বরিশালের বানারীপাড়ায় চিকিৎসকের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার এবং মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি (ENT) বহির্বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. হাফিজুর রহমান শাকিলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বরিশাল বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে জাতীয় ‘দৈনিক নিরপেক্ষ’ পত্রিকার বানারীপাড়া থানা প্রতিনিধি মো. আছিবুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক-কান গলা ইএনটি (ENT) বহির্বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. হাফিজুর রহমান শাকিলকে (৩৮) প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩২৩, ৫০৬(২) ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলার আরজিসূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. হাফিজুর রহমান শাকিল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বানারীপাড়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থিত ‘মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ ও ‘হামিদ মেমোরিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতাল’-এ নিয়মিত রোগী দেখেন এবং বিভিন্ন অস্ত্রোপচার (সার্জারি) ও অ্যানেস্থেসিয়া পরিচালনা করেন। তবে তাঁর সার্জারি ও অ্যানেস্থেসিয়ার কোনো বৈধ সার্টিফিকেট নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বেনামে স্বজনদের শেয়ার রেখে এবং নির্দিষ্ট ফার্মেসি থেকে কমিশন গ্রহণের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবার নামে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।
এই অভিযোগের বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের লক্ষ্যে সাংবাদিক মো. আছিবুল ইসলাম গত ২৪ আগস্ট (রবিবার) রাত আনুমানিক ৯:১৫ ঘটিকার সময় বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতালে গেলে সেখান থেকে একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তাকে ডা. শাকিল মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক্স-রে রুমে আছে বলে এক্স-রে রুমের সামনে নিয়ে যান।
আরজিতে উল্লেখ করা হয়, সেখানে পৌছানোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি একপর্যায়ে সাংবাদিককে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এছাড়াও ক্লিনিক ও ডা. শাকিলের বিষয়ে পরবর্তীতে আবার কখনো তথ্য সংগ্রহে আসলে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন।
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে বলে নালিশী দরখাস্তে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা প্রমাণের জন্য ঘটনাস্থলের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহের আর্জি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে আদালত নালিশী দরখাস্তটি গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
এ অভিযোগ অস্বীকার করে ডাঃ হাফিজুর রহমান শাকিল বলেন ওই সাংবাদিকের সঙ্গে ফোনে কথা হলেও সরাসরি তার দেখা হয়নি। সে মামলা করে থাকলে আইনীভাবে মোকাবেলা করা হবে।

২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:৩৭
বরিশালের গৌরনদীতে পারিবারিক কলহের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা, অগ্নি সংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পাঁচ নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে ও বৃহস্পতিবার সকালে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের টরর্কীচর বেদে পল্লীতে এ ঘটনা ঘটে।
হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বেদে দিপু মিয়ার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন গৌরনদী মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বেদে পল্লীর সরদার নাসির সরদারের মেয়ে সোনালী বেগমকে বেদে দিপু মিয়ার ছেলে নিলয় মিয়া সাত বছর আগে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে নিলয়ের সাথে সোনালীর দাম্পত্য কলহ লেগেই ছিল।
নিলয় অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী সোনালীর পরকীয়ার কারণে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ লেগে থাকত। সম্প্রীতি তার স্ত্রী পাঁচ বছরের ছেলে কারিমকে রেখে বাবার বাড়ি চলে যান। এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। বিরোধের জেরে বুধবার সন্ধ্যায় ও রাতে তার শ্বশুর নাসির সরদার ও তার লোকজন পৃথকভাবে হামলা চালিয়ে তাদের রান্নাঘর ও দোকান ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বেদে পল্লীর সরদার নাসির অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে মিথ্যে অপবাদ দিয়ে আমার বেয়াই দিপু মিয়া ও জামাই নিলয় মেয়েকে তাড়িয়ে দেয়। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে দিপুর লোকজন আমার ও আমার বোন নাসরিনের ঘরের টিনের বেড়া ভাঙচুর করে ও আমাদের মারধর করে।’
দিপু মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে নাসির সরদার ৪০ থেকে ৫০ জন লোকজন নিয়ে আমার ও আমার বড় ভাই ইত্তি মিয়ার বিল্ডিংয়ে হামলা চালিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে আসবারপত্র ও দরজা, জানালা ভাঙচুর করে। এ সময় হামলাকারীরা মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এতে বাধা দিলে আমার ছোট ভাই চঞ্চল (৩২), বড় ভাই ইত্তি (৪৫), ভাতিজা আরিফ সরদার (৩৫), জিহাদ (১২), মিলি বেগম (২৬), মিঠু মিয়া (৫০), টুনি বেগম (২৭) এবং লুৎফনর নেছাকে (৬৫) রক্তাক্ত জখম করে। গুরুতর আহত চঞ্চল ও জিহাদকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।’
