ছবি:সংগ্রহীত
পিরোজপুরে পাঁচ শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক। জেলার ৯৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৩৯টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলছে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে পদগুলো শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান। পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সহকারী শিক্ষকরা।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পিরোজপুরের সাত উপজেলায় মোট ৯৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদও ৯৮৯টি। এর বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৪৫০ জন প্রধান শিক্ষক এবং শূন্য রয়েছে ৫৩৯টি পদ। জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী রয়েছে এক লাখ ১১ হাজার ৫১ জন। তাঁদের পাঠদানে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে কর্মরত রয়েছেন ৫ হাজার ১৮৪ জন।
প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজও করতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে যাতায়াত করতে গিয়ে অনেক সময় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে অনুমোদিত পদের তুলনায় অর্ধেকেরও কম শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
৬৩ নম্বর বাশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সালমা সুলতানা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে সহকারী শিক্ষকদের। জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে।
৯১ নম্বর মধ্য পিরোজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুলতানা মমতাজ জানান, প্রতিদিন তাঁকে তিন থেকে চারটি ক্লাস নিতে হয়। এর পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। একজন সহকারী শিক্ষক চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকায় তাঁর ক্লাসও নিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে ক্লাস ও প্রশাসনিক কাজের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
৯০ নম্বর মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আকিকুন্নেছা বলেন, ২০২৪ সাল থেকে তাঁদের বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজও করতে হচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বখতিয়ার রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষকের পদগুলো শূন্য থাকায় শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এতে ২৪৫ জন শিক্ষক সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁদের পুলিশ ভেরিফিকেশন ও এনএসআই রিপোর্টের কার্যক্রম চলছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০৬
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় বিদ্যালয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ; ভুয়া বিল-ভাউচারে প্রায় ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন, রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার একটি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস. এম. মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ ও দুর্নীতিসহ ২৪টি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা প্রায় ৭৯ লাখ ৪ হাজার ৩৩০ টাকা ব্যাংকে জমা না দেওয়া, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন এবং সরকারের প্রায় ১২ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হাসিবুল হাসান স্বাক্ষরিত স্মারক নং-০৫.১০.৭৯১৪.০০০.০৭.০০১.২৬-৯৪২-এর মাধ্যমে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ওই নোটিশ জারি করা হয়।
নোটিশে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি ও বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করা আনুমানিক ৭৯ লাখ ৪ হাজার ৩৩০ টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা না দেওয়ার বিষয়টি। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে ব্যাংক হিসাব একক স্বাক্ষরে পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার ৭৫৪ টাকা উত্তোলন এবং নির্ধারিত সময়ে ২৪ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ টাকার হিসাব দিতে না পারার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি পিবিজিএসআই (PBGSI) প্রকল্পের ৫ লাখ টাকা বিধিবহির্ভূতভাবে ব্যয় না করে ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে ২০ জন সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রী, ছয়জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছাত্রী, শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাশাপাশি গত আড়াই বছরে উৎসে ভ্যাট ও আয়কর কর্তন না করে সরকারের প্রায় ১২ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। স্ট্যাম্প আইন অমান্য করে নগদ ভাউচারে স্ট্যাম্প ব্যবহার না করেও লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।
নোটিশে অর্থের বিনিময়ে নির্ধারিত রোল নম্বর অতিক্রম করে বেআইনিভাবে ছাত্রী ভর্তি, শিক্ষকদের মধ্যে উপবৃত্তির টাকা বিতরণ না করে আত্মসাৎ এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অনুমতি ছাড়া স্কুলের বেঞ্চ-টেবিল বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের বেঞ্চ ও টেবিল বাইরে নিয়ে গিয়ে মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকায় একটি হোটেল মালিকের কাছে বিক্রি করা হয়।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাসুমা সুলতানা আক্তারের ব্যক্তিগত বিষয়—বিয়ে, বয়স, গায়ের রং ও পোশাক নিয়ে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগও আনা হয়েছে।
এ ছাড়া পরিচালনা কমিটির সভাপতির অনুমোদন ছাড়া একক সিদ্ধান্তে সহকারী প্রধান শিক্ষককে বহিষ্কার এবং শিক্ষকদের বেতন ও বাড়িভাড়া ভাতা বেআইনিভাবে বন্ধ রাখার অভিযোগ রয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০২৪-এর ৫৩(২) বিধি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।
নোটিশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না কেন অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে না কেন, তার কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনে ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে চান কি না, সেটিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে বিধি অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় বিদ্যালয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ; ভুয়া বিল-ভাউচারে প্রায় ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন, রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার একটি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস. এম. মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ ও দুর্নীতিসহ ২৪টি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা প্রায় ৭৯ লাখ ৪ হাজার ৩৩০ টাকা ব্যাংকে জমা না দেওয়া, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন এবং সরকারের প্রায় ১২ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হাসিবুল হাসান স্বাক্ষরিত স্মারক নং-০৫.১০.৭৯১৪.০০০.০৭.০০১.২৬-৯৪২-এর মাধ্যমে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ওই নোটিশ জারি করা হয়।
