ছবি: সংগৃহীত
গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কল্যাণ, সুচিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন একটি অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে রোববার (২৩ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে সভায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্র যেমন স্বীকৃতি দিয়েছে ও ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ গঠন করেছে। ঠিক তেমনি দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যাদের অপরিসীম ত্যাগ রয়েছে—যারা গুম হয়েছেন, নির্মমভাবে খুন বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে আর পরিবারে ফিরে আসেননি, দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, পঙ্গুত্ববরণ করেছেন কিংবা শত শত মিথ্যা মামলায় নিঃস্ব হয়ে বছরের পর বছর জেল খেটেছেন—রাষ্ট্র তাদের এই ত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে চায়।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি এভাবে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে না পারে এবং কোনো মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার হয়ে স্বজন হারাতে না হয়, সেটির স্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই এ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও অধিদপ্তর গঠনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল—মানুষ স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করবে, মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকবে, রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ বন্ধ হবে এবং প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে ২০০৯ সালের পর থেকে ভোটের অধিকার হরণ, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সেই মৌলিক ভাবমূর্তি পদদলিত করা হয়েছে।
‘তাই আমাদের ওপর একটা দায়িত্ব বর্তায় যে, এই যে বিশাল একটা সংখ্যা জনগোষ্ঠী, যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের যে আদর্শ সেটাকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে জীবন দিলেন, অত্যাচারিত হলেন, গুম হলেন, আর্থিকভাবে তারা নিঃস্ব হয়ে গেলেন, তাদের জন্য আমরা কিছু করতে পারি কি না।’ যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।
সভায় মন্ত্রণালয়ের কার্যপ্রণালি বা ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর ‘সিডিউল-১ (অ্যালোকেশন অব বিজনেস)’ সংশোধন করে এ নতুন দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত করার নীতিগত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
জাতিসংঘের ‘বেসিক প্রিন্সিপলস অ্যান্ড গাইডলাইনস অন দ্য রাইট টু আ রেমেডি অ্যান্ড রিপারেশন’ নীতিমালা এবং বাংলাদেশের সংবিধান অনুসরণ করে এই কল্যাণমূলক লক্ষ্য অর্জনে তিনটি প্রধান বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।
এর মধ্যে রয়েছে- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা; গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ভুক্তভোগী ও পরিবারের পূর্ণ অধিকার এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন ও ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’র ‘স্কেডিউল-১ (অ্যালোকেশন অব বিজনেস)’ সংশোধন করে মন্ত্রণালয়ের কার্যাবলিতে এ সংক্রান্ত দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, পররাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, আইন ও বিচার, সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্য সেবা, যুব ও ক্রীড়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। মারা গেছেন আরও আটজন, যা এ বছর একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এ নিয়ে এবার মোট ১৫৭ জনের মৃত্যু হলো।
এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৭৩৩ জন। এ নিয়ে এবার মোট ভর্তি হলেন ৫৩ হাজার ৫৭০ জন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৩৭৫ জন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, নতুন মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে ছয়জন নারী ও দুজন পুরুষ। তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ছয় থেকে ১০ বছরের মধ্যে, একজনের বয়স ১৬ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং বাকিরা প্রাপ্তবয়স্ক।
মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৫৭ জনের মধ্যে নারী ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
মাসের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জন প্রাণ হারান। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান।
সেই তুলনায় চলতি মাসে অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৬০ জনের। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ৯ জন মারা যান ৮ সেপ্টেম্বর।
ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৫১, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ১৯ ও সিটি করপোরেশনের বাইরে নয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে খুলনায় ২৭, ময়মনসিংহে ১৬, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ১৫, রাজশাহীতে ছয় এবং রংপুর ও সিলেটে একজন করে মারা গেছেন।
রোগীর মাসভিত্তিক হিসাব মতে, গত আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত এই সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৯১ জন। এর মধ্যে সোমবারের আগ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৭১ জন ভর্তি হয়েছিলেন ৮ সেপ্টেম্বর।
