অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চার দিনের সরকারি সফরে আজ রাতে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। এ সফরে তিনি ৩০তম নিক্কেই ফোরামে যোগদান এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে বৈঠক করবেন।
গতকাল সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব মো. রুহুল আলম সিদ্দিকী এই সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সচিব বলেন, সফরে বিনিয়োগ, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার সাতটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, বাজেট সহায়তা প্রদান এবং জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী রেলপথকে ডুয়েল-গেজ ডাবল-ট্র্যাকে উন্নীত করার বিষয়ে নোট বিনিময় করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেছেন, সফরসূচি অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টা মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে ক্যাথে প্যাসিফিকের একটি ফ্লাইটে হংকং হয়ে টোকিওর উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন।
স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে তিনি নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সেখানে জাপানের প্রটোকল প্রধান, ঊর্ধ্বতন জাপানি কর্মকর্তা এবং জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে অভ্যর্থনা জানাবেন।
টোকিওতে পৌঁছানোর পর প্রধান উপদেষ্টা বিকেল ৫টায় জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লীগের প্রেসিডেন্ট তারো আসোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
সন্ধ্যায় অধ্যাপক ইউনূস তার সম্মানে নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া আয়োজিত এক নৈশভোজে যোগ দেবেন। এরপর জাপানের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা করবেন।
নিক্কেই ফোরামের আগে ২৯ মে নিক্কেই ইনকর্পোরেটেডের ঊর্ধ্বতন নির্বাহীরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
এরপর তিনি ৩০তম নিক্কেই ফোরাম: এশিয়ার ভবিষ্যৎ-এর উদ্বোধনী পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে মূল বক্তৃতা দেবেন। সেখানে তিনি ‘অশান্ত বিশ্বে এশিয়ার চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক বক্তব্য দেবেন।
ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টার তার ভাষণে আরও টেকসই ও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য এশিয়ান দেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতামূলক পদক্ষেপের ওপর জোর দেবেন।
ফোরামে উচ্চপদস্থ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থাকবেন লাওস ও পালাউয়ের প্রেসিডেন্ট, জাপান ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরের উপ-প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, নীতি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা।
দিনের শেষে প্রধান উপদেষ্টা টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত একটি মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সেমিনারে যোগ দিবেন। সেমিনারে ৩০০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি জাপানের দক্ষ কর্মীবাহিনীর চাহিদা পূরণে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনা তুলে ধরে একটি বিশেষ ভাষণ দেবেন।
অধ্যাপক ইউনূস জাপানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন, যাদের মধ্যে জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোও থাকবেন। সেখানে বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন সহযোগিতা এবং জাইকার অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।
তিনি জাপানের শীর্ষস্থানীয় মিডিয়া হাউস, যেমন-নিক্কেই, এনএইচকে, আসাহি শিম্বুন, আসাহি টিভি এবং নিপ্পন টিভিকে একান্ত সাক্ষাৎকারও দেবেন।
২৯ মে সন্ধ্যায় তিনি সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট বক্তাদের সম্মানে নিক্কেই ফোরাম আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেবেন।
সফরের উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে ৩০ মে সকালে টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার মধ্যে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক।
বৈঠকের আগে অধ্যাপক ইউনূসকে লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে।
ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি সহযোগিতা, মানবসম্পদ এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিস্তৃত কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টা জাপানের বৃহত্তম সংবাদপত্র ইয়োমিউরি শিম্বুনকে একান্ত সাক্ষাতকারও দেবেন।
দিন শেষে ড. ইউনূস দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করতে জেট্রোর প্রেসিডেন্ট কিমুরা ফুকুনারির সঙ্গে বৈঠক করবেন।
তিনি জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে একটি গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন এবং ‘বাংলাদেশ বিজনেস সেমিনার’-এ যোগ দেবেন। সেখানে তিনি বিশ্বব্যাপী সিইও, সামাজিক ব্যবসা সার্কেলের সদস্য ও উভয় দেশের তরুণ পেশাদারদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
সামাজিক উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সোকা বিশ্ববিদ্যালয় বিকেলে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করবে। তিনি সেখানে বিশিষ্ট দর্শক-শ্রোতাদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।
সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত একটি কমিউনিটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলবেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ হাউসে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন।
প্রধান উপদেষ্টা তার সফর শেষ করে ৩১ মে সকালে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে টোকিও ত্যাগ করবেন এবং সিঙ্গাপুর হয়ে ওই রাতেই ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:২৪
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আজ শনিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ওই অভিযানের একটি ভিডিও আপলোড করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে পরে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন-সংলগ্ন বস্তিতে আকস্মিক অভিযানে যান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার করে বলেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ পাশ থেকে আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ প্রতিমন্ত্রীর দেহরক্ষীরা তখন দৌঁড়ে কয়েকজনকে ধরার চেষ্টা করেন। একজনকে লাথি মারেন এক দেহরক্ষী।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির সমকালকে জানান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন দেন। পরে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাদের নিয়ে আসে। ওসি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কিনা, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রদর্শিত পিস্তলটির লাইসেন্স আছে কীনা জানতে চাইলে ইশরাক হোসেনের এপিএস আরিফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘পিস্তল নয়, তিনি লাঠি নিয়ে অভিযানে গেছেন।’
অস্ত্রহাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা চলছে। লাইসেন্স থাকলেও নিজের অস্ত্র এভাবে প্রদর্শন করা যায় কিনা সেই প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ। আইনজ্ঞরা বলছেন, একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নির্বাহী বিভাগের প্রধান বা নীতিনির্ধারক। মাঠপর্যায়ে তাদের সরাসরি অভিযান পরিচালনা বা আইন হাতে তুলে নেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা সংবিধান বা ফৌজদারি কার্যবিধিতে নেই। তাছাড়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা অনুযায়ী বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রদর্শনীবাজি বা হয়রানি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
উচ্চ আদালতের আইনজীবী তাওহীদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫’-এর ২৫ (ক) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজের লাইসেন্সের বিপরীতে নেওয়া অস্ত্র শুধু আত্মরক্ষার জন্য বহন ও ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যের ভীতি বা বিরক্তি তৈরি হতে পারে এমন ক্ষেত্রে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের অপরাধে অনূর্ধ্ব ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা অনূর্ধ্ব ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মুহাম্মদ নুরুল হুদা সমকালকে বলেন, আইন অনুযায়ী মূলত আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করা যেতে পারে। কোনো অভিযানে গিয়ে একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র প্রদর্শন না করাই ভালো। কারণ, তার নিরাপত্তার জন্য তো পুলিশ থাকার কথা। সেক্ষেত্রে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা দেখি না।
এসব বিষয়ে জানার জন্য প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ফোন করা হয়, হোয়াটসআপে ম্যাসেজ পাঠানো হয়, তবে তাতে তিনি সাড়া দেননি।
নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করা ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযান শেষে ইশরাক বলেন- ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তার নিজ দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তার শাস্তি আরও বড় হবে।
এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নেই। আমার এই এলাকা থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। সারা বাংলাদেশে অভিযান চলবে, দেশের কোথাও মাদকের জায়গা হবে না।
আসনটি মাদকমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আজ শনিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ওই অভিযানের একটি ভিডিও আপলোড করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে পরে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন-সংলগ্ন বস্তিতে আকস্মিক অভিযানে যান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার করে বলেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ পাশ থেকে আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ প্রতিমন্ত্রীর দেহরক্ষীরা তখন দৌঁড়ে কয়েকজনকে ধরার চেষ্টা করেন। একজনকে লাথি মারেন এক দেহরক্ষী।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির সমকালকে জানান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন দেন। পরে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাদের নিয়ে আসে। ওসি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কিনা, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রদর্শিত পিস্তলটির লাইসেন্স আছে কীনা জানতে চাইলে ইশরাক হোসেনের এপিএস আরিফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘পিস্তল নয়, তিনি লাঠি নিয়ে অভিযানে গেছেন।’
