ্যে মজিবর রহমান সরোয়ারের বাসার সামনে থাকতে বলেছেন। তাই এ দিন পাঠদান নিতে পারেননি। নেতারা বলেছেন, তাঁদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই সভায় থাকা দরকার।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, ‘ইবতেদায়ি মাদ্রাসা বৈষম্যের শিকার। সরোয়ার ভাই বলেছেন, সরকার গঠন করলে আমাদের দেখবেন। এরপর তিনি ধানের শীষের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।’
মুহাম্মদ মশিউর রহমান আরও বলেন, ‘সদর ও নগরের শতাধিক শিক্ষক মতবিনিময় সভায় ছিলেন। সব সময় বেলা দেড়টায় মাদ্রাসা ছুটি দেওয়া হয়, কিন্তু সভার কারণে আজ ১২টা পর্যন্ত ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।’
জানা গেছে, মাদ্রাসা বোর্ড অনুমোদিত বরিশাল সদর ও নগরের ৩১টি ইবতেদায়ি মাদ্রাসা থেকে ১১০ জন শিক্ষক এই সভায় অংশ নেন। তাঁরা সভায় বঞ্চনার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি ধানের শীষের প্রার্থীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
এ প্রসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন নাইস বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ে এভাবে মতবিনিময় সভা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ধানের শীষের প্রার্থী এর আগে হাতেম আলী কলেজে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পরিবহন বাস দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। আজ আবার ইবতেদায়ি মাদ্রাসা বন্ধ রেখে শিক্ষকদের বাসভবনে এনে মতবিনিময় করে ভোটে প্রভাব ফেলছেন। এসব বিষয় রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারকে মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তিনি তা ধরেননি। বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, ‘শিক্ষকেরা যদি প্রার্থীর কাছে স্বপ্রণোদিত হয়ে আসেন, তাহলে আমাদের কী করার আছে। বিএনপি তো তাঁদের ধরে আনেনি। তবে মাদ্রাসার পাঠদান বন্ধ রেখে যদি শিক্ষকেরা সভায় যোগদান করে থাকেন, তাহলে তাতে প্রশ্ন থেকে যায়।’
বরিশাল রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন বলেন, ‘ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকেরা প্রকৃতপক্ষে শিক্ষকের ব্যানারে ওখানে কোনো কিছু পাওয়ার জন্য গিয়েছেন কি না, তা জানতে হবে।
তাহলে তো এটা অবশ্যই আচরণবিধির লঙ্ঘন। আমরা নির্বাচনী তদন্ত কমিটিতে এ বিষয়ে অভিযোগ পাঠাব। দৈনিকই এমন অভিযোগ আমরা তদন্তে পাঠাই।’
পাঠদান বন্ধ রেখে বরিশাল-৫ (সদর ও নগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের সঙ্গে ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকেরা মতবিনিময় করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বেলা ১টার দিকে সদর উপজেলা ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে নগরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধুর বটতলা এলাকায় সরোয়ারের বাসভবনে এই মতবিনিময় সভা হয়।
সভায় ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার ইবতেদায়ি শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষকদের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ করার আশ্বাস দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সভায় অংশ নেওয়া একাধিক ইবতেদায়ি মাদ্রাসাশিক্ষক জানান, সমিতির নেতারা তাঁদের দুপুর ১২টার মধ্যে মজিবর রহমান সরোয়ারের বাসার সামনে থাকতে বলেছেন। তাই এ দিন পাঠদান নিতে পারেননি। নেতারা বলেছেন, তাঁদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই সভায় থাকা দরকার।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, ‘ইবতেদায়ি মাদ্রাসা বৈষম্যের শিকার। সরোয়ার ভাই বলেছেন, সরকার গঠন করলে আমাদের দেখবেন। এরপর তিনি ধানের শীষের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।’
মুহাম্মদ মশিউর রহমান আরও বলেন, ‘সদর ও নগরের শতাধিক শিক্ষক মতবিনিময় সভায় ছিলেন। সব সময় বেলা দেড়টায় মাদ্রাসা ছুটি দেওয়া হয়, কিন্তু সভার কারণে আজ ১২টা পর্যন্ত ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।’
