Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ১৪:৫৩
বরিশালের বাবুগঞ্জে উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার ভুল চিকিৎসায় একটি গর্ভবতী গাভী মৃত্যুর অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় চলছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসক শাহ আলমের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনসহ ইউএনও এবং ইউএলও'র কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গাভীর মালিক। তবে সেই অভিযোগের সত্যতা পায়নি গঠিত তদন্ত কমিটি। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভাষ্যমতে রাতে ১১টি ইনজেকশন প্রয়োগের সাথেসাথেই গাভী মৃত্যুর অভিযোগ করা হলেও এটি মারা যায় পরদিন সন্ধ্যায় বলে নিশ্চিত হয়েছে তদন্ত কমিটি। এদিকে রাতেই গাভী মৃত্যুর মিথ্যা দাবি তুলে চিকিৎসককে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করায় সৃষ্টি হয়েছে রহস্য। গাভীর মালিক কৃষক ছবুর হাওলাদার রাজনীতি না করলেও তার সাথে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা পশু হাসপাতালে চড়াও হওয়ায় ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে। অপরদিকে অভিযোগটি সাজানো এবং পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত চিকিৎসক শাহ আলম।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বাবুগঞ্জ উপজেলার উত্তর দেহেরগতি গ্রামের কৃষক ছবুর হাওলাদারের ৯ মাস ১৫ দিনের অন্তঃসত্ত্বা একটি গাভী কিছুদিন ধরে খাওয়া-দাওয়া কমিয়ে দেয়। এরপরে তিনি এসিআই ওষুধ কোম্পানির ভেটেরিনারি ডিভিশনের বিক্রয় প্রতিনিধি মিরাজ হোসেনের পরামর্শে গ্যাস নিরাময়ের ওষুধ খাওয়ানোর পরে গাভীটি একেবারেই খাওয়া ছেড়ে দেয়। এরপরে গত ৯ নভেম্বর গাভীর অবস্থা আরো অবনতি হয়ে এটি মাটিতে শুয়ে পড়লে রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শাহ আলমকে ফোন করে বাড়িতে ডাকেন কৃষক ছবুর হাওলাদার। এসময় শাহ আলম ওই গর্ভবতী গাভীর অবস্থা সংকটাপন্ন জানিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। তবে ছবুর হাওলাদার তাকে বাড়িতেই চিকিৎসা প্রদানের অনুরোধ করলে শাহ আলম গাভীকে স্যালাইন পুশ করাসহ কয়েকটি ইনজেকশন দেন এবং পরদিন সকালে গাভীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। এদিকে শাহ আলম চিকিৎসা দিয়ে ফেরার ২ ঘন্টা পরে রাত দেড়টার দিকে ছবুর হাওলাদার ফোন করে তাকে গাভীর মৃত্যু সংবাদ দেন এবং কথার একপর্যায়ে তাকে আশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
এদিকে রাতে গাভী মৃত্যুর অভিযোগ করলেও পরদিন সকালে ছবুর হাওলাদার আরেক ভেটেরিনারি পল্লী চিকিৎসক (কোয়াক ডাক্তার) দুলাল হোসেনকে বাড়িতে ডেকে পাঠান। তবে দুলাল হোসেন গাভীটি সংজ্ঞাহীন এবং মুমূর্ষু দেখে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে ফিরে যান। সন্ধায় গাভীটির মৃত্যু হলে পরদিন ১১ নভেম্বর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে উপজেলা পশু হাসপাতালে চড়াও হন কৃষক ছবুর হাওলাদার। এসময় তিনি শাহ আলমের ভুল চিকিৎসায় তার গাভী মৃত্যুর অভিযোগ তুলে হাসপাতালে বিক্ষোভ প্রদর্শনসহ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ইউএলও) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরে ইউএনওর নির্দেশে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ প্রদীপ কুমার সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি প্রধান করা হয় উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মাহফুজ আলমকে। তিনি তদন্ত কার্যক্রমে স্বচ্ছতার স্বার্থে সাংবাদিকদের মনোনীত প্রতিনিধি সাথে নিয়ে শুক্রবার দিনভর ঘটনাস্থলে তদন্ত করেন। এসময় অভিযোগকারী ছাড়াও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও নিরপেক্ষ বিভিন্ন মানুষের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেন। রোববার তিনি সংশ্লিষ্ট দুই ভেটেরিনারি পল্লী চিকিৎসকের (কোয়াক ডাক্তার) জবানবন্দী গ্রহণ করেছেন।
গাভীর মালিক কৃষক ছবুর হাওলাদারের দাবি, উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শাহ আলম তার গর্ভবতী গাভীকে ইনজেকশন দেওয়ার আগ পর্যন্ত সেটা দাঁড়িয়ে ছিল। ইনজেকশন দেওয়ার সাথেসাথেই গাভীটি শুয়ে পড়ে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যায়। রাতে গাভী মৃত্যুর অভিযোগ তুলে চিকিৎসককে গালাগালি এবং পরদিন সন্ধ্যায় সেই গাভীর মৃত্যু বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে বলেন, 'কখন মৃত্যু হয়েছে জানি না তবে আমার দাঁড়ানো গাভীটা শাহ আলমের ভুল চিকিৎসার জন্যেই মারা গেছে। তাই আমি উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ চাই।'
