পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির বসতঘর বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার পর মালামাল লুট করে আগুন দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত এ হামলা চালানো হয়। ওই বাড়ির বাসিন্দাদের অভিযোগ, পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই শাহীন চৌধুরী এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা এ ঘটনায় জড়িত।
ওই আওয়ামী লীগের নেতার নাম কাজী মিজানুর রহমান (লাভলু), তিনি মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে আছেন। তাঁর জায়গায় ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা।
আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িটি উপজেলার কাঁঠালতলী বাজারসংলগ্ন উত্তর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
মির্জাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার সকাল ৬টা ৮ মিনিটে ফোন পেয়ে তাঁদের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দেখতে পান, কাজী মিজানুর রহমানের বসতঘরে আগুন জ্বলছে এবং বাড়ির সামনের অংশ ভাঙা। পরে তাঁরা চারটি কক্ষের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কাজী মিজানুর রহমানের স্ত্রী মেহেরুন্নেছা শিল্পী সাংবাদিকদের জানান, তাঁর বৃদ্ধা শাশুড়ি অসুস্থ থাকায় পরিবার নিয়ে তাঁরা ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে পলাশ হাওলাদার এবং সাবেক সভাপতি মনির খন্দকারের নেতৃত্বে প্রায় আড়াই শ মানুষ বুলডোজার দিয়ে তাঁদের পাকা বসতঘরটি ভেঙে ফেলেন।
তার ভাষ্য, ভবন ভাঙার পর ঘরে থাকা চারটি রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), স্বর্ণালংকারসহ পরিবারের ব্যবহার্য প্রায় সব মালামাল লুট করা হয়। লুট হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। এরপর পরে ৬ কক্ষের প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
মেহেরুন্নেছা জানান, এ ঘটনার খবর পেয়ে তিনি রাজধানী ঢাকা থেকে রওনা হয়ে শনিবার ভোরে বাড়িতে পৌঁছান। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, হামলার আগে কাঁঠালতলী বাজার ও আশপাশের এলাকা থেকে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়। কেউ ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে তাঁদের কাছ থেকে মুঠোফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, তাঁদের বাড়ি থেকে প্রায় ৩০ ফুট দূরে কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ি অবস্থিত। গভীর রাতে বুলডোজারের শব্দ শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও হামলাকারীরা তাদের ধাওয়া দিলে পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার কারণে সরে যান। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
মিজানুর রহমান মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, জমি কিনে তিনি বাড়ি করেছেন। কী কারণে তাঁর বাড়ি ভাঙা হয়েছে, এ প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘যাঁরা আমার বাড়ি ভাঙায় জড়িত, তাঁদের সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই।’
হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী। হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কারা জড়িত—এমন প্রশ্নের জবাবে শাহীন চৌধুরী বলেন, শুক্রবার তিনি ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরেছেন, তাই ঘটনার বিষয়ে অবগত নন।
অভিযুক্ত মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মনির খন্দকারের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেননি। মনির খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, মিজানুর রহমান পাবলিক লাইব্রেরির জমি দখল করে ঘর তুলেছেন, যা ভূমি অফিসের মাধ্যমে প্রমাণিত, সেখানে তার এক টুকরো জমিও নেই।
প্রশাসনের মাধ্যমে ঘরটি না ভেঙে নিজেরা কেন ভাঙলেন, এমন প্রশ্নে মনির খন্দকার বলেন, ‘বিগত দিনে বিএনপি কিন্তু প্রশাসন ব্যবহার করেননি। তাছাড়া তাঁরা (মিজানুর রহমান ও তাঁর অনুসারীরা) জবরদখল করছেন। এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বাসায় তিনবার হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। আমরা চাইলে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ঘরটি ভাঙতে পারতাম, সেটি না করে পাহারা দিয়েছি।’ এরপর মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন তিনি।
এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, ভোররাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা মিজানুর রহমানের বসতঘরে আগুন দেয় এবং বেকু (খনন) মেশিন দিয়ে বাড়ির অংশ ভেঙে ফেলে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘরের ভেতরে কেউ না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখনো ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল সাংবাদিকদের বলেন, ভোররাতে ফায়ার সার্ভিস থেকে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানার চেষ্টা করেন। তবে অনেকেই এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। পরে কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়িকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন, জানান ইউএনও।’

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:০০
পটুয়াখালীর বাউফলে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সদস্য ফরিদ উদ্দিন গাজীর বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
হুমকির অভিযোগে বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল (৫২)।
ছড়িয়ে পড়া অডিওতে ফরিদ গাজীর কণ্ঠ বলে দাবি করা ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার একটা শখ জাগছে, বুঝছেন? ... পুড়মু, আপনারে বাইছা নিছি।’ অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের অভিযোগ, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে এলাকায় ব্যানার ও ফেস্টুন টানানোর পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ফরিদ উদ্দিন গাজী তাকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।
গোবিন্দ বাউফল সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা। ঢাকায় জমি কেনাবেচার ব্যবসার পাশাপাশি এলাকায় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার এবং মাছের ঘেরের ব্যবসা করেন।
অভিযুক্ত ফরিদ গাজীর বাড়ি সদর ইউনিয়নের বিলবিলাস গ্রামে। তিনি উপজেলা বিএনপির সদস্য। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ফরিদ নিজে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতার ঘোষণা না দিলেও তার পছন্দের একজন প্রার্থী রয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ফরিদ উদ্দিন গাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকির অভিযোগের মধ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চেক প্রতারণার একটি মামলায় ফরিদ গাজীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ফরিদ গাজীকে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের অভিযোগের বিষয়েও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে এমন হুমকির অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা ও হুমকির পেছনের কারণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে প্রথমে ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে ‘দাদু’ সম্বোধন করে নিজের পরিচয় দেন ফরিদ উদ্দিন গাজী। এরপর তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার একটা শখ জাগছে, বুঝছেন? আমি একটা জ্যাতা...(সংবেদনশীল শব্দ) পুড়মু (পোড়াব), আপনারে বাইছা নিছি। এ ক্ষেত্রে আপনার মন্তব্য কী? আপনার কোনো প্রতিক্রিয়া আছে?’
এরপর তিনি বলেন, ‘আপনারে সকালে খুঁইজা আইছিলাম, আপনি মনে হয় স্টেশনে (এলাকা) নাই।’
জবাবে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে বলতে শোনা যায়, ‘না, না, নাই।’
এরপর ফরিদ গাজী আবার বলেন, ‘তো আপনার এতে মন্তব্য কী? জ্যাতা নমো পুড়মু, আপনারেই বাইছা নিছি, আপনি কী কন? আপনার সুবিধার জন্য আমার ফোনালাপ রেকর্ড কইরা রাখলে এইটাও রেকর্ড কইরা রাখেন। আপনার মন্তব্য কী এ ক্ষেত্রে?’
জবাবে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘আমার মন্তব্য কী থাকবে, আপনার মনে খুশি ধরছে, আপনি করেন।’
কথোপকথনের একপর্যায়ে ফরিদ গাজী জানতে চান, ‘আপনি এলাকায় আসতেছেন কবে নাগাদ?’
জবাবে ব্যবসায়ী বলেন, ‘এই যে আসব, আমু তো অবশ্যই। এলাকায় যেহেতু বাড়ি, আসব না? আসব।’
তখন ফরিদ গাজী বলেন, ‘তো খবরটা কী আপনি আমাকে দিবেন, নাকি আমার খবর রাখা লাগবে?’
