
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১৯:০০
বিএনপি-আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ব্যবসায়ী ও নিরীহ মানুষকে অভিযুক্ত করা নিয়ে তুমুল বিতর্ক। বহু বিবাহিত যুবকের অপতৎপরতায় বিব্রত পুলিশ-প্রশাসন। বাদী ডাকাতি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মারযুক আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার দাবি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির ছাত্রসংগঠন ‘ছাত্রশক্তি’ বরিশালের পদধারী নেতা মারযুক আব্দুল্লাহর মামলা-বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু প্রশাসনের কর্মকর্তারা। একের পর এক মিথ্যে মামলায় বিএনপি-আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি শহরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে অভিযুক্ত করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপতৎপরতায় সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে গোটা বরিশালবাসী। ডাকাতি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত বিশোর্ধ্ব এই যুবক গত বৃহস্পতিবার বরিশাল আদালতে বিএনপি-আ’লীগের নেতা-নেত্রীসহ ২৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি নালিশি অভিযোগ করেন। অবশ্য নালিশিটি নিয়ে তিনি আদালতে যাওয়ার কদিন আগেই শুরু করে দেন চাঁদাবাজি, বিশেষ করে টার্গেট করা হয় শহরের স্বনামধন্য ব্যবসায়ীদের। বিতর্কিত এই মামলাটি নিয়ে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনেও তোলপাড় শুরু হয়েছে, বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা এই ঘটনায় তদন্তপূর্বক বাদী ছাত্রশক্তির বরিশাল মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারযুক আব্দুল্লাহ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ রেখেছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে তৎকালীন একটি মামলার বাদী হিসেবে আলোচনায় আসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মারযুক আব্দুল্লাহ। ২০২৫ সালের ১৪ মে বরিশাল আদালতে করা সেই মামলাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল জেলার যুগ্ম সদস্যসচিব পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিস্কার করা হয়। একই বছরের ৬ জুন এই বিতর্কিত যুবক দুই সহযোগীসহ ডাকাতি করতে পটুয়াখালীর দুমকিকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তাদের কাছ থেকে তৎকালীন ডাকাতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়। এবং সেই ঘটনায় দুমকি থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নূরুজ্জামান বাদী হয়ে একটি মামলাও করেন। পুলিশ মারযুকসহ সহযোগীদের পেশাদার ডাকাত উল্লেখ করে আদালতে পাঠালে তাদের কারাগারেও পাঠানো হয়।
সূত্র জানিয়েছে, ডাকাতি মামলা বেশকিছুদিন জেল খেটে বের হয়ে একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন যুবক মারযুক আব্দুল্লাহ। এবং সিঅ্যান্ড রোডের সুলতান, রূপাতলীর জুয়েল এবং শহরের চাঁদমারির জহিরকে নিয়ে একটি চক্র গড়ে তোলেন। এই চক্রটি এখন পর্যন্ত বরিশালে তিনটি মামলা করে, যার অধিকাংশ অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীসহ নিরীহ মানুষ। অবশ্য এই মিথ্যে মামলা করে মারযুকসহ সহযোগীরা বেশ কয়েকবার জনরোষের শিকারও হন। মারযুক এবং তার স্বজন পরিচয়দানকারী সুলতান খানকে এই মামলা বাণিজ্যের কারণে বিএনপির কর্মীসহ সাধারণ মানুষ গণপিটুনিও দিয়েছে। কিন্তু এরপরেও তাদের অপতৎপরতা কমেনি।
মারযুকের গত বৃহস্পতিবারের (০২ জুলাই) মামলাটিতে অন্তত ৪ জন রয়েছে মৃত ব্যক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানাধীন গড়িয়ারপাড়ে সরকারবিরোধী মিছিল করে ককটেল ও পেট্রোলবোমা ছুড়েছেন। প্রশ্নবিদ্ধ এই মামলা নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা তৈরি করে।
অবশ্য এই মামলাটি নিয়ে প্রথমেই সন্দেহ তৈরি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সরাসরি এজাহার কিংবা এফআইআরের নির্দেশনা না দিয়ে পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে বলেন। তাছাড়া মামলাটিতে ১০, ১৬ ও ২২ জুন প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শহরের প্রবেশদ্বার গড়িয়ারপড়ে মিছিল, গোপন বৈঠক, সড়ক অবরোধ, ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর থানা পুলিশ বলছে এই ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। ফলে ছাত্রশক্তি নেতার করা এই মামলাটি যে একেবারে ভিত্তিহীন তা পুলিশ প্রশাসনও জানিয়ে দিচ্ছে।
