পটুয়াখালীর সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের সঙ্গে ভুরিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও দীর্ঘ পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি।
সেতুর মূল কাঠামোর বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি। ফলে আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় কাঠের অস্থায়ী মই ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, নারী, শিশু ও রোগীদের জন্য এই পথ হয়ে উঠেছে অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
কুড়িপাইকা গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। ব্রিজে উঠতে গিয়ে কাঠের মই থেকে পা পিছলে পড়ে যাই। ভাগ্য ভালো বড় ধরনের আঘাত পাইনি। কিন্তু সেদিন আর হাসপাতালে যেতে পারিনি। আমাদের মতো বৃদ্ধ মানুষের জন্য এই ব্রিজ পার হওয়া খুবই কষ্টকর।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ব্রিজের কাজ শুরু হওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম কয়েক বছরের মধ্যেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি। এখন ব্রিজ আছে, কিন্তু ব্যবহার করা যায় না। এতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, কুড়িপাইকা, ভুরিয়া, পশ্চিম কুড়িপাইকা, পূর্ব কুড়িপাইকা, কমলাপুর, সৌলাসহ আশপাশের অন্তত আট গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং চাকরিজীবীদের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম।
কুড়িপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলে, প্রতিদিন স্কুলে যেতে ব্রিজ পার হতে হয়। মই বেয়ে উঠানামা করতে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে আরও বেশি সমস্যা হয়। অনেক সময় স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যায়।
একজন অভিভাবক আব্দুল মালেক বলেন, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। কখন যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়, সেই ভয় কাজ করে।
বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সেতুর আশপাশের সড়কে কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং কৃষিপণ্য পরিবহন করতেও দেখা দেয় নানা প্রতিবন্ধকতা।
স্থানীয় কৃষক হারুন মিয়া বলেন, আমাদের উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অনেক সমস্যা হয়। পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। অনেক সময় ন্যায্যমূল্যও পাওয়া যায় না।
মাছ ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, ভালো রাস্তা না থাকায় অনেক গাড়ি আসতে চায় না। এতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত ব্রিজের কাজ শেষ হলে এলাকার অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলছে প্রকল্পের কাজ। মাঝে কয়েক দফা কাজ বন্ধও ছিল। ফলে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হোক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী মীর বলেন, কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে সমস্যাগুলো সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়কসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেতুটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও সেতুটি চালু না হওয়ায় হতাশ স্থানীয়রা। তবে কর্তৃপক্ষের আশ্বাস বাস্তবে কত দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি ফিরে আসবে।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:২৫
পটুয়াখালীর বাউফলে গাছের ডাল মাথায় পড়ে মোসলেম উদ্দিন হাওলাদার (৬৫) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে বাউফল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মোসলেম উদ্দিন হাওলাদার ওই এলাকার মৃত আনালি হাওলাদারের ছেলে। তিনি পৌর বিএনপির সদস্য ছিলেন।
নিহতের ছেলে ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব মিজানুর রহমান জানান, কালাইয়ার এক ব্যক্তির কাছে তাঁদের বাড়ির কয়েকটি গাছ বিক্রি করা হয়েছিল। বুধবার দুপুরে এক কাঠুরিয়া গাছে উঠে একটি ডাল কাটেন। পরে আরেক কাঠুরিয়া রশি দিয়ে ডালটি বেঁধে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় গাছের অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর বাবা মোসলেম উদ্দিন হাওলাদারের মাথার ওপর ডালটি পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে তাঁকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইরফান উদ্দিন তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাউফল পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, মোসলেম উদ্দিন হাওলাদার পৌর বিএনপির সদস্য ছিলেন।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। পরিবারের কোনো আপত্তি না থাকায় এ ঘটনায় আইনি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
পটুয়াখালীর বাউফলে গাছের ডাল মাথায় পড়ে মোসলেম উদ্দিন হাওলাদার (৬৫) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে বাউফল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মোসলেম উদ্দিন হাওলাদার ওই এলাকার মৃত আনালি হাওলাদারের ছেলে। তিনি পৌর বিএনপির সদস্য ছিলেন।
