তজুমদ্দিন থেকে বিভিন্ন রুটে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মেঘনা নদীর ডেঞ্জার জোনে চলছে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান। প্রতিদিন এসব রুটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিচ্ছেন হাজার মানুষ।
ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের কারণে নৌ দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন অবৈধ নৌযান বন্ধ করতে পারছে না। যার ফলে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই উত্তাল মেঘনা নদীতে যাত্রীরা পারাপার করছে ছোট ছোট ট্রলার ও লঞ্চে করে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যান্ত আট মাস ভোলার মেঘনার ১৯০ কিলোমিটার এলাকাকে ডেঞ্জার জোন হিসেবে চিহ্নিত করা রয়েছে। সি- সার্ভে ছাড়া সকল ধরনের অনিরাপদ নৌযান চলাচলে নিশেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভোলা জেলার উপক‚লের বিভিন্ন এলাকায় দিয়ে চলছে ফিটনেস ও অনুমোদনবিহীন ছোট ছোট লঞ্চ ও ইঞ্জিন চালিত ট্রলার। দু’একটি রুটে সি-ট্রাক কিংবা সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রাপ্ত লঞ্চ থাকলেও বেশিরভাগ রুটেই ফিটনেসবিহীন লঞ্চ আর ইঞ্জিন চালিত নৌকায় করে যাত্রীদের চলাচল করতে হচ্ছে।
বিশেষ করে তজুমদ্দিন উপজেলার চৌমুহনী লঞ্চঘাট থেকে প্রতিদিন একটি ফিটনেসবিহীন ও সি-সার্ভেন ছাড়া ও ইঞ্জিন চালিত একটি ছোটট্রলার মনপুরার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
এছাড়াও দৌলতখান-মির্জাকালু থেকে চর জহিরুদ্দিনে ছোট কাঠের ইঞ্জিন চালিত ও সি-সার্ভের প্রত্যয়ন ছাড়া একাধিক ট্রলারে সাধারণ যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। অন্যদিক মহিষখালী মাছঘাট, চৌমুহনী লঞ্চঘাট, শশীগঞ্জ সুইসঘাট থেকে প্রতিনিদি চরজহিরুদ্দিন, চরমোজাম্মেল, চর নাসরিন, চরলাদেন, চরফাজানা, নাগর পাটওয়ারীর চর, সিকদারচর ও মনপুরা উপজেলার কলাতলীর চরে প্রতিদিন ছোট ছোট ফিটনেসবিহীন কাঠের নৌকা চলাচল করলেও সেসব দেখার যেন কেউ নেই।
আর এ সুযোগে এধরনের অসাধু নৌযান ব্যবসায়ীরা এরুটে চলাচল করা মানুষের জীবন নিয়ে করছেন হালিখেলা। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, অক্টোবর-নভেম্বর মাস প্রচুর প্রাকৃতিক দূর্যোগপূর্ণ আবহওয়ার মৌসুম হলেও তজুমদ্দিন থেকে মনপুরাসহ সকল নৌরুটে সি-সার্ভেহীন ফিটনেস বিহীন নৌযান চলাচল করলেও তা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা করেনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। প্রশাসনের নিরবতায় বড় ধরনের নৌ দূর্ঘটনার আশংকা করছে সাধারণ যাত্রীরা। এসব অবৈধ নৌযানের মালিকপক্ষ ও ষ্টার্ফরা জোড়পূর্বক তাদের ফিটনেসহীন নৌযানে তুলে নেয় যাত্রীদের। নৌদূর্ঘটনায় এসব যাত্রীদের দায় নেবে কে ?। গতকাল সরজমিনে আলাপকালে জানা যায়, তজুমদ্দিন মনপুরা নৌরুটে চলাচলকারী একমাত্র সরকারি নৌযান সিট্রাকের টিসি মাষ্টার এরশাদ মিজি ও লস্কর মোঃ শাহিন বলেন, যেহেতু মেঘনা নদীটি ডেঞ্জার জোনের আওতায় সেহেতু বিআইডবিøউটিএ-এর সি-সার্ভে রিপোর্ট ব্যতীত কোন নৌযান এরুটে চলাচল নিষিদ্ধ। কিন্তু তারপরও একটি পক্ষ জেলা পরিষদ থেকে একটি ডাকের মাধ্যমে ফিটনেসবিহীন ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে জোড়পূর্বক যাত্রী আনা-নেয়া করছে। আমরা চাই প্রশাসন সরকারের নিয়ম মেনে এসব অবৈধ নৌযানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যাত্রী আঃ মতিন কেরানি, মাহাবুব, রুবেলসহ অনেক যাত্রী জানান, মনপুরা- তজুমদ্দিন নৌরুটে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌপথ হওয়ায় প্রয়োজনের তাগিদে নদী পথেই যাতায়াত করতে হয় যাত্রীদের। কিন্তু মনপুরায় একইঘাটে সরকারি সিট্রাক ও ছোট নৌকাটি ঘাট করায় আমরা নৌকায় উঠতে না চাইলেও ষ্টার্ফরা যাত্রীদের জোড়পূর্বক তুলে নেয়। তখন বাধ্য হয়ে যাত্রীরা ঝুঁকিপূর্ণ ট্রলার, ইঞ্জিন নৌকা, ফিটনেসবিহীন ছোট ছোট লঞ্চে মেঘনা নদীর জেঞ্জার জোন পারি দিচ্ছে। সিট্রাকের ইজারাদার মোঃ নুরুদ্দিন মিয়া বলেন, যেহেতু মেঘনা সারাবছরই ডেঞ্জারজোন সেহেতু ফিটনেসহীন এসব ছোট ট্রলার এরুটে চলাচল করার বৈধতা নেই। তবুও প্রতিপক্ষ তার লোকজন জোড়পূর্বক মনপুরা থেকে যাত্রী তুলে নিয়ে যায়।
