
০১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১০:৫৪
কুয়াশায় ঢেকে থাকা সকালের আলোয় দূর থেকেই চোখে পড়ে এক পুরনো প্রাসাদ লাকুটিয়ার জমিদারবাড়ি। শত বছরের বাতাস-ধুলো পেরিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভবনের দেয়ালে ছিল ক্ষয়ের গভীর দাগ, ছাদের টালি ঝরে পড়েছিল বহু আগেই। শেওলাধরা বারান্দা, ভেঙে পড়া নকশা, এসব মিলিয়ে জমিদার বাড়িটি ধ্বংসস্তূপে পরিনত হয়েছিল। দীর্ঘদিন অবহেলা আর অযত্নে হারিয়ে যেতে বসা এই স্থাপনাকে তার পুরনো রূপে ফিরিয়ে আনতে প্রথম পর্যায়ের সংস্কারকাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর গত ৪ মে থেকে সংস্কার শুরু করেছিল। ভবনের পুরনো ছাদ সম্পূর্ণ তুলে ফেলা হয়েছে। সাতক্ষীরা থেকে আনা টালি দিয়ে নতুন ছাদ বসানো হয়েছে। ভবনের চারপাশে তৈরি হয়েছে নতুন গোলাকার ইটের পিলার, যা ভবনের গঠনকে টিকিয়ে রাখতে সহয়তা করছে।
বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরের সহকারী কাস্টেডিয়ান আরিফুর রহমান বলেন, ‘প্রথম ধাপে প্রায় ৬০ লাখ টাকায় মূল ভবনের ভিত্তি, ইটের গাঁথুনি আর ছাদ সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছে। চারপাশে সাদা রঙ করা হয়েছে। যেটা বৃষ্টি থেকে ভবনকে সুরক্ষিত রাখবে। এ ছাড়াও দরজা, জানালা, মেঝের মতো ঐতিহাসিক উপাদানগুলো দ্বিতীয় ধাপের সংস্কারের সময় সংযুক্ত করা হবে।
খুব তাড়াতাড়ি দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হবে।’
সংস্কারের পর দেখা যায়, ভবনের চারপাশে সেই পুরাতন কাঠামো ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দেয়ালের পুরনো অংশ ধরে রাখতে ধাতব সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। ভেতরের ঘরগুলোতে সংস্কার করা হয়েছে। ভিমের ফাঁকে ফাঁকে পচে যাওয়া কাঠের কাঠামো সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
সেখানে কাঠের ঠেকনা দেওয়া হয়েছে। সেই কাঠের ঠেকনায় বার্নিশ করা হয়েছে। ভেতরের পরিবেশ এখন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা-বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন বলেন, ‘পুরনো ছবি, নথি এবং স্থানীয়দের বর্ণনা—সব বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছি। লক্ষ্য একটাই, ভবনটিকে তার আদিরূপের যতটা কাছে নিয়ে যাওয়া যায়।’
ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, জমিদার রূপচন্দ্র রাই ছিলেন লাকুটিয়া জমিদার পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। তার নাতি রাজচন্দ্র রায়ের সময় জমিদারির পরিধি বাড়ে। প্রায় ৫০ একর জমির ওপর তিনি নির্মাণ করেন এই জমিদারবাড়ি।
রূপচন্দ্র রায়ের সন্তানেরা ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত ছিলেন। এ পরিবারেরই দুই সদস্য, একজন ইন্দ্রলাল রায় (বিখ্যাত বৈমানিক), অপরজন পরেশলাল রায় (নামকরা বক্সার)। শুধু বাংলাদেশ নয় ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এই দুটো নাম আলোচিত। এই পরিবারের সঙ্গে ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তা। দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুই ছেলে অরুণেন্দ্রনাথ ও দীপেন্দ্রনাথ বিয়ে করেন রাজচন্দ্র রায়ের নাতনি সুশীলা ও চারুবালাকে।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় ৮ দশমিক ২০ মিটার উচ্চতা, ২৫.৪০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯.২০ মিটার প্রস্থের এই দোতলা ভবনে মোট নয়টি কক্ষ আছে। ভবনের সামনে ও পেছনের তিনটি বাঁধানো পুকুর স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘বাবুর পুকুর’ নামে।
সংরক্ষণকাজ যতই এগিয়ে যাচ্ছে জমিদারবাড়ির পাশের বাস্তবতা ততই দৃষ্টি কাড়ছে। ভবনের ঠিক পাশে বিএডিসির গুদাম ও ট্রাক্টর রাখার ঘর দাঁড়িয়ে আছে। পরিবেশবাদীদের মতে, এটি স্থাপনার নান্দনিকতা ও প্রত্নতাত্ত্বিক আবেদনকে ব্যাহত করছে।
