বিএনপি-আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ব্যবসায়ী ও নিরীহ মানুষকে অভিযুক্ত করা নিয়ে তুমুল বিতর্ক। বহু বিবাহিত যুবকের অপতৎপরতায় বিব্রত পুলিশ-প্রশাসন। বাদী ডাকাতি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মারযুক আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার দাবি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির ছাত্রসংগঠন ‘ছাত্রশক্তি’ বরিশালের পদধারী নেতা মারযুক আব্দুল্লাহর মামলা-বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু প্রশাসনের কর্মকর্তারা। একের পর এক মিথ্যে মামলায় বিএনপি-আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি শহরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে অভিযুক্ত করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপতৎপরতায় সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে গোটা বরিশালবাসী। ডাকাতি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত বিশোর্ধ্ব এই যুবক গত বৃহস্পতিবার বরিশাল আদালতে বিএনপি-আ’লীগের নেতা-নেত্রীসহ ২৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি নালিশি অভিযোগ করেন। অবশ্য নালিশিটি নিয়ে তিনি আদালতে যাওয়ার কদিন আগেই শুরু করে দেন চাঁদাবাজি, বিশেষ করে টার্গেট করা হয় শহরের স্বনামধন্য ব্যবসায়ীদের। বিতর্কিত এই মামলাটি নিয়ে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনেও তোলপাড় শুরু হয়েছে, বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা এই ঘটনায় তদন্তপূর্বক বাদী ছাত্রশক্তির বরিশাল মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারযুক আব্দুল্লাহ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ রেখেছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে তৎকালীন একটি মামলার বাদী হিসেবে আলোচনায় আসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মারযুক আব্দুল্লাহ। ২০২৫ সালের ১৪ মে বরিশাল আদালতে করা সেই মামলাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল জেলার যুগ্ম সদস্যসচিব পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিস্কার করা হয়। একই বছরের ৬ জুন এই বিতর্কিত যুবক দুই সহযোগীসহ ডাকাতি করতে পটুয়াখালীর দুমকিকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তাদের কাছ থেকে তৎকালীন ডাকাতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়। এবং সেই ঘটনায় দুমকি থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নূরুজ্জামান বাদী হয়ে একটি মামলাও করেন। পুলিশ মারযুকসহ সহযোগীদের পেশাদার ডাকাত উল্লেখ করে আদালতে পাঠালে তাদের কারাগারেও পাঠানো হয়।
সূত্র জানিয়েছে, ডাকাতি মামলা বেশকিছুদিন জেল খেটে বের হয়ে একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন যুবক মারযুক আব্দুল্লাহ। এবং সিঅ্যান্ড রোডের সুলতান, রূপাতলীর জুয়েল এবং শহরের চাঁদমারির জহিরকে নিয়ে একটি চক্র গড়ে তোলেন। এই চক্রটি এখন পর্যন্ত বরিশালে তিনটি মামলা করে, যার অধিকাংশ অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীসহ নিরীহ মানুষ। অবশ্য এই মিথ্যে মামলা করে মারযুকসহ সহযোগীরা বেশ কয়েকবার জনরোষের শিকারও হন। মারযুক এবং তার স্বজন পরিচয়দানকারী সুলতান খানকে এই মামলা বাণিজ্যের কারণে বিএনপির কর্মীসহ সাধারণ মানুষ গণপিটুনিও দিয়েছে। কিন্তু এরপরেও তাদের অপতৎপরতা কমেনি।
মারযুকের গত বৃহস্পতিবারের (০২ জুলাই) মামলাটিতে অন্তত ৪ জন রয়েছে মৃত ব্যক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানাধীন গড়িয়ারপাড়ে সরকারবিরোধী মিছিল করে ককটেল ও পেট্রোলবোমা ছুড়েছেন। প্রশ্নবিদ্ধ এই মামলা নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা তৈরি করে।
অবশ্য এই মামলাটি নিয়ে প্রথমেই সন্দেহ তৈরি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সরাসরি এজাহার কিংবা এফআইআরের নির্দেশনা না দিয়ে পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে বলেন। তাছাড়া মামলাটিতে ১০, ১৬ ও ২২ জুন প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শহরের প্রবেশদ্বার গড়িয়ারপড়ে মিছিল, গোপন বৈঠক, সড়ক অবরোধ, ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর থানা পুলিশ বলছে এই ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। ফলে ছাত্রশক্তি নেতার করা এই মামলাটি যে একেবারে ভিত্তিহীন তা পুলিশ প্রশাসনও জানিয়ে দিচ্ছে।
