দেশবাসীর স্বপ্নের ‘পদ্মা সেতু’ চালুর পরে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে যাত্রী ভাটা দেখা দেয় এবং ক্রমাগত লোকসানের মুখে বেশ কয়েকজন মালিক তাদের লঞ্চ বন্ধ রাখেন। বর্তমানে প্রতিদিন দুই প্রান্ত থেকে রোটেশন করে দুটি বিলাসবহুল নৌযান সেবায় নিয়োজিত থাকলেও সংখ্যাগত দিক থেকে যাত্রী কম হওয়ায় লঞ্চের স্টাফ বিল-জ্বালানি খরচ পোষানো যাচ্ছে না। একাধিক মালিক যাত্রীসংকটে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তাদের নৌযান ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছেন। বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, বরিশাল-ঢাকা নৌপথে যাত্রী নেই এবং যেখানে বিলাসবহুল পরিবহনের সত্ত্বাধিকারীরা প্রতিদিন লোকসান গুণছেন জেনেও এই রুটে ১৫০ বছরের পুরানো স্টিমার ‘পিএস মাহসুদ’ চলতি মাসে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ আমলের এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে গিয়ে সরকারকে যাত্রীসাধারণকে ভোগানোর পাশাপাশি অতীতের ন্যায় লোকসানে একটি নতুন ক্ষেত্রে তৈরি করতে যাচ্ছে কী না তা নিয়ে লঞ্চ মালিকদের মধ্যে কানাঘুষা চলছে।
লঞ্চ মালিকেরা বলছেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে প্রতিদিন গড়ে ৬/৭ টি লঞ্চ যাত্রীসেবায় নিয়োজিত ছিল, এমনকি দুটি ঈদের আগে পরে বেশকিছু দিন ১০/১২ টি করেও চলেছে। এই সময়ে দুপুরের পর থেকে নৌবন্দর যাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠত। ২০২২ সালের ২৬ জুন সেতুটি যান চলাচলে উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে সপ্তাহখানের মধ্যে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে যাত্রীসংখ্যা হ্রাস পেতে থাকে। লোকসান কমাতে গত বছর রোটেশন করে ২/৩ টি লঞ্চ চালানোর সিদ্ধান্ত গৃহিত হলেও কোনো অবস্থায় মালিকদের আর্থিক উন্নতি হচ্ছে না। ফলে একে একে বেশ কয়েকটি লঞ্চ আর্থিক দৈন্যতার মুখে যাত্রীসেবা বন্ধ করে দেয়।
বর্তমানে সম্ভব্য লোকশানের বিষয়টি সম্পর্কে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ওয়াকিবহাল থাকলেও শক্তিহীন স্টিমার মাহসুদকে বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে যাত্রীসেবায় যুক্ত করা বড় ধরনের বোকামি মনে করা হচ্ছে। পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঐতিহ্য ধরে রাখতে গিয়ে সরকারকে লোকসানতো গুণতে হবে! পাশাপাশি যাত্রী সাধারণকেও ভুগতে হবে। কারণ, ব্রিটিশ আমলে ১৮৮৪ সালে যাত্রা শুরু করা স্টিমারটি বর্তমানে একদম বলহীন। তাছাড়া এই নৌযানটি অতীতে অসংখ্যবার মাঝনদীতে বিকল হয়ে যাত্রীদের বিড়ম্বনায় ফেলার একাধিক উদাহরণ রয়েছে, যা নিয়ে অনেকে তিক্ত-বিরক্ত।
লক্কর-ঝক্কর নৌযান মাহসুদ বর্তমানে রঙচঙে এসে অতীত ঐতিহ্য বহন করলেও ব্যক্তি মালিকানাধীন বিলাসবহুল লঞ্চগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে কী না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বিশেষ করে যাত্রাপথে স্টিমারটির ধীরগতিতে চলা এবং লঞ্চগুলোর তুলনায় বিলম্বে গন্তব্যে পৌছানো নিয়ে আগে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভও দেখা যেতো। তবে নতুন আঙ্গিকে আসার আগেই ব্যয় ও যাত্রী বিবেচনায় স্টিমারটিকে পর্যটক সার্ভিস হিসেবে সপ্তাহে একদিন শুক্রবার ঢাকা-বরিশাল নৌপথে চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকার আশপাশে প্রমোদভ্রমণের জন্য ভাড়া নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়।
আওয়ামী লীগ শাসনামলে ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দেড়শ বছরের রোগাক্রান্ত মাহসুদ আকস্মিক বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে সেবা দিতে গিয়ে ঐতিহ্যবাহী স্টিমারটি বিভিন্ন সময়ে মাঝনদীতে বহুবার বিকল হয়ে যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগে ফেলে দেয়। গত মে মাসে বরিশাল সফরকালে সেই ইতিহাস আবার ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন। এর পর থেকে বরিশালবাসী অধীর আগ্রহে ঐতিহ্যবাহী এই জলযান চালুর অপেক্ষা করছেন।
বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত কয়লাচালিত প্যাডেল স্টিমার প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ও পরে ঢাকা থেকে খুলনার নৌপথে চলাচল করত। পথে চাঁদপুর, বরিশাল, ঝালকাঠি, মোরেলগঞ্জ, হুলারহাট, সন্ন্যাসী, কাউখালী ঘাটে যাত্রাবিরতি দিত। ঔপনিবেশিক সময়ে খুলনার সঙ্গে ভারতের রেল যোগাযোগ শুরু হলে নৌপথে যাত্রী পরিবহন গুরুত্ব পায়। তখন বহরে ছিল ফ্লোটিলা কোম্পানির ১৪টি স্টিমার। পরে পিএস গাজী, পিএস অস্ট্রিচ, পিএস মাহসুদ, পিএস লেপচা, পিএস টার্ন, পিএস সেলার মতো ঐতিহ্যবাহী স্টিমারের সংযোজিত হয়।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, যাত্রী ও নাব্যতাসংকটে ২০১৯ সাল থেকে স্টিমার চলাচল সীমিত হয়ে যায়। খুলনার বদলে যাত্রা থেমে যায় মোরেলগঞ্জে। সর্বশেষ এমভি মধুমতি ও এমভি বাঙালী সপ্তাহে চার দিন ঢাকা-মোরেলগঞ্জ নৌপথে চলাচল করলেও শেষ যাত্রাটি ছিল ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর। স্টিমারগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তৎসময়ে লোকসান উল্লেখ করা হয়েছিল। এখন নতুন করে সপ্তাহে একদিন স্টিমার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগকে বরিশালবাসী সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি জলযানটি প্রতিদিন যাত্রীসেবায় নিয়োজিত রাখার দাবি তুলেছে, যা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) কর্মকর্তাদের ভাবিয়ে তুলেছে।
সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, শত বছরের পুরোনো স্টিমারগুলো এখন অনেকটা শক্তিহীন, মেরামত করে পরিচালনার উদ্যোগ নিলেও আগের শক্তিতে ফিরতে পারবে না। তাছাড়া এসব স্টিমারে যাত্রা সময়সাপেক্ষ। যাত্রীদের অবারিত সময় না থাকলে স্টিমারে উঠতে চাইবেন না। ফলশ্রুতিতে ব্যয় পোষানোও অসম্ভব হয়ে পড়বে, সরকারকে লোকসান গুণতে হবে। সুতরাং ক্ষেত্রে আবেগ নয়, বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।