উত্তর দেহেরগতি গ্রামের ছবুর হাওলাদারের প্রতিবেশি কৃষক ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জাকির হোসেন বলেন, 'ছবুর হাওলাদারের গর্ভবতী গাভীটা আগেই অসুস্থ ছিল। গাভীটা খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়ে দুর্বল হয়ে মাটিতে শুয়ে পড়েছিল। শাহ আলম ডাক্তার আসার আগে স্থানীয় মিরাজ ডাক্তার কয়েকদিন গাভীটার চিকিৎসা করেছে। তবে অবস্থা আরো খারাপ হয়ে গাভীটা মাটিতে শুয়ে পড়ার পরে শাহ আলম ডাক্তারকে ডেকে আনা হয়। তিনি দেখেই বলেছিলেন গাভীটা বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম। তবুও ছবুরের অনুরোধে তাকে স্যালাইন আর কয়েকটা ইনজেকশন দিতে দেখেছি। পরদিন সকালেও গাভীটা বেঁচেছিল। সকালে দুলাল ডাক্তারকে ডেকে এনে গাভীর পেটের বাচ্চাটা ডেলিভারি করার চেষ্টা করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনিও বলেছিলেন এই গাভী কিছুতেই বাঁচবে না। শেষ পর্যন্ত এটা ১০ তারিখ সন্ধ্যায় মারা যায়। আমরা গরুটিকে মাটিচাপা দিয়ে দাফন করেছি।'
কৃষক জাকির হোসেনের বক্তব্যের সত্যতা স্বীকার করে স্থানীয় ভেটেরিনারি পল্লী চিকিৎসক (কোয়াক ডাক্তার) দুলাল হোসেন বলেন, 'আমি ১০ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গিয়ে দেখতে পাই গাভীটি সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে আছে এবং এর গায়ের তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট। তারপরে জানতে পারি গতরাতে এই গাভীর চিকিৎসা দিয়েছেন উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শাহ আলম স্যার। তিনি আমার চেয়ে অনেক অভিজ্ঞ ডাক্তার হওয়ায় আমি আর কোনো চিকিৎসা দেইনি। তাছাড়া এই অন্তিম মুহূর্তে চিকিৎসা দেওয়ার মতো কিছু ছিল না। গাভীর মালিক বলেছিলেন আমি যেন ওষুধ দিয়ে তাৎক্ষণিক পেটের বাচ্চাটা ডেলিভারি করার ব্যবস্থা করি। কিন্তু সেটাও সম্ভব ছিল না। পরে আমি তাকে বানারীপাড়া উপজেলার সবুজ ডাক্তারের নম্বর দিয়ে আসি।'
আরেক কোয়াক ডাক্তার একই গ্রামের এসিআই ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের ভেটেরিনারি ডিভিশনের বিক্রয় প্রতিনিধি মিরাজ হোসাইন মুঠোফোনে বলেন, 'আমি ছবুর হাওলাদারের গর্ভবতী গাভীকে গত ৪ নভেম্বর প্রথম চিকিৎসা করি। গাভীটি তখন খাওয়া-দাওয়া অনেকটা কমিয়ে দেওয়ায় আমি তার পেটের গ্যাস কমানোসহ রুচি বৃদ্ধির ওষুধ দেই। তবে এতে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ছবুর হাওলাদার গত ৯ নভেম্বর আবার আমাকে ফোন করে বাড়িতে যেতে বলেন। কিন্তু আমি অফিসিয়াল কাজে ঢাকায় থাকায় সরকারি হাসপাতালের উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শাহ আলম স্যারের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেই এবং আমি নিজেও স্যারকে ফোন করে ওই বাড়িতে যাওয়ার অনুরোধ করি। একজন ডাক্তার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেন তার রোগী বাঁচাতে। উনারা হয়তো ভুল বুঝে এই অভিযোগ দিয়েছেন।'
অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের অভিযুক্ত উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, 'গত ৯ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় একটি গর্ভবতী গাভীর আশঙ্কাজনক অবস্থার খবর পেয়ে আমি উত্তর দেহেরগতি গ্রামের কৃষক ছবুর হাওলাদারের বাড়িতে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি গাভীটি প্রায় অচেতন অবস্থায় মাটিতে শুয়ে আছে। বেশ কয়েকদিন না খেয়ে গাভীটা মারাত্মক রকম ডিহাইড্রেট হয়ে নেতিয়ে পড়েছিল। এর মুমূর্ষু অবস্থা বিবেচনা করে আমি তাৎক্ষণিক স্যালাইনের মাধ্যমে পানিশূন্যতা পূরণসহ কয়েকটি ভিটামিন এবং এন্টিহিস্টামিন ওষুধ স্যালাইনের সাথে মিশিয়ে প্রয়োগ করি। এমন ক্রিটিকাল কন্ডিশনে এই গাভীর বাঁচার সম্ভাবনা মাত্র ১০ পার্সেন্ট বলেও মালিককে জানাই। তারা আমার কাছে তাৎক্ষণিক প্রত্যাশা করেছিলেন আমি ইনজেকশনের মাধ্যমে গাভীটার জরুরি গর্ভপাত ঘটাই। যাতে তারা অন্তত সেটা জবাই করে বাজারে বিক্রি করতে পারেন। সকালে কোয়াক ডাক্তার দুলালকে ডেকেও একই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এটা অপরাধ বিধায় কেউ রাজি হয়নি। তাছাড়া গাভীর শারীরিক কন্ডিশন এতটাই খারাপ পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে সেটা গর্ভপাত ঘটানোর মত অবস্থাও আর ছিল না। এজন্যেই হয়তো ভুল বুঝে কিংবা ক্ষিপ্ত হয়ে তারা আমাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেছেন এবং আমার বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় গাভী মৃত্যুর অভিযোগ দিয়েছেন। তবে আমি এতে কিছু মনে করিনি।একজন চিকিৎসকের জীবনে এটাই ট্রাজেডি। এই রিয়েলিটি মেনেই আমাদের কাজ করতে হয়।'
