পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) বালু ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। তার ওপর ভর করেই দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে সড়ক, ড্রেনেজসহ অবকাঠামো নির্মাণ। বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করেই চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে বরাদ্দ পাওয়া প্লটগুলোতেই শিল্পকারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা।
বঙ্গোপসাগর ও নদ-নদী পরিবেষ্টিত পটুয়াখালী অঞ্চলের মানুষের জীবিকা দীর্ঘদিন ধরে আবর্তিত হয়েছে মাছ ও কৃষি ঘিরে। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে পর্যটনের বিকাশ ঘটলেও স্থায়ী কর্মসংস্থান ও শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। সেই বাস্তবতায় পায়রা সমুদ্রবন্দর, তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ও পদ্মা সেতুর পর দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরে নতুন সংযোজন হতে যাচ্ছে পটুয়াখালী ইপিজেড। পায়রা সমুদ্রবন্দর ঘিরে শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ ইতোমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে।
এর পাশাপাশি এলাকায় দুটি এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে রয়েছে। আরো একটি একই ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ এক-চতুর্থাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যুৎ ও বন্দর সুবিধার সমন্বয়ে পটুয়াখালী এখন দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনাময় শিল্পকেন্দ্র হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালে পটুয়াখালী ইপিজেড প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।
সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের পাঁচকোরালিয়া গ্রামে ৪১০ দশমিক ৭৮ একর জমিতে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পের বালু ভরাটের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্লট বরাদ্দ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতে পারবেন দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তারা।
দেশের তৃতীয় সামুদ্রিক বন্দর পায়রা সমুদ্রবন্দরের পাশেই গড়ে উঠছে পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড)। ফলে ধীরে ধীরে বাড়ছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ।
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। এই উন্নত যোগাযোগের সুবিধায় কম সময় ও কম খরচে কাঁচামাল আমদানি এবং রপ্তানি পণ্য পাঠাতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। এতে বিনিয়োগের পাশাপাশি রপ্তানিও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
পায়রা বন্দর, বিদ্যুৎ আর শ্রমিক সহজ প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করেই ইপিজেডে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানা স্থাপন করবেন। এসব কারখানায় প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। প্রত্যেক শ্রমিকের আয়ের ওপর গড়ে আরো দুইজন পরিবারের সদস্য নির্ভর করবেন। সে হিসাবে আরো প্রায় দুই লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইপিজেডকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হবেন।
ইপিজেডে কর্মচাঞ্চল্য বাড়লে আশপাশের এলাকায়ও এর প্রভাব পড়বে। হোটেল-রেস্তোঁরা, গণপরিবহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানসহ নানা সেবামুখী ব্যবসার প্রসার ঘটবে। এসব কর্মকাণ্ড স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইপিজেড চালু হলে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাছ ধরা ও কৃষিকাজে নির্ভরশীল দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের একটি বড় অংশ তখন গার্মেন্টস, ম্যানিকুইন হেড ও উইগ, লাগেজ, গাড়ির সিট হিটার, সার্জিক্যাল গাউন, প্লাস্টিক পণ্যসহ নানা রপ্তানিমুখী শিল্পে কাজের সুযোগ পাবেন।
