বরগুনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৯৩ জন রোগী। চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। শুধু বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে মারা গেছেন ৫ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত বরগুনায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৬৩১ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৪৩৮ জন। অন্যদিকে বরিশাল বিভাগের মধ্যে বরগুনা জেলাতেই আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ৫৫ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৯ জন। ১৫০ নার্সের স্থলে আছেন মাত্র ৬৬ জন। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত ৫৫টি বেডের বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য রোগে আক্রান্ত মিলিয়ে প্রতিদিন ভর্তি থাকছেন প্রায় ৫০০ জন রোগী। পাশাপাশি আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও প্রায় ৫০০ জন। ফলে চিকিৎসক ও নার্স সঙ্কটে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা।
গুরুতর অবস্থায় অনেক রোগীকে বরিশাল বা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। সম্প্রতি কলেজ ব্রাঞ্চ রোড এলাকার পাপড়ি বেগমকে (৬৫) ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। এর আগে খামারবাড়ি এলাকার স্কুলছাত্র ওমর আল আরাবি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হয়। একইভাবে আজমেরী মোনালিসা জেরিন নামে এক নারী উদ্যোক্তাও মৃত্যুবরণ করেন।
ডেঙ্গু আক্রান্ত দেড় বছরের শিশু আবদুল্লাহ নামে এক শিশুর মা শিল্পী বেগম বলেন, আমি ও আমার ছেলে দুনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা ও ওষুধ কিছুই পাইনি, সবকিছু বাইর থেকে কিনতে হচ্ছে। আমার স্বামী রিকশা চালায়, এত খরচ কিভাবে চালাবো?
অন্যদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মিজান রানা নামে এক রোগী অভিযোগ করে বলেন, ৪দিন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছি কিন্তু হাসপাতালে একটি নরমাল স্যালাইনও স্টকে নাই। এমনকি বাজারের কোনো ফার্মেসিতেও কিনতে পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়াও ডাক্তারও ঠিকমতো পাওয়া যায় না।
ডেঙ্গু আক্রান্তের তালিকায় এগিয়ে থাকা গৌরিচন্না এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আলিম বলেন, আমাদের এলাকাটি বরগুনা পৌরসভার একদম কাছাকাছি হওয়ায় ঘনবসতি বেশি। তারপরও ইউনিয়নে কোনো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেই।
এছাড়াও প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই এলাকার বিভিন্ন জায়গার ডোবা নালা ও নিচু জমিতে পানি জমে। আমার পরিবারের আমিসহ ৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হই। সবশেষ আমি ঢাকা পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরি।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ইশরাত জাহান বলেন, বর্তমানে আমাদের জনবল অনেক কম। প্রতিদিন যে হারে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে তা সামাল দেওয়া আমাদের পক্ষে খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা এবার কুরবানির ঈদেও ছুটি পাইনি।
পরিবার রেখে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছি। এক রোগী দেখে আরেকজনের কাছে যেতে দেরি হলে অনেক সময় শুনতে হয় নার্সদের ব্যবহার ভালো না। বরগুনায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও ১০০ শয্যার নার্স দিয়ে চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম। এতে প্রায় প্রতিদিন পাঁচ শতাধিকেরও বেশি ভর্তি রোগীদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় আমাদের।
সচেতনতার অভাব ও ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা বলে সচেতন নাগরিক কমিটির বরগুনা শাখার সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, বৃষ্টির পর শহরের অর্ধেক রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। জলাবদ্ধ পানি আর অপরিকল্পিত ড্রেন শহরকে মৃত্যু ফাঁদে পরিণত করেছে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
ডেঙ্গু পরিস্থিতির বিষয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম বলেন, বরগুনাতে ডেঙ্গুর পিক সিজন চলছে। ৫৫ বেডের অনুকূলে ভর্তির রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে আমাদের চিকিৎসকসহ নার্স সংখ্যাও কম।
হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে, প্রতি ঘরেই ডেঙ্গু রোগী আছে। দিনকে দিন এটি মহামারি আকার ধারণ করতে শুরু করেছে। আমরা বর্তমানে মহাবিপর্যয়ের সম্মুখীন, চিকিৎসা সেবা আমাদের সক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী বেড়ে যাওয়ার বিষয় জানতে চাইলে বরগুনার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ্ বলেন, হঠাৎ করে কেন বরগুনায় এত ডেঙ্গু আক্রান্ত এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন।
