পটুয়াখালীতে ঢাকাগামী ইমরান ট্রাভেলসের বাসের সঙ্গে অটোরিকশার সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। নিহত সবাই অটোরিকশার যাত্রী বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বসাক বাজারসংলগ্ন ধলু গাজীর মোড় এলাকায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—গলাচিপার আমখোলা এলাকার রাজ্জাক পেদার ছেলে কাউয়ুম উদ্দিন (৫০), অনিল মিস্ত্রির মেয়ে শিল্পী রানী (৪০), বাউফলের বিলবিলাস এলাকার দিয়েন মিস্ত্রির মেয়ে তিথি রানী (২৩) এবং গলাচিপার হরিদেবপুর এলাকার সোবাহানের ছেলে মিরাজ (৩৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার তালতলী থেকে ৩৫ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল ইমরান ট্রাভেলসের বাসটি। রাত পৌনে ১২টার দিকে ধলু গাজীর মোড়ে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশার সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটিকে চাপা দিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার শব্দে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
আহতদের উদ্ধার করে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাসের যাত্রীদের মধ্যে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বাসযাত্রী মহিবুল্লাহ বলেন, ‘বাসটি শুরু থেকেই অনেক গতিতে চলছিল। হঠাৎ কী হলো কিছুই বুঝতে পারিনি। আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়েছেন।’
আরেক যাত্রী শিমুল আকন বলেন, ‘পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় বেড়াতে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। তবে পরিবারের কারও কোনো ক্ষতি হয়নি।’
স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল বলেন, ‘হঠাৎ ঝপ করে কিছু একটা পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে আমরা দৌড়ে আসি। এসে দেখি বাসটি খাদে পড়ে আছে। বাসের নিচে একটি অটোরিকশাও চাপা পড়ে ছিল।’
পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. রেজোয়ান বলেন, দুটি ইউনিট উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বরিশালটাইমসকে বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে হাসপাতালে আরও একজন মারা গেছেন। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:১৭
পটুয়াখালীর গলাচিপায় সরকারি খাসজমিতে গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয় নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের বাদুরা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের কয়েকজনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের পটুয়াখালী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাদুরা বাজারে একটি গ্যারেজের পাশের সরকারি জমিতে গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ের জন্য ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন ইউনিয়ন যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক কাওসার মৃধাসহ কয়েকজন। এ সময় জমিটির মালিকানা দাবি করে বাবুল হাওলাদার, জাহাঙ্গীর মৃধা, সামচু ও সোহাগসহ কয়েকজন নির্মাণকাজে বাধা দেন।
এ নিয়ে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে হাতাহাতি থেকে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে কাওসার মৃধা (৪০), আবুবকর (২৯), শফিক (২৯), মনসুর (২৪), শাকিল (২৬), রেজাউল করিম (৩২), সামছুল আলম (২৮), শিহাব (২০) ও সুজন (২৫) রয়েছেন।
বাবুল হাওলাদারের দাবি, বাদুরা বাজারে তাদের ক্রয় করা জমিতে জোর করে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হলে তারা বাধা দেন। অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের নেতা এমদাদ হোসেনের অভিযোগ, সরকারি জমিতে কার্যালয় নির্মাণের সময় বাবুল হাওলাদারের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়।
আমখোলা ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন ছাড়া জমিটির বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
গলাচিপা থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কোনো পক্ষ এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়াখালীর গলাচিপায় সরকারি খাসজমিতে গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয় নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের বাদুরা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের কয়েকজনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের পটুয়াখালী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাদুরা বাজারে একটি গ্যারেজের পাশের সরকারি জমিতে গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ের জন্য ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন ইউনিয়ন যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক কাওসার মৃধাসহ কয়েকজন। এ সময় জমিটির মালিকানা দাবি করে বাবুল হাওলাদার, জাহাঙ্গীর মৃধা, সামচু ও সোহাগসহ কয়েকজন নির্মাণকাজে বাধা দেন।
এ নিয়ে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে হাতাহাতি থেকে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে কাওসার মৃধা (৪০), আবুবকর (২৯), শফিক (২৯), মনসুর (২৪), শাকিল (২৬), রেজাউল করিম (৩২), সামছুল আলম (২৮), শিহাব (২০) ও সুজন (২৫) রয়েছেন।
