Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

১২ মার্চ, ২০২৬ ০১:৫৩
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে সমুদ্রবন্দরগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন ও নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত পায়রা বন্দরকে ঘিরে রাষ্ট্রের বড় প্রত্যাশা রয়েছে। এটি শুধু একটি বন্দর নয়, ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, জাতীয় এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প এখন দুর্নীতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মোবাইল হারবার ক্রেন (এমএইচসি) ক্রয়ের প্রক্রিয়ায় যে জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এসেছে, তা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
দরপত্র প্রক্রিয়া সাধারণত স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা এবং দক্ষতা নিশ্চিত করার জন্যই তৈরি করা হয়। কিন্তু পায়রা বন্দরের এই প্রকল্পে দরপত্রের কঠোর শর্ত থাকা সত্ত্বেও একটি অভিজ্ঞতাহীন কোম্পানিকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচিত চীনা কোম্পানির ক্ষেত্রে কোনো শর্ত যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। এমনকি তাদের ওয়েবসাইটেও বিশ্বজুড়ে মোবাইল হারবার ক্রেন সরবরাহের সুস্পষ্ট রেকর্ড পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। যদি এ অভিযোগ সত্য হয়, তবে এটি নিছক প্রশাসনিক ভুল নয়। বরং একটি সুপরিকল্পিত অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করে। রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে এমন দায়িত্বহীনতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, বিশ্বখ্যাত এবং অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন এই দরপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি? মোবাইল হারবার ক্রেন উৎপাদনে ইতালি, জার্মানি বা চীনের একাধিক প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক সুনাম রয়েছে। অথচ অভিযোগ রয়েছে, অখ্যাত একটি কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত রাখা হয়েছে। যদি সত্যিই এমনটি ঘটে থাকে, তবে তা প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ব্যবস্থার মৌলিক নীতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
প্রায় ৪২ কোটি টাকার এই ক্রেন যদি ভবিষ্যতে নি¤œমানের বা অকার্যকর প্রমাণিত হয়, তবে তার প্রভাব শুধু আর্থিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। একটি বন্দরের কার্যক্রম নির্ভর করে তার সরঞ্জামের দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতার ওপর। বন্দরের মূল কাজ হলোÑ দ্রুত ও নিরাপদভাবে পণ্য ওঠানামা নিশ্চিত করা। কিন্তু ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি যদি বারবার বিকল হয় বা প্রত্যাশিত সক্ষমতা না থাকে, তবে বন্দরের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এর পাশাপাশি প্রায় ১৫৮ কোটি টাকার দুটি শিপ-টু-শোর ক্রেন ক্রয় চুক্তি নিয়েও যে প্রশ্ন উঠেছে, তা বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। এত বড় অঙ্কের ক্রয়প্রক্রিয়া যদি যথাযথ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ছাড়া সম্পন্ন হয়, তবে তা রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনার ওপর বড় ধরনের আস্থাহীনতা তৈরি করে। সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, এটি প্রশাসনিক নৈতিকতাকেও দুর্বল করে দেয়।
বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু এসব প্রকল্প যদি দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে উন্নয়নের অর্জনও ম্লান হয়ে যায়। পায়রা বন্দরের মতো কৌশলগত প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ দেশের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
যারা এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, প্রভাবশালী কর্মকর্তা হোক বা অন্য কোনো পক্ষ, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার যে কঠোর অবস্থানের কথা বলে আসছে, এই ঘটনাটি সেই অবস্থানের বাস্তব পরীক্ষা। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে শুধু পায়রা বন্দর নয়, রাষ্ট্রীয় সব প্রকল্পেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি শক্তিশালী হবে।
রাষ্ট্রের অর্থ জনগণের অর্থ। সেই অর্থের অপচয় কিংবা আত্মসাতের সুযোগ কেউ পাবে না, এই বার্তা স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। পায়রা বন্দরের এই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তিই পারে জনআস্থা পুনরুদ্ধার করতে এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে।
বরিশাল টাইমস
ছবি: বরিশাল টাইমস