জানা গেছে, মাদ্রাসা বোর্ড অনুমোদিত বরিশাল সদর ও নগরের ৩১টি ইবতেদায়ি মাদ্রাসা থেকে ১১০ জন শিক্ষক এই সভায় অংশ নেন। তাঁরা সভায় বঞ্চনার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি ধানের শীষের প্রার্থীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
এ প্রসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন নাইস বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ে এভাবে মতবিনিময় সভা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ধানের শীষের প্রার্থী এর আগে হাতেম আলী কলেজে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পরিবহন বাস দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। আজ আবার ইবতেদায়ি মাদ্রাসা বন্ধ রেখে শিক্ষকদের বাসভবনে এনে মতবিনিময় করে ভোটে প্রভাব ফেলছেন। এসব বিষয় রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারকে মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তিনি তা ধরেননি। বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, ‘শিক্ষকেরা যদি প্রার্থীর কাছে স্বপ্রণোদিত হয়ে আসেন, তাহলে আমাদের কী করার আছে। বিএনপি তো তাঁদের ধরে আনেনি। তবে মাদ্রাসার পাঠদান বন্ধ রেখে যদি শিক্ষকেরা সভায় যোগদান করে থাকেন, তাহলে তাতে প্রশ্ন থেকে যায়।’
বরিশাল রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন বলেন, ‘ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকেরা প্রকৃতপক্ষে শিক্ষকের ব্যানারে ওখানে কোনো কিছু পাওয়ার জন্য গিয়েছেন কি না, তা জানতে হবে।
তাহলে তো এটা অবশ্যই আচরণবিধির লঙ্ঘন। আমরা নির্বাচনী তদন্ত কমিটিতে এ বিষয়ে অভিযোগ পাঠাব। দৈনিকই এমন অভিযোগ আমরা তদন্তে পাঠাই।’

২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০৪
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে ১৪ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭ পদাতিক ডিভিশনের আওতাধীন ৬ পদাতিক ব্রিগেডের ৬২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের নেতৃত্বে বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তল্লাশিকালে কৌশিক চন্দ্র সরকার (২৫) নামের এক তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ঢাকা–কুয়াকাটা রুটে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আটক ব্যক্তিকে গৌরনদী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে ৬২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়েজ আহমেদ বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সর্বদা পেশাদারিত্ব ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে ১৪ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭ পদাতিক ডিভিশনের আওতাধীন ৬ পদাতিক ব্রিগেডের ৬২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের নেতৃত্বে বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তল্লাশিকালে কৌশিক চন্দ্র সরকার (২৫) নামের এক তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ঢাকা–কুয়াকাটা রুটে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আটক ব্যক্তিকে গৌরনদী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে ৬২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়েজ আহমেদ বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সর্বদা পেশাদারিত্ব ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:৩২
কারাগারের উঁচু দেয়ালের ভেতরে বন্দি বাবা। বাইরে ভোটের মাঠে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বাবার জন্য ভোট চাইছেন মেয়ে। বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের ভোটাররা এমনই এক মানবিক গল্পের সাক্ষী হচ্ছেন। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু বর্তমানে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। তার অনুপস্থিতিতে নির্বাচনি প্রচারের পুরো দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন মেয়ে হাবিবা কিবরিয়া।
