
১৭ আগস্ট, ২০২৫ ১২:২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: একসময় বিকেল গড়ালেই পিরোজপুরের হুলারহাটসহ জেলার লঞ্চঘাটগুলোতে দেখা যেত অন্যরকম এক চিত্র। ব্যাগ কাঁধে মানুষজন সারিবদ্ধভাবে লঞ্চে উঠছেন, কেউ পরিবার নিয়ে ঢাকা যাচ্ছেন, কেউবা ব্যবসার কাজে রাজধানীর পথে।
লঞ্চের সাইরেন বাজতেই নদীর ঢেউ কেটে এগিয়ে যেত লঞ্চ। নিয়ে যেত হাজারো যাত্রীকে তাদের গন্তব্যে। দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে এভাবেই নৌপথ ছিল ঢাকা-পিরোজপুর যাতায়াতের প্রধান ভরসা।
কিন্তু পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর সেই দৃশ্য এখন কেবল স্মৃতি। একসময় যেখানে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮টি লঞ্চ পিরোজপুর থেকে শত শত যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করত, সেখানে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে একটিও লঞ্চ চলছে না এ রুটে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্রে জানা যায়, যাত্রী সংকটের কারণে তারা লঞ্চ চলাচল সাময়িক বন্ধ রেখেছে। পদ্মা সেতুর কারণে সড়কপথে যাতায়াত অনেক সহজ হওয়ায় যাত্রীরা ধীরে ধীরে লঞ্চের পরিবর্তে বাসে যেতে শুরু করেছেন।
ফলে ব্যবসায়িকভাবে লঞ্চ চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পিরোজপুর থেকে ঢাকায় ৪ থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টায় পৌঁছানো যায়। মানুষ এ কারণে লঞ্চে সময় অপচয় করে যেতে চাইছে না। যাত্রী সংকটের কারণে প্রতিদিনের খরচ উঠছে না।
পিরোজপুর জেলার হুলারহাট, স্বরূপকাঠি, কাউখালি, ভান্ডারিয়া, ইন্দেরহাটসহ মোট আটটি ঘাট থেকে লঞ্চে যাত্রী উঠতেন। প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৮০০ যাত্রী লঞ্চে ভ্রমণ করতেন। লঞ্চ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব যাত্রী পড়েছেন বিড়ম্বনায়।
সরেজমিনে পিরোজপুরের হুলারহাট লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায়, এক সময়ের জমজমাট এ ঘাটটি যাত্রী সংকটে অলস সময় পার করছে। আগে যেখানে সারি সারি বিলাসবহুল লঞ্চ নোঙর করা থাকতো সেখানে এখন স্থান পেয়েছে বালিবোঝাই কয়েকটি কার্গো।
তবে প্রতিদিনই কিছু যাত্রী অভ্যাসবশত ঘাটে চলে আসেন লঞ্চে উঠবেন ভেবে। কিন্তু লঞ্চ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাসে চেপে গন্তব্যে যেতে হয় তাদের। এতে যেমন কষ্ট হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে খরচও।
এদিকে যাত্রীদের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ঘাটকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরাও। লঞ্চ টার্মিনালকে ঘিরে দোকান, খাবারের হোটেল, ফেরিওয়ালা সবাই কোনো না কোনোভাবে নির্ভর করতেন যাত্রীদের ওপর। যাত্রী না থাকায় এখন সেই ব্যবসায়ও পড়েছে ধস।
হুলারহাট লঞ্চ টার্মিনালে বসে আমিনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, দূরপাল্লার রুটে আমাদের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ এবং আরামদায়ক হলো লঞ্চ। এখন বাসে যেতে হয় ভিড় আর দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে। আমরা চাই পুনরায় ঢাকা-পিরোজপুর রুটে লঞ্চ চালু হোক।
স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার শেখ বলেন, ঢাকা যেতে লঞ্চই ছিল সবচেয়ে ভালো মাধ্যম। বিকেলে লঞ্চে উঠে সকালে ঢাকা পৌঁছাতাম। এখন বাধ্য হয়ে বাসে যেতে হয়। খরচ যেমন বেশি, তেমনি ঝুঁকিও বেশি। লঞ্চ আবার চালু হলে আমরা উপকৃত হবো।
হুলারহাট লঞ্চঘাটের পাশেই ছোট্ট চায়ের দোকান চালান মো. আবিদ মোল্লা। তিনি বলেন, আগে প্রতিদিন লঞ্চের যাত্রীদের ভিড়ে আমার দোকানে বিক্রি ভালো হতো। এখন যাত্রী নেই, দিনে ২০০ টাকারও বিক্রি হয় না। সংসার চালানো কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
আরেকজন ব্যবসায়ী, মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু যাত্রী নয়, আমরা ব্যবসায়ীরাও বিপদে আছি। ঘাটকে কেন্দ্র করে বহু মানুষের জীবিকা ছিল। এখন ঘাট ফাঁকা পড়ে আছে। আমরা চাই, আবার লঞ্চ চালু হোক।
পদ্মা সেতু একদিকে খুলে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা, সহজ করেছে যোগাযোগব্যবস্থা। কিন্তু তার প্রভাব পড়েছে নৌরুটের ওপর। পিরোজপুরের মানুষ এখনও আশা করে, একদিন হয়তো আবারও ঢাকার পথে লঞ্চ ছাড়বে, নদীর বুক চিরে চলবে এসব লঞ্চ দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুনুর রশীদ বলেন, হুলারহাট লঞ্চঘাটটি একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী লঞ্চঘাট। তবে পদ্মাসেতু নির্মাণের ফলে ঘাটটিতে লঞ্চ চলাচল কমে গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় যারা লঞ্চ ব্যবসায়ী আছেন তাদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবসায়ীক পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: একসময় বিকেল গড়ালেই পিরোজপুরের হুলারহাটসহ জেলার লঞ্চঘাটগুলোতে দেখা যেত অন্যরকম এক চিত্র। ব্যাগ কাঁধে মানুষজন সারিবদ্ধভাবে লঞ্চে উঠছেন, কেউ পরিবার নিয়ে ঢাকা যাচ্ছেন, কেউবা ব্যবসার কাজে রাজধানীর পথে।