অনুরূপ আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসি পরিচালক (বাণিজ্য) এসএম আশিকুজ্জামান। এই কর্মকর্তা বলেন, চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিনে দুটি স্টিমারের পুনর্বাসনকাজ শেষ হয়েছে, ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে পানিতে চালানো হয়েছে। সাজসজ্জার কিছু কাজ বাকি, এখন সেগুলো চলছে। এরপর সার্ভেসহ অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে চলতি মাসের শেষের দিকে একটি স্টিমার ঢাকা-বরিশাল নৌপথে যুক্ত হবে। এবং আপাতত একটি স্টিমার সপ্তাহে এক দিন শুক্রবার যাত্রী পরিবহন করবে। এছাড়া ঢাকার আশপাশে কেউ ভাড়া নিয়ে ভ্রমণ করতে চাইলে সেই সুযোগ রাখা হবে।
বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে যেখানে বিলাসবহুল লঞ্চগুলো যাত্রীসংকটে ধুকছে সেখানে স্টিমারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে গিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জনগণের অর্থ নদীতে ঢালতে যাচ্ছে কী না তা নিয়েও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানান আলোচনায় শোনা যায়। এনিয়ে বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য না করলেও লঞ্চ মালিকেরা বলছেন, বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে সপ্তাহে দুদিন শুক্র-শনিবার কিছু যাত্রী হয়। যাত্রীরা সাধারণত সেবার মান বিবেচনা করেন এবং নিরাপদ ভ্রমণ করতে বিলাসবহুল লঞ্চগুলোকে বেচে নেন। এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে দুর্বলগতির স্টিমার মাহসুদ নতুন আঙ্গিকে এসে বিলাসবহুল এমভি এম খান, সুরভী, সুন্দরবনের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে কী না সেটা দেখার বিষয়।’

১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৪১
রেট চার্ট না টাঙিয়ে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ, বিআইডব্লিউটিএ’র রহস্যজনক ভূমিকায় পরিবহন মালিক শ্রমিকদের ক্ষোভ।
বরিশালের লাহারহাট ফেরিঘাটে ইজারা উত্তোলনের পাশাপাশি স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছেন। অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার পাশাপাশি চাঁদপুরা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল খান লোকজন দিয়ে পরিবহন সিরিয়ালের নামে ১০০ করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। প্রতিদিন অন্তত শতাধিক পরিবহন থেকে অবৈধভাবে উত্তেলিত এই ১০ হাজারের বেশি টাকা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং নিজেদের মধ্যেকার ভাগবাটোয়ারা করছেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবহন মালিক শ্রমিকসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ক্ষোভ থাকলেও বিএনপি নেতা সাইফুলের প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খোলার সাহস দেখাচ্ছেন না।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ইজারাদার ও বরিশাল বন্দর বিভাগের যোগসাজোসে আওয়ামী লীগের শাসনামলেও এই ধরনের চাঁদাবাজি সদর উপজেলার লাহারহাট ফেরিঘাটে চলছিল। এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে ক্ষমতার পালাবদল হলে পরিবহন মালিক শ্রমিক এবং স্থানীয়দের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে মুখে পড়েন তৎকালীন ইজারাদার রেজাউল। তখন এনিয়ে তুমুল বিতর্কের একপর্যায়ে সেনাবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবৈধভাবে পরিবহন থেকে ১০০ টাকা করে উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। সূত্র জানায়, এরপরে বরিশাল মহানগর ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মো. কামরুজ্জামান দীর্ঘ এক বছর ঘাটটি পরিচালনা করলেও তিনি এই অবৈধ টাকা বা অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন বন্ধ রেখেছিলেন।
পরিবহন মালিক শ্রমিকদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরে সিরিয়ালের নামে ১০০ টাকা নেওয়া বন্ধ ছিল, এমনকি পরিবহন থেকেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়নি। কিন্তু চলতি বছরের জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে ইজারাদার স্থানীয় বিএনপি নেতা সাইফুল খান এই চাঁদাবাজির রীতি ফের চালু করাসহ প্রতিটি পরিবহন থেকে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করছেন।
বিএনপি নেতার সাথে এই চাঁদাবাজিতে সামিল আছেন সাবেক ইজারাদার রেজাউল ইসলাম। তাকে আওয়ামী দোসর বলা হয় এবং তিনিই মূলত সাইফুলকে অবৈধপন্থায় অর্থ উপার্জনের পথ বাতলে দেন। তাদের দুজনের নির্দেশনার আলোকে মাঠপর্যায়ে অর্থাৎ ঘাটে চাঁদাবাজিতে নিয়োজিত আছেন আল আমিন, সাইদুল এবং পরশ নামের তিন যুবক।
শুক্রবার সরেজমিনে গেলে খোদ ইজারাদারের এই চাঁদাজিবর বিষয়টি প্রত্যক্ষ করা যায়। এবং ইজারা উত্তোলনে নিয়োজিত রাহান নামের এক যুবক স্বীকারও করেন প্রতি গাড়ি থেকে ১০০ টাকা হারে নেওয়া হয়, যা আল আমিন, সাইদুল এবং পরশ তুলে থাকেন। এই সংক্রান্ত একটি গোপন ভিডিও এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
ইজারাদার বিএনপি নেতা সাইফুলের এই চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় একাধিক বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, পরিবহন থেকে ৭৫ টাকা করে ইজারা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তারা অনেক বেশি নিচ্ছেন, এমনকি কখনও কখনও ১৫০ থেকে ২০০ টাকা টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। যদি কোনো পরিবহন শ্রমিক তাদের প্রত্যাশিত অর্থ না দেন, তখন তাদের গালিগালাজ করাসহ শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়। এক মাসের অধিক সময় ধরে লাহারহাট ফেরিঘাট কেন্দ্রিক এই চাঁদাবাজি চললেও সংশ্লিষ্ট বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ তা রোহিতকরণে কোনো ভূমিকা রাখছে না, এমনকি তাদের অবহিত করা হলেও রহস্যজনক কারণে প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।