জবাবে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘আইলে তো মানুষ জানবেই, যেদিন আসব জানবে।’
আগেও হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ
গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর ফরিদ গাজী তাকে আগেও মুঠোফোনে হুমকি দিয়েছেন। ওই সময় তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে আগের কথোপকথন তিনি রেকর্ড করতে পারেননি।
গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘আমি নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ যে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তাতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ কারণে থানায় জিডি করেছি।’
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, ফরিদ উদ্দিন গাজীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির নেতাদের তদন্ত করে প্রতিবেদন ও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ জেলায় পাঠাতে বলা হয়েছে। তদন্তের পর সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আপেল মাহমুদ (ফিরোজ) বলেন, ফরিদ গাজীর বিষয়ে জেলা বিএনপিকে জানানো হয়েছে। জেলা নেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ পাঠানো হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে ফরিদ উদ্দিন গাজীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। হুমকির অভিযোগ ওঠার পরপরই তিনি অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও অডিওটির উৎস সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তের কথা জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পটুয়াখালীর বাউফলে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সদস্য ফরিদ উদ্দিন গাজীর বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
হুমকির অভিযোগে বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল (৫২)।
ছড়িয়ে পড়া অডিওতে ফরিদ গাজীর কণ্ঠ বলে দাবি করা ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার একটা শখ জাগছে, বুঝছেন? ... পুড়মু, আপনারে বাইছা নিছি।’ অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের অভিযোগ, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে এলাকায় ব্যানার ও ফেস্টুন টানানোর পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ফরিদ উদ্দিন গাজী তাকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।
গোবিন্দ বাউফল সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা। ঢাকায় জমি কেনাবেচার ব্যবসার পাশাপাশি এলাকায় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার এবং মাছের ঘেরের ব্যবসা করেন।
অভিযুক্ত ফরিদ গাজীর বাড়ি সদর ইউনিয়নের বিলবিলাস গ্রামে। তিনি উপজেলা বিএনপির সদস্য। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ফরিদ নিজে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতার ঘোষণা না দিলেও তার পছন্দের একজন প্রার্থী রয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ফরিদ উদ্দিন গাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকির অভিযোগের মধ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চেক প্রতারণার একটি মামলায় ফরিদ গাজীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ফরিদ গাজীকে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের অভিযোগের বিষয়েও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে এমন হুমকির অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা ও হুমকির পেছনের কারণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে প্রথমে ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে ‘দাদু’ সম্বোধন করে নিজের পরিচয় দেন ফরিদ উদ্দিন গাজী। এরপর তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার একটা শখ জাগছে, বুঝছেন? আমি একটা জ্যাতা...(সংবেদনশীল শব্দ) পুড়মু (পোড়াব), আপনারে বাইছা নিছি। এ ক্ষেত্রে আপনার মন্তব্য কী? আপনার কোনো প্রতিক্রিয়া আছে?’
এরপর তিনি বলেন, ‘আপনারে সকালে খুঁইজা আইছিলাম, আপনি মনে হয় স্টেশনে (এলাকা) নাই।’
জবাবে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে বলতে শোনা যায়, ‘না, না, নাই।’
এরপর ফরিদ গাজী আবার বলেন, ‘তো আপনার এতে মন্তব্য কী? জ্যাতা নমো পুড়মু, আপনারেই বাইছা নিছি, আপনি কী কন? আপনার সুবিধার জন্য আমার ফোনালাপ রেকর্ড কইরা রাখলে এইটাও রেকর্ড কইরা রাখেন। আপনার মন্তব্য কী এ ক্ষেত্রে?’
জবাবে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘আমার মন্তব্য কী থাকবে, আপনার মনে খুশি ধরছে, আপনি করেন।’
কথোপকথনের একপর্যায়ে ফরিদ গাজী জানতে চান, ‘আপনি এলাকায় আসতেছেন কবে নাগাদ?’
জবাবে ব্যবসায়ী বলেন, ‘এই যে আসব, আমু তো অবশ্যই। এলাকায় যেহেতু বাড়ি, আসব না? আসব।’
তখন ফরিদ গাজী বলেন, ‘তো খবরটা কী আপনি আমাকে দিবেন, নাকি আমার খবর রাখা লাগবে?’
