পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) বালু ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। তার ওপর ভর করেই দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে সড়ক, ড্রেনেজসহ অবকাঠামো নির্মাণ। বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করেই চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে বরাদ্দ পাওয়া প্লটগুলোতেই শিল্পকারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা।
বঙ্গোপসাগর ও নদ-নদী পরিবেষ্টিত পটুয়াখালী অঞ্চলের মানুষের জীবিকা দীর্ঘদিন ধরে আবর্তিত হয়েছে মাছ ও কৃষি ঘিরে। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে পর্যটনের বিকাশ ঘটলেও স্থায়ী কর্মসংস্থান ও শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। সেই বাস্তবতায় পায়রা সমুদ্রবন্দর, তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ও পদ্মা সেতুর পর দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরে নতুন সংযোজন হতে যাচ্ছে পটুয়াখালী ইপিজেড। পায়রা সমুদ্রবন্দর ঘিরে শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ ইতোমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে।
এর পাশাপাশি এলাকায় দুটি এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে রয়েছে। আরো একটি একই ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ এক-চতুর্থাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যুৎ ও বন্দর সুবিধার সমন্বয়ে পটুয়াখালী এখন দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনাময় শিল্পকেন্দ্র হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালে পটুয়াখালী ইপিজেড প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।
সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের পাঁচকোরালিয়া গ্রামে ৪১০ দশমিক ৭৮ একর জমিতে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পের বালু ভরাটের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্লট বরাদ্দ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতে পারবেন দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তারা।
দেশের তৃতীয় সামুদ্রিক বন্দর পায়রা সমুদ্রবন্দরের পাশেই গড়ে উঠছে পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড)। ফলে ধীরে ধীরে বাড়ছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ।
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। এই উন্নত যোগাযোগের সুবিধায় কম সময় ও কম খরচে কাঁচামাল আমদানি এবং রপ্তানি পণ্য পাঠাতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। এতে বিনিয়োগের পাশাপাশি রপ্তানিও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
পায়রা বন্দর, বিদ্যুৎ আর শ্রমিক সহজ প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করেই ইপিজেডে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানা স্থাপন করবেন। এসব কারখানায় প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। প্রত্যেক শ্রমিকের আয়ের ওপর গড়ে আরো দুইজন পরিবারের সদস্য নির্ভর করবেন। সে হিসাবে আরো প্রায় দুই লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইপিজেডকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হবেন।
ইপিজেডে কর্মচাঞ্চল্য বাড়লে আশপাশের এলাকায়ও এর প্রভাব পড়বে। হোটেল-রেস্তোঁরা, গণপরিবহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানসহ নানা সেবামুখী ব্যবসার প্রসার ঘটবে। এসব কর্মকাণ্ড স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইপিজেড চালু হলে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাছ ধরা ও কৃষিকাজে নির্ভরশীল দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের একটি বড় অংশ তখন গার্মেন্টস, ম্যানিকুইন হেড ও উইগ, লাগেজ, গাড়ির সিট হিটার, সার্জিক্যাল গাউন, প্লাস্টিক পণ্যসহ নানা রপ্তানিমুখী শিল্পে কাজের সুযোগ পাবেন।
এক হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন পটুয়াখালী ইপিজেডে মোট ৩০৬টি শিল্প প্লট থাকবে। এর মধ্যে এক হাজার ১০৫ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকি ৩৩৮ কোটি টাকা অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)।
প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ৩ দশমিক ১৫ লাখ মিটার সড়ক, ৩০ হাজার মিটার ড্রেনেজ, চারটি ছয়তলা কারখানা ভবন, তিনটি দশতলা অফিস ভবন, আবাসিক ভবন, কাস্টমস ও জোন অফিস, নিরাপত্তা অফিস এবং একটি হেলিপ্যাড। পাশাপাশি জমিদাতা ১৫৪ পরিবারের জন্য পুনর্বাসন আবাসন নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে থাকবে পুকুর, মসজিদসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১৪টি সাবস্টেশন, ১৫ কিলোমিটার ১১ কেভি হাই-টেনশন লাইন এবং একটি জিআইএস সাবস্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি আর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ শেষ হলেই প্লট বরাদ্ধ শুরু হবে।
পটুয়াখালী ইউপিজের প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২৬ সালের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্লট বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। তিনি বলেন, জমিদাতা পরিবারগুলোর আবাসন নির্মাণ শুরু হয়েছে। ড্রেন, ফুটপাত, কালভার্ট ও স্কুলসহ প্রয়োজনীয় সামাজিক অবকাঠামোও গড়ে তোলা হবে।
শফিকুল ইসলাম আরো বলেন, বালু ভরাট শেষে বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণকাজ এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই বছরের মাঝামাঝি সময় প্লট বরাদ্ধ দেয়া হবে। বিনিয়োগকারীরা এই বছরের শেষের দিকে শিল্প কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতেন পারবেন।