অথচ সরকারি আইন অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএ’র প্রতিটি ঘাটে রেট চার্ট ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বরিশাল বন্দর বিভাগকে দীর্ঘদিনেও এই ধরনের কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এক্ষেত্রে কজন সাবেক ইজারাদারের অভিযোগ হচ্ছে, রেট চার্ট টাঙিয়ে রাখলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি করা সম্ভব নয়। এই কারণে রেট চার্ট না টাঙিয়ে ইজারাদার পরিবহন মালিক শ্রমিকদের জিম্মি করছে, অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এবং দিন বা মাস থেকে ভাগবাটোয়ার অর্থ তাদের কাছেও পৌছে যায়, যাচ্ছে।
পরিবহন থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সিরিয়ালের নামে প্রতি পরিবহন থেকে ১০০ টাকা চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে ইজারাদার বিএনপি নেতা সাইফুল খানকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
এর আগে তার সহযোগী রেজাউলকে ফোন করা হলে তিনি অভিযোগসমূহ মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করলেও কিছুক্ষণ পরে বলেন ঘাট মালিকই তিনি নন। অবশ্য তার কিছুক্ষণ পরেই আবার এই রেজাউল এ প্রতিবেদককে ফোন করে সাক্ষাৎ করে চা খাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং তিনি এবার নিজেকে ঘাট ইজারাদার পরিচয় দেন। তাহলে প্রথমে অস্বীকার করলেন কেনো প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে তিনি তালগোল পাকিয়ে ফেলেন এবং মোবাইল সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ফেরিঘাট ইজারা নিয়ে বিএনপি নেতা সাইফুলের এই চাঁদাবাজি সম্পর্কে মোটেও ওয়াকিবহাল নন বলে জানিয়েছেন বরিশাল বন্দর কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজির ভাগ নেওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করে তিনি বলছেন, আগে এগুলো ছিল, কিন্তু ৫ আগস্টের পরেতো বন্ধ হয়েছে। এখন যেহেতু নতুন করে ইজারাদারের বিরুদ্ধে সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি এবং অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ এসেছে, সেক্ষেত্রে তাদের নোটিস দেওয়া হবে। পাশাপাশি ফেরিঘাটে একটি রেট চার্ট ঝুলিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ১ জুলাই ইজারা কার্যকরের দিন থেকে রেট চার্ট কেনো লাগানো হয়নি প্রশ্ন করা হলেও বন্দর কর্মকর্তা প্রতিত্তোরে বলেন, রোববার অফিস খোলার দিনে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
সূত্রের খবর হচ্ছে, বরিশাল বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন ৭৫টির বেশি ঘাট বা ইজারা পয়েন্ট রয়েছে। কিন্তু একটিতেও রেট চার্ট টাঙানো হয়নি। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অভিযোগ, রেট চার্ট টাঙানো হলে সিরিয়ালের নামে বাণিজ্য এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবেÑ এমন শঙ্কায় ইজারাদার ও বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা যোগসাজোস করে সবকিছু আড়ালে রাখছেন।’
রেট চার্ট না টাঙিয়ে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ, বিআইডব্লিউটিএ’র রহস্যজনক ভূমিকায় পরিবহন মালিক শ্রমিকদের ক্ষোভ।
বরিশালের লাহারহাট ফেরিঘাটে ইজারা উত্তোলনের পাশাপাশি স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছেন। অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার পাশাপাশি চাঁদপুরা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল খান লোকজন দিয়ে পরিবহন সিরিয়ালের নামে ১০০ করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। প্রতিদিন অন্তত শতাধিক পরিবহন থেকে অবৈধভাবে উত্তেলিত এই ১০ হাজারের বেশি টাকা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং নিজেদের মধ্যেকার ভাগবাটোয়ারা করছেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবহন মালিক শ্রমিকসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ক্ষোভ থাকলেও বিএনপি নেতা সাইফুলের প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খোলার সাহস দেখাচ্ছেন না।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ইজারাদার ও বরিশাল বন্দর বিভাগের যোগসাজোসে আওয়ামী লীগের শাসনামলেও এই ধরনের চাঁদাবাজি সদর উপজেলার লাহারহাট ফেরিঘাটে চলছিল। এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে ক্ষমতার পালাবদল হলে পরিবহন মালিক শ্রমিক এবং স্থানীয়দের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে মুখে পড়েন তৎকালীন ইজারাদার রেজাউল। তখন এনিয়ে তুমুল বিতর্কের একপর্যায়ে সেনাবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবৈধভাবে পরিবহন থেকে ১০০ টাকা করে উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। সূত্র জানায়, এরপরে বরিশাল মহানগর ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মো. কামরুজ্জামান দীর্ঘ এক বছর ঘাটটি পরিচালনা করলেও তিনি এই অবৈধ টাকা বা অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন বন্ধ রেখেছিলেন।
পরিবহন মালিক শ্রমিকদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরে সিরিয়ালের নামে ১০০ টাকা নেওয়া বন্ধ ছিল, এমনকি পরিবহন থেকেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়নি। কিন্তু চলতি বছরের জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে ইজারাদার স্থানীয় বিএনপি নেতা সাইফুল খান এই চাঁদাবাজির রীতি ফের চালু করাসহ প্রতিটি পরিবহন থেকে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করছেন।
