পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) বালু ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। তার ওপর ভর করেই দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে সড়ক, ড্রেনেজসহ অবকাঠামো নির্মাণ। বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করেই চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে বরাদ্দ পাওয়া প্লটগুলোতেই শিল্পকারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা।
বঙ্গোপসাগর ও নদ-নদী পরিবেষ্টিত পটুয়াখালী অঞ্চলের মানুষের জীবিকা দীর্ঘদিন ধরে আবর্তিত হয়েছে মাছ ও কৃষি ঘিরে। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে পর্যটনের বিকাশ ঘটলেও স্থায়ী কর্মসংস্থান ও শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। সেই বাস্তবতায় পায়রা সমুদ্রবন্দর, তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ও পদ্মা সেতুর পর দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরে নতুন সংযোজন হতে যাচ্ছে পটুয়াখালী ইপিজেড। পায়রা সমুদ্রবন্দর ঘিরে শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ ইতোমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে।
এর পাশাপাশি এলাকায় দুটি এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে রয়েছে। আরো একটি একই ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ এক-চতুর্থাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যুৎ ও বন্দর সুবিধার সমন্বয়ে পটুয়াখালী এখন দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনাময় শিল্পকেন্দ্র হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালে পটুয়াখালী ইপিজেড প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।
সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের পাঁচকোরালিয়া গ্রামে ৪১০ দশমিক ৭৮ একর জমিতে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পের বালু ভরাটের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্লট বরাদ্দ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতে পারবেন দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তারা।
দেশের তৃতীয় সামুদ্রিক বন্দর পায়রা সমুদ্রবন্দরের পাশেই গড়ে উঠছে পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড)। ফলে ধীরে ধীরে বাড়ছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ।
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। এই উন্নত যোগাযোগের সুবিধায় কম সময় ও কম খরচে কাঁচামাল আমদানি এবং রপ্তানি পণ্য পাঠাতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। এতে বিনিয়োগের পাশাপাশি রপ্তানিও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
পায়রা বন্দর, বিদ্যুৎ আর শ্রমিক সহজ প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করেই ইপিজেডে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানা স্থাপন করবেন। এসব কারখানায় প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। প্রত্যেক শ্রমিকের আয়ের ওপর গড়ে আরো দুইজন পরিবারের সদস্য নির্ভর করবেন। সে হিসাবে আরো প্রায় দুই লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইপিজেডকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হবেন।
ইপিজেডে কর্মচাঞ্চল্য বাড়লে আশপাশের এলাকায়ও এর প্রভাব পড়বে। হোটেল-রেস্তোঁরা, গণপরিবহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানসহ নানা সেবামুখী ব্যবসার প্রসার ঘটবে। এসব কর্মকাণ্ড স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইপিজেড চালু হলে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাছ ধরা ও কৃষিকাজে নির্ভরশীল দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের একটি বড় অংশ তখন গার্মেন্টস, ম্যানিকুইন হেড ও উইগ, লাগেজ, গাড়ির সিট হিটার, সার্জিক্যাল গাউন, প্লাস্টিক পণ্যসহ নানা রপ্তানিমুখী শিল্পে কাজের সুযোগ পাবেন।
এক হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন পটুয়াখালী ইপিজেডে মোট ৩০৬টি শিল্প প্লট থাকবে। এর মধ্যে এক হাজার ১০৫ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকি ৩৩৮ কোটি টাকা অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)।
প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ৩ দশমিক ১৫ লাখ মিটার সড়ক, ৩০ হাজার মিটার ড্রেনেজ, চারটি ছয়তলা কারখানা ভবন, তিনটি দশতলা অফিস ভবন, আবাসিক ভবন, কাস্টমস ও জোন অফিস, নিরাপত্তা অফিস এবং একটি হেলিপ্যাড। পাশাপাশি জমিদাতা ১৫৪ পরিবারের জন্য পুনর্বাসন আবাসন নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে থাকবে পুকুর, মসজিদসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১৪টি সাবস্টেশন, ১৫ কিলোমিটার ১১ কেভি হাই-টেনশন লাইন এবং একটি জিআইএস সাবস্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি আর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ শেষ হলেই প্লট বরাদ্ধ শুরু হবে।