এই ধারনা আরও বদ্ধমূল হয় আওয়ামী লীগের ৪ প্রয়াত নেতাসহ বিএনপির ত্যাগি এবং নিপিড়িত নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ থাকায়। এই মামলার ১৯৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি প্রয়াত মোহাম্মদ আলী হাওলাদার, তিনি বিসিসির ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০২১ সালের ২৬ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ১৯৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি আবুল ফারুক হুমায়ুনকে, তিনি ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ মারা গত হয়েছেন। একইভাবে ২০২২ সালের ২৩ জানুয়ারি মৃত্যুবরণকারী ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি খন্দকার রেজাউর রহমান রেজাকে ২১২ এবং ২০২১ সালের ২০ অক্টোবর মারা যাওয়া ২২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এইচএম হাফিজুর রশিদ শিবলীকেও ২২৫ নম্বর আসামি করা হয়।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, এই মৃত ব্যক্তিদের পাশাপাশি মামলাটিতে বিএনপি নেত্রী সিটির সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রাশিদা পারভীর, মজিদা বোরহান এবং আলম তাজসহ অসংখ্য ব্যবসায়ীদের অভিযুক্ত করা হয়। মামলার নথিতে বাদী মারজুক আব্দুল্লাহ অপরাধের তিনটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে প্রথমটি ১০ জুন সন্ধ্যা ৭টায় বিমানবন্দর থানাধীন ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিপুর মৃত্তিকা ভবন এলাকা, দ্বিতীয়টি ১৬ জুন সন্ধ্যা ৭টায় একই থানাধীন ভাঙারপোল এবং তৃতীয় ঘটনাটি ২২ জুন সন্ধ্যা ৭টায় মৃত্তিকা ভবন এলাকায় ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
মামলার তৃতীয় অর্থাৎ ২২ জুন সন্ধ্যায় মৃত্তিকা ভবন এলাকার ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চার মৃত নেতাকে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তারা মিটিং ও মিছিল করছিলেন। খবর পেয়ে বাদীসহ সাক্ষীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তখন অন্য আসামিদের সঙ্গে প্রয়াত চার নেতাও তাদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরকদ্রব্য ছুড়ে মেরেছেন। এর মধ্যে খন্দকার রেজাউর হাতবোমা, আবুল ফারুক এবং হাফিজুর রশিদ ককটেল ছুড়েছেন (!)
তবে মারযুকের এমন এজাহারের কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানার ওসি (তদন্ত) সুমন কুমার আইচ। পুলিশ কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে জানান, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তার আওতাধীন এলাকায় কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি।
এই মামলাটি নিয়ে তুমুল আলোচনা সমালোচনার মধ্যে বিতর্ক আরও জোরালো করেছেন বিদেশে পলাতক নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বরিশাল জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর রাজিব হোসেন খান। ফেসবুক লাইভে এসে তিনি অভিযোগ করেন, নির্দেশদাতা হিসেবে মামলায় তার নাম আছে। এবং এটি বাণিজ্য করার উদ্দেশে মারজুক আব্দুল্লাহ ফাঁদ পেতেছেন। এবং মামলার কপি আদালতে জমা দেওয়ার আগেই তিনি ছবি তুলে বিভিন্ন জনের কাছে পাঠিয়ে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। যাদের কাছ থেকে টাকা পাননি তাদের এই মামলাটি নাম রেখেছেন।
অবশ্য এমন অভিযোগ একই মামলার আসামি ও বরিশাল নগরীর কলাপট্টি এলাকার জয়নাল হাজারীর ছেলে নিলয় আহম্মেদ রাব্বি ওরফে রাইডার রাব্বিও করেছেন। তার দাবি, মারজুক আব্দুল্লাহ নিজেই ফোন করে তার কাছে ৫ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় তাকে মামলার ৬ নম্বর আসামি করা হয়।
এছাড়া শহরের বেশ কয়েকটি হাসপাতাল মালিক এবং ব্যবসায়ীদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ আছে বৈষম্যবিরোধী এই ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, মামলার সাক্ষীদের কারণে নিরীহ লোকের নাম এসেছে।
