Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

১১ অক্টোবর, ২০২৫ ২২:৫০
দেশবাসীর স্বপ্নের ‘পদ্মা সেতু’ চালুর পরে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে যাত্রী ভাটা দেখা দেয় এবং ক্রমাগত লোকসানের মুখে বেশ কয়েকজন মালিক তাদের লঞ্চ বন্ধ রাখেন। বর্তমানে প্রতিদিন দুই প্রান্ত থেকে রোটেশন করে দুটি বিলাসবহুল নৌযান সেবায় নিয়োজিত থাকলেও সংখ্যাগত দিক থেকে যাত্রী কম হওয়ায় লঞ্চের স্টাফ বিল-জ্বালানি খরচ পোষানো যাচ্ছে না। একাধিক মালিক যাত্রীসংকটে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তাদের নৌযান ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছেন। বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, বরিশাল-ঢাকা নৌপথে যাত্রী নেই এবং যেখানে বিলাসবহুল পরিবহনের সত্ত্বাধিকারীরা প্রতিদিন লোকসান গুণছেন জেনেও এই রুটে ১৫০ বছরের পুরানো স্টিমার ‘পিএস মাহসুদ’ চলতি মাসে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ আমলের এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে গিয়ে সরকারকে যাত্রীসাধারণকে ভোগানোর পাশাপাশি অতীতের ন্যায় লোকসানে একটি নতুন ক্ষেত্রে তৈরি করতে যাচ্ছে কী না তা নিয়ে লঞ্চ মালিকদের মধ্যে কানাঘুষা চলছে।
লঞ্চ মালিকেরা বলছেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে প্রতিদিন গড়ে ৬/৭ টি লঞ্চ যাত্রীসেবায় নিয়োজিত ছিল, এমনকি দুটি ঈদের আগে পরে বেশকিছু দিন ১০/১২ টি করেও চলেছে। এই সময়ে দুপুরের পর থেকে নৌবন্দর যাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠত। ২০২২ সালের ২৬ জুন সেতুটি যান চলাচলে উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে সপ্তাহখানের মধ্যে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে যাত্রীসংখ্যা হ্রাস পেতে থাকে। লোকসান কমাতে গত বছর রোটেশন করে ২/৩ টি লঞ্চ চালানোর সিদ্ধান্ত গৃহিত হলেও কোনো অবস্থায় মালিকদের আর্থিক উন্নতি হচ্ছে না। ফলে একে একে বেশ কয়েকটি লঞ্চ আর্থিক দৈন্যতার মুখে যাত্রীসেবা বন্ধ করে দেয়।
বর্তমানে সম্ভব্য লোকশানের বিষয়টি সম্পর্কে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ওয়াকিবহাল থাকলেও শক্তিহীন স্টিমার মাহসুদকে বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে যাত্রীসেবায় যুক্ত করা বড় ধরনের বোকামি মনে করা হচ্ছে। পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঐতিহ্য ধরে রাখতে গিয়ে সরকারকে লোকসানতো গুণতে হবে! পাশাপাশি যাত্রী সাধারণকেও ভুগতে হবে। কারণ, ব্রিটিশ আমলে ১৮৮৪ সালে যাত্রা শুরু করা স্টিমারটি বর্তমানে একদম বলহীন। তাছাড়া এই নৌযানটি অতীতে অসংখ্যবার মাঝনদীতে বিকল হয়ে যাত্রীদের বিড়ম্বনায় ফেলার একাধিক উদাহরণ রয়েছে, যা নিয়ে অনেকে তিক্ত-বিরক্ত।
লক্কর-ঝক্কর নৌযান মাহসুদ বর্তমানে রঙচঙে এসে অতীত ঐতিহ্য বহন করলেও ব্যক্তি মালিকানাধীন বিলাসবহুল লঞ্চগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে কী না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বিশেষ করে যাত্রাপথে স্টিমারটির ধীরগতিতে চলা এবং লঞ্চগুলোর তুলনায় বিলম্বে গন্তব্যে পৌছানো নিয়ে আগে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভও দেখা যেতো। তবে নতুন আঙ্গিকে আসার আগেই ব্যয় ও যাত্রী বিবেচনায় স্টিমারটিকে পর্যটক সার্ভিস হিসেবে সপ্তাহে একদিন শুক্রবার ঢাকা-বরিশাল নৌপথে চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকার আশপাশে প্রমোদভ্রমণের জন্য ভাড়া নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়।
আওয়ামী লীগ শাসনামলে ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দেড়শ বছরের রোগাক্রান্ত মাহসুদ আকস্মিক বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে সেবা দিতে গিয়ে ঐতিহ্যবাহী স্টিমারটি বিভিন্ন সময়ে মাঝনদীতে বহুবার বিকল হয়ে যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগে ফেলে দেয়। গত মে মাসে বরিশাল সফরকালে সেই ইতিহাস আবার ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন। এর পর থেকে বরিশালবাসী অধীর আগ্রহে ঐতিহ্যবাহী এই জলযান চালুর অপেক্ষা করছেন।
বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত কয়লাচালিত প্যাডেল স্টিমার প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ও পরে ঢাকা থেকে খুলনার নৌপথে চলাচল করত। পথে চাঁদপুর, বরিশাল, ঝালকাঠি, মোরেলগঞ্জ, হুলারহাট, সন্ন্যাসী, কাউখালী ঘাটে যাত্রাবিরতি দিত। ঔপনিবেশিক সময়ে খুলনার সঙ্গে ভারতের রেল যোগাযোগ শুরু হলে নৌপথে যাত্রী পরিবহন গুরুত্ব পায়। তখন বহরে ছিল ফ্লোটিলা কোম্পানির ১৪টি স্টিমার। পরে পিএস গাজী, পিএস অস্ট্রিচ, পিএস মাহসুদ, পিএস লেপচা, পিএস টার্ন, পিএস সেলার মতো ঐতিহ্যবাহী স্টিমারের সংযোজিত হয়।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, যাত্রী ও নাব্যতাসংকটে ২০১৯ সাল থেকে স্টিমার চলাচল সীমিত হয়ে যায়। খুলনার বদলে যাত্রা থেমে যায় মোরেলগঞ্জে। সর্বশেষ এমভি মধুমতি ও এমভি বাঙালী সপ্তাহে চার দিন ঢাকা-মোরেলগঞ্জ নৌপথে চলাচল করলেও শেষ যাত্রাটি ছিল ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর। স্টিমারগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তৎসময়ে লোকসান উল্লেখ করা হয়েছিল। এখন নতুন করে সপ্তাহে একদিন স্টিমার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগকে বরিশালবাসী সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি জলযানটি প্রতিদিন যাত্রীসেবায় নিয়োজিত রাখার দাবি তুলেছে, যা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) কর্মকর্তাদের ভাবিয়ে তুলেছে।
সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, শত বছরের পুরোনো স্টিমারগুলো এখন অনেকটা শক্তিহীন, মেরামত করে পরিচালনার উদ্যোগ নিলেও আগের শক্তিতে ফিরতে পারবে না। তাছাড়া এসব স্টিমারে যাত্রা সময়সাপেক্ষ। যাত্রীদের অবারিত সময় না থাকলে স্টিমারে উঠতে চাইবেন না। ফলশ্রুতিতে ব্যয় পোষানোও অসম্ভব হয়ে পড়বে, সরকারকে লোকসান গুণতে হবে। সুতরাং ক্ষেত্রে আবেগ নয়, বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।
অনুরূপ আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসি পরিচালক (বাণিজ্য) এসএম আশিকুজ্জামান। এই কর্মকর্তা বলেন, চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিনে দুটি স্টিমারের পুনর্বাসনকাজ শেষ হয়েছে, ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে পানিতে চালানো হয়েছে। সাজসজ্জার কিছু কাজ বাকি, এখন সেগুলো চলছে। এরপর সার্ভেসহ অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে চলতি মাসের শেষের দিকে একটি স্টিমার ঢাকা-বরিশাল নৌপথে যুক্ত হবে। এবং আপাতত একটি স্টিমার সপ্তাহে এক দিন শুক্রবার যাত্রী পরিবহন করবে। এছাড়া ঢাকার আশপাশে কেউ ভাড়া নিয়ে ভ্রমণ করতে চাইলে সেই সুযোগ রাখা হবে।
বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে যেখানে বিলাসবহুল লঞ্চগুলো যাত্রীসংকটে ধুকছে সেখানে স্টিমারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে গিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জনগণের অর্থ নদীতে ঢালতে যাচ্ছে কী না তা নিয়েও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানান আলোচনায় শোনা যায়। এনিয়ে বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য না করলেও লঞ্চ মালিকেরা বলছেন, বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে সপ্তাহে দুদিন শুক্র-শনিবার কিছু যাত্রী হয়। যাত্রীরা সাধারণত সেবার মান বিবেচনা করেন এবং নিরাপদ ভ্রমণ করতে বিলাসবহুল লঞ্চগুলোকে বেচে নেন। এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে দুর্বলগতির স্টিমার মাহসুদ নতুন আঙ্গিকে এসে বিলাসবহুল এমভি এম খান, সুরভী, সুন্দরবনের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে কী না সেটা দেখার বিষয়।’
দেশবাসীর স্বপ্নের ‘পদ্মা সেতু’ চালুর পরে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে যাত্রী ভাটা দেখা দেয় এবং ক্রমাগত লোকসানের মুখে বেশ কয়েকজন মালিক তাদের লঞ্চ বন্ধ রাখেন। বর্তমানে প্রতিদিন দুই প্রান্ত থেকে রোটেশন করে দুটি বিলাসবহুল নৌযান সেবায় নিয়োজিত থাকলেও সংখ্যাগত দিক থেকে যাত্রী কম হওয়ায় লঞ্চের স্টাফ বিল-জ্বালানি খরচ পোষানো যাচ্ছে না। একাধিক মালিক যাত্রীসংকটে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তাদের নৌযান ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছেন। বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, বরিশাল-ঢাকা নৌপথে যাত্রী নেই এবং যেখানে বিলাসবহুল পরিবহনের সত্ত্বাধিকারীরা প্রতিদিন লোকসান গুণছেন জেনেও এই রুটে ১৫০ বছরের পুরানো স্টিমার ‘পিএস মাহসুদ’ চলতি মাসে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ আমলের এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে গিয়ে সরকারকে যাত্রীসাধারণকে ভোগানোর পাশাপাশি অতীতের ন্যায় লোকসানে একটি নতুন ক্ষেত্রে তৈরি করতে যাচ্ছে কী না তা নিয়ে লঞ্চ মালিকদের মধ্যে কানাঘুষা চলছে।
