বরিশালের ৩টি নির্বাচনি এলাকায় শক্ত অবস্থানের জানান দিচ্ছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বিএনপি ও জাতীয় পার্টি থেকে আসা সাবেক দুই সংসদ-সদস্যকে সামনে রেখে তাদের এই অবস্থান। তাদের সঙ্গে আছেন দলের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া), বরিশাল-৫ (সদর) ও পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তারা। বিভাগের ২১ নির্বাচনি এলাকার সবকটিতে প্রার্থী দিলেও এ ৩টি আসনে বিএনপির সামনে বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়াবে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া): একটিমাত্র উপজেলা মঠবাড়িয়া নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনি এলাকায় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সাবেক সংসদ-সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী। বিএনপি-জাতীয় পার্টি ঘুরে চলতি বছরের আগস্টে ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন চারবারের সাবেক এই সংসদ-সদস্য। যে কোনো মূল্যে সংসদ-সদস্য হওয়ার টার্গেটে ফরাজীর এই দলবদল অবশ্য নতুন নয়। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রথমবার সংসদ-সদস্য হন জাতীয় পার্টির টিকিটে। সেবার ভোট পান ২৯ হাজার ৮৩৭। পরেরবার ২০০১-এর নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ছেড়ে যোগ দেন বিএনপিতে। ৬৪ হাজার ৯৫৮ ভোট পেয়ে আবার নির্বাচিত হন। ২০০৮-এ তাকে আর মনোনয়ন দেয়নি বিএনপি। সেবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে হেরে যান। ২০১৪ সালে পুনরায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ২৯ হাজার ৩৪২ ভোট পেয়ে যান সংসদে। ২০১৮-এর নির্বাচনে আবার জাতীয় পার্টিতে ফেরেন ফরাজী। লাঙ্গল প্রতীকে ভোট করে নির্বাচিত হন সংসদ-সদস্য। এরপর নামেন আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার চেষ্টায়। জাতীয় পার্টির সংসদ-সদস্য হয়েও সংসদে শেখ হাসিনার প্রশংসা করে বক্তব্য দিতে থাকেন। অবশ্য তাকে দলে নেয়নি আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টিও দেয় মাইনাস করে। ফলে ২০২৪-এর নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করলেও হেরে যান ফরাজী। এবার তিনি হয়েছেন হাতপাখার প্রার্থী। সকাল-বিকাল পোশাক পালটানোর মতো দল বদলালেও মঠবাড়িয়ায় রুস্তম আলী ফরাজীর রয়েছে ব্যক্তিগত ভোটব্যাংক। বহু বছর বিনা পয়সায় চিকিৎসা দিয়ে দরিদ্র একটি শ্রেণির কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি।
বরিশাল-৫ (সদর): বিএনপির ভোটের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের হয়ে ভোটে লড়বেন দলটির নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম। এই আসনে সিটি ও জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী দিয়ে বেশ কয়েকবার নিজেদের অবস্থানের জানান দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই খোকন সেরনিয়াবাতের বিরুদ্ধে ভোটে লড়েন ফয়জুল। ভোট জালিয়াতির সেই নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের কর্মী-সমর্থকদের যেমন রাখা হয় হামলা-মামলার মুখে, তেমনই বর্জনের ঘোষণা দিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাননি বিএনপি-জামায়াতের ভোটাররা। ভোটের দিন আওয়ামী লীগের হামলায় গুরুতর আহত পর্যন্ত হন মেয়রপ্রার্থী ফয়জুল। এতকিছুর পরও ওই নির্বাচনে ৩৩ হাজারের বেশি ভোট পান তিনি। এছাড়া ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৮’র জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে প্রতিবার গড়ে ৩০ হাজারের বেশি ভোট পায় হাতপাখা। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ ৮ ইসলামী দলের ঐক্য যদি শেষ পর্যন্ত থাকে আর সবাই মিলে ফয়জুল করিমকে একক প্রার্থী দিলে এই আসনেও জিতেও আসতে পারেন ফয়জুল করীম।
পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী): কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমানের রয়েছে এই নির্বাচনি এলাকায় বেশ শক্ত অবস্থান। ১৯৯৬-এর নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ-সদস্য নির্বাচন করেছিলেন তিনি। বিএনপি ছেড়ে হাতপাখায় যাওয়া এই নেতার সবচেয়ে বড় অর্জন ২০০১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ৩৮ হাজার ৯৮ ভোট পাওয়া। ষড়যন্ত্রসহ নানা কারণে দলীয় রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে চলতি বছর বিএনপি ছেড়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগ দেন মুস্তাফিজুর। এর পরপরই তাকে এই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে দলটি। এখানে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন। নির্বাচনি এলাকার দুই উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, বিএনপির পাশাপাশি বেশ শক্ত অবস্থান ইসলামী আন্দোলনের এই প্রার্থীর। পেশায় চিকিৎসক মুস্তাফিজ গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিনা পয়সায় চিকিৎসা দিয়ে সমর্থন পাচ্ছেন বহু সাধারণ মানুষের। তাছাড়া মোশাররফের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরাও ভেতরে ভেতরে তার সঙ্গে রাখছেন যোগাযোগ। কেবল বিএনপি নয়, দুই উপজেলায় থাকা আওয়ামী লীগের ভোটাররাও ঝুঁকছেন মুস্তাফিজের দিকে।

