ছোট বোনকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেত্রী বৈশাখী ইসলাম বর্ষা। ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার পর ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার ওসি মো. সফর আলীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ মে) ফরিদপুরের পুলিশ সুপার এ আদেশ দেন। এর আগে, শুক্রবার (৩০ মে) দুপুরে নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভাবুকদিয়া গ্রামে বর্ষার ওপর এ হামলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা থানায় অভিযোগ জমা দিয়ে বের হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেকেন গাজীর নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তার ওপর চড়াও হয়। রাস্তায় ফেলে মারধর করে এবং চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে বর্ষা ফেসবুক লাইভে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ঘটনার বিবরণ দিলে মুহূর্তেই বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে আটক করে। তবে এই সময় পুলিশের ওপরও হামলা হয়, যাতে কনস্টেবল-ড্রাইভার হান্নু শরীফ আহত হন।
এ ঘটনার পরপরই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভাবুকদিয়া বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে। এতে ফরিদপুর-বরিশাল আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উত্তেজনাকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. শামসুল আজম বলেন, ‘প্রশাসনিক কারণে ওসি সফর আলীকে ফরিদপুর পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। শনিবার পুলিশ সুপার এই নির্দেশ দিয়েছেন।’
মো. সফর আলী ২০২৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর নগরকান্দা থানার ওসি হিসেবে যোগ দেন। দায়িত্বকালেই কয়েকটি ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় পর্যায়ে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল, যা বর্ষার ওপর হামলার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:২০
গাজীপুরের কালীগঞ্জে কাভার্ডভ্যানের চাপা, আহত আরও দুইজন
গাজীপুরের কালীগঞ্জে মাদক মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় ফেরার পথে কাভার্ডভ্যানের চাপায় পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও বিএনপির এক নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোররাতে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে কালীগঞ্জ-ঘোড়াশাল সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান (৩০) এবং স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিক মোল্লা (৪৫)। আহত হয়েছেন পুলিশের আরেক উপপরিদর্শক জাবেদ ওমর (২৮) ও গাড়িচালক রাব্বি (২৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে কালীগঞ্জের তুমুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারি আহিদ মিয়াকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশের একটি দল। এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানের পর আসামিকে নিয়ে থানায় ফিরছিল পুলিশ।
পথে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে পুলিশের গাড়িটি থামানো হয়। এ সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিক মোল্লার সঙ্গে কথা বলছিলেন এসআই মিজানুর রহমান, এসআই জাবেদ ওমর এবং গাড়িচালক রাব্বি।
এমন সময় ঘোড়াশালমুখী একটি দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান তাঁদের চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বিএনপি নেতা রফিক মোল্লার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন পুলিশ সদস্যরা। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসআই মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় আহত এসআই জাবেদ ওমর চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গাড়িচালক রাব্বি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। দুর্ঘটনায় জড়িত কাভার্ডভ্যানটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একটি অভিযান শেষে থানায় ফেরার পথেই এমন দুর্ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে কাভার্ডভ্যানের চাপা, আহত আরও দুইজন
গাজীপুরের কালীগঞ্জে মাদক মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় ফেরার পথে কাভার্ডভ্যানের চাপায় পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও বিএনপির এক নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোররাতে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে কালীগঞ্জ-ঘোড়াশাল সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান (৩০) এবং স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিক মোল্লা (৪৫)। আহত হয়েছেন পুলিশের আরেক উপপরিদর্শক জাবেদ ওমর (২৮) ও গাড়িচালক রাব্বি (২৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে কালীগঞ্জের তুমুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারি আহিদ মিয়াকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশের একটি দল। এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানের পর আসামিকে নিয়ে থানায় ফিরছিল পুলিশ।
পথে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে পুলিশের গাড়িটি থামানো হয়। এ সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিক মোল্লার সঙ্গে কথা বলছিলেন এসআই মিজানুর রহমান, এসআই জাবেদ ওমর এবং গাড়িচালক রাব্বি।
এমন সময় ঘোড়াশালমুখী একটি দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান তাঁদের চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বিএনপি নেতা রফিক মোল্লার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন পুলিশ সদস্যরা। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসআই মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় আহত এসআই জাবেদ ওমর চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গাড়িচালক রাব্বি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। দুর্ঘটনায় জড়িত কাভার্ডভ্যানটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একটি অভিযান শেষে থানায় ফেরার পথেই এমন দুর্ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৫৮
