কুড়িগ্রামের রৌমারীতে অবসরকালীন ভাতার কাগজে স্বাক্ষর না দেওয়ায় উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুরে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই কর্মকর্তাকে রক্ষা করতে গিয়ে রৌমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোষাধাক্ষ্য রাজা মিয়া আহত হন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
হিসাবরক্ষণ অফিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স উপজেলার কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা আতুয়ারা খাতুনের স্বামী কাদের মোল্লা উপজেলা জামায়াতের নেতা। মঙ্গলবার দুপুরে নমিনী-আমিরসহ কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে উপজেলার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে তার স্ত্রীর অবসরভাতার কাগজপত্র দেখান। কাগজপত্র যাচাই করে দেখেন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা। কাগজে ভুল থাকায় স্বাক্ষর করেননি তিনি। স্বাক্ষর না করার কারণে রৌমারী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের জামায়াত আমির আনোয়ার হোসেন উত্তেজিত হয়ে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে মারধর করেন। এ সময় তাকে রক্ষা করার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ক্যাশিয়ার রাজা মিয়া এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। তিনি এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হায়দার আলী, সাবেক আমির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকসহ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
আহত রাজা মিয়া বলেন, কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার শার্ট ধরে ফেলেন জামায়াত নেতাকর্মীরা। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও মারধর করেন তারা।
উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, সিনিয়র স্টাফ নার্স আতুয়ারা খাতুন অবসরের ইনক্রিমেন্ট বিলের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। তবে তার কিছু কাগজ ভুল থাকায় বিলে স্বাক্ষর করা হয়নি। মঙ্গলবার তারা (জামায়াত) বিলে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য চাপ দিলে আমি অস্বীকৃতি জানাই। এ সময় তারা আমাকে মারধর করেন।
অভিযুক্ত জামায়াত নেতা আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ঘুস না পাওয়ায় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা দীর্ঘদিন থেকে আমাদের এক কর্মীর স্ত্রীর বিলে স্বাক্ষর করছিলেন না। তাই আমরা কয়েকজন নেতাকর্মী উনার কাছে যাই। অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও তা মীমাংসা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রৌমারী উপজেলা জামায়াতের আমির হায়দার আলী বলেন, ওই নার্সের স্বামী আমাদের দলের একজন কর্মী। তার স্ত্রীকে বিল প্রদান না করে ওই কর্মকর্তা হয়রানি করছিলেন। এজন্য আমাদের দলের কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে যান। এতে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে আমি বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছি।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল কুমার হালদার mvsevK‡i বলেন, আমি ছুটিতে আছি। তাই বিষয়টি অবগত নই। তবে বিষয়টা খোঁজ নিয়ে দেখছি।'

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৪
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৩১
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১২
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

১৭ জুন, ২০২৫ ২২:৫১
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে অবসরকালীন ভাতার কাগজে স্বাক্ষর না দেওয়ায় উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুরে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই কর্মকর্তাকে রক্ষা করতে গিয়ে রৌমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোষাধাক্ষ্য রাজা মিয়া আহত হন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
হিসাবরক্ষণ অফিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স উপজেলার কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা আতুয়ারা খাতুনের স্বামী কাদের মোল্লা উপজেলা জামায়াতের নেতা। মঙ্গলবার দুপুরে নমিনী-আমিরসহ কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে উপজেলার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে তার স্ত্রীর অবসরভাতার কাগজপত্র দেখান। কাগজপত্র যাচাই করে দেখেন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা। কাগজে ভুল থাকায় স্বাক্ষর করেননি তিনি। স্বাক্ষর না করার কারণে রৌমারী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের জামায়াত আমির আনোয়ার হোসেন উত্তেজিত হয়ে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে মারধর করেন। এ সময় তাকে রক্ষা করার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ক্যাশিয়ার রাজা মিয়া এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। তিনি এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হায়দার আলী, সাবেক আমির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকসহ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
আহত রাজা মিয়া বলেন, কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার শার্ট ধরে ফেলেন জামায়াত নেতাকর্মীরা। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও মারধর করেন তারা।
উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, সিনিয়র স্টাফ নার্স আতুয়ারা খাতুন অবসরের ইনক্রিমেন্ট বিলের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। তবে তার কিছু কাগজ ভুল থাকায় বিলে স্বাক্ষর করা হয়নি। মঙ্গলবার তারা (জামায়াত) বিলে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য চাপ দিলে আমি অস্বীকৃতি জানাই। এ সময় তারা আমাকে মারধর করেন।
অভিযুক্ত জামায়াত নেতা আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ঘুস না পাওয়ায় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা দীর্ঘদিন থেকে আমাদের এক কর্মীর স্ত্রীর বিলে স্বাক্ষর করছিলেন না। তাই আমরা কয়েকজন নেতাকর্মী উনার কাছে যাই। অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও তা মীমাংসা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রৌমারী উপজেলা জামায়াতের আমির হায়দার আলী বলেন, ওই নার্সের স্বামী আমাদের দলের একজন কর্মী। তার স্ত্রীকে বিল প্রদান না করে ওই কর্মকর্তা হয়রানি করছিলেন। এজন্য আমাদের দলের কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে যান। এতে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে আমি বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছি।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল কুমার হালদার mvsevK‡i বলেন, আমি ছুটিতে আছি। তাই বিষয়টি অবগত নই। তবে বিষয়টা খোঁজ নিয়ে দেখছি।'
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১৬
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩৪
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৪৬
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১৬