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে সমুদ্রবন্দরগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন ও নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত পায়রা বন্দরকে ঘিরে রাষ্ট্রের বড় প্রত্যাশা রয়েছে। এটি শুধু একটি বন্দর নয়, ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, জাতীয় এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প এখন দুর্নীতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মোবাইল হারবার ক্রেন (এমএইচসি) ক্রয়ের প্রক্রিয়ায় যে জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এসেছে, তা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
দরপত্র প্রক্রিয়া সাধারণত স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা এবং দক্ষতা নিশ্চিত করার জন্যই তৈরি করা হয়। কিন্তু পায়রা বন্দরের এই প্রকল্পে দরপত্রের কঠোর শর্ত থাকা সত্ত্বেও একটি অভিজ্ঞতাহীন কোম্পানিকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচিত চীনা কোম্পানির ক্ষেত্রে কোনো শর্ত যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। এমনকি তাদের ওয়েবসাইটেও বিশ্বজুড়ে মোবাইল হারবার ক্রেন সরবরাহের সুস্পষ্ট রেকর্ড পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। যদি এ অভিযোগ সত্য হয়, তবে এটি নিছক প্রশাসনিক ভুল নয়। বরং একটি সুপরিকল্পিত অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করে। রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে এমন দায়িত্বহীনতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, বিশ্বখ্যাত এবং অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন এই দরপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি? মোবাইল হারবার ক্রেন উৎপাদনে ইতালি, জার্মানি বা চীনের একাধিক প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক সুনাম রয়েছে। অথচ অভিযোগ রয়েছে, অখ্যাত একটি কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত রাখা হয়েছে। যদি সত্যিই এমনটি ঘটে থাকে, তবে তা প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ব্যবস্থার মৌলিক নীতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
প্রায় ৪২ কোটি টাকার এই ক্রেন যদি ভবিষ্যতে নি¤œমানের বা অকার্যকর প্রমাণিত হয়, তবে তার প্রভাব শুধু আর্থিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। একটি বন্দরের কার্যক্রম নির্ভর করে তার সরঞ্জামের দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতার ওপর। বন্দরের মূল কাজ হলোÑ দ্রুত ও নিরাপদভাবে পণ্য ওঠানামা নিশ্চিত করা। কিন্তু ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি যদি বারবার বিকল হয় বা প্রত্যাশিত সক্ষমতা না থাকে, তবে বন্দরের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এর পাশাপাশি প্রায় ১৫৮ কোটি টাকার দুটি শিপ-টু-শোর ক্রেন ক্রয় চুক্তি নিয়েও যে প্রশ্ন উঠেছে, তা বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। এত বড় অঙ্কের ক্রয়প্রক্রিয়া যদি যথাযথ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ছাড়া সম্পন্ন হয়, তবে তা রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনার ওপর বড় ধরনের আস্থাহীনতা তৈরি করে। সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, এটি প্রশাসনিক নৈতিকতাকেও দুর্বল করে দেয়।
বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু এসব প্রকল্প যদি দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে উন্নয়নের অর্জনও ম্লান হয়ে যায়। পায়রা বন্দরের মতো কৌশলগত প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ দেশের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
যারা এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, প্রভাবশালী কর্মকর্তা হোক বা অন্য কোনো পক্ষ, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার যে কঠোর অবস্থানের কথা বলে আসছে, এই ঘটনাটি সেই অবস্থানের বাস্তব পরীক্ষা। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে শুধু পায়রা বন্দর নয়, রাষ্ট্রীয় সব প্রকল্পেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি শক্তিশালী হবে।
রাষ্ট্রের অর্থ জনগণের অর্থ। সেই অর্থের অপচয় কিংবা আত্মসাতের সুযোগ কেউ পাবে না, এই বার্তা স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। পায়রা বন্দরের এই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তিই পারে জনআস্থা পুনরুদ্ধার করতে এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে।
বরিশাল টাইমস

২৫ মে, ২০২৬ ২৩:৫৭
বরিশালের হিজলায় ঝড়ে নৌকাডুবিতে বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার হিজলা ফেরিঘাট এলাকায় এক দুর্ঘটনায় তাঁরা নিখোঁজ হন। আলীগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধুলখোলা খেয়াঘাটে যাওয়ার সময় আটজন যাত্রী, জেলে কার্ডের ৫০০ কেজি চালসহ একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়।