জেলা প্রশাসন বলছে, সরকার ইতিমধ্যে জমিদারবাড়ির সীমানার ভেতরে থাকা প্রায় আট একর জমি ও বড় একটি পুকুর অধিগ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী লিঙ্কন বায়েন বলেন, ‘সংস্কার প্রশংসনীয়, কিন্তু ভবনের পাশের গুদাম না সরালে এর প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব কমে যাবে।’
২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারী আলপনা রায় চিঠি লিখে এই বাড়ি সংরক্ষণের দাবি জানান। তার বাবা পঙ্কজ রায় চৌধুরীর কাছেই তিনি শুনেছেন লাকুটিয়ার জমিদারবাড়ির গল্প। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি শুধু আমাদের পরিবারের নয়, বরিশালের ইতিহাসের বড় অংশ। প্রথম ধাপের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ায় আমি সত্যিই আনন্দিত।’
সংস্কার শুরু হওয়ায় স্থানীয় মানুষদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। বহু বছর ধরে দর্শনার্থীরা এসে হতাশ হয়ে ফিরেছেন। এখন তাদের প্রত্যাশা—সংস্কারকাজ শেষ হলে লাকুটিয়ার জমিদারবাড়ি আবারও তার গৌরবময় রূপ ফিরে পাবে।
সাংস্কৃতিক কর্মী সুশান্ত ঘোষ বলেন, ‘ছোটবেলায় এই বাড়ির সঙ্গে একটা সম্পর্ক ছিল। ধীরে ধীরে বাড়িটা ভেঙে যেতে দেখেছি। সংস্কারের জন্য চারুকলা বরিশালের উদ্যোগে সামাজিক কর্মসূচি পালন করেছি। এখন কাজ শুরু হয়েছে, আমরা চাই এটা পুরোপুরি সংরক্ষিত হোক।’
কুয়াশায় ঢেকে থাকা সকালের আলোয় দূর থেকেই চোখে পড়ে এক পুরনো প্রাসাদ লাকুটিয়ার জমিদারবাড়ি। শত বছরের বাতাস-ধুলো পেরিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভবনের দেয়ালে ছিল ক্ষয়ের গভীর দাগ, ছাদের টালি ঝরে পড়েছিল বহু আগেই। শেওলাধরা বারান্দা, ভেঙে পড়া নকশা, এসব মিলিয়ে জমিদার বাড়িটি ধ্বংসস্তূপে পরিনত হয়েছিল। দীর্ঘদিন অবহেলা আর অযত্নে হারিয়ে যেতে বসা এই স্থাপনাকে তার পুরনো রূপে ফিরিয়ে আনতে প্রথম পর্যায়ের সংস্কারকাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর গত ৪ মে থেকে সংস্কার শুরু করেছিল। ভবনের পুরনো ছাদ সম্পূর্ণ তুলে ফেলা হয়েছে। সাতক্ষীরা থেকে আনা টালি দিয়ে নতুন ছাদ বসানো হয়েছে। ভবনের চারপাশে তৈরি হয়েছে নতুন গোলাকার ইটের পিলার, যা ভবনের গঠনকে টিকিয়ে রাখতে সহয়তা করছে।
বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরের সহকারী কাস্টেডিয়ান আরিফুর রহমান বলেন, ‘প্রথম ধাপে প্রায় ৬০ লাখ টাকায় মূল ভবনের ভিত্তি, ইটের গাঁথুনি আর ছাদ সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছে। চারপাশে সাদা রঙ করা হয়েছে। যেটা বৃষ্টি থেকে ভবনকে সুরক্ষিত রাখবে। এ ছাড়াও দরজা, জানালা, মেঝের মতো ঐতিহাসিক উপাদানগুলো দ্বিতীয় ধাপের সংস্কারের সময় সংযুক্ত করা হবে।
খুব তাড়াতাড়ি দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হবে।’
সংস্কারের পর দেখা যায়, ভবনের চারপাশে সেই পুরাতন কাঠামো ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দেয়ালের পুরনো অংশ ধরে রাখতে ধাতব সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। ভেতরের ঘরগুলোতে সংস্কার করা হয়েছে। ভিমের ফাঁকে ফাঁকে পচে যাওয়া কাঠের কাঠামো সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
সেখানে কাঠের ঠেকনা দেওয়া হয়েছে। সেই কাঠের ঠেকনায় বার্নিশ করা হয়েছে। ভেতরের পরিবেশ এখন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা-বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন বলেন, ‘পুরনো ছবি, নথি এবং স্থানীয়দের বর্ণনা—সব বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছি। লক্ষ্য একটাই, ভবনটিকে তার আদিরূপের যতটা কাছে নিয়ে যাওয়া যায়।’
ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, জমিদার রূপচন্দ্র রাই ছিলেন লাকুটিয়া জমিদার পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। তার নাতি রাজচন্দ্র রায়ের সময় জমিদারির পরিধি বাড়ে। প্রায় ৫০ একর জমির ওপর তিনি নির্মাণ করেন এই জমিদারবাড়ি।
রূপচন্দ্র রায়ের সন্তানেরা ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত ছিলেন। এ পরিবারেরই দুই সদস্য, একজন ইন্দ্রলাল রায় (বিখ্যাত বৈমানিক), অপরজন পরেশলাল রায় (নামকরা বক্সার)। শুধু বাংলাদেশ নয় ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এই দুটো নাম আলোচিত। এই পরিবারের সঙ্গে ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তা। দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুই ছেলে অরুণেন্দ্রনাথ ও দীপেন্দ্রনাথ বিয়ে করেন রাজচন্দ্র রায়ের নাতনি সুশীলা ও চারুবালাকে।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় ৮ দশমিক ২০ মিটার উচ্চতা, ২৫.৪০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯.২০ মিটার প্রস্থের এই দোতলা ভবনে মোট নয়টি কক্ষ আছে। ভবনের সামনে ও পেছনের তিনটি বাঁধানো পুকুর স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘বাবুর পুকুর’ নামে।
সংরক্ষণকাজ যতই এগিয়ে যাচ্ছে জমিদারবাড়ির পাশের বাস্তবতা ততই দৃষ্টি কাড়ছে। ভবনের ঠিক পাশে বিএডিসির গুদাম ও ট্রাক্টর রাখার ঘর দাঁড়িয়ে আছে। পরিবেশবাদীদের মতে, এটি স্থাপনার নান্দনিকতা ও প্রত্নতাত্ত্বিক আবেদনকে ব্যাহত করছে।
জেলা প্রশাসন বলছে, সরকার ইতিমধ্যে জমিদারবাড়ির সীমানার ভেতরে থাকা প্রায় আট একর জমি ও বড় একটি পুকুর অধিগ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী লিঙ্কন বায়েন বলেন, ‘সংস্কার প্রশংসনীয়, কিন্তু ভবনের পাশের গুদাম না সরালে এর প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব কমে যাবে।’
২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারী আলপনা রায় চিঠি লিখে এই বাড়ি সংরক্ষণের দাবি জানান। তার বাবা পঙ্কজ রায় চৌধুরীর কাছেই তিনি শুনেছেন লাকুটিয়ার জমিদারবাড়ির গল্প। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি শুধু আমাদের পরিবারের নয়, বরিশালের ইতিহাসের বড় অংশ। প্রথম ধাপের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ায় আমি সত্যিই আনন্দিত।’
সংস্কার শুরু হওয়ায় স্থানীয় মানুষদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। বহু বছর ধরে দর্শনার্থীরা এসে হতাশ হয়ে ফিরেছেন। এখন তাদের প্রত্যাশা—সংস্কারকাজ শেষ হলে লাকুটিয়ার জমিদারবাড়ি আবারও তার গৌরবময় রূপ ফিরে পাবে।
সাংস্কৃতিক কর্মী সুশান্ত ঘোষ বলেন, ‘ছোটবেলায় এই বাড়ির সঙ্গে একটা সম্পর্ক ছিল। ধীরে ধীরে বাড়িটা ভেঙে যেতে দেখেছি। সংস্কারের জন্য চারুকলা বরিশালের উদ্যোগে সামাজিক কর্মসূচি পালন করেছি। এখন কাজ শুরু হয়েছে, আমরা চাই এটা পুরোপুরি সংরক্ষিত হোক।’

২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:৩২
কারাগারের উঁচু দেয়ালের ভেতরে বন্দি বাবা। বাইরে ভোটের মাঠে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বাবার জন্য ভোট চাইছেন মেয়ে। বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের ভোটাররা এমনই এক মানবিক গল্পের সাক্ষী হচ্ছেন। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু বর্তমানে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। তার অনুপস্থিতিতে নির্বাচনি প্রচারের পুরো দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন মেয়ে হাবিবা কিবরিয়া।