এক হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন পটুয়াখালী ইপিজেডে মোট ৩০৬টি শিল্প প্লট থাকবে। এর মধ্যে এক হাজার ১০৫ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকি ৩৩৮ কোটি টাকা অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)।
প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ৩ দশমিক ১৫ লাখ মিটার সড়ক, ৩০ হাজার মিটার ড্রেনেজ, চারটি ছয়তলা কারখানা ভবন, তিনটি দশতলা অফিস ভবন, আবাসিক ভবন, কাস্টমস ও জোন অফিস, নিরাপত্তা অফিস এবং একটি হেলিপ্যাড। পাশাপাশি জমিদাতা ১৫৪ পরিবারের জন্য পুনর্বাসন আবাসন নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে থাকবে পুকুর, মসজিদসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১৪টি সাবস্টেশন, ১৫ কিলোমিটার ১১ কেভি হাই-টেনশন লাইন এবং একটি জিআইএস সাবস্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি আর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ শেষ হলেই প্লট বরাদ্ধ শুরু হবে।
পটুয়াখালী ইউপিজের প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২৬ সালের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্লট বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। তিনি বলেন, জমিদাতা পরিবারগুলোর আবাসন নির্মাণ শুরু হয়েছে। ড্রেন, ফুটপাত, কালভার্ট ও স্কুলসহ প্রয়োজনীয় সামাজিক অবকাঠামোও গড়ে তোলা হবে।
শফিকুল ইসলাম আরো বলেন, বালু ভরাট শেষে বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণকাজ এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই বছরের মাঝামাঝি সময় প্লট বরাদ্ধ দেয়া হবে। বিনিয়োগকারীরা এই বছরের শেষের দিকে শিল্প কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতেন পারবেন।
পায়রা সমুদ্রবন্দর, পদ্মা সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে পটুয়াখালী ইপিজেড যুক্ত হলে উপকূলীয় অর্থনীতির চাকা নতুন গতিতে ঘুরবে। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি শিল্পাঞ্চল নয়, বরং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দেওয়ার প্রতীক।

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২২
কুয়াকাটার অদূরে পর্যটনপল্লী গঙ্গামতি লেকের পাশেই সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘেঁষে স্থাপনা তোলার কাজ চলছে। ধুলাসার ইউনিয়নের ধোলাই মার্কেটের পশ্চিম দিকে এই স্থাপনা তোলা হচ্ছে। গত চারদিন ধরে নির্বিঘ্নে স্থাপনাটি তোলার কাজ চললেও বনবিভাগ ও ভূমি অফিসের কেউ বিষয়টি নজরে নেয়নি। ফলে সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলসহ প্রাকৃতিক জলাশয় লেক সব ধ্বংসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ এনিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। পরিবেশ প্রকৃতি ও পর্যটন এলাকা রক্ষায় কুয়াকাটা সৈকতের লেম্বুরবন খাজুরা থেকে গঙ্গামতি হয়ে কাউয়ার চর পর্যন্ত বেড়িবাঁধের বাইরে কোন ধরনের স্থাপনা তুলতে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা উপেক্ষা করে চলছে এই স্থাপনা তোলার কাজ।
দেখা গেছে, জলাশয় ও লেকের পাশে কাঠের এই স্থাপনা তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে খুটি বসানো হয়েছে। কাঠের পাটাতনের কাজ চলছে। সবুজ ম্যানগ্রোভ বনঘেঁষা এমন স্থাপনা তোলার কাজ চললেও ওখানকার কোন সাধারণ মানুষ এনিয়ে মুখ খুলতে রাজি হয়নি। কে তুলছে, কেন তুলছে, কী হচ্ছে-এমনটি পর্যন্ত কেউ বলেননি। তবে জনশ্রুতি রয়েছে তিন প্রভাবশালী ব্যক্তি মিলে এই স্থাপনা তোলার কাজ চলমান রেখেছেন। এটি যাতে বন্ধ না হয় এজন্য আবার তাঁদের ভিন্ন প্রস্তুতি রয়েছে!