এই ধারনা আরও বদ্ধমূল হয় আওয়ামী লীগের ৪ প্রয়াত নেতাসহ বিএনপির ত্যাগি এবং নিপিড়িত নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ থাকায়। এই মামলার ১৯৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি প্রয়াত মোহাম্মদ আলী হাওলাদার, তিনি বিসিসির ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০২১ সালের ২৬ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ১৯৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি আবুল ফারুক হুমায়ুনকে, তিনি ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ মারা গত হয়েছেন। একইভাবে ২০২২ সালের ২৩ জানুয়ারি মৃত্যুবরণকারী ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি খন্দকার রেজাউর রহমান রেজাকে ২১২ এবং ২০২১ সালের ২০ অক্টোবর মারা যাওয়া ২২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এইচএম হাফিজুর রশিদ শিবলীকেও ২২৫ নম্বর আসামি করা হয়।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, এই মৃত ব্যক্তিদের পাশাপাশি মামলাটিতে বিএনপি নেত্রী সিটির সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রাশিদা পারভীর, মজিদা বোরহান এবং আলম তাজসহ অসংখ্য ব্যবসায়ীদের অভিযুক্ত করা হয়। মামলার নথিতে বাদী মারজুক আব্দুল্লাহ অপরাধের তিনটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে প্রথমটি ১০ জুন সন্ধ্যা ৭টায় বিমানবন্দর থানাধীন ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিপুর মৃত্তিকা ভবন এলাকা, দ্বিতীয়টি ১৬ জুন সন্ধ্যা ৭টায় একই থানাধীন ভাঙারপোল এবং তৃতীয় ঘটনাটি ২২ জুন সন্ধ্যা ৭টায় মৃত্তিকা ভবন এলাকায় ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
মামলার তৃতীয় অর্থাৎ ২২ জুন সন্ধ্যায় মৃত্তিকা ভবন এলাকার ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চার মৃত নেতাকে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তারা মিটিং ও মিছিল করছিলেন। খবর পেয়ে বাদীসহ সাক্ষীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তখন অন্য আসামিদের সঙ্গে প্রয়াত চার নেতাও তাদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরকদ্রব্য ছুড়ে মেরেছেন। এর মধ্যে খন্দকার রেজাউর হাতবোমা, আবুল ফারুক এবং হাফিজুর রশিদ ককটেল ছুড়েছেন (!)
তবে মারযুকের এমন এজাহারের কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানার ওসি (তদন্ত) সুমন কুমার আইচ। পুলিশ কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে জানান, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তার আওতাধীন এলাকায় কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি।
এই মামলাটি নিয়ে তুমুল আলোচনা সমালোচনার মধ্যে বিতর্ক আরও জোরালো করেছেন বিদেশে পলাতক নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বরিশাল জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর রাজিব হোসেন খান। ফেসবুক লাইভে এসে তিনি অভিযোগ করেন, নির্দেশদাতা হিসেবে মামলায় তার নাম আছে। এবং এটি বাণিজ্য করার উদ্দেশে মারজুক আব্দুল্লাহ ফাঁদ পেতেছেন। এবং মামলার কপি আদালতে জমা দেওয়ার আগেই তিনি ছবি তুলে বিভিন্ন জনের কাছে পাঠিয়ে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। যাদের কাছ থেকে টাকা পাননি তাদের এই মামলাটি নাম রেখেছেন।
অবশ্য এমন অভিযোগ একই মামলার আসামি ও বরিশাল নগরীর কলাপট্টি এলাকার জয়নাল হাজারীর ছেলে নিলয় আহম্মেদ রাব্বি ওরফে রাইডার রাব্বিও করেছেন। তার দাবি, মারজুক আব্দুল্লাহ নিজেই ফোন করে তার কাছে ৫ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় তাকে মামলার ৬ নম্বর আসামি করা হয়।
এছাড়া শহরের বেশ কয়েকটি হাসপাতাল মালিক এবং ব্যবসায়ীদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ আছে বৈষম্যবিরোধী এই ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, মামলার সাক্ষীদের কারণে নিরীহ লোকের নাম এসেছে।
বাণিজ্য করতে গিয়ে বরিশাল শহরের অসংখ্য মানুষকে মামলায় জড়ানোর বিষয়টি ক্ষমতাসীন বিএনপিও ভালো ভাবে গ্রহণ করেনি। বরিশাল মেট্রোপলিটন আদালতের সরকারি আইন কর্মকর্তা এপিপি হাফিজ আহমেদ বাবলু মামলাটি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বিএনপিপন্থী এই আইনজীবী বলেন, মামলায় মিথ্যা তথ্য এবং মৃত ব্যক্তিকে আসামি করাটাও একটি অপরাধ। আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, অথচ এই মামলাটি সম্পর্কে আমরা কেউ কিছু জানি না।
বিজ্ঞ আদালত বিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে মামলার তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। আমরা মনে করি, এ মামলাটির কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা হবে এবং মামলার সত্যতা কতটুকু তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। এতে বাদীর কোনো অনিয়ম পেলে আদালত ব্যবস্থাগ্রহণ করতে পারে।
এই ধরনের অগ্রহণযোগ্য এবং মিথ্যে মামলা দেওয়ায় বাদী ছাত্রশক্তি নেতা মারযুকের ওপর ক্ষেপেছেন বরিশাল শহরের নাগরিক সমাজ। অভিযোগ, এই শহরের স্থায়ী বাসিন্দা নয় এমন ছেলে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর একের পর এক আইন লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতির মতো গুরুতর মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে, সে আবার কিভাবে আদালতে মিথ্যে মামলা করে? ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা চোক পাকিয়ে দেখছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১৪ মে মারযুক একটি মামলা করলে আদালত তা থানা পুলিশকে এজাহার করার নির্দেশ দেন। তৎকালীন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান এবং মারযুক মিলিমিশে মামলাটি নিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজি করেন। এরপরে ওসি মিজান বদলি হয়ে বিমানবন্দর থানায় যোগদান করেন। এবার সেই থানা এলাকাতে ঘটনাস্থল দেখিয়ে মামলাটি করা হলো। এখানে ওসি মিজান এবং মারযুকের কোনো যোগসূত্র আছে কী না তাও তদন্ত করার জোরালো দাবি তুলেছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি ডাকাতি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মারযুককে শিগগিরই গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি রাখা হয়।
