পটুয়াখালীর বাউফল বিএনপি নেতার নেতৃত্বে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক উদ্যোক্তাকে মারধর করে তাঁর ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে উপজেলার দাসপাড়া ইউপি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয়দের সূত্রে জানাগেছে, ইউপি কার্যালয়টির একটি কক্ষ ও মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেন অভিযুক্ত দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরী।
হামলার শিকার ব্যক্তির নাম সাইফুল হাসান (৪৫)। তিনি ওই ইউপির উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মরত ও চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের শ্যালক।
অভিযোগ আছে, গতকাল সোমবার কয়েকজন ইউপি সদস্যের কাছ থেকে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে জোর করে অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর নেন আলী আজম চৌধুরী ও তাঁর সমর্থকেরা। উভয় ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানায়, দাসপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন উপজেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক কোষাধ্যক্ষ। অভিযোগ আছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন আলী আজম চৌধুরী।
একই ইউপি উদ্যোক্তা সাইফুল হাসান ইউপি চেয়ারম্যানের শ্যালক হওয়ায় মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাঁর কক্ষ ও ইউপি কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
সাইফুল হাসান অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিনের মতো তিনি আজ নিজের কার্যালয়ে বসে নাগরিক সেবা দিচ্ছিলেন। বেলা একটার দিকে আলী আজম চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৫–২০ জনের একটি দল সেখানে ঢুকে তাঁকে কক্ষ ছাড়তে বলে।
ইউএনওর অনুমতি ছাড়া বের হবেন না জানালে তাঁকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে উপস্থিত ব্যক্তিরা তাঁকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করেন এবং তাঁর ল্যাপটপ নিয়ে যান।
এদিকে দাসপাড়া ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, গতকাল সকাল ১০টার দিকে আলী আজম চৌধুরীর নেতৃত্বে ৪০–৪৫ জনের একটি দল কালাইয়া বাজারে তাঁর বাসায় গিয়ে একটি কাগজে সই করতে বলে।
কাগজে কী লেখা আছে, জানতে চাইলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দেওয়ার কথা বলা হয়। তিনি স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে জোরপূর্বক তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এ বিষয়ে তিনি ইউএনওর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য কুলসুম বেগম। তিনি বলেন, ওই কাগজে স্বাক্ষর করতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আগের দিন চোখের অস্ত্রোপচার করিয়ে বিশ্রামে থাকায় ভীত হয়ে তিনি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন।
তবে আলী আজম চৌধুরী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘যা কিছু ঘটেছে, তা ইউপি সদস্যরা করেছেন। কোনো ঘটনার সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার নাম জড়ানো হচ্ছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, ওই উদ্যোক্তাকে মারধরের খবর তিনি পেয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কয়েকজন সদস্যের দেওয়া অনাস্থা আবেদন পেয়েছেন।
পাশাপাশি দুই ইউপি সদস্যের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৩০ জুলাই, ২০২৬ ১৩:২৫
পটুয়াখালীর বাউফলে এক গৃহবধূকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে দাসপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ফারুক হোসেন প্যাদাকে (৪০) মারধর করার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নে খেজুরবাড়ীয়া গ্রমে এ ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ৮টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ফারুক হোসেন প্যাদার বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ এনে ওই গৃহবধূর স্বামী পারভেজ সহ কয়েকজন তাকে জিজ্ঞাসা করলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহত ফারুককে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফারুক হোসেন প্যাদা বলেন, স্থানীয় সাইদুল, পারভেজ মৃধা সহ তাদের বাড়ির ৪-৫ জন আমাকে মারধর করেছে। তারা আমার কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে। অতীতে তাদের সঙ্গে আমার বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে আমার বিরুদ্ধে এক নারীর সম্পর্ক রয়েছে বলে গুজব ছড়াচ্ছে। আমি তাদের এ ধরনের মিথ্যা অপবাদ না ছড়ানোর অনুরোধ করি। আমি কোনো নারীকে উত্ত্যক্ত করিনি। তারপরও কথিত অভিযোগে আমাকে মারধর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ওই গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, ফারুক দীর্ঘদিন ধরে আমার পুত্রবধূকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করত। তাকে টাকা-পয়সার প্রলোভন দিত। একপর্যায়ে সে আমাদের পরিবারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় কানাঘুষা চলছিল। প্রথমে আমরা তা বিশ্বাস করিনি। পরে কিছু ছবি দেখানোর পর বিষয়টি বিশ্বাস করি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশও হয়েছিল। এরপরও সে আমার পুত্রবধূকে কুপ্রস্তাব দিত।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, মারধরের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২৯ জুলাই, ২০২৬ ১৭:১৬
পটুয়াখালীর দুমকিতে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ফিরোজ খান এবং মিরাজ খান গং কর্তৃক সাবেক ছাত্রনেতা সাইফুল আলম শুভ খানসহ কয়েকজন যুবকের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দুমকি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন হামলার শিকার সাইফুল আলম।
