কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধায় ৫০০ টাকার জন্য প্রায় এক ঘন্টা আটকে থেকে এক নবজাতক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন অ্যাম্বুলেন্স চালক।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকে নবজাতকের মৃত্যুর খবরে তাদের আত্মীয়রা হাসপাতালে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে তারা বিক্ষোভও করেন। এতে হাসপাতালসহ আশপাশের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত নবজাতক শিশু কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের মীর পাড়া গ্রামের মো: রোহানের ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন রোগীর স্বজনরা।
স্থানীয় ও নিহত শিশুর পরিবার জানায়, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের মীর পাড়া গ্রামের মো: রোহানের স্ত্রী সাদিয়া আক্তার গতরাত শুক্রবার ১১টার দিকে জেলা শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন।
জন্মের পর থেকেই নবজাতক শিশুর শ্বাসকষ্ট ও ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় ভুগতে থাকে। চিকিৎসক জরুরি ভিত্তিতে তাকে শহীদ সৈয়দ নজরুল মেডিকেলে রেফার্ড করে।
সৈয়দ নজরুল মেডিকেলে সাড়ে ১২টায় নবজাতককে ভর্তির পর অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ময়মনসিংহে রেফার্ড করে। নবজাতককে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত হাসপাতালে গেটে এসে এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করার জন্য খোঁজ করে।
এসময় সরকারি এ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্সে ময়মনসিংহের ভাড়া জানতে চাইলে এ্যাম্বুলেন্স চালক সাইফুলসহ আরও কয়েকজন সাড়ে ৪হাজার টাকা জানান।
নবজাতকের পরিবারের সদস্যরা তখন সরকারি এ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া ময়মনসিংহে ১৬০০ টাকা করে উল্লেখ করে বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া সাড়ে তিন হাজার টাকা দিতে চান।
পরবর্তীতে ৪হাজার টাকা ভাড়া দিতে চাইলেও এ্যাম্বুলেন্স চালকরা সাড়ে ৪হাজার টাকার নিচে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। মূলত তারা নিজেদের সিন্ডিকেটভুক্ত অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া অন্য কোনো গাড়িকে যেতে দিতে রাজি ছিলেন না। ভাড়া নিয়ে কথা চলার মাঝেই রাত তিন টার দিকে নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে সিন্ডিকেটের অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা বাইরের গাড়িকে রোগী বহনে বাধা দেয় এবং জোরপূর্বক যাত্রী নিজেদের গাড়িতে তুলতে বাধ্য করে।
আর সরকারি এ্যাম্বুলেন্সে ময়মনসিংহ ১৬০০ টাকা ও ঢাকা ২৯০০ টাকা বলা থাকলেও নানা অজুহাত দেখিয়ে দিগুণ ভাড়া দিতে হয়। বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্সে যেতে হলে সরকার নির্ধারিত ভাড়া থেকে দুই-তিন গুণ বেশি হয় নইলে কোনো চালকই এ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিতে চায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের বর্বরতা বন্ধ না হলে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন তারা।
নিহত শিশুর নানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার নাতিকে ময়মনসিংহ নিতে পারলাম না। আমার ছেলের বউ কে কি জবাব দিব? ওরা আমার নাতিকে বাঁচতে দেয়নি। অনেক অনুরোধ করেছিলাম নিয়ে দিতে, কিন্তু তারা শোনেনি। সিন্ডিকেটের জন্যই আমার নাতি মারা গেছে।
নবজাতকের দাদা জুয়েল মিয়া জানান, রাতে নবজাতকের জন্মের পর শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিলে সৈয়দ নজরুল মেডিকেলে নিয়ে আসি এখানেও অবস্থার পরিবর্তন নাহলে ডাক্তাররা ময়মনসিংহ রেফার্ড করে৷ ময়মনসিংহে নেয়ার জন্য নবজাতককে নিয়ে হাসপাতালের গেটে এ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নিয়ে কথা চলার মাঝেই আমার নাতির মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, সরকারি এ্যাম্বুলেন্সের জন্য যোগাযোগ করলে তেল সংকটের কথা জানায় এসময় বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্স চালক সাইফুলকে ময়মনসিংহ যাওয়ার জন্য ভাড়া জানতে চাইলে সাড়ে চার হাজার টাকা বললে আমরা ৪হাজার টাকা দিতে চাই তারপরও সাইফুলসহ আরো দুইজন এ্যাম্বুলেন্স চালক কেউই আমার নাতিকে নিয়ে যেতে চায় নি।
নিহত নবজাতকের বাবা মো: রোহান বলেন, সন্তান জন্মের পর শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিলে অন্যত্র রেফার্ড করলে পরিবারের অন্য সদস্যরা সৈয়দ নজরুল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। ভর্তির পর অবস্থা অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা আমায় জানালে আমি স্ত্রীর এখান থেকে সৈয়দ নজরুল মেডিকেলে যাই গিয়ে দেখি আমার নবজাতকের মৃত্যু ঘটে গেছে।
