বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, 'আমি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাস করি। আমার রাজনীতি হলো মানুষের কষ্ট দূর করার রাজনীতি। আমার রাজনীতি মানুষের সমস্যা সমাধান করার রাজনীতি। কার কী সমস্যা, কার কী প্রয়োজন, কার কী অভাব-অভিযোগ, সেটা জানার জন্য আমি মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে বেড়াচ্ছি। মানুষ হিসেবে আমি আমার দায় ও দরদের জায়গা থেকে রাজনীতি করার চেষ্টা করি। আমাকে কিছু মানুষ মূল্যায়ন করে, আমার কথা শোনে, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজে এমপি-মন্ত্রী না হয়েও এলাকার মানুষের জন্য কিছু কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে বরিশালে দেড় হাজার কোটি টাকার কাজ বরাদ্দ করিয়েছি। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সেসব কাজ দৃশ্যমান হবে।'
বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বিমানবন্দর প্রেসক্লাবে এক মতবিনিময় সভা ও সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্নার সভাপতিত্বে সমসাময়িক বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরো বলেন, 'ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ৬ লেনের মহাসড়ক নির্মাণ কাজের প্রথম অংশ বরিশাল পর্যন্ত তদবির করে একনেকে পাস করিয়েছি। এছাড়াও বাবুগঞ্জ-মুলাদীর মধ্যবর্তী মীরগঞ্জ সেতুর কাজ আবার চালু করিয়েছি। এর পাশাপাশি বাবুগঞ্জের জাহাঙ্গীরনগর, কেদারপুর এবং চাঁদপাশায় নদী ভাঙন প্রতিরোধ, বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের স্মৃতিচিহ্ন বসতবাড়ি রক্ষা, জাদুঘর মেরামত ও সংস্কার, রহমতপুর ও বাবুগঞ্জ বাজারের রাস্তা নির্মাণ, কলেজ গেট থেকে লাকুটিয়া পর্যন্ত সড়ক সংস্কারসহ উপজেলার ৩৬টি রাস্তা পাকাকরণ, ৬৭টি নতুন রাস্তা নির্মাণ, ৭৬টি মসজিদ-মন্দির সংস্কার, ৯৮টি টিউবওয়েল স্থাপন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংস্কার ও সেবার মান বৃদ্ধিসহ ৩টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ১০টি কমিউনিটি ক্লিনিক সংস্কারের জন্য আবেদন করেছি। এর অনেকগুলো ইতোমধ্যে পাস হয়ে কাজ শুরু হয়ে গেছে। বাকিগুলোর কাজও পর্যায়ক্রমে দৃশ্যমান হবে।'
বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সদস্য ও চর সাধুকাঠী সিনিয়র মাদ্রাসার প্রভাষক মনিরুজ্জামান খোকনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগরের সদস্য সচিব প্রকৌশলী জি.এম রাব্বি, যুগ্ম-আহবায়ক সুজন তালুকদার, যুগ্ম-সদস্য সচিব ডাঃ তানভীর আহমেদ, রায়হান উদ্দিন, বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের আইন সম্পাদক ও বরিশাল জজকোর্টের এজিপি অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মৃধা, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রোকন মিয়া, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রুবেল সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রনি, যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক শাহিন মাহমুদ, প্রচার সম্পাদক মহিউদ্দিন খাঁন রানা, কার্যনির্বাহী সদস্য ও ব্র্যাক কর্মকর্তা আবু হানিফ ফকির, সদস্য নবীন দাস, প্রকৌশলী মহসিন উদ্দিন শামীম প্রমুখ। ওই মতবিনিময় সভা ও সংবাদ সম্মেলনের আগে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। #

১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:১৩
আজ ১৫ আগস্ট, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন। ১৯৪৫ সালের এই দিনে অবিভক্ত ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পারিবারিক নাম খালেদা খানম, ডাকনাম পুতুল। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনীতে। জলপাইগুড়িতে বোনের বাসায় থেকে তিনি পড়ালেখা করেন। পরে সেখানেই চা ব্যবসায় জড়ান ইস্কান্দার; বিয়েও করেন তিস্তাপাড়ের শহরটিতে। খালেদা জিয়ার মায়ের নাম বেগম তৈয়বা মজুমদার। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর খালেদা জিয়ার পরিবার বাংলাদেশের দিনাজপুর শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। সেখানে মিশনারি স্কুলে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোনোর পর দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। তার শৈশব-কৈশোর কাটে দিনাজপুরে বাবার কর্মস্থলে। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে খালেদা জিয়া তৃতীয়।
১৯৬০ সালের আগস্ট মাসে তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বেগম খালেদা জিয়া। এ দম্পতির কোলজুড়ে আসে ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর তারেক রহমান এবং ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট আরাফাত রহমান কোকো। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের নামে বর্বরোচিত গণহত্যা শুরু করলে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি সেনারা বিদ্রোহ করেন। ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে জিয়াউর রহমান ঘোষণায় স্বাধীনতার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এ দেশের মানুষ।