এর আগে জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪ ও জুনে দুই হাজার ৯০৭ জন হাসপাতালে আসেন।
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। মারা গেছেন আরও আটজন, যা এ বছর একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এ নিয়ে এবার মোট ১৫৭ জনের মৃত্যু হলো।
এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৭৩৩ জন। এ নিয়ে এবার মোট ভর্তি হলেন ৫৩ হাজার ৫৭০ জন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৩৭৫ জন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, নতুন মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে ছয়জন নারী ও দুজন পুরুষ। তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ছয় থেকে ১০ বছরের মধ্যে, একজনের বয়স ১৬ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং বাকিরা প্রাপ্তবয়স্ক।
মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৫৭ জনের মধ্যে নারী ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
মাসের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জন প্রাণ হারান। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান।
সেই তুলনায় চলতি মাসে অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৬০ জনের। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ৯ জন মারা যান ৮ সেপ্টেম্বর।
ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৫১, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ১৯ ও সিটি করপোরেশনের বাইরে নয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে খুলনায় ২৭, ময়মনসিংহে ১৬, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ১৫, রাজশাহীতে ছয় এবং রংপুর ও সিলেটে একজন করে মারা গেছেন।
রোগীর মাসভিত্তিক হিসাব মতে, গত আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত এই সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৯১ জন। এর মধ্যে সোমবারের আগ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৭১ জন ভর্তি হয়েছিলেন ৮ সেপ্টেম্বর।
এর আগে জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪ ও জুনে দুই হাজার ৯০৭ জন হাসপাতালে আসেন।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:৪৬
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় চায়ের দোকানের ৪৫ টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও পুরুষসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পরে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে ফের হাতাহাতি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের জয়ন্তীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জয়ন্তীপুর এলাকার চা বিক্রেতা শামিম হোসেনের দোকানে মুদি ব্যবসায়ী মোস্তফার ৪৫ টাকা বাকি ছিল। সন্ধ্যার দিকে ওই টাকা পরিশোধের জন্য মোস্তফার কাছে জানতে চান শামিম। এ সময় পাওনা টাকা দেওয়া-নেওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।
কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দুজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের আত্মীয়-স্বজন ও লোকজন সেখানে এসে জড়ো হন। পরে তাদের মধ্যেও বিরোধ সৃষ্টি হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে দ্রুত বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে চিকিৎসা নিতে এসে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে দুই পক্ষের লোকজন ফের বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সেখানে মারামারির ঘটনাও ঘটে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিলে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইফফাত মেহেজাবীন অনন্যা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন আহতদের নিয়ে হাসপাতালে আসতে থাকেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় চায়ের দোকানের ৪৫ টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও পুরুষসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পরে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে ফের হাতাহাতি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের জয়ন্তীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জয়ন্তীপুর এলাকার চা বিক্রেতা শামিম হোসেনের দোকানে মুদি ব্যবসায়ী মোস্তফার ৪৫ টাকা বাকি ছিল। সন্ধ্যার দিকে ওই টাকা পরিশোধের জন্য মোস্তফার কাছে জানতে চান শামিম। এ সময় পাওনা টাকা দেওয়া-নেওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।
কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দুজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের আত্মীয়-স্বজন ও লোকজন সেখানে এসে জড়ো হন। পরে তাদের মধ্যেও বিরোধ সৃষ্টি হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে দ্রুত বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে চিকিৎসা নিতে এসে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে দুই পক্ষের লোকজন ফের বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সেখানে মারামারির ঘটনাও ঘটে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিলে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইফফাত মেহেজাবীন অনন্যা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন আহতদের নিয়ে হাসপাতালে আসতে থাকেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:১২