বিএনপি নেতার সাথে এই চাঁদাবাজিতে সামিল আছেন সাবেক ইজারাদার রেজাউল ইসলাম। তাকে আওয়ামী দোসর বলা হয় এবং তিনিই মূলত সাইফুলকে অবৈধপন্থায় অর্থ উপার্জনের পথ বাতলে দেন। তাদের দুজনের নির্দেশনার আলোকে মাঠপর্যায়ে অর্থাৎ ঘাটে চাঁদাবাজিতে নিয়োজিত আছেন আল আমিন, সাইদুল এবং পরশ নামের তিন যুবক।
শুক্রবার সরেজমিনে গেলে খোদ ইজারাদারের এই চাঁদাজিবর বিষয়টি প্রত্যক্ষ করা যায়। এবং ইজারা উত্তোলনে নিয়োজিত রাহান নামের এক যুবক স্বীকারও করেন প্রতি গাড়ি থেকে ১০০ টাকা হারে নেওয়া হয়, যা আল আমিন, সাইদুল এবং পরশ তুলে থাকেন। এই সংক্রান্ত একটি গোপন ভিডিও এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
ইজারাদার বিএনপি নেতা সাইফুলের এই চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় একাধিক বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, পরিবহন থেকে ৭৫ টাকা করে ইজারা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তারা অনেক বেশি নিচ্ছেন, এমনকি কখনও কখনও ১৫০ থেকে ২০০ টাকা টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। যদি কোনো পরিবহন শ্রমিক তাদের প্রত্যাশিত অর্থ না দেন, তখন তাদের গালিগালাজ করাসহ শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়। এক মাসের অধিক সময় ধরে লাহারহাট ফেরিঘাট কেন্দ্রিক এই চাঁদাবাজি চললেও সংশ্লিষ্ট বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ তা রোহিতকরণে কোনো ভূমিকা রাখছে না, এমনকি তাদের অবহিত করা হলেও রহস্যজনক কারণে প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।
অথচ সরকারি আইন অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএ’র প্রতিটি ঘাটে রেট চার্ট ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বরিশাল বন্দর বিভাগকে দীর্ঘদিনেও এই ধরনের কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এক্ষেত্রে কজন সাবেক ইজারাদারের অভিযোগ হচ্ছে, রেট চার্ট টাঙিয়ে রাখলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি করা সম্ভব নয়। এই কারণে রেট চার্ট না টাঙিয়ে ইজারাদার পরিবহন মালিক শ্রমিকদের জিম্মি করছে, অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এবং দিন বা মাস থেকে ভাগবাটোয়ার অর্থ তাদের কাছেও পৌছে যায়, যাচ্ছে।
পরিবহন থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সিরিয়ালের নামে প্রতি পরিবহন থেকে ১০০ টাকা চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে ইজারাদার বিএনপি নেতা সাইফুল খানকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
এর আগে তার সহযোগী রেজাউলকে ফোন করা হলে তিনি অভিযোগসমূহ মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করলেও কিছুক্ষণ পরে বলেন ঘাট মালিকই তিনি নন। অবশ্য তার কিছুক্ষণ পরেই আবার এই রেজাউল এ প্রতিবেদককে ফোন করে সাক্ষাৎ করে চা খাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং তিনি এবার নিজেকে ঘাট ইজারাদার পরিচয় দেন। তাহলে প্রথমে অস্বীকার করলেন কেনো প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে তিনি তালগোল পাকিয়ে ফেলেন এবং মোবাইল সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ফেরিঘাট ইজারা নিয়ে বিএনপি নেতা সাইফুলের এই চাঁদাবাজি সম্পর্কে মোটেও ওয়াকিবহাল নন বলে জানিয়েছেন বরিশাল বন্দর কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজির ভাগ নেওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করে তিনি বলছেন, আগে এগুলো ছিল, কিন্তু ৫ আগস্টের পরেতো বন্ধ হয়েছে। এখন যেহেতু নতুন করে ইজারাদারের বিরুদ্ধে সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি এবং অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ এসেছে, সেক্ষেত্রে তাদের নোটিস দেওয়া হবে। পাশাপাশি ফেরিঘাটে একটি রেট চার্ট ঝুলিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ১ জুলাই ইজারা কার্যকরের দিন থেকে রেট চার্ট কেনো লাগানো হয়নি প্রশ্ন করা হলেও বন্দর কর্মকর্তা প্রতিত্তোরে বলেন, রোববার অফিস খোলার দিনে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
সূত্রের খবর হচ্ছে, বরিশাল বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন ৭৫টির বেশি ঘাট বা ইজারা পয়েন্ট রয়েছে। কিন্তু একটিতেও রেট চার্ট টাঙানো হয়নি। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অভিযোগ, রেট চার্ট টাঙানো হলে সিরিয়ালের নামে বাণিজ্য এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবেÑ এমন শঙ্কায় ইজারাদার ও বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা যোগসাজোস করে সবকিছু আড়ালে রাখছেন।’

১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:২৭
বরিশাল জেনারেল (সদর) হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। শনিবার (১৫ আগস্ট) তিনি হাসপাতালটি পরিদর্শন করে চিকিৎসাসেবা, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে এ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি রোগীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তারা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন কি না, সে বিষয়েও জানতে চান। রোগীরা হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার কথা তার কাছে তুলে ধরেন।
এ সময় তিনি কর্তব্যরত ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রাপ্যতা, রোগীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যাসহ সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তিনি হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি ও রোগীদের সেবাদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নানা প্রতিবন্ধকতার বিষয়েও বিস্তারিত খোঁজ নেন।