এ সময় বেগম খালেদা জিয়া দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে স্বামী জিয়াউর রহমানের সঙ্গে চট্টগ্রামের ষোলশহরে বাস করতেন। সেই সময়ের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহের পর খালেদা জিয়া, পাকিস্তানি কমান্ডার আমাদের অষ্টম বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডার সোহরাব হোসেনসহ সেনাবাহিনীর সৈনিকদের নিরস্ত্র করার চেষ্টা করছিল। সেই সময় খালেদা জিয়া প্রথম বলেছিলেন, ‘তোমরা অস্ত্র সমর্পণ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না জিয়াউর রহমান ফিরে আসেন।’ এ-ই দিয়ে তার শুরু।’’
মুক্তিযুদ্ধ প্রারম্ভকালে খালেদা জিয়া কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর চট্টগ্রাম থেকে ১৬ মে নৌপথে ঢাকায় আসেন। ১৭ জুন দুই শিশুসন্তান তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোসহ তাকে আটক করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। ছয় মাস বন্দি থাকার পর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে মুক্ত হন। মুক্তিযুদ্ধে খালেদা জিয়া ও তার শিশুসন্তানের ত্যাগ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা এবং তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো শিশু মুক্তিযোদ্ধা।’
১৯৮১ সালের ৩০ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশি-বিদেশি চক্রান্তে বিপথগামী সেনাসদস্যদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন। এর পর জিয়াউর রহমানের গড়া বিএনপির রাজনীতিতে আগমন ঘটে খালেদা জিয়ার। দলের নেতাকর্মীদের দাবির মুখে ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি তিনি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হন।
স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী দীর্ঘ আপসহীন আন্দোলনের পর ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এ পর্যন্ত তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন খালেদা জিয়া। ১৯৯৩ সালে তিনি সার্কের প্রথম মহিলা চেয়ারপারসন হন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট নির্বাচনে জয়লাভের পর তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে।
ওয়ান-ইলেভেনের পর মইন-ফখরুদ্দীন সরকার ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তাকে কারাবন্দি করে। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কারাভোগ করেন তিনি। সেবার কারাগারে প্রথম জন্মদিন কেটেছে তার। কারাগারে থাকা অবস্থায় তার অনড় মনোভাবের কারণে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় মইন-ফখরুদ্দীন সরকার।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি কাক্সিক্ষত ফল না পেয়ে সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়। সেই থেকে সরকারি দলের দমন-পীড়ন ও মামলা-হামলার বৃত্তে বন্দি দেশের অন্যতম বৃহৎ এই রাজনৈতিক দল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন বর্জন করে দলটি। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় অন্যায়ভাবে বেগম জিয়াকে সাজা দেওয়া হয়।
করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে দেয়নি হাসিনা সরকার। কয়েক দফায় লিভার সিরোসিস, হার্টের জটিলতাসহ নানা রোগে আক্রান্ত বেগম খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে পালিয়ে ভারতে অবস্থান করলে, বেগম খালেদা জিয়ার সাজা বাতিল করেন রাষ্ট্রপতি। উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে যুক্তরাজ্যে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি দেশে ফেরেন। নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া মারা যান। তার মৃত্যুর সংবাদ দেশি গণমাধ্যম আট কলামে ফলাও করে নানা শিরোনামে প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যÑ ‘অভিভাবক হারাল বাংলাদেশ’, ‘মহাকালে মহাপ্রস্থান’, ‘আপসহীন অভিযাত্রার সমাপ্তি’ ইত্যাদি। পরদিন প্রায় কোটি মানুষের অংশগ্রহণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ দাফন করা হয়।
তাকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি বলেন, ’৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দেশ ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব তার নামের পাশে দেশনেত্রীর সঙ্গে গণতন্ত্রের মাতা উপাধি যোগ হয়েছে।’ তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিএনপির চেয়ারপারসন ছিলেন। বর্তমানে দলটির চেয়ারম্যান তার বড় সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আজ শনিবার সারাদেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করবে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে অথবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের অনুষ্ঠান হবে। আর ঢাকায় বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। এ কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।’