অস্ত্রহাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা চলছে। লাইসেন্স থাকলেও নিজের অস্ত্র এভাবে প্রদর্শন করা যায় কিনা সেই প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ। আইনজ্ঞরা বলছেন, একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নির্বাহী বিভাগের প্রধান বা নীতিনির্ধারক। মাঠপর্যায়ে তাদের সরাসরি অভিযান পরিচালনা বা আইন হাতে তুলে নেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা সংবিধান বা ফৌজদারি কার্যবিধিতে নেই। তাছাড়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা অনুযায়ী বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রদর্শনীবাজি বা হয়রানি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
উচ্চ আদালতের আইনজীবী তাওহীদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫’-এর ২৫ (ক) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজের লাইসেন্সের বিপরীতে নেওয়া অস্ত্র শুধু আত্মরক্ষার জন্য বহন ও ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যের ভীতি বা বিরক্তি তৈরি হতে পারে এমন ক্ষেত্রে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের অপরাধে অনূর্ধ্ব ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা অনূর্ধ্ব ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মুহাম্মদ নুরুল হুদা সমকালকে বলেন, আইন অনুযায়ী মূলত আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করা যেতে পারে। কোনো অভিযানে গিয়ে একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র প্রদর্শন না করাই ভালো। কারণ, তার নিরাপত্তার জন্য তো পুলিশ থাকার কথা। সেক্ষেত্রে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা দেখি না।
এসব বিষয়ে জানার জন্য প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ফোন করা হয়, হোয়াটসআপে ম্যাসেজ পাঠানো হয়, তবে তাতে তিনি সাড়া দেননি।
নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করা ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযান শেষে ইশরাক বলেন- ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তার নিজ দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তার শাস্তি আরও বড় হবে।
এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নেই। আমার এই এলাকা থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। সারা বাংলাদেশে অভিযান চলবে, দেশের কোথাও মাদকের জায়গা হবে না।
আসনটি মাদকমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৪৮
রাজধানীর রমনায় অবস্থিত অফিসার্স ক্লাবের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ভবনটির তৃতীয় তলা থেকে নিচে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
অফিসার্স ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ক্লাবে প্রবেশ করেন মোশাররফ হোসেন। পরে মেয়েকে সুইমিংপুলের কাছে রেখে তিনি ক্লাবের ভেতরে থাকা নির্মাণাধীন ভবনটিতে যান।
প্রায় এক ঘণ্টা পর ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, মোশাররফ হোসেনের দৃষ্টিশক্তি কিছুটা কম ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নির্মাণাধীন ভবনটির তৃতীয় তলা থেকে নিচতলার ফাঁকা অংশে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাস্থলে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মোশাররফ হোসেন অফিসার্স ক্লাবের সদস্য ছিলেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর বনানী এলাকায় বসবাস করতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাঁর বড় মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি দেশে ফেরার পর বাবার দাফন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্তে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তরের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
সূত্র: বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও পুলিশের বক্তব্য।
রাজধানীর রমনায় অবস্থিত অফিসার্স ক্লাবের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ভবনটির তৃতীয় তলা থেকে নিচে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
অফিসার্স ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ক্লাবে প্রবেশ করেন মোশাররফ হোসেন। পরে মেয়েকে সুইমিংপুলের কাছে রেখে তিনি ক্লাবের ভেতরে থাকা নির্মাণাধীন ভবনটিতে যান।
প্রায় এক ঘণ্টা পর ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, মোশাররফ হোসেনের দৃষ্টিশক্তি কিছুটা কম ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নির্মাণাধীন ভবনটির তৃতীয় তলা থেকে নিচতলার ফাঁকা অংশে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাস্থলে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মোশাররফ হোসেন অফিসার্স ক্লাবের সদস্য ছিলেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর বনানী এলাকায় বসবাস করতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাঁর বড় মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি দেশে ফেরার পর বাবার দাফন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্তে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তরের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