লঞ্চ মালিকেরা বলছেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে প্রতিদিন গড়ে ৬/৭ টি লঞ্চ যাত্রীসেবায় নিয়োজিত ছিল, এমনকি দুটি ঈদের আগে পরে বেশকিছু দিন ১০/১২ টি করেও চলেছে। এই সময়ে দুপুরের পর থেকে নৌবন্দর যাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠত। ২০২২ সালের ২৬ জুন সেতুটি যান চলাচলে উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে সপ্তাহখানের মধ্যে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে যাত্রীসংখ্যা হ্রাস পেতে থাকে। লোকসান কমাতে গত বছর রোটেশন করে ২/৩ টি লঞ্চ চালানোর সিদ্ধান্ত গৃহিত হলেও কোনো অবস্থায় মালিকদের আর্থিক উন্নতি হচ্ছে না। ফলে একে একে বেশ কয়েকটি লঞ্চ আর্থিক দৈন্যতার মুখে যাত্রীসেবা বন্ধ করে দেয়।
বর্তমানে সম্ভব্য লোকশানের বিষয়টি সম্পর্কে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ওয়াকিবহাল থাকলেও শক্তিহীন স্টিমার মাহসুদকে বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে যাত্রীসেবায় যুক্ত করা বড় ধরনের বোকামি মনে করা হচ্ছে। পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঐতিহ্য ধরে রাখতে গিয়ে সরকারকে লোকসানতো গুণতে হবে! পাশাপাশি যাত্রী সাধারণকেও ভুগতে হবে। কারণ, ব্রিটিশ আমলে ১৮৮৪ সালে যাত্রা শুরু করা স্টিমারটি বর্তমানে একদম বলহীন। তাছাড়া এই নৌযানটি অতীতে অসংখ্যবার মাঝনদীতে বিকল হয়ে যাত্রীদের বিড়ম্বনায় ফেলার একাধিক উদাহরণ রয়েছে, যা নিয়ে অনেকে তিক্ত-বিরক্ত।
লক্কর-ঝক্কর নৌযান মাহসুদ বর্তমানে রঙচঙে এসে অতীত ঐতিহ্য বহন করলেও ব্যক্তি মালিকানাধীন বিলাসবহুল লঞ্চগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে কী না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বিশেষ করে যাত্রাপথে স্টিমারটির ধীরগতিতে চলা এবং লঞ্চগুলোর তুলনায় বিলম্বে গন্তব্যে পৌছানো নিয়ে আগে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভও দেখা যেতো। তবে নতুন আঙ্গিকে আসার আগেই ব্যয় ও যাত্রী বিবেচনায় স্টিমারটিকে পর্যটক সার্ভিস হিসেবে সপ্তাহে একদিন শুক্রবার ঢাকা-বরিশাল নৌপথে চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকার আশপাশে প্রমোদভ্রমণের জন্য ভাড়া নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়।
আওয়ামী লীগ শাসনামলে ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দেড়শ বছরের রোগাক্রান্ত মাহসুদ আকস্মিক বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে সেবা দিতে গিয়ে ঐতিহ্যবাহী স্টিমারটি বিভিন্ন সময়ে মাঝনদীতে বহুবার বিকল হয়ে যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগে ফেলে দেয়। গত মে মাসে বরিশাল সফরকালে সেই ইতিহাস আবার ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন। এর পর থেকে বরিশালবাসী অধীর আগ্রহে ঐতিহ্যবাহী এই জলযান চালুর অপেক্ষা করছেন।
বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত কয়লাচালিত প্যাডেল স্টিমার প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ও পরে ঢাকা থেকে খুলনার নৌপথে চলাচল করত। পথে চাঁদপুর, বরিশাল, ঝালকাঠি, মোরেলগঞ্জ, হুলারহাট, সন্ন্যাসী, কাউখালী ঘাটে যাত্রাবিরতি দিত। ঔপনিবেশিক সময়ে খুলনার সঙ্গে ভারতের রেল যোগাযোগ শুরু হলে নৌপথে যাত্রী পরিবহন গুরুত্ব পায়। তখন বহরে ছিল ফ্লোটিলা কোম্পানির ১৪টি স্টিমার। পরে পিএস গাজী, পিএস অস্ট্রিচ, পিএস মাহসুদ, পিএস লেপচা, পিএস টার্ন, পিএস সেলার মতো ঐতিহ্যবাহী স্টিমারের সংযোজিত হয়।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, যাত্রী ও নাব্যতাসংকটে ২০১৯ সাল থেকে স্টিমার চলাচল সীমিত হয়ে যায়। খুলনার বদলে যাত্রা থেমে যায় মোরেলগঞ্জে। সর্বশেষ এমভি মধুমতি ও এমভি বাঙালী সপ্তাহে চার দিন ঢাকা-মোরেলগঞ্জ নৌপথে চলাচল করলেও শেষ যাত্রাটি ছিল ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর। স্টিমারগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তৎসময়ে লোকসান উল্লেখ করা হয়েছিল। এখন নতুন করে সপ্তাহে একদিন স্টিমার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগকে বরিশালবাসী সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি জলযানটি প্রতিদিন যাত্রীসেবায় নিয়োজিত রাখার দাবি তুলেছে, যা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) কর্মকর্তাদের ভাবিয়ে তুলেছে।
সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, শত বছরের পুরোনো স্টিমারগুলো এখন অনেকটা শক্তিহীন, মেরামত করে পরিচালনার উদ্যোগ নিলেও আগের শক্তিতে ফিরতে পারবে না। তাছাড়া এসব স্টিমারে যাত্রা সময়সাপেক্ষ। যাত্রীদের অবারিত সময় না থাকলে স্টিমারে উঠতে চাইবেন না। ফলশ্রুতিতে ব্যয় পোষানোও অসম্ভব হয়ে পড়বে, সরকারকে লোকসান গুণতে হবে। সুতরাং ক্ষেত্রে আবেগ নয়, বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।
অনুরূপ আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসি পরিচালক (বাণিজ্য) এসএম আশিকুজ্জামান। এই কর্মকর্তা বলেন, চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিনে দুটি স্টিমারের পুনর্বাসনকাজ শেষ হয়েছে, ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে পানিতে চালানো হয়েছে। সাজসজ্জার কিছু কাজ বাকি, এখন সেগুলো চলছে। এরপর সার্ভেসহ অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে চলতি মাসের শেষের দিকে একটি স্টিমার ঢাকা-বরিশাল নৌপথে যুক্ত হবে। এবং আপাতত একটি স্টিমার সপ্তাহে এক দিন শুক্রবার যাত্রী পরিবহন করবে। এছাড়া ঢাকার আশপাশে কেউ ভাড়া নিয়ে ভ্রমণ করতে চাইলে সেই সুযোগ রাখা হবে।
বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে যেখানে বিলাসবহুল লঞ্চগুলো যাত্রীসংকটে ধুকছে সেখানে স্টিমারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে গিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জনগণের অর্থ নদীতে ঢালতে যাচ্ছে কী না তা নিয়েও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানান আলোচনায় শোনা যায়। এনিয়ে বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য না করলেও লঞ্চ মালিকেরা বলছেন, বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে সপ্তাহে দুদিন শুক্র-শনিবার কিছু যাত্রী হয়। যাত্রীরা সাধারণত সেবার মান বিবেচনা করেন এবং নিরাপদ ভ্রমণ করতে বিলাসবহুল লঞ্চগুলোকে বেচে নেন। এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে দুর্বলগতির স্টিমার মাহসুদ নতুন আঙ্গিকে এসে বিলাসবহুল এমভি এম খান, সুরভী, সুন্দরবনের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে কী না সেটা দেখার বিষয়।’

১৯ জুন, ২০২৬ ১৬:১১
১৮ জুন, ২০২৬ ২৩:৩৯
বরিশাল নগরীর বান্দরোড এলাকায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় মেহেদী হাসান শুভ (২৫) নামে এক সৌদি প্রবাসী যুবক নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় মো. আরিফ (২৫) নামে আরও এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বান্দ রোডের কেডিসি গলির মুখে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহত শুভ পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী গ্রামের হেলাল প্যাদার ছেলে। আহত আরিফ একই এলাকার গনি হাওলাদারের ছেলে।
নিহতের বন্ধু ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রাকিব খান জানান, 'বৃহস্পতিবার রাতে তারা দুইটি মোটরসাইকেলযোগে এক বন্ধুকে বরিশাল লঞ্চঘাটে পৌঁছে দেন। এরপর তারা পুনরায় মোটরসাইকেলে লেবুখালীর উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে নগরীর বান্দরোডের কেডিসি গলির মুখে পৌঁছালে শুভ মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশার পিছনে ধাক্কা দিয়ে সড়ক বিভাজকের লোহার পাইপের সাথে প্রচণ্ড আঘাত পান চালক শুভ ও আরোহী আরিফ।'
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শুভকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় ভাই আল-আমিন জানান, 'শুভ সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন। পাঁচ মাস আগে তিনি ছুটি নিয়ে দেশে আসেন এবং বর্তমানে বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করছিলেন। তবে কী কারণে শুভ বরিশালে এসেছিলেন, সে বিষয়ে জানা নেই তার।'
এ বিষয়ে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, 'দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। আহত যুবককে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।'
ওসি আরও জানান, 'এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।'