নির্বাচনি মাঠে হাবিবার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। কোথাও উঠান বৈঠক, কোথাও পথসভা করছেন। সব জায়গায় তিনি একটি বার্তা দিচ্ছেন। তার ভাষায়, ‘এটি শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, এটি একজন মেয়ের বাবাকে ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম।’ ঢাকায় সংসার, পাঁচ বছরের সন্তান এবং শ্বশুর-শাশুড়িকে রেখে তিনি এখন বাবুগঞ্জ ও মুলাদীর গ্রাম-গঞ্জে দিন কাটাচ্ছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গোলাম কিবরিয়া টিপুর বিরুদ্ধে ১০টি মামলা হয়। এরপর হলফনামা দাখিলের পর ১৩ জানুয়ারি আরও একটি মামলা হয়। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় নাগরিকত্বসংক্রান্ত বিষয়ে তার প্রার্থিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও পরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাই শেষে নিশ্চিত করেন–তার দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই। ফলে প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। এতে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়।
নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি অপরাধে অন্তত দুই বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত না হলে কোনো ব্যক্তির নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই। বিচারাধীন মামলায় বন্দি থাকা অবস্থায় এই আইনি সুযোগেই নির্বাচন করছেন গোলাম কিবরিয়া টিপু। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটের আগে মুক্তি না মিললেও তিনি কারাগার থেকেই নির্বাচন পরিচালনা করবেন।
মাঠে প্রচারের ফাঁকে হাবিবা কিবরিয়া জানান, তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। তার ভাষায়, ‘রাজনীতি যদি খেলায় পরিণত হয়, তাহলে সেই খেলার সবচেয়ে বড় শিকার আমার বাবা। মামলা, জামিন, আবার মামলা–এই বৃত্তের জবাব রাজপথে নয়, ভোটের মাধ্যমেই দিতে চাই।’
হাবিবা বলেন, ‘গোলাম কিবরিয়া টিপু শুধু একজন রাজনীতিক নন, তিনি একজন বাবা। একই সঙ্গে তিনি হাজার হাজার মানুষের আপনজন। কারও সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক, কারও সঙ্গে আত্মার টান। সেই সম্পর্কের শক্তিকে কাজে লাগাতেই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি।’
প্রচারের সময় বাবার অতীত কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন হাবিবা। তিনি বলেন, ‘এমপি থাকাকালে বাবুগঞ্জ ও মুলাদীর বিভিন্ন হাটবাজারের খাজনা নিজের তহবিল থেকে পরিশোধ করে আমার বাবা সাধারণ মানুষকে ইজারাদারদের চাপ থেকে মুক্ত করেছিলেন। মাঠেঘাটে যেখানেই যাচ্ছি, বাবার উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছি।’ তার বিশ্বাস, মানুষ এবার ভোট দিয়ে গোলাম কিবরিয়া টিপুকে জয়যুক্ত করবে এবং কারামুক্তির পথ খুলে দেবে।
এক বছরের বেশি সময় ধরে বাবার কারাবন্দি থাকার কথা জানাতে গিয়ে হাবিবার কণ্ঠে ক্ষোভ ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, ‘একজন মানুষকে কারাগারে রাখা যায়, কিন্তু হাজার হাজার মানুষকে নয়। সরকার চাইলে বাবাকে কারাগারে রাখতে পারে, কিন্তু ভোটের মাধ্যমে জনগণই জবাব দেবে।’ কারাগারে থেকেও নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এলাকাবাসীর ভালোবাসায় বাবাকে ফুলের মালা দিয়ে ফিরিয়ে আনার দৃশ্য কল্পনা করেন বলেও জানান তিনি।
কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে হাবিবা কিবরিয়া বলেন, নির্বাচনি মাঠে উত্তেজনা বা পাল্টা কথাবার্তায় না জড়ানোই সবচেয়ে ভালো পথ। অপমানজনক কথা শুনলেও ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তার ভাষায়, ‘এই লড়াইয়ে আবেগ নয়, শান্ত থাকাই সবচেয়ে বড় কৌশল।’