জবাবে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘আইলে তো মানুষ জানবেই, যেদিন আসব জানবে।’
আগেও হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ
গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর ফরিদ গাজী তাকে আগেও মুঠোফোনে হুমকি দিয়েছেন। ওই সময় তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে আগের কথোপকথন তিনি রেকর্ড করতে পারেননি।
গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘আমি নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ যে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তাতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ কারণে থানায় জিডি করেছি।’
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, ফরিদ উদ্দিন গাজীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির নেতাদের তদন্ত করে প্রতিবেদন ও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ জেলায় পাঠাতে বলা হয়েছে। তদন্তের পর সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আপেল মাহমুদ (ফিরোজ) বলেন, ফরিদ গাজীর বিষয়ে জেলা বিএনপিকে জানানো হয়েছে। জেলা নেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ পাঠানো হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে ফরিদ উদ্দিন গাজীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। হুমকির অভিযোগ ওঠার পরপরই তিনি অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও অডিওটির উৎস সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তের কথা জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৩৬
পটুয়াখালীর গলাচিপায় ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার গলাচিপা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত কালিকাপুর মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ চলাকালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ম্যাচে মুখোমুখি হয় দক্ষিণ কালিকাপুর ইউনাইটেড ও মাটিভাঙ্গা চ্যালেঞ্জ একাদশ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ম্যাচ শেষ হওয়ার প্রায় ১০ মিনিট আগে দক্ষিণ কালিকাপুর ইউনাইটেড একটি গোল করলে প্রতিপক্ষ দল ফাউলের দাবি তোলে। এ নিয়ে রেফারির সঙ্গে তাদের তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ বাধে। পরে স্থানীয় লোকজনও এতে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষে দক্ষিণ কালিকাপুর ইউনাইটেডের অধিনায়ক মিরাজ খান (৩০) ও তাঁর ভাই মিশন খান (২৭) গুরুতর আহত হন। মিশনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং মিরাজকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা কালিকাপুর এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন খানের ছেলে।
এ ঘটনায় জলিল খান (৬০), মজিবর প্যাদা (৪৮), লাল মিয়া (৫২), বেল্লাল মুন্সি (২৭), রাসেল গাজী (৩২), হান্নান মৃধা (৬০), কামাল (৪৫), সাইফুল কাজী, সানাউল্লাহ (২৮), আবুল হাওলাদার (৬০), সাকিল (২৫), রাখাইন ডিস্কু, জাকির হোসেন (৩৫), কবির হোসেন (৩৮), আলমগীর হোসেন (৩৭), আরিয়ান তালুকদার (১৮), মানিক (২৫) ও রনিসহ আরও অনেকে আহত হন। তাঁদের অধিকাংশকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় আহতদের পিতা আবুল হোসেন খান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে মাটিভাঙ্গা এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক কামাল মৃধা বলেন, ৩২টি দল নিয়ে টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। বুধবারের ঘটনায় মাটিভাঙ্গা চ্যালেঞ্জ একাদশের দায় রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং কমিটির সদস্যদের ওপরও হামলা হয়েছে।