অসহায় বাবা রোহান দায়িত্বশীলদের অবহেলার অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালের কাছেই আমার বাড়ি আমার সাথেই যদি এমন ঘটনা ঘটে দূর হতে আসা রোগীদের সাথে তাহলে কি চলছে..? এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে সেদিকে হাসপাতাল ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এ্যাম্বুলেন্স চালক সাইফুলের সাথে যোগাযোগ করার জন্য তার ব্যবহৃত ফোন নাম্বারে একাধিকবার ফোন করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা যশোদল ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোঃ শরীফ আহাম্মদ শরীফ বলেন, অ্যাম্বুলেন্স চালক মাত্র ৫০০ টাকার জন্য গাড়ি আটকে রাখার কারণে নবজাতক শিশুটিকে সময়মতো ময়মনসিংহ নেওয়া সম্ভব হয়নি। আমরা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
এ বিষয়ে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, এটা আসলে আমাকে কেউ জানায় নাই।
আমি আপনার কাছ থেকেই শুনলাম। রোগীর লোকজন যদি আমাকে জানাতো তাহলে আমরা হয়তো বিষয়টাকে অ্যাডজাস্ট করতে পারতাম।
তারা এ্যাম্বুলেন্স পাইতে কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার হলে ডেফিনেটলি আমরা বিষয়টা অ্যাডজাস্ট করব। তারপরেও বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. অভিজিত শর্ম্মা বলেন, এই বিষটা আসলে আমি তো জানি না। এটা তো পরিচালক বলতে পারবেন ভালো। তবে এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:১৪
রাজশাহীতে একটি ফ্ল্যাটের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে নারীসহ আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর নাদের হাজির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক মাহবুব আলম একসময় চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন। বর্তমানে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত এবং সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন।
জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে নাদের হাজির মোড়ের একটি ফ্ল্যাটের দরজায় দীর্ঘ সময় ধরে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে দরজা খুলে মাহবুব আলম ও এক নারীকে বের করে আনেন। পরে তাদের চন্দ্রিমা থানায় নেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনাস্থলে থাকা আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’ দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব তাকে বিয়ে করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব যে জেলায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে।
আন্নির দাবি, এর আগেও রাজশিয়ার পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুবের নিজস্ব ফ্ল্যাটে ওই নারীকে তার সঙ্গে পেয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও মাহবুবকে ওই নারীর সঙ্গে নাদের হাজির মোড়ের ফ্ল্যাটে থাকার খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান।
মাহবুব আলম অবশ্য ওই নারীকে নিজের স্ত্রী দাবি করেছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। একই সঙ্গে আন্নিকে চারদিন আগে তালাক দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। পুলিশের কাছে তালাকের একটি কাগজ জমা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
তবে আন্নির দাবি, তিনি কোনো তালাকের কাগজ পাননি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মাহবুব আলমকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে নওগাঁ জেলা পুলিশে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়।
সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, মাহবুব আলম কোনো ছুটি বা অনুমতি ছাড়াই রাজশিয়ায় গেছেন। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও ওই নারীর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহীতে একটি ফ্ল্যাটের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে নারীসহ আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর নাদের হাজির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক মাহবুব আলম একসময় চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন। বর্তমানে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত এবং সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন।
জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে নাদের হাজির মোড়ের একটি ফ্ল্যাটের দরজায় দীর্ঘ সময় ধরে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে দরজা খুলে মাহবুব আলম ও এক নারীকে বের করে আনেন। পরে তাদের চন্দ্রিমা থানায় নেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনাস্থলে থাকা আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’ দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব তাকে বিয়ে করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব যে জেলায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে।