নির্বাচনি মাঠে হাবিবার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। কোথাও উঠান বৈঠক, কোথাও পথসভা করছেন। সব জায়গায় তিনি একটি বার্তা দিচ্ছেন। তার ভাষায়, ‘এটি শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, এটি একজন মেয়ের বাবাকে ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম।’ ঢাকায় সংসার, পাঁচ বছরের সন্তান এবং শ্বশুর-শাশুড়িকে রেখে তিনি এখন বাবুগঞ্জ ও মুলাদীর গ্রাম-গঞ্জে দিন কাটাচ্ছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গোলাম কিবরিয়া টিপুর বিরুদ্ধে ১০টি মামলা হয়। এরপর হলফনামা দাখিলের পর ১৩ জানুয়ারি আরও একটি মামলা হয়। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় নাগরিকত্বসংক্রান্ত বিষয়ে তার প্রার্থিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও পরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাই শেষে নিশ্চিত করেন–তার দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই। ফলে প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। এতে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়।
নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি অপরাধে অন্তত দুই বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত না হলে কোনো ব্যক্তির নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই। বিচারাধীন মামলায় বন্দি থাকা অবস্থায় এই আইনি সুযোগেই নির্বাচন করছেন গোলাম কিবরিয়া টিপু। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটের আগে মুক্তি না মিললেও তিনি কারাগার থেকেই নির্বাচন পরিচালনা করবেন।
মাঠে প্রচারের ফাঁকে হাবিবা কিবরিয়া জানান, তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। তার ভাষায়, ‘রাজনীতি যদি খেলায় পরিণত হয়, তাহলে সেই খেলার সবচেয়ে বড় শিকার আমার বাবা। মামলা, জামিন, আবার মামলা–এই বৃত্তের জবাব রাজপথে নয়, ভোটের মাধ্যমেই দিতে চাই।’
হাবিবা বলেন, ‘গোলাম কিবরিয়া টিপু শুধু একজন রাজনীতিক নন, তিনি একজন বাবা। একই সঙ্গে তিনি হাজার হাজার মানুষের আপনজন। কারও সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক, কারও সঙ্গে আত্মার টান। সেই সম্পর্কের শক্তিকে কাজে লাগাতেই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি।’
প্রচারের সময় বাবার অতীত কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন হাবিবা। তিনি বলেন, ‘এমপি থাকাকালে বাবুগঞ্জ ও মুলাদীর বিভিন্ন হাটবাজারের খাজনা নিজের তহবিল থেকে পরিশোধ করে আমার বাবা সাধারণ মানুষকে ইজারাদারদের চাপ থেকে মুক্ত করেছিলেন। মাঠেঘাটে যেখানেই যাচ্ছি, বাবার উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছি।’ তার বিশ্বাস, মানুষ এবার ভোট দিয়ে গোলাম কিবরিয়া টিপুকে জয়যুক্ত করবে এবং কারামুক্তির পথ খুলে দেবে।
এক বছরের বেশি সময় ধরে বাবার কারাবন্দি থাকার কথা জানাতে গিয়ে হাবিবার কণ্ঠে ক্ষোভ ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, ‘একজন মানুষকে কারাগারে রাখা যায়, কিন্তু হাজার হাজার মানুষকে নয়। সরকার চাইলে বাবাকে কারাগারে রাখতে পারে, কিন্তু ভোটের মাধ্যমে জনগণই জবাব দেবে।’ কারাগারে থেকেও নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এলাকাবাসীর ভালোবাসায় বাবাকে ফুলের মালা দিয়ে ফিরিয়ে আনার দৃশ্য কল্পনা করেন বলেও জানান তিনি।
কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে হাবিবা কিবরিয়া বলেন, নির্বাচনি মাঠে উত্তেজনা বা পাল্টা কথাবার্তায় না জড়ানোই সবচেয়ে ভালো পথ। অপমানজনক কথা শুনলেও ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তার ভাষায়, ‘এই লড়াইয়ে আবেগ নয়, শান্ত থাকাই সবচেয়ে বড় কৌশল।’
কারাগারের উঁচু দেয়ালের ভেতরে বন্দি বাবা। বাইরে ভোটের মাঠে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বাবার জন্য ভোট চাইছেন মেয়ে। বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের ভোটাররা এমনই এক মানবিক গল্পের সাক্ষী হচ্ছেন। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু বর্তমানে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। তার অনুপস্থিতিতে নির্বাচনি প্রচারের পুরো দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন মেয়ে হাবিবা কিবরিয়া।
