মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল হক চৌধুরী। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া সকল মামলা প্রত্যাহার করার কথাও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে রংপুর-২ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য আনিছুল ইসলাম মণ্ডলের নির্বাচনী জনসভায় এ বক্তব্য দেন মোকাম্মেল হক চৌধুরী। সেখানে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য প্রার্থীসহ বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জনসভায় মোকাম্মেল হক বলেন, ‘আমাদের নেতা জি এম কাদের বুক ফুলিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলেছেন। জাতীয় পার্টিই একমাত্র দল, যারা সত্য কথা বলেছে। ক্ষমতায় যেতে পারলে আওয়ামী লীগের সকল মামলা আমরা প্রত্যাহার করে দেব। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সসম্মানে ফিরিয়ে আনব।’
তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন, ভয় পাইয়েন না। সকাল আটটার মধ্যে নির্বাচনের মাঠে থাকবেন, ভোট দিয়ে বাড়িতে যাবেন। লাঙ্গল মার্কা জয়যুক্ত হবে, আনিছুল ইসলাম মন্ডল ভাই জয়যুক্ত হবে। মিছিল নিয়ে আমরা বের হব। কোন শক্তি আপনাদের ক্ষতি করে সেটাই আমরা দেখব।’
জাপা নেতা বলেন, ‘আজকে বড় দুঃখ লাগে, ভোট হচ্ছে। ভোটের মাঠে আমরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছি। অথচ স্বাধীনতার পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়া দলটিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সমর্থনের ভাইয়েরা ঘরে বসে থাইকেন না। তাহলে আপনাদেরই বেশি ক্ষতি হবে। ওই স্বাধীনতাবিরোধীরা যদি কোনোদিন ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে, তখন সবচেয়ে বড় ক্ষতি করবে আওয়ামী লীগের।’
একমাত্র জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের পক্ষে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যারা আওয়ামী লীগের পক্ষে আছি, তারা জেল-জুলুমকে ভয় করি না। আমরা বলতে চাই, নিরীহ আওয়ামী লীগের নেতাদের ওপর কোনো অত্যাচার-নির্যাতন হতে দেব না।’
এ বিষয়ে জানতে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল হক চৌধুরীর ফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে এই ঘটনায় উপজেলা জাতীয় পার্টি নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মো. মোস্তাকুর রহমান একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, মোকাম্মেল চৌধুরীর বক্তব্যে শেখ হাসিনা সংক্রান্ত যে কথা বলেছেন সেটা ভুলবশত হয়েছে এবং সেটি তার ব্যক্তিগত মতামত।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ইয়াসির কালবেলাকে বলেন, 'শেখ হাসিনাকে কেন আমরা ফিরিয়ে আনবো? এ ধরনের কথা আমরা বলিনা। আমরা ওই নেতাকে শোকজ করব।'
এদিকে জাপা নেতার দেওয়া এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী অন্যান্য রাজনৈতিক দল।
বদরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. কামরুজ্জামান কবির বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে তাদের দোসর জাতীয় পার্টি কাজ করছে। খুনি হাসিনাকে যারা ফিরিয়ে আনতে চায় তাদেরকে জনগণ দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে।’
উল্লেখ্য, মোকাম্মেল হক চৌধুরীর চাচাতো ভাই আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ডিউক চৌধুরী এবং আওয়ামী সরকারের সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী আনিছুল হক চৌধুরী তার চাচা।

০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০১
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে অবৈধভাবে ইউরিয়া সার মজুদের দায়ে মনিরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক সার ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তিনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছোট ধোপাকান্দি গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মনিরুল ইসলামের বাড়ি থেকে ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়।
মনিরুল ইসলাম ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। স্থানীয়দের কাছ থেকে অবৈধভাবে সার মজুদের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, মনিরুল ইসলাম তার গুদাম থেকে বাড়িতে নিয়ে সার মজুদ করছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সার ব্যবস্থাপনা আইনে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসাইন ও কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে অবৈধভাবে ইউরিয়া সার মজুদের দায়ে মনিরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক সার ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তিনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছোট ধোপাকান্দি গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মনিরুল ইসলামের বাড়ি থেকে ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়।
মনিরুল ইসলাম ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। স্থানীয়দের কাছ থেকে অবৈধভাবে সার মজুদের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, মনিরুল ইসলাম তার গুদাম থেকে বাড়িতে নিয়ে সার মজুদ করছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সার ব্যবস্থাপনা আইনে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসাইন ও কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৮