বাণিজ্য করতে গিয়ে বরিশাল শহরের অসংখ্য মানুষকে মামলায় জড়ানোর বিষয়টি ক্ষমতাসীন বিএনপিও ভালো ভাবে গ্রহণ করেনি। বরিশাল মেট্রোপলিটন আদালতের সরকারি আইন কর্মকর্তা এপিপি হাফিজ আহমেদ বাবলু মামলাটি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বিএনপিপন্থী এই আইনজীবী বলেন, মামলায় মিথ্যা তথ্য এবং মৃত ব্যক্তিকে আসামি করাটাও একটি অপরাধ। আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, অথচ এই মামলাটি সম্পর্কে আমরা কেউ কিছু জানি না।
বিজ্ঞ আদালত বিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে মামলার তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। আমরা মনে করি, এ মামলাটির কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা হবে এবং মামলার সত্যতা কতটুকু তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। এতে বাদীর কোনো অনিয়ম পেলে আদালত ব্যবস্থাগ্রহণ করতে পারে।
এই ধরনের অগ্রহণযোগ্য এবং মিথ্যে মামলা দেওয়ায় বাদী ছাত্রশক্তি নেতা মারযুকের ওপর ক্ষেপেছেন বরিশাল শহরের নাগরিক সমাজ। অভিযোগ, এই শহরের স্থায়ী বাসিন্দা নয় এমন ছেলে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর একের পর এক আইন লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতির মতো গুরুতর মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে, সে আবার কিভাবে আদালতে মিথ্যে মামলা করে? ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা চোক পাকিয়ে দেখছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১৪ মে মারযুক একটি মামলা করলে আদালত তা থানা পুলিশকে এজাহার করার নির্দেশ দেন। তৎকালীন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান এবং মারযুক মিলিমিশে মামলাটি নিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজি করেন। এরপরে ওসি মিজান বদলি হয়ে বিমানবন্দর থানায় যোগদান করেন। এবার সেই থানা এলাকাতে ঘটনাস্থল দেখিয়ে মামলাটি করা হলো। এখানে ওসি মিজান এবং মারযুকের কোনো যোগসূত্র আছে কী না তাও তদন্ত করার জোরালো দাবি তুলেছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি ডাকাতি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মারযুককে শিগগিরই গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি রাখা হয়।
এই প্রসঙ্গে জানতে ওসি মিজানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মামুন উল ইসলাম জানান, এই যুবকের বিতর্কিত কান্ডে পুলিশ বিব্রত। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলায় ওয়ারেন্ট আছে, গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে তিনি গ্রেপ্তার আতঙ্কে গাঢাকা দিয়ে আছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতারাও মারযুক আব্দুল্লাহকে ক্রাইমার হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, চাঁদাবাজি এবং ডাকাতির কারণে তাকে সংগঠন থেকে আনুষ্ঠানিক অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরেও তাকে রোহিত করা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিৎ তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা মন্তব্য করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল মহানগর কমিটির সাবেক আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদ।
এই মামলাটি এবং ডাকাতি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মারযুকের অপতৎপরতা নিয়ে পুলিশও বিব্রত বলে জানিয়েছেন মাঠপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদ বলছেন, যেহেতু আদালত তদন্ত করতে বলেছেন, এর আগে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
আইনবিদরা বলছেন, অভিযোগ যদি মিথ্যে হয়, তদন্ত প্রতিবেদনে তেমন আসে তাহলে বাদীর বিরুদ্ধে ২১১ ধারায় অভিযোগ আনারও সুযোগ থাকছে।’
