ভোলার লঞ্চ থেকে পড়ে নিখোঁজ ছাত্রদল নেত্রীর মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্রী ও ছাত্রদল নেত্রী সুকর্ণা আক্তার ইস্পিতা রাজধানী ঢাকাগামী লঞ্চ থেকে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন।
পরে উদ্ধার করা মরদেহে নির্যাতনের চিহ্ন থাকায় হত্যা মামলা করেছে নৌ-থানার পুলিশ। এ নিয়ে তোলপাড় চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কারও কারও অভিযোগ ওই ছাত্রীর ওপর নির্যাতন করা হয়েছে, কেউ বলছেন ধর্ষণের শিকার।
সোমবার কলেজ সহপাঠীরা ক্ষোভ জানিয়ে বিচার দাবি করেছেন।
চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবি পুলিশ মাঠে কাজ শুরু করেছে। ১৭ জুন ওই ছাত্রী বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হন। এর আগে ওই ছাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনীতি থেকে সরে যাওয়াসহ নানা ধরনের পোস্ট দেওয়ার বিষয়ও খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থা।
শুক্রবার বিকালে ওই ছাত্রীর মরদেহ লক্ষ্মীপুর জেলা সদরের বুড়িরঘাট মেঘনা নদীতে ভাসতে দেখে নৌপুলিশ উদ্ধার করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালো দাগ থাকায় লক্ষ্মীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নৌপুলিশের এসআই আজিজুল ইসলাম।
তিনি জানান, অজ্ঞাত ও বেওয়ারিশ হিসেবে ওই লাশ রোববার বিকালে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করা হয়। পুলিশের সংগ্রহে রাখা নিহতের পরিধেয় সেলোয়ার কামিজ দেখে সোমবার দুপুরে নিহত সুকর্ণা আক্তারের বাবা ইজিবাইক চালক মাসুদ রানা শনাক্ত করেন। দাফন করা মেয়েটি সুকর্ণা আক্তার ইস্পিতা ছিল।
এর আগে মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ভোলা থানায় একটি জিডি করেন তিনি। তাতে উল্লেখ করেন ১৭ জুন তার মেয়ে প্রাইভেট পড়তে সকাল ৮টায় বাসা থেকে বের হয়। বেলা ১১টায় ফিরে আসার কথা থাকলেও সে ফেরেনি।
এদিকে সুকর্ণার নিখোঁজ ও মৃত্যুরহস্য উদঘাটনে অভিযানে নামে ভোলার ডিবি পুলিশ। ডিবি ওসি জানান সকাল ১০টায় ইলিশাঘাট থেকে ঢাকাগামী এমভি কর্ণফুলী-৪ লঞ্চ ওঠে ওই ছাত্রী। লঞ্চটি কালিগঞ্জ ঘাট অতিক্রমের কিছু পরেই ওই মেয়ে নদীতে পড়ার ঘটনা ঘটে।
এদিকে লক্ষ্মীপুর থানার ওসি আব্দুল মোনাফ জানান, তার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর মূল কারণ জানা যাবে।
এদিকে ব্রাদার্স নেভিগেশন ও কর্ণফুলী লঞ্চের ম্যানেজার মো. আলাউদ্দিন যুগান্তরকে জানান, ওই মেয়েটি ওই দিন তাদের লঞ্চের যাত্রী ছিল। প্রথমে কেবিন চেয়েছিল। কেবিন ভাড়া বেশি ও সংকট থাকায় তিনি ডেকে অবস্থান করেন। কিনারে দাঁড়িয়ে ফোনে কারো সঙ্গে বারবার কথা বলতে দেখা যায়। ইলিশা ঘাট থেকে লঞ্চ ছাড়ার এক ঘণ্টা পর চরের কাছাকাছি হঠাৎ মেয়েটি নদীতে ঝাঁপ দেয়।
তিনি জানান, যাত্রীরা বিষয়টি জানালে, লঞ্চ মাস্টার দ্রুত লঞ্চ ঘুরিয়ে খোঁজ নিতে থাকেন। ৪৫ মিনিট খোঁজাখুঁজির পর কোনো সন্ধান না পেয়ে ফের লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিষয় উঠে আসায় জেলা প্রশাসন থেকে লঞ্চ স্টাফ ও বেশ কয়েকজন যাত্রীকে ডেকে আনা হয়। তাদের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে।
ম্যানেজার আলাউদ্দিনের দাবি, ওই দিন লঞ্চে ওই ছাত্রীর ওপর কোনো ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। তবে লাফ দেওয়ার পর তার মোবাইল ফোনসহ হাত ব্যাগ একটি ছেলে তুলে নেয়। ওই ছেলেকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। মেয়েটি লাফ দেওয়ার আগে কার সঙ্গে কথা বলেছে, তা ট্র্যাক করলে তথ্য বের হতে পারে বলে ধারণা করেন স্বজনরা।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৩
ভোলার লালমোহনে ৪ কেজি গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টার দিকে কালমা ইউনিয়নের ডাওরী বাজার থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—কুমিল্লার লাঙ্গলকোট থানার বাঙ্গটিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাদবা গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে মো. ফারুক হোসেন (৩২) এবং তার স্ত্রী মোসা. সিমা বেগম (১৯)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই কামরুল ইসলাম ও এসআই আছাদুজ্জামান খান অভিযান পরিচালনা করে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালমা ডাওরী বাজারের বাস স্টান থেকে তাদের আটক করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