বাবুগঞ্জ উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মাহফুজ আলম বলেন, 'গর্ভবতী গাভীটি প্রেগন্যান্সি টক্সেমিয়া রোগে আক্রান্ত ছিল, ডাক্তারি পরিভাষায় যার নাম কিটোসিস। এটি গর্ভকালীন এমন একটি অবস্থা যেখানে গাভী খাওয়া-দাওয়া সম্পূর্ণ ছেড়ে দিয়ে ডিহাইড্রেট হয়ে নেতিয়ে পড়ে এবং জীবাণু প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে দ্রুত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। গাভীটি প্রেগন্যান্সি টক্সেমিয়ার থার্ড স্টেজে ছিল। এই স্টেজ থেকে রিকভারি একেবারেই অসম্ভব। এটি প্রাইমারি স্টেজে ধরা পড়লে স্যালাইনের মাধ্যমে শরীরের ফ্লুইড দিয়ে সেই সাথে কিছু ভিটামিন, এন্টিহিন্টামিন এবং প্রয়োজন হলে এন্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি স্টেজে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে সুস্থ হওয়ার চান্স থাকলেও থার্ড স্টেজে চলে গেলে সেখান থেকে আর কোনো ওষুধ দিয়েই বাঁচানো সম্ভব নয়। এখানে ভুল চিকিৎসার কোনো ঘটনা তদন্তে পাওয়া যায়নি। গাভীর কিটোসিসের জন্য যে স্যালাইন এবং ইনজেকশন নির্দেশিত উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শাহ আলম সেটাই দিয়েছেন। তবে থার্ড স্টেজে থাকায় কোনো ওষুধই গাভীর শরীরে রেসপন্স করেনি। এই পর্যায়ে কোনো চিকিৎসকের কিছু করার থাকে না। মৃত্যু নিশ্চিত জানলেও পেসেন্ট বাঁচানোর জন্য শেষ চেষ্টাটা করতে হয় তাকে। তাছাড়া অভিযোগকারী ছবুর হাওলাদার লিখিত অভিযোগে বেশকিছু অসত্য তথ্য দিয়েছেন। প্রথমত তিনি লিখেছেন রাতে ইনজেকশন দেওয়ার সাথেসাথেই গাভীটি মারা যায়। কিন্তু বাস্তবে গাভীর মৃত্যু হয়েছে পরদিন সন্ধ্যায়। উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শাহ আলম চিকিৎসা দিয়ে আসার পরে পরদিন সকালেও আরেক কোয়াক ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তাছাড়া অভিযোগে ১১টি ইনজেকশন দেওয়ার কথাও সত্য নয়। গাভীকে স্যালাইনের সাথে মিশিয়ে ৪টি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল, যা সঠিক চিকিৎসা ছিল। এই ক্ষেত্রে আমাদের চিকিৎসা পদ্ধতিতে এন্টিবায়োটিক, এন্টিহিস্টামিন, পেইন কিলার আর ভিটামিনসহ সর্বমোট ৪ ধরনের ইনজেকশন আছে। তিনি ১১টি ইনজেকশন পাবেন কোথায়?' #
বরিশালের বাবুগঞ্জে উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার ভুল চিকিৎসায় একটি গর্ভবতী গাভী মৃত্যুর অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় চলছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসক শাহ আলমের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনসহ ইউএনও এবং ইউএলও'র কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গাভীর মালিক। তবে সেই অভিযোগের সত্যতা পায়নি গঠিত তদন্ত কমিটি। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভাষ্যমতে রাতে ১১টি ইনজেকশন প্রয়োগের সাথেসাথেই গাভী মৃত্যুর অভিযোগ করা হলেও এটি মারা যায় পরদিন সন্ধ্যায় বলে নিশ্চিত হয়েছে তদন্ত কমিটি। এদিকে রাতেই গাভী মৃত্যুর মিথ্যা দাবি তুলে চিকিৎসককে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করায় সৃষ্টি হয়েছে রহস্য। গাভীর মালিক কৃষক ছবুর হাওলাদার রাজনীতি না করলেও তার সাথে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা পশু হাসপাতালে চড়াও হওয়ায় ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে। অপরদিকে অভিযোগটি সাজানো এবং পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত চিকিৎসক শাহ আলম।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বাবুগঞ্জ উপজেলার উত্তর দেহেরগতি গ্রামের কৃষক ছবুর হাওলাদারের ৯ মাস ১৫ দিনের অন্তঃসত্ত্বা একটি গাভী কিছুদিন ধরে খাওয়া-দাওয়া কমিয়ে দেয়। এরপরে তিনি এসিআই ওষুধ কোম্পানির ভেটেরিনারি ডিভিশনের বিক্রয় প্রতিনিধি মিরাজ হোসেনের পরামর্শে গ্যাস নিরাময়ের ওষুধ খাওয়ানোর পরে গাভীটি একেবারেই খাওয়া ছেড়ে দেয়। এরপরে গত ৯ নভেম্বর গাভীর অবস্থা আরো অবনতি হয়ে এটি মাটিতে শুয়ে পড়লে রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শাহ আলমকে ফোন করে বাড়িতে ডাকেন কৃষক ছবুর হাওলাদার। এসময় শাহ আলম ওই গর্ভবতী গাভীর অবস্থা সংকটাপন্ন জানিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। তবে ছবুর হাওলাদার তাকে বাড়িতেই চিকিৎসা প্রদানের অনুরোধ করলে শাহ আলম গাভীকে স্যালাইন পুশ করাসহ কয়েকটি ইনজেকশন দেন এবং পরদিন সকালে গাভীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। এদিকে শাহ আলম চিকিৎসা দিয়ে ফেরার ২ ঘন্টা পরে রাত দেড়টার দিকে ছবুর হাওলাদার ফোন করে তাকে গাভীর মৃত্যু সংবাদ দেন এবং কথার একপর্যায়ে তাকে আশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