কারাগারের উঁচু দেয়ালের ভেতরে বন্দি বাবা। বাইরে ভোটের মাঠে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বাবার জন্য ভোট চাইছেন মেয়ে। বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের ভোটাররা এমনই এক মানবিক গল্পের সাক্ষী হচ্ছেন। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু বর্তমানে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। তার অনুপস্থিতিতে নির্বাচনি প্রচারের পুরো দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন মেয়ে হাবিবা কিবরিয়া।
নির্বাচনি মাঠে হাবিবার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। কোথাও উঠান বৈঠক, কোথাও পথসভা করছেন। সব জায়গায় তিনি একটি বার্তা দিচ্ছেন। তার ভাষায়, ‘এটি শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, এটি একজন মেয়ের বাবাকে ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম।’ ঢাকায় সংসার, পাঁচ বছরের সন্তান এবং শ্বশুর-শাশুড়িকে রেখে তিনি এখন বাবুগঞ্জ ও মুলাদীর গ্রাম-গঞ্জে দিন কাটাচ্ছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গোলাম কিবরিয়া টিপুর বিরুদ্ধে ১০টি মামলা হয়। এরপর হলফনামা দাখিলের পর ১৩ জানুয়ারি আরও একটি মামলা হয়। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় নাগরিকত্বসংক্রান্ত বিষয়ে তার প্রার্থিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও পরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাই শেষে নিশ্চিত করেন–তার দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই। ফলে প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। এতে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়।
নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি অপরাধে অন্তত দুই বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত না হলে কোনো ব্যক্তির নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই। বিচারাধীন মামলায় বন্দি থাকা অবস্থায় এই আইনি সুযোগেই নির্বাচন করছেন গোলাম কিবরিয়া টিপু। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটের আগে মুক্তি না মিললেও তিনি কারাগার থেকেই নির্বাচন পরিচালনা করবেন।
মাঠে প্রচারের ফাঁকে হাবিবা কিবরিয়া জানান, তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। তার ভাষায়, ‘রাজনীতি যদি খেলায় পরিণত হয়, তাহলে সেই খেলার সবচেয়ে বড় শিকার আমার বাবা। মামলা, জামিন, আবার মামলা–এই বৃত্তের জবাব রাজপথে নয়, ভোটের মাধ্যমেই দিতে চাই।’
হাবিবা বলেন, ‘গোলাম কিবরিয়া টিপু শুধু একজন রাজনীতিক নন, তিনি একজন বাবা। একই সঙ্গে তিনি হাজার হাজার মানুষের আপনজন। কারও সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক, কারও সঙ্গে আত্মার টান। সেই সম্পর্কের শক্তিকে কাজে লাগাতেই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি।’
প্রচারের সময় বাবার অতীত কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন হাবিবা। তিনি বলেন, ‘এমপি থাকাকালে বাবুগঞ্জ ও মুলাদীর বিভিন্ন হাটবাজারের খাজনা নিজের তহবিল থেকে পরিশোধ করে আমার বাবা সাধারণ মানুষকে ইজারাদারদের চাপ থেকে মুক্ত করেছিলেন। মাঠেঘাটে যেখানেই যাচ্ছি, বাবার উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছি।’ তার বিশ্বাস, মানুষ এবার ভোট দিয়ে গোলাম কিবরিয়া টিপুকে জয়যুক্ত করবে এবং কারামুক্তির পথ খুলে দেবে।
এক বছরের বেশি সময় ধরে বাবার কারাবন্দি থাকার কথা জানাতে গিয়ে হাবিবার কণ্ঠে ক্ষোভ ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, ‘একজন মানুষকে কারাগারে রাখা যায়, কিন্তু হাজার হাজার মানুষকে নয়। সরকার চাইলে বাবাকে কারাগারে রাখতে পারে, কিন্তু ভোটের মাধ্যমে জনগণই জবাব দেবে।’ কারাগারে থেকেও নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এলাকাবাসীর ভালোবাসায় বাবাকে ফুলের মালা দিয়ে ফিরিয়ে আনার দৃশ্য কল্পনা করেন বলেও জানান তিনি।
কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে হাবিবা কিবরিয়া বলেন, নির্বাচনি মাঠে উত্তেজনা বা পাল্টা কথাবার্তায় না জড়ানোই সবচেয়ে ভালো পথ। অপমানজনক কথা শুনলেও ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তার ভাষায়, ‘এই লড়াইয়ে আবেগ নয়, শান্ত থাকাই সবচেয়ে বড় কৌশল।’

২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:২২
বরিশাল মেট্রোপলিটন (বিএমপি) পুলিশের কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রশংসায় ভাসছেন নগরবাসীর। গত (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পুলিশের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোঃ শফিকুল ইসলাম,(বিএমপি) পুলিশের কমিশনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেই,নগরবাসীর নিরাপত্তা,আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি,মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ, কিশোর গ্যাং,ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।
পুলিশ কমিশনার নির্দেশনায়,মাদকের স্পটগুলো (মাদকমুক্ত) নগরীতে রুপ নিয়েছে। নগরীর অর্ধশত স্পটে প্রকাশ্যে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।
বিনোদন কেন্দ্রগুলোর আশপাশে হরহামেশাই চলতে মাদক সেবন। ত্রিশ গোডাউন,বেলসপার্কের হ্যালিপ্যাড, কেডিসি, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, রসুলপুর, পলাশপুর, বেলতলা, লামছড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় মাদক বিক্রি ও সেবন করতে প্রকাশ্যে।
তিনি গভীর রাতে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আকস্মিক পরিদর্শন করেন (বিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি চেকপোস্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে তদারকি করেন এবং রাত্রীকালীন নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা প্রদান করেন।
কমিশনার শফিকুল ইসলাম নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে পথচারী, দুরপাল্লার লঞ্চ ও নাইটকোচ যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। যাত্রাপথে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভ্রমণ নিরাপত্তায় করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন (বিএমপি) পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে বিএমপি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন (বিএমপি) পুলিশের কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রশংসায় ভাসছেন নগরবাসীর। গত (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পুলিশের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোঃ শফিকুল ইসলাম,(বিএমপি) পুলিশের কমিশনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেই,নগরবাসীর নিরাপত্তা,আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি,মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ, কিশোর গ্যাং,ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।
পুলিশ কমিশনার নির্দেশনায়,মাদকের স্পটগুলো (মাদকমুক্ত) নগরীতে রুপ নিয়েছে। নগরীর অর্ধশত স্পটে প্রকাশ্যে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।
বিনোদন কেন্দ্রগুলোর আশপাশে হরহামেশাই চলতে মাদক সেবন। ত্রিশ গোডাউন,বেলসপার্কের হ্যালিপ্যাড, কেডিসি, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, রসুলপুর, পলাশপুর, বেলতলা, লামছড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় মাদক বিক্রি ও সেবন করতে প্রকাশ্যে।
তিনি গভীর রাতে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আকস্মিক পরিদর্শন করেন (বিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি চেকপোস্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে তদারকি করেন এবং রাত্রীকালীন নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা প্রদান করেন।