তবে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু বা এ ধরনের রোগের গবেষণামূলক কাজ করেন। তারা হয়তো এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলতে পারবেন। তবে শহরের পর্যাপ্ত পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা না থাকা, রোগীদের অসচেতনতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী না চলার কারণেও অনেকটা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মশারি ব্যবহার করতে বললেও তারা গুরুত্ব দেন না। ফলে একজনের থেকে অন্যজনের রোগের সৃষ্টি হয়। তাছাড়া বরগুনা ডায়রিয়াপ্রবণ এলাকা হওয়ায় প্রচুর ডাবের খোসা যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়। যে কারণে বর্ষার মৌসুমে পানি জমে এডিস মশার জন্ম বৃদ্ধি পায়।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, গত দুই মাস ধরেই বরগুনায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এর প্রেক্ষিতে আমরা কয়েকটি সভা করেছি। মশক নিধনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পৌরসভা কর্তৃপক্ষ অব্যাহত রেখেছে।
হাসপাতালের সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতালে চিকিৎসক এবং নার্স সঙ্কটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৫১
বরগুনার তালতলীতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য পায়রা (বুড়িশ্বর) নদীতে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীর পানি, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেরা। তাঁদের অভিযোগ, নদীতে বর্জ্য ফেলার পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কালো ধোঁয়াও জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এসব দূষণ বন্ধ এবং নদী ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তাঁরা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের জয়ালভাঙ্গা এলাকায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসংলগ্ন পায়রা নদীর তীরে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ‘পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটি’ আয়োজিত মানববন্ধনে দুই শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী জেলে অংশ নেন।
‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) ও ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’-এর তালতলী শাখার সমন্বয়ক আরিফুর রহমানের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব মো. বাবুল হাওলাদার, কামাল চৌকিদার, সুলতানা মিয়াসহ স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী জেলেরা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বরিশাল ৩৫০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবেশসম্মত পদ্ধতিতে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য না ফেলে অটোরিকশা ও নৌকায় করে নদীতে ফেলছে বলে তাঁদের দাবি। এভাবে বর্জ্য ফেলার ফলে পায়রা নদীর পানির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
বক্তাদের ভাষ্য, নদীর পানিদূষণের প্রভাব পড়ছে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণীর ওপর। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রতিবেশব্যবস্থা ও মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে নদীতে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় জেলেদের আয় কমছে। নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়ছে। দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে নদীনির্ভর বহু মানুষের জীবন-জীবিকা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে উদ্বেগ জানান তাঁরা।
নদীদূষণের পাশাপাশি বায়ুদূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া স্থানীয় জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন বলেও দাবি করেন বক্তারা।
কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে পায়রা নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ, দূষণের উৎস ও প্রকৃত কারণ শনাক্তে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি অভিযোগের তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। নদীর পানি, ইলিশসহ অন্যান্য মৎস্যসম্পদ এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপও কামনা করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ নষ্ট করে ও নদীর পানি দূষিত করে কাউকে কোনো ধরনের অপকর্ম করতে দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বরগুনার তালতলীতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য পায়রা (বুড়িশ্বর) নদীতে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীর পানি, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেরা। তাঁদের অভিযোগ, নদীতে বর্জ্য ফেলার পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কালো ধোঁয়াও জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এসব দূষণ বন্ধ এবং নদী ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তাঁরা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের জয়ালভাঙ্গা এলাকায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসংলগ্ন পায়রা নদীর তীরে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ‘পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটি’ আয়োজিত মানববন্ধনে দুই শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী জেলে অংশ নেন।
‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) ও ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’-এর তালতলী শাখার সমন্বয়ক আরিফুর রহমানের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব মো. বাবুল হাওলাদার, কামাল চৌকিদার, সুলতানা মিয়াসহ স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী জেলেরা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বরিশাল ৩৫০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবেশসম্মত পদ্ধতিতে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য না ফেলে অটোরিকশা ও নৌকায় করে নদীতে ফেলছে বলে তাঁদের দাবি। এভাবে বর্জ্য ফেলার ফলে পায়রা নদীর পানির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
বক্তাদের ভাষ্য, নদীর পানিদূষণের প্রভাব পড়ছে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণীর ওপর। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রতিবেশব্যবস্থা ও মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে নদীতে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় জেলেদের আয় কমছে। নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়ছে। দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে নদীনির্ভর বহু মানুষের জীবন-জীবিকা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে উদ্বেগ জানান তাঁরা।
নদীদূষণের পাশাপাশি বায়ুদূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া স্থানীয় জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন বলেও দাবি করেন বক্তারা।
কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে পায়রা নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ, দূষণের উৎস ও প্রকৃত কারণ শনাক্তে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি অভিযোগের তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। নদীর পানি, ইলিশসহ অন্যান্য মৎস্যসম্পদ এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপও কামনা করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ নষ্ট করে ও নদীর পানি দূষিত করে কাউকে কোনো ধরনের অপকর্ম করতে দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৩৯
বরগুনায় এক কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলায় কালবেলার প্রতিনিধি সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের সময় হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হেনস্তার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।
এদিকে সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিন শুনানি মঙ্গলবার হওয়ার কথা থাকলেও বাদীর উপস্থিতিতে শুনানির জন্য তা বুধবার পুনর্নির্ধারণ করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা।
সাংবাদিককে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হেনস্তা, অমানবিক আচরণ ও পুলিশ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গত ৩ অক্টোবর বরগুনায় গিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর এসআই হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।
পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
এর আগে গত ১ অক্টোবর রাতে সুভাষ ঘোষের দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলায় আসাদ সবুজসহ মোট ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়।
গ্রেপ্তারের পর আসাদ সবুজকে হ্যান্ডকাফ পরানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ বরগুনায় গিয়ে ঘটনার তদন্তের দাবি জানান।
গত রোববার (৪ অক্টোবর) বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসাদ সবুজের জামিন আবেদন করা হয়। আদালত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জামিন শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। পরে বাদীর উপস্থিতিতে শুনানির জন্য তা বুধবার পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
মামলার শুনানিতে আসাদ সবুজের পক্ষে অ্যাডভোকেট এম এ বারী মতিন এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের ও অ্যাডভোকেট বাবুল দাস উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের নামে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অমানবিক। এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল বরগুনায় গিয়ে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জমিজমা ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের দাবি, এলাকার কয়েকটি হিন্দু পরিবারের কয়েক কোটি টাকার জমি দখলের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে মামলাটি করা হয়েছে।
তবে জমি দখল ও মামলাটি সাজানোর অভিযোগের বিষয়ে মামলার বাদী সুভাষ ঘোষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বরগুনায় এক কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলায় কালবেলার প্রতিনিধি সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের সময় হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হেনস্তার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।