এদিকে রাতে গাভী মৃত্যুর অভিযোগ করলেও পরদিন সকালে ছবুর হাওলাদার আরেক ভেটেরিনারি পল্লী চিকিৎসক (কোয়াক ডাক্তার) দুলাল হোসেনকে বাড়িতে ডেকে পাঠান। তবে দুলাল হোসেন গাভীটি সংজ্ঞাহীন এবং মুমূর্ষু দেখে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে ফিরে যান। সন্ধায় গাভীটির মৃত্যু হলে পরদিন ১১ নভেম্বর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে উপজেলা পশু হাসপাতালে চড়াও হন কৃষক ছবুর হাওলাদার। এসময় তিনি শাহ আলমের ভুল চিকিৎসায় তার গাভী মৃত্যুর অভিযোগ তুলে হাসপাতালে বিক্ষোভ প্রদর্শনসহ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ইউএলও) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরে ইউএনওর নির্দেশে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ প্রদীপ কুমার সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি প্রধান করা হয় উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মাহফুজ আলমকে। তিনি তদন্ত কার্যক্রমে স্বচ্ছতার স্বার্থে সাংবাদিকদের মনোনীত প্রতিনিধি সাথে নিয়ে শুক্রবার দিনভর ঘটনাস্থলে তদন্ত করেন। এসময় অভিযোগকারী ছাড়াও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও নিরপেক্ষ বিভিন্ন মানুষের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেন। রোববার তিনি সংশ্লিষ্ট দুই ভেটেরিনারি পল্লী চিকিৎসকের (কোয়াক ডাক্তার) জবানবন্দী গ্রহণ করেছেন।
গাভীর মালিক কৃষক ছবুর হাওলাদারের দাবি, উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শাহ আলম তার গর্ভবতী গাভীকে ইনজেকশন দেওয়ার আগ পর্যন্ত সেটা দাঁড়িয়ে ছিল। ইনজেকশন দেওয়ার সাথেসাথেই গাভীটি শুয়ে পড়ে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যায়। রাতে গাভী মৃত্যুর অভিযোগ তুলে চিকিৎসককে গালাগালি এবং পরদিন সন্ধ্যায় সেই গাভীর মৃত্যু বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে বলেন, 'কখন মৃত্যু হয়েছে জানি না তবে আমার দাঁড়ানো গাভীটা শাহ আলমের ভুল চিকিৎসার জন্যেই মারা গেছে। তাই আমি উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ চাই।'
উত্তর দেহেরগতি গ্রামের ছবুর হাওলাদারের প্রতিবেশি কৃষক ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জাকির হোসেন বলেন, 'ছবুর হাওলাদারের গর্ভবতী গাভীটা আগেই অসুস্থ ছিল। গাভীটা খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়ে দুর্বল হয়ে মাটিতে শুয়ে পড়েছিল। শাহ আলম ডাক্তার আসার আগে স্থানীয় মিরাজ ডাক্তার কয়েকদিন গাভীটার চিকিৎসা করেছে। তবে অবস্থা আরো খারাপ হয়ে গাভীটা মাটিতে শুয়ে পড়ার পরে শাহ আলম ডাক্তারকে ডেকে আনা হয়। তিনি দেখেই বলেছিলেন গাভীটা বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম। তবুও ছবুরের অনুরোধে তাকে স্যালাইন আর কয়েকটা ইনজেকশন দিতে দেখেছি। পরদিন সকালেও গাভীটা বেঁচেছিল। সকালে দুলাল ডাক্তারকে ডেকে এনে গাভীর পেটের বাচ্চাটা ডেলিভারি করার চেষ্টা করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনিও বলেছিলেন এই গাভী কিছুতেই বাঁচবে না। শেষ পর্যন্ত এটা ১০ তারিখ সন্ধ্যায় মারা যায়। আমরা গরুটিকে মাটিচাপা দিয়ে দাফন করেছি।'
কৃষক জাকির হোসেনের বক্তব্যের সত্যতা স্বীকার করে স্থানীয় ভেটেরিনারি পল্লী চিকিৎসক (কোয়াক ডাক্তার) দুলাল হোসেন বলেন, 'আমি ১০ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গিয়ে দেখতে পাই গাভীটি সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে আছে এবং এর গায়ের তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট। তারপরে জানতে পারি গতরাতে এই গাভীর চিকিৎসা দিয়েছেন উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শাহ আলম স্যার। তিনি আমার চেয়ে অনেক অভিজ্ঞ ডাক্তার হওয়ায় আমি আর কোনো চিকিৎসা দেইনি। তাছাড়া এই অন্তিম মুহূর্তে চিকিৎসা দেওয়ার মতো কিছু ছিল না। গাভীর মালিক বলেছিলেন আমি যেন ওষুধ দিয়ে তাৎক্ষণিক পেটের বাচ্চাটা ডেলিভারি করার ব্যবস্থা করি। কিন্তু সেটাও সম্ভব ছিল না। পরে আমি তাকে বানারীপাড়া উপজেলার সবুজ ডাক্তারের নম্বর দিয়ে আসি।'