পটুয়াখালী ইউপিজের প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২৬ সালের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্লট বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। তিনি বলেন, জমিদাতা পরিবারগুলোর আবাসন নির্মাণ শুরু হয়েছে। ড্রেন, ফুটপাত, কালভার্ট ও স্কুলসহ প্রয়োজনীয় সামাজিক অবকাঠামোও গড়ে তোলা হবে।
শফিকুল ইসলাম আরো বলেন, বালু ভরাট শেষে বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণকাজ এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই বছরের মাঝামাঝি সময় প্লট বরাদ্ধ দেয়া হবে। বিনিয়োগকারীরা এই বছরের শেষের দিকে শিল্প কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতেন পারবেন।
পায়রা সমুদ্রবন্দর, পদ্মা সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে পটুয়াখালী ইপিজেড যুক্ত হলে উপকূলীয় অর্থনীতির চাকা নতুন গতিতে ঘুরবে। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি শিল্পাঞ্চল নয়, বরং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দেওয়ার প্রতীক।

১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৫৯
মা-ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে, চলছে প্রশাসনের অভিযানও। অথচ পটুয়াখালীর দুমকীর পায়রা নদীতে প্রকাশ্যেই চলছে মা-ইলিশ শিকার। নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একসঙ্গে ৩০ থেকে ৩৫টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে নদীতে জাল ফেলছেন জেলেরা। প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার পাঙ্গাশিয়ার হাজিরহাট ও রাজাগঞ্জের মধ্যবর্তী পায়রা নদীতে সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু পায়রা নয়, পাতাবুনিয়া ও লোহালিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টেও চলছে অবাধে ইলিশ শিকার। পাঙ্গাশিয়া, আলগী, লেবুখালী, আঙ্গারিয়া ও মুরাদিয়া এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, শক্তিশালী ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্যবহার করে জেলেরা প্রশাসনের টহল এড়িয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে যাচ্ছেন। অন্যদিকে নদীতীরবর্তী হাজিরহাট, লেবুখালী ফেরিঘাট, আঙ্গারিয়া বন্দর, পাতাবুনিয়া, উত্তর মুরাদিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বরফের বাক্সে ইলিশ মজুত ও গোপনে কেনাবেচার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৮ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত অভিযানে দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ১১ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। এরপরও প্রকাশ্যে এতসংখ্যক নৌকা নিয়ে মাছ শিকারের ঘটনায় অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমাদের টহল দল একটু আগেই ওই এলাকা থেকে ঘুরে এসেছে। জনবল সংকট ও একটি মাত্র টহল দল থাকায় সব জায়গায় একসঙ্গে নজরদারি করা কঠিন। তবে টহল বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভায় ব্যস্ত ছিলেন তিনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পাঙ্গাশিয়ার বাসিন্দা মো. ফারুক হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এভাবে মা-ইলিশ নিধন চলতে থাকলে একসময় নদীতে ইলিশের সংকট দেখা দেবে। শুধু লোকদেখানো অভিযান নয়, নিয়মিত কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।”
সচেতন মহলের প্রশ্ন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও নিয়মিত অভিযানের মধ্যেও দিনের আলোয় এত নৌকা নিয়ে কীভাবে চলছে ইলিশ শিকার? প্রজনন মৌসুমে মা-ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের আরও কার্যকর ও সমন্বিত অভিযান দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মা-ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে, চলছে প্রশাসনের অভিযানও। অথচ পটুয়াখালীর দুমকীর পায়রা নদীতে প্রকাশ্যেই চলছে মা-ইলিশ শিকার। নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একসঙ্গে ৩০ থেকে ৩৫টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে নদীতে জাল ফেলছেন জেলেরা। প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার পাঙ্গাশিয়ার হাজিরহাট ও রাজাগঞ্জের মধ্যবর্তী পায়রা নদীতে সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু পায়রা নয়, পাতাবুনিয়া ও লোহালিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টেও