এই প্রসঙ্গে জানতে ওসি মিজানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মামুন উল ইসলাম জানান, এই যুবকের বিতর্কিত কান্ডে পুলিশ বিব্রত। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলায় ওয়ারেন্ট আছে, গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে তিনি গ্রেপ্তার আতঙ্কে গাঢাকা দিয়ে আছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতারাও মারযুক আব্দুল্লাহকে ক্রাইমার হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, চাঁদাবাজি এবং ডাকাতির কারণে তাকে সংগঠন থেকে আনুষ্ঠানিক অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরেও তাকে রোহিত করা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিৎ তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা মন্তব্য করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল মহানগর কমিটির সাবেক আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদ।
এই মামলাটি এবং ডাকাতি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মারযুকের অপতৎপরতা নিয়ে পুলিশও বিব্রত বলে জানিয়েছেন মাঠপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদ বলছেন, যেহেতু আদালত তদন্ত করতে বলেছেন, এর আগে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
আইনবিদরা বলছেন, অভিযোগ যদি মিথ্যে হয়, তদন্ত প্রতিবেদনে তেমন আসে তাহলে বাদীর বিরুদ্ধে ২১১ ধারায় অভিযোগ আনারও সুযোগ থাকছে।’

২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:১৫
অবশেষে বরিশালের বানারীপাড়ার বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক কলেজের সাচিবিক বিদ্যা ও অফিস ব্যবস্থাপনা বিভাগের বহুল বিতর্কিত সহকারী অধ্যাপক খান মো. আল আমিনকে নানান অনিয়ম- দুর্নীতিসহ নৈতিকস্খলনের অভিযোগে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুৎ করা হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ এনামুল হক জানান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠির আলোকে সহকারি অধ্যাপক খান মো. আল- আমিনকে ২৪ আগস্ট (সোমবার) চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ওইদিন (২৪ আগস্ট) তিনি তার বরখাস্তের আদেশে স্বাক্ষর করেছেন বলেও জানান। এর আগে ২০ আগস্ট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের ( ভিসি) অনুমোদনক্রমে কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে সহকারি অধ্যাপক খান মোঃ আল- আমিনকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত অনুমোদন করা হয়। বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক কলেজের বহুঅঘটন পটিয়সী সহকারী অধ্যাপক খান মোঃ আল- আমিনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নিষিদ্ধ পর্ণো ভিডিও প্রদর্শন, কলেজ ও শিক্ষার্থীদের অর্থ তছরুপ,জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শন টিমের স্বাক্ষর জালজালিয়াতি, কলেজের নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানিসহ নৈতিকস্খলনজনিত নানা অভিযোগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়। সেই অভিযোগের প্রক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালককে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটি সরেজমিন তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অধিকতর তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সম্প্রতি বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক কলেজ গভর্নিং বডি ওই দুটি তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে কলেজের বিতর্কিত সহকারী অধ্যাপক খান মোঃ আল- আমিনকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করার রেজুলেশন গ্রহণ করে তা অনুমোদনের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরন করে। ফলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তার চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত অনুমোদন করে। এর আগে তাকে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এবার চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হলো।
এদিকে নৈতিকস্খলনজনিত কারনে সহকারী অধ্যাপক খান মো: আল- আমিনকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যূত করায় কলেজ গর্ভনিংবডি,শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
