স্ত্রী অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে গেছেন—এমন দাবি করে ভারতের হরিদ্বারে একটি মোবাইল টাওয়ারে উঠে বসেন এক যুবক। স্ত্রীকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত নিচে নামবেন না বলে জানান তিনি। তাঁকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতে নিজেই টাওয়ার থেকে নেমে আসেন ওই যুবক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার জেলার শিবালিক নগরে এ ঘটনা ঘটে। স্ত্রী অন্য একজনের সঙ্গে পালিয়ে হরিদ্বারে চলে গেছেন বলে জানতে পেরে সেখানে ছুটে যান ওই যুবক। একপর্যায়ে তিনি উঠে পড়েন এলাকার একটি মোবাইল টাওয়ারে।
বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা যুবককে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন। তবে নানা অনুরোধেও তিনি রাজি হননি। টাওয়ারের ওপর থেকে যুবক দাবি করেন, তাঁর স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে হবে। স্ত্রীকে ফিরিয়ে না দিলে তিনি নিচে নামবেন না বলেও জানান।
পরিস্থিতি সামাল দিতে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে নিরাপদে নিচে নামানোর উদ্যোগ নেয়। তবে পুলিশের প্রাথমিক চেষ্টাও সফল হয়নি। নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে স্ত্রী না আসা পর্যন্ত টাওয়ার থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান ওই যুবক।
এ অবস্থায় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাঁকে শান্ত করার পাশাপাশি নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও টাওয়ারের ওপর অবস্থান করছিলেন তিনি। পরে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নামার সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। দীর্ঘ সময় পর ওই যুবক নিজেই টাওয়ার থেকে নেমে আসেন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ‘ভূপি পাওয়ার’ নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভিডিওটি বহু মানুষের নজরে এসেছে।

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১২
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) অধীনে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে (আইইটি) রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে কলেজটির বিদ্যমান আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ বিস্তারিত প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকট, প্রশাসনিক জটিলতা ও একাডেমিক অস্থিতিশীলতা নিরসনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ছাড়াও ফরিদপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের কারিগরি শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি জারি করা হয়।
চিঠিতে চারটি কলেজের বিদ্যমান আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এস এম খালিদ সাইফুল্লাহ মনে করেন, কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করা হলে শিক্ষকসংকট ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের পথ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে কলেজটির কার্যক্রমে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও বিশ্ববিদ্যালয়—দুই প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করা হলে একক প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। এতে ইউজিসির নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকট দূর করা সম্ভব হবে।
খালিদ সাইফুল্লাহ আরও বলেন, সেমিস্টারের মাঝপথে যথেচ্ছ শিক্ষক বদলি বন্ধ করে একাডেমিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যাবে। পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নেভাল আর্কিটেকচার বিভাগ চালু করা সম্ভব হবে। দক্ষ ল্যাব জনবল নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়সংকটও দূর করা যাবে।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত হলে এর একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ডিগ্রি প্রদান, পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, পরীক্ষা পরিচালনা, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে বর্তমান শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে চলবে এবং রূপান্তরের ক্ষেত্রে তাঁদের জন্য কী ব্যবস্থা রাখা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে রূপান্তরের নির্দিষ্ট সময়সীমা কিংবা বাস্তবায়নের বিস্তারিত প্রক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি। বরং বিদ্যমান আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পদক্ষেপসহ প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, চারটি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। আপাতত এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও করণীয় নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক মো. লিটন রাব্বানী বলেন, বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মন্ত্রণালয় ইউজিসিকে চিঠি দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ইউজিসি থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে রূপান্তরের প্রস্তাবটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের অংশ। মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) অধীনে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে (আইইটি) রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে কলেজটির বিদ্যমান আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ বিস্তারিত প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকট, প্রশাসনিক জটিলতা ও একাডেমিক অস্থিতিশীলতা নিরসনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ছাড়াও ফরিদপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের কারিগরি শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি জারি করা হয়।
চিঠিতে চারটি কলেজের বিদ্যমান আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এস এম খালিদ সাইফুল্লাহ মনে করেন, কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করা হলে শিক্ষকসংকট ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের পথ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে কলেজটির কার্যক্রমে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও বিশ্ববিদ্যালয়—দুই প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করা হলে একক প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। এতে ইউজিসির নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকট দূর করা সম্ভব হবে।
খালিদ সাইফুল্লাহ আরও বলেন, সেমিস্টারের মাঝপথে যথেচ্ছ শিক্ষক বদলি বন্ধ করে একাডেমিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যাবে। পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নেভাল আর্কিটেকচার বিভাগ চালু করা সম্ভব হবে। দক্ষ ল্যাব জনবল নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়সংকটও দূর করা যাবে।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত হলে এর একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ডিগ্রি প্রদান, পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, পরীক্ষা পরিচালনা, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে বর্তমান শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে চলবে এবং রূপান্তরের ক্ষেত্রে তাঁদের জন্য কী ব্যবস্থা রাখা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে রূপান্তরের নির্দিষ্ট সময়সীমা কিংবা বাস্তবায়নের বিস্তারিত প্রক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি। বরং বিদ্যমান আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পদক্ষেপসহ প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, চারটি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। আপাতত এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও করণীয় নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক মো. লিটন রাব্বানী বলেন, বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মন্ত্রণালয় ইউজিসিকে চিঠি দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ইউজিসি থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে রূপান্তরের প্রস্তাবটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের অংশ। মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'

০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৪৬
বড় বড় ভবন, প্রশস্ত সড়ক কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি—এসব থাকলেই একটি শহর বাসযোগ্য হয়ে ওঠে না। প্রয়োজন পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, কার্যকর নাগরিক সেবা, সুশাসন, নিরাপদ জীবন ও টেকসই অর্থনীতি। এসব সূচকে কাঙ্ক্ষিত অবস্থান তৈরি করতে না পারায় বিশ্বের সেরা ৫০০ শহরের তালিকাতেই জায়গা হয়নি বাংলাদেশের কোনো শহরের।