বিএনপি-আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ব্যবসায়ী ও নিরীহ মানুষকে অভিযুক্ত করা নিয়ে তুমুল বিতর্ক। বহু বিবাহিত যুবকের অপতৎপরতায় বিব্রত পুলিশ-প্রশাসন। বাদী ডাকাতি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মারযুক আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার দাবি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির ছাত্রসংগঠন ‘ছাত্রশক্তি’ বরিশালের পদধারী নেতা মারযুক আব্দুল্লাহর মামলা-বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু প্রশাসনের কর্মকর্তারা। একের পর এক মিথ্যে মামলায় বিএনপি-আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি শহরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে অভিযুক্ত করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপতৎপরতায় সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে গোটা বরিশালবাসী। ডাকাতি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত বিশোর্ধ্ব এই যুবক গত বৃহস্পতিবার বরিশাল আদালতে বিএনপি-আ’লীগের নেতা-নেত্রীসহ ২৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি নালিশি অভিযোগ করেন। অবশ্য নালিশিটি নিয়ে তিনি আদালতে যাওয়ার কদিন আগেই শুরু করে দেন চাঁদাবাজি, বিশেষ করে টার্গেট করা হয় শহরের স্বনামধন্য ব্যবসায়ীদের। বিতর্কিত এই মামলাটি নিয়ে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনেও তোলপাড় শুরু হয়েছে, বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা এই ঘটনায় তদন্তপূর্বক বাদী ছাত্রশক্তির বরিশাল মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারযুক আব্দুল্লাহ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ রেখেছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে তৎকালীন একটি মামলার বাদী হিসেবে আলোচনায় আসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মারযুক আব্দুল্লাহ। ২০২৫ সালের ১৪ মে বরিশাল আদালতে করা সেই মামলাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল জেলার যুগ্ম সদস্যসচিব পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিস্কার করা হয়। একই বছরের ৬ জুন এই বিতর্কিত যুবক দুই সহযোগীসহ ডাকাতি করতে পটুয়াখালীর দুমকিকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তাদের কাছ থেকে তৎকালীন ডাকাতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়। এবং সেই ঘটনায় দুমকি থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নূরুজ্জামান বাদী হয়ে একটি মামলাও করেন। পুলিশ মারযুকসহ সহযোগীদের পেশাদার ডাকাত উল্লেখ করে আদালতে পাঠালে তাদের কারাগারেও পাঠানো হয়।
সূত্র জানিয়েছে, ডাকাতি মামলা বেশকিছুদিন জেল খেটে বের হয়ে একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন যুবক মারযুক আব্দুল্লাহ। এবং সিঅ্যান্ড রোডের সুলতান, রূপাতলীর জুয়েল এবং শহরের চাঁদমারির জহিরকে নিয়ে একটি চক্র গড়ে তোলেন। এই চক্রটি এখন পর্যন্ত বরিশালে তিনটি মামলা করে, যার অধিকাংশ অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীসহ নিরীহ মানুষ। অবশ্য এই মিথ্যে মামলা করে মারযুকসহ সহযোগীরা বেশ কয়েকবার জনরোষের শিকারও হন। মারযুক এবং তার স্বজন পরিচয়দানকারী সুলতান খানকে এই মামলা বাণিজ্যের কারণে বিএনপির কর্মীসহ সাধারণ মানুষ গণপিটুনিও দিয়েছে। কিন্তু এরপরেও তাদের অপতৎপরতা কমেনি।
মারযুকের গত বৃহস্পতিবারের (০২ জুলাই) মামলাটিতে অন্তত ৪ জন রয়েছে মৃত ব্যক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানাধীন গড়িয়ারপাড়ে সরকারবিরোধী মিছিল করে ককটেল ও পেট্রোলবোমা ছুড়েছেন। প্রশ্নবিদ্ধ এই মামলা নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা তৈরি করে।
অবশ্য এই মামলাটি নিয়ে প্রথমেই সন্দেহ তৈরি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সরাসরি এজাহার কিংবা এফআইআরের নির্দেশনা না দিয়ে পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে বলেন। তাছাড়া মামলাটিতে ১০, ১৬ ও ২২ জুন প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শহরের প্রবেশদ্বার গড়িয়ারপড়ে মিছিল, গোপন বৈঠক, সড়ক অবরোধ, ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর থানা পুলিশ বলছে এই ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। ফলে ছাত্রশক্তি নেতার করা এই মামলাটি যে একেবারে ভিত্তিহীন তা পুলিশ প্রশাসনও জানিয়ে দিচ্ছে।