অবশেষে বরিশালের বানারীপাড়ার বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক কলেজের সাচিবিক বিদ্যা ও অফিস ব্যবস্থাপনা বিভাগের বহুল বিতর্কিত সহকারী অধ্যাপক খান মো. আল আমিনকে নানান অনিয়ম- দুর্নীতিসহ নৈতিকস্খলনের অভিযোগে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুৎ করা হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ এনামুল হক জানান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠির আলোকে সহকারি অধ্যাপক খান মো. আল- আমিনকে ২৪ আগস্ট (সোমবার) চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ওইদিন (২৪ আগস্ট) তিনি তার বরখাস্তের আদেশে স্বাক্ষর করেছেন বলেও জানান। এর আগে ২০ আগস্ট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের ( ভিসি) অনুমোদনক্রমে কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে সহকারি অধ্যাপক খান মোঃ আল- আমিনকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত অনুমোদন করা হয়। বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক কলেজের বহুঅঘটন পটিয়সী সহকারী অধ্যাপক খান মোঃ আল- আমিনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নিষিদ্ধ পর্ণো ভিডিও প্রদর্শন, কলেজ ও শিক্ষার্থীদের অর্থ তছরুপ,জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শন টিমের স্বাক্ষর জালজালিয়াতি, কলেজের নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানিসহ নৈতিকস্খলনজনিত নানা অভিযোগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়। সেই অভিযোগের প্রক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালককে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটি সরেজমিন তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অধিকতর তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সম্প্রতি বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক কলেজ গভর্নিং বডি ওই দুটি তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে কলেজের বিতর্কিত সহকারী অধ্যাপক খান মোঃ আল- আমিনকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করার রেজুলেশন গ্রহণ করে তা অনুমোদনের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরন করে। ফলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তার চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত অনুমোদন করে। এর আগে তাকে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এবার চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হলো।
এদিকে নৈতিকস্খলনজনিত কারনে সহকারী অধ্যাপক খান মো: আল- আমিনকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যূত করায় কলেজ গর্ভনিংবডি,শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৩১
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার কৃতি ছাত্রীদের সংবর্ধনা দিচ্ছে আফসানা আরিফ ফাউন্ডেশন উইমেন্স কলেজ। আগামীকাল ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে কৃতি ছাত্রীদের ওই রাজসিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাবুগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না, বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান হাওলাদার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সন্ন্যামত ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন জোবায়েদা আকতার।
আফসানা আরিফ ফাউন্ডেশন উইমেন্স কলেজের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আফসানা জাহান মিমের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ও মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখবেন গুয়াংদং হংহুয়া নিউ মেটেরিয়ালস কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লিসা ইয়াং। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কৃতি ছাত্রীরা ছাড়াও বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
আফসানা আরিফ ফাউন্ডেশন উইমেন্স কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, 'বাবুগঞ্জে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাধ্যমিক পর্যায়ে বিভিন্ন জায়গায় বালিকা বিদ্যালয় থাকলেও তাদের উচ্চশিক্ষার জন্য এই উপজেলায় কোনো স্বতন্ত্র মহিলা কলেজ ছিল না। ফলে তাদের অনেক শ্রম, অর্থ এবং সময় ব্যয় করে বরিশালে গিয়ে উইমেন্স কলেজে লেখাপড়া করতে হতো। তাদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে এই অঞ্চলে নারী শিক্ষার প্রসার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে আফসানা আরিফ ফাউন্ডেশন উইমেন্স কলেজের কার্যক্রম শুরু করেছি। আমাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলেই জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রীদের ১০ হাজার টাকার স্কলারশিপ দেওয়া হবে। এছাড়াও মেধাবী ছাত্রীদের জন্য শিক্ষাবর্ষ জুড়ে থাকবে বিভিন্ন অফার এবং প্রণোদনা। আমরা একটি নিরাপদ ও উন্নত পরিবেশে নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে চাই। #
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার কৃতি ছাত্রীদের সংবর্ধনা দিচ্ছে আফসানা আরিফ ফাউন্ডেশন উইমেন্স কলেজ। আগামীকাল ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে কৃতি ছাত্রীদের ওই রাজসিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাবুগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না, বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান হাওলাদার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সন্ন্যামত ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন জোবায়েদা আকতার।