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পটুয়াখালীর গলাচিপায় ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার গলাচিপা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত কালিকাপুর মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ চলাকালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ম্যাচে মুখোমুখি হয় দক্ষিণ কালিকাপুর ইউনাইটেড ও মাটিভাঙ্গা চ্যালেঞ্জ একাদশ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ম্যাচ শেষ হওয়ার প্রায় ১০ মিনিট আগে দক্ষিণ কালিকাপুর ইউনাইটেড একটি গোল করলে প্রতিপক্ষ দল ফাউলের দাবি তোলে। এ নিয়ে রেফারির সঙ্গে তাদের তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ বাধে। পরে স্থানীয় লোকজনও এতে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষে দক্ষিণ কালিকাপুর ইউনাইটেডের অধিনায়ক মিরাজ খান (৩০) ও তাঁর ভাই মিশন খান (২৭) গুরুতর আহত হন। মিশনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং মিরাজকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা কালিকাপুর এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন খানের ছেলে।
এ ঘটনায় জলিল খান (৬০), মজিবর প্যাদা (৪৮), লাল মিয়া (৫২), বেল্লাল মুন্সি (২৭), রাসেল গাজী (৩২), হান্নান মৃধা (৬০), কামাল (৪৫), সাইফুল কাজী, সানাউল্লাহ (২৮), আবুল হাওলাদার (৬০), সাকিল (২৫), রাখাইন ডিস্কু, জাকির হোসেন (৩৫), কবির হোসেন (৩৮), আলমগীর হোসেন (৩৭), আরিয়ান তালুকদার (১৮), মানিক (২৫) ও রনিসহ আরও অনেকে আহত হন। তাঁদের অধিকাংশকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় আহতদের পিতা আবুল হোসেন খান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে মাটিভাঙ্গা এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক কামাল মৃধা বলেন, ৩২টি দল নিয়ে টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। বুধবারের ঘটনায় মাটিভাঙ্গা চ্যালেঞ্জ একাদশের দায় রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং কমিটির সদস্যদের ওপরও হামলা হয়েছে।
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৫৪
বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে ২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় ইলিশ। বুধবার সকালে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিলামে মাছটির দাম ওঠে ৭ হাজার ২০০ টাকা। প্রতি কেজি ৩ হাজার ৬২৫ টাকা হিসেবে মাছটি কিনে নেন কুয়াকাটা মা-মনি ফিশের ম্যানেজার মিজান।
মাছটি নিয়ে আসা জেলে সোহরাফ গাজী জানান, মঙ্গলবার পায়রা বন্দর সংলগ্ন পাইপ বয়ার গভীর সমুদ্রে জাল ফেলেছিলেন তিনি। জাল তোলার সময় অন্যান্য মাছের সঙ্গে বড় ইলিশটি উঠে আসে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে মাছটি বিক্রির জন্য কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিয়ে আসেন সোহরাফ গাজী। পরে প্রকাশ্য নিলামে প্রতি কেজি ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মণ দরে মাছটির দাম নির্ধারণ হয়।
জেলে সোহরাফ গাজী বলেন, প্রায় এক দশক ধরে বঙ্গোপসাগরের গভীরে গিয়ে মাছ ধরছেন তিনি। তার ভাষ্য, সাধারণত এত বড় ইলিশ জালে পাওয়া যায় না। প্রায় সাত বছর পর এবার আবার বড় আকৃতির একটি ইলিশ পেয়েছেন তিনি।
মাছটির ক্রেতা কুয়াকাটা মা-মনি ফিশের ম্যানেজার মিজান বলেন, বাজারে বর্তমানে এ আকারের ইলিশ খুব বেশি পাওয়া যায় না। এ কারণে নিলামে মাছটি কিনেছেন। মাছটি শরীয়তপুরের এক প্রবাসীর ভাইয়ের বাড়িতে পাঠানো হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বড় ইলিশ বাজারে উঠলেও এর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। জামাল ঘরামি বলেন, প্রতি কেজি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দিয়ে ইলিশ কেনা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কঠিন। আগে বছরে অন্তত একবার ইলিশ কেনা সম্ভব হলেও এখন সেটি অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো।
মৎস্যবিজ্ঞানীরা বলছেন, বড় ইলিশের সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার জানান, ছোট ইলিশ নির্বিচারে আহরণ, নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া, বাঁধ ও স্লুইসগেটের কারণে অভিবাসনে বাধা, অবৈধ জালের ব্যবহার এবং সহ-ব্যবস্থাপনার ঘাটতি বড় ইলিশের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ ছাড়া পানি দূষণ, প্ল্যাঙ্কটনের স্বল্পতা, জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার পরিবর্তনের মতো পরিবেশগত বিষয়গুলোও ইলিশের প্রজনন ও খাদ্য সরবরাহে প্রভাব ফেলছে বলে জানান তিনি।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, গভীর সমুদ্রে এ ধরনের বড় ইলিশ ধরা পড়া ইতিবাচক বিষয়। তার মতে, এটি ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার সুফলের একটি দিক হতে পারে। বড় ইলিশে তুলনামূলক বেশি ফ্যাট থাকায় এতে ওমেগা-৩ ও বিভিন্ন ভিটামিন পাওয়া যায়। জালের প্রশস্ততা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে ২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় ইলিশ। বুধবার সকালে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিলামে মাছটির দাম ওঠে ৭ হাজার ২০০ টাকা। প্রতি কেজি ৩ হাজার ৬২৫ টাকা হিসেবে মাছটি কিনে নেন কুয়াকাটা মা-মনি ফিশের ম্যানেজার মিজান।