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ‘হাজী বিরিয়ানি হাউজ’ থেকে বিরিয়ানি খেয়ে শিশুসহ ২৬ জন অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটব্যথা নিয়ে তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, গত সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ওই রেস্টুরেন্ট থেকে বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে খাওয়ার পর রাত থেকেই তারা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অসুস্থদের মধ্যে কয়েকজন শিশু রয়েছে। তাদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ও আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তবে বিরিয়ানি খেয়েই তারা অসুস্থ হয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীরা জানান, সোমবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে আলমডাঙ্গা শহরের থানা রোডে, থানার কাছাকাছি অবস্থিত ‘হাজী বিরিয়ানি হাউজ’ থেকে পৃথক সময়ে বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে নিয়ে যান তারা। রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ওই খাবার খাওয়ার পর শুরু হয় পেটব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অসুস্থদের মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের জোড়গাছা গ্রামের ফারুক হোসেনের স্ত্রী মরিয়ম খাতুন (২৭) এবং তাদের দুই সন্তান তাওহিদ (২) ও তাওসিফ (৮) রয়েছেন। একই উপজেলার জেহালা ইউনিয়নের রোয়াকুলি গ্রামের জিনারুল ইসলাম (৪৬), তার স্ত্রী পান্না খাতুন (৪২) ও ছেলে সাহেদ (১৩) অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের জাহিদ হোসেনের স্ত্রী (৩৫), তার মেয়ে জান্নাতুল শ্রাবণী (১৫) এবং তাদের আত্মীয় জিহাদ আলীর স্ত্রী সুবর্ণা খাতুন (২১) রয়েছেন ভুক্তভোগীদের তালিকায়।
এ ছাড়া আলমডাঙ্গার নাগদাহ ইউনিয়নের চিলাভালকী গ্রামের মাঝেরপাড়ার লিখনের স্ত্রী সোনিয়া খাতুন (২২), একই এলাকার দেলোয়ারের স্ত্রী সাবিনা খাতুন (৩২) ও তার দুই ছেলে জনি (১১) ও রনি (১৫), চিৎলা ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামের ইউনুচ আলীর স্ত্রী শিরিনা খাতুন (৪০), লিখনের মেয়ে নুসরাত জাহান (১৬), ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের গৌরীহ্রদ গ্রামের আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী পারুলা বেগম (৪২), খাসকররা গ্রামের আলী আজগরের স্ত্রী পরিছন নেছা (৪৫), জাহিদুল ইসলামের দুই ছেলে জিহান (৫) ও জায়ান (১৩ মাস) এবং আসাদুল হকের মেয়ে আইভি খাতুন (২৩) অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর বাইরে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও ছয়জন ভর্তি রয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন বলেন, অফিস শেষে হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে বিরিয়ানি কিনে বাসায় নিয়ে যান তিনি। রাতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সেই বিরিয়ানি খাওয়ার পর রাত ১২টার দিকে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুরু হয় বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়া। পরদিন সকালে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি বলেন, বাড়িতে ভাত রান্না করার মতোও এখন কেউ নেই। যারা ওই বিরিয়ানি খেয়েছেন, তারাই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। তাই খাবারে কোনো সমস্যা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
জাহিদ হোসেন বলেন, আলমডাঙ্গায় ঘুরতে গিয়ে ফেরার সময় হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে দুই প্যাকেট বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে যান। পরিবারের তিনজন মিলে বিরিয়ানি খাওয়ার পর সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা এক শিশুর মা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সোমবার রাতে হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে আনা বিরিয়ানি খাওয়ার পরদিন সকাল থেকেই তার ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর তীব্র পেটব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া শুরু হয়। পরে তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে অনেক রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরিয়ানি খাওয়ার পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে সবাই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে একই প্রতিষ্ঠানের খাবার খাওয়ার পর একাধিক পরিবারের সদস্যের একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় খাবারের মান, প্রস্তুতপ্রণালি, সংরক্ষণব্যবস্থা, রান্নার পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে শিশু ও নারীসহ একই পরিবারের একাধিক সদস্য অসুস্থ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় রেস্টুরেন্টটির ব্যবসা পরিচালনার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির একটি ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে। তবে খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সনদ, অগ্নিনিরাপত্তা বা অন্যান্য প্রযোজ্য অনুমোদনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে আলমডাঙ্গা শহরের ব্যস্ত এলাকায় প্রতিষ্ঠানটি এভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে হাজী বিরিয়ানি হাউজের মালিক মিজানুর রহমান বলেন, কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা তিনিও বুঝতে পারছেন না। কেউ ইচ্ছা করে এত মানুষকে খারাপ খাবার খাওয়াবে কি না, সেটিও প্রশ্ন। ব্যবসার অনুমোদনের বিষয়ে তিনি বলেন, ট্রেড লাইসেন্স করা হয়েছে। অন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দ্রুত করা হবে।