এই ধারনা আরও বদ্ধমূল হয় আওয়ামী লীগের ৪ প্রয়াত নেতাসহ বিএনপির ত্যাগি এবং নিপিড়িত নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ থাকায়। এই মামলার ১৯৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি প্রয়াত মোহাম্মদ আলী হাওলাদার, তিনি বিসিসির ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০২১ সালের ২৬ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ১৯৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি আবুল ফারুক হুমায়ুনকে, তিনি ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ মারা গত হয়েছেন। একইভাবে ২০২২ সালের ২৩ জানুয়ারি মৃত্যুবরণকারী ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি খন্দকার রেজাউর রহমান রেজাকে ২১২ এবং ২০২১ সালের ২০ অক্টোবর মারা যাওয়া ২২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এইচএম হাফিজুর রশিদ শিবলীকেও ২২৫ নম্বর আসামি করা হয়।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, এই মৃত ব্যক্তিদের পাশাপাশি মামলাটিতে বিএনপি নেত্রী সিটির সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রাশিদা পারভীর, মজিদা বোরহান এবং আলম তাজসহ অসংখ্য ব্যবসায়ীদের অভিযুক্ত করা হয়। মামলার নথিতে বাদী মারজুক আব্দুল্লাহ অপরাধের তিনটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে প্রথমটি ১০ জুন সন্ধ্যা ৭টায় বিমানবন্দর থানাধীন ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিপুর মৃত্তিকা ভবন এলাকা, দ্বিতীয়টি ১৬ জুন সন্ধ্যা ৭টায় একই থানাধীন ভাঙারপোল এবং তৃতীয় ঘটনাটি ২২ জুন সন্ধ্যা ৭টায় মৃত্তিকা ভবন এলাকায় ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
মামলার তৃতীয় অর্থাৎ ২২ জুন সন্ধ্যায় মৃত্তিকা ভবন এলাকার ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চার মৃত নেতাকে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তারা মিটিং ও মিছিল করছিলেন। খবর পেয়ে বাদীসহ সাক্ষীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তখন অন্য আসামিদের সঙ্গে প্রয়াত চার নেতাও তাদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরকদ্রব্য ছুড়ে মেরেছেন। এর মধ্যে খন্দকার রেজাউর হাতবোমা, আবুল ফারুক এবং হাফিজুর রশিদ ককটেল ছুড়েছেন (!)
তবে মারযুকের এমন এজাহারের কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানার ওসি (তদন্ত) সুমন কুমার আইচ। পুলিশ কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে জানান, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তার আওতাধীন এলাকায় কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি।
এই মামলাটি নিয়ে তুমুল আলোচনা সমালোচনার মধ্যে বিতর্ক আরও জোরালো করেছেন বিদেশে পলাতক নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বরিশাল জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর রাজিব হোসেন খান। ফেসবুক লাইভে এসে তিনি অভিযোগ করেন, নির্দেশদাতা হিসেবে মামলায় তার নাম আছে। এবং এটি বাণিজ্য করার উদ্দেশে মারজুক আব্দুল্লাহ ফাঁদ পেতেছেন। এবং মামলার কপি আদালতে জমা দেওয়ার আগেই তিনি ছবি তুলে বিভিন্ন জনের কাছে পাঠিয়ে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। যাদের কাছ থেকে টাকা পাননি তাদের এই মামলাটি নাম রেখেছেন।
অবশ্য এমন অভিযোগ একই মামলার আসামি ও বরিশাল নগরীর কলাপট্টি এলাকার জয়নাল হাজারীর ছেলে নিলয় আহম্মেদ রাব্বি ওরফে রাইডার রাব্বিও করেছেন। তার দাবি, মারজুক আব্দুল্লাহ নিজেই ফোন করে তার কাছে ৫ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় তাকে মামলার ৬ নম্বর আসামি করা হয়।
এছাড়া শহরের বেশ কয়েকটি হাসপাতাল মালিক এবং ব্যবসায়ীদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ আছে বৈষম্যবিরোধী এই ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, মামলার সাক্ষীদের কারণে নিরীহ লোকের নাম এসেছে।
বাণিজ্য করতে গিয়ে বরিশাল শহরের অসংখ্য মানুষকে মামলায় জড়ানোর বিষয়টি ক্ষমতাসীন বিএনপিও ভালো ভাবে গ্রহণ করেনি। বরিশাল মেট্রোপলিটন আদালতের সরকারি আইন কর্মকর্তা এপিপি হাফিজ আহমেদ বাবলু মামলাটি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বিএনপিপন্থী এই আইনজীবী বলেন, মামলায় মিথ্যা তথ্য এবং মৃত ব্যক্তিকে আসামি করাটাও একটি অপরাধ। আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, অথচ এই মামলাটি সম্পর্কে আমরা কেউ কিছু জানি না।