পরিবেশ সংগঠক নজরুল ইসলাম বলেন, “ গঙ্গামতির সংরক্ষিত বনাঞ্চল” পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকা। এখানে সংরক্ষিত কিংবা ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের মধ্যে প্রাকৃতিক জলাশয়, লেকের আশাপাশে কোন ধরনের স্থাপনা তোলা হলে তা পরিবেশের জন্য ঝুঁকি বয়ে আনবে। বনাঞ্চল ধ্বংসের শঙ্কা তৈরি হবে। এছাড়া কুয়াকাটা সৈকত এরিয়া রক্ষায় উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। যা অনুসরণ করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে এই পরিবেশ কর্মী মনে করছেন।
বনবিভাগ গঙ্গামতির বিট কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, প্রথমদিন তিনি ওই স্থাপনা তুলতে বাধা দিয়েছেন। কিন্তু তারা নিজের জমি দাবি করে কাজ করছেন। তারপরও তিনি উপজেলা ভূমি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে জানান। তবে পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকায় স্থাপনা তুলতে বনবিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আছে কি না তা তিনি জানাতে পারেননি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে সচেতনমহলের প্রশ্ন পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকায় কোন স্থাপনা তুলতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তর, বনবিভাগের ছাড়পত্র প্রয়োজন রয়েছে। এসব ছাড়াই মূলত পরিবেশবিনাশি এ কর্মকান্ড চলছে। যাতে কুয়াকাটার প্রকৃতি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার শঙ্কা বাড়ছে।
কুয়াকাটার অদূরে পর্যটনপল্লী গঙ্গামতি লেকের পাশেই সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘেঁষে স্থাপনা তোলার কাজ চলছে। ধুলাসার ইউনিয়নের ধোলাই মার্কেটের পশ্চিম দিকে এই স্থাপনা তোলা হচ্ছে। গত চারদিন ধরে নির্বিঘ্নে স্থাপনাটি তোলার কাজ চললেও বনবিভাগ ও ভূমি অফিসের কেউ বিষয়টি নজরে নেয়নি। ফলে সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলসহ প্রাকৃতিক জলাশয় লেক সব ধ্বংসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ এনিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। পরিবেশ প্রকৃতি ও পর্যটন এলাকা রক্ষায় কুয়াকাটা সৈকতের লেম্বুরবন খাজুরা থেকে গঙ্গামতি হয়ে কাউয়ার চর পর্যন্ত বেড়িবাঁধের বাইরে কোন ধরনের স্থাপনা তুলতে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা উপেক্ষা করে চলছে এই স্থাপনা তোলার কাজ।
দেখা গেছে, জলাশয় ও লেকের পাশে কাঠের এই স্থাপনা তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে খুটি বসানো হয়েছে। কাঠের পাটাতনের কাজ চলছে। সবুজ ম্যানগ্রোভ বনঘেঁষা এমন স্থাপনা তোলার কাজ চললেও ওখানকার কোন সাধারণ মানুষ এনিয়ে মুখ খুলতে রাজি হয়নি। কে তুলছে, কেন তুলছে, কী হচ্ছে-এমনটি পর্যন্ত কেউ বলেননি। তবে জনশ্রুতি রয়েছে তিন প্রভাবশালী ব্যক্তি মিলে এই স্থাপনা তোলার কাজ চলমান রেখেছেন। এটি যাতে বন্ধ না হয় এজন্য আবার তাঁদের ভিন্ন প্রস্তুতি রয়েছে!
পরিবেশ সংগঠক নজরুল ইসলাম বলেন, “ গঙ্গামতির সংরক্ষিত বনাঞ্চল” পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকা। এখানে সংরক্ষিত কিংবা ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের মধ্যে প্রাকৃতিক জলাশয়, লেকের আশাপাশে কোন ধরনের স্থাপনা তোলা হলে তা পরিবেশের জন্য ঝুঁকি বয়ে আনবে। বনাঞ্চল ধ্বংসের শঙ্কা তৈরি হবে। এছাড়া কুয়াকাটা সৈকত এরিয়া রক্ষায় উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। যা অনুসরণ করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে এই পরিবেশ কর্মী মনে করছেন।
বনবিভাগ গঙ্গামতির বিট কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, প্রথমদিন তিনি ওই স্থাপনা তুলতে বাধা দিয়েছেন। কিন্তু তারা নিজের জমি দাবি করে কাজ করছেন। তারপরও তিনি উপজেলা ভূমি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে জানান। তবে পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকায় স্থাপনা তুলতে বনবিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আছে কি না তা তিনি জানাতে পারেননি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে সচেতনমহলের প্রশ্ন পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকায় কোন স্থাপনা তুলতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তর, বনবিভাগের ছাড়পত্র প্রয়োজন রয়েছে। এসব ছাড়াই মূলত পরিবেশবিনাশি এ কর্মকান্ড চলছে। যাতে কুয়াকাটার প্রকৃতি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার শঙ্কা বাড়ছে।
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:০৫
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ভাঙন কবলিত তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনরোধে টেকসই বেড়িবাঁধ ও দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে সেতু নির্মাণের দাবিতে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সব শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষ।