আজ ১৫ আগস্ট, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন। ১৯৪৫ সালের এই দিনে অবিভক্ত ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পারিবারিক নাম খালেদা খানম, ডাকনাম পুতুল। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনীতে। জলপাইগুড়িতে বোনের বাসায় থেকে তিনি পড়ালেখা করেন। পরে সেখানেই চা ব্যবসায় জড়ান ইস্কান্দার; বিয়েও করেন তিস্তাপাড়ের শহরটিতে। খালেদা জিয়ার মায়ের নাম বেগম তৈয়বা মজুমদার। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর খালেদা জিয়ার পরিবার বাংলাদেশের দিনাজপুর শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। সেখানে মিশনারি স্কুলে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোনোর পর দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। তার শৈশব-কৈশোর কাটে দিনাজপুরে বাবার কর্মস্থলে। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে খালেদা জিয়া তৃতীয়।
১৯৬০ সালের আগস্ট মাসে তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বেগম খালেদা জিয়া। এ দম্পতির কোলজুড়ে আসে ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর তারেক রহমান এবং ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট আরাফাত রহমান কোকো। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের নামে বর্বরোচিত গণহত্যা শুরু করলে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি সেনারা বিদ্রোহ করেন। ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে জিয়াউর রহমান ঘোষণায় স্বাধীনতার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এ দেশের মানুষ।
এ সময় বেগম খালেদা জিয়া দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে স্বামী জিয়াউর রহমানের সঙ্গে চট্টগ্রামের ষোলশহরে বাস করতেন। সেই সময়ের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহের পর খালেদা জিয়া, পাকিস্তানি কমান্ডার আমাদের অষ্টম বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডার সোহরাব হোসেনসহ সেনাবাহিনীর সৈনিকদের নিরস্ত্র করার চেষ্টা করছিল। সেই সময় খালেদা জিয়া প্রথম বলেছিলেন, ‘তোমরা অস্ত্র সমর্পণ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না জিয়াউর রহমান ফিরে আসেন।’ এ-ই দিয়ে তার শুরু।’’
মুক্তিযুদ্ধ প্রারম্ভকালে খালেদা জিয়া কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর চট্টগ্রাম থেকে ১৬ মে নৌপথে ঢাকায় আসেন। ১৭ জুন দুই শিশুসন্তান তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোসহ তাকে আটক করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। ছয় মাস বন্দি থাকার পর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে মুক্ত হন। মুক্তিযুদ্ধে খালেদা জিয়া ও তার শিশুসন্তানের ত্যাগ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা এবং তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো শিশু মুক্তিযোদ্ধা।’
১৯৮১ সালের ৩০ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশি-বিদেশি চক্রান্তে বিপথগামী সেনাসদস্যদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন। এর পর জিয়াউর রহমানের গড়া বিএনপির রাজনীতিতে আগমন ঘটে খালেদা জিয়ার। দলের নেতাকর্মীদের দাবির মুখে ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি তিনি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হন।
স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী দীর্ঘ আপসহীন আন্দোলনের পর ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এ পর্যন্ত তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন খালেদা জিয়া। ১৯৯৩ সালে তিনি সার্কের প্রথম মহিলা চেয়ারপারসন হন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট নির্বাচনে জয়লাভের পর তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে।
ওয়ান-ইলেভেনের পর মইন-ফখরুদ্দীন সরকার ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তাকে কারাবন্দি করে। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কারাভোগ করেন তিনি। সেবার কারাগারে প্রথম জন্মদিন কেটেছে তার। কারাগারে থাকা অবস্থায় তার অনড় মনোভাবের কারণে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় মইন-ফখরুদ্দীন সরকার।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি কাক্সিক্ষত ফল না পেয়ে সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়। সেই থেকে সরকারি দলের দমন-পীড়ন ও মামলা-হামলার বৃত্তে বন্দি দেশের অন্যতম বৃহৎ এই রাজনৈতিক দল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন বর্জন করে দলটি। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় অন্যায়ভাবে বেগম জিয়াকে সাজা দেওয়া হয়।
করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে দেয়নি হাসিনা সরকার। কয়েক দফায় লিভার সিরোসিস, হার্টের জটিলতাসহ নানা রোগে আক্রান্ত বেগম খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে পালিয়ে ভারতে অবস্থান করলে, বেগম খালেদা জিয়ার সাজা বাতিল করেন রাষ্ট্রপতি। উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে যুক্তরাজ্যে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি দেশে ফেরেন। নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া মারা যান। তার মৃত্যুর সংবাদ দেশি গণমাধ্যম আট কলামে ফলাও করে নানা শিরোনামে প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যÑ ‘অভিভাবক হারাল বাংলাদেশ’, ‘মহাকালে মহাপ্রস্থান’, ‘আপসহীন অভিযাত্রার সমাপ্তি’ ইত্যাদি। পরদিন প্রায় কোটি মানুষের অংশগ্রহণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ দাফন করা হয়।
তাকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি বলেন, ’৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দেশ ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব তার নামের পাশে দেশনেত্রীর সঙ্গে গণতন্ত্রের মাতা উপাধি যোগ হয়েছে।’ তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিএনপির চেয়ারপারসন ছিলেন। বর্তমানে দলটির চেয়ারম্যান তার বড় সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আজ শনিবার সারাদেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করবে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে অথবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের অনুষ্ঠান হবে। আর ঢাকায় বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। এ কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।’

১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৯:৪১
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৫ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এই দিনে একদল বিপথগামী সেনাসদস্য তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে সংঘটিত ইতিহাসের ঘৃণ্য ও নৃশংসতম সেই হত্যাকাণ্ডের ৫১ বছর আজ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাড়াও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে তাঁর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল; পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল; শেখ মুজিবুর রহমানের একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তাঁর জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা কর্নেল জামিল, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককে হত্যা করা হয়।
১৫ আগস্টের সেই রাতে সেনাসদস্যদের আরেকটি দল শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগনে তৎকালীন যুবলীগের নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালিয়ে তাঁকে ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকে হত্যা করে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় হামলা করে তাঁকে ও তাঁর কন্যা বেবি, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় আবদুল নঈম খানকে হত্যা করা হয়।
ওই সময় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। ১৫ আগস্টের সেই হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এরপর হত্যাকারীদের বিচার শুরু হয়। একই সঙ্গে ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস এবং এই দিনে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়।
১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। পরে উচ্চ আদালত ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এখন পর্যন্ত ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। একজন বিদেশে মারা গেছেন। পাঁচজন এখনো পলাতক।
২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এ দফায় টানা প্রায় সাড়ে ১৫ বছরের শাসনকালে আওয়ামী লীগ ১৫ আগস্ট এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাকে ঘিরে মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করত। ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে এবং গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর কবরে শ্রদ্ধা জানানোসহ নানা আয়োজন করা হতো।
২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন হয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে এখন আর সরকারি ছুটি নেই। গত বছর এই ছুটি বাতিল করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়। এর ছয় মাস পর দ্বিতীয়বার হামলা চালিয়ে বাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়।