বাবুল হাওলাদারের দাবি, বাদুরা বাজারে তাদের ক্রয় করা জমিতে জোর করে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হলে তারা বাধা দেন। অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের নেতা এমদাদ হোসেনের অভিযোগ, সরকারি জমিতে কার্যালয় নির্মাণের সময় বাবুল হাওলাদারের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়।
আমখোলা ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন ছাড়া জমিটির বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
গলাচিপা থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কোনো পক্ষ এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:১৫
পটুয়াখালীর দুমকিতে রাতের আঁধারে মো. আরিফ হোসেন (২৮) নামের এক গাড়িচালককে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আকন বাড়ির সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরিফ হোসেন পশ্চিম লেবুখালী গ্রামের কবির হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন আরিফ। পথে আকন বাড়ির সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে লেবুখালী প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার শরীরে ধারালো ছুরির একাধিক আঘাত রয়েছে বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দীন জানান, ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। হামলার কারণ অনুসন্ধান এবং জড়িত দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে।
পটুয়াখালীর দুমকিতে রাতের আঁধারে মো. আরিফ হোসেন (২৮) নামের এক গাড়িচালককে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আকন বাড়ির সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরিফ হোসেন পশ্চিম লেবুখালী গ্রামের কবির হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন আরিফ। পথে আকন বাড়ির সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে লেবুখালী প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার শরীরে ধারালো ছুরির একাধিক আঘাত রয়েছে বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দীন জানান, ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। হামলার কারণ অনুসন্ধান এবং জড়িত দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে।

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:০০
পটুয়াখালীর বাউফলে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সদস্য ফরিদ উদ্দিন গাজীর বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
হুমকির অভিযোগে বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল (৫২)।
ছড়িয়ে পড়া অডিওতে ফরিদ গাজীর কণ্ঠ বলে দাবি করা ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার একটা শখ জাগছে, বুঝছেন? ... পুড়মু, আপনারে বাইছা নিছি।’ অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের অভিযোগ, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে এলাকায় ব্যানার ও ফেস্টুন টানানোর পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ফরিদ উদ্দিন গাজী তাকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।
গোবিন্দ বাউফল সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা। ঢাকায় জমি কেনাবেচার ব্যবসার পাশাপাশি এলাকায় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার এবং মাছের ঘেরের ব্যবসা করেন।
অভিযুক্ত ফরিদ গাজীর বাড়ি সদর ইউনিয়নের বিলবিলাস গ্রামে। তিনি উপজেলা বিএনপির সদস্য। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ফরিদ নিজে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতার ঘোষণা না দিলেও তার পছন্দের একজন প্রার্থী রয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ফরিদ উদ্দিন গাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকির অভিযোগের মধ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চেক প্রতারণার একটি মামলায় ফরিদ গাজীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ফরিদ গাজীকে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের অভিযোগের বিষয়েও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে এমন হুমকির অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা ও হুমকির পেছনের কারণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে প্রথমে ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে ‘দাদু’ সম্বোধন করে নিজের পরিচয় দেন ফরিদ উদ্দিন গাজী। এরপর তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার একটা শখ জাগছে, বুঝছেন? আমি একটা জ্যাতা...(সংবেদনশীল শব্দ) পুড়মু (পোড়াব), আপনারে বাইছা নিছি। এ ক্ষেত্রে আপনার মন্তব্য কী? আপনার কোনো প্রতিক্রিয়া আছে?’
এরপর তিনি বলেন, ‘আপনারে সকালে খুঁইজা আইছিলাম, আপনি মনে হয় স্টেশনে (এলাকা) নাই।’
জবাবে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে বলতে শোনা যায়, ‘না, না, নাই।’
এরপর ফরিদ গাজী আবার বলেন, ‘তো আপনার এতে মন্তব্য কী? জ্যাতা নমো পুড়মু, আপনারেই বাইছা নিছি, আপনি কী কন? আপনার সুবিধার জন্য আমার ফোনালাপ রেকর্ড কইরা রাখলে এইটাও রেকর্ড কইরা রাখেন। আপনার মন্তব্য কী এ ক্ষেত্রে?’