লালমোহন থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, কালমা ইউনিয়নের ডাওরী বাজার থেকে ৪ কেজি গাঁজাসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ভোলার লালমোহনে ৪ কেজি গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টার দিকে কালমা ইউনিয়নের ডাওরী বাজার থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—কুমিল্লার লাঙ্গলকোট থানার বাঙ্গটিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাদবা গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে মো. ফারুক হোসেন (৩২) এবং তার স্ত্রী মোসা. সিমা বেগম (১৯)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই কামরুল ইসলাম ও এসআই আছাদুজ্জামান খান অভিযান পরিচালনা করে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালমা ডাওরী বাজারের বাস স্টান থেকে তাদের আটক করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
লালমোহন থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, কালমা ইউনিয়নের ডাওরী বাজার থেকে ৪ কেজি গাঁজাসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৫
ভোলায় অটোরিকশা ও নছিমনের সংঘর্ষে রাশেদ হাওলাদার (১৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভোলা শহরের পিটিআই এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাশেদ ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের চর ছিফলী গ্রামের শাহাজামাল হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন।
দুপুরে ভোলার পিটিআই এলাকায় অটোরিকশা ও নছিমনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় রাশেদ নসিমনের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ভোলায় অটোরিকশা ও নছিমনের সংঘর্ষে রাশেদ হাওলাদার (১৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভোলা শহরের পিটিআই এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাশেদ ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের চর ছিফলী গ্রামের শাহাজামাল হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন।
দুপুরে ভোলার পিটিআই এলাকায় অটোরিকশা ও নছিমনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় রাশেদ নসিমনের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:০৩
আওয়ামী লীগ গত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতির কোমর ভেঙে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। আজ (বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভোলায় নতুন বাজার চত্বরে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আন্দালিব রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন। এ সংকট থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
ভোলা-বরিশাল সেতু প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘ভোলা-বরিশাল সেতু ভোলার প্রত্যেক মানুষের দাবি। এ দাবিতে আমরা সবাই আন্দোলন করেছি এবং সংসদেও সেতুর দাবি তুলেছি। সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। কিছু মানুষ বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তারা বলতে চাচ্ছেন, আমরা সেতু চাই না। বাস্তবতা তা নয়। ভোলার মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না, বিভক্তি সৃষ্টি করবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার হিজলা-মুলাদী হয়ে শরীয়তপুর দিয়ে সরাসরি ঢাকা যাওয়ার বিকল্প পথটিও বিবেচনা করছে। এতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় কম লাগতে পারে। ভোলার জন্য কোনটি ভালো হবে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে ভোলার মানুষের দাবিও আমরা তুলে ধরতে থাকবো।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিকল্প সড়ক নির্মাণেও প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। শুধু ভোলার জন্যই প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হচ্ছে। গত ছয় মাসে ৩০০ আসনের মধ্যে এমন একটি আসন দেখান, যেখানে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ আনা সম্ভব হয়েছে।’