আন্নির দাবি, এর আগেও রাজশিয়ার পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুবের নিজস্ব ফ্ল্যাটে ওই নারীকে তার সঙ্গে পেয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও মাহবুবকে ওই নারীর সঙ্গে নাদের হাজির মোড়ের ফ্ল্যাটে থাকার খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান।
মাহবুব আলম অবশ্য ওই নারীকে নিজের স্ত্রী দাবি করেছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। একই সঙ্গে আন্নিকে চারদিন আগে তালাক দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। পুলিশের কাছে তালাকের একটি কাগজ জমা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
তবে আন্নির দাবি, তিনি কোনো তালাকের কাগজ পাননি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মাহবুব আলমকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে নওগাঁ জেলা পুলিশে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়।
সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, মাহবুব আলম কোনো ছুটি বা অনুমতি ছাড়াই রাজশিয়ায় গেছেন। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও ওই নারীর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। মারা গেছেন আরও আটজন, যা এ বছর একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এ নিয়ে এবার মোট ১৫৭ জনের মৃত্যু হলো।
এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৭৩৩ জন। এ নিয়ে এবার মোট ভর্তি হলেন ৫৩ হাজার ৫৭০ জন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৩৭৫ জন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, নতুন মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে ছয়জন নারী ও দুজন পুরুষ। তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ছয় থেকে ১০ বছরের মধ্যে, একজনের বয়স ১৬ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং বাকিরা প্রাপ্তবয়স্ক।
মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৫৭ জনের মধ্যে নারী ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
মাসের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জন প্রাণ হারান। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান।
সেই তুলনায় চলতি মাসে অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৬০ জনের। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ৯ জন মারা যান ৮ সেপ্টেম্বর।
ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৫১, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ১৯ ও সিটি করপোরেশনের বাইরে নয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে খুলনায় ২৭, ময়মনসিংহে ১৬, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ১৫, রাজশাহীতে ছয় এবং রংপুর ও সিলেটে একজন করে মারা গেছেন।
রোগীর মাসভিত্তিক হিসাব মতে, গত আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত এই সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৯১ জন। এর মধ্যে সোমবারের আগ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৭১ জন ভর্তি হয়েছিলেন ৮ সেপ্টেম্বর।
এর আগে জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪ ও জুনে দুই হাজার ৯০৭ জন হাসপাতালে আসেন।
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। মারা গেছেন আরও আটজন, যা এ বছর একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এ নিয়ে এবার মোট ১৫৭ জনের মৃত্যু হলো।
এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৭৩৩ জন। এ নিয়ে এবার মোট ভর্তি হলেন ৫৩ হাজার ৫৭০ জন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৩৭৫ জন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, নতুন মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে ছয়জন নারী ও দুজন পুরুষ। তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ছয় থেকে ১০ বছরের মধ্যে, একজনের বয়স ১৬ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং বাকিরা প্রাপ্তবয়স্ক।
মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৫৭ জনের মধ্যে নারী ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
মাসের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জন প্রাণ হারান। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান।
সেই তুলনায় চলতি মাসে অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৬০ জনের। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ৯ জন মারা যান ৮ সেপ্টেম্বর।
ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৫১, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ১৯ ও সিটি করপোরেশনের বাইরে নয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে খুলনায় ২৭, ময়মনসিংহে ১৬, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ১৫, রাজশাহীতে ছয় এবং রংপুর ও সিলেটে একজন করে মারা গেছেন।
রোগীর মাসভিত্তিক হিসাব মতে, গত আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত এই সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৯১ জন। এর মধ্যে সোমবারের আগ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৭১ জন ভর্তি হয়েছিলেন ৮ সেপ্টেম্বর।