গত শতকের ষাটের দশকের শেষ দিকে দেশে সুপরিচিত অনেক রাজনীতিবিদ থাকলেও শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর নেতৃত্বগুণে অন্যদের ছাপিয়ে চলে আসেন সামনের কাতারে। জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে আদর্শিক ভিত্তি করে দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রমনার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধুর ভাষণ যুদ্ধদিনে মুক্তিসেনাদের প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। সেদিন সমবেত লাখো মানুষকে সামনে রেখে তিনি বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৫ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এই দিনে একদল বিপথগামী সেনাসদস্য তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে সংঘটিত ইতিহাসের ঘৃণ্য ও নৃশংসতম সেই হত্যাকাণ্ডের ৫১ বছর আজ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাড়াও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে তাঁর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল; পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল; শেখ মুজিবুর রহমানের একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তাঁর জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা কর্নেল জামিল, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককে হত্যা করা হয়।
১৫ আগস্টের সেই রাতে সেনাসদস্যদের আরেকটি দল শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগনে তৎকালীন যুবলীগের নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালিয়ে তাঁকে ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকে হত্যা করে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় হামলা করে তাঁকে ও তাঁর কন্যা বেবি, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় আবদুল নঈম খানকে হত্যা করা হয়।
ওই সময় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। ১৫ আগস্টের সেই হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এরপর হত্যাকারীদের বিচার শুরু হয়। একই সঙ্গে ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস এবং এই দিনে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়।
১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। পরে উচ্চ আদালত ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এখন পর্যন্ত ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। একজন বিদেশে মারা গেছেন। পাঁচজন এখনো পলাতক।
২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এ দফায় টানা প্রায় সাড়ে ১৫ বছরের শাসনকালে আওয়ামী লীগ ১৫ আগস্ট এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাকে ঘিরে মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করত। ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে এবং গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর কবরে শ্রদ্ধা জানানোসহ নানা আয়োজন করা হতো।
২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন হয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে এখন আর সরকারি ছুটি নেই। গত বছর এই ছুটি বাতিল করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়। এর ছয় মাস পর দ্বিতীয়বার হামলা চালিয়ে বাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়।
গত শতকের ষাটের দশকের শেষ দিকে দেশে সুপরিচিত অনেক রাজনীতিবিদ থাকলেও শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর নেতৃত্বগুণে অন্যদের ছাপিয়ে চলে আসেন সামনের কাতারে। জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে আদর্শিক ভিত্তি করে দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রমনার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধুর ভাষণ যুদ্ধদিনে মুক্তিসেনাদের প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। সেদিন সমবেত লাখো মানুষকে সামনে রেখে তিনি বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৫৩
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় ব্রিজের যাত্রী ছাউনির ভেতরে এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী সন্তান প্রসব করেছেন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার রহমতপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, ওই নারী বেশ কিছুদিন ধরে রহমতপুর ব্রিজ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সকালে হঠাৎ যাত্রী ছাউনির ভেতরেই তিনি সন্তান প্রসব করেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নবজাতকটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. লিটন হোসেন বলেন, প্রথমে দেখতে পেয়ে কিছু কাপড় ও ব্যানার দিয়ে আগলে রেখেছি। লোকজনসহ বিষয়টি বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও বাবুগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরকে জানাই। তারা এসে মা ও নবজাতকের নিরাপত্তা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেন।