যে কারণে গত প্রায় এক বছরে আমি প্রায় ৯ লক্ষ টাকা ক্ষতিগ্রস্থ। এভাবে চলতে থাকলে আমি সিট্রাক বন্ধ করা ছাড়া অন্য কোন পথ থাকবে না। তখন যাত্রীদের দূর্ভোগ আরো বেশি হবে। জেলা প্ররিষদের সাব-ইজারাদার মোঃ বাপ্পি বলেন, আমি জেলা পরিষদের সাব ইজারাদার হিসেবে ট্রলারে যাত্রী পারাপার করছি। তবে জোড়ের কোন বিষয় নেই মানুষ তার ইচ্ছেমত পারাপার হচ্ছে।
তবে তিনি তার সি-সার্ভের রিপোর্ট রয়েছে দাবী করলেও তা প্রমাণ দিতে পারেনি। এব্যাপারে তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা শুভ দেবনাথ বলেন, যেহেতু বিআইডবিøউটিএ ও জেলা পরিষদ দুটিই সরকারি প্রতিষ্ঠান। সেহেতু বিআইডবিøউটিএ অফিসিয়ালি উপজেলা প্রশাসনকে জানালে তখন সমন্বয় করে আমরা আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

৩১ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৫০
ভোলার লালমোহন উপজেলায় এক গৃহবধূকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এরআগে বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ রোজিনা বেগম। তিনি লালমোহন পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. খোকনের স্ত্রী। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গজারিয়া এলাকার মো. পলাশ মৃধার ছেলে মো. শাহাদৎ হোসেন (২৪), জুয়েল স্বর্ণকারের ছেলে মো. জুবায়ের (২১) এবং একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মিলন পাটোয়ারির ছেলে মো. নাঈম (২৪)।
জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই বিকেলে রোজিনা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূ চরফ্যাশন থেকে সিএনজিযোগে লালমোহনের গজারিয়া বাজার এলাকায় আসেন। সেখান থেকে পৌরসভায় অবস্থিত নিজ বাসায় ফেরার জন্য তিনি একটি অটোরিকশায় ওঠেন। অটোরিকশাটি গজারিয়া নৌকাপট্টিতে পৌঁছালে স্থানীয় মো. শাহাদাত হোসেন, মো. নাঈম এবং মো. জুবায়েরসহ আরও কয়েকজন মিলে অটোরিকশার গতিরোধ করে ভেতরে উঠে পড়েন এবং দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ওই গৃহবধূকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এরপর তারা অটোরিকশাটি ঘুরিয়ে সৈনিক বাজার সংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে তারা চাকুর ভয় দেখিয়ে ওই গৃহবধূর কান থেকে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের এক জোড়া স্বর্ণের কানের রিং, ৫০ হাজার টাকা মূল্যের এক জোড়া কানের দুল এবং ভেনিটি ব্যাগে থাকা নগদ ৪ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ সময় তারা ওই গৃহবধূকে শ্লীলতাহানিও চালান। পরে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ মামলা দায়েরের পর উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে আদালত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৪৩
ভোলায় একটি ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরের দিকে ভোলা পৌর এলাকার অফিসার পাড়ার একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. শাহাবুদ্দিন ফকির (৪৫)। তিনি ভোলা কোর্ট পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শাহাবুদ্দিন বরিশাল জেলার গৌরনদী থানা দক্ষিণ বিজয়পুর গ্রামের আদম আলী ফকিরের ছেলে।