এদিকে সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিন শুনানি মঙ্গলবার হওয়ার কথা থাকলেও বাদীর উপস্থিতিতে শুনানির জন্য তা বুধবার পুনর্নির্ধারণ করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা।
সাংবাদিককে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হেনস্তা, অমানবিক আচরণ ও পুলিশ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গত ৩ অক্টোবর বরগুনায় গিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর এসআই হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।
পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
এর আগে গত ১ অক্টোবর রাতে সুভাষ ঘোষের দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলায় আসাদ সবুজসহ মোট ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়।
গ্রেপ্তারের পর আসাদ সবুজকে হ্যান্ডকাফ পরানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ বরগুনায় গিয়ে ঘটনার তদন্তের দাবি জানান।
গত রোববার (৪ অক্টোবর) বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসাদ সবুজের জামিন আবেদন করা হয়। আদালত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জামিন শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। পরে বাদীর উপস্থিতিতে শুনানির জন্য তা বুধবার পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
মামলার শুনানিতে আসাদ সবুজের পক্ষে অ্যাডভোকেট এম এ বারী মতিন এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের ও অ্যাডভোকেট বাবুল দাস উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের নামে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অমানবিক। এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল বরগুনায় গিয়ে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জমিজমা ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের দাবি, এলাকার কয়েকটি হিন্দু পরিবারের কয়েক কোটি টাকার জমি দখলের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে মামলাটি করা হয়েছে।
তবে জমি দখল ও মামলাটি সাজানোর অভিযোগের বিষয়ে মামলার বাদী সুভাষ ঘোষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৪৯
বরগুনার উপকূলজুড়ে প্রতিদিনই দৃশ্যপট বদলে দিচ্ছে নদী ও সাগরের ভাঙন। কোথাও জোয়ারের পানিতে হারিয়ে যাচ্ছে সৈকতের অংশ, কোথাও ঢেউয়ের আঘাতে উপড়ে পড়ছে ঝাউগাছ। আবার কোথাও বেড়িবাঁধের মাটি সরে গিয়ে বাড়ছে জনপদ প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা। দীর্ঘদিনের এ ভাঙনে ইতোমধ্যে বসতভিটা, ফসলি জমি, সড়ক ও জীবিকার নানা অবলম্বন হারাচ্ছেন উপকূলের মানুষ।
বরগুনা সদর, তালতলী, পাথরঘাটা ও আমতলী উপজেলার বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে সঙ্কুচিত হচ্ছে নলটোনা ইউনিয়ন। অন্যদিকে সাগরের ভাঙনে ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তালতলীর শুভসন্ধ্যা সৈকত ও সংলগ্ন ঝাউবন। ঢেউয়ের আঘাতে বালু সরে গিয়ে অনেক গাছের শিকড় বেরিয়ে পড়েছে। কোথাও গাছ উপড়ে পড়েছে, আবার কোথাও সৈকতের অংশ চলে গেছে পানির নিচে। লালদিয়া চরেও দেখা দিয়েছে ভাঙনের তীব্রতা। পর্যটনের সম্ভাবনাময় এসব এলাকা রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
নদী ও সাগরঘেঁষা বেড়িবাঁধ নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। অস্বাভাবিক জোয়ার, ঘূর্ণিঝড় ও নিম্নচাপের সময় দুর্বল বাঁধ দিয়ে পানি ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে। বাঁধ ভেঙে বা উপচে পানি ঢুকে পড়লে দ্রুত প্লাবিত হয় বসতবাড়ি ও ফসলের মাঠ। লবণাক্ত পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষিজমি ও মিঠাপানির উৎস।
স্থানীয় পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘন ঘন নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়, অস্বাভাবিক জোয়ার এবং ভূমিক্ষয়ের সম্মিলিত প্রভাবেই বরগুনার উপকূলের ঝুঁকি বাড়ছে। শুধু বাঁধ মেরামত করে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নদী-সাগরের গতিপথ, ভাঙনের ধরন ও ঝুঁকিপূর্ণ জনপদ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঝাউবন, ম্যানগ্রোভসহ প্রাকৃতিক প্রতিরোধব্যবস্থা রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, “বরগুনার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমরা সাধ্যমতো বাঁধ সুরক্ষার চেষ্টা করছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই বরগুনার জন্য কার্যক্রম শুরু করা যাবে।”
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাঙন দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে সাময়িক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ফলে এক মৌসুমে মেরামত করা বাঁধ পরের মৌসুমেই আবার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
পরিবেশবিদদের মতে, বরগুনার উপকূল রক্ষায় এখনই সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা, টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ভাঙন পর্যবেক্ষণ, প্রাকৃতিক বনাঞ্চল সংরক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনপদের জন্য আগাম সুরক্ষা পরিকল্পনা নিতে হবে। অন্যথায় উপকূলীয় জনপদ, কৃষি ও জীবিকার ওপর ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে।