লঞ্চের সাইরেন বাজতেই নদীর ঢেউ কেটে এগিয়ে যেত লঞ্চ। নিয়ে যেত হাজারো যাত্রীকে তাদের গন্তব্যে। দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে এভাবেই নৌপথ ছিল ঢাকা-পিরোজপুর যাতায়াতের প্রধান ভরসা।
কিন্তু পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর সেই দৃশ্য এখন কেবল স্মৃতি। একসময় যেখানে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮টি লঞ্চ পিরোজপুর থেকে শত শত যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করত, সেখানে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে একটিও লঞ্চ চলছে না এ রুটে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্রে জানা যায়, যাত্রী সংকটের কারণে তারা লঞ্চ চলাচল সাময়িক বন্ধ রেখেছে। পদ্মা সেতুর কারণে সড়কপথে যাতায়াত অনেক সহজ হওয়ায় যাত্রীরা ধীরে ধীরে লঞ্চের পরিবর্তে বাসে যেতে শুরু করেছেন।
ফলে ব্যবসায়িকভাবে লঞ্চ চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পিরোজপুর থেকে ঢাকায় ৪ থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টায় পৌঁছানো যায়। মানুষ এ কারণে লঞ্চে সময় অপচয় করে যেতে চাইছে না। যাত্রী সংকটের কারণে প্রতিদিনের খরচ উঠছে না।
পিরোজপুর জেলার হুলারহাট, স্বরূপকাঠি, কাউখালি, ভান্ডারিয়া, ইন্দেরহাটসহ মোট আটটি ঘাট থেকে লঞ্চে যাত্রী উঠতেন। প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৮০০ যাত্রী লঞ্চে ভ্রমণ করতেন। লঞ্চ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব যাত্রী পড়েছেন বিড়ম্বনায়।
সরেজমিনে পিরোজপুরের হুলারহাট লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায়, এক সময়ের জমজমাট এ ঘাটটি যাত্রী সংকটে অলস সময় পার করছে। আগে যেখানে সারি সারি বিলাসবহুল লঞ্চ নোঙর করা থাকতো সেখানে এখন স্থান পেয়েছে বালিবোঝাই কয়েকটি কার্গো।
তবে প্রতিদিনই কিছু যাত্রী অভ্যাসবশত ঘাটে চলে আসেন লঞ্চে উঠবেন ভেবে। কিন্তু লঞ্চ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাসে চেপে গন্তব্যে যেতে হয় তাদের। এতে যেমন কষ্ট হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে খরচও।
এদিকে যাত্রীদের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ঘাটকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরাও। লঞ্চ টার্মিনালকে ঘিরে দোকান, খাবারের হোটেল, ফেরিওয়ালা সবাই কোনো না কোনোভাবে নির্ভর করতেন যাত্রীদের ওপর। যাত্রী না থাকায় এখন সেই ব্যবসায়ও পড়েছে ধস।
হুলারহাট লঞ্চ টার্মিনালে বসে আমিনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, দূরপাল্লার রুটে আমাদের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ এবং আরামদায়ক হলো লঞ্চ। এখন বাসে যেতে হয় ভিড় আর দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে। আমরা চাই পুনরায় ঢাকা-পিরোজপুর রুটে লঞ্চ চালু হোক।
স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার শেখ বলেন, ঢাকা যেতে লঞ্চই ছিল সবচেয়ে ভালো মাধ্যম। বিকেলে লঞ্চে উঠে সকালে ঢাকা পৌঁছাতাম। এখন বাধ্য হয়ে বাসে যেতে হয়। খরচ যেমন বেশি, তেমনি ঝুঁকিও বেশি। লঞ্চ আবার চালু হলে আমরা উপকৃত হবো।
হুলারহাট লঞ্চঘাটের পাশেই ছোট্ট চায়ের দোকান চালান মো. আবিদ মোল্লা। তিনি বলেন, আগে প্রতিদিন লঞ্চের যাত্রীদের ভিড়ে আমার দোকানে বিক্রি ভালো হতো। এখন যাত্রী নেই, দিনে ২০০ টাকারও বিক্রি হয় না। সংসার চালানো কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
আরেকজন ব্যবসায়ী, মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু যাত্রী নয়, আমরা ব্যবসায়ীরাও বিপদে আছি। ঘাটকে কেন্দ্র করে বহু মানুষের জীবিকা ছিল। এখন ঘাট ফাঁকা পড়ে আছে। আমরা চাই, আবার লঞ্চ চালু হোক।
পদ্মা সেতু একদিকে খুলে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা, সহজ করেছে যোগাযোগব্যবস্থা। কিন্তু তার প্রভাব পড়েছে নৌরুটের ওপর। পিরোজপুরের মানুষ এখনও আশা করে, একদিন হয়তো আবারও ঢাকার পথে লঞ্চ ছাড়বে, নদীর বুক চিরে চলবে এসব লঞ্চ দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুনুর রশীদ বলেন, হুলারহাট লঞ্চঘাটটি একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী লঞ্চঘাট। তবে পদ্মাসেতু নির্মাণের ফলে ঘাটটিতে লঞ্চ চলাচল কমে গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় যারা লঞ্চ ব্যবসায়ী আছেন তাদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবসায়ীক পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৩০ মে, ২০২৬ ১১:১২
২৯ মে, ২০২৬ ১৯:৩৫
২৯ মে, ২০২৬ ১৯:২৫
২৯ মে, ২০২৬ ১৮:৫১

২৬ মে, ২০২৬ ১৮:১৩
