
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:৪০
আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে ঘর নির্মাণে অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সিনিয়র সহকারী সচিব ও ঝালকাঠির সাবেক ইউএনও রুম্পা সিকদারকে শাস্তি দিয়েছে সরকার। শাস্তি হিসেবে আগামী দুই বছরের জন্য তার বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রুম্পা সিকদার ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ৩০২টি ঘর নির্মাণের জন্য প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে চর ষাটপাকিয়া এলাকায় ১২৮টি ঘর নির্মাণের কথা ছিল।
তবে পরবর্তী ইউএনও নজরুল ইসলাম সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পান, নির্ধারিত ১২৮টির মধ্যে ৫৫টি ঘর নির্মাণই করা হয়নি। পরে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তার কাছ থেকে অর্থ আদায় করে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।
তদন্তে উঠে আসে, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় রুম্পা সিকদার অনির্মিত ঘরগুলোর বিষয়ে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেননি এবং পুরো অর্থ উত্তোলনের চেকে সই করেছিলেন। পাশাপাশি ঘর নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করতেও ব্যর্থ হন।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ এনে বিভাগীয় তদন্ত করা হয়। তদন্তে তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং তার প্রশাসনিক দক্ষতার ঘাটতি ও দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়।
সবশেষে অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সরকার তাকে ‘বেতন বৃদ্ধি স্থগিত’ করার লঘুদণ্ড প্রদান করে।
আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে ঘর নির্মাণে অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সিনিয়র সহকারী সচিব ও ঝালকাঠির সাবেক ইউএনও রুম্পা সিকদারকে শাস্তি দিয়েছে সরকার। শাস্তি হিসেবে আগামী দুই বছরের জন্য তার বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রুম্পা সিকদার ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ৩০২টি ঘর নির্মাণের জন্য প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে চর ষাটপাকিয়া এলাকায় ১২৮টি ঘর নির্মাণের কথা ছিল।
তবে পরবর্তী ইউএনও নজরুল ইসলাম সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পান, নির্ধারিত ১২৮টির মধ্যে ৫৫টি ঘর নির্মাণই করা হয়নি। পরে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তার কাছ থেকে অর্থ আদায় করে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।
তদন্তে উঠে আসে, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় রুম্পা সিকদার অনির্মিত ঘরগুলোর বিষয়ে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেননি এবং পুরো অর্থ উত্তোলনের চেকে সই করেছিলেন। পাশাপাশি ঘর নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করতেও ব্যর্থ হন।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ এনে বিভাগীয় তদন্ত করা হয়। তদন্তে তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং তার প্রশাসনিক দক্ষতার ঘাটতি ও দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়।
সবশেষে অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সরকার তাকে ‘বেতন বৃদ্ধি স্থগিত’ করার লঘুদণ্ড প্রদান করে।
১৭ জুন, ২০২৬ ১৫:৫২
১৭ জুন, ২০২৬ ১৩:৪১
১৭ জুন, ২০২৬ ১৩:২৪
১৭ জুন, ২০২৬ ১৩:০২

০৮ জুন, ২০২৬ ১৪:৫৩
ঝালকাঠিতে ২০ পিস ইয়াবাসহ সুমন চক্রবর্তী (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। তিনি শহরের কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি মন্দিরের পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। রোববার (৭ জুন) সন্ধ্যার দিকে ঝালকাঠি পৌরসভার বাহের রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি পুলিশ জানায়, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাহের রোড এলাকায় অবস্থান নেওয়া হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সুমন চক্রবর্তী পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার সুমন চক্রবর্তী ঝালকাঠি পৌরসভার কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি মন্দির এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত তারাপদ চক্রবর্তীর ছেলে।