বিজ্ঞ আদালত বিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে মামলার তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। আমরা মনে করি, এ মামলাটির কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা হবে এবং মামলার সত্যতা কতটুকু তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। এতে বাদীর কোনো অনিয়ম পেলে আদালত ব্যবস্থাগ্রহণ করতে পারে।
এই ধরনের অগ্রহণযোগ্য এবং মিথ্যে মামলা দেওয়ায় বাদী ছাত্রশক্তি নেতা মারযুকের ওপর ক্ষেপেছেন বরিশাল শহরের নাগরিক সমাজ। অভিযোগ, এই শহরের স্থায়ী বাসিন্দা নয় এমন ছেলে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর একের পর এক আইন লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতির মতো গুরুতর মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে, সে আবার কিভাবে আদালতে মিথ্যে মামলা করে? ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা চোক পাকিয়ে দেখছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১৪ মে মারযুক একটি মামলা করলে আদালত তা থানা পুলিশকে এজাহার করার নির্দেশ দেন। তৎকালীন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান এবং মারযুক মিলিমিশে মামলাটি নিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজি করেন। এরপরে ওসি মিজান বদলি হয়ে বিমানবন্দর থানায় যোগদান করেন। এবার সেই থানা এলাকাতে ঘটনাস্থল দেখিয়ে মামলাটি করা হলো। এখানে ওসি মিজান এবং মারযুকের কোনো যোগসূত্র আছে কী না তাও তদন্ত করার জোরালো দাবি তুলেছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি ডাকাতি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মারযুককে শিগগিরই গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি রাখা হয়।
এই প্রসঙ্গে জানতে ওসি মিজানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মামুন উল ইসলাম জানান, এই যুবকের বিতর্কিত কান্ডে পুলিশ বিব্রত। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলায় ওয়ারেন্ট আছে, গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে তিনি গ্রেপ্তার আতঙ্কে গাঢাকা দিয়ে আছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতারাও মারযুক আব্দুল্লাহকে ক্রাইমার হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, চাঁদাবাজি এবং ডাকাতির কারণে তাকে সংগঠন থেকে আনুষ্ঠানিক অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরেও তাকে রোহিত করা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিৎ তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা মন্তব্য করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল মহানগর কমিটির সাবেক আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদ।
এই মামলাটি এবং ডাকাতি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মারযুকের অপতৎপরতা নিয়ে পুলিশও বিব্রত বলে জানিয়েছেন মাঠপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদ বলছেন, যেহেতু আদালত তদন্ত করতে বলেছেন, এর আগে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
আইনবিদরা বলছেন, অভিযোগ যদি মিথ্যে হয়, তদন্ত প্রতিবেদনে তেমন আসে তাহলে বাদীর বিরুদ্ধে ২১১ ধারায় অভিযোগ আনারও সুযোগ থাকছে।’

১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৪১
জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি জাকির হোসেন নান্নু আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বলে জানান বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
মরহুমের পারিবারিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা রেখে গেছেন।
