মুন্সীগঞ্জের লৌহজং-টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ডহরী-তালতলা খালে চাঁদা দিয়ে চলছে বালুবাহী বাল্কহেড। প্রশাসন নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও চালকদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে কয়েকটি চক্র বাল্কহেড চলাচলে সহায়তা করছে।
প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খালে শতাধিক বাল্কহেড নিয়মিত চলাচল করছে বলে খালপাড়ের বাসিন্দারা জানিয়েছেন। এতে বিভিন্ন স্থানের খালপাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
২০২৩ সালের ৫ আগস্ট খিদিরপাড়া ইউনিয়নের রসকাঠি এলাকায় বাল্কহেডের ধাক্কায় পিকনিকের ট্রলার ডুবে নারী ও শিশুসহ ১০ জন নিহত হন। এরপর প্রশাসন এই খালে বাল্কহেড চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়। কিন্তু এরপরও চাঁদাবাজ চক্রের সহায়তায় নির্বিঘ্নে চলাচল করছে বাল্কহেড।
গৌরগঞ্জ-তালতলা-ডহরী খাল নামে পরিচিত খালটি লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উভয় উপজেলায় পড়েছে। পদ্মা নদীর ডহরী থেকে নূরপুর পর্যন্ত খালের দুই পাড় লৌহজং উপজেলায় এবং নূরপুর থেকে সুবচনী বাজার পর্যন্ত খালের পশ্চিম পাড় লৌহজং ও পূর্ব পাড় টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় অবস্থিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাল্কহেড চালকরা জানান, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও বাজার এলাকার রাজন মুন্সী, সাজন মুন্সী এবং লৌহজং উপজেলার রুবেল মাদবর, শামুরবাড়ি গ্রামের রিপন ওস্তাকার, আনোয়ার ঢালী, রাহাত চাকলাদার, ওসমান ওস্তাকার, শাকিল ওস্তাকাররা বাল্কহেড পারাপার করে দিচ্ছেন। এজন্য যানপ্রতি তারা এক থেকে দুই হাজার টাকা নেন।
স্থানীয়রা জানান, মূলত অবৈধ বালুখেকো চক্র এ খাল ব্যবহার করে। পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে সহজে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকার কামরাঙ্গীরচরসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে এ রুট ব্যবহার করা হয়। এ সুযোগে চলে চাঁদাবাজি।
গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর চাঁদাবাজ চক্রের সদস্য রাহাত চাকলাদার ও দীপু ওস্তাকারকে ডহরী খালে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার করে লৌহজং থানা পুলিশ। চাঁদাবাজি ও হত্যা মামলার আসামি রিপন ওস্তাকারকে ১২ নভেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর বাল্কহেড থেকে চাঁদাবাজির দায়ে রুবেল মাদবরকে দুই লাখ টাকা জরিমানা ও তিন মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও লৌহজং উপজেলার এসিল্যান্ড আব্দুল্লাহ আল ইমরান। তাদের গ্রেপ্তারের পর এলাকার জনমনে স্বস্তি ফিরেছিল।
তবে তারা কিছুদিন জেল খেটে জামিনে বেরিয়ে আবারও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছেন। তাদের নামে লৌহজং, শরীয়তপুর সদর ও জাজিরা থানায় চাঁদাবাজি ও ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে।
খালপাড়ের বাসিন্দাদের ভাষ্য, ডহরী-তালতলা খালে দিন-রাত চলছে বাল্কহেডগুলো। এগুলোর বেপরোয়া চলাচলে খালের দুই তীরে ভাঙন শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত বাল্কহেড চলাচলে প্রতিদিন ঘটছে কোনো না কোনো দুর্ঘটনা।
আগের ইউএনও এসব বাল্কহেডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। এই বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ করতে না পারলে একসময় বাপ-দাদার বসত ভিটে হারাতে হবে।
গাওদিয়া ইউনিয়নের হাড়িদিয়া গ্রামের খালপাড়ের বাসিন্দা লিটন ও স্বপন জানান, খালে পানি বাড়তে শুরু করায় বাল্কহেড চলাচল বেড়েছে। এতে খালের দুই পাড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে।
খিদিরপাড়া ইউনিয়নের বাসুদিয়া গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, বাল্কহেড চলাচলের কারণে ঢেউয়ের আঘাতে দুই বছরে আমার বসতবাড়ির অর্ধেক খালে বিলীন হয়ে গেছে। বাল্কহেড চলাচল বন্ধ না হলে অচিরেই পুরো বাড়িটা যাবে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে চাঁদাবাজ চক্রের অন্যতম সদস্য রুবেল বলেন, বাল্কহেড আমরা একা পার করি না, ২০ থেকে ৩০ জন এর সঙ্গে যুক্ত। একাধিক মামলার কথা স্বীকার করে সব মামলায় জামিনে আছেন বলে জানান। তিনি বলেন, আমার আন্ডারে বাল্কহেড আসে, সুকানি ভাইরা খুশি হইয়া কিছু টাকা দেয়। কত পত্রিকায় রিপোর্ট করল বাল্কহেড তো থামল না।
লৌহজং ইউএনও ফারাজানা ববি মিতু বলেন, খালটি লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উভয় উপজেলার অংশে রয়েছে। টঙ্গিবাড়ী ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করে বাল্কহেড বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৪
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৩১
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১২
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

০৭ মে, ২০২৬ ১৩:০৮