১৮ জুন, ২০২৬ ১৯:২১
বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের ৩৭নং বুখাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ-বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিতি অভিযোগ দিয়েছেন তিন অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী।
তারা হলেন- মোঃ সমির হোসেন বেপারী, নুপুর বেগম, মোঃ জিয়াউর রহমান খান। অভিযোগে বলা হয়- ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগ ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী।
তিনি গত ১৬ জুন এবং ১৭ জুন বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন সময় প্রতি শ্রেণীতে গিয়ে পাঠদান না করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। শ্রেণিকক্ষে তিনি তার মোবাইল ফোনে রাখা নিজের-গোলাপ ফুল মার্কা এবং তার প্যানেলভূক্ত কাজী শাহিনের- বই, শিমু আক্তারের মই এবং রেহানা আক্তার হাসির কলস মার্কার পোস্টার দেখিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে প্রচারণা চালানোর জন্য এবং শিক্ষার্থীদের ভিতর থেকে যাদের ছোট ভাই বোন বা পরিচিত যাদের ছেলে মেয়ে বুখাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত আছে তাদের বাবা-মাকে ওই চারটি মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য তাদের কাছে গিয়ে অনুরোধ জানান।
এই চারজন প্রার্থী নির্বাচিত হলে পরবর্তীতে তিনি তাদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হবেন বলে শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহিত করেন। একাধিক শ্রেণীর একাধিক শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ছুটি পরে বাইরে এসে তার এ সকল কার্যক্রমের বর্ণনা দেয় যা অত্যন্ত আপত্তিকর এবং দুঃখজনক। এতে করে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অপরদিকে আপনার বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং উক্ত নির্বাচনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা শস্কা প্রকাশ করেন পরবর্তীতেও তিনি শ্রেণিকক্ষে এই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। তার এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগকারীরা বলেন- মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগ নির্বাচনী আচরণ-বিধি লঙ্ঘন করে বিদ্যালয়ের ক্লাশ চলাকালীন সময় প্রতি শ্রেণীতে গিয়ে পাঠদান না করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। এটা নিয়ম বহির্ভূত কাজ। তার এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি তা রিসিভ করেননি। প্রধান শিক্ষক শিরিন আকতার বলেন- অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগামী ৬ মাসের মধ্যে বরিশাল, খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের হাসপাতাল দুটি আগস্টের প্রথম দিকে চালুর সকল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সুবিধা, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হবে। পাশাপাশি বড় পরিসরের আইসিইউ ইউনিটও থাকবে হাসপাতালগুলোতে।
এসব হাসপাতালের আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে।
পুুরোদমে কার্যক্রম চালুর জন্য প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন জনবলের প্রয়োজন হবে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ইতোমধ্যে খুলনা, বরিশাল ও কুমিল্লা গিয়ে হাসপাতাল ভবনগুলো পরিদর্শন করেছেন।
বরিশাল শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি আগামী আগস্টের শুরুতে হাসপাতালটি চালুর ঘোষণা দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নিউনেটাল ভেন্টিলেটর, সিটি স্ক্যান, এক্সরে মেশিন, পোর্টেবল এক্স-রে, মাল্টি প্যারামিটার বা কার্ডিয়াক মনিটর, ফটোথেরাপি মেশিনসহ ২০০ বেডের শিশু হাসপাতাল চালু করতে যেসব যন্ত্রাংশ প্রয়োজন, সেগুলো জুলাইয়ের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী ১ আগস্ট হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হবে।
এর আগে গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে দেশের ছয় বিভাগে অব্যবহৃত পড়ে থাকা ছয়টি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন।
একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাসপাতালগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে আগামী ২ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেন। মূলত এরপরই হাসপাতালগুলো চালুর তোড়জোড় শুরু হয়।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বাসস’কে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের পাঁচ বিভাগে একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল চালু হচ্ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসব হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের (আইসিইউ) ব্যবস্থাও থাকবে।
তিনি আরও বলেন, এই পাঁচটি হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতির টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন করে জনবল প্রয়োজন। পূর্ণ জনবল বরাদ্দ করার জন্য ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন।
হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রতিটি শিশু হাসপাতালে আইসিইউ থাকবে। সেন্ট্রালি এয়ার কন্ডিশন ব্যবস্থা থাকবে। একটি করে আইসিইউ থাকবে এবং ভবিষ্যতে বেড বাড়ানোর পরিসরও রাখা হবে। আইসিইউর জন্য একটি বড় স্পেস রাখা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারও ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত বরিশাল শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, এই শিশু হাসপাতালটিও আগস্টে চালু হবে। প্রথম ধাপে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম শুরু করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল চালু করতেও জোরোশোরে কাজ শুরু হয়েছে।
গত ২০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যেই হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, গণপূর্ত বিভাগ ও সিভিল সার্জনকে সঙ্গে নিয়ে আমরা খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। নতুন শিশু হাসপাতাল সম্পর্কে আমাদের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
এদিকে গত ২৫ মে কুমিল্লার সদর দক্ষিণের বেলতলী এলাকায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। এই হাসপাতালটিও আগামী ছয় মাসের মধ্যে চালুর ঘোষণা দেন তিনি।
নির্মাণকাজ শেষেও দীর্ঘ ছয়বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকার পর চালু হতে যাচ্ছে বিশেষায়িত রংপুর শিশু হাসপাতালও। তারেক রহমানের নির্দেশের প্রেক্ষিতে দ্রুত এই হাসপাতাল চালু করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালটির অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন।
তিনি বলেন, ‘শুধু এই পাঁচটি শিশু হাসপাতালই নয়, স্বাস্থ্য বিভাগে এ ধরণের আরও অনেক স্থাপনা রয়েছে, যেগুলো এখনও চালু হয়নি। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সেগুলো চালু করারও নির্দেশ দেন।’
এদিকে বহুল প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চালু হতে যাচ্ছে কুমিল্লা শিশু হাসপাতালটিও। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সচিবের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে জনবল ও যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন।
এদিকে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটি চালু করা হবে।
ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস রাজশাহী শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বলেন, প্রথম ধাপে শিশু হাসপাতালটিতে আউটডোর সেবা চালু করা হবে। পরবর্তী অর্থবছরে ধাপে ধাপে অন্যান্য সেবাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।’
আগামী ৬ মাসের মধ্যে বরিশাল, খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের হাসপাতাল দুটি আগস্টের প্রথম দিকে চালুর সকল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সুবিধা, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হবে। পাশাপাশি বড় পরিসরের আইসিইউ ইউনিটও থাকবে হাসপাতালগুলোতে।
এসব হাসপাতালের আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে।
পুুরোদমে কার্যক্রম চালুর জন্য প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন জনবলের প্রয়োজন হবে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ইতোমধ্যে খুলনা, বরিশাল ও কুমিল্লা গিয়ে হাসপাতাল ভবনগুলো পরিদর্শন করেছেন।