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৫১
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মাদকসহ গ্রেপ্তার উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এ্যাসেন্ট রায়কে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে জেলা ছাত্রদল। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বরিশাল জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. তৌফিকুল ইসলাম ইমরান ও সদস্য সচিব মো. আল আমিন মৃধার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে এ্যাসেন্ট রায়ের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের একটি দল জোবারপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এ্যাসেন্ট রায়কে ৫টি ইয়াবা বড়িসহ আটক করা হয়।
এ ঘটনায় পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরদিন সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মাদকসহ গ্রেপ্তার উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এ্যাসেন্ট রায়কে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে জেলা ছাত্রদল। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বরিশাল জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. তৌফিকুল ইসলাম ইমরান ও সদস্য সচিব মো. আল আমিন মৃধার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে এ্যাসেন্ট রায়ের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের একটি দল জোবারপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এ্যাসেন্ট রায়কে ৫টি ইয়াবা বড়িসহ আটক করা হয়।
এ ঘটনায় পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরদিন সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২১
বরিশালের মুলাদীতে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত যুবলীগের তিন নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বরিশাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তারা। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো তিনজন হলেন—মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আলামিন শিকদার, জাকির হাওলাদার ও আরিফ হাওলাদার।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ নাজিরপুর ইউনিয়নের একটি স্থানে কেক কেটে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উদযাপন করেন নিষিদ্ধঘোষিত যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনায় ওই রাতেই মুলাদী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, ১৭ মার্চ কেক কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করে। মামলার অধিকাংশ আসামিই বর্তমানে পলাতক। মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করা আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বরিশালের মুলাদীতে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত যুবলীগের তিন নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বরিশাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তারা। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো তিনজন হলেন—মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আলামিন শিকদার, জাকির হাওলাদার ও আরিফ হাওলাদার।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ নাজিরপুর ইউনিয়নের একটি স্থানে কেক কেটে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উদযাপন করেন নিষিদ্ধঘোষিত যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনায় ওই রাতেই মুলাদী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, ১৭ মার্চ কেক কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করে। মামলার অধিকাংশ আসামিই বর্তমানে পলাতক। মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করা আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:২৪
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবিরের তদন্ত সংস্থায় দেওয়া জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জবানবন্দিটি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের আবেদন করা হলে তা মঞ্জুর করা হয়। একই দিনে মামলায় ২৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণও সম্পন্ন হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা জবানবন্দিতে সাবেক ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবির দাবি করেন, তৎকালীন বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক নির্দেশ ও প্রভাবের কারণে তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ আগৈলঝাড়ায় দুই বিএনপি নেতাকে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার ঘটনায় জড়িত হন।
জবানবন্দির বরাত দিয়ে মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়ায় ফলবাহী একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়। ওই মামলায় এসপি এহসানউল্লাহর তদারকিতে ঢাকা ও কেরানীগঞ্জ থেকে আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং উপজেলা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে আগৈলঝাড়া এলাকায় গুলি করে তাঁদের হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগ।
