ফেনীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলার এক আসামিকে ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে তীব্র আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার এবং ঘোষিত ফেনী পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
রোববার (৩ মে) দুপুরে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী সই করা পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে ফেনী পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করা হয়। এতে পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আট সদস্যের কমিটিতে গাজী এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। সুজন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি। কমিটিতে তাকে পদ দেওয়া নিয়ে জেলাজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় শনিবার (২ মে) ঘোষিত ওই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া বাকি ছয়জন পদত্যাগ করেন।
কেন্দ্রীয় যুবদলের পক্ষ থেকেও এক বিজ্ঞপ্তিতে ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত ও ঘোষিত সব ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ফেনী পৌর যুবদলের বিদ্যমান কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
একই বিজ্ঞপ্তিতে কমিটিতে পদ পাওয়া অভিযুক্ত গাজী এনামুল হক সুজনকে তথ্য গোপন করে দলের পদ গ্রহণ করায় প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, বহিষ্কৃতদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ফেনীর মহিপাল এলাকায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলায় এজাহারভুক্ত ২৮ জন আসামির তালিকায় এনামুল হক সুজনের নাম ২৫ নম্বরে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যমুনা হাই ডিলাক্স পরিবহনের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলন বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
ঘোষিত ওই কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী আবদুল কাদের নয়ন বলেন, ‘কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুজন আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার পরিবারের সদস্যরাও ওই দলের রাজনীতিতে সক্রিয়। ৫ আগস্টের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। কমিটিতে আমি সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছিলাম। কিন্তু কমিটিতে এমন ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ধরনের ব্যক্তিদের নেতৃত্বে রাজনীতি করা সম্ভব নয় বলেই আমরা তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এনামুল হক সুজন বলেন, ‘পুরো ঘটনাটি মূলত পারিবারিক প্রতিহিংসার ফল। কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী আবদুল কাদের নয়ন আমার জেঠাতো ভাই এবং এই কমিটির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। ৫ আগস্টের পরপর আমার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় একটি মিথ্যা মামলা করা হয়। এ ঘটনায় দল থেকেও তখন প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল।’
ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু বলেন, ‘৫ আগস্টের পর শ্রমিক লীগ নেতা আবুল কাশেম মিলন বাদী হয়ে বেগম খালেদা জিয়ার ওপর হামলার অভিযোগে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় সুজনকে আসামি করা হয়েছে। তখন এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। বিষয়টি জেলা বিএনপি ও যুবদল অবগত আছে। এ ঘটনা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
জানতে চাইলে ফেনী জেলা যুবদলের সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত) মো. আল ইমরান বলেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফেনী পৌর যুবদলেরর ১২টি ওয়ার্ডের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
এছাড়া ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শোকজ এবং সুজনকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৪
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৩১
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১২
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

০৩ মে, ২০২৬ ১৮:১৯
ফেনীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলার এক আসামিকে ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে তীব্র আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার এবং ঘোষিত ফেনী পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
রোববার (৩ মে) দুপুরে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী সই করা পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে ফেনী পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করা হয়। এতে পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আট সদস্যের কমিটিতে গাজী এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। সুজন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি। কমিটিতে তাকে পদ দেওয়া নিয়ে জেলাজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় শনিবার (২ মে) ঘোষিত ওই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া বাকি ছয়জন পদত্যাগ করেন।
কেন্দ্রীয় যুবদলের পক্ষ থেকেও এক বিজ্ঞপ্তিতে ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত ও ঘোষিত সব ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ফেনী পৌর যুবদলের বিদ্যমান কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
একই বিজ্ঞপ্তিতে কমিটিতে পদ পাওয়া অভিযুক্ত গাজী এনামুল হক সুজনকে তথ্য গোপন করে দলের পদ গ্রহণ করায় প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, বহিষ্কৃতদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ফেনীর মহিপাল এলাকায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলায় এজাহারভুক্ত ২৮ জন আসামির তালিকায় এনামুল হক সুজনের নাম ২৫ নম্বরে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যমুনা হাই ডিলাক্স পরিবহনের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলন বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
ঘোষিত ওই কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী আবদুল কাদের নয়ন বলেন, ‘কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুজন আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার পরিবারের সদস্যরাও ওই দলের রাজনীতিতে সক্রিয়। ৫ আগস্টের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। কমিটিতে আমি সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছিলাম। কিন্তু কমিটিতে এমন ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ধরনের ব্যক্তিদের নেতৃত্বে রাজনীতি করা সম্ভব নয় বলেই আমরা তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এনামুল হক সুজন বলেন, ‘পুরো ঘটনাটি মূলত পারিবারিক প্রতিহিংসার ফল। কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী আবদুল কাদের নয়ন আমার জেঠাতো ভাই এবং এই কমিটির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। ৫ আগস্টের পরপর আমার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় একটি মিথ্যা মামলা করা হয়। এ ঘটনায় দল থেকেও তখন প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল।’
ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু বলেন, ‘৫ আগস্টের পর শ্রমিক লীগ নেতা আবুল কাশেম মিলন বাদী হয়ে বেগম খালেদা জিয়ার ওপর হামলার অভিযোগে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় সুজনকে আসামি করা হয়েছে। তখন এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। বিষয়টি জেলা বিএনপি ও যুবদল অবগত আছে। এ ঘটনা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
জানতে চাইলে ফেনী জেলা যুবদলের সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত) মো. আল ইমরান বলেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফেনী পৌর যুবদলেরর ১২টি ওয়ার্ডের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
এছাড়া ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শোকজ এবং সুজনকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:৩৭
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:২৪
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩৪
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৪১