এ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের প্রতি আরও আন্তরিক ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের কর্মপরিবেশের উন্নয়নের পাশাপাশি রোগীদের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও মানসম্মত চিকিৎসা পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মাহমুদ হোসেন দুলাল, কোতয়ালী উত্তর থানা সেক্রেটারি হাফেজ জাবের হাসান, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি জিল্লুর রহমানসহ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে এ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল রোগীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
বরিশাল জেনারেল (সদর) হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। শনিবার (১৫ আগস্ট) তিনি হাসপাতালটি পরিদর্শন করে চিকিৎসাসেবা, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে এ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি রোগীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তারা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন কি না, সে বিষয়েও জানতে চান। রোগীরা হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার কথা তার কাছে তুলে ধরেন।
এ সময় তিনি কর্তব্যরত ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রাপ্যতা, রোগীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যাসহ সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তিনি হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি ও রোগীদের সেবাদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নানা প্রতিবন্ধকতার বিষয়েও বিস্তারিত খোঁজ নেন।
এ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের প্রতি আরও আন্তরিক ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের কর্মপরিবেশের উন্নয়নের পাশাপাশি রোগীদের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও মানসম্মত চিকিৎসা পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মাহমুদ হোসেন দুলাল, কোতয়ালী উত্তর থানা সেক্রেটারি হাফেজ জাবের হাসান, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি জিল্লুর রহমানসহ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে এ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল রোগীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:১৩
আজ ১৫ আগস্ট, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন। ১৯৪৫ সালের এই দিনে অবিভক্ত ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পারিবারিক নাম খালেদা খানম, ডাকনাম পুতুল। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনীতে। জলপাইগুড়িতে বোনের বাসায় থেকে তিনি পড়ালেখা করেন। পরে সেখানেই চা ব্যবসায় জড়ান ইস্কান্দার; বিয়েও করেন তিস্তাপাড়ের শহরটিতে। খালেদা জিয়ার মায়ের নাম বেগম তৈয়বা মজুমদার। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর খালেদা জিয়ার পরিবার বাংলাদেশের দিনাজপুর শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। সেখানে মিশনারি স্কুলে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোনোর পর দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। তার শৈশব-কৈশোর কাটে দিনাজপুরে বাবার কর্মস্থলে। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে খালেদা জিয়া তৃতীয়।
১৯৬০ সালের আগস্ট মাসে তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বেগম খালেদা জিয়া। এ দম্পতির কোলজুড়ে আসে ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর তারেক রহমান এবং ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট আরাফাত রহমান কোকো। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের নামে বর্বরোচিত গণহত্যা শুরু করলে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি সেনারা বিদ্রোহ করেন। ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে জিয়াউর রহমান ঘোষণায় স্বাধীনতার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এ দেশের মানুষ।
এ সময় বেগম খালেদা জিয়া দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে স্বামী জিয়াউর রহমানের সঙ্গে চট্টগ্রামের ষোলশহরে বাস করতেন। সেই সময়ের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহের পর খালেদা জিয়া, পাকিস্তানি কমান্ডার আমাদের অষ্টম বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডার সোহরাব হোসেনসহ সেনাবাহিনীর সৈনিকদের নিরস্ত্র করার চেষ্টা করছিল। সেই সময় খালেদা জিয়া প্রথম বলেছিলেন, ‘তোমরা অস্ত্র সমর্পণ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না জিয়াউর রহমান ফিরে আসেন।’ এ-ই দিয়ে তার শুরু।’’
মুক্তিযুদ্ধ প্রারম্ভকালে খালেদা জিয়া কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর চট্টগ্রাম থেকে ১৬ মে নৌপথে ঢাকায় আসেন। ১৭ জুন দুই শিশুসন্তান তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোসহ তাকে আটক করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। ছয় মাস বন্দি থাকার পর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে মুক্ত হন। মুক্তিযুদ্ধে খালেদা জিয়া ও তার শিশুসন্তানের ত্যাগ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা এবং তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো শিশু মুক্তিযোদ্ধা।’
১৯৮১ সালের ৩০ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশি-বিদেশি চক্রান্তে বিপথগামী সেনাসদস্যদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন। এর পর জিয়াউর রহমানের গড়া বিএনপির রাজনীতিতে আগমন ঘটে খালেদা জিয়ার। দলের নেতাকর্মীদের দাবির মুখে ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি তিনি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হন।
স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী দীর্ঘ আপসহীন আন্দোলনের পর ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এ পর্যন্ত তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন খালেদা জিয়া। ১৯৯৩ সালে তিনি সার্কের প্রথম মহিলা চেয়ারপারসন হন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট নির্বাচনে জয়লাভের পর তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে।