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. নাজমুল ঠাকুরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রাতুল নাহিদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাজমুল ঠাকুরের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারের পরামর্শে এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবিরের নির্দেশক্রমে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবির বলেন, নাজমুল ঠাকুরের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দলের নজরে আসে। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে নাজমুল ঠাকুরের ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি ভিডিওটিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে বলেছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নন। বিষয়টি যাচাই করতে ভিডিওটি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. নাজমুল ঠাকুরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রাতুল নাহিদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাজমুল ঠাকুরের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারের পরামর্শে এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবিরের নির্দেশক্রমে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবির বলেন, নাজমুল ঠাকুরের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দলের নজরে আসে। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে নাজমুল ঠাকুরের ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি ভিডিওটিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে বলেছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নন। বিষয়টি যাচাই করতে ভিডিওটি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০২
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ও আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কৃতদের তালিকা প্রকাশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন—গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।
এ ছাড়া স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, হাফিজুর রহমান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহবুবার রহমান ওরফে বাবু, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া, এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন এবং প্রক্টর দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।
তার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ও আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কৃতদের তালিকা প্রকাশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন—গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।
এ ছাড়া স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, হাফিজুর রহমান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহবুবার রহমান ওরফে বাবু, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া, এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন এবং প্রক্টর দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।
তার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়।

০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৩৮
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল হক চৌধুরী। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া সকল মামলা প্রত্যাহার করার কথাও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে রংপুর-২ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য আনিছুল ইসলাম মণ্ডলের নির্বাচনী জনসভায় এ বক্তব্য দেন মোকাম্মেল হক চৌধুরী। সেখানে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য প্রার্থীসহ বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জনসভায় মোকাম্মেল হক বলেন, ‘আমাদের নেতা জি এম কাদের বুক ফুলিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলেছেন। জাতীয় পার্টিই একমাত্র দল, যারা সত্য কথা বলেছে। ক্ষমতায় যেতে পারলে আওয়ামী লীগের সকল মামলা আমরা প্রত্যাহার করে দেব। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সসম্মানে ফিরিয়ে আনব।’
তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন, ভয় পাইয়েন না। সকাল আটটার মধ্যে নির্বাচনের মাঠে থাকবেন, ভোট দিয়ে বাড়িতে যাবেন। লাঙ্গল মার্কা জয়যুক্ত হবে, আনিছুল ইসলাম মন্ডল ভাই জয়যুক্ত হবে। মিছিল নিয়ে আমরা বের হব। কোন শক্তি আপনাদের ক্ষতি করে সেটাই আমরা দেখব।’
জাপা নেতা বলেন, ‘আজকে বড় দুঃখ লাগে, ভোট হচ্ছে। ভোটের মাঠে আমরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছি। অথচ স্বাধীনতার পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়া দলটিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সমর্থনের ভাইয়েরা ঘরে বসে থাইকেন না। তাহলে আপনাদেরই বেশি ক্ষতি হবে। ওই স্বাধীনতাবিরোধীরা যদি কোনোদিন ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে, তখন সবচেয়ে বড় ক্ষতি করবে আওয়ামী লীগের।’
একমাত্র জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের পক্ষে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যারা আওয়ামী লীগের পক্ষে আছি, তারা জেল-জুলুমকে ভয় করি না। আমরা বলতে চাই, নিরীহ আওয়ামী লীগের নেতাদের ওপর কোনো অত্যাচার-নির্যাতন হতে দেব না।’
এ বিষয়ে জানতে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল হক চৌধুরীর ফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে এই ঘটনায় উপজেলা জাতীয় পার্টি নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মো. মোস্তাকুর রহমান একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, মোকাম্মেল চৌধুরীর বক্তব্যে শেখ হাসিনা সংক্রান্ত যে কথা বলেছেন সেটা ভুলবশত হয়েছে এবং সেটি তার ব্যক্তিগত মতামত।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ইয়াসির কালবেলাকে বলেন, 'শেখ হাসিনাকে কেন আমরা ফিরিয়ে আনবো? এ ধরনের কথা আমরা বলিনা। আমরা ওই নেতাকে শোকজ করব।'
এদিকে জাপা নেতার দেওয়া এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী অন্যান্য রাজনৈতিক দল।
বদরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. কামরুজ্জামান কবির বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে তাদের দোসর জাতীয় পার্টি কাজ করছে। খুনি হাসিনাকে যারা ফিরিয়ে আনতে চায় তাদেরকে জনগণ দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে।’
উল্লেখ্য, মোকাম্মেল হক চৌধুরীর চাচাতো ভাই আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ডিউক চৌধুরী এবং আওয়ামী সরকারের সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী আনিছুল হক চৌধুরী তার চাচা।