বরগুনার উপকূলজুড়ে প্রতিদিনই দৃশ্যপট বদলে দিচ্ছে নদী ও সাগরের ভাঙন। কোথাও জোয়ারের পানিতে হারিয়ে যাচ্ছে সৈকতের অংশ, কোথাও ঢেউয়ের আঘাতে উপড়ে পড়ছে ঝাউগাছ। আবার কোথাও বেড়িবাঁধের মাটি সরে গিয়ে বাড়ছে জনপদ প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা। দীর্ঘদিনের এ ভাঙনে ইতোমধ্যে বসতভিটা, ফসলি জমি, সড়ক ও জীবিকার নানা অবলম্বন হারাচ্ছেন উপকূলের মানুষ।
বরগুনা সদর, তালতলী, পাথরঘাটা ও আমতলী উপজেলার বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে সঙ্কুচিত হচ্ছে নলটোনা ইউনিয়ন। অন্যদিকে সাগরের ভাঙনে ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তালতলীর শুভসন্ধ্যা সৈকত ও সংলগ্ন ঝাউবন। ঢেউয়ের আঘাতে বালু সরে গিয়ে অনেক গাছের শিকড় বেরিয়ে পড়েছে। কোথাও গাছ উপড়ে পড়েছে, আবার কোথাও সৈকতের অংশ চলে গেছে পানির নিচে। লালদিয়া চরেও দেখা দিয়েছে ভাঙনের তীব্রতা। পর্যটনের সম্ভাবনাময় এসব এলাকা রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
নদী ও সাগরঘেঁষা বেড়িবাঁধ নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। অস্বাভাবিক জোয়ার, ঘূর্ণিঝড় ও নিম্নচাপের সময় দুর্বল বাঁধ দিয়ে পানি ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে। বাঁধ ভেঙে বা উপচে পানি ঢুকে পড়লে দ্রুত প্লাবিত হয় বসতবাড়ি ও ফসলের মাঠ। লবণাক্ত পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষিজমি ও মিঠাপানির উৎস।
স্থানীয় পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘন ঘন নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়, অস্বাভাবিক জোয়ার এবং ভূমিক্ষয়ের সম্মিলিত প্রভাবেই বরগুনার উপকূলের ঝুঁকি বাড়ছে। শুধু বাঁধ মেরামত করে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নদী-সাগরের গতিপথ, ভাঙনের ধরন ও ঝুঁকিপূর্ণ জনপদ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঝাউবন, ম্যানগ্রোভসহ প্রাকৃতিক প্রতিরোধব্যবস্থা রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, “বরগুনার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমরা সাধ্যমতো বাঁধ সুরক্ষার চেষ্টা করছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই বরগুনার জন্য কার্যক্রম শুরু করা যাবে।”
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাঙন দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে সাময়িক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ফলে এক মৌসুমে মেরামত করা বাঁধ পরের মৌসুমেই আবার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
পরিবেশবিদদের মতে, বরগুনার উপকূল রক্ষায় এখনই সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা, টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ভাঙন পর্যবেক্ষণ, প্রাকৃতিক বনাঞ্চল সংরক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনপদের জন্য আগাম সুরক্ষা পরিকল্পনা নিতে হবে। অন্যথায় উপকূলীয় জনপদ, কৃষি ও জীবিকার ওপর ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে।

১৩ জুন, ২০২৫ ১৭:৪১
বরগুনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৯৩ জন রোগী। চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। শুধু বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে মারা গেছেন ৫ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত বরগুনায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৬৩১ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৪৩৮ জন। অন্যদিকে বরিশাল বিভাগের মধ্যে বরগুনা জেলাতেই আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ৫৫ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৯ জন। ১৫০ নার্সের স্থলে আছেন মাত্র ৬৬ জন। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত ৫৫টি বেডের বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য রোগে আক্রান্ত মিলিয়ে প্রতিদিন ভর্তি থাকছেন প্রায় ৫০০ জন রোগী। পাশাপাশি আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও প্রায় ৫০০ জন। ফলে চিকিৎসক ও নার্স সঙ্কটে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা।
গুরুতর অবস্থায় অনেক রোগীকে বরিশাল বা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। সম্প্রতি কলেজ ব্রাঞ্চ রোড এলাকার পাপড়ি বেগমকে (৬৫) ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। এর আগে খামারবাড়ি এলাকার স্কুলছাত্র ওমর আল আরাবি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হয়। একইভাবে আজমেরী মোনালিসা জেরিন নামে এক নারী উদ্যোক্তাও মৃত্যুবরণ করেন।
ডেঙ্গু আক্রান্ত দেড় বছরের শিশু আবদুল্লাহ নামে এক শিশুর মা শিল্পী বেগম বলেন, আমি ও আমার ছেলে দুনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা ও ওষুধ কিছুই পাইনি, সবকিছু বাইর থেকে কিনতে হচ্ছে। আমার স্বামী রিকশা চালায়, এত খরচ কিভাবে চালাবো?