রোববার (১৯ জুলাই) ভোর ৬টায় ঢাকা থেকে মরহুমের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মরহুমের বড় ছেলে জাবেদ হোসেনের সাথে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সেখানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এদিকে মরহুম জাকির হোসেন নান্নুর মৃত্যুতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি শোক জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে ও তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তারা বলেন, জাকির হোসেন নান্নুর মতো সাহসী নিবেদিত কর্মী সহজে পাওয়া যাবে না। তার আকস্মিক মৃত্যুতে দলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। মহান আল্লাহ যেন তার পরিবারকে শোক কাটিয়ে উঠবার শক্তি দান করেন ও মরহুমকে বেহেশত নসিব করেন এই দোয়া করি।’
জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি জাকির হোসেন নান্নু আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বলে জানান বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
মরহুমের পারিবারিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা রেখে গেছেন।
রোববার (১৯ জুলাই) ভোর ৬টায় ঢাকা থেকে মরহুমের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মরহুমের বড় ছেলে জাবেদ হোসেনের সাথে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সেখানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এদিকে মরহুম জাকির হোসেন নান্নুর মৃত্যুতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি শোক জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে ও তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তারা বলেন, জাকির হোসেন নান্নুর মতো সাহসী নিবেদিত কর্মী সহজে পাওয়া যাবে না। তার আকস্মিক মৃত্যুতে দলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। মহান আল্লাহ যেন তার পরিবারকে শোক কাটিয়ে উঠবার শক্তি দান করেন ও মরহুমকে বেহেশত নসিব করেন এই দোয়া করি।’

১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৫:১১
বরিশাল শহরে ৫০ বছর বয়সি জনৈক বৃদ্ধা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। নগরের আমিরকুটির এলাকার ফাতেমা মঞ্জিলের ভাড়াটিয়া সালেহা বেগম শনিবার দুপুরে ফ্ল্যাট বাসার দরজা আটকে গলায় ফাঁস দেন। খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে এবং সিআইডির টিম আলামত সংগ্রহ করেছে।
সালেহা বেগমের ছেলে আইনজীবী লতিফ সিকদার জানান, রোববার সকালে তিনি আদালতে যান এবং তার স্ত্রী বাচ্চা নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলেন। স্কুল ছুটির পরে সন্তান নিয়ে বাসায় ফিরে দেখতে পান দরজা ভেতর থেকে লক করা আছে। এবং অনেক ডাকাডাকির পরেও শ্বাশুড়ি কোনো সাড়া দিচ্ছেন না। পরে সে (স্ত্রী) আমাকে ফোন দিয়ে বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে দেখি আমার মা ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছেন।
ছেলে লতিফের দাবি তার মা শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন, কিছুদিন পূর্বে তার পেটে অস্ত্রপচার হয়। কিন্তু তার শারীরিকভাবে উন্নতি হয়নি, অসহ্য যন্ত্রণার কারণে নিজেকে সামলাতে পারছিলেন না। এর আগেও ২/৩ বার তিনি আত্মহত্যা গিয়েছিলেন, তবে ব্যর্থ হয়েছেন। আজ বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন, দাবি লতিফের।
বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুন উল ইসলাম বরিশালটাইমসকে জানান, বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনজীবী ছেলে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দাবি করেছেন। তারপরেও পুলিশ এবং সিআইডি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে, মন্তব্য করেন ওসি।’
বরিশাল শহরে ৫০ বছর বয়সি জনৈক বৃদ্ধা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। নগরের আমিরকুটির এলাকার ফাতেমা মঞ্জিলের ভাড়াটিয়া সালেহা বেগম শনিবার দুপুরে ফ্ল্যাট বাসার দরজা আটকে গলায় ফাঁস দেন। খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে এবং সিআইডির টিম আলামত সংগ্রহ করেছে।
সালেহা বেগমের ছেলে আইনজীবী লতিফ সিকদার জানান, রোববার সকালে তিনি আদালতে যান এবং তার স্ত্রী বাচ্চা নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলেন। স্কুল ছুটির পরে সন্তান নিয়ে বাসায় ফিরে দেখতে পান দরজা ভেতর থেকে লক করা আছে। এবং অনেক ডাকাডাকির পরেও শ্বাশুড়ি কোনো সাড়া দিচ্ছেন না। পরে সে (স্ত্রী) আমাকে ফোন দিয়ে বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে দেখি আমার মা ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছেন।