গৌরনদী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বরিশালটাইমসকে বলেন, ‘খবর পেয়ে রাতে ও আজ বৃহস্পতিবার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। বেদে দিপু মিয়ার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বুধবার রাতে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
বরিশালের গৌরনদীতে পারিবারিক কলহের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা, অগ্নি সংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পাঁচ নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে ও বৃহস্পতিবার সকালে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের টরর্কীচর বেদে পল্লীতে এ ঘটনা ঘটে।
হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বেদে দিপু মিয়ার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন গৌরনদী মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বেদে পল্লীর সরদার নাসির সরদারের মেয়ে সোনালী বেগমকে বেদে দিপু মিয়ার ছেলে নিলয় মিয়া সাত বছর আগে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে নিলয়ের সাথে সোনালীর দাম্পত্য কলহ লেগেই ছিল।
নিলয় অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী সোনালীর পরকীয়ার কারণে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ লেগে থাকত। সম্প্রীতি তার স্ত্রী পাঁচ বছরের ছেলে কারিমকে রেখে বাবার বাড়ি চলে যান। এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। বিরোধের জেরে বুধবার সন্ধ্যায় ও রাতে তার শ্বশুর নাসির সরদার ও তার লোকজন পৃথকভাবে হামলা চালিয়ে তাদের রান্নাঘর ও দোকান ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বেদে পল্লীর সরদার নাসির অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে মিথ্যে অপবাদ দিয়ে আমার বেয়াই দিপু মিয়া ও জামাই নিলয় মেয়েকে তাড়িয়ে দেয়। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে দিপুর লোকজন আমার ও আমার বোন নাসরিনের ঘরের টিনের বেড়া ভাঙচুর করে ও আমাদের মারধর করে।’
দিপু মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে নাসির সরদার ৪০ থেকে ৫০ জন লোকজন নিয়ে আমার ও আমার বড় ভাই ইত্তি মিয়ার বিল্ডিংয়ে হামলা চালিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে আসবারপত্র ও দরজা, জানালা ভাঙচুর করে। এ সময় হামলাকারীরা মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এতে বাধা দিলে আমার ছোট ভাই চঞ্চল (৩২), বড় ভাই ইত্তি (৪৫), ভাতিজা আরিফ সরদার (৩৫), জিহাদ (১২), মিলি বেগম (২৬), মিঠু মিয়া (৫০), টুনি বেগম (২৭) এবং লুৎফনর নেছাকে (৬৫) রক্তাক্ত জখম করে। গুরুতর আহত চঞ্চল ও জিহাদকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।’
গৌরনদী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বরিশালটাইমসকে বলেন, ‘খবর পেয়ে রাতে ও আজ বৃহস্পতিবার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। বেদে দিপু মিয়ার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বুধবার রাতে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১০:২৮
বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় গত ৮ জুলাই হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের মারধরের ঘটনায় ৬০ জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। এর মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত ৪৩ জন এবং তদন্তে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ১৭ জন। এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩২ জনকে।
বরিশাল জেলা পুলিশ অডিটোরিয়ামে বুধবার বিকেলে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান।
পুলিশ সুপার বলেন, এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, এরপর কয়েক শ মানুষ থানায় হামলা চালান। হামলায় আহত হন চার পুলিশ সদস্য।
গত ৮ জুলাই মাদক, চুরিসহ একাধিক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে আগৈলঝাড়া থানা-পুলিশ। পুলিশ সুপারের ভাষ্য, হাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াজ ফকির লোহার দরজায় আঘাত করেন এবং অসুস্থতার ভান করেন। পরে তাঁকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
এরপর এলাকায় রটে যায়, রিয়াজ ফকির মারা গেছেন। তবে খবরটি ছিল গুজব। এই গুজবকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে পুলিশের ভাষ্য।
পুলিশ সুপারের দাবি, একপর্যায়ে ২০০ থেকে ৩০০ মানুষের একটি দল থানায় হামলা চালায়। হামলাকারীরা ভেতরে ঢুকে কর্তব্যরত এক কর্মকর্তাকে মারধর করেন, থানার একটি ল্যাপটপ নিয়ে যান এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
হামলার ঘটনায় আগৈলঝাড়া থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। এজাহারে নাম আসে ৪৩ জনের। তাদের মধ্যে আসামীর তালিকায় দুই সংবাদকর্মীর নাম রয়েছে। পরে তদন্তে আরো ১৭ জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায় পুলিশ। এই সব মিলিয়ে আসামী শনাক্ত হন ৬০ জন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ আগস্ট পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩২ জন। বাকিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ জন্য ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গুজবের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হামলায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের কথাও বলেন পুলিশ সুপার।
বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় গত ৮ জুলাই হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের মারধরের ঘটনায় ৬০ জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। এর মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত ৪৩ জন এবং তদন্তে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ১৭ জন। এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩২ জনকে।
বরিশাল জেলা পুলিশ অডিটোরিয়ামে বুধবার বিকেলে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান।
পুলিশ সুপার বলেন, এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, এরপর কয়েক শ মানুষ থানায় হামলা চালান। হামলায় আহত হন চার পুলিশ সদস্য।
গত ৮ জুলাই মাদক, চুরিসহ একাধিক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে আগৈলঝাড়া থানা-পুলিশ। পুলিশ সুপারের ভাষ্য, হাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াজ ফকির লোহার দরজায় আঘাত করেন এবং অসুস্থতার ভান করেন। পরে তাঁকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
এরপর এলাকায় রটে যায়, রিয়াজ ফকির মারা গেছেন। তবে খবরটি ছিল গুজব। এই গুজবকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে পুলিশের ভাষ্য।
পুলিশ সুপারের দাবি, একপর্যায়ে ২০০ থেকে ৩০০ মানুষের একটি দল থানায় হামলা চালায়। হামলাকারীরা ভেতরে ঢুকে কর্তব্যরত এক কর্মকর্তাকে মারধর করেন, থানার একটি ল্যাপটপ নিয়ে যান এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
হামলার ঘটনায় আগৈলঝাড়া থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। এজাহারে নাম আসে ৪৩ জনের। তাদের মধ্যে আসামীর তালিকায় দুই সংবাদকর্মীর নাম রয়েছে। পরে তদন্তে আরো ১৭ জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায় পুলিশ। এই সব মিলিয়ে আসামী শনাক্ত হন ৬০ জন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ আগস্ট পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩২ জন। বাকিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ জন্য ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গুজবের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হামলায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের কথাও বলেন পুলিশ সুপার।

২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:১৫
অবশেষে বরিশালের বানারীপাড়ার বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক কলেজের সাচিবিক বিদ্যা ও অফিস ব্যবস্থাপনা বিভাগের বহুল বিতর্কিত সহকারী অধ্যাপক খান মো. আল আমিনকে নানান অনিয়ম- দুর্নীতিসহ নৈতিকস্খলনের অভিযোগে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুৎ করা হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ এনামুল হক জানান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠির আলোকে সহকারি অধ্যাপক খান মো. আল- আমিনকে ২৪ আগস্ট (সোমবার) চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ওইদিন (২৪ আগস্ট) তিনি তার বরখাস্তের আদেশে স্বাক্ষর করেছেন বলেও জানান। এর আগে ২০ আগস্ট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের ( ভিসি) অনুমোদনক্রমে কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে সহকারি অধ্যাপক খান মোঃ আল- আমিনকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত অনুমোদন করা হয়। বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক কলেজের বহুঅঘটন পটিয়সী সহকারী অধ্যাপক খান মোঃ আল- আমিনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নিষিদ্ধ পর্ণো ভিডিও প্রদর্শন, কলেজ ও শিক্ষার্থীদের অর্থ তছরুপ,জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শন টিমের স্বাক্ষর জালজালিয়াতি, কলেজের নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানিসহ নৈতিকস্খলনজনিত নানা অভিযোগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়। সেই অভিযোগের প্রক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালককে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটি সরেজমিন তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অধিকতর তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সম্প্রতি বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক কলেজ গভর্নিং বডি ওই দুটি তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে কলেজের বিতর্কিত সহকারী অধ্যাপক খান মোঃ আল- আমিনকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করার রেজুলেশন গ্রহণ করে তা অনুমোদনের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরন করে। ফলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তার চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত অনুমোদন করে। এর আগে তাকে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এবার চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হলো।
এদিকে নৈতিকস্খলনজনিত কারনে সহকারী অধ্যাপক খান মো: আল- আমিনকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যূত করায় কলেজ গর্ভনিংবডি,শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