জবাবে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘আমার মন্তব্য কী থাকবে, আপনার মনে খুশি ধরছে, আপনি করেন।’
কথোপকথনের একপর্যায়ে ফরিদ গাজী জানতে চান, ‘আপনি এলাকায় আসতেছেন কবে নাগাদ?’
জবাবে ব্যবসায়ী বলেন, ‘এই যে আসব, আমু তো অবশ্যই। এলাকায় যেহেতু বাড়ি, আসব না? আসব।’
তখন ফরিদ গাজী বলেন, ‘তো খবরটা কী আপনি আমাকে দিবেন, নাকি আমার খবর রাখা লাগবে?’
জবাবে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘আইলে তো মানুষ জানবেই, যেদিন আসব জানবে।’
আগেও হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ
গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর ফরিদ গাজী তাকে আগেও মুঠোফোনে হুমকি দিয়েছেন। ওই সময় তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে আগের কথোপকথন তিনি রেকর্ড করতে পারেননি।
গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘আমি নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ যে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তাতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ কারণে থানায় জিডি করেছি।’
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, ফরিদ উদ্দিন গাজীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির নেতাদের তদন্ত করে প্রতিবেদন ও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ জেলায় পাঠাতে বলা হয়েছে। তদন্তের পর সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আপেল মাহমুদ (ফিরোজ) বলেন, ফরিদ গাজীর বিষয়ে জেলা বিএনপিকে জানানো হয়েছে। জেলা নেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ পাঠানো হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে ফরিদ উদ্দিন গাজীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। হুমকির অভিযোগ ওঠার পরপরই তিনি অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও অডিওটির উৎস সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তের কথা জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পটুয়াখালীর বাউফলে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সদস্য ফরিদ উদ্দিন গাজীর বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
হুমকির অভিযোগে বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল (৫২)।
ছড়িয়ে পড়া অডিওতে ফরিদ গাজীর কণ্ঠ বলে দাবি করা ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার একটা শখ জাগছে, বুঝছেন? ... পুড়মু, আপনারে বাইছা নিছি।’ অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের অভিযোগ, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে এলাকায় ব্যানার ও ফেস্টুন টানানোর পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ফরিদ উদ্দিন গাজী তাকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।
গোবিন্দ বাউফল সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা। ঢাকায় জমি কেনাবেচার ব্যবসার পাশাপাশি এলাকায় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার এবং মাছের ঘেরের ব্যবসা করেন।
অভিযুক্ত ফরিদ গাজীর বাড়ি সদর ইউনিয়নের বিলবিলাস গ্রামে। তিনি উপজেলা বিএনপির সদস্য। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ফরিদ নিজে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতার ঘোষণা না দিলেও তার পছন্দের একজন প্রার্থী রয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ফরিদ উদ্দিন গাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকির অভিযোগের মধ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চেক প্রতারণার একটি মামলায় ফরিদ গাজীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ফরিদ গাজীকে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের অভিযোগের বিষয়েও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে এমন হুমকির অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা ও হুমকির পেছনের কারণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে প্রথমে ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে ‘দাদু’ সম্বোধন করে নিজের পরিচয় দেন ফরিদ উদ্দিন গাজী। এরপর তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার একটা শখ জাগছে, বুঝছেন? আমি একটা জ্যাতা...(সংবেদনশীল শব্দ) পুড়মু (পোড়াব), আপনারে বাইছা নিছি। এ ক্ষেত্রে আপনার মন্তব্য কী? আপনার কোনো প্রতিক্রিয়া আছে?’