কমিশনার শফিকুল ইসলাম নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে পথচারী, দুরপাল্লার লঞ্চ ও নাইটকোচ যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। যাত্রাপথে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভ্রমণ নিরাপত্তায় করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন (বিএমপি) পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে বিএমপি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৪৭
যাদের জন্ম নদীতে, সংসার নৌকায় আর জীবন কাটে ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে; সেই মান্তা সম্প্রদায়ের কাছে ‘রাষ্ট্র’ কিংবা ‘সরকার’ ছিল এতদিন কেবলই ধোঁয়াশা। নাগরিকত্বের স্বাদহীন কয়েক প্রজন্মের বঞ্চনা পেরিয়ে এবার ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখতে যাচ্ছেন তারা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের সহস্রাধিক মান্তা মানুষ প্রথমবারের মতো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন।
বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের লাহারহাটে বসবাস করেন ১৭৯টি মান্তা পরিবারের প্রায় চারশ মানুষ। এদের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তি এবার নতুন ভোটার হয়েছেন। এই সম্প্রদায়ের সর্দার জাকির হোসেন জানান, আগে ভোট আসত আর যেত, কিন্তু ডাঙার মানুষের মতো নাগরিক সুযোগ-সুবিধা তাদের কাছে ছিল কল্পনাতীত।
তিনি বলেন, কখনও কোনো প্রার্থী আমাদের খোঁজ নিতে আসত না। এবার আমরা ভোটার হয়েছি। আমরা এমন প্রার্থীকে বেছে নেব, যিনি আমাদের দুঃখ-কষ্টের কথা বুঝবেন।
নতুন ভোটার হওয়া আলমগীর শোনালেন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, নৌকায় ফিরতে রাত হলে ডাঙায় পুলিশ ধরলে পরিচয়পত্র দেখাতে পারতাম না, ফলে চরম হয়রানির শিকার হতে হতো। জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ায় এখন অন্তত বুক ফুলিয়ে নিজের পরিচয় দিতে পারব।
অন্যদিকে, ষাটোর্ধ্ব সামিরন বিবি জানান তাদের মৌলিক সংকটের কথা। নদীতে মাছ কমে যাওয়ায় অভাব এখন নিত্যসঙ্গী। মারা গেলে দাফনের জায়গাটুকুও সহজে মেলে না। তাই যে প্রার্থী এই সংকট দূর করবে, তাকেই তারা সংসদে পাঠাতে চান।
বরিশাল জেলা নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান মান্তাদের নিয়ে দীর্ঘ বছর কাজ করে আসছে। তাদের চেষ্টা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় এই জনগোষ্ঠীর প্রায় হাজারের বেশি মানুষ নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।
মান্তা সম্প্রদায়কে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা চন্দ্রদ্বীপ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি। সংস্থাটির প্রকল্প সমন্বয়কারী মহানন্দ দাস জানান, মান্তাদের ভোটার করাটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের গুরুত্বই বুঝত না। বারবার তাদের কাছে গিয়ে নাগরিকত্বের বিষয়ে সচেতন করতে হয়েছে।
এখানকার প্রকল্প সমন্বয়কারী মহানন্দ দাস তিনি জানান, মান্তাদের ভোটার করাটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জের। অনীহা ছিল তাদের নিজেদেরই। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন- মান্তারা জাতীয় পরিচয়পত্র কী সেটাই জানত না। তাদের এর সুফল বোঝাতেই সময় লেগেছে সবচে বেশি। একাধিকবার তাদের কাছে গিয়ে নাগরিকত্বের বিষয়ে জানাতে হয়েছে।
তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মান্তা সম্প্রদায়ের ভোট গুরুত্ব রাখবে জানিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, যে সকল প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তাদের ইশতেহারে অবশ্যই এই মান্তা সম্প্রদায়ের উন্নয়নে করণীয় কী সেটি সুনিদৃষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেন, 'যে সকল প্রার্থী এই গোষ্ঠীর ভোটকে নিজের দিকে টানতে পারবেন তার জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই এগিয়ে থাকবে।'