ওয়ান-ইলেভেনের পর মইন-ফখরুদ্দীন সরকার ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তাকে কারাবন্দি করে। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কারাভোগ করেন তিনি। সেবার কারাগারে প্রথম জন্মদিন কেটেছে তার। কারাগারে থাকা অবস্থায় তার অনড় মনোভাবের কারণে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় মইন-ফখরুদ্দীন সরকার।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি কাক্সিক্ষত ফল না পেয়ে সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়। সেই থেকে সরকারি দলের দমন-পীড়ন ও মামলা-হামলার বৃত্তে বন্দি দেশের অন্যতম বৃহৎ এই রাজনৈতিক দল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন বর্জন করে দলটি। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় অন্যায়ভাবে বেগম জিয়াকে সাজা দেওয়া হয়।
করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে দেয়নি হাসিনা সরকার। কয়েক দফায় লিভার সিরোসিস, হার্টের জটিলতাসহ নানা রোগে আক্রান্ত বেগম খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে পালিয়ে ভারতে অবস্থান করলে, বেগম খালেদা জিয়ার সাজা বাতিল করেন রাষ্ট্রপতি। উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে যুক্তরাজ্যে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি দেশে ফেরেন। নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া মারা যান। তার মৃত্যুর সংবাদ দেশি গণমাধ্যম আট কলামে ফলাও করে নানা শিরোনামে প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যÑ ‘অভিভাবক হারাল বাংলাদেশ’, ‘মহাকালে মহাপ্রস্থান’, ‘আপসহীন অভিযাত্রার সমাপ্তি’ ইত্যাদি। পরদিন প্রায় কোটি মানুষের অংশগ্রহণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ দাফন করা হয়।
তাকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি বলেন, ’৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দেশ ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব তার নামের পাশে দেশনেত্রীর সঙ্গে গণতন্ত্রের মাতা উপাধি যোগ হয়েছে।’ তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিএনপির চেয়ারপারসন ছিলেন। বর্তমানে দলটির চেয়ারম্যান তার বড় সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আজ শনিবার সারাদেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করবে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে অথবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের অনুষ্ঠান হবে। আর ঢাকায় বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। এ কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।’
আজ ১৫ আগস্ট, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন। ১৯৪৫ সালের এই দিনে অবিভক্ত ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পারিবারিক নাম খালেদা খানম, ডাকনাম পুতুল। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনীতে। জলপাইগুড়িতে বোনের বাসায় থেকে তিনি পড়ালেখা করেন। পরে সেখানেই চা ব্যবসায় জড়ান ইস্কান্দার; বিয়েও করেন তিস্তাপাড়ের শহরটিতে। খালেদা জিয়ার মায়ের নাম বেগম তৈয়বা মজুমদার। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর খালেদা জিয়ার পরিবার বাংলাদেশের দিনাজপুর শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। সেখানে মিশনারি স্কুলে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোনোর পর দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। তার শৈশব-কৈশোর কাটে দিনাজপুরে বাবার কর্মস্থলে। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে খালেদা জিয়া তৃতীয়।
১৯৬০ সালের আগস্ট মাসে তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বেগম খালেদা জিয়া। এ দম্পতির কোলজুড়ে আসে ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর তারেক রহমান এবং ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট আরাফাত রহমান কোকো। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের নামে বর্বরোচিত গণহত্যা শুরু করলে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি সেনারা বিদ্রোহ করেন। ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে জিয়াউর রহমান ঘোষণায় স্বাধীনতার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এ দেশের মানুষ।
এ সময় বেগম খালেদা জিয়া দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে স্বামী জিয়াউর রহমানের সঙ্গে চট্টগ্রামের ষোলশহরে বাস করতেন। সেই সময়ের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহের পর খালেদা জিয়া, পাকিস্তানি কমান্ডার আমাদের অষ্টম বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডার সোহরাব হোসেনসহ সেনাবাহিনীর সৈনিকদের নিরস্ত্র করার চেষ্টা করছিল। সেই সময় খালেদা জিয়া প্রথম বলেছিলেন, ‘তোমরা অস্ত্র সমর্পণ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না জিয়াউর রহমান ফিরে আসেন।’ এ-ই দিয়ে তার শুরু।’’
মুক্তিযুদ্ধ প্রারম্ভকালে খালেদা জিয়া কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর চট্টগ্রাম থেকে ১৬ মে নৌপথে ঢাকায় আসেন। ১৭ জুন দুই শিশুসন্তান তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোসহ তাকে আটক করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। ছয় মাস বন্দি থাকার পর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে মুক্ত হন। মুক্তিযুদ্ধে খালেদা জিয়া ও তার শিশুসন্তানের ত্যাগ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা এবং তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো শিশু মুক্তিযোদ্ধা।’