আফসানা আরিফ ফাউন্ডেশন উইমেন্স কলেজের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আফসানা জাহান মিমের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ও মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখবেন গুয়াংদং হংহুয়া নিউ মেটেরিয়ালস কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লিসা ইয়াং। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কৃতি ছাত্রীরা ছাড়াও বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
আফসানা আরিফ ফাউন্ডেশন উইমেন্স কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, 'বাবুগঞ্জে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাধ্যমিক পর্যায়ে বিভিন্ন জায়গায় বালিকা বিদ্যালয় থাকলেও তাদের উচ্চশিক্ষার জন্য এই উপজেলায় কোনো স্বতন্ত্র মহিলা কলেজ ছিল না। ফলে তাদের অনেক শ্রম, অর্থ এবং সময় ব্যয় করে বরিশালে গিয়ে উইমেন্স কলেজে লেখাপড়া করতে হতো। তাদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে এই অঞ্চলে নারী শিক্ষার প্রসার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে আফসানা আরিফ ফাউন্ডেশন উইমেন্স কলেজের কার্যক্রম শুরু করেছি। আমাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলেই জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রীদের ১০ হাজার টাকার স্কলারশিপ দেওয়া হবে। এছাড়াও মেধাবী ছাত্রীদের জন্য শিক্ষাবর্ষ জুড়ে থাকবে বিভিন্ন অফার এবং প্রণোদনা। আমরা একটি নিরাপদ ও উন্নত পরিবেশে নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে চাই। #

২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:৫৯
বরিশালে বাস এবং থ্রি-হুইলার চালকদের দ্বন্দ্বের জেরে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ফের বন্ধ হয়েছে বাস চলাচল। থ্রি-হুইলার চালকরা এবার মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নেমেছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে বরিশালের সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলায় ও অভ্যন্তরীণ রুটের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকাল ৯টা থেকে বাবুগঞ্জের বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের রহমতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আন্দোলনে নামেন থ্রি-হুইলার চালকরা। অভ্যন্তরীণ রুটের বাস ঘুরিয়ে দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরাও।
আন্দোলনকারী আব্দুল্লাহ মামুন এবং নুর আলমের অভিযোগ, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে থ্রি-হুইলার থামিয়ে যাত্রী ওঠানোর চেষ্টা করলে প্রায়ই বাধা দেওয়া হয় থ্রি-হুইলার চালকদের। বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মী তাদের গাড়িতে লাঠি দিয়ে আঘাতও করেন।
যাত্রী পরিবহন নিয়ে থ্রি-হুইলার চালকদের সঙ্গে বাস মালিক ও শ্রমিকদের বিরোধ দীর্ঘদিনের। স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে হুঁশিয়ার করেন আন্দোলনকারীরা।
গতকাল সোমবার মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বন্ধের দাবিতে বাস মালিক ও শ্রমিকরা আন্দোলন করেন। মহাসড়ক আটকে চলা আন্দোলনে দুপুর থেকে বরিশালের সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
বরিশাল বাস মালিক সমিতির সভাপতি মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, তারা সরকারকে নিয়মিত রাজস্ব দিয়ে বাস পরিচালনা করছেন। কিন্তু মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন ও থ্রি-হুইলার চলাচলের কারণে তৈরি হচ্ছে যাত্রী সংকট। বাড়ছে দুর্ঘটনাও।
তিনি জানান, থ্রি-হুইলার মালিক সমিতি ও শ্রমিকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে তাদের চলাচলের বিষয়ে লিখিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চালকরা সেই সিদ্ধান্ত মানছেন না। অনেক সময় তারা বাসের কাউন্টার এলাকায় অবস্থান করে যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন উপজেলায় চলে যাচ্ছেন। নিষেধ করা হলেও কাউন্টার কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন।
এর আগে বরিশাল থেকে বানারীপাড়া রুটের শিমুলতলা এলাকায় থ্রি-হুইলার চালকদের সঙ্গে বিরোধের জেরে কয়েকটি বাস ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদ এবং মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধের দাবিতে বাস মালিক ও শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন।
আজ পাল্টা আন্দোলনে নামলেন থ্রি-হুইলার চালকরা। এতে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুটে পরিবহন সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে পুলিশ। এয়ারপোর্ট থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার চেষ্টা চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন তিনি।