চুয়াডাঙ্গা নিরাপদ খাদ্য অফিসার রিয়াজ মাহমুদ বলেন, খাদ্যে পয়জনিংয়ের কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে ওই দিনের খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। নমুনা পাওয়া গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ জানা যেত। তারপরও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ. এস. এম. শাহনেওয়াজ মেহেদী বলেন, বিষয়টি জানার পর মঙ্গলবার বিকেলে হাজী বিরিয়ানি হাউজে অভিযান চালানো হয়। সেখানে খাবারের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন দ্রুত নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ‘হাজী বিরিয়ানি হাউজ’ থেকে বিরিয়ানি খেয়ে শিশুসহ ২৬ জন অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটব্যথা নিয়ে তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, গত সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ওই রেস্টুরেন্ট থেকে বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে খাওয়ার পর রাত থেকেই তারা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অসুস্থদের মধ্যে কয়েকজন শিশু রয়েছে। তাদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ও আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তবে বিরিয়ানি খেয়েই তারা অসুস্থ হয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীরা জানান, সোমবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে আলমডাঙ্গা শহরের থানা রোডে, থানার কাছাকাছি অবস্থিত ‘হাজী বিরিয়ানি হাউজ’ থেকে পৃথক সময়ে বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে নিয়ে যান তারা। রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ওই খাবার খাওয়ার পর শুরু হয় পেটব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অসুস্থদের মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের জোড়গাছা গ্রামের ফারুক হোসেনের স্ত্রী মরিয়ম খাতুন (২৭) এবং তাদের দুই সন্তান তাওহিদ (২) ও তাওসিফ (৮) রয়েছেন। একই উপজেলার জেহালা ইউনিয়নের রোয়াকুলি গ্রামের জিনারুল ইসলাম (৪৬), তার স্ত্রী পান্না খাতুন (৪২) ও ছেলে সাহেদ (১৩) অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের জাহিদ হোসেনের স্ত্রী (৩৫), তার মেয়ে জান্নাতুল শ্রাবণী (১৫) এবং তাদের আত্মীয় জিহাদ আলীর স্ত্রী সুবর্ণা খাতুন (২১) রয়েছেন ভুক্তভোগীদের তালিকায়।
এ ছাড়া আলমডাঙ্গার নাগদাহ ইউনিয়নের চিলাভালকী গ্রামের মাঝেরপাড়ার লিখনের স্ত্রী সোনিয়া খাতুন (২২), একই এলাকার দেলোয়ারের স্ত্রী সাবিনা খাতুন (৩২) ও তার দুই ছেলে জনি (১১) ও রনি (১৫), চিৎলা ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামের ইউনুচ আলীর স্ত্রী শিরিনা খাতুন (৪০), লিখনের মেয়ে নুসরাত জাহান (১৬), ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের গৌরীহ্রদ গ্রামের আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী পারুলা বেগম (৪২), খাসকররা গ্রামের আলী আজগরের স্ত্রী পরিছন নেছা (৪৫), জাহিদুল ইসলামের দুই ছেলে জিহান (৫) ও জায়ান (১৩ মাস) এবং আসাদুল হকের মেয়ে আইভি খাতুন (২৩) অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর বাইরে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও ছয়জন ভর্তি রয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন বলেন, অফিস শেষে হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে বিরিয়ানি কিনে বাসায় নিয়ে যান তিনি। রাতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সেই বিরিয়ানি খাওয়ার পর রাত ১২টার দিকে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুরু হয় বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়া। পরদিন সকালে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি বলেন, বাড়িতে ভাত রান্না করার মতোও এখন কেউ নেই। যারা ওই বিরিয়ানি খেয়েছেন, তারাই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। তাই খাবারে কোনো সমস্যা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
জাহিদ হোসেন বলেন, আলমডাঙ্গায় ঘুরতে গিয়ে ফেরার সময় হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে দুই প্যাকেট বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে যান। পরিবারের তিনজন মিলে বিরিয়ানি খাওয়ার পর সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা এক শিশুর মা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সোমবার রাতে হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে আনা বিরিয়ানি খাওয়ার পরদিন সকাল থেকেই তার ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর তীব্র পেটব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া শুরু হয়। পরে তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে অনেক রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরিয়ানি খাওয়ার পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে সবাই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে একই প্রতিষ্ঠানের খাবার খাওয়ার পর একাধিক পরিবারের সদস্যের একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় খাবারের মান, প্রস্তুতপ্রণালি, সংরক্ষণব্যবস্থা, রান্নার পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে শিশু ও নারীসহ একই পরিবারের একাধিক সদস্য অসুস্থ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় রেস্টুরেন্টটির ব্যবসা পরিচালনার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির একটি ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে। তবে খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সনদ, অগ্নিনিরাপত্তা বা অন্যান্য প্রযোজ্য অনুমোদনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে আলমডাঙ্গা শহরের ব্যস্ত এলাকায় প্রতিষ্ঠানটি এভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে হাজী বিরিয়ানি হাউজের মালিক মিজানুর রহমান বলেন, কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা তিনিও বুঝতে পারছেন না। কেউ ইচ্ছা করে এত মানুষকে খারাপ খাবার খাওয়াবে কি না, সেটিও প্রশ্ন। ব্যবসার অনুমোদনের বিষয়ে তিনি বলেন, ট্রেড লাইসেন্স করা হয়েছে। অন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দ্রুত করা হবে।
চুয়াডাঙ্গা নিরাপদ খাদ্য অফিসার রিয়াজ মাহমুদ বলেন, খাদ্যে পয়জনিংয়ের কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে ওই দিনের খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। নমুনা পাওয়া গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ জানা যেত। তারপরও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ. এস. এম. শাহনেওয়াজ মেহেদী বলেন, বিষয়টি জানার পর মঙ্গলবার বিকেলে হাজী বিরিয়ানি হাউজে অভিযান চালানো হয়। সেখানে খাবারের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন দ্রুত নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০০
গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কল্যাণ, সুচিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন একটি অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে রোববার (২৩ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে সভায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্র যেমন স্বীকৃতি দিয়েছে ও ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ গঠন করেছে। ঠিক তেমনি দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যাদের অপরিসীম ত্যাগ রয়েছে—যারা গুম হয়েছেন, নির্মমভাবে খুন বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে আর পরিবারে ফিরে আসেননি, দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, পঙ্গুত্ববরণ করেছেন কিংবা শত শত মিথ্যা মামলায় নিঃস্ব হয়ে বছরের পর বছর জেল খেটেছেন—রাষ্ট্র তাদের এই ত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে চায়।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি এভাবে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে না পারে এবং কোনো মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার হয়ে স্বজন হারাতে না হয়, সেটির স্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই এ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও অধিদপ্তর গঠনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল—মানুষ স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করবে, মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকবে, রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ বন্ধ হবে এবং প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে ২০০৯ সালের পর থেকে ভোটের অধিকার হরণ, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সেই মৌলিক ভাবমূর্তি পদদলিত করা হয়েছে।
‘তাই আমাদের ওপর একটা দায়িত্ব বর্তায় যে, এই যে বিশাল একটা সংখ্যা জনগোষ্ঠী, যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের যে আদর্শ সেটাকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে জীবন দিলেন, অত্যাচারিত হলেন, গুম হলেন, আর্থিকভাবে তারা নিঃস্ব হয়ে গেলেন, তাদের জন্য আমরা কিছু করতে পারি কি না।’ যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।
সভায় মন্ত্রণালয়ের কার্যপ্রণালি বা ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর ‘সিডিউল-১ (অ্যালোকেশন অব বিজনেস)’ সংশোধন করে এ নতুন দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত করার নীতিগত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
জাতিসংঘের ‘বেসিক প্রিন্সিপলস অ্যান্ড গাইডলাইনস অন দ্য রাইট টু আ রেমেডি অ্যান্ড রিপারেশন’ নীতিমালা এবং বাংলাদেশের সংবিধান অনুসরণ করে এই কল্যাণমূলক লক্ষ্য অর্জনে তিনটি প্রধান বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।
এর মধ্যে রয়েছে- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা; গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ভুক্তভোগী ও পরিবারের পূর্ণ অধিকার এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন ও ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’র ‘স্কেডিউল-১ (অ্যালোকেশন অব বিজনেস)’ সংশোধন করে মন্ত্রণালয়ের কার্যাবলিতে এ সংক্রান্ত দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, পররাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, আইন ও বিচার, সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্য সেবা, যুব ও ক্রীড়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৩৩
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪০
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৩৩
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:২৪