ছেলে লতিফের দাবি তার মা শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন, কিছুদিন পূর্বে তার পেটে অস্ত্রপচার হয়। কিন্তু তার শারীরিকভাবে উন্নতি হয়নি, অসহ্য যন্ত্রণার কারণে নিজেকে সামলাতে পারছিলেন না। এর আগেও ২/৩ বার তিনি আত্মহত্যা গিয়েছিলেন, তবে ব্যর্থ হয়েছেন। আজ বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন, দাবি লতিফের।
বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুন উল ইসলাম বরিশালটাইমসকে জানান, বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনজীবী ছেলে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দাবি করেছেন। তারপরেও পুলিশ এবং সিআইডি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে, মন্তব্য করেন ওসি।’

১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৩:৩৫
রাজধানী ঢাকায় সদরঘাটের শ্যামবাজার ঘাট এলাকায় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী সুন্দরবন-১২ লঞ্চের ধাক্কায় একটি নতুন ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় ট্রলারে থাকা ১০ আরোহীর মধ্যে ৮ জন প্রাণে রক্ষা পেলেও ২ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সদরঘাট নৌ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহাগ রানা সাংবাদিকদের জানান, গাজীপুরের কড্ডাবাজার থেকে তৈরি সম্পূর্ণ নতুন ট্রলারটি কুমিল্লার মুরাদনগর নেওয়া হচ্ছিল। সদরঘাট এলাকায় পৌঁছালে ট্রলারটির প্রপেলার কোনো কিছুর সঙ্গে আটকে যায়। এতে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে ট্রলারটি নদীর মধ্যে স্থির হয়ে পড়ে। এ সময় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী সুন্দরবন-১২ লঞ্চটি ট্রলারটিকে ধাক্কা দিলে সেটি ডুবে যায়।
এদিকে ট্রলারডুবির খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিসহ উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, ট্রলারে থাকা ১০ জনের মধ্যে ৮ জন সাঁতরে বা অন্যভাবে তীরে উঠেছেন। নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
সর্বশেষ বেলা ১১টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা যায়, নিখোঁজ দুজনের সন্ধান মেলেনি। পাশাপাশি ডুবে যাওয়া ট্রলারটিও এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
রাজধানী ঢাকায় সদরঘাটের শ্যামবাজার ঘাট এলাকায় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী সুন্দরবন-১২ লঞ্চের ধাক্কায় একটি নতুন ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় ট্রলারে থাকা ১০ আরোহীর মধ্যে ৮ জন প্রাণে রক্ষা পেলেও ২ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সদরঘাট নৌ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহাগ রানা সাংবাদিকদের জানান, গাজীপুরের কড্ডাবাজার থেকে তৈরি সম্পূর্ণ নতুন ট্রলারটি কুমিল্লার মুরাদনগর নেওয়া হচ্ছিল। সদরঘাট এলাকায় পৌঁছালে ট্রলারটির প্রপেলার কোনো কিছুর সঙ্গে আটকে যায়। এতে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে ট্রলারটি নদীর মধ্যে স্থির হয়ে পড়ে। এ সময় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী সুন্দরবন-১২ লঞ্চটি ট্রলারটিকে ধাক্কা দিলে সেটি ডুবে যায়।
এদিকে ট্রলারডুবির খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিসহ উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, ট্রলারে থাকা ১০ জনের মধ্যে ৮ জন সাঁতরে বা অন্যভাবে তীরে উঠেছেন। নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
সর্বশেষ বেলা ১১টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা যায়, নিখোঁজ দুজনের সন্ধান মেলেনি। পাশাপাশি ডুবে যাওয়া ট্রলারটিও এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৪১
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৫:১১
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৪৪
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৩:৩৫