বরং এক বছরের ব্যবধানে দেশের প্রধান শহরগুলোর বৈশ্বিক অবস্থান আরও পিছিয়েছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রাজধানী ঢাকায়। গত বছর ৪৮২তম অবস্থানে থাকা ঢাকা এবার ৩৩ ধাপ পিছিয়ে নেমে গেছে ৫১৫তম অবস্থানে। ফলে বিশ্বের সেরা ৫০০ শহরের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে রাজধানী।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে বিশ্বের ১৬৩টি দেশের এক হাজার শহরকে অর্থনীতি, মানবসম্পদ, জীবনযাত্রার মান, পরিবেশ ও শাসন—এই পাঁচ সূচকে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের আট শহরের মধ্যে ঢাকার পর অবস্থান চট্টগ্রামের। তবে চট্টগ্রামও পিছিয়েছে ১৪ ধাপ; রয়েছে ৭৬৩তম স্থানে। রাজশাহী ৬৬ ধাপ পিছিয়ে ৭৭৯তম এবং খুলনা রয়েছে ৮১১তম অবস্থানে। সিলেটের অবস্থান ৮৩৪তম, কুমিল্লা ৮৮৩তম, ময়মনসিংহ ৮৯৫তম এবং বগুড়া ৩২ ধাপ পিছিয়ে ৯২৬তম অবস্থানে।
অর্থাৎ দেশের কোনো শহরই বৈশ্বিক শীর্ষ ৫০০-তে জায়গা করে নিতে পারেনি।
অর্থনীতিতে এগিয়ে, পরিবেশে তলানিতে ঢাকা
সূচকটির মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে অর্থনীতির জন্য ৩০, মানবসম্পদের জন্য ২৫, জীবনযাত্রার মানের জন্য ২৫ এবং পরিবেশ ও শাসনের জন্য ১০ করে নম্বর রাখা হয়েছে। শহরের অর্থনীতির আকার ও প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা, ব্যবসার পরিবেশ, জনমিতিক প্রবণতা, স্বাস্থ্য, আর্থিক সক্ষমতা, নাগরিক সুবিধা, পরিবেশ, জলবায়ু ঝুঁকি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নাগরিক অধিকার বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতি সূচকে বাংলাদেশের শহরগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে ঢাকা। বিশ্বে এ সূচকে রাজধানীর অবস্থান ২৮৬তম। মানবসম্পদেও ঢাকার অবস্থান ১৭৮তম।
কিন্তু পরিবেশের চিত্র একেবারেই বিপরীত। এই সূচকে ঢাকার অবস্থান ৯৩০তম। অর্থাৎ অর্থনীতি ও মানবসম্পদে তুলনামূলক শক্ত অবস্থান থাকলেও পরিবেশগত দুর্বলতা সামগ্রিক র্যাংকিংয়ে বড় চাপ তৈরি করেছে।
শুধু ঢাকা নয়, পরিবেশ সূচকে দেশের প্রায় সব বড় শহরের অবস্থানই উদ্বেগজনক। সিলেট ৭৩৫তম, রাজশাহী ৮৫২তম, চট্টগ্রাম ৯২৪তম, ময়মনসিংহ ৯৪০তম এবং খুলনা ৯৭৪তম অবস্থানে রয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম মিজানুর রহমান বলেন, রাজশাহীর পরিবেশ দিন দিন খারাপ হচ্ছে। বায়ুদূষণ বৃদ্ধি, গাছপালা কমে যাওয়া, তীব্র গরম, বরেন্দ্র অঞ্চলের পানি সংকট এবং নদীদূষণ শহটির পরিবেশের ওপর চাপ তৈরি করছে।
অবকাঠামো আছে, স্বস্তির নগরজীবন নেই
জীবনযাত্রার মানের সূচকেও বাংলাদেশের শহরগুলোর চিত্র খুব শক্তিশালী নয়। এ সূচকে দেশের মধ্যে এগিয়ে রাজশাহী—বিশ্বে ৫৪২তম। এরপর খুলনা ৬১২তম এবং চট্টগ্রাম ৬৫৩তম অবস্থানে রয়েছে।
নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন ভবন, সড়ক বা অবকাঠামো নির্মাণ করলেই শহরের জীবনমান বাড়ে না। প্রয়োজন বিদ্যমান অবকাঠামোর কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন।
অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, যানজট, বায়ুদূষণ, জলাবদ্ধতা, পানির সংকট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—সব মিলিয়ে শহরগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় চাপ বাড়ছে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মহিনুজ্জামান বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো শহরে একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা ও পানির সংকট দেখা যাচ্ছে। বৃষ্টির সময় রাস্তা পানিতে ডুবে যায়, আবার বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় পানির সংকট থাকে। এ পরিস্থিতি শহরগুলোর পরিবেশগত ঝুঁকি স্পষ্ট করে।
ঢাকামুখী চাপ কমানোই বড় চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার ওপর বাড়তি জনসংখ্যার চাপ কমাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো গেলে রাজধানীমুখী মানুষের চাপ কমানো সম্ভব।
একই সঙ্গে পরিকল্পিত আবাসন, সবুজ এলাকা সংরক্ষণ, কার্যকর গণপরিবহন, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবার মান বাড়াতে হবে। তা না হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও শহরের বাসযোগ্যতা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাবে না।
বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ শহরের তালিকায় রয়েছে নিউইয়র্ক, লন্ডন, প্যারিস, সিয়াটল ও সান ফ্রান্সিসকো। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের শহরগুলোর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ভারতের দিল্লি, বেঙ্গালুরু, মুম্বাই, চেন্নাই ও হায়দরাবাদ।
এদিকে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ২০২৬ সালের গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্সেও ঢাকার অবস্থান নিয়ে নেতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে। দুটি আন্তর্জাতিক সূচকের ফলাফলই একই প্রশ্ন সামনে আনছে—শহর বড় হচ্ছে, কিন্তু সেই অনুপাতে কি নাগরিক জীবনের মানও বাড়ছে?