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং-টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ডহরী-তালতলা খালে চাঁদা দিয়ে চলছে বালুবাহী বাল্কহেড। প্রশাসন নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও চালকদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে কয়েকটি চক্র বাল্কহেড চলাচলে সহায়তা করছে।
প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খালে শতাধিক বাল্কহেড নিয়মিত চলাচল করছে বলে খালপাড়ের বাসিন্দারা জানিয়েছেন। এতে বিভিন্ন স্থানের খালপাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
২০২৩ সালের ৫ আগস্ট খিদিরপাড়া ইউনিয়নের রসকাঠি এলাকায় বাল্কহেডের ধাক্কায় পিকনিকের ট্রলার ডুবে নারী ও শিশুসহ ১০ জন নিহত হন। এরপর প্রশাসন এই খালে বাল্কহেড চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়। কিন্তু এরপরও চাঁদাবাজ চক্রের সহায়তায় নির্বিঘ্নে চলাচল করছে বাল্কহেড।
গৌরগঞ্জ-তালতলা-ডহরী খাল নামে পরিচিত খালটি লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উভয় উপজেলায় পড়েছে। পদ্মা নদীর ডহরী থেকে নূরপুর পর্যন্ত খালের দুই পাড় লৌহজং উপজেলায় এবং নূরপুর থেকে সুবচনী বাজার পর্যন্ত খালের পশ্চিম পাড় লৌহজং ও পূর্ব পাড় টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় অবস্থিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাল্কহেড চালকরা জানান, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও বাজার এলাকার রাজন মুন্সী, সাজন মুন্সী এবং লৌহজং উপজেলার রুবেল মাদবর, শামুরবাড়ি গ্রামের রিপন ওস্তাকার, আনোয়ার ঢালী, রাহাত চাকলাদার, ওসমান ওস্তাকার, শাকিল ওস্তাকাররা বাল্কহেড পারাপার করে দিচ্ছেন। এজন্য যানপ্রতি তারা এক থেকে দুই হাজার টাকা নেন।
স্থানীয়রা জানান, মূলত অবৈধ বালুখেকো চক্র এ খাল ব্যবহার করে। পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে সহজে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকার কামরাঙ্গীরচরসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে এ রুট ব্যবহার করা হয়। এ সুযোগে চলে চাঁদাবাজি।
গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর চাঁদাবাজ চক্রের সদস্য রাহাত চাকলাদার ও দীপু ওস্তাকারকে ডহরী খালে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার করে লৌহজং থানা পুলিশ। চাঁদাবাজি ও হত্যা মামলার আসামি রিপন ওস্তাকারকে ১২ নভেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর বাল্কহেড থেকে চাঁদাবাজির দায়ে রুবেল মাদবরকে দুই লাখ টাকা জরিমানা ও তিন মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও লৌহজং উপজেলার এসিল্যান্ড আব্দুল্লাহ আল ইমরান। তাদের গ্রেপ্তারের পর এলাকার জনমনে স্বস্তি ফিরেছিল।
তবে তারা কিছুদিন জেল খেটে জামিনে বেরিয়ে আবারও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছেন। তাদের নামে লৌহজং, শরীয়তপুর সদর ও জাজিরা থানায় চাঁদাবাজি ও ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে।
খালপাড়ের বাসিন্দাদের ভাষ্য, ডহরী-তালতলা খালে দিন-রাত চলছে বাল্কহেডগুলো। এগুলোর বেপরোয়া চলাচলে খালের দুই তীরে ভাঙন শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত বাল্কহেড চলাচলে প্রতিদিন ঘটছে কোনো না কোনো দুর্ঘটনা।
আগের ইউএনও এসব বাল্কহেডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। এই বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ করতে না পারলে একসময় বাপ-দাদার বসত ভিটে হারাতে হবে।
গাওদিয়া ইউনিয়নের হাড়িদিয়া গ্রামের খালপাড়ের বাসিন্দা লিটন ও স্বপন জানান, খালে পানি বাড়তে শুরু করায় বাল্কহেড চলাচল বেড়েছে। এতে খালের দুই পাড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে।
খিদিরপাড়া ইউনিয়নের বাসুদিয়া গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, বাল্কহেড চলাচলের কারণে ঢেউয়ের আঘাতে দুই বছরে আমার বসতবাড়ির অর্ধেক খালে বিলীন হয়ে গেছে। বাল্কহেড চলাচল বন্ধ না হলে অচিরেই পুরো বাড়িটা যাবে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে চাঁদাবাজ চক্রের অন্যতম সদস্য রুবেল বলেন, বাল্কহেড আমরা একা পার করি না, ২০ থেকে ৩০ জন এর সঙ্গে যুক্ত। একাধিক মামলার কথা স্বীকার করে সব মামলায় জামিনে আছেন বলে জানান। তিনি বলেন, আমার আন্ডারে বাল্কহেড আসে, সুকানি ভাইরা খুশি হইয়া কিছু টাকা দেয়। কত পত্রিকায় রিপোর্ট করল বাল্কহেড তো থামল না।
লৌহজং ইউএনও ফারাজানা ববি মিতু বলেন, খালটি লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উভয় উপজেলার অংশে রয়েছে। টঙ্গিবাড়ী ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করে বাল্কহেড বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩৪
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৪৬
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১৬
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৫৬