ভোলা কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. নাছির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কনস্টেবল শাহাবুদ্দিন অফিসার পাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের নিয়ে থাকতেন। তবে কয়েক দিন আগে তার স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে যান। মঙ্গলবার সকালে কোর্টে ডিউটি ছিলো শাহাবুদ্দিনের। সে ডিউটিতে যোগদান না করায় তাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু ফোন না ধরায় তার বাসায় গিয়ে বাড়ির মালিকসহ ডাকাডাকি করি। তখনও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাই। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এর আগে গত ৪ মে শাহাবুদ্দিনের একমাত্র সন্তান চৌত্রি ওই বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এরপর থেকে শাহাবুদ্দিন মানসিকভাবে ভেঙে পরেন।’

২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৯:২৮
ভোলার লালমোহন উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চাপায় মোসা. মাইশা আক্তার (৬) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের সৈনিক বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু মাইশা ওই এলাকার মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।
জানা গেছে, শনিবার বিকেলে লালমোহন উপজেলার সৈনিক বাজার এলাকায় সড়ক পার হচ্ছিল শিশু মাইশা আক্তার। এ সময় ভোলা থেকে ছেড়ে আসা চরফ্যাশনগামী দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু মাইশা। ঘটনা বুঝতে পেরে বাস নিয়ে চলে যান চালক। খবর পেয়ে ওই শিশুর স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা সড়কের ওপর গাছ ফেলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

১৭ অক্টোবর, ২০২৫ ১৬:০৯
তজুমদ্দিন থেকে বিভিন্ন রুটে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মেঘনা নদীর ডেঞ্জার জোনে চলছে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান। প্রতিদিন এসব রুটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিচ্ছেন হাজার মানুষ।
ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের কারণে নৌ দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন অবৈধ নৌযান বন্ধ করতে পারছে না। যার ফলে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই উত্তাল মেঘনা নদীতে যাত্রীরা পারাপার করছে ছোট ছোট ট্রলার ও লঞ্চে করে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যান্ত আট মাস ভোলার মেঘনার ১৯০ কিলোমিটার এলাকাকে ডেঞ্জার জোন হিসেবে চিহ্নিত করা রয়েছে। সি- সার্ভে ছাড়া সকল ধরনের অনিরাপদ নৌযান চলাচলে নিশেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভোলা জেলার উপক‚লের বিভিন্ন এলাকায় দিয়ে চলছে ফিটনেস ও অনুমোদনবিহীন ছোট ছোট লঞ্চ ও ইঞ্জিন চালিত ট্রলার। দু’একটি রুটে সি-ট্রাক কিংবা সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রাপ্ত লঞ্চ থাকলেও বেশিরভাগ রুটেই ফিটনেসবিহীন লঞ্চ আর ইঞ্জিন চালিত নৌকায় করে যাত্রীদের চলাচল করতে হচ্ছে।
বিশেষ করে তজুমদ্দিন উপজেলার চৌমুহনী লঞ্চঘাট থেকে প্রতিদিন একটি ফিটনেসবিহীন ও সি-সার্ভেন ছাড়া ও ইঞ্জিন চালিত একটি ছোটট্রলার মনপুরার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
এছাড়াও দৌলতখান-মির্জাকালু থেকে চর জহিরুদ্দিনে ছোট কাঠের ইঞ্জিন চালিত ও সি-সার্ভের প্রত্যয়ন ছাড়া একাধিক ট্রলারে সাধারণ যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। অন্যদিক মহিষখালী মাছঘাট, চৌমুহনী লঞ্চঘাট, শশীগঞ্জ সুইসঘাট থেকে প্রতিনিদি চরজহিরুদ্দিন, চরমোজাম্মেল, চর নাসরিন, চরলাদেন, চরফাজানা, নাগর পাটওয়ারীর চর, সিকদারচর ও মনপুরা উপজেলার কলাতলীর চরে প্রতিদিন ছোট ছোট ফিটনেসবিহীন কাঠের নৌকা চলাচল করলেও সেসব দেখার যেন কেউ নেই।