নোটিশে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি ও বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করা আনুমানিক ৭৯ লাখ ৪ হাজার ৩৩০ টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা না দেওয়ার বিষয়টি। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে ব্যাংক হিসাব একক স্বাক্ষরে পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার ৭৫৪ টাকা উত্তোলন এবং নির্ধারিত সময়ে ২৪ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ টাকার হিসাব দিতে না পারার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি পিবিজিএসআই (PBGSI) প্রকল্পের ৫ লাখ টাকা বিধিবহির্ভূতভাবে ব্যয় না করে ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে ২০ জন সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রী, ছয়জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছাত্রী, শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাশাপাশি গত আড়াই বছরে উৎসে ভ্যাট ও আয়কর কর্তন না করে সরকারের প্রায় ১২ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। স্ট্যাম্প আইন অমান্য করে নগদ ভাউচারে স্ট্যাম্প ব্যবহার না করেও লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।
নোটিশে অর্থের বিনিময়ে নির্ধারিত রোল নম্বর অতিক্রম করে বেআইনিভাবে ছাত্রী ভর্তি, শিক্ষকদের মধ্যে উপবৃত্তির টাকা বিতরণ না করে আত্মসাৎ এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অনুমতি ছাড়া স্কুলের বেঞ্চ-টেবিল বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের বেঞ্চ ও টেবিল বাইরে নিয়ে গিয়ে মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকায় একটি হোটেল মালিকের কাছে বিক্রি করা হয়।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাসুমা সুলতানা আক্তারের ব্যক্তিগত বিষয়—বিয়ে, বয়স, গায়ের রং ও পোশাক নিয়ে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগও আনা হয়েছে।
এ ছাড়া পরিচালনা কমিটির সভাপতির অনুমোদন ছাড়া একক সিদ্ধান্তে সহকারী প্রধান শিক্ষককে বহিষ্কার এবং শিক্ষকদের বেতন ও বাড়িভাড়া ভাতা বেআইনিভাবে বন্ধ রাখার অভিযোগ রয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০২৪-এর ৫৩(২) বিধি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।
নোটিশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না কেন অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে না কেন, তার কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনে ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে চান কি না, সেটিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে বিধি অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
পিরোজপুরের নাজিরপুরে নিজের মেয়েকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগে অহিদুল মোল্লা নামের একজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন এলাকাবাসী।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত অহিদুল মোল্লা বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ডোবাতলা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে। তিনি নাজিরপুরের মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করেন। পেশায় একজন অটোচালক।
স্থানীয় বাসিন্দা হাসান মিয়াসহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, অহিদুলের প্রথম স্ত্রী কয়েক বছর আগে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পেই বিষপানে আত্মহত্যা করেন। প্রথম স্ত্রীর গর্ভে যমজ ছেলে ও ১২ বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। ভিকটিম শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর অহিদুল পুনরায় বিবাহ করেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রী বর্তমানে প্রবাসে থাকায় ঘরে তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন।
ভুক্তভোগী শিশু জানায়, তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে দীর্ঘ ৬ মাস ধরে ধর্ষণ করে আসছিলেন তার বাবা। দুই মাস আগে বিষয়টি দাদিকে জানালে তিনি কাউকে বলতে নিষেধ করেন। ঘটনা প্রকাশ করলে তাকে হত্যার হুমকি দেন অহিদুল। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সোমবার সকালে শিশুটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের কাছে বিষয়টি প্রকাশ করে। পরে অহিদুল বাড়িতে ফিরলে স্থানীয়রা তাকে গণটিুনি দেন। একপর্যায়ে অপরাধ স্বীকার করেন অহিদুল।
খবর পেয়ে নাজিরপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় অহিদুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি করা হয়।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ভিকটিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পিরোজপুরের নাজিরপুরে নিজের মেয়েকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগে অহিদুল মোল্লা নামের একজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন এলাকাবাসী।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত অহিদুল মোল্লা বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ডোবাতলা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে। তিনি নাজিরপুরের মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করেন। পেশায় একজন অটোচালক।
স্থানীয় বাসিন্দা হাসান মিয়াসহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, অহিদুলের প্রথম স্ত্রী কয়েক বছর আগে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পেই বিষপানে আত্মহত্যা করেন। প্রথম স্ত্রীর গর্ভে যমজ ছেলে ও ১২ বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। ভিকটিম শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর অহিদুল পুনরায় বিবাহ করেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রী বর্তমানে প্রবাসে থাকায় ঘরে তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন।