ভোলা (ভেলুমিয়া)- পটুয়াখালী (ধুলিয়া) সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে তেঁতুলিয়া নদীর তীরের পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মঠবাড়িয়া-ধুলিয়া লঞ্চঘাট ও বাকেরগঞ্জের দুর্গাপাশা এলাকার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মো. মোফাজ্জেল হোসেন মফু। তিনি লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দেশের সড়ক পথের সঙ্গে দ্বীপ জেলা ভোলাকে যুক্ত করতে সবচেয়ে সহজ পথ তেঁতুলিয়া নদীর ভোলার ভেলুমিয়া থেকে পটুয়াখালীর ধুলিয়া পয়েন্টে সেতু নির্মাণ। যার দুরত্বমাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার। এতে দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটবে। যা দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।
ভোলা থেকে পটুয়াখালীর ধুলিয়া হয়ে বরিশালের বারেকগঞ্জ হয়ে মাত্র ৪৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বরিশাল শহরে পৌঁছানো যাবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও ভোলার সাথে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা, পায়রা বন্দর, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে, মংলা বন্দর সহ দক্ষিণের ৬টি জেলার ২৫টি উপজেলার সঙ্গে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন হবে।
ওই সংবাদ সম্মেল ও মানববন্ধনে তেঁতুলিয়া নদী বেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নসহ ধুলিয়া, নাজিরপুর ও কাছিপাড়া ইউনিয়ন রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণেরও জোরালো দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ভার্চুয়াল বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য সহিদুল আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক(ভারপ্রাপ্ত) তসলিম তালুকদার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাও. রফিকুল ইসলাম, বাউফল উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি আ. রব খান, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য মো. বাবুল মিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মো. নাইম সিকদার তারেক, ধুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম, সৈয়দ মো. রিপন, মো. তৌসিফুর রহমান রাফা প্রমূখ।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ভাঙন কবলিত তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনরোধে টেকসই বেড়িবাঁধ ও দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে সেতু নির্মাণের দাবিতে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সব শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষ।
ভোলা (ভেলুমিয়া)- পটুয়াখালী (ধুলিয়া) সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে তেঁতুলিয়া নদীর তীরের পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মঠবাড়িয়া-ধুলিয়া লঞ্চঘাট ও বাকেরগঞ্জের দুর্গাপাশা এলাকার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মো. মোফাজ্জেল হোসেন মফু। তিনি লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দেশের সড়ক পথের সঙ্গে দ্বীপ জেলা ভোলাকে যুক্ত করতে সবচেয়ে সহজ পথ তেঁতুলিয়া নদীর ভোলার ভেলুমিয়া থেকে পটুয়াখালীর ধুলিয়া পয়েন্টে সেতু নির্মাণ। যার দুরত্বমাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার। এতে দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটবে। যা দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।
ভোলা থেকে পটুয়াখালীর ধুলিয়া হয়ে বরিশালের বারেকগঞ্জ হয়ে মাত্র ৪৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বরিশাল শহরে পৌঁছানো যাবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও ভোলার সাথে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা, পায়রা বন্দর, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে, মংলা বন্দর সহ দক্ষিণের ৬টি জেলার ২৫টি উপজেলার সঙ্গে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন হবে।
ওই সংবাদ সম্মেল ও মানববন্ধনে তেঁতুলিয়া নদী বেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নসহ ধুলিয়া, নাজিরপুর ও কাছিপাড়া ইউনিয়ন রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণেরও জোরালো দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ভার্চুয়াল বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য সহিদুল আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক(ভারপ্রাপ্ত) তসলিম তালুকদার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাও. রফিকুল ইসলাম, বাউফল উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি আ. রব খান, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য মো. বাবুল মিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মো. নাইম সিকদার তারেক, ধুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম, সৈয়দ মো. রিপন, মো. তৌসিফুর রহমান রাফা প্রমূখ।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৮