১৯৮১ সালের ৩০ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশি-বিদেশি চক্রান্তে বিপথগামী সেনাসদস্যদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন। এর পর জিয়াউর রহমানের গড়া বিএনপির রাজনীতিতে আগমন ঘটে খালেদা জিয়ার। দলের নেতাকর্মীদের দাবির মুখে ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি তিনি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হন।
স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী দীর্ঘ আপসহীন আন্দোলনের পর ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এ পর্যন্ত তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন খালেদা জিয়া। ১৯৯৩ সালে তিনি সার্কের প্রথম মহিলা চেয়ারপারসন হন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট নির্বাচনে জয়লাভের পর তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে।
ওয়ান-ইলেভেনের পর মইন-ফখরুদ্দীন সরকার ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তাকে কারাবন্দি করে। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কারাভোগ করেন তিনি। সেবার কারাগারে প্রথম জন্মদিন কেটেছে তার। কারাগারে থাকা অবস্থায় তার অনড় মনোভাবের কারণে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় মইন-ফখরুদ্দীন সরকার।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি কাক্সিক্ষত ফল না পেয়ে সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়। সেই থেকে সরকারি দলের দমন-পীড়ন ও মামলা-হামলার বৃত্তে বন্দি দেশের অন্যতম বৃহৎ এই রাজনৈতিক দল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন বর্জন করে দলটি। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় অন্যায়ভাবে বেগম জিয়াকে সাজা দেওয়া হয়।
করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে দেয়নি হাসিনা সরকার। কয়েক দফায় লিভার সিরোসিস, হার্টের জটিলতাসহ নানা রোগে আক্রান্ত বেগম খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে পালিয়ে ভারতে অবস্থান করলে, বেগম খালেদা জিয়ার সাজা বাতিল করেন রাষ্ট্রপতি। উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে যুক্তরাজ্যে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি দেশে ফেরেন। নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া মারা যান। তার মৃত্যুর সংবাদ দেশি গণমাধ্যম আট কলামে ফলাও করে নানা শিরোনামে প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যÑ ‘অভিভাবক হারাল বাংলাদেশ’, ‘মহাকালে মহাপ্রস্থান’, ‘আপসহীন অভিযাত্রার সমাপ্তি’ ইত্যাদি। পরদিন প্রায় কোটি মানুষের অংশগ্রহণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ দাফন করা হয়।
তাকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি বলেন, ’৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দেশ ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব তার নামের পাশে দেশনেত্রীর সঙ্গে গণতন্ত্রের মাতা উপাধি যোগ হয়েছে।’ তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিএনপির চেয়ারপারসন ছিলেন। বর্তমানে দলটির চেয়ারম্যান তার বড় সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আজ শনিবার সারাদেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করবে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে অথবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের অনুষ্ঠান হবে। আর ঢাকায় বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। এ কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।’

১১ অক্টোবর, ২০২৫ ২২:৫০
দেশবাসীর স্বপ্নের ‘পদ্মা সেতু’ চালুর পরে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে যাত্রী ভাটা দেখা দেয় এবং ক্রমাগত লোকসানের মুখে বেশ কয়েকজন মালিক তাদের লঞ্চ বন্ধ রাখেন। বর্তমানে প্রতিদিন দুই প্রান্ত থেকে রোটেশন করে দুটি বিলাসবহুল নৌযান সেবায় নিয়োজিত থাকলেও সংখ্যাগত দিক থেকে যাত্রী কম হওয়ায় লঞ্চের স্টাফ বিল-জ্বালানি খরচ পোষানো যাচ্ছে না। একাধিক মালিক যাত্রীসংকটে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তাদের নৌযান ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছেন। বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, বরিশাল-ঢাকা নৌপথে যাত্রী নেই এবং যেখানে বিলাসবহুল পরিবহনের সত্ত্বাধিকারীরা প্রতিদিন লোকসান গুণছেন জেনেও এই রুটে ১৫০ বছরের পুরানো স্টিমার ‘পিএস মাহসুদ’ চলতি মাসে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ আমলের এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে গিয়ে সরকারকে যাত্রীসাধারণকে ভোগানোর পাশাপাশি অতীতের ন্যায় লোকসানে একটি নতুন ক্ষেত্রে তৈরি করতে যাচ্ছে কী না তা নিয়ে লঞ্চ মালিকদের মধ্যে কানাঘুষা চলছে।
লঞ্চ মালিকেরা বলছেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে প্রতিদিন গড়ে ৬/৭ টি লঞ্চ যাত্রীসেবায় নিয়োজিত ছিল, এমনকি দুটি ঈদের আগে পরে বেশকিছু দিন ১০/১২ টি করেও চলেছে। এই সময়ে দুপুরের পর থেকে নৌবন্দর যাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠত। ২০২২ সালের ২৬ জুন সেতুটি যান চলাচলে উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে সপ্তাহখানের মধ্যে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে যাত্রীসংখ্যা হ্রাস পেতে থাকে। লোকসান কমাতে গত বছর রোটেশন করে ২/৩ টি লঞ্চ চালানোর সিদ্ধান্ত গৃহিত হলেও কোনো অবস্থায় মালিকদের আর্থিক উন্নতি হচ্ছে না। ফলে একে একে বেশ কয়েকটি লঞ্চ আর্থিক দৈন্যতার মুখে যাত্রীসেবা বন্ধ করে দেয়।