আরেক কোয়াক ডাক্তার একই গ্রামের এসিআই ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের ভেটেরিনারি ডিভিশনের বিক্রয় প্রতিনিধি মিরাজ হোসাইন মুঠোফোনে বলেন, 'আমি ছবুর হাওলাদারের গর্ভবতী গাভীকে গত ৪ নভেম্বর প্রথম চিকিৎসা করি। গাভীটি তখন খাওয়া-দাওয়া অনেকটা কমিয়ে দেওয়ায় আমি তার পেটের গ্যাস কমানোসহ রুচি বৃদ্ধির ওষুধ দেই। তবে এতে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ছবুর হাওলাদার গত ৯ নভেম্বর আবার আমাকে ফোন করে বাড়িতে যেতে বলেন। কিন্তু আমি অফিসিয়াল কাজে ঢাকায় থাকায় সরকারি হাসপাতালের উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শাহ আলম স্যারের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেই এবং আমি নিজেও স্যারকে ফোন করে ওই বাড়িতে যাওয়ার অনুরোধ করি। একজন ডাক্তার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেন তার রোগী বাঁচাতে। উনারা হয়তো ভুল বুঝে এই অভিযোগ দিয়েছেন।'
অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের অভিযুক্ত উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, 'গত ৯ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় একটি গর্ভবতী গাভীর আশঙ্কাজনক অবস্থার খবর পেয়ে আমি উত্তর দেহেরগতি গ্রামের কৃষক ছবুর হাওলাদারের বাড়িতে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি গাভীটি প্রায় অচেতন অবস্থায় মাটিতে শুয়ে আছে। বেশ কয়েকদিন না খেয়ে গাভীটা মারাত্মক রকম ডিহাইড্রেট হয়ে নেতিয়ে পড়েছিল। এর মুমূর্ষু অবস্থা বিবেচনা করে আমি তাৎক্ষণিক স্যালাইনের মাধ্যমে পানিশূন্যতা পূরণসহ কয়েকটি ভিটামিন এবং এন্টিহিস্টামিন ওষুধ স্যালাইনের সাথে মিশিয়ে প্রয়োগ করি। এমন ক্রিটিকাল কন্ডিশনে এই গাভীর বাঁচার সম্ভাবনা মাত্র ১০ পার্সেন্ট বলেও মালিককে জানাই। তারা আমার কাছে তাৎক্ষণিক প্রত্যাশা করেছিলেন আমি ইনজেকশনের মাধ্যমে গাভীটার জরুরি গর্ভপাত ঘটাই। যাতে তারা অন্তত সেটা জবাই করে বাজারে বিক্রি করতে পারেন। সকালে কোয়াক ডাক্তার দুলালকে ডেকেও একই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এটা অপরাধ বিধায় কেউ রাজি হয়নি। তাছাড়া গাভীর শারীরিক কন্ডিশন এতটাই খারাপ পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে সেটা গর্ভপাত ঘটানোর মত অবস্থাও আর ছিল না। এজন্যেই হয়তো ভুল বুঝে কিংবা ক্ষিপ্ত হয়ে তারা আমাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেছেন এবং আমার বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় গাভী মৃত্যুর অভিযোগ দিয়েছেন। তবে আমি এতে কিছু মনে করিনি।একজন চিকিৎসকের জীবনে এটাই ট্রাজেডি। এই রিয়েলিটি মেনেই আমাদের কাজ করতে হয়।'
বাবুগঞ্জ উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মাহফুজ আলম বলেন, 'গর্ভবতী গাভীটি প্রেগন্যান্সি টক্সেমিয়া রোগে আক্রান্ত ছিল, ডাক্তারি পরিভাষায় যার নাম কিটোসিস। এটি গর্ভকালীন এমন একটি অবস্থা যেখানে গাভী খাওয়া-দাওয়া সম্পূর্ণ ছেড়ে দিয়ে ডিহাইড্রেট হয়ে নেতিয়ে পড়ে এবং জীবাণু প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে দ্রুত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। গাভীটি প্রেগন্যান্সি টক্সেমিয়ার থার্ড স্টেজে ছিল। এই স্টেজ থেকে রিকভারি একেবারেই অসম্ভব। এটি প্রাইমারি স্টেজে ধরা পড়লে স্যালাইনের মাধ্যমে শরীরের ফ্লুইড দিয়ে সেই সাথে কিছু ভিটামিন, এন্টিহিন্টামিন এবং প্রয়োজন হলে এন্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি স্টেজে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে সুস্থ হওয়ার চান্স থাকলেও থার্ড স্টেজে চলে গেলে সেখান থেকে আর কোনো ওষুধ দিয়েই বাঁচানো সম্ভব নয়। এখানে ভুল চিকিৎসার কোনো ঘটনা তদন্তে পাওয়া যায়নি। গাভীর কিটোসিসের জন্য যে স্যালাইন এবং ইনজেকশন নির্দেশিত উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শাহ আলম সেটাই দিয়েছেন। তবে থার্ড স্টেজে থাকায় কোনো ওষুধই গাভীর শরীরে রেসপন্স করেনি। এই পর্যায়ে কোনো চিকিৎসকের কিছু করার থাকে না। মৃত্যু নিশ্চিত জানলেও পেসেন্ট বাঁচানোর জন্য শেষ চেষ্টাটা করতে হয় তাকে। তাছাড়া অভিযোগকারী ছবুর হাওলাদার লিখিত অভিযোগে বেশকিছু অসত্য তথ্য দিয়েছেন। প্রথমত