‘বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন’—ওসিকে এমপির খোঁচা, পাল্টা জবাবে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
থানার ভেতরে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, একের পর এক অভিযোগ আর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সরগরম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানা। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে থানায় হাজির হয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে সরাসরি বাদানুবাদে জড়ালেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে ওসিকে উদ্দেশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি স্যার।’ জবাবে ওসিও পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, রুমিন ফারহানা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে বাধা দেন। দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে থানার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত দুর্গাপূজা চলাকালে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় নিজের নিরাপত্তার জন্য পুলিশি সহায়তা চেয়েছিলেন রুমিন ফারহানা। তবে তাঁকে নিরাপত্তা দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার কারণ জানতে এবং ওসির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে থানায় যান সংসদ সদস্য। রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি ওসির কক্ষে অবস্থান করেন।
এ সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে আসা এক ব্যক্তি ওসির বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেন ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া। উল্টো ওই ব্যক্তিকে শিখিয়ে থানায় আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, ওই ব্যক্তি আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত।
এদিকে, ওসির বিরুদ্ধে ইটভাটা থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তোলেন সংসদ সদস্য। তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ওসি বলেন, হাওর এলাকায় ইটভাটাগুলো পানির নিচে থাকায় সেখান থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ বাস্তবসম্মত নয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুরো থানা এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে সংসদ সদস্যের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে পুলিশের একটি দল রাখা কঠিন ছিল বলে জানান ওসি।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে রুমিন ফারহানা বলেন, ওসি তাঁকে জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং জনগণই তাঁর নিরাপত্তা দেবে। কিন্তু তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটার কাজ থেকে অর্থ নেওয়া এবং ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়াসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন রুমিন ফারহানা। তাঁর ভাষ্য, এলাকাটি দাঙ্গাপ্রবণ; সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি শান্ত হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এসব বিষয়ের ব্যাখ্যা চাইতেই তিনি থানায় গিয়েছিলেন।
ওসির আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সঙ্গে এভাবে কথা বলা যায় না। একপর্যায়ে তিনি ওসিকে ‘আওয়ামী লীগের চোর ওসি’ বলেও আখ্যা দেন।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মু. জালাল উদ্দিন ফাহিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।'
‘বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন’—ওসিকে এমপির খোঁচা, পাল্টা জবাবে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
থানার ভেতরে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, একের পর এক অভিযোগ আর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সরগরম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানা। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে থানায় হাজির হয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে সরাসরি বাদানুবাদে জড়ালেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে ওসিকে উদ্দেশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি স্যার।’ জবাবে ওসিও পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, রুমিন ফারহানা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে বাধা দেন। দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে থানার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত দুর্গাপূজা চলাকালে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় নিজের নিরাপত্তার জন্য পুলিশি সহায়তা চেয়েছিলেন রুমিন ফারহানা। তবে তাঁকে নিরাপত্তা দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার কারণ জানতে এবং ওসির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে থানায় যান সংসদ সদস্য। রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি ওসির কক্ষে অবস্থান করেন।
এ সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে আসা এক ব্যক্তি ওসির বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেন ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া। উল্টো ওই ব্যক্তিকে শিখিয়ে থানায় আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, ওই ব্যক্তি আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত।
এদিকে, ওসির বিরুদ্ধে ইটভাটা থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তোলেন সংসদ সদস্য। তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ওসি বলেন, হাওর এলাকায় ইটভাটাগুলো পানির নিচে থাকায় সেখান থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ বাস্তবসম্মত নয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুরো থানা এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে সংসদ সদস্যের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে পুলিশের একটি দল রাখা কঠিন ছিল বলে জানান ওসি।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে রুমিন ফারহানা বলেন, ওসি তাঁকে জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং জনগণই তাঁর নিরাপত্তা দেবে। কিন্তু তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটার কাজ থেকে অর্থ নেওয়া এবং ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়াসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন রুমিন ফারহানা। তাঁর ভাষ্য, এলাকাটি দাঙ্গাপ্রবণ; সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি শান্ত হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এসব বিষয়ের ব্যাখ্যা চাইতেই তিনি থানায় গিয়েছিলেন।