অন্যদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মিজান রানা নামে এক রোগী অভিযোগ করে বলেন, ৪দিন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছি কিন্তু হাসপাতালে একটি নরমাল স্যালাইনও স্টকে নাই। এমনকি বাজারের কোনো ফার্মেসিতেও কিনতে পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়াও ডাক্তারও ঠিকমতো পাওয়া যায় না।
ডেঙ্গু আক্রান্তের তালিকায় এগিয়ে থাকা গৌরিচন্না এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আলিম বলেন, আমাদের এলাকাটি বরগুনা পৌরসভার একদম কাছাকাছি হওয়ায় ঘনবসতি বেশি। তারপরও ইউনিয়নে কোনো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেই।
এছাড়াও প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই এলাকার বিভিন্ন জায়গার ডোবা নালা ও নিচু জমিতে পানি জমে। আমার পরিবারের আমিসহ ৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হই। সবশেষ আমি ঢাকা পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরি।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ইশরাত জাহান বলেন, বর্তমানে আমাদের জনবল অনেক কম। প্রতিদিন যে হারে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে তা সামাল দেওয়া আমাদের পক্ষে খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা এবার কুরবানির ঈদেও ছুটি পাইনি।
পরিবার রেখে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছি। এক রোগী দেখে আরেকজনের কাছে যেতে দেরি হলে অনেক সময় শুনতে হয় নার্সদের ব্যবহার ভালো না। বরগুনায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও ১০০ শয্যার নার্স দিয়ে চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম। এতে প্রায় প্রতিদিন পাঁচ শতাধিকেরও বেশি ভর্তি রোগীদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় আমাদের।
সচেতনতার অভাব ও ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা বলে সচেতন নাগরিক কমিটির বরগুনা শাখার সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, বৃষ্টির পর শহরের অর্ধেক রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। জলাবদ্ধ পানি আর অপরিকল্পিত ড্রেন শহরকে মৃত্যু ফাঁদে পরিণত করেছে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
ডেঙ্গু পরিস্থিতির বিষয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম বলেন, বরগুনাতে ডেঙ্গুর পিক সিজন চলছে। ৫৫ বেডের অনুকূলে ভর্তির রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে আমাদের চিকিৎসকসহ নার্স সংখ্যাও কম।
হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে, প্রতি ঘরেই ডেঙ্গু রোগী আছে। দিনকে দিন এটি মহামারি আকার ধারণ করতে শুরু করেছে। আমরা বর্তমানে মহাবিপর্যয়ের সম্মুখীন, চিকিৎসা সেবা আমাদের সক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী বেড়ে যাওয়ার বিষয় জানতে চাইলে বরগুনার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ্ বলেন, হঠাৎ করে কেন বরগুনায় এত ডেঙ্গু আক্রান্ত এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন।
তবে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু বা এ ধরনের রোগের গবেষণামূলক কাজ করেন। তারা হয়তো এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলতে পারবেন। তবে শহরের পর্যাপ্ত পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা না থাকা, রোগীদের অসচেতনতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী না চলার কারণেও অনেকটা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মশারি ব্যবহার করতে বললেও তারা গুরুত্ব দেন না। ফলে একজনের থেকে অন্যজনের রোগের সৃষ্টি হয়। তাছাড়া বরগুনা ডায়রিয়াপ্রবণ এলাকা হওয়ায় প্রচুর ডাবের খোসা যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়। যে কারণে বর্ষার মৌসুমে পানি জমে এডিস মশার জন্ম বৃদ্ধি পায়।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, গত দুই মাস ধরেই বরগুনায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এর প্রেক্ষিতে আমরা কয়েকটি সভা করেছি। মশক নিধনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পৌরসভা কর্তৃপক্ষ অব্যাহত রেখেছে।
হাসপাতালের সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতালে চিকিৎসক এবং নার্স সঙ্কটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০৭
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:২০
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৪২
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:২৮