তিনি লিখেছেন রাতে ইনজেকশন দেওয়ার সাথেসাথেই গাভীটি মারা যায়। কিন্তু বাস্তবে গাভীর মৃত্যু হয়েছে পরদিন সন্ধ্যায়। উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শাহ আলম চিকিৎসা দিয়ে আসার পরে পরদিন সকালেও আরেক কোয়াক ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তাছাড়া অভিযোগে ১১টি ইনজেকশন দেওয়ার কথাও সত্য নয়। গাভীকে স্যালাইনের সাথে মিশিয়ে ৪টি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল, যা সঠিক চিকিৎসা ছিল। এই ক্ষেত্রে আমাদের চিকিৎসা পদ্ধতিতে এন্টিবায়োটিক, এন্টিহিস্টামিন, পেইন কিলার আর ভিটামিনসহ সর্বমোট ৪ ধরনের ইনজেকশন আছে। তিনি ১১টি ইনজেকশন পাবেন কোথায়?' #

০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:২১

০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:৪১
বরিশালের গৌরনদীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের একটি ব্রিজের রেলিং ভেঙে পণ্যবাহী ট্রাক খাদে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ট্রাকটির চালক ও হেলপার আহত হলেও ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গেছেন। তারা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে মহাসড়কের টরকী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নীলখোলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বরিশালগামী একটি মালবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নীলখোলা ব্রিজের রেলিং ভেঙে সরাসরি খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ট্রাকের ভেতর আটকে পড়া চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার তীব্রতা বেশি থাকলেও তারা দুজনেই সামান্য আঘাত পেয়ে প্রাণে রক্ষা পান।
এ বিষয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম শেখ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:৩৯
হাম উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৩০ জন শিশু।
বৃহস্পতিবার (০৮ এপ্রিল) সকালে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ নিয়ে বরিশাল বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ১২ জনে পৌঁছালো।
মৃতরা হলো: বরিশালের বাকেরগঞ্জের পান্না খানের পাঁচ মাস বয়সী ছেলে ইমাম ও বরগুনার আমতলীর আবু বকরের ৯ মাস বয়সী ছেলে আনু সালেহ। শেবাচিম হাসপাতালে বর্তমানে হাম সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছে মোট ৯১ জন। আর ছাড়পত্র নিয়ে গেছে ২৭ জন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আজ ৯ এপ্রিল পর্যন্ত হাসপাতালটি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৩০১ জন।
এ দিকে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, এই রোগের উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছিলেন মোট ১০৮০ জন। যার মধ্যে ছাড়পত্র নিয়েছে ৬৩১ জন। আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৫৭ জন।
এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাং শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, ‘হাম অতি ছোঁয়াচে সংক্রমণ ব্যাধি। এই রোগ যাতে দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য বিভাগের সব হাসপাতালে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি টিকা কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।’
বরিশালের বানারীপাড়ায় যৌতুক না পেয়ে নির্মম নির্যাতন করে স্ত্রী মারিয়া আক্তারকে (১৮) হত্যা মামলার আসামী ঘাতক স্বামী রবিউল মৃধাকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত দুইটার দিকে রাজধানীর নন্দীপাড়ার ছোট বটতলার ভাড়াটিয়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে তাকে বানারীপাড়া থানায় নিয়ে আসার পরে বরিশাল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
বানারীপাড়া থানার ওসি মোঃ মজিবুর রহমান জানান, বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার জেড, এম মোস্তাফিজুর রহমানের দূরদর্শী দিক নির্দেশনায় গৃহবধু মারিয়া আক্তার মারা যাওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ঢাকা থেকে হত্যা মামলার মূল আসামী রবিউলকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছি।এর আগে বুধবার রাতে নিহত মারিয়া আক্তারের পিতা হুমায়ুন কবির হাওলাদার বাদী হয়ে মেয়ে জামাতা রবিউলকে প্রধান আসামী ও ৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে বানারীপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রসঙ্গত, বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির হাওলাদারের মেয়ে মারিয়া আক্তারের সঙ্গে প্রায় তিন বছর আগে একই এলাকার রবিউল মৃধার পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয়।