এর আগে জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪ ও জুনে দুই হাজার ৯০৭ জন হাসপাতালে আসেন।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:৪৬
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় চায়ের দোকানের ৪৫ টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও পুরুষসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পরে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে ফের হাতাহাতি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের জয়ন্তীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জয়ন্তীপুর এলাকার চা বিক্রেতা শামিম হোসেনের দোকানে মুদি ব্যবসায়ী মোস্তফার ৪৫ টাকা বাকি ছিল। সন্ধ্যার দিকে ওই টাকা পরিশোধের জন্য মোস্তফার কাছে জানতে চান শামিম। এ সময় পাওনা টাকা দেওয়া-নেওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।
কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দুজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের আত্মীয়-স্বজন ও লোকজন সেখানে এসে জড়ো হন। পরে তাদের মধ্যেও বিরোধ সৃষ্টি হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে দ্রুত বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে চিকিৎসা নিতে এসে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে দুই পক্ষের লোকজন ফের বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সেখানে মারামারির ঘটনাও ঘটে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিলে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইফফাত মেহেজাবীন অনন্যা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন আহতদের নিয়ে হাসপাতালে আসতে থাকেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় চায়ের দোকানের ৪৫ টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও পুরুষসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পরে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে ফের হাতাহাতি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের জয়ন্তীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জয়ন্তীপুর এলাকার চা বিক্রেতা শামিম হোসেনের দোকানে মুদি ব্যবসায়ী মোস্তফার ৪৫ টাকা বাকি ছিল। সন্ধ্যার দিকে ওই টাকা পরিশোধের জন্য মোস্তফার কাছে জানতে চান শামিম। এ সময় পাওনা টাকা দেওয়া-নেওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।
কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দুজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের আত্মীয়-স্বজন ও লোকজন সেখানে এসে জড়ো হন। পরে তাদের মধ্যেও বিরোধ সৃষ্টি হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে দ্রুত বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে চিকিৎসা নিতে এসে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে দুই পক্ষের লোকজন ফের বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সেখানে মারামারির ঘটনাও ঘটে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিলে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইফফাত মেহেজাবীন অনন্যা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন আহতদের নিয়ে হাসপাতালে আসতে থাকেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

২৮ মার্চ, ২০২৬ ১৮:১৬
কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধায় ৫০০ টাকার জন্য প্রায় এক ঘন্টা আটকে থেকে এক নবজাতক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন অ্যাম্বুলেন্স চালক।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকে নবজাতকের মৃত্যুর খবরে তাদের আত্মীয়রা হাসপাতালে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে তারা বিক্ষোভও করেন। এতে হাসপাতালসহ আশপাশের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত নবজাতক শিশু কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের মীর পাড়া গ্রামের মো: রোহানের ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন রোগীর স্বজনরা।
স্থানীয় ও নিহত শিশুর পরিবার জানায়, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের মীর পাড়া গ্রামের মো: রোহানের স্ত্রী সাদিয়া আক্তার গতরাত শুক্রবার ১১টার দিকে জেলা শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন।
জন্মের পর থেকেই নবজাতক শিশুর শ্বাসকষ্ট ও ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় ভুগতে থাকে। চিকিৎসক জরুরি ভিত্তিতে তাকে শহীদ সৈয়দ নজরুল মেডিকেলে রেফার্ড করে।
সৈয়দ নজরুল মেডিকেলে সাড়ে ১২টায় নবজাতককে ভর্তির পর অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ময়মনসিংহে রেফার্ড করে। নবজাতককে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত হাসপাতালে গেটে এসে এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করার জন্য খোঁজ করে।