বর্তমানে সম্ভব্য লোকশানের বিষয়টি সম্পর্কে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ওয়াকিবহাল থাকলেও শক্তিহীন স্টিমার মাহসুদকে বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে যাত্রীসেবায় যুক্ত করা বড় ধরনের বোকামি মনে করা হচ্ছে। পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঐতিহ্য ধরে রাখতে গিয়ে সরকারকে লোকসানতো গুণতে হবে! পাশাপাশি যাত্রী সাধারণকেও ভুগতে হবে। কারণ, ব্রিটিশ আমলে ১৮৮৪ সালে যাত্রা শুরু করা স্টিমারটি বর্তমানে একদম বলহীন। তাছাড়া এই নৌযানটি অতীতে অসংখ্যবার মাঝনদীতে বিকল হয়ে যাত্রীদের বিড়ম্বনায় ফেলার একাধিক উদাহরণ রয়েছে, যা নিয়ে অনেকে তিক্ত-বিরক্ত।
লক্কর-ঝক্কর নৌযান মাহসুদ বর্তমানে রঙচঙে এসে অতীত ঐতিহ্য বহন করলেও ব্যক্তি মালিকানাধীন বিলাসবহুল লঞ্চগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে কী না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বিশেষ করে যাত্রাপথে স্টিমারটির ধীরগতিতে চলা এবং লঞ্চগুলোর তুলনায় বিলম্বে গন্তব্যে পৌছানো নিয়ে আগে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভও দেখা যেতো। তবে নতুন আঙ্গিকে আসার আগেই ব্যয় ও যাত্রী বিবেচনায় স্টিমারটিকে পর্যটক সার্ভিস হিসেবে সপ্তাহে একদিন শুক্রবার ঢাকা-বরিশাল নৌপথে চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকার আশপাশে প্রমোদভ্রমণের জন্য ভাড়া নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়।
আওয়ামী লীগ শাসনামলে ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দেড়শ বছরের রোগাক্রান্ত মাহসুদ আকস্মিক বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে সেবা দিতে গিয়ে ঐতিহ্যবাহী স্টিমারটি বিভিন্ন সময়ে মাঝনদীতে বহুবার বিকল হয়ে যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগে ফেলে দেয়। গত মে মাসে বরিশাল সফরকালে সেই ইতিহাস আবার ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন। এর পর থেকে বরিশালবাসী অধীর আগ্রহে ঐতিহ্যবাহী এই জলযান চালুর অপেক্ষা করছেন।
বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত কয়লাচালিত প্যাডেল স্টিমার প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ও পরে ঢাকা থেকে খুলনার নৌপথে চলাচল করত। পথে চাঁদপুর, বরিশাল, ঝালকাঠি, মোরেলগঞ্জ, হুলারহাট, সন্ন্যাসী, কাউখালী ঘাটে যাত্রাবিরতি দিত। ঔপনিবেশিক সময়ে খুলনার সঙ্গে ভারতের রেল যোগাযোগ শুরু হলে নৌপথে যাত্রী পরিবহন গুরুত্ব পায়। তখন বহরে ছিল ফ্লোটিলা কোম্পানির ১৪টি স্টিমার। পরে পিএস গাজী, পিএস অস্ট্রিচ, পিএস মাহসুদ, পিএস লেপচা, পিএস টার্ন, পিএস সেলার মতো ঐতিহ্যবাহী স্টিমারের সংযোজিত হয়।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, যাত্রী ও নাব্যতাসংকটে ২০১৯ সাল থেকে স্টিমার চলাচল সীমিত হয়ে যায়। খুলনার বদলে যাত্রা থেমে যায় মোরেলগঞ্জে। সর্বশেষ এমভি মধুমতি ও এমভি বাঙালী সপ্তাহে চার দিন ঢাকা-মোরেলগঞ্জ নৌপথে চলাচল করলেও শেষ যাত্রাটি ছিল ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর। স্টিমারগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তৎসময়ে লোকসান উল্লেখ করা হয়েছিল। এখন নতুন করে সপ্তাহে একদিন স্টিমার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগকে বরিশালবাসী সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি জলযানটি প্রতিদিন যাত্রীসেবায় নিয়োজিত রাখার দাবি তুলেছে, যা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) কর্মকর্তাদের ভাবিয়ে তুলেছে।
সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, শত বছরের পুরোনো স্টিমারগুলো এখন অনেকটা শক্তিহীন, মেরামত করে পরিচালনার উদ্যোগ নিলেও আগের শক্তিতে ফিরতে পারবে না। তাছাড়া এসব স্টিমারে যাত্রা সময়সাপেক্ষ। যাত্রীদের অবারিত সময় না থাকলে স্টিমারে উঠতে চাইবেন না। ফলশ্রুতিতে ব্যয় পোষানোও অসম্ভব হয়ে পড়বে, সরকারকে লোকসান গুণতে হবে। সুতরাং ক্ষেত্রে আবেগ নয়, বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।
অনুরূপ আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসি পরিচালক (বাণিজ্য) এসএম আশিকুজ্জামান। এই কর্মকর্তা বলেন, চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিনে দুটি স্টিমারের পুনর্বাসনকাজ শেষ হয়েছে, ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে পানিতে চালানো হয়েছে। সাজসজ্জার কিছু কাজ বাকি, এখন সেগুলো চলছে। এরপর সার্ভেসহ অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে চলতি মাসের শেষের দিকে একটি স্টিমার ঢাকা-বরিশাল নৌপথে যুক্ত হবে। এবং আপাতত একটি স্টিমার সপ্তাহে এক দিন শুক্রবার যাত্রী পরিবহন করবে। এছাড়া ঢাকার আশপাশে কেউ ভাড়া নিয়ে ভ্রমণ করতে চাইলে সেই সুযোগ রাখা হবে।
বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে যেখানে বিলাসবহুল লঞ্চগুলো যাত্রীসংকটে ধুকছে সেখানে স্টিমারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে গিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জনগণের অর্থ নদীতে ঢালতে যাচ্ছে কী না তা নিয়েও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানান আলোচনায় শোনা যায়। এনিয়ে বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য না করলেও লঞ্চ মালিকেরা বলছেন, বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে সপ্তাহে দুদিন শুক্র-শনিবার কিছু যাত্রী হয়। যাত্রীরা সাধারণত সেবার মান বিবেচনা করেন এবং নিরাপদ ভ্রমণ করতে বিলাসবহুল লঞ্চগুলোকে বেচে নেন। এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে দুর্বলগতির স্টিমার মাহসুদ নতুন আঙ্গিকে এসে বিলাসবহুল এমভি এম খান, সুরভী, সুন্দরবনের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে কী না সেটা দেখার বিষয়।’
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৫৬
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:০৪
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:৩২
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৫০