পটুয়াখালীর দশমিনায় এক গ্রাম্য কবিরাজের বাড়ির পুকুরপাড় থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আরিফুর রহমান (৪২) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের মোল্লা বাড়ির কবিরাজ নূরজাহান বেগমের বাড়ির পুকুরপাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আরিফুর রহমান ওই এলাকার নূর আলম মাতব্বরের ছেলে এবং পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন আরিফুর রহমান। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চিকিৎসার জন্য তাকে স্থানীয় কবিরাজ নূরজাহান বেগমের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতের দিকে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে ভেবে তার স্ত্রী বাড়ি ফিরে গেলেও মা ও আরিফুর কবিরাজের কাছে থেকে যান।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মা ঘুম থেকে জেগে ছেলেকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে কবিরাজের ঘরের সামনের পুকুরপাড়ের লোটানো অবস্থায় ছেলেকে দেখতে পান তিনি। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে আরিফুরকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে দশমিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
কবিরাজ নূরজাহান বেগম দাবি করেন, রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে আরিফুরকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি আবোল-তাবোল বলতে বলতে পুকুরে পড়ে গেলে তাকে উদ্ধার করে খাবার খাওয়ানো হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা চলে গেলে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে হাঁস-মুরগি ছাড়তে গিয়ে আরিফুরকে rtsপুকুরপাড় মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
দশমিনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, পুকুরপাড় থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পটুয়াখালীর দশমিনায় এক গ্রাম্য কবিরাজের বাড়ির পুকুরপাড় থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আরিফুর রহমান (৪২) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের মোল্লা বাড়ির কবিরাজ নূরজাহান বেগমের বাড়ির পুকুরপাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আরিফুর রহমান ওই এলাকার নূর আলম মাতব্বরের ছেলে এবং পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন আরিফুর রহমান। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চিকিৎসার জন্য তাকে স্থানীয় কবিরাজ নূরজাহান বেগমের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতের দিকে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে ভেবে তার স্ত্রী বাড়ি ফিরে গেলেও মা ও আরিফুর কবিরাজের কাছে থেকে যান।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মা ঘুম থেকে জেগে ছেলেকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে কবিরাজের ঘরের সামনের পুকুরপাড়ের লোটানো অবস্থায় ছেলেকে দেখতে পান তিনি। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে আরিফুরকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে দশমিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
কবিরাজ নূরজাহান বেগম দাবি করেন, রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে আরিফুরকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি আবোল-তাবোল বলতে বলতে পুকুরে পড়ে গেলে তাকে উদ্ধার করে খাবার খাওয়ানো হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা চলে গেলে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে হাঁস-মুরগি ছাড়তে গিয়ে আরিফুরকে rtsপুকুরপাড় মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
দশমিনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, পুকুরপাড় থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

০৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:৩২
পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) বালু ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। তার ওপর ভর করেই দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে সড়ক, ড্রেনেজসহ অবকাঠামো নির্মাণ। বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করেই চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে বরাদ্দ পাওয়া প্লটগুলোতেই শিল্পকারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা।
বঙ্গোপসাগর ও নদ-নদী পরিবেষ্টিত পটুয়াখালী অঞ্চলের মানুষের জীবিকা দীর্ঘদিন ধরে আবর্তিত হয়েছে মাছ ও কৃষি ঘিরে। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে পর্যটনের বিকাশ ঘটলেও স্থায়ী কর্মসংস্থান ও শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। সেই বাস্তবতায় পায়রা সমুদ্রবন্দর, তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ও পদ্মা সেতুর পর দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরে নতুন সংযোজন হতে যাচ্ছে পটুয়াখালী ইপিজেড। পায়রা সমুদ্রবন্দর ঘিরে শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ ইতোমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে।