জানা যায়, উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মৃত্যু সোলাইমান খানের ছেলে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ফিরোজ খান প্রায় এক যুগ ধরে দাপটের সাথে গাঁজা ইয়াবার ব্যবসা করে আসছে। ব্যবসা করতে গিয়ে তিনি বেশ কয়েকবার মাদকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মাদকসহ গ্রেফতার হন। কিছুদিন জেল খেটে বেরিয়ে পূনরায় বীরদর্পে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ফিরোজ খান ও মিরাজ খানের প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করেন একই এলাকার বাসিন্দা সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ সাইফুল আলম শুভ সহ কয়েকজন যুবক।এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থেকে গত ২৪ জুলাই রাতে ফিরোজ খান ও মিরাজ খানসহ তাদের সহযোগীদের নিয়ে সাইফুল আলম শুভ, মনির হোসেন,আবু তাহের সহ কয়েকজন যুবকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এবং এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সেলিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

২৯ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৫৩
বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী নারী। চলতি মাসের ২২ তারিখ পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে বাদি হয়ে মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে, মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় এজাহার পূর্বক আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৭ বছর আগে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মারা যান। এরপর তিনি একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বাবা বাড়ি ইটবাড়িয়া ইউনিয়নে চলে যান। সেখানে তাকে দেখার পর শহিদুল ইসলাম বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দেন। এতে রাজী না হলে শহিদুল তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেন।
চলতি বছরের ২৪ মার্চ ওই বিধবা ভুক্তভোগী নারীকে প্রলোভন দেখিয়ে শহরের শেরে বাংলা সড়কে শহীদুলের বোনের বাসায় নিয়ে গেলে কক্ষের মধ্যে আটকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত শহিদুল। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তিনি।
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শহরে নিয়ে আসা হয়। পরে শহিদুলের বোনের বাসায় নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়েছেন। পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা এজাহার পূর্বক আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান বলেন, যেহেতু তার (মো.শহিদুল) নামে আদালতে মামলা হয়েছে, এ বিষয়ে আমাদের কিছু বলা উচিত না। আদালত তার বিচার করবেন। আদালত দেখবেন সত্য নাকি মিথ্যা। দোষী হলে পরে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বরিশালটাইমসকে বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত মামলার কপি হাতে পাইনি। কপি হাতে পেলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আসামির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

১৭ জুন, ২০২৬ ১১:৪১
পটুয়াখালীর বাউফল বিএনপি নেতার নেতৃত্বে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক উদ্যোক্তাকে মারধর করে তাঁর ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে উপজেলার দাসপাড়া ইউপি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয়দের সূত্রে জানাগেছে, ইউপি কার্যালয়টির একটি কক্ষ ও মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেন অভিযুক্ত দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরী।
হামলার শিকার ব্যক্তির নাম সাইফুল হাসান (৪৫)। তিনি ওই ইউপির উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মরত ও চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের শ্যালক।
অভিযোগ আছে, গতকাল সোমবার কয়েকজন ইউপি সদস্যের কাছ থেকে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে জোর করে অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর নেন আলী আজম চৌধুরী ও তাঁর সমর্থকেরা। উভয় ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানায়, দাসপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন উপজেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক কোষাধ্যক্ষ। অভিযোগ আছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন আলী আজম চৌধুরী।
একই ইউপি উদ্যোক্তা সাইফুল হাসান ইউপি চেয়ারম্যানের শ্যালক হওয়ায় মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাঁর কক্ষ ও ইউপি কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
সাইফুল হাসান অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিনের মতো তিনি আজ নিজের কার্যালয়ে বসে নাগরিক সেবা দিচ্ছিলেন। বেলা একটার দিকে আলী আজম চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৫–২০ জনের একটি দল সেখানে ঢুকে তাঁকে কক্ষ ছাড়তে বলে।
ইউএনওর অনুমতি ছাড়া বের হবেন না জানালে তাঁকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে উপস্থিত ব্যক্তিরা তাঁকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করেন এবং তাঁর ল্যাপটপ নিয়ে যান।
এদিকে দাসপাড়া ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, গতকাল সকাল ১০টার দিকে আলী আজম চৌধুরীর নেতৃত্বে ৪০–৪৫ জনের একটি দল কালাইয়া বাজারে তাঁর বাসায় গিয়ে একটি কাগজে সই করতে বলে।
কাগজে কী লেখা আছে, জানতে চাইলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দেওয়ার কথা বলা হয়। তিনি স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে জোরপূর্বক তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এ বিষয়ে তিনি ইউএনওর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য কুলসুম বেগম। তিনি বলেন, ওই কাগজে স্বাক্ষর করতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আগের দিন চোখের অস্ত্রোপচার করিয়ে বিশ্রামে থাকায় ভীত হয়ে তিনি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন।