এ ঘটনায় এসআই (নিরস্ত্র) মো. তারিফুল ইসলাম বাদী হয়ে সুমন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় ঝালকাঠি সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
ঝালকাঠি জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
ঝালকাঠিতে ২০ পিস ইয়াবাসহ সুমন চক্রবর্তী (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। তিনি শহরের কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি মন্দিরের পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। রোববার (৭ জুন) সন্ধ্যার দিকে ঝালকাঠি পৌরসভার বাহের রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি পুলিশ জানায়, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাহের রোড এলাকায় অবস্থান নেওয়া হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সুমন চক্রবর্তী পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার সুমন চক্রবর্তী ঝালকাঠি পৌরসভার কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি মন্দির এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত তারাপদ চক্রবর্তীর ছেলে।
এ ঘটনায় এসআই (নিরস্ত্র) মো. তারিফুল ইসলাম বাদী হয়ে সুমন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় ঝালকাঠি সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
ঝালকাঠি জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।

০৭ জুন, ২০২৬ ১৪:১৯
একসময় ছিল জনবসতিপূর্ণ একটি গ্রাম। বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি আর স্বাভাবিক গ্রামীণ জীবনের চিত্র ছিল চারদিকে। কিন্তু বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে সেই চিত্র এখন অতীত। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়নের চর ইসলামাবাদ গ্রামের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়ে বর্তমানে বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপে পরিণত হয়েছে। নদীর বুকের মাঝে টিকে থাকা এই ছোট্ট জনপদটি এখন অস্তিত্ব সংকটে। প্রতিনিয়ত নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে বাসিন্দাদের। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম ভোগান্তির মধ্যে জীবনযাপন করছেন তারা।
জানা যায়, ২০১৬ সালে ভয়াবহ নদীভাঙনের ফলে ইসলামাবাদ গ্রামের এই অংশটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকে গ্রামটির চারপাশে বিষখালী নদীর পানি বেষ্টিত অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে নৌকা ও ট্রলারই এখানকার মানুষের একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম। জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা সদর কিংবা জেলা শহরে যেতে হলে তাদের নদীপথেই নির্ভর করতে হয়।
স্থানীয়রা জানান, একসময় এই এলাকায় শত শত একর আবাদি জমি ছিল। নদীভাঙনে ধীরে ধীরে সেই জমি হারিয়ে গেছে। অনেক পরিবার একাধিকবার ভাঙনের শিকার হয়ে বসতভিটা হারিয়েছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে অন্যত্র চলে গেলেও যারা এখনো টিকে আছেন, তারা প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তা নিয়ে বসবাস করছেন।
বর্তমানে দ্বীপটিতে প্রায় ৫৪টি পরিবার বসবাস করছে। জনসংখ্যা আনুমানিক ৫২০ জন। উত্তর-দক্ষিণে প্রায় দুই কিলোমিটারের বেশি এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় এক কিলোমিটার বিস্তৃত এই দ্বীপের আয়তনও বছর বছর কমে আসছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে অদূর ভবিষ্যতে পুরো জনপদটিই নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে।
চর ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কাইউম বাদশাহ বলেন, ‘একসময় আমাদের বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী ছিল। এখন শিক্ষার্থী সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৪০ জনে। শিক্ষকও ছিল পর্যাপ্ত। বর্তমানে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুজন। এলাকার মানুষ একের পর এক ভাঙনের শিকার হওয়ায় অনেকে অন্যত্র চলে গেছেন। ফলে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে গেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস ছালাম বলেন, ‘আমরা সবসময় ভাঙনের ভয় নিয়ে থাকি। কখন ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়, সেই আতঙ্কে রাত কাটে। নদীভাঙনের কারণে বহু মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। যারা আছি, তারাও জানি না কতদিন টিকে থাকতে পারব।
রানাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও বর্তমানে দ্বীপের বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, ‘নদীভাঙনে এই এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। একসময় যাদের অনেক জমিজমা ছিল, এখন তাদের অনেকেই ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন। আমরা বারবার ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালেও কার্যকর উদ্যোগ দেখতে পাইনি।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিত ও অবৈধ বালু উত্তোলন ভাঙনের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি পরিবর্তিত হওয়ায় তীরবর্তী এলাকায় স্রোতের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে প্রতিবছর নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রিজভী আহমেদ সবুজ বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। নদীভাঙন রোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম নিলয় পাশা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
বরিশাল টাইমস
একসময় ছিল জনবসতিপূর্ণ একটি গ্রাম। বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি আর স্বাভাবিক গ্রামীণ জীবনের চিত্র ছিল চারদিকে। কিন্তু বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে সেই চিত্র এখন অতীত। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়নের চর ইসলামাবাদ গ্রামের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়ে বর্তমানে বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপে পরিণত হয়েছে। নদীর বুকের মাঝে টিকে থাকা এই ছোট্ট জনপদটি এখন অস্তিত্ব সংকটে। প্রতিনিয়ত নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে বাসিন্দাদের। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম ভোগান্তির মধ্যে জীবনযাপন করছেন তারা।
জানা যায়, ২০১৬ সালে ভয়াবহ নদীভাঙনের ফলে ইসলামাবাদ গ্রামের এই অংশটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকে গ্রামটির চারপাশে বিষখালী নদীর পানি বেষ্টিত অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে নৌকা ও ট্রলারই এখানকার মানুষের একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম। জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা সদর কিংবা জেলা শহরে যেতে হলে তাদের নদীপথেই নির্ভর করতে হয়।
স্থানীয়রা জানান, একসময় এই এলাকায় শত শত একর আবাদি জমি ছিল। নদীভাঙনে ধীরে ধীরে সেই জমি হারিয়ে গেছে। অনেক পরিবার একাধিকবার ভাঙনের শিকার হয়ে বসতভিটা হারিয়েছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে অন্যত্র চলে গেলেও যারা এখনো টিকে আছেন, তারা প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তা নিয়ে বসবাস করছেন।
বর্তমানে দ্বীপটিতে প্রায় ৫৪টি পরিবার বসবাস করছে। জনসংখ্যা আনুমানিক ৫২০ জন। উত্তর-দক্ষিণে প্রায় দুই কিলোমিটারের বেশি এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় এক কিলোমিটার বিস্তৃত এই দ্বীপের আয়তনও বছর বছর কমে আসছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে অদূর ভবিষ্যতে পুরো জনপদটিই নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে।
চর ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কাইউম বাদশাহ বলেন, ‘একসময় আমাদের বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী ছিল। এখন শিক্ষার্থী সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৪০ জনে। শিক্ষকও ছিল পর্যাপ্ত। বর্তমানে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুজন। এলাকার মানুষ একের পর এক ভাঙনের শিকার হওয়ায় অনেকে অন্যত্র চলে গেছেন। ফলে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে গেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস ছালাম বলেন, ‘আমরা সবসময় ভাঙনের ভয় নিয়ে থাকি। কখন ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়, সেই আতঙ্কে রাত কাটে। নদীভাঙনের কারণে বহু মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। যারা আছি, তারাও জানি না কতদিন টিকে থাকতে পারব।
রানাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও বর্তমানে দ্বীপের বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, ‘নদীভাঙনে এই এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। একসময় যাদের অনেক জমিজমা ছিল, এখন তাদের অনেকেই ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন। আমরা বারবার ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালেও কার্যকর উদ্যোগ দেখতে পাইনি।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিত ও অবৈধ বালু উত্তোলন ভাঙনের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি পরিবর্তিত হওয়ায় তীরবর্তী এলাকায় স্রোতের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে প্রতিবছর নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রিজভী আহমেদ সবুজ বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। নদীভাঙন রোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম নিলয় পাশা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
বরিশাল টাইমস

০৫ জুন, ২০২৬ ১৮:০৩
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ঝালকাঠি শহরের লিচুবাগানে মানববৃক্ষ তৈরি করলো ঝালকাঠি গাছপালা-নদীনালা রক্ষা আন্দোলন। ৫ জুন শুক্রবার বেলা ১২টায় সংগঠনটি জেলার পরিবেশপ্রেমী নাগরিকদের নিয়ে হাতে-হাত মিলিয়ে একটি বৃক্ষের আদলে মানববৃক্ষ তৈরি করে।
মানববৃক্ষ থেকে লিচুবাগানের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার দাবি করা হয়। ঝালকাঠি শহরের ফুসফুস-খ্যাত লিচুবাগান এলাকার জায়গা দুইটি কলেজের নামে হওয়া বরাদ্দ বাতিল করে আবারও লিচুবাগানের প্রকৃতি ফিরিয়ে আনার দাবি করা হয়। এ সময় পরিবেশবাদীরা স্লোগান দেন "এক দফা এক দাবি- দুই কলেজ সরে যাবি" ; আমরা চাই আমরা চাই- লিচুবাগান ফিরে চাই"
গাছ লাগানোর উপযোগী সময় না হওয়ায় একটি লিচুগাছকে প্রতিকী হিসেবে দাঁড় করিয়ে শিগগিরই লিচুসহ পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন জাতের গাছ লাগানোর ঘোষণা দেওয়া হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি গাছপালা-নদীনালা রক্ষা আন্দোলনের উপদেষ্টা মল্লিক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন কবির, ইলিয়াস সিকদার ফরহাদ, সাকিনা আলম লীজা, ফাইয়াজ ইফতেখার রনি, সহসভাপতি আজমীর হোসেন তালুকদার, মুনশি রেজাউল হক আজিম ও নির্বাহী সদস্য শফিউল আজম টুটুলসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের ৫০ জন সদস্য। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকিরুল হক সরকার।
ঝালকাঠি গাছপালা নদীনালা রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল মুসাফির বলেন, সারাদেশে সবুজ বেষ্টনীতে ঝালকাঠি জেলা এক নম্বরে আছে, এটি ধরে রাখতে হবে। পরিবেশের বিরুদ্ধে আসা যেকোনো উদ্যোগকে সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ঝালকাঠি শহরের লিচুবাগানে মানববৃক্ষ তৈরি করলো ঝালকাঠি গাছপালা-নদীনালা রক্ষা আন্দোলন। ৫ জুন শুক্রবার বেলা ১২টায় সংগঠনটি জেলার পরিবেশপ্রেমী নাগরিকদের নিয়ে হাতে-হাত মিলিয়ে একটি বৃক্ষের আদলে মানববৃক্ষ তৈরি করে।
মানববৃক্ষ থেকে লিচুবাগানের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার দাবি করা হয়। ঝালকাঠি শহরের ফুসফুস-খ্যাত লিচুবাগান এলাকার জায়গা দুইটি কলেজের নামে হওয়া বরাদ্দ বাতিল করে আবারও লিচুবাগানের প্রকৃতি ফিরিয়ে আনার দাবি করা হয়। এ সময় পরিবেশবাদীরা স্লোগান দেন "এক দফা এক দাবি- দুই কলেজ সরে যাবি" ; আমরা চাই আমরা চাই- লিচুবাগান ফিরে চাই"
গাছ লাগানোর উপযোগী সময় না হওয়ায় একটি লিচুগাছকে প্রতিকী হিসেবে দাঁড় করিয়ে শিগগিরই লিচুসহ পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন জাতের গাছ লাগানোর ঘোষণা দেওয়া হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি গাছপালা-নদীনালা রক্ষা আন্দোলনের উপদেষ্টা মল্লিক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন কবির, ইলিয়াস সিকদার ফরহাদ, সাকিনা আলম লীজা, ফাইয়াজ ইফতেখার রনি, সহসভাপতি আজমীর হোসেন তালুকদার, মুনশি রেজাউল হক আজিম ও নির্বাহী সদস্য শফিউল আজম টুটুলসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের ৫০ জন সদস্য। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকিরুল হক সরকার।
ঝালকাঠি গাছপালা নদীনালা রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল মুসাফির বলেন, সারাদেশে সবুজ বেষ্টনীতে ঝালকাঠি জেলা এক নম্বরে আছে, এটি ধরে রাখতে হবে। পরিবেশের বিরুদ্ধে আসা যেকোনো উদ্যোগকে সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.