বড় বড় ভবন, প্রশস্ত সড়ক কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি—এসব থাকলেই একটি শহর বাসযোগ্য হয়ে ওঠে না। প্রয়োজন পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, কার্যকর নাগরিক সেবা, সুশাসন, নিরাপদ জীবন ও টেকসই অর্থনীতি। এসব সূচকে কাঙ্ক্ষিত অবস্থান তৈরি করতে না পারায় বিশ্বের সেরা ৫০০ শহরের তালিকাতেই জায়গা হয়নি বাংলাদেশের কোনো শহরের।
বরং এক বছরের ব্যবধানে দেশের প্রধান শহরগুলোর বৈশ্বিক অবস্থান আরও পিছিয়েছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রাজধানী ঢাকায়। গত বছর ৪৮২তম অবস্থানে থাকা ঢাকা এবার ৩৩ ধাপ পিছিয়ে নেমে গেছে ৫১৫তম অবস্থানে। ফলে বিশ্বের সেরা ৫০০ শহরের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে রাজধানী।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে বিশ্বের ১৬৩টি দেশের এক হাজার শহরকে অর্থনীতি, মানবসম্পদ, জীবনযাত্রার মান, পরিবেশ ও শাসন—এই পাঁচ সূচকে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের আট শহরের মধ্যে ঢাকার পর অবস্থান চট্টগ্রামের। তবে চট্টগ্রামও পিছিয়েছে ১৪ ধাপ; রয়েছে ৭৬৩তম স্থানে। রাজশাহী ৬৬ ধাপ পিছিয়ে ৭৭৯তম এবং খুলনা রয়েছে ৮১১তম অবস্থানে। সিলেটের অবস্থান ৮৩৪তম, কুমিল্লা ৮৮৩তম, ময়মনসিংহ ৮৯৫তম এবং বগুড়া ৩২ ধাপ পিছিয়ে ৯২৬তম অবস্থানে।
অর্থাৎ দেশের কোনো শহরই বৈশ্বিক শীর্ষ ৫০০-তে জায়গা করে নিতে পারেনি।
অর্থনীতিতে এগিয়ে, পরিবেশে তলানিতে ঢাকা
সূচকটির মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে অর্থনীতির জন্য ৩০, মানবসম্পদের জন্য ২৫, জীবনযাত্রার মানের জন্য ২৫ এবং পরিবেশ ও শাসনের জন্য ১০ করে নম্বর রাখা হয়েছে। শহরের অর্থনীতির আকার ও প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা, ব্যবসার পরিবেশ, জনমিতিক প্রবণতা, স্বাস্থ্য, আর্থিক সক্ষমতা, নাগরিক সুবিধা, পরিবেশ, জলবায়ু ঝুঁকি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নাগরিক অধিকার বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতি সূচকে বাংলাদেশের শহরগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে ঢাকা। বিশ্বে এ সূচকে রাজধানীর অবস্থান ২৮৬তম। মানবসম্পদেও ঢাকার অবস্থান ১৭৮তম।
কিন্তু পরিবেশের চিত্র একেবারেই বিপরীত। এই সূচকে ঢাকার অবস্থান ৯৩০তম। অর্থাৎ অর্থনীতি ও মানবসম্পদে তুলনামূলক শক্ত অবস্থান থাকলেও পরিবেশগত দুর্বলতা সামগ্রিক র্যাংকিংয়ে বড় চাপ তৈরি করেছে।
শুধু ঢাকা নয়, পরিবেশ সূচকে দেশের প্রায় সব বড় শহরের অবস্থানই উদ্বেগজনক। সিলেট ৭৩৫তম, রাজশাহী ৮৫২তম, চট্টগ্রাম ৯২৪তম, ময়মনসিংহ ৯৪০তম এবং খুলনা ৯৭৪তম অবস্থানে রয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম মিজানুর রহমান বলেন, রাজশাহীর পরিবেশ দিন দিন খারাপ হচ্ছে। বায়ুদূষণ বৃদ্ধি, গাছপালা কমে যাওয়া, তীব্র গরম, বরেন্দ্র অঞ্চলের পানি সংকট এবং নদীদূষণ শহটির পরিবেশের ওপর চাপ তৈরি করছে।
অবকাঠামো আছে, স্বস্তির নগরজীবন নেই
জীবনযাত্রার মানের সূচকেও বাংলাদেশের শহরগুলোর চিত্র খুব শক্তিশালী নয়। এ সূচকে দেশের মধ্যে এগিয়ে রাজশাহী—বিশ্বে ৫৪২তম। এরপর খুলনা ৬১২তম এবং চট্টগ্রাম ৬৫৩তম অবস্থানে রয়েছে।
নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন ভবন, সড়ক বা অবকাঠামো নির্মাণ করলেই শহরের জীবনমান বাড়ে না। প্রয়োজন বিদ্যমান অবকাঠামোর কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন।
অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, যানজট, বায়ুদূষণ, জলাবদ্ধতা, পানির সংকট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—সব মিলিয়ে শহরগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় চাপ বাড়ছে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মহিনুজ্জামান বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো শহরে একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা ও পানির সংকট দেখা যাচ্ছে। বৃষ্টির সময় রাস্তা পানিতে ডুবে যায়, আবার বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় পানির সংকট থাকে। এ পরিস্থিতি শহরগুলোর পরিবেশগত ঝুঁকি স্পষ্ট করে।
ঢাকামুখী চাপ কমানোই বড় চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার ওপর বাড়তি জনসংখ্যার চাপ কমাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো গেলে রাজধানীমুখী মানুষের চাপ কমানো সম্ভব।
একই সঙ্গে পরিকল্পিত আবাসন, সবুজ এলাকা সংরক্ষণ, কার্যকর গণপরিবহন, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবার মান বাড়াতে হবে। তা না হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও শহরের বাসযোগ্যতা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাবে না।
বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ শহরের তালিকায় রয়েছে নিউইয়র্ক, লন্ডন, প্যারিস, সিয়াটল ও সান ফ্রান্সিসকো। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের শহরগুলোর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ভারতের দিল্লি, বেঙ্গালুরু, মুম্বাই, চেন্নাই ও হায়দরাবাদ।
এদিকে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ২০২৬ সালের গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্সেও ঢাকার অবস্থান নিয়ে নেতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে। দুটি আন্তর্জাতিক সূচকের ফলাফলই একই প্রশ্ন সামনে আনছে—শহর বড় হচ্ছে, কিন্তু সেই অনুপাতে কি নাগরিক জীবনের মানও বাড়ছে?

০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৩৩
বরিশালের গৌরনদীর চাঁদশী গ্রামের এক সাধারণ ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম। সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল এমন এক নারীর পথচলা, যিনি উনিশ শতকের পুরুষতান্ত্রিক সমাজের চোখে চোখ রেখে শিক্ষা, চিকিৎসা ও নারী অধিকার আন্দোলনে তৈরি করেছিলেন ইতিহাস। তিনি কাদম্বিনী বসু, বাংলার নারী জাগরণের অন্যতম অগ্রদূত।
১৮৬১ সালের ১৮ জুলাই চাঁদশী গ্রামে ব্রজকিশোর বসুর ঘরে জন্ম কাদম্বিনীর। ডাকনাম ছিল ‘বিনি’। বাবা ছিলেন বিহারের ভাগলপুর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বাবার কাছেই শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। মাত্র ১৩ বছর বয়সে মেয়েকে নিয়ে কলকাতায় পাড়ি জমান ব্রজকিশোর।
কলকাতায় হিন্দু মহিলা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন কাদম্বিনী। বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে গেলে ভর্তি হন বঙ্গ মহিলা বিদ্যালয়ে। পরিবারের নিরাপদ গণ্ডি পেরিয়ে বোর্ডিংয়ে একা থাকা, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া—সবকিছুই ধীরে ধীরে তাঁকে করে তোলে আত্মবিশ্বাসী।
সেখানেই শিক্ষক হিসেবে পান দ্বারকানাথ গাঙ্গুলীকে। পরে সেই শিক্ষকই হন তাঁর জীবনসঙ্গী। বিয়ের পর কাদম্বিনী বসু হয়ে ওঠেন কাদম্বিনী গাঙ্গুলী।
তখন নারীর উচ্চশিক্ষাই ছিল সমাজের চোখে ‘দুঃসাহস’। কিন্তু কাদম্বিনী থামেননি।
১৮৭৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট নারীদের প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেয়। ১৮৭৮ সালে শত শত ছাত্রের মধ্যে একমাত্র নারী হিসেবে প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসেন কাদম্বিনী। মাত্র এক নম্বরের জন্য প্রথম শ্রেণি না পেলেও দ্বিতীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে প্রথম বাঙালি নারী হিসেবে প্রবেশিকা পাসের ইতিহাস গড়েন তিনি।