নিজের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি সততার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করবো, ইনশা আল্লাহ।’
গণসংবর্ধনায় মন্ত্রী জানান, গত ১৮ বছরে তিনি কীভাবে রাজনীতি করেছেন, তা ভোলার মানুষ দেখেছেন। চাইলেও তিনি অনেক সুযোগ-সুবিধা নিতে পারতেন, কিন্তু কোনো লোভ-লালসায় পা দেননি। জীবনের প্রতিটি বিপদে ভোলার মানুষ তার পাশে ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে অনেকে আমাকে ভোট দিয়েছেন, অনেকে দেননি। সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে ভোলার উন্নয়নে আপনারা সবাই আমাকে সহযোগিতা করুন। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ভোলার উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হবে।’
অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে পার্থ বলেন, ‘এমপি হিসেবে গত ছয় মাসে তিনি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেননি এবং ভবিষ্যতেও দেবেন না।’
তিনি বলেন, ‘আমার দল বা আমার নাম ব্যবহার করে কেউ অন্যায়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি বা অনিয়ম করলে তারা আমার দলের লোক নয়। আমি টেন্ডারবাজি করি না, করার প্রশ্নই আসে না। টিআর-কাবিখা নিয়ে কেউ অনিয়ম করলে ইউএনও অফিসে লিখিত অভিযোগ করবেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এসময় জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।’
আওয়ামী লীগ গত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতির কোমর ভেঙে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। আজ (বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভোলায় নতুন বাজার চত্বরে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আন্দালিব রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন। এ সংকট থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
ভোলা-বরিশাল সেতু প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘ভোলা-বরিশাল সেতু ভোলার প্রত্যেক মানুষের দাবি। এ দাবিতে আমরা সবাই আন্দোলন করেছি এবং সংসদেও সেতুর দাবি তুলেছি। সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। কিছু মানুষ বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তারা বলতে চাচ্ছেন, আমরা সেতু চাই না। বাস্তবতা তা নয়। ভোলার মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না, বিভক্তি সৃষ্টি করবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার হিজলা-মুলাদী হয়ে শরীয়তপুর দিয়ে সরাসরি ঢাকা যাওয়ার বিকল্প পথটিও বিবেচনা করছে। এতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় কম লাগতে পারে। ভোলার জন্য কোনটি ভালো হবে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে ভোলার মানুষের দাবিও আমরা তুলে ধরতে থাকবো।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিকল্প সড়ক নির্মাণেও প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। শুধু ভোলার জন্যই প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হচ্ছে। গত ছয় মাসে ৩০০ আসনের মধ্যে এমন একটি আসন দেখান, যেখানে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ আনা সম্ভব হয়েছে।’
নিজের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি সততার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করবো, ইনশা আল্লাহ।’
গণসংবর্ধনায় মন্ত্রী জানান, গত ১৮ বছরে তিনি কীভাবে রাজনীতি করেছেন, তা ভোলার মানুষ দেখেছেন। চাইলেও তিনি অনেক সুযোগ-সুবিধা নিতে পারতেন, কিন্তু কোনো লোভ-লালসায় পা দেননি। জীবনের প্রতিটি বিপদে ভোলার মানুষ তার পাশে ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে অনেকে আমাকে ভোট দিয়েছেন, অনেকে দেননি। সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে ভোলার উন্নয়নে আপনারা সবাই আমাকে সহযোগিতা করুন। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ভোলার উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হবে।’
অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে পার্থ বলেন, ‘এমপি হিসেবে গত ছয় মাসে তিনি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেননি এবং ভবিষ্যতেও দেবেন না।’