পায়রা সমুদ্রবন্দর, পদ্মা সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে পটুয়াখালী ইপিজেড যুক্ত হলে উপকূলীয় অর্থনীতির চাকা নতুন গতিতে ঘুরবে। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি শিল্পাঞ্চল নয়, বরং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দেওয়ার প্রতীক।

২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৫:১৫
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের সৈকত হোটেলের সামনে তাঁকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের–ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত ব্যক্তির নাম কে এম বাচ্চু। তিনি একটি জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ও কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সভাপতি।
পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বায়জিদ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি শহিদ সিকদার, স্থানীয় হারুন মুসল্লিসহ আরও কয়েকজন এ হামলায় অংশ নেন বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন কেএম বাচ্চুর ছোট ভাই সোহাগ খলিফা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বায়জিদসহ অভিযুক্ত কয়েকজনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সৈকত হোটেলের সামনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন কে এম বাচ্চু। এ সময় বায়জিদ সেখানে এসে তাঁর প্রকাশিত একটি সংবাদ নিয়ে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে বায়জিদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে বাচ্চুর ওপর হামলা চালান। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। হামলাকারীরা বাচ্চুকে আহত অবস্থায় ফেলে চলে গেলে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, কে এম বাচ্চুর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে।
ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জোবায়ের আহমেদ। একই কথা বলেছেন কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুকও।
মহিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বরিশালটাইমসকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের সৈকত হোটেলের সামনে তাঁকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের–ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত ব্যক্তির নাম কে এম বাচ্চু। তিনি একটি জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ও কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সভাপতি।
পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বায়জিদ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি শহিদ সিকদার, স্থানীয় হারুন মুসল্লিসহ আরও কয়েকজন এ হামলায় অংশ নেন বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন কেএম বাচ্চুর ছোট ভাই সোহাগ খলিফা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বায়জিদসহ অভিযুক্ত কয়েকজনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সৈকত হোটেলের সামনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন কে এম বাচ্চু। এ সময় বায়জিদ সেখানে এসে তাঁর প্রকাশিত একটি সংবাদ নিয়ে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে বায়জিদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে বাচ্চুর ওপর হামলা চালান। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। হামলাকারীরা বাচ্চুকে আহত অবস্থায় ফেলে চলে গেলে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, কে এম বাচ্চুর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে।
ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জোবায়ের আহমেদ। একই কথা বলেছেন কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুকও।
মহিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বরিশালটাইমসকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১৪:২১
পটুয়াখালীর মহিপুরে ছোয়ামনি (১১) নামের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নূর মোহাম্মদ হাওলাদার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ জুলাই) ভুক্তভোগী শিশুর মা খাদিজা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে মহিপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মহিপুর থানার ধুলাসার ইউনিয়নের পূর্ব নতুনপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ছোট ভাইকে নিয়ে অবস্থান করছিল ওই শিশু। এ সময় তার মা জরুরি কাজে এবং বাবা জীবিকার প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, এই সুযোগে একই এলাকার বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ হাওলাদার শিশুটির বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় লোকজন চলে আসতে দেখে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর সামাজিক লজ্জা ও স্থানীয়ভাবে সমাধানের আশায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ করেননি। দীর্ঘদিন স্থানীয়ভাবে সুবিচার পাওয়ার চেষ্টা করেও কোনো ফল না পাওয়ায় বুধবার (২২ জুলাই) শিশুটির মা মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মহিপুর থানা পুলিশ মামলা রুজু করে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পটুয়াখালীর মহিপুরে ছোয়ামনি (১১) নামের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নূর মোহাম্মদ হাওলাদার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ জুলাই) ভুক্তভোগী শিশুর মা খাদিজা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে মহিপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মহিপুর থানার ধুলাসার ইউনিয়নের পূর্ব নতুনপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ছোট ভাইকে নিয়ে অবস্থান করছিল ওই শিশু। এ সময় তার মা জরুরি কাজে এবং বাবা জীবিকার প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, এই সুযোগে একই এলাকার বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ হাওলাদার শিশুটির বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় লোকজন চলে আসতে দেখে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর সামাজিক লজ্জা ও স্থানীয়ভাবে সমাধানের আশায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ করেননি। দীর্ঘদিন স্থানীয়ভাবে সুবিচার পাওয়ার চেষ্টা করেও কোনো ফল না পাওয়ায় বুধবার (২২ জুলাই) শিশুটির মা মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মহিপুর থানা পুলিশ মামলা রুজু করে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২৪ জুলাই, ২০২৬ ১৪:১৬