স্থানীয়রা জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন অসহায় এই নারীর পরিচয় এবং স্বজনদের সন্ধান করা দরকার। এবং মা ও নবজাতকের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি।’
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় ব্রিজের যাত্রী ছাউনির ভেতরে এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী সন্তান প্রসব করেছেন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার রহমতপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, ওই নারী বেশ কিছুদিন ধরে রহমতপুর ব্রিজ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সকালে হঠাৎ যাত্রী ছাউনির ভেতরেই তিনি সন্তান প্রসব করেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নবজাতকটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. লিটন হোসেন বলেন, প্রথমে দেখতে পেয়ে কিছু কাপড় ও ব্যানার দিয়ে আগলে রেখেছি। লোকজনসহ বিষয়টি বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও বাবুগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরকে জানাই। তারা এসে মা ও নবজাতকের নিরাপত্তা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেন।
স্থানীয়রা জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন অসহায় এই নারীর পরিচয় এবং স্বজনদের সন্ধান করা দরকার। এবং মা ও নবজাতকের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি।’

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৩:০৩
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, 'আমি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাস করি। আমার রাজনীতি হলো মানুষের কষ্ট দূর করার রাজনীতি। আমার রাজনীতি মানুষের সমস্যা সমাধান করার রাজনীতি। কার কী সমস্যা, কার কী প্রয়োজন, কার কী অভাব-অভিযোগ, সেটা জানার জন্য আমি মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে বেড়াচ্ছি। মানুষ হিসেবে আমি আমার দায় ও দরদের জায়গা থেকে রাজনীতি করার চেষ্টা করি। আমাকে কিছু মানুষ মূল্যায়ন করে, আমার কথা শোনে, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজে এমপি-মন্ত্রী না হয়েও এলাকার মানুষের জন্য কিছু কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে বরিশালে দেড় হাজার কোটি টাকার কাজ বরাদ্দ করিয়েছি। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সেসব কাজ দৃশ্যমান হবে।'
বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বিমানবন্দর প্রেসক্লাবে এক মতবিনিময় সভা ও সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্নার সভাপতিত্বে সমসাময়িক বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরো বলেন, 'ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ৬ লেনের মহাসড়ক নির্মাণ কাজের প্রথম অংশ বরিশাল পর্যন্ত তদবির করে একনেকে পাস করিয়েছি। এছাড়াও বাবুগঞ্জ-মুলাদীর মধ্যবর্তী মীরগঞ্জ সেতুর কাজ আবার চালু করিয়েছি। এর পাশাপাশি বাবুগঞ্জের জাহাঙ্গীরনগর, কেদারপুর এবং চাঁদপাশায় নদী ভাঙন প্রতিরোধ, বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের স্মৃতিচিহ্ন বসতবাড়ি রক্ষা, জাদুঘর মেরামত ও সংস্কার, রহমতপুর ও বাবুগঞ্জ বাজারের রাস্তা নির্মাণ, কলেজ গেট থেকে লাকুটিয়া পর্যন্ত সড়ক সংস্কারসহ উপজেলার ৩৬টি রাস্তা পাকাকরণ, ৬৭টি নতুন রাস্তা নির্মাণ, ৭৬টি মসজিদ-মন্দির সংস্কার, ৯৮টি টিউবওয়েল স্থাপন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংস্কার ও সেবার মান বৃদ্ধিসহ ৩টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ১০টি কমিউনিটি ক্লিনিক সংস্কারের জন্য আবেদন করেছি। এর অনেকগুলো ইতোমধ্যে পাস হয়ে কাজ শুরু হয়ে গেছে। বাকিগুলোর কাজও পর্যায়ক্রমে দৃশ্যমান হবে।'
বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সদস্য ও চর সাধুকাঠী সিনিয়র মাদ্রাসার প্রভাষক মনিরুজ্জামান খোকনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগরের সদস্য সচিব প্রকৌশলী জি.এম রাব্বি, যুগ্ম-আহবায়ক সুজন তালুকদার, যুগ্ম-সদস্য সচিব ডাঃ তানভীর আহমেদ, রায়হান উদ্দিন, বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের আইন সম্পাদক ও বরিশাল জজকোর্টের এজিপি অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মৃধা, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রোকন মিয়া, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রুবেল সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রনি, যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক শাহিন মাহমুদ, প্রচার সম্পাদক মহিউদ্দিন খাঁন রানা, কার্যনির্বাহী সদস্য ও ব্র্যাক কর্মকর্তা আবু হানিফ ফকির, সদস্য নবীন দাস, প্রকৌশলী মহসিন উদ্দিন শামীম প্রমুখ। ওই মতবিনিময় সভা ও সংবাদ সম্মেলনের আগে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। #