নির্বাচনি মাঠে হাবিবার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। কোথাও উঠান বৈঠক, কোথাও পথসভা করছেন। সব জায়গায় তিনি একটি বার্তা দিচ্ছেন। তার ভাষায়, ‘এটি শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, এটি একজন মেয়ের বাবাকে ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম।’ ঢাকায় সংসার, পাঁচ বছরের সন্তান এবং শ্বশুর-শাশুড়িকে রেখে তিনি এখন বাবুগঞ্জ ও মুলাদীর গ্রাম-গঞ্জে দিন কাটাচ্ছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গোলাম কিবরিয়া টিপুর বিরুদ্ধে ১০টি মামলা হয়। এরপর হলফনামা দাখিলের পর ১৩ জানুয়ারি আরও একটি মামলা হয়। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় নাগরিকত্বসংক্রান্ত বিষয়ে তার প্রার্থিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও পরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাই শেষে নিশ্চিত করেন–তার দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই। ফলে প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। এতে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়।
নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি অপরাধে অন্তত দুই বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত না হলে কোনো ব্যক্তির নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই। বিচারাধীন মামলায় বন্দি থাকা অবস্থায় এই আইনি সুযোগেই নির্বাচন করছেন গোলাম কিবরিয়া টিপু। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটের আগে মুক্তি না মিললেও তিনি কারাগার থেকেই নির্বাচন পরিচালনা করবেন।
মাঠে প্রচারের ফাঁকে হাবিবা কিবরিয়া জানান, তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। তার ভাষায়, ‘রাজনীতি যদি খেলায় পরিণত হয়, তাহলে সেই খেলার সবচেয়ে বড় শিকার আমার বাবা। মামলা, জামিন, আবার মামলা–এই বৃত্তের জবাব রাজপথে নয়, ভোটের মাধ্যমেই দিতে চাই।’
হাবিবা বলেন, ‘গোলাম কিবরিয়া টিপু শুধু একজন রাজনীতিক নন, তিনি একজন বাবা। একই সঙ্গে তিনি হাজার হাজার মানুষের আপনজন। কারও সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক, কারও সঙ্গে আত্মার টান। সেই সম্পর্কের শক্তিকে কাজে লাগাতেই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি।’
প্রচারের সময় বাবার অতীত কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন হাবিবা। তিনি বলেন, ‘এমপি থাকাকালে বাবুগঞ্জ ও মুলাদীর বিভিন্ন হাটবাজারের খাজনা নিজের তহবিল থেকে পরিশোধ করে আমার বাবা সাধারণ মানুষকে ইজারাদারদের চাপ থেকে মুক্ত করেছিলেন। মাঠেঘাটে যেখানেই যাচ্ছি, বাবার উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছি।’ তার বিশ্বাস, মানুষ এবার ভোট দিয়ে গোলাম কিবরিয়া টিপুকে জয়যুক্ত করবে এবং কারামুক্তির পথ খুলে দেবে।
এক বছরের বেশি সময় ধরে বাবার কারাবন্দি থাকার কথা জানাতে গিয়ে হাবিবার কণ্ঠে ক্ষোভ ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, ‘একজন মানুষকে কারাগারে রাখা যায়, কিন্তু হাজার হাজার মানুষকে নয়। সরকার চাইলে বাবাকে কারাগারে রাখতে পারে, কিন্তু ভোটের মাধ্যমে জনগণই জবাব দেবে।’ কারাগারে থেকেও নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এলাকাবাসীর ভালোবাসায় বাবাকে ফুলের মালা দিয়ে ফিরিয়ে আনার দৃশ্য কল্পনা করেন বলেও জানান তিনি।
কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে হাবিবা কিবরিয়া বলেন, নির্বাচনি মাঠে উত্তেজনা বা পাল্টা কথাবার্তায় না জড়ানোই সবচেয়ে ভালো পথ। অপমানজনক কথা শুনলেও ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তার ভাষায়, ‘এই লড়াইয়ে আবেগ নয়, শান্ত থাকাই সবচেয়ে বড় কৌশল।’
২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:১৩
২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:১০
২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:০৬
২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:০০