এরপর তিনি বলেন, ‘আপনারে সকালে খুঁইজা আইছিলাম, আপনি মনে হয় স্টেশনে (এলাকা) নাই।’
জবাবে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে বলতে শোনা যায়, ‘না, না, নাই।’
এরপর ফরিদ গাজী আবার বলেন, ‘তো আপনার এতে মন্তব্য কী? জ্যাতা নমো পুড়মু, আপনারেই বাইছা নিছি, আপনি কী কন? আপনার সুবিধার জন্য আমার ফোনালাপ রেকর্ড কইরা রাখলে এইটাও রেকর্ড কইরা রাখেন। আপনার মন্তব্য কী এ ক্ষেত্রে?’
জবাবে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘আমার মন্তব্য কী থাকবে, আপনার মনে খুশি ধরছে, আপনি করেন।’
কথোপকথনের একপর্যায়ে ফরিদ গাজী জানতে চান, ‘আপনি এলাকায় আসতেছেন কবে নাগাদ?’
জবাবে ব্যবসায়ী বলেন, ‘এই যে আসব, আমু তো অবশ্যই। এলাকায় যেহেতু বাড়ি, আসব না? আসব।’
তখন ফরিদ গাজী বলেন, ‘তো খবরটা কী আপনি আমাকে দিবেন, নাকি আমার খবর রাখা লাগবে?’
জবাবে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘আইলে তো মানুষ জানবেই, যেদিন আসব জানবে।’
আগেও হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ
গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর ফরিদ গাজী তাকে আগেও মুঠোফোনে হুমকি দিয়েছেন। ওই সময় তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে আগের কথোপকথন তিনি রেকর্ড করতে পারেননি।
গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘আমি নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ যে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তাতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ কারণে থানায় জিডি করেছি।’
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, ফরিদ উদ্দিন গাজীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির নেতাদের তদন্ত করে প্রতিবেদন ও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ জেলায় পাঠাতে বলা হয়েছে। তদন্তের পর সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আপেল মাহমুদ (ফিরোজ) বলেন, ফরিদ গাজীর বিষয়ে জেলা বিএনপিকে জানানো হয়েছে। জেলা নেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ পাঠানো হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে ফরিদ উদ্দিন গাজীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। হুমকির অভিযোগ ওঠার পরপরই তিনি অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও অডিওটির উৎস সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তের কথা জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:১৫
পটুয়াখালীতে ঢাকাগামী ইমরান ট্রাভেলসের বাসের সঙ্গে অটোরিকশার সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। নিহত সবাই অটোরিকশার যাত্রী বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বসাক বাজারসংলগ্ন ধলু গাজীর মোড় এলাকায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—গলাচিপার আমখোলা এলাকার রাজ্জাক পেদার ছেলে কাউয়ুম উদ্দিন (৫০), অনিল মিস্ত্রির মেয়ে শিল্পী রানী (৪০), বাউফলের বিলবিলাস এলাকার দিয়েন মিস্ত্রির মেয়ে তিথি রানী (২৩) এবং গলাচিপার হরিদেবপুর এলাকার সোবাহানের ছেলে মিরাজ (৩৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার তালতলী থেকে ৩৫ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল ইমরান ট্রাভেলসের বাসটি। রাত পৌনে ১২টার দিকে ধলু গাজীর মোড়ে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশার সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটিকে চাপা দিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার শব্দে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
আহতদের উদ্ধার করে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাসের যাত্রীদের মধ্যে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বাসযাত্রী মহিবুল্লাহ বলেন, ‘বাসটি শুরু থেকেই অনেক গতিতে চলছিল। হঠাৎ কী হলো কিছুই বুঝতে পারিনি। আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়েছেন।’
আরেক যাত্রী শিমুল আকন বলেন, ‘পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় বেড়াতে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। তবে পরিবারের কারও কোনো ক্ষতি হয়নি।’
স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল বলেন, ‘হঠাৎ ঝপ করে কিছু একটা পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে আমরা দৌড়ে আসি। এসে দেখি বাসটি খাদে পড়ে আছে। বাসের নিচে একটি অটোরিকশাও চাপা পড়ে ছিল।’
পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. রেজোয়ান বলেন, দুটি ইউনিট উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বরিশালটাইমসকে বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে হাসপাতালে আরও একজন মারা গেছেন। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’