অবশেষে বরিশালের বানারীপাড়ার বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক কলেজের সাচিবিক বিদ্যা ও অফিস ব্যবস্থাপনা বিভাগের বহুল বিতর্কিত সহকারী অধ্যাপক খান মো. আল আমিনকে নানান অনিয়ম- দুর্নীতিসহ নৈতিকস্খলনের অভিযোগে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুৎ করা হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ এনামুল হক জানান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠির আলোকে সহকারি অধ্যাপক খান মো. আল- আমিনকে ২৪ আগস্ট (সোমবার) চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ওইদিন (২৪ আগস্ট) তিনি তার বরখাস্তের আদেশে স্বাক্ষর করেছেন বলেও জানান। এর আগে ২০ আগস্ট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের ( ভিসি) অনুমোদনক্রমে কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে সহকারি অধ্যাপক খান মোঃ আল- আমিনকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত অনুমোদন করা হয়। বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক কলেজের বহুঅঘটন পটিয়সী সহকারী অধ্যাপক খান মোঃ আল- আমিনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নিষিদ্ধ পর্ণো ভিডিও প্রদর্শন, কলেজ ও শিক্ষার্থীদের অর্থ তছরুপ,জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শন টিমের স্বাক্ষর জালজালিয়াতি, কলেজের নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানিসহ নৈতিকস্খলনজনিত নানা অভিযোগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়। সেই অভিযোগের প্রক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালককে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটি সরেজমিন তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অধিকতর তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সম্প্রতি বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক কলেজ গভর্নিং বডি ওই দুটি তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে কলেজের বিতর্কিত সহকারী অধ্যাপক খান মোঃ আল- আমিনকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করার রেজুলেশন গ্রহণ করে তা অনুমোদনের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরন করে। ফলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তার চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত অনুমোদন করে। এর আগে তাকে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এবার চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হলো।
এদিকে নৈতিকস্খলনজনিত কারনে সহকারী অধ্যাপক খান মো: আল- আমিনকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যূত করায় কলেজ গর্ভনিংবডি,শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:২৩
বরিশালের বানারীপাড়ায় চিকিৎসকের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার এবং মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি (ENT) বহির্বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. হাফিজুর রহমান শাকিলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বরিশাল বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে জাতীয় ‘দৈনিক নিরপেক্ষ’ পত্রিকার বানারীপাড়া থানা প্রতিনিধি মো. আছিবুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক-কান গলা ইএনটি (ENT) বহির্বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. হাফিজুর রহমান শাকিলকে (৩৮) প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩২৩, ৫০৬(২) ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলার আরজিসূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. হাফিজুর রহমান শাকিল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বানারীপাড়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থিত ‘মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ ও ‘হামিদ মেমোরিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতাল’-এ নিয়মিত রোগী দেখেন এবং বিভিন্ন অস্ত্রোপচার (সার্জারি) ও অ্যানেস্থেসিয়া পরিচালনা করেন। তবে তাঁর সার্জারি ও অ্যানেস্থেসিয়ার কোনো বৈধ সার্টিফিকেট নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বেনামে স্বজনদের শেয়ার রেখে এবং নির্দিষ্ট ফার্মেসি থেকে কমিশন গ্রহণের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবার নামে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।
এই অভিযোগের বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের লক্ষ্যে সাংবাদিক মো. আছিবুল ইসলাম গত ২৪ আগস্ট (রবিবার) রাত আনুমানিক ৯:১৫ ঘটিকার সময় বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতালে গেলে সেখান থেকে একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তাকে ডা. শাকিল মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক্স-রে রুমে আছে বলে এক্স-রে রুমের সামনে নিয়ে যান।
আরজিতে উল্লেখ করা হয়, সেখানে পৌছানোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি একপর্যায়ে সাংবাদিককে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এছাড়াও ক্লিনিক ও ডা. শাকিলের বিষয়ে পরবর্তীতে আবার কখনো তথ্য সংগ্রহে আসলে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন।
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে বলে নালিশী দরখাস্তে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা প্রমাণের জন্য ঘটনাস্থলের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহের আর্জি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে আদালত নালিশী দরখাস্তটি গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
এ অভিযোগ অস্বীকার করে ডাঃ হাফিজুর রহমান শাকিল বলেন ওই সাংবাদিকের সঙ্গে ফোনে কথা হলেও সরাসরি তার দেখা হয়নি। সে মামলা করে থাকলে আইনীভাবে মোকাবেলা করা হবে।
২৭ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৫৫
২৭ আগস্ট, ২০২৬ ২১:১৫
২৭ আগস্ট, ২০২৬ ২০:৩৬
২৭ আগস্ট, ২০২৬ ২০:১৮