বরিশাল শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি আগামী আগস্টের শুরুতে হাসপাতালটি চালুর ঘোষণা দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নিউনেটাল ভেন্টিলেটর, সিটি স্ক্যান, এক্সরে মেশিন, পোর্টেবল এক্স-রে, মাল্টি প্যারামিটার বা কার্ডিয়াক মনিটর, ফটোথেরাপি মেশিনসহ ২০০ বেডের শিশু হাসপাতাল চালু করতে যেসব যন্ত্রাংশ প্রয়োজন, সেগুলো জুলাইয়ের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী ১ আগস্ট হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হবে।
এর আগে গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে দেশের ছয় বিভাগে অব্যবহৃত পড়ে থাকা ছয়টি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন।
একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাসপাতালগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে আগামী ২ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেন। মূলত এরপরই হাসপাতালগুলো চালুর তোড়জোড় শুরু হয়।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বাসস’কে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের পাঁচ বিভাগে একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল চালু হচ্ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসব হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের (আইসিইউ) ব্যবস্থাও থাকবে।
তিনি আরও বলেন, এই পাঁচটি হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতির টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন করে জনবল প্রয়োজন। পূর্ণ জনবল বরাদ্দ করার জন্য ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন।
হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রতিটি শিশু হাসপাতালে আইসিইউ থাকবে। সেন্ট্রালি এয়ার কন্ডিশন ব্যবস্থা থাকবে। একটি করে আইসিইউ থাকবে এবং ভবিষ্যতে বেড বাড়ানোর পরিসরও রাখা হবে। আইসিইউর জন্য একটি বড় স্পেস রাখা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারও ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত বরিশাল শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, এই শিশু হাসপাতালটিও আগস্টে চালু হবে। প্রথম ধাপে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম শুরু করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল চালু করতেও জোরোশোরে কাজ শুরু হয়েছে।
গত ২০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যেই হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, গণপূর্ত বিভাগ ও সিভিল সার্জনকে সঙ্গে নিয়ে আমরা খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। নতুন শিশু হাসপাতাল সম্পর্কে আমাদের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
এদিকে গত ২৫ মে কুমিল্লার সদর দক্ষিণের বেলতলী এলাকায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। এই হাসপাতালটিও আগামী ছয় মাসের মধ্যে চালুর ঘোষণা দেন তিনি।
নির্মাণকাজ শেষেও দীর্ঘ ছয়বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকার পর চালু হতে যাচ্ছে বিশেষায়িত রংপুর শিশু হাসপাতালও। তারেক রহমানের নির্দেশের প্রেক্ষিতে দ্রুত এই হাসপাতাল চালু করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালটির অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন।
তিনি বলেন, ‘শুধু এই পাঁচটি শিশু হাসপাতালই নয়, স্বাস্থ্য বিভাগে এ ধরণের আরও অনেক স্থাপনা রয়েছে, যেগুলো এখনও চালু হয়নি। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সেগুলো চালু করারও নির্দেশ দেন।’
এদিকে বহুল প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চালু হতে যাচ্ছে কুমিল্লা শিশু হাসপাতালটিও। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সচিবের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে জনবল ও যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন।
এদিকে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটি চালু করা হবে।
ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস রাজশাহী শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বলেন, প্রথম ধাপে শিশু হাসপাতালটিতে আউটডোর সেবা চালু করা হবে। পরবর্তী অর্থবছরে ধাপে ধাপে অন্যান্য সেবাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।’
