
০৬ নভেম্বর, ২০২৫ ১৭:৪৫
চট্টগ্রাম বন্দরে পাখির খাদ্যের আড়ালে লুকিয়ে আনা প্রায় ২৫ হাজার কেজি নিষিদ্ধ পপি সিড আটক করেছে কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখা চালান দুটি জব্দ করে। আটক পণ্যের বাজারমূল্য সাড়ে ছয় কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছে কাস্টমস।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, মেসার্স আদিব ট্রেডিং পাকিস্তান থেকে ৩২ হাজার ১০ কেজি বার্ড ফুড আমদানির ঘোষণা দেয়। ৯ অক্টোবর পণ্য চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। পরে এটি অফডক ছাবের আহমেদ টিম্বার কোম্পানি লিমিটেডে রাখা হয়। ১৪ অক্টোবর চালানটি খালাসের লক্ষ্যে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এম এইচ ট্রেডিং কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লিমিটেড।
কিন্তু গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ২২ অক্টোবর কাস্টমস কনটেইনার দুটির খালাস স্থগিত করে। পরে কায়িক পরীক্ষায় প্রথম সারিতে ৭ হাজার ২০০ কেজি বার্ড ফুড পাওয়া গেলেও তার আড়ালে লুকানো ছিল ২৪ হাজার ৯৬০ কেজি পপি সিড। এরপর নমুনা সংগ্রহ করে উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যানোপ্রযুক্তি সেন্টার এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় পণ্যটি পপি সিড হিসেবে নিশ্চিত হয়।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার এইচ এম কবির জানান, অঙ্কুরোদগম সক্ষম পপি সিড মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ‘ক’ শ্রেণির মাদক হিসেবে গণ্য। পাশাপাশি আমদানি নীতি আদেশ ২০২১–২৪–এ এটি আমদানি–নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় রয়েছে। মিথ্যা ঘোষণায় নিষিদ্ধ পণ্য আমদানির চেষ্টা করায় কাস্টমস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী চালানটি জব্দ করা হয়েছে। ঘোষণায় পণ্যের মূল্য দেখানো হয়েছিল মাত্র ৩০ লাখ টাকা। তবে বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে পাখির খাদ্যের আড়ালে লুকিয়ে আনা প্রায় ২৫ হাজার কেজি নিষিদ্ধ পপি সিড আটক করেছে কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখা চালান দুটি জব্দ করে। আটক পণ্যের বাজারমূল্য সাড়ে ছয় কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছে কাস্টমস।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, মেসার্স আদিব ট্রেডিং পাকিস্তান থেকে ৩২ হাজার ১০ কেজি বার্ড ফুড আমদানির ঘোষণা দেয়। ৯ অক্টোবর পণ্য চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। পরে এটি অফডক ছাবের আহমেদ টিম্বার কোম্পানি লিমিটেডে রাখা হয়। ১৪ অক্টোবর চালানটি খালাসের লক্ষ্যে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এম এইচ ট্রেডিং কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লিমিটেড।
কিন্তু গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ২২ অক্টোবর কাস্টমস কনটেইনার দুটির খালাস স্থগিত করে। পরে কায়িক পরীক্ষায় প্রথম সারিতে ৭ হাজার ২০০ কেজি বার্ড ফুড পাওয়া গেলেও তার আড়ালে লুকানো ছিল ২৪ হাজার ৯৬০ কেজি পপি সিড। এরপর নমুনা সংগ্রহ করে উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যানোপ্রযুক্তি সেন্টার এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় পণ্যটি পপি সিড হিসেবে নিশ্চিত হয়।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার এইচ এম কবির জানান, অঙ্কুরোদগম সক্ষম পপি সিড মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ‘ক’ শ্রেণির মাদক হিসেবে গণ্য। পাশাপাশি আমদানি নীতি আদেশ ২০২১–২৪–এ এটি আমদানি–নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় রয়েছে। মিথ্যা ঘোষণায় নিষিদ্ধ পণ্য আমদানির চেষ্টা করায় কাস্টমস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী চালানটি জব্দ করা হয়েছে। ঘোষণায় পণ্যের মূল্য দেখানো হয়েছিল মাত্র ৩০ লাখ টাকা। তবে বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

১৬ জুন, ২০২৬ ১৪:০৮
নড়াইলের লোহাগড়ায় সুমনা ফেরদৌসী (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করেছে তার স্বামী লিমন মল্লিক। এ ঘটনায় লিমনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। একই দিন রাতে অভিযুক্ত লিমন মল্লিককে আটক করা হয়।
নিহত সুমনা ফেরদৌসী লোহাগড়ার চর দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। সুমনার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় লিমন ও সুমনার পরিচয় হয়। পরে ২০২১ সালে তাদের বিয়ে হয়। এটি ছিল লিমনের দ্বিতীয় এবং সুমনার চতুর্থ বিয়ে। বিয়ের পর সুমনাকে নিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন লিমন। তবে প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসায় পরিবারে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে লিমনের প্রথম স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে রংপুরে চলে যান। এরপর চায়ের দোকান পরিচালনা ও কাঠ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন লিমন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, লিমনের অনুপস্থিতিতে সুমনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করতেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। সোমবার সকালে টিকটক ব্যবহার ও অনলাইনে যোগাযোগ নিয়ে দুজনের মধ্যে আবারও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে লিমনের মারধরে সুমনা আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি। হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর লিমন স্বাভাবিকভাবে কাজে চলে যান। বিকেলে বাড়ি ফিরে নিজেই চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। চিৎকার শুনে আশেপাশের মানুষ ছুটে আসে। খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদনের পর পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করে এটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাণ্ড। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লিমনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, আটক লিমন মল্লিক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর জন্য মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

১৬ জুন, ২০২৬ ১৩:২৮
সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনলাইনে হাজিরা নিশ্চিত করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়েছে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার এক প্রধান শিক্ষককে।
মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় বিদ্যালয় থেকে কয়েকশ ফুট উঁচু পাহাড়ে উঠে শেষ পর্যন্ত আমগাছের ডালে বসে অনলাইনে হাজিরা পাঠাতে হয়েছে তাকে।
সোমবার (১৫ জুন) উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, সম্প্রতি সরকার সারা দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনলাইন হাজিরা কার্যক্রম চালু করেছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতার ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে।
সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া এ নির্দেশনার প্রথম দিনেই বিপাকে পড়েন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের।
তিনি জানান, তার বিদ্যালয় দুই পাহাড়ের মাঝখানে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট নিচে অবস্থিত। বিদ্যালয়ের ছাদে উঠেও কোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়নি।
পরে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে বিভিন্ন স্থানে চেষ্টা করেও নেটওয়ার্ক না পেয়ে শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছে উঠে সংযোগ পান।
তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্টে গাছের ডালে উঠে নেটওয়ার্ক পেয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে হাজিরা খাতার ছবি পাঠাতে সক্ষম হয়েছি।
তবে কিছুটা দেরি হওয়ায় আমাকে ধমকও শুনতে হয়েছে।’ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবে হাজিরা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পেটের দায়ে চাকরি করি। চাকরি বাঁচাতে হলে ঝুঁকি নিতেই হবে।
চাকরি না থাকলে আমার পরিবারের চারজনের ভরণপোষণ কীভাবে চলবে?’ বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ন চাকমা জানান, উপজেলার ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম দিনে ৮৮টি বিদ্যালয়ের অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। বাকি ২৮টি বিদ্যালয়ের ৮৩ শিক্ষকের হাজিরা পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ‘যেসব এলাকায় ফোর-জি নেটওয়ার্ক রয়েছে, সেখান থেকে অনলাইনে হাজিরা পাওয়া গেছে। নেটওয়ার্কবিহীন এলাকার শিক্ষকরা মোবাইল বার্তার মাধ্যমে তথ্য জানিয়েছেন। আগামী দিনে হাজিরার সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’

১৫ জুন, ২০২৬ ১৯:৩২
হাম ও উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা) দেশে আরও চার শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে এক শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল তিন শিশুর। চার শিশুর সবাই ঢাকায় মারা গেছে।
এ সময়ে সারা দেশে আরও ৯৭২ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৪ শিশুর। মোট আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৩৬ শিশু।
সোমবার (১৫ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৫৬৩ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯৩ শিশু। মোট মারা গেছে ৬৫৬ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৮৬ হাজার ৯২৩ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭১ হাজার ৪৬৭ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৬৭ হাজার ৮৭৮ শিশু বাড়ি ফিরেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৮৮ জন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর সুস্থ হয়েছে এক হাজার ৩৭ জন।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
নড়াইলের লোহাগড়ায় সুমনা ফেরদৌসী (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করেছে তার স্বামী লিমন মল্লিক। এ ঘটনায় লিমনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। একই দিন রাতে অভিযুক্ত লিমন মল্লিককে আটক করা হয়।