এ সময় জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও ৩ জনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। সোমবার রাতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে হিজলা ফায়ার সার্ভিস, থানা ও নৌ পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালায়। হিজলা নৌ পুলিশের পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার ধুলখোলা গ্রামের জাফর জোমাদ্দারের ছেলে নুর ইসলাম জোমাদ্দার (৪৫), নুর ইসলাম জোমাদ্দারের ছেলে মো. ইব্রাহিম (১২) এবং হামিদ বিশ্বাসের ছেলে মো. হারুন বিশ্বাস (৪৫)।
হিজলা নৌ পুলিশ জানায়, আজ বিকেলে জেলে কার্ডের সরকারি ৫০০ কেজি চাল নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা আলীগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধুলখোলা খেয়াঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। নৌকাটিতে চালের পাশাপাশি আটজন যাত্রীও ছিল। নৌকাটি হিজলা ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে।
বাতাসের তীব্রতা ও ঢেউয়ের কারণে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে ডুবে যায়। নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পরপরই কাছাকাছি থাকা স্থানীয় জেলেরা দ্রুত এগিয়ে আসেন। তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে নদী থেকে পাঁচজন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করলেও তিনজন নিখোঁজ হয়। সংবাদ পেয়ে হিজলা থানা-পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং হিজলা ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধান শুরু করে।
হিজলা নৌ পুলিশের পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় তিনজন নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত তাঁদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় প্রশাসনের উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।’

২৫ মে, ২০২৬ ২১:১২
কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ‘ত্রিশ গোডাউন’ এলাকায় ট্রলার মাঝিদের সিন্ডিকেট ও পর্যটক হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বরিশালের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং ‘জাস্টিস অব দ্যা পিস’ এস, এম, শরিয়ত উল্লাহ।
ভ্রমণপিপাসুদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং দুর্ব্যবহারের বিষয়টি এই বিচারকের নজরে এলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পর্যটকদের এভাবে ঠকানো স্পষ্টত ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন’ এর চরম লঙ্ঘন।
শুধু আদেশই দেননি, সংশ্লিষ্টদের ডেকে সতর্ক করেছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারকের নির্দেশের পরই বদলে গেছে ত্রিশ গোডাউন ঘাটের চিত্র। এখন নৌকাঘাটেই শোভা পাচ্ছে নির্ধারিত ভাড়ার মূল্যতালিকা।
ত্রিশ গোডাউনে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী সাদ্দাম কিবরিয়া বলেন, 'আগে মাঝিরা মুখ দেখে ভাড়া চাইত। প্রতিবাদ করলে দল বেঁধে এসে অপমান করত। ঘাটে ভাড়ার তালিকা দেখে স্বস্তি লাগছে।'
পরিবার নিয়ে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন বলেন বলেন, 'আগে এখানে এসে মাঝিদের সাথে দরদাম করতে গিয়ে মেজাজটাই খারাপ হয়ে যেত। কোনো দরাদরি নেই, তালিকায় যা লেখা, তা-ই দিচ্ছি।'
বিচারক এস, এম, শরিয়ত উল্লাহ’র এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বরিশালের স্থানীয় সুশীল সমাজ ও পরিবেশবাদী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। তাদের মতে, পর্যটন নগরী হিসেবে বরিশালের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের আইন কানুন অনেক আছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে তার প্রয়োগ দেখা যায় খুব কম। একজন ম্যাজিস্ট্রেট যখন নিজের স্ব-প্রণোদিত ক্ষমতায় নৈরাজ্য থামান, তখন আইনের প্রতি মানুষের আস্থা শতগুণ বেড়ে যায়। বরিশালের অন্যান্য সেক্টরেও এমন দৃশ্যমান তদারকি চলুক।'

২৫ মে, ২০২৬ ২১:০৬
বরিশালে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে মোট ১ হাজার ৩৭৮ জন কর্মীকে এ উপহার দেওয়া হয়।
সোমবার (২৫ মে) বিকেলে বরিশাল নগর ভবনের নগর মিলনায়তনে (অডিটোরিয়াম) আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব উপহার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
তিনি বলেন, নগরীর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাদের এ পরিশ্রমের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এই উপহার প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি পর্যায়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে এবং কর্মীদের কল্যাণে বর্তমান প্রশাসন কাজ করছে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন, সাবেক কাউন্সিলর আলতাফ মাহমুদ সিকদার, শাহ্ আমিনুল ইসলাম আমিন, হাবিবুর রহমান টিপুসহ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বরিশালের হিজলায় ঝড়ে নৌকাডুবিতে বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার হিজলা ফেরিঘাট এলাকায় এক দুর্ঘটনায় তাঁরা নিখোঁজ হন। আলীগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধুলখোলা খেয়াঘাটে যাওয়ার সময় আটজন যাত্রী, জেলে কার্ডের ৫০০ কেজি চালসহ একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়।