সাবেক ডিআইজি হুমায়ুন কবিরের জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার পর তিনি আগৈলঝাড়া থানার তৎকালীন ওসি মনিরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওসি তাকে জানান, এসপি এহসানউল্লাহ গ্রেপ্তার দুই আসামিকে ‘ক্রসফায়ার’ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ সদস্যরা এতে রাজি না হওয়ায় উজিরপুর থানা থেকে পুলিশ সদস্য এনে হত্যাকাণ্ডটি কার্যকর করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, ঘটনার পর এসপি নিজে থানায় গিয়ে জিডিতে এ বিষয়ে নোট দেওয়ার নির্দেশ দেন।
হুমায়ুন কবির আরও দাবি করেন, এহসানউল্লাহর ওই ভূমিকার কারণে ২০১৫ সালে তাঁর বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে (এসিআর) বিরূপ মন্তব্য লিখে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়েছিলেন তিনি। পরে এহসানউল্লাহকে বরিশাল থেকে মাগুরায় বদলি করা হয়।
তবে মামলার নথিতে সাবেক ডিআইজির জবানবন্দির বরাতে আরও দাবি করা হয়েছে, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হওয়ায় বিরূপ মন্তব্য থাকা সত্ত্বেও এহসানউল্লাহ পরবর্তীতে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান এবং পুনরায় বরিশাল রেঞ্জে পদায়ন পান।
এ মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন এসপি এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিনকে।
আসামিদের মধ্যে হাসানাত আবদুল্লাহ ও এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। মঙ্গলবার তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গৌরনদী–গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে অধস্তন পুলিশ সদস্যদের দিয়ে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবিরের তদন্ত সংস্থায় দেওয়া জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জবানবন্দিটি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের আবেদন করা হলে তা মঞ্জুর করা হয়। একই দিনে মামলায় ২৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণও সম্পন্ন হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা জবানবন্দিতে সাবেক ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবির দাবি করেন, তৎকালীন বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক নির্দেশ ও প্রভাবের কারণে তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ আগৈলঝাড়ায় দুই বিএনপি নেতাকে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার ঘটনায় জড়িত হন।
জবানবন্দির বরাত দিয়ে মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়ায় ফলবাহী একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়। ওই মামলায় এসপি এহসানউল্লাহর তদারকিতে ঢাকা ও কেরানীগঞ্জ থেকে আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং উপজেলা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে আগৈলঝাড়া এলাকায় গুলি করে তাঁদের হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগ।
সাবেক ডিআইজি হুমায়ুন কবিরের জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার পর তিনি আগৈলঝাড়া থানার তৎকালীন ওসি মনিরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওসি তাকে জানান, এসপি এহসানউল্লাহ গ্রেপ্তার দুই আসামিকে ‘ক্রসফায়ার’ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ সদস্যরা এতে রাজি না হওয়ায় উজিরপুর থানা থেকে পুলিশ সদস্য এনে হত্যাকাণ্ডটি কার্যকর করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, ঘটনার পর এসপি নিজে থানায় গিয়ে জিডিতে এ বিষয়ে নোট দেওয়ার নির্দেশ দেন।
হুমায়ুন কবির আরও দাবি করেন, এহসানউল্লাহর ওই ভূমিকার কারণে ২০১৫ সালে তাঁর বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে (এসিআর) বিরূপ মন্তব্য লিখে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়েছিলেন তিনি। পরে এহসানউল্লাহকে বরিশাল থেকে মাগুরায় বদলি করা হয়।
তবে মামলার নথিতে সাবেক ডিআইজির জবানবন্দির বরাতে আরও দাবি করা হয়েছে, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হওয়ায় বিরূপ মন্তব্য থাকা সত্ত্বেও এহসানউল্লাহ পরবর্তীতে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান এবং পুনরায় বরিশাল রেঞ্জে পদায়ন পান।
এ মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন এসপি এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিনকে।
আসামিদের মধ্যে হাসানাত আবদুল্লাহ ও এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। মঙ্গলবার তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গৌরনদী–গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে অধস্তন পুলিশ সদস্যদের দিয়ে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়।

১৩ নভেম্বর, ২০২৫ ১৩:২২