মাছটি নিয়ে আসা জেলে সোহরাফ গাজী জানান, মঙ্গলবার পায়রা বন্দর সংলগ্ন পাইপ বয়ার গভীর সমুদ্রে জাল ফেলেছিলেন তিনি। জাল তোলার সময় অন্যান্য মাছের সঙ্গে বড় ইলিশটি উঠে আসে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে মাছটি বিক্রির জন্য কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিয়ে আসেন সোহরাফ গাজী। পরে প্রকাশ্য নিলামে প্রতি কেজি ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মণ দরে মাছটির দাম নির্ধারণ হয়।
জেলে সোহরাফ গাজী বলেন, প্রায় এক দশক ধরে বঙ্গোপসাগরের গভীরে গিয়ে মাছ ধরছেন তিনি। তার ভাষ্য, সাধারণত এত বড় ইলিশ জালে পাওয়া যায় না। প্রায় সাত বছর পর এবার আবার বড় আকৃতির একটি ইলিশ পেয়েছেন তিনি।
মাছটির ক্রেতা কুয়াকাটা মা-মনি ফিশের ম্যানেজার মিজান বলেন, বাজারে বর্তমানে এ আকারের ইলিশ খুব বেশি পাওয়া যায় না। এ কারণে নিলামে মাছটি কিনেছেন। মাছটি শরীয়তপুরের এক প্রবাসীর ভাইয়ের বাড়িতে পাঠানো হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বড় ইলিশ বাজারে উঠলেও এর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। জামাল ঘরামি বলেন, প্রতি কেজি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দিয়ে ইলিশ কেনা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কঠিন। আগে বছরে অন্তত একবার ইলিশ কেনা সম্ভব হলেও এখন সেটি অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো।
মৎস্যবিজ্ঞানীরা বলছেন, বড় ইলিশের সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার জানান, ছোট ইলিশ নির্বিচারে আহরণ, নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া, বাঁধ ও স্লুইসগেটের কারণে অভিবাসনে বাধা, অবৈধ জালের ব্যবহার এবং সহ-ব্যবস্থাপনার ঘাটতি বড় ইলিশের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ ছাড়া পানি দূষণ, প্ল্যাঙ্কটনের স্বল্পতা, জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার পরিবর্তনের মতো পরিবেশগত বিষয়গুলোও ইলিশের প্রজনন ও খাদ্য সরবরাহে প্রভাব ফেলছে বলে জানান তিনি।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, গভীর সমুদ্রে এ ধরনের বড় ইলিশ ধরা পড়া ইতিবাচক বিষয়। তার মতে, এটি ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার সুফলের একটি দিক হতে পারে। বড় ইলিশে তুলনামূলক বেশি ফ্যাট থাকায় এতে ওমেগা-৩ ও বিভিন্ন ভিটামিন পাওয়া যায়। জালের প্রশস্ততা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৪৪
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির বসতঘর বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার পর মালামাল লুট করে আগুন দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত এ হামলা চালানো হয়। ওই বাড়ির বাসিন্দাদের অভিযোগ, পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই শাহীন চৌধুরী এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা এ ঘটনায় জড়িত।
ওই আওয়ামী লীগের নেতার নাম কাজী মিজানুর রহমান (লাভলু), তিনি মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে আছেন। তাঁর জায়গায় ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা।
আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িটি উপজেলার কাঁঠালতলী বাজারসংলগ্ন উত্তর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
মির্জাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার সকাল ৬টা ৮ মিনিটে ফোন পেয়ে তাঁদের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দেখতে পান, কাজী মিজানুর রহমানের বসতঘরে আগুন জ্বলছে এবং বাড়ির সামনের অংশ ভাঙা। পরে তাঁরা চারটি কক্ষের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কাজী মিজানুর রহমানের স্ত্রী মেহেরুন্নেছা শিল্পী সাংবাদিকদের জানান, তাঁর বৃদ্ধা শাশুড়ি অসুস্থ থাকায় পরিবার নিয়ে তাঁরা ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে পলাশ হাওলাদার এবং সাবেক সভাপতি মনির খন্দকারের নেতৃত্বে প্রায় আড়াই শ মানুষ বুলডোজার দিয়ে তাঁদের পাকা বসতঘরটি ভেঙে ফেলেন।