তাদের সংসারে দুই বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। জীবিকার তাগিদে তারা রাজধানী ঢাকায় নন্দীপাড়ার ছোট বটতলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। রবিউল সেখানে লেগুনা গাড়ির চালক।
যৌতুকের টাকার দাবি পূরণ ও বিয়ের সময়ে প্রতিশ্রুত স্বর্নের কানের দুল দিতে না পারা এবং মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে রবিউল স্ত্রী মারিয়াকে মানসিক ও শারিরীকভাবে নির্যাতন করতেন।
স্ত্রীকে নির্যাতনে রবিউলকে তার মা ও বোন ইন্ধন যোগাতেন। রমজান মাসে রবিউল তার স্ত্রী মারিয়াকে বাবার বাড়ি থেকে ১৫ হাজার টাকা এনে দিতে বলেন। চা দোকানী দরিদ্র বাবার কাছ থেকে টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং বাসায় বসে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় তাকে প্রায়ই মারধর করা হতো।
এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (৪ এপ্রিল) রবিউল মৃধা স্ত্রী মারিয়াকে অমানবিকভাবে মারধর করে। এ সময় পিটিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়। , এমনকি তার সংবেদনশীল অঙ্গেও আঘাতের অভিযোগ রয়েছে।
নির্মম নির্যাতনের পরে তাকে কোন চিকিৎসাও করানো হয়নি। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বিনা চিকিৎসায় বাসায় ফেলে রাখা হয়। অসুস্থতার কারনে বাসায় রান্না করতে না পারায় দ্বিতীয় দফা তাকে মারধর করা হয়।
মারিয়ার গুরুতর অসুস্থ অবস্থার খবর পেয়ে তার মা হাফিজা বেগম ঢাকায় ছুঁটে যান। সেখান থেকে বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে গুরুতর আহত মারিয়াকে বানারীপাড়ায় পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
বাড়িতে আসার পর অবস্থার অবনতি ঘটলে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসার পর চিকিৎসাধিন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে বানারীপাড়া থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। সেখানে ময়না তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জানাজা শেষে তার মরদেহ বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এদিকে মারিয়ার ঘাতক রবিউল মৃধা অল্প সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়ায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা ঘাতকের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
বরিশালের বানারীপাড়ায় যৌতুক না পেয়ে নির্মম নির্যাতন করে স্ত্রী মারিয়া আক্তারকে (১৮) হত্যা মামলার আসামী ঘাতক স্বামী রবিউল মৃধাকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত দুইটার দিকে রাজধানীর নন্দীপাড়ার ছোট বটতলার ভাড়াটিয়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে তাকে বানারীপাড়া থানায় নিয়ে আসার পরে বরিশাল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
বানারীপাড়া থানার ওসি মোঃ মজিবুর রহমান জানান, বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার জেড, এম মোস্তাফিজুর রহমানের দূরদর্শী দিক নির্দেশনায় গৃহবধু মারিয়া আক্তার মারা যাওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ঢাকা থেকে হত্যা মামলার মূল আসামী রবিউলকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছি।এর আগে বুধবার রাতে নিহত মারিয়া আক্তারের পিতা হুমায়ুন কবির হাওলাদার বাদী হয়ে মেয়ে জামাতা রবিউলকে প্রধান আসামী ও ৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে বানারীপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রসঙ্গত, বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির হাওলাদারের মেয়ে মারিয়া আক্তারের সঙ্গে প্রায় তিন বছর আগে একই এলাকার রবিউল মৃধার পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয়।
তাদের সংসারে দুই বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। জীবিকার তাগিদে তারা রাজধানী ঢাকায় নন্দীপাড়ার ছোট বটতলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। রবিউল সেখানে লেগুনা গাড়ির চালক।
যৌতুকের টাকার দাবি পূরণ ও বিয়ের সময়ে প্রতিশ্রুত স্বর্নের কানের দুল দিতে না পারা এবং মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে রবিউল স্ত্রী মারিয়াকে মানসিক ও শারিরীকভাবে নির্যাতন করতেন।