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পৃথক দুটি স্থানে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবককে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্ত ও প্রতিপক্ষ।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়ন এবং ফুলঝুরি গ্রামে এই দুটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম (৩০) ও জমিজমা বিরোধের জেরে নিহত মোহাম্মদ ইউসুফ শরীফ (৩৫)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ রবিবার দুপুর ১২টার দিকে ধানীসাফা ইউনিয়নের ফুলজুরি গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে মোহাম্মদ ইউসুফ শরীফকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত ইউসুফ ওই গ্রামের ফজলুল হক শরীফের ছেলে।
অভিযোগ রয়েছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে একই এলাকার আলমগীর শরীফের ছেলে মোঃ আরাফাত শরিফ (৩০), তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (২৪) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জন মিলে ধারালো দা দিয়ে ইউসুফের গলা, ডান হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে, উপজেলার ৬ নম্বর টিকিকাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাজু হাওলাদারের বাড়িতে নিজ শোবার ঘর থেকে আব্দুল কাইয়ুম নামে এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত কাইয়ুম ওই এলাকার জালাল হাওলাদারের ছেলে। তিনি স্থানীয় সাধনা ব্রিজ ও বড় ব্রিজ এলাকায় রেডিমেড জামাকাপড়ের দোকান দিতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কাইয়ুমের স্ত্রী বাপের বাড়িতে থাকায় আজ দুপুরে তিনি ঘরে একাই ছিলেন। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে শোবার ঘরে তাঁকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। নিহত কাইয়ুমের একটি সন্তান রয়েছে। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, নিহত কাইয়ুম মাদকাসক্ত ছিলেন। তবে এই হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি।
একই দিনে পৃথক দুটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল দুটি পরিদর্শন করে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, ফুলজুরি গ্রামের হত্যাকাণ্ডটি জমিজমা বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। অন্যদিকে টিকিকাটা ইউনিয়নে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। দুটি ঘটনার প্রেক্ষিতেই পৃথক মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বরিশাল টাইমস
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পৃথক দুটি স্থানে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবককে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্ত ও প্রতিপক্ষ।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়ন এবং ফুলঝুরি গ্রামে এই দুটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম (৩০) ও জমিজমা বিরোধের জেরে নিহত মোহাম্মদ ইউসুফ শরীফ (৩৫)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ রবিবার দুপুর ১২টার দিকে ধানীসাফা ইউনিয়নের ফুলজুরি গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে মোহাম্মদ ইউসুফ শরীফকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত ইউসুফ ওই গ্রামের ফজলুল হক শরীফের ছেলে।
অভিযোগ রয়েছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে একই এলাকার আলমগীর শরীফের ছেলে মোঃ আরাফাত শরিফ (৩০), তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (২৪) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জন মিলে ধারালো দা দিয়ে ইউসুফের গলা, ডান হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে, উপজেলার ৬ নম্বর টিকিকাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাজু হাওলাদারের বাড়িতে নিজ শোবার ঘর থেকে আব্দুল কাইয়ুম নামে এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত কাইয়ুম ওই এলাকার জালাল হাওলাদারের ছেলে। তিনি স্থানীয় সাধনা ব্রিজ ও বড় ব্রিজ এলাকায় রেডিমেড জামাকাপড়ের দোকান দিতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কাইয়ুমের স্ত্রী বাপের বাড়িতে থাকায় আজ দুপুরে তিনি ঘরে একাই ছিলেন। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে শোবার ঘরে তাঁকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। নিহত কাইয়ুমের একটি সন্তান রয়েছে। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, নিহত কাইয়ুম মাদকাসক্ত ছিলেন। তবে এই হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি।
একই দিনে পৃথক দুটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল দুটি পরিদর্শন করে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, ফুলজুরি গ্রামের হত্যাকাণ্ডটি জমিজমা বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। অন্যদিকে টিকিকাটা ইউনিয়নে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। দুটি ঘটনার প্রেক্ষিতেই পৃথক মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বরিশাল টাইমস

২৬ মে, ২০২৬ ১৩:২৫