নিহতের ছেলে ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব মিজানুর রহমান জানান, কালাইয়ার এক ব্যক্তির কাছে তাঁদের বাড়ির কয়েকটি গাছ বিক্রি করা হয়েছিল। বুধবার দুপুরে এক কাঠুরিয়া গাছে উঠে একটি ডাল কাটেন। পরে আরেক কাঠুরিয়া রশি দিয়ে ডালটি বেঁধে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় গাছের অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর বাবা মোসলেম উদ্দিন হাওলাদারের মাথার ওপর ডালটি পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে তাঁকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইরফান উদ্দিন তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাউফল পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, মোসলেম উদ্দিন হাওলাদার পৌর বিএনপির সদস্য ছিলেন।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। পরিবারের কোনো আপত্তি না থাকায় এ ঘটনায় আইনি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:১১
পটুয়াখালীর বাউফলে বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি, আসবাবপত্রসহ পুড়ে গেছে নিজের ও বোনের বিয়ের জন্য ১০ থেকে ১২ বছরে জমানো প্রায় সাত লাখ টাকা। এতে সর্বস্ব হারিয়ে পড়েছেন মোশাররফ হোসেনের (৩০) পরিবার।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলালিংক টাওয়ারসংলগ্ন এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ মোশাররফের বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও সফল হননি। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই ঘরের মালামাল, গবাদিপশু ও নগদ টাকা পুড়ে যায়।
মোশাররফ হোসেন জানান, কৃষিকাজের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে গরু-ছাগল পালন করে আসছেন তিনি। এর আগে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি হয়ে যাওয়ায় সেটি বিক্রি করে দেন। এরপর গবাদিপশু পালন শুরু করেন।
মোশাররফ বলেন, গত ১০ থেকে ১২ বছরে পাঁচটি গরু ও ৪০টির বেশি ছাগল বিক্রি করে প্রায় সাত লাখ টাকা জমিয়েছিলেন। নিজের ও বোনের বিয়ের খরচের জন্য টাকাগুলো ঘরে রেখেছিলেন। কিন্তু আগুনে তাঁর সব সঞ্চয় পুড়ে গেছে। প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের দুটি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি ও ঘরের আসবাবপত্রও আগুনে নষ্ট হয়েছে। এখন কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
বাউফল ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার ছাব্বির আহমেদ বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ১৮ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। পরে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের পর আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।
পটুয়াখালীর বাউফলে বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি, আসবাবপত্রসহ পুড়ে গেছে নিজের ও বোনের বিয়ের জন্য ১০ থেকে ১২ বছরে জমানো প্রায় সাত লাখ টাকা। এতে সর্বস্ব হারিয়ে পড়েছেন মোশাররফ হোসেনের (৩০) পরিবার।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলালিংক টাওয়ারসংলগ্ন এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ মোশাররফের বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও সফল হননি। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই ঘরের মালামাল, গবাদিপশু ও নগদ টাকা পুড়ে যায়।
মোশাররফ হোসেন জানান, কৃষিকাজের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে গরু-ছাগল পালন করে আসছেন তিনি। এর আগে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি হয়ে যাওয়ায় সেটি বিক্রি করে দেন। এরপর গবাদিপশু পালন শুরু করেন।
মোশাররফ বলেন, গত ১০ থেকে ১২ বছরে পাঁচটি গরু ও ৪০টির বেশি ছাগল বিক্রি করে প্রায় সাত লাখ টাকা জমিয়েছিলেন। নিজের ও বোনের বিয়ের খরচের জন্য টাকাগুলো ঘরে রেখেছিলেন। কিন্তু আগুনে তাঁর সব সঞ্চয় পুড়ে গেছে। প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের দুটি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি ও ঘরের আসবাবপত্রও আগুনে নষ্ট হয়েছে। এখন কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
বাউফল ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার ছাব্বির আহমেদ বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ১৮ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। পরে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের পর আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৫৬
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর ১০ মাস বয়সী শিশু রাইয়ানের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ঘুটাবাছা গ্রামে আল আমিনের বাড়ির পাশের একটি খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। রাইয়ান ওই গ্রামের রাসেল খানের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে বাবার সঙ্গে ঘরে ঘুমিয়ে ছিল রাইয়ান। এ সময় শিশুটির মা রুমানা বেগম ঘরের বাইরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে রাসেল ঘুম থেকে উঠে ঘরে তাঁর স্ত্রীর বোনের স্বামী আল আমিনকে দেখতে পান। এরপর তিনি আবার ঘুমিয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে আর খুঁজে পাননি।