তাঁর এই সাফল্য শুধু একটি পরীক্ষার ফল ছিল না, এটি ছিল নারীর উচ্চশিক্ষার দরজা খুলে দেওয়ার এক বড় ধাক্কা।
এরপর এফএ পাস করে বিএ পড়েন। ১৮৮৩ সালের জানুয়ারিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পরিসরে নারীর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ছিল বিরল ঘটনা। কাদম্বিনী গণিত নিয়ে স্নাতক হয়ে দেখিয়ে দেন, নারীর মেধার সামনে সমাজের তৈরি দেয়ালও টেকে না। কিন্তু এখানেই থামেননি তিনি।
স্নাতক হওয়ার পর চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৮৮৪ সালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়ে নারী চিকিৎসাশিক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন দরজা খুলে দেন। ১৮৮৬ সালে চিকিৎসাবিদ্যার ডিগ্রি অর্জনের পর চিকিৎসা পেশায় যুক্ত হন। নারী শিক্ষা, চিকিৎসা ও অধিকার আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি।
একদিকে সমাজের কটাক্ষ, অন্যদিকে পুরুষতান্ত্রিক বাধা, কোনোটিই কাদম্বিনীর পথ আটকাতে পারেনি। তাঁর প্রতিটি অর্জন পরবর্তী প্রজন্মের নারীদের জন্য তৈরি করেছে নতুন পথ।
বরিশালের গৌরনদীর চাঁদশীর সেই কন্যাই হয়ে উঠেছিলেন বাংলার নারী জাগরণের এক উজ্জ্বল প্রতীক।
১৯২৩ সালের ৩ অক্টোবর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন কাদম্বিনী গাঙ্গুলী। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া ইতিহাস আজও বলে, একজন নারী যখন বাধার সামনে দাঁড়িয়ে পথ তৈরি করেন, সেই পথ দিয়েই একদিন এগিয়ে যায় গোটা সমাজব্যবস্থা।
বরিশালের গৌরনদীর চাঁদশী গ্রামের এক সাধারণ ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম। সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল এমন এক নারীর পথচলা, যিনি উনিশ শতকের পুরুষতান্ত্রিক সমাজের চোখে চোখ রেখে শিক্ষা, চিকিৎসা ও নারী অধিকার আন্দোলনে তৈরি করেছিলেন ইতিহাস। তিনি কাদম্বিনী বসু, বাংলার নারী জাগরণের অন্যতম অগ্রদূত।
১৮৬১ সালের ১৮ জুলাই চাঁদশী গ্রামে ব্রজকিশোর বসুর ঘরে জন্ম কাদম্বিনীর। ডাকনাম ছিল ‘বিনি’। বাবা ছিলেন বিহারের ভাগলপুর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বাবার কাছেই শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। মাত্র ১৩ বছর বয়সে মেয়েকে নিয়ে কলকাতায় পাড়ি জমান ব্রজকিশোর।
কলকাতায় হিন্দু মহিলা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন কাদম্বিনী। বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে গেলে ভর্তি হন বঙ্গ মহিলা বিদ্যালয়ে। পরিবারের নিরাপদ গণ্ডি পেরিয়ে বোর্ডিংয়ে একা থাকা, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া—সবকিছুই ধীরে ধীরে তাঁকে করে তোলে আত্মবিশ্বাসী।
সেখানেই শিক্ষক হিসেবে পান দ্বারকানাথ গাঙ্গুলীকে। পরে সেই শিক্ষকই হন তাঁর জীবনসঙ্গী। বিয়ের পর কাদম্বিনী বসু হয়ে ওঠেন কাদম্বিনী গাঙ্গুলী।
তখন নারীর উচ্চশিক্ষাই ছিল সমাজের চোখে ‘দুঃসাহস’। কিন্তু কাদম্বিনী থামেননি।
১৮৭৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট নারীদের প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেয়। ১৮৭৮ সালে শত শত ছাত্রের মধ্যে একমাত্র নারী হিসেবে প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসেন কাদম্বিনী। মাত্র এক নম্বরের জন্য প্রথম শ্রেণি না পেলেও দ্বিতীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে প্রথম বাঙালি নারী হিসেবে প্রবেশিকা পাসের ইতিহাস গড়েন তিনি।
তাঁর এই সাফল্য শুধু একটি পরীক্ষার ফল ছিল না, এটি ছিল নারীর উচ্চশিক্ষার দরজা খুলে দেওয়ার এক বড় ধাক্কা।