তবে আলী আজম চৌধুরী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘যা কিছু ঘটেছে, তা ইউপি সদস্যরা করেছেন। কোনো ঘটনার সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার নাম জড়ানো হচ্ছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, ওই উদ্যোক্তাকে মারধরের খবর তিনি পেয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কয়েকজন সদস্যের দেওয়া অনাস্থা আবেদন পেয়েছেন।
পাশাপাশি দুই ইউপি সদস্যের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়াখালীর বাউফলে এক গৃহবধূকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে দাসপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ফারুক হোসেন প্যাদাকে (৪০) মারধর করার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নে খেজুরবাড়ীয়া গ্রমে এ ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ৮টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ফারুক হোসেন প্যাদার বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ এনে ওই গৃহবধূর স্বামী পারভেজ সহ কয়েকজন তাকে জিজ্ঞাসা করলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহত ফারুককে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফারুক হোসেন প্যাদা বলেন, স্থানীয় সাইদুল, পারভেজ মৃধা সহ তাদের বাড়ির ৪-৫ জন আমাকে মারধর করেছে। তারা আমার কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে। অতীতে তাদের সঙ্গে আমার বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে আমার বিরুদ্ধে এক নারীর সম্পর্ক রয়েছে বলে গুজব ছড়াচ্ছে। আমি তাদের এ ধরনের মিথ্যা অপবাদ না ছড়ানোর অনুরোধ করি। আমি কোনো নারীকে উত্ত্যক্ত করিনি। তারপরও কথিত অভিযোগে আমাকে মারধর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ওই গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, ফারুক দীর্ঘদিন ধরে আমার পুত্রবধূকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করত। তাকে টাকা-পয়সার প্রলোভন দিত। একপর্যায়ে সে আমাদের পরিবারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় কানাঘুষা চলছিল। প্রথমে আমরা তা বিশ্বাস করিনি। পরে কিছু ছবি দেখানোর পর বিষয়টি বিশ্বাস করি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশও হয়েছিল। এরপরও সে আমার পুত্রবধূকে কুপ্রস্তাব দিত।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, মারধরের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়াখালীর দুমকিতে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ফিরোজ খান এবং মিরাজ খান গং কর্তৃক সাবেক ছাত্রনেতা সাইফুল আলম শুভ খানসহ কয়েকজন যুবকের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দুমকি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন হামলার শিকার সাইফুল আলম।
জানা যায়, উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মৃত্যু সোলাইমান খানের ছেলে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ফিরোজ খান প্রায় এক যুগ ধরে দাপটের সাথে গাঁজা ইয়াবার ব্যবসা করে আসছে। ব্যবসা করতে গিয়ে তিনি বেশ কয়েকবার মাদকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মাদকসহ গ্রেফতার হন। কিছুদিন জেল খেটে বেরিয়ে পূনরায় বীরদর্পে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ফিরোজ খান ও মিরাজ খানের প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করেন একই এলাকার বাসিন্দা সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ সাইফুল আলম শুভ সহ কয়েকজন যুবক।এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থেকে গত ২৪ জুলাই রাতে ফিরোজ খান ও মিরাজ খানসহ তাদের সহযোগীদের নিয়ে সাইফুল আলম শুভ, মনির হোসেন,আবু তাহের সহ কয়েকজন যুবকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এবং এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সেলিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী নারী। চলতি মাসের ২২ তারিখ পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে বাদি হয়ে মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে, মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় এজাহার পূর্বক আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৭ বছর আগে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মারা যান। এরপর তিনি একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বাবা বাড়ি ইটবাড়িয়া ইউনিয়নে চলে যান। সেখানে তাকে দেখার পর শহিদুল ইসলাম বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দেন। এতে রাজী না হলে শহিদুল তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেন।
চলতি বছরের ২৪ মার্চ ওই বিধবা ভুক্তভোগী নারীকে প্রলোভন দেখিয়ে শহরের শেরে বাংলা সড়কে শহীদুলের বোনের বাসায় নিয়ে গেলে কক্ষের মধ্যে আটকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত শহিদুল। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তিনি।
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শহরে নিয়ে আসা হয়। পরে শহিদুলের বোনের বাসায় নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়েছেন। পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা এজাহার পূর্বক আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান বলেন, যেহেতু তার (মো.শহিদুল) নামে আদালতে মামলা হয়েছে, এ বিষয়ে আমাদের কিছু বলা উচিত না। আদালত তার বিচার করবেন। আদালত দেখবেন সত্য নাকি মিথ্যা। দোষী হলে পরে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বরিশালটাইমসকে বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত মামলার কপি হাতে পাইনি। কপি হাতে পেলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আসামির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’