বরিশাল নগরীর বান্দরোড এলাকায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় মেহেদী হাসান শুভ (২৫) নামে এক সৌদি প্রবাসী যুবক নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় মো. আরিফ (২৫) নামে আরও এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বান্দ রোডের কেডিসি গলির মুখে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহত শুভ পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী গ্রামের হেলাল প্যাদার ছেলে। আহত আরিফ একই এলাকার গনি হাওলাদারের ছেলে।
নিহতের বন্ধু ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রাকিব খান জানান, 'বৃহস্পতিবার রাতে তারা দুইটি মোটরসাইকেলযোগে এক বন্ধুকে বরিশাল লঞ্চঘাটে পৌঁছে দেন। এরপর তারা পুনরায় মোটরসাইকেলে লেবুখালীর উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে নগরীর বান্দরোডের কেডিসি গলির মুখে পৌঁছালে শুভ মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশার পিছনে ধাক্কা দিয়ে সড়ক বিভাজকের লোহার পাইপের সাথে প্রচণ্ড আঘাত পান চালক শুভ ও আরোহী আরিফ।'
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শুভকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় ভাই আল-আমিন জানান, 'শুভ সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন। পাঁচ মাস আগে তিনি ছুটি নিয়ে দেশে আসেন এবং বর্তমানে বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করছিলেন। তবে কী কারণে শুভ বরিশালে এসেছিলেন, সে বিষয়ে জানা নেই তার।'
এ বিষয়ে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, 'দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। আহত যুবককে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।'
ওসি আরও জানান, 'এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।'
বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের ৩৭নং বুখাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ-বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিতি অভিযোগ দিয়েছেন তিন অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী।
তারা হলেন- মোঃ সমির হোসেন বেপারী, নুপুর বেগম, মোঃ জিয়াউর রহমান খান। অভিযোগে বলা হয়- ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগ ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী।
তিনি গত ১৬ জুন এবং ১৭ জুন বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন সময় প্রতি শ্রেণীতে গিয়ে পাঠদান না করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। শ্রেণিকক্ষে তিনি তার মোবাইল ফোনে রাখা নিজের-গোলাপ ফুল মার্কা এবং তার প্যানেলভূক্ত কাজী শাহিনের- বই, শিমু আক্তারের মই এবং রেহানা আক্তার হাসির কলস মার্কার পোস্টার দেখিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে প্রচারণা চালানোর জন্য এবং শিক্ষার্থীদের ভিতর থেকে যাদের ছোট ভাই বোন বা পরিচিত যাদের ছেলে মেয়ে বুখাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত আছে তাদের বাবা-মাকে ওই চারটি মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য তাদের কাছে গিয়ে অনুরোধ জানান।
এই চারজন প্রার্থী নির্বাচিত হলে পরবর্তীতে তিনি তাদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হবেন বলে শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহিত করেন। একাধিক শ্রেণীর একাধিক শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ছুটি পরে বাইরে এসে তার এ সকল কার্যক্রমের বর্ণনা দেয় যা অত্যন্ত আপত্তিকর এবং দুঃখজনক। এতে করে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অপরদিকে আপনার বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং উক্ত নির্বাচনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা শস্কা প্রকাশ করেন পরবর্তীতেও তিনি শ্রেণিকক্ষে এই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। তার এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগকারীরা বলেন- মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগ নির্বাচনী আচরণ-বিধি লঙ্ঘন করে বিদ্যালয়ের ক্লাশ চলাকালীন সময় প্রতি শ্রেণীতে গিয়ে পাঠদান না করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। এটা নিয়ম বহির্ভূত কাজ। তার এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি তা রিসিভ করেননি। প্রধান শিক্ষক শিরিন আকতার বলেন- অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৯ জুন, ২০২৬ ১৬:১১
১৮ জুন, ২০২৬ ২৩:৩৯
১৮ জুন, ২০২৬ ১৯:৫৪
১৮ জুন, ২০২৬ ১৯:২১