বরিশালের ৩টি নির্বাচনি এলাকায় শক্ত অবস্থানের জানান দিচ্ছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বিএনপি ও জাতীয় পার্টি থেকে আসা সাবেক দুই সংসদ-সদস্যকে সামনে রেখে তাদের এই অবস্থান। তাদের সঙ্গে আছেন দলের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া), বরিশাল-৫ (সদর) ও পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তারা। বিভাগের ২১ নির্বাচনি এলাকার সবকটিতে প্রার্থী দিলেও এ ৩টি আসনে বিএনপির সামনে বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়াবে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া): একটিমাত্র উপজেলা মঠবাড়িয়া নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনি এলাকায় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সাবেক সংসদ-সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী। বিএনপি-জাতীয় পার্টি ঘুরে চলতি বছরের আগস্টে ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন চারবারের সাবেক এই সংসদ-সদস্য। যে কোনো মূল্যে সংসদ-সদস্য হওয়ার টার্গেটে ফরাজীর এই দলবদল অবশ্য নতুন নয়। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রথমবার সংসদ-সদস্য হন জাতীয় পার্টির টিকিটে। সেবার ভোট পান ২৯ হাজার ৮৩৭। পরেরবার ২০০১-এর নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ছেড়ে যোগ দেন বিএনপিতে। ৬৪ হাজার ৯৫৮ ভোট পেয়ে আবার নির্বাচিত হন। ২০০৮-এ তাকে আর মনোনয়ন দেয়নি বিএনপি। সেবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে হেরে যান। ২০১৪ সালে পুনরায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ২৯ হাজার ৩৪২ ভোট পেয়ে যান সংসদে। ২০১৮-এর নির্বাচনে আবার জাতীয় পার্টিতে ফেরেন ফরাজী। লাঙ্গল প্রতীকে ভোট করে নির্বাচিত হন সংসদ-সদস্য। এরপর নামেন আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার চেষ্টায়। জাতীয় পার্টির সংসদ-সদস্য হয়েও সংসদে শেখ হাসিনার প্রশংসা করে বক্তব্য দিতে থাকেন। অবশ্য তাকে দলে নেয়নি আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টিও দেয় মাইনাস করে। ফলে ২০২৪-এর নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করলেও হেরে যান ফরাজী। এবার তিনি হয়েছেন হাতপাখার প্রার্থী। সকাল-বিকাল পোশাক পালটানোর মতো দল বদলালেও মঠবাড়িয়ায় রুস্তম আলী ফরাজীর রয়েছে ব্যক্তিগত ভোটব্যাংক। বহু বছর বিনা পয়সায় চিকিৎসা দিয়ে দরিদ্র একটি শ্রেণির কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি।
বরিশাল-৫ (সদর): বিএনপির ভোটের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের হয়ে ভোটে লড়বেন দলটির নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম। এই আসনে সিটি ও জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী দিয়ে বেশ কয়েকবার নিজেদের অবস্থানের জানান দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই খোকন সেরনিয়াবাতের বিরুদ্ধে ভোটে লড়েন ফয়জুল। ভোট জালিয়াতির সেই নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের কর্মী-সমর্থকদের যেমন রাখা হয় হামলা-মামলার মুখে, তেমনই বর্জনের ঘোষণা দিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাননি বিএনপি-জামায়াতের ভোটাররা। ভোটের দিন আওয়ামী লীগের হামলায় গুরুতর আহত পর্যন্ত হন মেয়রপ্রার্থী ফয়জুল। এতকিছুর পরও ওই নির্বাচনে ৩৩ হাজারের বেশি ভোট পান তিনি। এছাড়া ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৮’র জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে প্রতিবার গড়ে ৩০ হাজারের বেশি ভোট পায় হাতপাখা। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ ৮ ইসলামী দলের ঐক্য যদি শেষ পর্যন্ত থাকে আর সবাই মিলে ফয়জুল করিমকে একক প্রার্থী দিলে এই আসনেও জিতেও আসতে পারেন ফয়জুল করীম।
পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী): কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমানের রয়েছে এই নির্বাচনি এলাকায় বেশ শক্ত অবস্থান। ১৯৯৬-এর নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ-সদস্য নির্বাচন করেছিলেন তিনি। বিএনপি ছেড়ে হাতপাখায় যাওয়া এই নেতার সবচেয়ে বড় অর্জন ২০০১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ৩৮ হাজার ৯৮ ভোট পাওয়া। ষড়যন্ত্রসহ নানা কারণে দলীয় রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে চলতি বছর বিএনপি ছেড়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগ দেন মুস্তাফিজুর। এর পরপরই তাকে এই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে দলটি। এখানে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন। নির্বাচনি এলাকার দুই উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, বিএনপির পাশাপাশি বেশ শক্ত অবস্থান ইসলামী আন্দোলনের এই প্রার্থীর। পেশায় চিকিৎসক মুস্তাফিজ গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিনা পয়সায় চিকিৎসা দিয়ে সমর্থন পাচ্ছেন বহু সাধারণ মানুষের। তাছাড়া মোশাররফের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরাও ভেতরে ভেতরে তার সঙ্গে রাখছেন যোগাযোগ। কেবল বিএনপি নয়, দুই উপজেলায় থাকা আওয়ামী লীগের ভোটাররাও ঝুঁকছেন মুস্তাফিজের দিকে।
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৩১
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:৫২
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:২৫
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৮