ওসির আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সঙ্গে এভাবে কথা বলা যায় না। একপর্যায়ে তিনি ওসিকে ‘আওয়ামী লীগের চোর ওসি’ বলেও আখ্যা দেন।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মু. জালাল উদ্দিন ফাহিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।'

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৩১
বিজয়া দশমীতে দেবীর কপালে সিঁদুর দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে তন্নি দে (২০) নামের এক নববধূর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কুমিরা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সার্বজনীন প্রতিমা বিসর্জনস্থলে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত তন্নি দে কুমিরা গ্রামের মহাদেব দের একমাত্র মেয়ে। প্রায় চার মাস আগে যশোরের কেশবপুর উপজেলার এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর বাবার বাড়িতে এটিই ছিল তার জীবনের প্রথম দুর্গোৎসব।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিজয়া দশমীর সন্ধ্যায় ননদের সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জনস্থলে যান তন্নি।
সেখানে অন্যান্য নারীদের সঙ্গে সিঁদুর খেলা ও প্রতিমার কপালে সিঁদুর দেওয়ার আনন্দঘন আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন তিনি। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন তিনি। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়।
পরে দ্রুত সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তালা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, বিসর্জনস্থলে এক নববধূর আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তন্নি হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ বা সন্দেহ না থাকায়, লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিজয়া দশমীতে দেবীর কপালে সিঁদুর দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে তন্নি দে (২০) নামের এক নববধূর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কুমিরা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সার্বজনীন প্রতিমা বিসর্জনস্থলে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত তন্নি দে কুমিরা গ্রামের মহাদেব দের একমাত্র মেয়ে। প্রায় চার মাস আগে যশোরের কেশবপুর উপজেলার এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর বাবার বাড়িতে এটিই ছিল তার জীবনের প্রথম দুর্গোৎসব।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিজয়া দশমীর সন্ধ্যায় ননদের সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জনস্থলে যান তন্নি।
সেখানে অন্যান্য নারীদের সঙ্গে সিঁদুর খেলা ও প্রতিমার কপালে সিঁদুর দেওয়ার আনন্দঘন আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন তিনি। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন তিনি। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়।
পরে দ্রুত সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তালা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, বিসর্জনস্থলে এক নববধূর আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তন্নি হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ বা সন্দেহ না থাকায়, লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

০১ জুন, ২০২৫ ১২:৫৭
ছোট বোনকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেত্রী বৈশাখী ইসলাম বর্ষা। ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার পর ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার ওসি মো. সফর আলীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ মে) ফরিদপুরের পুলিশ সুপার এ আদেশ দেন। এর আগে, শুক্রবার (৩০ মে) দুপুরে নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভাবুকদিয়া গ্রামে বর্ষার ওপর এ হামলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা থানায় অভিযোগ জমা দিয়ে বের হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেকেন গাজীর নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তার ওপর চড়াও হয়। রাস্তায় ফেলে মারধর করে এবং চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে বর্ষা ফেসবুক লাইভে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ঘটনার বিবরণ দিলে মুহূর্তেই বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে আটক করে। তবে এই সময় পুলিশের ওপরও হামলা হয়, যাতে কনস্টেবল-ড্রাইভার হান্নু শরীফ আহত হন।
এ ঘটনার পরপরই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভাবুকদিয়া বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে। এতে ফরিদপুর-বরিশাল আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উত্তেজনাকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. শামসুল আজম বলেন, ‘প্রশাসনিক কারণে ওসি সফর আলীকে ফরিদপুর পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। শনিবার পুলিশ সুপার এই নির্দেশ দিয়েছেন।’
মো. সফর আলী ২০২৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর নগরকান্দা থানার ওসি হিসেবে যোগ দেন। দায়িত্বকালেই কয়েকটি ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় পর্যায়ে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল, যা বর্ষার ওপর হামলার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০৭
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:২০
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৪২
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:২৮