তার ভাষ্য, ভবন ভাঙার পর ঘরে থাকা চারটি রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), স্বর্ণালংকারসহ পরিবারের ব্যবহার্য প্রায় সব মালামাল লুট করা হয়। লুট হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। এরপর পরে ৬ কক্ষের প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
মেহেরুন্নেছা জানান, এ ঘটনার খবর পেয়ে তিনি রাজধানী ঢাকা থেকে রওনা হয়ে শনিবার ভোরে বাড়িতে পৌঁছান। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, হামলার আগে কাঁঠালতলী বাজার ও আশপাশের এলাকা থেকে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়। কেউ ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে তাঁদের কাছ থেকে মুঠোফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, তাঁদের বাড়ি থেকে প্রায় ৩০ ফুট দূরে কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ি অবস্থিত। গভীর রাতে বুলডোজারের শব্দ শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও হামলাকারীরা তাদের ধাওয়া দিলে পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার কারণে সরে যান। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
মিজানুর রহমান মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, জমি কিনে তিনি বাড়ি করেছেন। কী কারণে তাঁর বাড়ি ভাঙা হয়েছে, এ প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘যাঁরা আমার বাড়ি ভাঙায় জড়িত, তাঁদের সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই।’
হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী। হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কারা জড়িত—এমন প্রশ্নের জবাবে শাহীন চৌধুরী বলেন, শুক্রবার তিনি ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরেছেন, তাই ঘটনার বিষয়ে অবগত নন।
অভিযুক্ত মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মনির খন্দকারের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেননি। মনির খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, মিজানুর রহমান পাবলিক লাইব্রেরির জমি দখল করে ঘর তুলেছেন, যা ভূমি অফিসের মাধ্যমে প্রমাণিত, সেখানে তার এক টুকরো জমিও নেই।
প্রশাসনের মাধ্যমে ঘরটি না ভেঙে নিজেরা কেন ভাঙলেন, এমন প্রশ্নে মনির খন্দকার বলেন, ‘বিগত দিনে বিএনপি কিন্তু প্রশাসন ব্যবহার করেননি। তাছাড়া তাঁরা (মিজানুর রহমান ও তাঁর অনুসারীরা) জবরদখল করছেন। এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বাসায় তিনবার হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। আমরা চাইলে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ঘরটি ভাঙতে পারতাম, সেটি না করে পাহারা দিয়েছি।’ এরপর মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন তিনি।
এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, ভোররাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা মিজানুর রহমানের বসতঘরে আগুন দেয় এবং বেকু (খনন) মেশিন দিয়ে বাড়ির অংশ ভেঙে ফেলে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘরের ভেতরে কেউ না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখনো ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল সাংবাদিকদের বলেন, ভোররাতে ফায়ার সার্ভিস থেকে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানার চেষ্টা করেন। তবে অনেকেই এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। পরে কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়িকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন, জানান ইউএনও।’
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৩৩
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪০
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৩৩
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:২৪