চলছে অবাধে ইলিশ শিকার। পাঙ্গাশিয়া, আলগী, লেবুখালী, আঙ্গারিয়া ও মুরাদিয়া এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, শক্তিশালী ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্যবহার করে জেলেরা প্রশাসনের টহল এড়িয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে যাচ্ছেন। অন্যদিকে নদীতীরবর্তী হাজিরহাট, লেবুখালী ফেরিঘাট, আঙ্গারিয়া বন্দর, পাতাবুনিয়া, উত্তর মুরাদিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বরফের বাক্সে ইলিশ মজুত ও গোপনে কেনাবেচার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৮ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত অভিযানে দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ১১ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। এরপরও প্রকাশ্যে এতসংখ্যক নৌকা নিয়ে মাছ শিকারের ঘটনায় অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমাদের টহল দল একটু আগেই ওই এলাকা থেকে ঘুরে এসেছে। জনবল সংকট ও একটি মাত্র টহল দল থাকায় সব জায়গায় একসঙ্গে নজরদারি করা কঠিন। তবে টহল বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভায় ব্যস্ত ছিলেন তিনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পাঙ্গাশিয়ার বাসিন্দা মো. ফারুক হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এভাবে মা-ইলিশ নিধন চলতে থাকলে একসময় নদীতে ইলিশের সংকট দেখা দেবে। শুধু লোকদেখানো অভিযান নয়, নিয়মিত কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।”
সচেতন মহলের প্রশ্ন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও নিয়মিত অভিযানের মধ্যেও দিনের আলোয় এত নৌকা নিয়ে কীভাবে চলছে ইলিশ শিকার? প্রজনন মৌসুমে মা-ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের আরও কার্যকর ও সমন্বিত অভিযান দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৫৮
পটুয়াখালীর নির্মাণাধীন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) প্রধান ফটকের সামনে থেকে আব্বাস সিকদার (২৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের ধারণা, মারধরের শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে নির্মাণাধীন ইপিজেডের প্রধান ফটকসংলগ্ন মহাসড়কের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় একটি মারামারির ঘটনার পর গত দুই দিন ধরে বাড়িতে ছিলেন না আব্বাস। শুক্রবার রাতে এক অটোরিকশাচালক তার চাচা শাহজালালকে ফোন করে জানান, ইপিজেডের সামনে আব্বাস অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছেন। খবর পেয়ে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
এদিকে আব্বাসের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাকে মারধর করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন। তবে এ ঘটনায় হত্যার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করছেন স্বজনেরা।
নিহত আব্বাস সিকদার পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পচাকোড়ালিয়া গ্রামের মো. রফিক সিকদারের ছেলে। তিনি আগে কলেজে পড়াশোনা করলেও বর্তমানে কোনো পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলে জানা গেছে।
আব্বাসের বাবা রফিক সিকদার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি এলাকায় মেম্বারী নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ফেসবুকে এর পোস্টার ছাড়তেই শত্রুতা বেড়ে গেছে। তাই এলাকায় একটা মহলের সঙ্গে ওর দ্বন্দ্ব ছিল। পরিকল্পিত এ ঘটনায় আমি জড়িতদের বিচার চাই।’
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
পটুয়াখালীর নির্মাণাধীন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) প্রধান ফটকের সামনে থেকে আব্বাস সিকদার (২৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের ধারণা, মারধরের শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে নির্মাণাধীন ইপিজেডের প্রধান ফটকসংলগ্ন মহাসড়কের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় একটি মারামারির ঘটনার পর গত দুই দিন ধরে বাড়িতে ছিলেন না আব্বাস। শুক্রবার রাতে এক অটোরিকশাচালক তার চাচা শাহজালালকে ফোন করে জানান, ইপিজেডের সামনে আব্বাস অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছেন। খবর পেয়ে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
এদিকে আব্বাসের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাকে মারধর করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন। তবে এ ঘটনায় হত্যার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করছেন স্বজনেরা।