পাল্টাপাল্টি আন্দোলনে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। দ্রুত বিরোধের সমাধান করে সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি রাখা হয়েছে।’
বরিশালে বাস এবং থ্রি-হুইলার চালকদের দ্বন্দ্বের জেরে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ফের বন্ধ হয়েছে বাস চলাচল। থ্রি-হুইলার চালকরা এবার মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নেমেছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে বরিশালের সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলায় ও অভ্যন্তরীণ রুটের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকাল ৯টা থেকে বাবুগঞ্জের বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের রহমতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আন্দোলনে নামেন থ্রি-হুইলার চালকরা। অভ্যন্তরীণ রুটের বাস ঘুরিয়ে দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরাও।
আন্দোলনকারী আব্দুল্লাহ মামুন এবং নুর আলমের অভিযোগ, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে থ্রি-হুইলার থামিয়ে যাত্রী ওঠানোর চেষ্টা করলে প্রায়ই বাধা দেওয়া হয় থ্রি-হুইলার চালকদের। বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মী তাদের গাড়িতে লাঠি দিয়ে আঘাতও করেন।
যাত্রী পরিবহন নিয়ে থ্রি-হুইলার চালকদের সঙ্গে বাস মালিক ও শ্রমিকদের বিরোধ দীর্ঘদিনের। স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে হুঁশিয়ার করেন আন্দোলনকারীরা।
গতকাল সোমবার মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বন্ধের দাবিতে বাস মালিক ও শ্রমিকরা আন্দোলন করেন। মহাসড়ক আটকে চলা আন্দোলনে দুপুর থেকে বরিশালের সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
বরিশাল বাস মালিক সমিতির সভাপতি মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, তারা সরকারকে নিয়মিত রাজস্ব দিয়ে বাস পরিচালনা করছেন। কিন্তু মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন ও থ্রি-হুইলার চলাচলের কারণে তৈরি হচ্ছে যাত্রী সংকট। বাড়ছে দুর্ঘটনাও।
তিনি জানান, থ্রি-হুইলার মালিক সমিতি ও শ্রমিকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে তাদের চলাচলের বিষয়ে লিখিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চালকরা সেই সিদ্ধান্ত মানছেন না। অনেক সময় তারা বাসের কাউন্টার এলাকায় অবস্থান করে যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন উপজেলায় চলে যাচ্ছেন। নিষেধ করা হলেও কাউন্টার কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন।
এর আগে বরিশাল থেকে বানারীপাড়া রুটের শিমুলতলা এলাকায় থ্রি-হুইলার চালকদের সঙ্গে বিরোধের জেরে কয়েকটি বাস ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদ এবং মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধের দাবিতে বাস মালিক ও শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন।
আজ পাল্টা আন্দোলনে নামলেন থ্রি-হুইলার চালকরা। এতে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুটে পরিবহন সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে পুলিশ। এয়ারপোর্ট থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার চেষ্টা চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন তিনি।
পাল্টাপাল্টি আন্দোলনে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। দ্রুত বিরোধের সমাধান করে সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি রাখা হয়েছে।’

০৪ জুলাই, ২০২৬ ১৯:০০
বিএনপি-আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ব্যবসায়ী ও নিরীহ মানুষকে অভিযুক্ত করা নিয়ে তুমুল বিতর্ক। বহু বিবাহিত যুবকের অপতৎপরতায় বিব্রত পুলিশ-প্রশাসন। বাদী ডাকাতি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মারযুক আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার দাবি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির ছাত্রসংগঠন ‘ছাত্রশক্তি’ বরিশালের পদধারী নেতা মারযুক আব্দুল্লাহর মামলা-বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু প্রশাসনের কর্মকর্তারা। একের পর এক মিথ্যে মামলায় বিএনপি-আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি শহরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে অভিযুক্ত করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপতৎপরতায় সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে গোটা বরিশালবাসী। ডাকাতি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত বিশোর্ধ্ব এই যুবক গত বৃহস্পতিবার বরিশাল আদালতে বিএনপি-আ’লীগের নেতা-নেত্রীসহ ২৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি নালিশি অভিযোগ করেন। অবশ্য নালিশিটি নিয়ে তিনি আদালতে যাওয়ার কদিন আগেই শুরু করে দেন চাঁদাবাজি, বিশেষ করে টার্গেট করা হয় শহরের স্বনামধন্য ব্যবসায়ীদের। বিতর্কিত এই মামলাটি নিয়ে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনেও তোলপাড় শুরু হয়েছে, বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা এই ঘটনায় তদন্তপূর্বক বাদী ছাত্রশক্তির বরিশাল মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারযুক আব্দুল্লাহ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ রেখেছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে তৎকালীন একটি মামলার বাদী হিসেবে আলোচনায় আসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মারযুক আব্দুল্লাহ। ২০২৫ সালের ১৪ মে বরিশাল আদালতে করা সেই মামলাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল জেলার যুগ্ম সদস্যসচিব পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিস্কার করা হয়। একই বছরের ৬ জুন এই বিতর্কিত যুবক দুই সহযোগীসহ ডাকাতি করতে পটুয়াখালীর দুমকিকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তাদের কাছ থেকে তৎকালীন ডাকাতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়। এবং সেই ঘটনায় দুমকি থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নূরুজ্জামান বাদী হয়ে একটি মামলাও করেন। পুলিশ মারযুকসহ সহযোগীদের পেশাদার ডাকাত উল্লেখ করে আদালতে পাঠালে তাদের কারাগারেও পাঠানো হয়।
সূত্র জানিয়েছে, ডাকাতি মামলা বেশকিছুদিন জেল খেটে বের হয়ে একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন যুবক মারযুক আব্দুল্লাহ। এবং সিঅ্যান্ড রোডের সুলতান, রূপাতলীর জুয়েল এবং শহরের চাঁদমারির জহিরকে নিয়ে একটি চক্র গড়ে তোলেন। এই চক্রটি এখন পর্যন্ত বরিশালে তিনটি মামলা করে, যার অধিকাংশ অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীসহ নিরীহ মানুষ। অবশ্য এই মিথ্যে মামলা করে মারযুকসহ সহযোগীরা বেশ কয়েকবার জনরোষের শিকারও হন। মারযুক এবং তার স্বজন পরিচয়দানকারী সুলতান খানকে এই মামলা বাণিজ্যের কারণে বিএনপির কর্মীসহ সাধারণ মানুষ গণপিটুনিও দিয়েছে। কিন্তু এরপরেও তাদের অপতৎপরতা কমেনি।
মারযুকের গত বৃহস্পতিবারের (০২ জুলাই) মামলাটিতে অন্তত ৪ জন রয়েছে মৃত ব্যক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানাধীন গড়িয়ারপাড়ে সরকারবিরোধী মিছিল করে ককটেল ও পেট্রোলবোমা ছুড়েছেন। প্রশ্নবিদ্ধ এই মামলা নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা তৈরি করে।
অবশ্য এই মামলাটি নিয়ে প্রথমেই সন্দেহ তৈরি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সরাসরি এজাহার কিংবা এফআইআরের নির্দেশনা না দিয়ে পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে বলেন। তাছাড়া মামলাটিতে ১০, ১৬ ও ২২ জুন প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শহরের প্রবেশদ্বার গড়িয়ারপড়ে মিছিল, গোপন বৈঠক, সড়ক অবরোধ, ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর থানা পুলিশ বলছে এই ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। ফলে ছাত্রশক্তি নেতার করা এই মামলাটি যে একেবারে ভিত্তিহীন তা পুলিশ প্রশাসনও জানিয়ে দিচ্ছে।
এই ধারনা আরও বদ্ধমূল হয় আওয়ামী লীগের ৪ প্রয়াত নেতাসহ বিএনপির ত্যাগি এবং নিপিড়িত নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ থাকায়। এই মামলার ১৯৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি প্রয়াত মোহাম্মদ আলী হাওলাদার, তিনি বিসিসির ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০২১ সালের ২৬ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ১৯৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি আবুল ফারুক হুমায়ুনকে, তিনি ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ মারা গত হয়েছেন। একইভাবে ২০২২ সালের ২৩ জানুয়ারি মৃত্যুবরণকারী ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি খন্দকার রেজাউর রহমান রেজাকে ২১২ এবং ২০২১ সালের ২০ অক্টোবর মারা যাওয়া ২২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এইচএম হাফিজুর রশিদ শিবলীকেও ২২৫ নম্বর আসামি করা হয়।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, এই মৃত ব্যক্তিদের পাশাপাশি মামলাটিতে বিএনপি নেত্রী সিটির সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রাশিদা পারভীর, মজিদা বোরহান এবং আলম তাজসহ অসংখ্য ব্যবসায়ীদের অভিযুক্ত করা হয়। মামলার নথিতে বাদী মারজুক আব্দুল্লাহ অপরাধের তিনটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে প্রথমটি ১০ জুন সন্ধ্যা ৭টায় বিমানবন্দর থানাধীন ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিপুর মৃত্তিকা ভবন এলাকা, দ্বিতীয়টি ১৬ জুন সন্ধ্যা ৭টায় একই থানাধীন ভাঙারপোল এবং তৃতীয় ঘটনাটি ২২ জুন সন্ধ্যা ৭টায় মৃত্তিকা ভবন এলাকায় ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
মামলার তৃতীয় অর্থাৎ ২২ জুন সন্ধ্যায় মৃত্তিকা ভবন এলাকার ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চার মৃত নেতাকে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তারা মিটিং ও মিছিল করছিলেন। খবর পেয়ে বাদীসহ সাক্ষীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তখন অন্য আসামিদের সঙ্গে প্রয়াত চার নেতাও তাদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরকদ্রব্য ছুড়ে মেরেছেন। এর মধ্যে খন্দকার রেজাউর হাতবোমা, আবুল ফারুক এবং হাফিজুর রশিদ ককটেল ছুড়েছেন (!)