নিহত সুমনা ফেরদৌসী লোহাগড়ার চর দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। সুমনার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় লিমন ও সুমনার পরিচয় হয়। পরে ২০২১ সালে তাদের বিয়ে হয়। এটি ছিল লিমনের দ্বিতীয় এবং সুমনার চতুর্থ বিয়ে। বিয়ের পর সুমনাকে নিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন লিমন। তবে প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসায় পরিবারে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে লিমনের প্রথম স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে রংপুরে চলে যান। এরপর চায়ের দোকান পরিচালনা ও কাঠ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন লিমন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, লিমনের অনুপস্থিতিতে সুমনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করতেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। সোমবার সকালে টিকটক ব্যবহার ও অনলাইনে যোগাযোগ নিয়ে দুজনের মধ্যে আবারও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে লিমনের মারধরে সুমনা আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি। হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর লিমন স্বাভাবিকভাবে কাজে চলে যান। বিকেলে বাড়ি ফিরে নিজেই চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। চিৎকার শুনে আশেপাশের মানুষ ছুটে আসে। খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদনের পর পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করে এটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাণ্ড। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লিমনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, আটক লিমন মল্লিক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর জন্য মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনলাইনে হাজিরা নিশ্চিত করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়েছে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার এক প্রধান শিক্ষককে।
মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় বিদ্যালয় থেকে কয়েকশ ফুট উঁচু পাহাড়ে উঠে শেষ পর্যন্ত আমগাছের ডালে বসে অনলাইনে হাজিরা পাঠাতে হয়েছে তাকে।
সোমবার (১৫ জুন) উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, সম্প্রতি সরকার সারা দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনলাইন হাজিরা কার্যক্রম চালু করেছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতার ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে।
সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া এ নির্দেশনার প্রথম দিনেই বিপাকে পড়েন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের।
তিনি জানান, তার বিদ্যালয় দুই পাহাড়ের মাঝখানে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট নিচে অবস্থিত। বিদ্যালয়ের ছাদে উঠেও কোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়নি।
পরে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে বিভিন্ন স্থানে চেষ্টা করেও নেটওয়ার্ক না পেয়ে শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছে উঠে সংযোগ পান।
তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্টে গাছের ডালে উঠে নেটওয়ার্ক পেয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে হাজিরা খাতার ছবি পাঠাতে সক্ষম হয়েছি।
তবে কিছুটা দেরি হওয়ায় আমাকে ধমকও শুনতে হয়েছে।’ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবে হাজিরা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পেটের দায়ে চাকরি করি। চাকরি বাঁচাতে হলে ঝুঁকি নিতেই হবে।
চাকরি না থাকলে আমার পরিবারের চারজনের ভরণপোষণ কীভাবে চলবে?’ বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ন চাকমা জানান, উপজেলার ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম দিনে ৮৮টি বিদ্যালয়ের অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। বাকি ২৮টি বিদ্যালয়ের ৮৩ শিক্ষকের হাজিরা পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ‘যেসব এলাকায় ফোর-জি নেটওয়ার্ক রয়েছে, সেখান থেকে অনলাইনে হাজিরা পাওয়া গেছে। নেটওয়ার্কবিহীন এলাকার শিক্ষকরা মোবাইল বার্তার মাধ্যমে তথ্য জানিয়েছেন। আগামী দিনে হাজিরার সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’
হাম ও উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা) দেশে আরও চার শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে এক শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল তিন শিশুর। চার শিশুর সবাই ঢাকায় মারা গেছে।
এ সময়ে সারা দেশে আরও ৯৭২ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৪ শিশুর। মোট আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৩৬ শিশু।
সোমবার (১৫ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৫৬৩ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯৩ শিশু। মোট মারা গেছে ৬৫৬ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৮৬ হাজার ৯২৩ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭১ হাজার ৪৬৭ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৬৭ হাজার ৮৭৮ শিশু বাড়ি ফিরেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৮৮ জন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর সুস্থ হয়েছে এক হাজার ৩৭ জন।