এসময় সরকারি এ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্সে ময়মনসিংহের ভাড়া জানতে চাইলে এ্যাম্বুলেন্স চালক সাইফুলসহ আরও কয়েকজন সাড়ে ৪হাজার টাকা জানান।
নবজাতকের পরিবারের সদস্যরা তখন সরকারি এ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া ময়মনসিংহে ১৬০০ টাকা করে উল্লেখ করে বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া সাড়ে তিন হাজার টাকা দিতে চান।
পরবর্তীতে ৪হাজার টাকা ভাড়া দিতে চাইলেও এ্যাম্বুলেন্স চালকরা সাড়ে ৪হাজার টাকার নিচে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। মূলত তারা নিজেদের সিন্ডিকেটভুক্ত অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া অন্য কোনো গাড়িকে যেতে দিতে রাজি ছিলেন না। ভাড়া নিয়ে কথা চলার মাঝেই রাত তিন টার দিকে নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে সিন্ডিকেটের অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা বাইরের গাড়িকে রোগী বহনে বাধা দেয় এবং জোরপূর্বক যাত্রী নিজেদের গাড়িতে তুলতে বাধ্য করে।
আর সরকারি এ্যাম্বুলেন্সে ময়মনসিংহ ১৬০০ টাকা ও ঢাকা ২৯০০ টাকা বলা থাকলেও নানা অজুহাত দেখিয়ে দিগুণ ভাড়া দিতে হয়। বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্সে যেতে হলে সরকার নির্ধারিত ভাড়া থেকে দুই-তিন গুণ বেশি হয় নইলে কোনো চালকই এ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিতে চায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের বর্বরতা বন্ধ না হলে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন তারা।
নিহত শিশুর নানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার নাতিকে ময়মনসিংহ নিতে পারলাম না। আমার ছেলের বউ কে কি জবাব দিব? ওরা আমার নাতিকে বাঁচতে দেয়নি। অনেক অনুরোধ করেছিলাম নিয়ে দিতে, কিন্তু তারা শোনেনি। সিন্ডিকেটের জন্যই আমার নাতি মারা গেছে।
নবজাতকের দাদা জুয়েল মিয়া জানান, রাতে নবজাতকের জন্মের পর শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিলে সৈয়দ নজরুল মেডিকেলে নিয়ে আসি এখানেও অবস্থার পরিবর্তন নাহলে ডাক্তাররা ময়মনসিংহ রেফার্ড করে৷ ময়মনসিংহে নেয়ার জন্য নবজাতককে নিয়ে হাসপাতালের গেটে এ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নিয়ে কথা চলার মাঝেই আমার নাতির মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, সরকারি এ্যাম্বুলেন্সের জন্য যোগাযোগ করলে তেল সংকটের কথা জানায় এসময় বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্স চালক সাইফুলকে ময়মনসিংহ যাওয়ার জন্য ভাড়া জানতে চাইলে সাড়ে চার হাজার টাকা বললে আমরা ৪হাজার টাকা দিতে চাই তারপরও সাইফুলসহ আরো দুইজন এ্যাম্বুলেন্স চালক কেউই আমার নাতিকে নিয়ে যেতে চায় নি।
নিহত নবজাতকের বাবা মো: রোহান বলেন, সন্তান জন্মের পর শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিলে অন্যত্র রেফার্ড করলে পরিবারের অন্য সদস্যরা সৈয়দ নজরুল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। ভর্তির পর অবস্থা অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা আমায় জানালে আমি স্ত্রীর এখান থেকে সৈয়দ নজরুল মেডিকেলে যাই গিয়ে দেখি আমার নবজাতকের মৃত্যু ঘটে গেছে।
অসহায় বাবা রোহান দায়িত্বশীলদের অবহেলার অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালের কাছেই আমার বাড়ি আমার সাথেই যদি এমন ঘটনা ঘটে দূর হতে আসা রোগীদের সাথে তাহলে কি চলছে..? এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে সেদিকে হাসপাতাল ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এ্যাম্বুলেন্স চালক সাইফুলের সাথে যোগাযোগ করার জন্য তার ব্যবহৃত ফোন নাম্বারে একাধিকবার ফোন করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা যশোদল ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোঃ শরীফ আহাম্মদ শরীফ বলেন, অ্যাম্বুলেন্স চালক মাত্র ৫০০ টাকার জন্য গাড়ি আটকে রাখার কারণে নবজাতক শিশুটিকে সময়মতো ময়মনসিংহ নেওয়া সম্ভব হয়নি। আমরা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
এ বিষয়ে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, এটা আসলে আমাকে কেউ জানায় নাই।
আমি আপনার কাছ থেকেই শুনলাম। রোগীর লোকজন যদি আমাকে জানাতো তাহলে আমরা হয়তো বিষয়টাকে অ্যাডজাস্ট করতে পারতাম।
তারা এ্যাম্বুলেন্স পাইতে কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার হলে ডেফিনেটলি আমরা বিষয়টা অ্যাডজাস্ট করব। তারপরেও বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. অভিজিত শর্ম্মা বলেন, এই বিষটা আসলে আমি তো জানি না। এটা তো পরিচালক বলতে পারবেন ভালো। তবে এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:৪৯
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১১
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৪
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১৬