তবে মারযুকের এমন এজাহারের কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানার ওসি (তদন্ত) সুমন কুমার আইচ। পুলিশ কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে জানান, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তার আওতাধীন এলাকায় কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি।
এই মামলাটি নিয়ে তুমুল আলোচনা সমালোচনার মধ্যে বিতর্ক আরও জোরালো করেছেন বিদেশে পলাতক নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বরিশাল জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর রাজিব হোসেন খান। ফেসবুক লাইভে এসে তিনি অভিযোগ করেন, নির্দেশদাতা হিসেবে মামলায় তার নাম আছে। এবং এটি বাণিজ্য করার উদ্দেশে মারজুক আব্দুল্লাহ ফাঁদ পেতেছেন। এবং মামলার কপি আদালতে জমা দেওয়ার আগেই তিনি ছবি তুলে বিভিন্ন জনের কাছে পাঠিয়ে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। যাদের কাছ থেকে টাকা পাননি তাদের এই মামলাটি নাম রেখেছেন।
অবশ্য এমন অভিযোগ একই মামলার আসামি ও বরিশাল নগরীর কলাপট্টি এলাকার জয়নাল হাজারীর ছেলে নিলয় আহম্মেদ রাব্বি ওরফে রাইডার রাব্বিও করেছেন। তার দাবি, মারজুক আব্দুল্লাহ নিজেই ফোন করে তার কাছে ৫ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় তাকে মামলার ৬ নম্বর আসামি করা হয়।
এছাড়া শহরের বেশ কয়েকটি হাসপাতাল মালিক এবং ব্যবসায়ীদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ আছে বৈষম্যবিরোধী এই ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, মামলার সাক্ষীদের কারণে নিরীহ লোকের নাম এসেছে।
বাণিজ্য করতে গিয়ে বরিশাল শহরের অসংখ্য মানুষকে মামলায় জড়ানোর বিষয়টি ক্ষমতাসীন বিএনপিও ভালো ভাবে গ্রহণ করেনি। বরিশাল মেট্রোপলিটন আদালতের সরকারি আইন কর্মকর্তা এপিপি হাফিজ আহমেদ বাবলু মামলাটি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বিএনপিপন্থী এই আইনজীবী বলেন, মামলায় মিথ্যা তথ্য এবং মৃত ব্যক্তিকে আসামি করাটাও একটি অপরাধ। আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, অথচ এই মামলাটি সম্পর্কে আমরা কেউ কিছু জানি না।
বিজ্ঞ আদালত বিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে মামলার তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। আমরা মনে করি, এ মামলাটির কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা হবে এবং মামলার সত্যতা কতটুকু তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। এতে বাদীর কোনো অনিয়ম পেলে আদালত ব্যবস্থাগ্রহণ করতে পারে।
এই ধরনের অগ্রহণযোগ্য এবং মিথ্যে মামলা দেওয়ায় বাদী ছাত্রশক্তি নেতা মারযুকের ওপর ক্ষেপেছেন বরিশাল শহরের নাগরিক সমাজ। অভিযোগ, এই শহরের স্থায়ী বাসিন্দা নয় এমন ছেলে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর একের পর এক আইন লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতির মতো গুরুতর মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে, সে আবার কিভাবে আদালতে মিথ্যে মামলা করে? ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা চোক পাকিয়ে দেখছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১৪ মে মারযুক একটি মামলা করলে আদালত তা থানা পুলিশকে এজাহার করার নির্দেশ দেন। তৎকালীন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান এবং মারযুক মিলিমিশে মামলাটি নিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজি করেন। এরপরে ওসি মিজান বদলি হয়ে বিমানবন্দর থানায় যোগদান করেন। এবার সেই থানা এলাকাতে ঘটনাস্থল দেখিয়ে মামলাটি করা হলো। এখানে ওসি মিজান এবং মারযুকের কোনো যোগসূত্র আছে কী না তাও তদন্ত করার জোরালো দাবি তুলেছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি ডাকাতি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মারযুককে শিগগিরই গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি রাখা হয়।
এই প্রসঙ্গে জানতে ওসি মিজানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মামুন উল ইসলাম জানান, এই যুবকের বিতর্কিত কান্ডে পুলিশ বিব্রত। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলায় ওয়ারেন্ট আছে, গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে তিনি গ্রেপ্তার আতঙ্কে গাঢাকা দিয়ে আছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতারাও মারযুক আব্দুল্লাহকে ক্রাইমার হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, চাঁদাবাজি এবং ডাকাতির কারণে তাকে সংগঠন থেকে আনুষ্ঠানিক অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরেও তাকে রোহিত করা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিৎ তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা মন্তব্য করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল মহানগর কমিটির সাবেক আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদ।
এই মামলাটি এবং ডাকাতি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মারযুকের অপতৎপরতা নিয়ে পুলিশও বিব্রত বলে জানিয়েছেন মাঠপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদ বলছেন, যেহেতু আদালত তদন্ত করতে বলেছেন, এর আগে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
আইনবিদরা বলছেন, অভিযোগ যদি মিথ্যে হয়, তদন্ত প্রতিবেদনে তেমন আসে তাহলে বাদীর বিরুদ্ধে ২১১ ধারায় অভিযোগ আনারও সুযোগ থাকছে।’
২৭ আগস্ট, ২০২৬ ০২:০৯
২৬ আগস্ট, ২০২৬ ২০:১৪
২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৫৬
২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:৫৭