এরপর এফএ পাস করে বিএ পড়েন। ১৮৮৩ সালের জানুয়ারিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পরিসরে নারীর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ছিল বিরল ঘটনা। কাদম্বিনী গণিত নিয়ে স্নাতক হয়ে দেখিয়ে দেন, নারীর মেধার সামনে সমাজের তৈরি দেয়ালও টেকে না। কিন্তু এখানেই থামেননি তিনি।
স্নাতক হওয়ার পর চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৮৮৪ সালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়ে নারী চিকিৎসাশিক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন দরজা খুলে দেন। ১৮৮৬ সালে চিকিৎসাবিদ্যার ডিগ্রি অর্জনের পর চিকিৎসা পেশায় যুক্ত হন। নারী শিক্ষা, চিকিৎসা ও অধিকার আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি।
একদিকে সমাজের কটাক্ষ, অন্যদিকে পুরুষতান্ত্রিক বাধা, কোনোটিই কাদম্বিনীর পথ আটকাতে পারেনি। তাঁর প্রতিটি অর্জন পরবর্তী প্রজন্মের নারীদের জন্য তৈরি করেছে নতুন পথ।
বরিশালের গৌরনদীর চাঁদশীর সেই কন্যাই হয়ে উঠেছিলেন বাংলার নারী জাগরণের এক উজ্জ্বল প্রতীক।
১৯২৩ সালের ৩ অক্টোবর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন কাদম্বিনী গাঙ্গুলী। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া ইতিহাস আজও বলে, একজন নারী যখন বাধার সামনে দাঁড়িয়ে পথ তৈরি করেন, সেই পথ দিয়েই একদিন এগিয়ে যায় গোটা সমাজব্যবস্থা।

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৩৭
স্ত্রী অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে গেছেন—এমন দাবি করে ভারতের হরিদ্বারে একটি মোবাইল টাওয়ারে উঠে বসেন এক যুবক। স্ত্রীকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত নিচে নামবেন না বলে জানান তিনি। তাঁকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতে নিজেই টাওয়ার থেকে নেমে আসেন ওই যুবক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার জেলার শিবালিক নগরে এ ঘটনা ঘটে। স্ত্রী অন্য একজনের সঙ্গে পালিয়ে হরিদ্বারে চলে গেছেন বলে জানতে পেরে সেখানে ছুটে যান ওই যুবক। একপর্যায়ে তিনি উঠে পড়েন এলাকার একটি মোবাইল টাওয়ারে।
বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা যুবককে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন। তবে নানা অনুরোধেও তিনি রাজি হননি। টাওয়ারের ওপর থেকে যুবক দাবি করেন, তাঁর স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে হবে। স্ত্রীকে ফিরিয়ে না দিলে তিনি নিচে নামবেন না বলেও জানান।
পরিস্থিতি সামাল দিতে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে নিরাপদে নিচে নামানোর উদ্যোগ নেয়। তবে পুলিশের প্রাথমিক চেষ্টাও সফল হয়নি। নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে স্ত্রী না আসা পর্যন্ত টাওয়ার থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান ওই যুবক।
এ অবস্থায় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাঁকে শান্ত করার পাশাপাশি নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও টাওয়ারের ওপর অবস্থান করছিলেন তিনি। পরে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নামার সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। দীর্ঘ সময় পর ওই যুবক নিজেই টাওয়ার থেকে নেমে আসেন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ‘ভূপি পাওয়ার’ নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভিডিওটি বহু মানুষের নজরে এসেছে।
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৪৫
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪৮
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪৬
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৩৭