নিহত আব্বাস সিকদার পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পচাকোড়ালিয়া গ্রামের মো. রফিক সিকদারের ছেলে। তিনি আগে কলেজে পড়াশোনা করলেও বর্তমানে কোনো পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলে জানা গেছে।
আব্বাসের বাবা রফিক সিকদার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি এলাকায় মেম্বারী নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ফেসবুকে এর পোস্টার ছাড়তেই শত্রুতা বেড়ে গেছে। তাই এলাকায় একটা মহলের সঙ্গে ওর দ্বন্দ্ব ছিল। পরিকল্পিত এ ঘটনায় আমি জড়িতদের বিচার চাই।’
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:১১
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগে আব্দুল জলিল (২২) নামে এক যুবককে আটক করেছে মহিপুর থানা পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত জলিল পেশায় একজন জেলে।
বুধবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসীন সাদিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে এ সাজা দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল জলিল কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইনসান উদ্দিনের ছেলে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি টিকটকে নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে সেনাবাহিনীর পোশাক পরা ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন।
সম্প্রতি বাগেরহাট এলাকার এক তরুণীর সঙ্গেও একইভাবে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন জলিল। পরে ওই তরুণীকে কুয়াকাটায় নিয়ে আসেন তিনি। বিষয়টি জানতে পেরে তরুণীর পরিবারের সদস্যরা কুয়াকাটায় এসে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশকে খবর দেন।
ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা মনির বলেন, সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে ওই যুবক তার মেয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিষয়টি জানতে পেরে তারা খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে তাদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে ওই যুবক মেয়েকে নিয়ে কুয়াকাটায় আসার খবর তার এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারেন। এরপর তারা কুয়াকাটায় এসে তাদের শনাক্ত করেন। পরে জানতে পারেন, ওই যুবক আসলে সেনাবাহিনীর সদস্য নন, তিনি একজন জেলে।
জলিলের স্ত্রী তামান্না বলেন, তার স্বামী এর আগেও একাধিক তরুণীর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন। একবার নারায়ণগঞ্জ থেকে এক তরুণীকে কুয়াকাটার ওয়ানস্টার হোটেলে এনে রাখার ঘটনাও তারা জানতে পারেন। পরে ওই তরুণীর স্বজনরা এসে তাকে নিয়ে যান। তাদের পাঁচ বছরের সংসারে দুই বছরের একটি সন্তান রয়েছে। স্বামীর কারণে বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হোটেল মারওয়ার ম্যানেজার আতিকুর রহমান বলেন, বুধবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে জলিল হোটেলের স্টাফের মাধ্যমে একটি কক্ষ বুকিং নিয়ে প্রবেশ করেন। হোটেলের নিয়ম অনুযায়ী তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে পুলিশ এসে জলিলকে আটক করে। তখন তারা জানতে পারেন, তিনি ওই তরুণীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্কের কথা বলে প্রতারণা করেছেন এবং নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়েছেন।
কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসীন সাদিক বলেন, এসআই মাসুদের সহযোগিতায় কুয়াকাটার হোটেল মারওয়া থেকে জলিলকে আটক করা হয়। তিনি নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন তরুণীর সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগেও এমন আরও দুটি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে তার স্ত্রীও সাক্ষ্য দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা বা সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত যুবকের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৭০ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের প্রতারণার তথ্য পেলে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।’
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগে আব্দুল জলিল (২২) নামে এক যুবককে আটক করেছে মহিপুর থানা পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত জলিল পেশায় একজন জেলে।
বুধবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসীন সাদিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে এ সাজা দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল জলিল কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইনসান উদ্দিনের ছেলে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি টিকটকে নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে সেনাবাহিনীর পোশাক পরা ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন।