এর পাশাপাশি এলাকায় দুটি এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে রয়েছে। আরো একটি একই ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ এক-চতুর্থাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যুৎ ও বন্দর সুবিধার সমন্বয়ে পটুয়াখালী এখন দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনাময় শিল্পকেন্দ্র হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালে পটুয়াখালী ইপিজেড প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।
সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের পাঁচকোরালিয়া গ্রামে ৪১০ দশমিক ৭৮ একর জমিতে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পের বালু ভরাটের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্লট বরাদ্দ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতে পারবেন দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তারা।
দেশের তৃতীয় সামুদ্রিক বন্দর পায়রা সমুদ্রবন্দরের পাশেই গড়ে উঠছে পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড)। ফলে ধীরে ধীরে বাড়ছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ।
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। এই উন্নত যোগাযোগের সুবিধায় কম সময় ও কম খরচে কাঁচামাল আমদানি এবং রপ্তানি পণ্য পাঠাতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। এতে বিনিয়োগের পাশাপাশি রপ্তানিও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
পায়রা বন্দর, বিদ্যুৎ আর শ্রমিক সহজ প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করেই ইপিজেডে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানা স্থাপন করবেন। এসব কারখানায় প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। প্রত্যেক শ্রমিকের আয়ের ওপর গড়ে আরো দুইজন পরিবারের সদস্য নির্ভর করবেন। সে হিসাবে আরো প্রায় দুই লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইপিজেডকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হবেন।
ইপিজেডে কর্মচাঞ্চল্য বাড়লে আশপাশের এলাকায়ও এর প্রভাব পড়বে। হোটেল-রেস্তোঁরা, গণপরিবহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানসহ নানা সেবামুখী ব্যবসার প্রসার ঘটবে। এসব কর্মকাণ্ড স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইপিজেড চালু হলে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাছ ধরা ও কৃষিকাজে নির্ভরশীল দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের একটি বড় অংশ তখন গার্মেন্টস, ম্যানিকুইন হেড ও উইগ, লাগেজ, গাড়ির সিট হিটার, সার্জিক্যাল গাউন, প্লাস্টিক পণ্যসহ নানা রপ্তানিমুখী শিল্পে কাজের সুযোগ পাবেন।
এক হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন পটুয়াখালী ইপিজেডে মোট ৩০৬টি শিল্প প্লট থাকবে। এর মধ্যে এক হাজার ১০৫ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকি ৩৩৮ কোটি টাকা অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)।
প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ৩ দশমিক ১৫ লাখ মিটার সড়ক, ৩০ হাজার মিটার ড্রেনেজ, চারটি ছয়তলা কারখানা ভবন, তিনটি দশতলা অফিস ভবন, আবাসিক ভবন, কাস্টমস ও জোন অফিস, নিরাপত্তা অফিস এবং একটি হেলিপ্যাড। পাশাপাশি জমিদাতা ১৫৪ পরিবারের জন্য পুনর্বাসন আবাসন নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে থাকবে পুকুর, মসজিদসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১৪টি সাবস্টেশন, ১৫ কিলোমিটার ১১ কেভি হাই-টেনশন লাইন এবং একটি জিআইএস সাবস্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি আর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ শেষ হলেই প্লট বরাদ্ধ শুরু হবে।
পটুয়াখালী ইউপিজের প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২৬ সালের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্লট বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। তিনি বলেন, জমিদাতা পরিবারগুলোর আবাসন নির্মাণ শুরু হয়েছে। ড্রেন, ফুটপাত, কালভার্ট ও স্কুলসহ প্রয়োজনীয় সামাজিক অবকাঠামোও গড়ে তোলা হবে।
শফিকুল ইসলাম আরো বলেন, বালু ভরাট শেষে বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণকাজ এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই বছরের মাঝামাঝি সময় প্লট বরাদ্ধ দেয়া হবে। বিনিয়োগকারীরা এই বছরের শেষের দিকে শিল্প কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতেন পারবেন।
পায়রা সমুদ্রবন্দর, পদ্মা সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে পটুয়াখালী ইপিজেড যুক্ত হলে উপকূলীয় অর্থনীতির চাকা নতুন গতিতে ঘুরবে। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি শিল্পাঞ্চল নয়, বরং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দেওয়ার প্রতীক।
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০৬
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৫৪