পিরোজপুর সদর উপজেলার বরিশাল-খুলনা মহাসড়কের ধুপপাশা এলাকায় দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে ট্রাক দুটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ সময় ট্রাকের ভেতরে আটকে পড়া দুই চালক ও এক হেলপারকে জীবিত উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
আজ মঙ্গলবার(২৬ মে)সকাল ০৬ টায় বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট ২২-৯৪১৪) এবং খুলনা থেকে আসা অপর একটি ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো ড-১২-৩২৫৪) মধ্যে ধুপপাশা নামক এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ট্রাক দুটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং চালকরা ভেতরে আটকা পড়েন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পিরোজপুর সদর ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর যান্ত্রিক সরঞ্জামের মাধ্যমে ট্রাকের অংশ কেটে ভেতরে আটকে পড়া তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করার পর ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্স যোগে আহতদের দ্রুত পিরোজপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছুক্ষণ যান চলাচল বিঘ্নিত হলেও ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সহযোগিতায় বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
পিরোজপুর সদর উপজেলার বরিশাল-খুলনা মহাসড়কের ধুপপাশা এলাকায় দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে ট্রাক দুটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ সময় ট্রাকের ভেতরে আটকে পড়া দুই চালক ও এক হেলপারকে জীবিত উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
আজ মঙ্গলবার(২৬ মে)সকাল ০৬ টায় বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট ২২-৯৪১৪) এবং খুলনা থেকে আসা অপর একটি ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো ড-১২-৩২৫৪) মধ্যে ধুপপাশা নামক এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ট্রাক দুটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং চালকরা ভেতরে আটকা পড়েন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পিরোজপুর সদর ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর যান্ত্রিক সরঞ্জামের মাধ্যমে ট্রাকের অংশ কেটে ভেতরে আটকে পড়া তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করার পর ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্স যোগে আহতদের দ্রুত পিরোজপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছুক্ষণ যান চলাচল বিঘ্নিত হলেও ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সহযোগিতায় বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

২৫ মে, ২০২৬ ১৩:৫৩
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া গাঁজা গাছসহ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (২৫ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ধাওয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে অভিযান পরিচালনা করে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ।
এ সময় শাকিল হাওলাদারের বাড়ি থেকে প্রায় ৬ ফুট লম্বা একটি গাঁজা গাছ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শাকিল হাওলাদার (২৫) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। শাকিল ধাওয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডর বাসিন্দা মতি হাওলাদার ছেলে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত গাঁজা গাছটি জব্দ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে। ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হসান জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান সবসময়ই জিরো টলারেন্স। সমাজ থেকে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক নির্মূলে এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া গাঁজা গাছসহ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (২৫ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ধাওয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে অভিযান পরিচালনা করে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ।
এ সময় শাকিল হাওলাদারের বাড়ি থেকে প্রায় ৬ ফুট লম্বা একটি গাঁজা গাছ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শাকিল হাওলাদার (২৫) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। শাকিল ধাওয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডর বাসিন্দা মতি হাওলাদার ছেলে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত গাঁজা গাছটি জব্দ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে। ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হসান জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান সবসময়ই জিরো টলারেন্স। সমাজ থেকে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক নির্মূলে এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.