আর এ সুযোগে এধরনের অসাধু নৌযান ব্যবসায়ীরা এরুটে চলাচল করা মানুষের জীবন নিয়ে করছেন হালিখেলা। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, অক্টোবর-নভেম্বর মাস প্রচুর প্রাকৃতিক দূর্যোগপূর্ণ আবহওয়ার মৌসুম হলেও তজুমদ্দিন থেকে মনপুরাসহ সকল নৌরুটে সি-সার্ভেহীন ফিটনেস বিহীন নৌযান চলাচল করলেও তা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা করেনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। প্রশাসনের নিরবতায় বড় ধরনের নৌ দূর্ঘটনার আশংকা করছে সাধারণ যাত্রীরা। এসব অবৈধ নৌযানের মালিকপক্ষ ও ষ্টার্ফরা জোড়পূর্বক তাদের ফিটনেসহীন নৌযানে তুলে নেয় যাত্রীদের। নৌদূর্ঘটনায় এসব যাত্রীদের দায় নেবে কে ?। গতকাল সরজমিনে আলাপকালে জানা যায়, তজুমদ্দিন মনপুরা নৌরুটে চলাচলকারী একমাত্র সরকারি নৌযান সিট্রাকের টিসি মাষ্টার এরশাদ মিজি ও লস্কর মোঃ শাহিন বলেন, যেহেতু মেঘনা নদীটি ডেঞ্জার জোনের আওতায় সেহেতু বিআইডবিøউটিএ-এর সি-সার্ভে রিপোর্ট ব্যতীত কোন নৌযান এরুটে চলাচল নিষিদ্ধ। কিন্তু তারপরও একটি পক্ষ জেলা পরিষদ থেকে একটি ডাকের মাধ্যমে ফিটনেসবিহীন ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে জোড়পূর্বক যাত্রী আনা-নেয়া করছে। আমরা চাই প্রশাসন সরকারের নিয়ম মেনে এসব অবৈধ নৌযানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যাত্রী আঃ মতিন কেরানি, মাহাবুব, রুবেলসহ অনেক যাত্রী জানান, মনপুরা- তজুমদ্দিন নৌরুটে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌপথ হওয়ায় প্রয়োজনের তাগিদে নদী পথেই যাতায়াত করতে হয় যাত্রীদের। কিন্তু মনপুরায় একইঘাটে সরকারি সিট্রাক ও ছোট নৌকাটি ঘাট করায় আমরা নৌকায় উঠতে না চাইলেও ষ্টার্ফরা যাত্রীদের জোড়পূর্বক তুলে নেয়। তখন বাধ্য হয়ে যাত্রীরা ঝুঁকিপূর্ণ ট্রলার, ইঞ্জিন নৌকা, ফিটনেসবিহীন ছোট ছোট লঞ্চে মেঘনা নদীর জেঞ্জার জোন পারি দিচ্ছে। সিট্রাকের ইজারাদার মোঃ নুরুদ্দিন মিয়া বলেন, যেহেতু মেঘনা সারাবছরই ডেঞ্জারজোন সেহেতু ফিটনেসহীন এসব ছোট ট্রলার এরুটে চলাচল করার বৈধতা নেই। তবুও প্রতিপক্ষ তার লোকজন জোড়পূর্বক মনপুরা থেকে যাত্রী তুলে নিয়ে যায়।
যে কারণে গত প্রায় এক বছরে আমি প্রায় ৯ লক্ষ টাকা ক্ষতিগ্রস্থ। এভাবে চলতে থাকলে আমি সিট্রাক বন্ধ করা ছাড়া অন্য কোন পথ থাকবে না। তখন যাত্রীদের দূর্ভোগ আরো বেশি হবে। জেলা প্ররিষদের সাব-ইজারাদার মোঃ বাপ্পি বলেন, আমি জেলা পরিষদের সাব ইজারাদার হিসেবে ট্রলারে যাত্রী পারাপার করছি। তবে জোড়ের কোন বিষয় নেই মানুষ তার ইচ্ছেমত পারাপার হচ্ছে।
তবে তিনি তার সি-সার্ভের রিপোর্ট রয়েছে দাবী করলেও তা প্রমাণ দিতে পারেনি। এব্যাপারে তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা শুভ দেবনাথ বলেন, যেহেতু বিআইডবিøউটিএ ও জেলা পরিষদ দুটিই সরকারি প্রতিষ্ঠান। সেহেতু বিআইডবিøউটিএ অফিসিয়ালি উপজেলা প্রশাসনকে জানালে তখন সমন্বয় করে আমরা আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
ভোলার লালমোহন উপজেলায় এক গৃহবধূকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এরআগে বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ রোজিনা বেগম। তিনি লালমোহন পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. খোকনের স্ত্রী। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গজারিয়া এলাকার মো. পলাশ মৃধার ছেলে মো. শাহাদৎ হোসেন (২৪), জুয়েল স্বর্ণকারের ছেলে মো. জুবায়ের (২১) এবং একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মিলন পাটোয়ারির ছেলে মো. নাঈম (২৪)।
জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই বিকেলে রোজিনা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূ চরফ্যাশন থেকে সিএনজিযোগে লালমোহনের গজারিয়া বাজার এলাকায় আসেন। সেখান থেকে পৌরসভায় অবস্থিত নিজ বাসায় ফেরার জন্য তিনি একটি অটোরিকশায় ওঠেন। অটোরিকশাটি গজারিয়া নৌকাপট্টিতে পৌঁছালে স্থানীয় মো. শাহাদাত হোসেন, মো. নাঈম এবং মো. জুবায়েরসহ আরও কয়েকজন মিলে অটোরিকশার গতিরোধ করে ভেতরে উঠে পড়েন এবং দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ওই গৃহবধূকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এরপর তারা অটোরিকশাটি ঘুরিয়ে সৈনিক বাজার সংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে তারা চাকুর ভয় দেখিয়ে ওই গৃহবধূর কান থেকে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের এক জোড়া স্বর্ণের কানের রিং, ৫০ হাজার টাকা মূল্যের এক জোড়া কানের দুল এবং ভেনিটি ব্যাগে থাকা নগদ ৪ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ সময় তারা ওই গৃহবধূকে শ্লীলতাহানিও চালান। পরে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ মামলা দায়েরের পর উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে আদালত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ভোলায় একটি ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরের দিকে ভোলা পৌর এলাকার অফিসার পাড়ার একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. শাহাবুদ্দিন ফকির (৪৫)। তিনি ভোলা কোর্ট পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শাহাবুদ্দিন বরিশাল জেলার গৌরনদী থানা দক্ষিণ বিজয়পুর গ্রামের আদম আলী ফকিরের ছেলে।
ভোলা কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. নাছির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কনস্টেবল শাহাবুদ্দিন অফিসার পাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের নিয়ে থাকতেন। তবে কয়েক দিন আগে তার স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে যান। মঙ্গলবার সকালে কোর্টে ডিউটি ছিলো শাহাবুদ্দিনের। সে ডিউটিতে যোগদান না করায় তাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু ফোন না ধরায় তার বাসায় গিয়ে বাড়ির মালিকসহ ডাকাডাকি করি। তখনও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাই। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এর আগে গত ৪ মে শাহাবুদ্দিনের একমাত্র সন্তান চৌত্রি ওই বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এরপর থেকে শাহাবুদ্দিন মানসিকভাবে ভেঙে পরেন।’
ভোলার লালমোহন উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চাপায় মোসা. মাইশা আক্তার (৬) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের সৈনিক বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু মাইশা ওই এলাকার মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।
জানা গেছে, শনিবার বিকেলে লালমোহন উপজেলার সৈনিক বাজার এলাকায় সড়ক পার হচ্ছিল শিশু মাইশা আক্তার। এ সময় ভোলা থেকে ছেড়ে আসা চরফ্যাশনগামী দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু মাইশা। ঘটনা বুঝতে পেরে বাস নিয়ে চলে যান চালক। খবর পেয়ে ওই শিশুর স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা সড়কের ওপর গাছ ফেলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৪২
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৪০
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৩৪
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:০১