স্ত্রীকে নির্যাতনে রবিউলকে তার মা ও বোন ইন্ধন যোগাতেন। রমজান মাসে রবিউল তার স্ত্রী মারিয়াকে বাবার বাড়ি থেকে ১৫ হাজার টাকা এনে দিতে বলেন। চা দোকানী দরিদ্র বাবার কাছ থেকে টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং বাসায় বসে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় তাকে প্রায়ই মারধর করা হতো।
এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (৪ এপ্রিল) রবিউল মৃধা স্ত্রী মারিয়াকে অমানবিকভাবে মারধর করে। এ সময় পিটিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়। , এমনকি তার সংবেদনশীল অঙ্গেও আঘাতের অভিযোগ রয়েছে।
নির্মম নির্যাতনের পরে তাকে কোন চিকিৎসাও করানো হয়নি। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বিনা চিকিৎসায় বাসায় ফেলে রাখা হয়। অসুস্থতার কারনে বাসায় রান্না করতে না পারায় দ্বিতীয় দফা তাকে মারধর করা হয়।
মারিয়ার গুরুতর অসুস্থ অবস্থার খবর পেয়ে তার মা হাফিজা বেগম ঢাকায় ছুঁটে যান। সেখান থেকে বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে গুরুতর আহত মারিয়াকে বানারীপাড়ায় পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
বাড়িতে আসার পর অবস্থার অবনতি ঘটলে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসার পর চিকিৎসাধিন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে বানারীপাড়া থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। সেখানে ময়না তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জানাজা শেষে তার মরদেহ বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এদিকে মারিয়ার ঘাতক রবিউল মৃধা অল্প সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়ায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা ঘাতকের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
বরিশালের গৌরনদীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের একটি ব্রিজের রেলিং ভেঙে পণ্যবাহী ট্রাক খাদে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ট্রাকটির চালক ও হেলপার আহত হলেও ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গেছেন। তারা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে মহাসড়কের টরকী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নীলখোলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বরিশালগামী একটি মালবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নীলখোলা ব্রিজের রেলিং ভেঙে সরাসরি খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ট্রাকের ভেতর আটকে পড়া চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার তীব্রতা বেশি থাকলেও তারা দুজনেই সামান্য আঘাত পেয়ে প্রাণে রক্ষা পান।
এ বিষয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম শেখ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
হাম উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৩০ জন শিশু।
বৃহস্পতিবার (০৮ এপ্রিল) সকালে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ নিয়ে বরিশাল বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ১২ জনে পৌঁছালো।
মৃতরা হলো: বরিশালের বাকেরগঞ্জের পান্না খানের পাঁচ মাস বয়সী ছেলে ইমাম ও বরগুনার আমতলীর আবু বকরের ৯ মাস বয়সী ছেলে আনু সালেহ। শেবাচিম হাসপাতালে বর্তমানে হাম সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছে মোট ৯১ জন। আর ছাড়পত্র নিয়ে গেছে ২৭ জন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আজ ৯ এপ্রিল পর্যন্ত হাসপাতালটি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৩০১ জন।
এ দিকে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, এই রোগের উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছিলেন মোট ১০৮০ জন। যার মধ্যে ছাড়পত্র নিয়েছে ৬৩১ জন। আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৫৭ জন।
এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাং শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, ‘হাম অতি ছোঁয়াচে সংক্রমণ ব্যাধি। এই রোগ যাতে দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য বিভাগের সব হাসপাতালে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি টিকা কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।’