এ ঘটনায় পারিবারিক বিরোধের জেরে আল আমিন শিশুটিকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেছে রাইয়ানের পরিবার। বৃহস্পতিবার রাতেই আল আমিনসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করে কলাপাড়া থানায় মামলা করেন রুমানা বেগম। এর আগে ওই দিন দুপুরে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে খাল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর ১০ মাস বয়সী শিশু রাইয়ানের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ঘুটাবাছা গ্রামে আল আমিনের বাড়ির পাশের একটি খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। রাইয়ান ওই গ্রামের রাসেল খানের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে বাবার সঙ্গে ঘরে ঘুমিয়ে ছিল রাইয়ান। এ সময় শিশুটির মা রুমানা বেগম ঘরের বাইরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে রাসেল ঘুম থেকে উঠে ঘরে তাঁর স্ত্রীর বোনের স্বামী আল আমিনকে দেখতে পান। এরপর তিনি আবার ঘুমিয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে আর খুঁজে পাননি।
এ ঘটনায় পারিবারিক বিরোধের জেরে আল আমিন শিশুটিকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেছে রাইয়ানের পরিবার। বৃহস্পতিবার রাতেই আল আমিনসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করে কলাপাড়া থানায় মামলা করেন রুমানা বেগম। এর আগে ওই দিন দুপুরে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে খাল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

১৫ জুন, ২০২৬ ১৫:০৪
পটুয়াখালীর সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের সঙ্গে ভুরিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও দীর্ঘ পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি।
সেতুর মূল কাঠামোর বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি। ফলে আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় কাঠের অস্থায়ী মই ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, নারী, শিশু ও রোগীদের জন্য এই পথ হয়ে উঠেছে অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
কুড়িপাইকা গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। ব্রিজে উঠতে গিয়ে কাঠের মই থেকে পা পিছলে পড়ে যাই। ভাগ্য ভালো বড় ধরনের আঘাত পাইনি। কিন্তু সেদিন আর হাসপাতালে যেতে পারিনি। আমাদের মতো বৃদ্ধ মানুষের জন্য এই ব্রিজ পার হওয়া খুবই কষ্টকর।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ব্রিজের কাজ শুরু হওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম কয়েক বছরের মধ্যেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি। এখন ব্রিজ আছে, কিন্তু ব্যবহার করা যায় না। এতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, কুড়িপাইকা, ভুরিয়া, পশ্চিম কুড়িপাইকা, পূর্ব কুড়িপাইকা, কমলাপুর, সৌলাসহ আশপাশের অন্তত আট গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং চাকরিজীবীদের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম।
কুড়িপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলে, প্রতিদিন স্কুলে যেতে ব্রিজ পার হতে হয়। মই বেয়ে উঠানামা করতে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে আরও বেশি সমস্যা হয়। অনেক সময় স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যায়।
একজন অভিভাবক আব্দুল মালেক বলেন, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। কখন যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়, সেই ভয় কাজ করে।
বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সেতুর আশপাশের সড়কে কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং কৃষিপণ্য পরিবহন করতেও দেখা দেয় নানা প্রতিবন্ধকতা।
স্থানীয় কৃষক হারুন মিয়া বলেন, আমাদের উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অনেক সমস্যা হয়। পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। অনেক সময় ন্যায্যমূল্যও পাওয়া যায় না।
মাছ ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, ভালো রাস্তা না থাকায় অনেক গাড়ি আসতে চায় না। এতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত ব্রিজের কাজ শেষ হলে এলাকার অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলছে প্রকল্পের কাজ। মাঝে কয়েক দফা কাজ বন্ধও ছিল। ফলে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হোক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী মীর বলেন, কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে সমস্যাগুলো সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়কসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেতুটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও সেতুটি চালু না হওয়ায় হতাশ স্থানীয়রা। তবে কর্তৃপক্ষের আশ্বাস বাস্তবে কত দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি ফিরে আসবে।
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:২০
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৬
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:১১
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৫৮