এ সময় জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও ৩ জনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। সোমবার রাতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে হিজলা ফায়ার সার্ভিস, থানা ও নৌ পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালায়। হিজলা নৌ পুলিশের পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার ধুলখোলা গ্রামের জাফর জোমাদ্দারের ছেলে নুর ইসলাম জোমাদ্দার (৪৫), নুর ইসলাম জোমাদ্দারের ছেলে মো. ইব্রাহিম (১২) এবং হামিদ বিশ্বাসের ছেলে মো. হারুন বিশ্বাস (৪৫)।
হিজলা নৌ পুলিশ জানায়, আজ বিকেলে জেলে কার্ডের সরকারি ৫০০ কেজি চাল নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা আলীগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধুলখোলা খেয়াঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। নৌকাটিতে চালের পাশাপাশি আটজন যাত্রীও ছিল। নৌকাটি হিজলা ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে।
বাতাসের তীব্রতা ও ঢেউয়ের কারণে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে ডুবে যায়। নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পরপরই কাছাকাছি থাকা স্থানীয় জেলেরা দ্রুত এগিয়ে আসেন। তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে নদী থেকে পাঁচজন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করলেও তিনজন নিখোঁজ হয়। সংবাদ পেয়ে হিজলা থানা-পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং হিজলা ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধান শুরু করে।
হিজলা নৌ পুলিশের পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় তিনজন নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত তাঁদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় প্রশাসনের উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।’
কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ‘ত্রিশ গোডাউন’ এলাকায় ট্রলার মাঝিদের সিন্ডিকেট ও পর্যটক হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বরিশালের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং ‘জাস্টিস অব দ্যা পিস’ এস, এম, শরিয়ত উল্লাহ।
ভ্রমণপিপাসুদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং দুর্ব্যবহারের বিষয়টি এই বিচারকের নজরে এলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পর্যটকদের এভাবে ঠকানো স্পষ্টত ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন’ এর চরম লঙ্ঘন।
শুধু আদেশই দেননি, সংশ্লিষ্টদের ডেকে সতর্ক করেছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারকের নির্দেশের পরই বদলে গেছে ত্রিশ গোডাউন ঘাটের চিত্র। এখন নৌকাঘাটেই শোভা পাচ্ছে নির্ধারিত ভাড়ার মূল্যতালিকা।
ত্রিশ গোডাউনে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী সাদ্দাম কিবরিয়া বলেন, 'আগে মাঝিরা মুখ দেখে ভাড়া চাইত। প্রতিবাদ করলে দল বেঁধে এসে অপমান করত। ঘাটে ভাড়ার তালিকা দেখে স্বস্তি লাগছে।'
পরিবার নিয়ে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন বলেন বলেন, 'আগে এখানে এসে মাঝিদের সাথে দরদাম করতে গিয়ে মেজাজটাই খারাপ হয়ে যেত। কোনো দরাদরি নেই, তালিকায় যা লেখা, তা-ই দিচ্ছি।'
বিচারক এস, এম, শরিয়ত উল্লাহ’র এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বরিশালের স্থানীয় সুশীল সমাজ ও পরিবেশবাদী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। তাদের মতে, পর্যটন নগরী হিসেবে বরিশালের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের আইন কানুন অনেক আছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে তার প্রয়োগ দেখা যায় খুব কম। একজন ম্যাজিস্ট্রেট যখন নিজের স্ব-প্রণোদিত ক্ষমতায় নৈরাজ্য থামান, তখন আইনের প্রতি মানুষের আস্থা শতগুণ বেড়ে যায়। বরিশালের অন্যান্য সেক্টরেও এমন দৃশ্যমান তদারকি চলুক।'
বরিশালে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে মোট ১ হাজার ৩৭৮ জন কর্মীকে এ উপহার দেওয়া হয়।
সোমবার (২৫ মে) বিকেলে বরিশাল নগর ভবনের নগর মিলনায়তনে (অডিটোরিয়াম) আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব উপহার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
তিনি বলেন, নগরীর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাদের এ পরিশ্রমের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এই উপহার প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি পর্যায়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে এবং কর্মীদের কল্যাণে বর্তমান প্রশাসন কাজ করছে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন, সাবেক কাউন্সিলর আলতাফ মাহমুদ সিকদার, শাহ্ আমিনুল ইসলাম আমিন, হাবিবুর রহমান টিপুসহ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।