যাদের জন্ম নদীতে, সংসার নৌকায় আর জীবন কাটে ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে; সেই মান্তা সম্প্রদায়ের কাছে ‘রাষ্ট্র’ কিংবা ‘সরকার’ ছিল এতদিন কেবলই ধোঁয়াশা। নাগরিকত্বের স্বাদহীন কয়েক প্রজন্মের বঞ্চনা পেরিয়ে এবার ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখতে যাচ্ছেন তারা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের সহস্রাধিক মান্তা মানুষ প্রথমবারের মতো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন।
বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের লাহারহাটে বসবাস করেন ১৭৯টি মান্তা পরিবারের প্রায় চারশ মানুষ। এদের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তি এবার নতুন ভোটার হয়েছেন। এই সম্প্রদায়ের সর্দার জাকির হোসেন জানান, আগে ভোট আসত আর যেত, কিন্তু ডাঙার মানুষের মতো নাগরিক সুযোগ-সুবিধা তাদের কাছে ছিল কল্পনাতীত।
তিনি বলেন, কখনও কোনো প্রার্থী আমাদের খোঁজ নিতে আসত না। এবার আমরা ভোটার হয়েছি। আমরা এমন প্রার্থীকে বেছে নেব, যিনি আমাদের দুঃখ-কষ্টের কথা বুঝবেন।
নতুন ভোটার হওয়া আলমগীর শোনালেন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, নৌকায় ফিরতে রাত হলে ডাঙায় পুলিশ ধরলে পরিচয়পত্র দেখাতে পারতাম না, ফলে চরম হয়রানির শিকার হতে হতো। জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ায় এখন অন্তত বুক ফুলিয়ে নিজের পরিচয় দিতে পারব।
অন্যদিকে, ষাটোর্ধ্ব সামিরন বিবি জানান তাদের মৌলিক সংকটের কথা। নদীতে মাছ কমে যাওয়ায় অভাব এখন নিত্যসঙ্গী। মারা গেলে দাফনের জায়গাটুকুও সহজে মেলে না। তাই যে প্রার্থী এই সংকট দূর করবে, তাকেই তারা সংসদে পাঠাতে চান।
বরিশাল জেলা নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান মান্তাদের নিয়ে দীর্ঘ বছর কাজ করে আসছে। তাদের চেষ্টা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় এই জনগোষ্ঠীর প্রায় হাজারের বেশি মানুষ নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।
মান্তা সম্প্রদায়কে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা চন্দ্রদ্বীপ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি। সংস্থাটির প্রকল্প সমন্বয়কারী মহানন্দ দাস জানান, মান্তাদের ভোটার করাটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের গুরুত্বই বুঝত না। বারবার তাদের কাছে গিয়ে নাগরিকত্বের বিষয়ে সচেতন করতে হয়েছে।
এখানকার প্রকল্প সমন্বয়কারী মহানন্দ দাস তিনি জানান, মান্তাদের ভোটার করাটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জের। অনীহা ছিল তাদের নিজেদেরই। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন- মান্তারা জাতীয় পরিচয়পত্র কী সেটাই জানত না। তাদের এর সুফল বোঝাতেই সময় লেগেছে সবচে বেশি। একাধিকবার তাদের কাছে গিয়ে নাগরিকত্বের বিষয়ে জানাতে হয়েছে।
তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মান্তা সম্প্রদায়ের ভোট গুরুত্ব রাখবে জানিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, যে সকল প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তাদের ইশতেহারে অবশ্যই এই মান্তা সম্প্রদায়ের উন্নয়নে করণীয় কী সেটি সুনিদৃষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেন, 'যে সকল প্রার্থী এই গোষ্ঠীর ভোটকে নিজের দিকে টানতে পারবেন তার জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই এগিয়ে থাকবে।'

Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.