ভুক্তভোগী শিশু জানায়, তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে দীর্ঘ ৬ মাস ধরে ধর্ষণ করে আসছিলেন তার বাবা। দুই মাস আগে বিষয়টি দাদিকে জানালে তিনি কাউকে বলতে নিষেধ করেন। ঘটনা প্রকাশ করলে তাকে হত্যার হুমকি দেন অহিদুল। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সোমবার সকালে শিশুটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের কাছে বিষয়টি প্রকাশ করে। পরে অহিদুল বাড়িতে ফিরলে স্থানীয়রা তাকে গণটিুনি দেন। একপর্যায়ে অপরাধ স্বীকার করেন অহিদুল।
খবর পেয়ে নাজিরপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় অহিদুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি করা হয়।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ভিকটিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:২৩
পিরোজপুরের নেছারাবাদে মো. আবুল মল্লিক (৫৫) নামে এক অসহায় চা দোকানির লাশ নিজের দোকানের ভেতর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার জলাবাড়ী ইউনিয়নের কামারকাঠি ২ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, আবুল মল্লিক দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি অনেক সময় অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। পাশাপাশি সংসারে ছিল চরম অভাব-অনটন। একসময় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও প্রায় পাঁচ বছর ধরে অসুস্থ থাকায় সেই কাজ করতে পারতেন না। পরে ধারদেনা করে বাড়ির সামনে একটি ছোট চায়ের দোকান দেন। তবে দোকান থেকেও সংসারের অভাব দূর হয়নি।
নিহতের মেয়ের জামাই আবীর হোসেন জানান, গত মঙ্গলবার আবুল মল্লিককে হাতে রশি নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। প্রতিদিনের মতো রাতে তিনি নিজের চা দোকানেই ঘুমিয়ে ছিলেন। বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় তাকে ডাকতে যান স্বজনরা। একপর্যায়ে দোকানের ফাঁক দিয়ে গলায় লাইলনের রশি পেঁচানো অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হারুন বলেন, আবুল মল্লিক অত্যন্ত অসহায় ছিলেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পাশাপাশি সংসারে অভাব থাকায় তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের অনেক সময় ভিক্ষা করে সংসার চালাতে হয়েছে। গতকালও তাকে হাতে রশি নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে বলে জানান তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পিরোজপুরের নেছারাবাদে মো. আবুল মল্লিক (৫৫) নামে এক অসহায় চা দোকানির লাশ নিজের দোকানের ভেতর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার জলাবাড়ী ইউনিয়নের কামারকাঠি ২ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, আবুল মল্লিক দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি অনেক সময় অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। পাশাপাশি সংসারে ছিল চরম অভাব-অনটন। একসময় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও প্রায় পাঁচ বছর ধরে অসুস্থ থাকায় সেই কাজ করতে পারতেন না। পরে ধারদেনা করে বাড়ির সামনে একটি ছোট চায়ের দোকান দেন। তবে দোকান থেকেও সংসারের অভাব দূর হয়নি।
নিহতের মেয়ের জামাই আবীর হোসেন জানান, গত মঙ্গলবার আবুল মল্লিককে হাতে রশি নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। প্রতিদিনের মতো রাতে তিনি নিজের চা দোকানেই ঘুমিয়ে ছিলেন। বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় তাকে ডাকতে যান স্বজনরা। একপর্যায়ে দোকানের ফাঁক দিয়ে গলায় লাইলনের রশি পেঁচানো অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হারুন বলেন, আবুল মল্লিক অত্যন্ত অসহায় ছিলেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পাশাপাশি সংসারে অভাব থাকায় তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের অনেক সময় ভিক্ষা করে সংসার চালাতে হয়েছে। গতকালও তাকে হাতে রশি নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে বলে জানান তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৩১
পিরোজপুরে পাঁচ শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক। জেলার ৯৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৩৯টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলছে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে পদগুলো শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান। পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সহকারী শিক্ষকরা।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পিরোজপুরের সাত উপজেলায় মোট ৯৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদও ৯৮৯টি। এর বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৪৫০ জন প্রধান শিক্ষক এবং শূন্য রয়েছে ৫৩৯টি পদ। জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী রয়েছে এক লাখ ১১ হাজার ৫১ জন। তাঁদের পাঠদানে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে কর্মরত রয়েছেন ৫ হাজার ১৮৪ জন।
প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজও করতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে যাতায়াত করতে গিয়ে অনেক সময় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে অনুমোদিত পদের তুলনায় অর্ধেকেরও কম শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
৬৩ নম্বর বাশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সালমা সুলতানা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে সহকারী শিক্ষকদের। জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে।
৯১ নম্বর মধ্য পিরোজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুলতানা মমতাজ জানান, প্রতিদিন তাঁকে তিন থেকে চারটি ক্লাস নিতে হয়। এর পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। একজন সহকারী শিক্ষক চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকায় তাঁর ক্লাসও নিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে ক্লাস ও প্রশাসনিক কাজের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
৯০ নম্বর মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আকিকুন্নেছা বলেন, ২০২৪ সাল থেকে তাঁদের বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজও করতে হচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বখতিয়ার রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষকের পদগুলো শূন্য থাকায় শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এতে ২৪৫ জন শিক্ষক সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁদের পুলিশ ভেরিফিকেশন ও এনএসআই রিপোর্টের কার্যক্রম চলছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৩১
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৩১
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:১৭
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:১৫