তিনি বলেন, ‘আমার দল বা আমার নাম ব্যবহার করে কেউ অন্যায়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি বা অনিয়ম করলে তারা আমার দলের লোক নয়। আমি টেন্ডারবাজি করি না, করার প্রশ্নই আসে না। টিআর-কাবিখা নিয়ে কেউ অনিয়ম করলে ইউএনও অফিসে লিখিত অভিযোগ করবেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এসময় জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।’

২৩ জুন, ২০২৫ ২২:১৩
ভোলার লঞ্চ থেকে পড়ে নিখোঁজ ছাত্রদল নেত্রীর মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্রী ও ছাত্রদল নেত্রী সুকর্ণা আক্তার ইস্পিতা রাজধানী ঢাকাগামী লঞ্চ থেকে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন।
পরে উদ্ধার করা মরদেহে নির্যাতনের চিহ্ন থাকায় হত্যা মামলা করেছে নৌ-থানার পুলিশ। এ নিয়ে তোলপাড় চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কারও কারও অভিযোগ ওই ছাত্রীর ওপর নির্যাতন করা হয়েছে, কেউ বলছেন ধর্ষণের শিকার।
সোমবার কলেজ সহপাঠীরা ক্ষোভ জানিয়ে বিচার দাবি করেছেন।
চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবি পুলিশ মাঠে কাজ শুরু করেছে। ১৭ জুন ওই ছাত্রী বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হন। এর আগে ওই ছাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনীতি থেকে সরে যাওয়াসহ নানা ধরনের পোস্ট দেওয়ার বিষয়ও খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থা।
শুক্রবার বিকালে ওই ছাত্রীর মরদেহ লক্ষ্মীপুর জেলা সদরের বুড়িরঘাট মেঘনা নদীতে ভাসতে দেখে নৌপুলিশ উদ্ধার করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালো দাগ থাকায় লক্ষ্মীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নৌপুলিশের এসআই আজিজুল ইসলাম।
তিনি জানান, অজ্ঞাত ও বেওয়ারিশ হিসেবে ওই লাশ রোববার বিকালে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করা হয়। পুলিশের সংগ্রহে রাখা নিহতের পরিধেয় সেলোয়ার কামিজ দেখে সোমবার দুপুরে নিহত সুকর্ণা আক্তারের বাবা ইজিবাইক চালক মাসুদ রানা শনাক্ত করেন। দাফন করা মেয়েটি সুকর্ণা আক্তার ইস্পিতা ছিল।
এর আগে মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ভোলা থানায় একটি জিডি করেন তিনি। তাতে উল্লেখ করেন ১৭ জুন তার মেয়ে প্রাইভেট পড়তে সকাল ৮টায় বাসা থেকে বের হয়। বেলা ১১টায় ফিরে আসার কথা থাকলেও সে ফেরেনি।
এদিকে সুকর্ণার নিখোঁজ ও মৃত্যুরহস্য উদঘাটনে অভিযানে নামে ভোলার ডিবি পুলিশ। ডিবি ওসি জানান সকাল ১০টায় ইলিশাঘাট থেকে ঢাকাগামী এমভি কর্ণফুলী-৪ লঞ্চ ওঠে ওই ছাত্রী। লঞ্চটি কালিগঞ্জ ঘাট অতিক্রমের কিছু পরেই ওই মেয়ে নদীতে পড়ার ঘটনা ঘটে।
এদিকে লক্ষ্মীপুর থানার ওসি আব্দুল মোনাফ জানান, তার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর মূল কারণ জানা যাবে।
এদিকে ব্রাদার্স নেভিগেশন ও কর্ণফুলী লঞ্চের ম্যানেজার মো. আলাউদ্দিন যুগান্তরকে জানান, ওই মেয়েটি ওই দিন তাদের লঞ্চের যাত্রী ছিল। প্রথমে কেবিন চেয়েছিল। কেবিন ভাড়া বেশি ও সংকট থাকায় তিনি ডেকে অবস্থান করেন। কিনারে দাঁড়িয়ে ফোনে কারো সঙ্গে বারবার কথা বলতে দেখা যায়। ইলিশা ঘাট থেকে লঞ্চ ছাড়ার এক ঘণ্টা পর চরের কাছাকাছি হঠাৎ মেয়েটি নদীতে ঝাঁপ দেয়।
তিনি জানান, যাত্রীরা বিষয়টি জানালে, লঞ্চ মাস্টার দ্রুত লঞ্চ ঘুরিয়ে খোঁজ নিতে থাকেন। ৪৫ মিনিট খোঁজাখুঁজির পর কোনো সন্ধান না পেয়ে ফের লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিষয় উঠে আসায় জেলা প্রশাসন থেকে লঞ্চ স্টাফ ও বেশ কয়েকজন যাত্রীকে ডেকে আনা হয়। তাদের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে।
ম্যানেজার আলাউদ্দিনের দাবি, ওই দিন লঞ্চে ওই ছাত্রীর ওপর কোনো ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। তবে লাফ দেওয়ার পর তার মোবাইল ফোনসহ হাত ব্যাগ একটি ছেলে তুলে নেয়। ওই ছেলেকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। মেয়েটি লাফ দেওয়ার আগে কার সঙ্গে কথা বলেছে, তা ট্র্যাক করলে তথ্য বের হতে পারে বলে ধারণা করেন স্বজনরা।
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৫:৫৬
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৩৫
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২২