সম্প্রতি বাগেরহাট এলাকার এক তরুণীর সঙ্গেও একইভাবে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন জলিল। পরে ওই তরুণীকে কুয়াকাটায় নিয়ে আসেন তিনি। বিষয়টি জানতে পেরে তরুণীর পরিবারের সদস্যরা কুয়াকাটায় এসে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশকে খবর দেন।
ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা মনির বলেন, সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে ওই যুবক তার মেয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিষয়টি জানতে পেরে তারা খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে তাদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে ওই যুবক মেয়েকে নিয়ে কুয়াকাটায় আসার খবর তার এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারেন। এরপর তারা কুয়াকাটায় এসে তাদের শনাক্ত করেন। পরে জানতে পারেন, ওই যুবক আসলে সেনাবাহিনীর সদস্য নন, তিনি একজন জেলে।
জলিলের স্ত্রী তামান্না বলেন, তার স্বামী এর আগেও একাধিক তরুণীর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন। একবার নারায়ণগঞ্জ থেকে এক তরুণীকে কুয়াকাটার ওয়ানস্টার হোটেলে এনে রাখার ঘটনাও তারা জানতে পারেন। পরে ওই তরুণীর স্বজনরা এসে তাকে নিয়ে যান। তাদের পাঁচ বছরের সংসারে দুই বছরের একটি সন্তান রয়েছে। স্বামীর কারণে বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হোটেল মারওয়ার ম্যানেজার আতিকুর রহমান বলেন, বুধবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে জলিল হোটেলের স্টাফের মাধ্যমে একটি কক্ষ বুকিং নিয়ে প্রবেশ করেন। হোটেলের নিয়ম অনুযায়ী তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে পুলিশ এসে জলিলকে আটক করে। তখন তারা জানতে পারেন, তিনি ওই তরুণীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্কের কথা বলে প্রতারণা করেছেন এবং নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়েছেন।
কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসীন সাদিক বলেন, এসআই মাসুদের সহযোগিতায় কুয়াকাটার হোটেল মারওয়া থেকে জলিলকে আটক করা হয়। তিনি নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন তরুণীর সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগেও এমন আরও দুটি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে তার স্ত্রীও সাক্ষ্য দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা বা সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত যুবকের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৭০ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের প্রতারণার তথ্য পেলে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।’

০৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:৩২
পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) বালু ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। তার ওপর ভর করেই দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে সড়ক, ড্রেনেজসহ অবকাঠামো নির্মাণ। বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করেই চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে বরাদ্দ পাওয়া প্লটগুলোতেই শিল্পকারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা।
বঙ্গোপসাগর ও নদ-নদী পরিবেষ্টিত পটুয়াখালী অঞ্চলের মানুষের জীবিকা দীর্ঘদিন ধরে আবর্তিত হয়েছে মাছ ও কৃষি ঘিরে। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে পর্যটনের বিকাশ ঘটলেও স্থায়ী কর্মসংস্থান ও শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। সেই বাস্তবতায় পায়রা সমুদ্রবন্দর, তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ও পদ্মা সেতুর পর দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরে নতুন সংযোজন হতে যাচ্ছে পটুয়াখালী ইপিজেড। পায়রা সমুদ্রবন্দর ঘিরে শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ ইতোমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে।
এর পাশাপাশি এলাকায় দুটি এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে রয়েছে। আরো একটি একই ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ এক-চতুর্থাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যুৎ ও বন্দর সুবিধার সমন্বয়ে পটুয়াখালী এখন দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনাময় শিল্পকেন্দ্র হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালে পটুয়াখালী ইপিজেড প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।
সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের পাঁচকোরালিয়া গ্রামে ৪১০ দশমিক ৭৮ একর জমিতে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পের বালু ভরাটের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্লট বরাদ্দ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতে পারবেন দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তারা।
দেশের তৃতীয় সামুদ্রিক বন্দর পায়রা সমুদ্রবন্দরের পাশেই গড়ে উঠছে পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড)। ফলে ধীরে ধীরে বাড়ছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ।
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। এই উন্নত যোগাযোগের সুবিধায় কম সময় ও কম খরচে কাঁচামাল আমদানি এবং রপ্তানি পণ্য পাঠাতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। এতে বিনিয়োগের পাশাপাশি রপ্তানিও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
পায়রা বন্দর, বিদ্যুৎ আর শ্রমিক সহজ প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করেই ইপিজেডে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানা স্থাপন করবেন। এসব কারখানায় প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। প্রত্যেক শ্রমিকের আয়ের ওপর গড়ে আরো দুইজন পরিবারের সদস্য নির্ভর করবেন। সে হিসাবে আরো প্রায় দুই লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইপিজেডকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হবেন।
ইপিজেডে কর্মচাঞ্চল্য বাড়লে আশপাশের এলাকায়ও এর প্রভাব পড়বে। হোটেল-রেস্তোঁরা, গণপরিবহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানসহ নানা সেবামুখী ব্যবসার প্রসার ঘটবে। এসব কর্মকাণ্ড স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইপিজেড চালু হলে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাছ ধরা ও কৃষিকাজে নির্ভরশীল দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের একটি বড় অংশ তখন গার্মেন্টস, ম্যানিকুইন হেড ও উইগ, লাগেজ, গাড়ির সিট হিটার, সার্জিক্যাল গাউন, প্লাস্টিক পণ্যসহ নানা রপ্তানিমুখী শিল্পে কাজের সুযোগ পাবেন।
এক হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন পটুয়াখালী ইপিজেডে মোট ৩০৬টি শিল্প প্লট থাকবে। এর মধ্যে এক হাজার ১০৫ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকি ৩৩৮ কোটি টাকা অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)।
প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ৩ দশমিক ১৫ লাখ মিটার সড়ক, ৩০ হাজার মিটার ড্রেনেজ, চারটি ছয়তলা কারখানা ভবন, তিনটি দশতলা অফিস ভবন, আবাসিক ভবন, কাস্টমস ও জোন অফিস, নিরাপত্তা অফিস এবং একটি হেলিপ্যাড। পাশাপাশি জমিদাতা ১৫৪ পরিবারের জন্য পুনর্বাসন আবাসন নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে থাকবে পুকুর, মসজিদসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১৪টি সাবস্টেশন, ১৫ কিলোমিটার ১১ কেভি হাই-টেনশন লাইন এবং একটি জিআইএস সাবস্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি আর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ শেষ হলেই প্লট বরাদ্ধ শুরু হবে।
পটুয়াখালী ইউপিজের প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২৬ সালের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্লট বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। তিনি বলেন, জমিদাতা পরিবারগুলোর আবাসন নির্মাণ শুরু হয়েছে। ড্রেন, ফুটপাত, কালভার্ট ও স্কুলসহ প্রয়োজনীয় সামাজিক অবকাঠামোও গড়ে তোলা হবে।
শফিকুল ইসলাম আরো বলেন, বালু ভরাট শেষে বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণকাজ এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই বছরের মাঝামাঝি সময় প্লট বরাদ্ধ দেয়া হবে। বিনিয়োগকারীরা এই বছরের শেষের দিকে শিল্প কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতেন পারবেন।
পায়রা সমুদ্রবন্দর, পদ্মা সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে পটুয়াখালী ইপিজেড যুক্ত হলে উপকূলীয় অর্থনীতির চাকা নতুন গতিতে ঘুরবে। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি শিল্পাঞ্চল নয়, বরং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দেওয়ার প্রতীক।
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:০৭
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩২
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:২২
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:০৬