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া এ সড়কে স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে নিজ উদ্যোগে অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করেছেন। সেই সাঁকোই এখন এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসা।
মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা থেকে সালামপুর আমনিয়া কামিল মাদ্রাসা পর্যন্ত সংযোগকারী সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে কাদাপানি ও জলাবদ্ধতার কারণে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কটি দিয়ে মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা, সালামপুর আমনিয়া কামিল মাদ্রাসা, একটি নূরানি মাদ্রাসা ও একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে তাদের।
মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার প্রধান কেরানি মাওলানা মহিবুল্লাহ সবুজ বলেন, “এটি আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় মানুষের প্রধান চলাচলের পথ। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।”
লেবুখালী মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ফরিদ উদ্দিন উজ্জ্বল বলেন, “প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী এই রাস্তা ব্যবহার করে। বর্ষাকালে তাদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া উচিত।”
সমাজসেবক রেজাউল করিম বাবুল মৃধা বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তিগত রাস্তা নয়; জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।”
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী জাকির হোসেন খান বলেন, “দৈনন্দিন চলাচলে এ রাস্তার দুরবস্থা এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত ইমদাদুল মৃধা বলেন, “জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের এমন অবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মানুষের নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
এ বিষয়ে মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “রাস্তাটির বিষয়ে আমি অবগত আছি। এটি গ্রামীণ অবকাঠামো খাতের আওতাভুক্ত। সেখানে প্রায় ৮০০ ফুট রাস্তা বেহাল অবস্থায় রয়েছে। আগামী জুন মাসে বাজেট এলে কোনো একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কটি সংস্কারের চেষ্টা করা হবে।”
এদিকে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া এ সড়কে স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে নিজ উদ্যোগে অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করেছেন। সেই সাঁকোই এখন এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসা।
মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা থেকে সালামপুর আমনিয়া কামিল মাদ্রাসা পর্যন্ত সংযোগকারী সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে কাদাপানি ও জলাবদ্ধতার কারণে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কটি দিয়ে মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা, সালামপুর আমনিয়া কামিল মাদ্রাসা, একটি নূরানি মাদ্রাসা ও একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে তাদের।
মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার প্রধান কেরানি মাওলানা মহিবুল্লাহ সবুজ বলেন, “এটি আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় মানুষের প্রধান চলাচলের পথ। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।”
লেবুখালী মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ফরিদ উদ্দিন উজ্জ্বল বলেন, “প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী এই রাস্তা ব্যবহার করে। বর্ষাকালে তাদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া উচিত।”
সমাজসেবক রেজাউল করিম বাবুল মৃধা বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তিগত রাস্তা নয়; জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।”
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী জাকির হোসেন খান বলেন, “দৈনন্দিন চলাচলে এ রাস্তার দুরবস্থা এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত ইমদাদুল মৃধা বলেন, “জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের এমন অবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মানুষের নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
এ বিষয়ে মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “রাস্তাটির বিষয়ে আমি অবগত আছি। এটি গ্রামীণ অবকাঠামো খাতের আওতাভুক্ত। সেখানে প্রায় ৮০০ ফুট রাস্তা বেহাল অবস্থায় রয়েছে। আগামী জুন মাসে বাজেট এলে কোনো একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কটি সংস্কারের চেষ্টা করা হবে।”
এদিকে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

০৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:৩২
পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) বালু ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। তার ওপর ভর করেই দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে সড়ক, ড্রেনেজসহ অবকাঠামো নির্মাণ। বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করেই চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে বরাদ্দ পাওয়া প্লটগুলোতেই শিল্পকারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা।
বঙ্গোপসাগর ও নদ-নদী পরিবেষ্টিত পটুয়াখালী অঞ্চলের মানুষের জীবিকা দীর্ঘদিন ধরে আবর্তিত হয়েছে মাছ ও কৃষি ঘিরে। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে পর্যটনের বিকাশ ঘটলেও স্থায়ী কর্মসংস্থান ও শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। সেই বাস্তবতায় পায়রা সমুদ্রবন্দর, তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ও পদ্মা সেতুর পর দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরে নতুন সংযোজন হতে যাচ্ছে পটুয়াখালী ইপিজেড। পায়রা সমুদ্রবন্দর ঘিরে শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ ইতোমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে।
এর পাশাপাশি এলাকায় দুটি এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে রয়েছে। আরো একটি একই ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ এক-চতুর্থাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যুৎ ও বন্দর সুবিধার সমন্বয়ে পটুয়াখালী এখন দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনাময় শিল্পকেন্দ্র হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালে পটুয়াখালী ইপিজেড প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।
সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের পাঁচকোরালিয়া গ্রামে ৪১০ দশমিক ৭৮ একর জমিতে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পের বালু ভরাটের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্লট বরাদ্দ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতে পারবেন দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তারা।
দেশের তৃতীয় সামুদ্রিক বন্দর পায়রা সমুদ্রবন্দরের পাশেই গড়ে উঠছে পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড)। ফলে ধীরে ধীরে বাড়ছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ।
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। এই উন্নত যোগাযোগের সুবিধায় কম সময় ও কম খরচে কাঁচামাল আমদানি এবং রপ্তানি পণ্য পাঠাতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। এতে বিনিয়োগের পাশাপাশি রপ্তানিও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
পায়রা বন্দর, বিদ্যুৎ আর শ্রমিক সহজ প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করেই ইপিজেডে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানা স্থাপন করবেন। এসব কারখানায় প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। প্রত্যেক শ্রমিকের আয়ের ওপর গড়ে আরো দুইজন পরিবারের সদস্য নির্ভর করবেন। সে হিসাবে আরো প্রায় দুই লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইপিজেডকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হবেন।
ইপিজেডে কর্মচাঞ্চল্য বাড়লে আশপাশের এলাকায়ও এর প্রভাব পড়বে। হোটেল-রেস্তোঁরা, গণপরিবহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানসহ নানা সেবামুখী ব্যবসার প্রসার ঘটবে। এসব কর্মকাণ্ড স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইপিজেড চালু হলে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাছ ধরা ও কৃষিকাজে নির্ভরশীল দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের একটি বড় অংশ তখন গার্মেন্টস, ম্যানিকুইন হেড ও উইগ, লাগেজ, গাড়ির সিট হিটার, সার্জিক্যাল গাউন, প্লাস্টিক পণ্যসহ নানা রপ্তানিমুখী শিল্পে কাজের সুযোগ পাবেন।
এক হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন পটুয়াখালী ইপিজেডে মোট ৩০৬টি শিল্প প্লট থাকবে। এর মধ্যে এক হাজার ১০৫ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকি ৩৩৮ কোটি টাকা অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)।
প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ৩ দশমিক ১৫ লাখ মিটার সড়ক, ৩০ হাজার মিটার ড্রেনেজ, চারটি ছয়তলা কারখানা ভবন, তিনটি দশতলা অফিস ভবন, আবাসিক ভবন, কাস্টমস ও জোন অফিস, নিরাপত্তা অফিস এবং একটি হেলিপ্যাড। পাশাপাশি জমিদাতা ১৫৪ পরিবারের জন্য পুনর্বাসন আবাসন নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে থাকবে পুকুর, মসজিদসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১৪টি সাবস্টেশন, ১৫ কিলোমিটার ১১ কেভি হাই-টেনশন লাইন এবং একটি জিআইএস সাবস্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি আর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ শেষ হলেই প্লট বরাদ্ধ শুরু হবে।
পটুয়াখালী ইউপিজের প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২৬ সালের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্লট বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। তিনি বলেন, জমিদাতা পরিবারগুলোর আবাসন নির্মাণ শুরু হয়েছে। ড্রেন, ফুটপাত, কালভার্ট ও স্কুলসহ প্রয়োজনীয় সামাজিক অবকাঠামোও গড়ে তোলা হবে।
শফিকুল ইসলাম আরো বলেন, বালু ভরাট শেষে বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণকাজ এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই বছরের মাঝামাঝি সময় প্লট বরাদ্ধ দেয়া হবে। বিনিয়োগকারীরা এই বছরের শেষের দিকে শিল্প কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতেন পারবেন।
পায়রা সমুদ্রবন্দর, পদ্মা সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে পটুয়াখালী ইপিজেড যুক্ত হলে উপকূলীয় অর্থনীতির চাকা নতুন গতিতে ঘুরবে। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি শিল্পাঞ্চল নয়, বরং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দেওয়ার প্রতীক।