সূত্র: বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও পুলিশের বক্তব্য।

০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৪
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে এনবিআর কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা ‘ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড’সহ ঢাকার চারটি বার ও রেস্তোরাঁয় বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন সংস্থা।
শনিবার সন্ধ্যায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানে ‘অবৈধ উৎস’ থেকে অ্যালকোহল সংগ্রহ, শুল্ক-মূসক ও আয়কর ফাঁকি এবং ‘অননুমোদিত’ গ্রাহকের কাছে অ্যালকোহল সরবরাহের অভিযোগ অনুসন্ধানে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযানের আওতায় থাকা অন্য তিন প্রতিষ্ঠান হলো—ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট, হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল ও মার্গারিটা লাউঞ্জ।
সিআইআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অভিযোগ তদন্তে চারটি দল গঠন করা হয়েছে। অভিযানে সিআইআইডির পাশাপাশি এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), ভ্যাট গোয়েন্দা এবং ঢাকা উত্তর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দক্ষিণ গুলশানের বন্ডেড ওয়্যারহাউজ টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডে যৌথ অভিযান চালায় সিআইআইডি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা মদ ‘অননুমোদিত’ দুটি গুদামে মজুত রাখার অভিযোগে সেগুলোসহ প্রতিষ্ঠানটির দুটি বৈধ গুদামও সিলগালা করা হয়।
এনবিআর কর্মকর্তারা শেখ নূর ইসলামকে টস বন্ডের মালিক হিসেবে উল্লেখ করলেও ফু-ওয়াং কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে শেখ নূর ইসলাম বা তাঁর পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই।
ফু-ওয়াংয়ের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে শেখ নূর ইসলামের মেয়ে দিশা ইসলামের বিয়ে তাঁর পরিবার মেনে নেয়নি। বিয়ের পর থেকেই শেখ নূর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।
এদিকে দেশে মদ ও বার ব্যবসায় কথিত অনিয়মের পাশাপাশি কানাডায় শেখ নূর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের নাগরিকত্ব এবং সম্পদের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর কর-সংক্রান্ত গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে এনবিআর কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা ‘ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড’সহ ঢাকার চারটি বার ও রেস্তোরাঁয় বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন সংস্থা।
শনিবার সন্ধ্যায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানে ‘অবৈধ উৎস’ থেকে অ্যালকোহল সংগ্রহ, শুল্ক-মূসক ও আয়কর ফাঁকি এবং ‘অননুমোদিত’ গ্রাহকের কাছে অ্যালকোহল সরবরাহের অভিযোগ অনুসন্ধানে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযানের আওতায় থাকা অন্য তিন প্রতিষ্ঠান হলো—ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট, হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল ও মার্গারিটা লাউঞ্জ।
সিআইআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অভিযোগ তদন্তে চারটি দল গঠন করা হয়েছে। অভিযানে সিআইআইডির পাশাপাশি এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), ভ্যাট গোয়েন্দা এবং ঢাকা উত্তর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দক্ষিণ গুলশানের বন্ডেড ওয়্যারহাউজ টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডে যৌথ অভিযান চালায় সিআইআইডি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা মদ ‘অননুমোদিত’ দুটি গুদামে মজুত রাখার অভিযোগে সেগুলোসহ প্রতিষ্ঠানটির দুটি বৈধ গুদামও সিলগালা করা হয়।
এনবিআর কর্মকর্তারা শেখ নূর ইসলামকে টস বন্ডের মালিক হিসেবে উল্লেখ করলেও ফু-ওয়াং কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে শেখ নূর ইসলাম বা তাঁর পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই।
ফু-ওয়াংয়ের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে শেখ নূর ইসলামের মেয়ে দিশা ইসলামের বিয়ে তাঁর পরিবার মেনে নেয়নি। বিয়ের পর থেকেই শেখ নূর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।
এদিকে দেশে মদ ও বার ব্যবসায় কথিত অনিয়মের পাশাপাশি কানাডায় শেখ নূর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের নাগরিকত্ব এবং সম্পদের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর কর-সংক্রান্ত গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৭ মে, ২০২৫ ১৬:২৬
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চার দিনের সরকারি সফরে আজ রাতে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। এ সফরে তিনি ৩০তম নিক্কেই ফোরামে যোগদান এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে বৈঠক করবেন।
গতকাল সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব মো. রুহুল আলম সিদ্দিকী এই সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সচিব বলেন, সফরে বিনিয়োগ, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার সাতটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, বাজেট সহায়তা প্রদান এবং জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী রেলপথকে ডুয়েল-গেজ ডাবল-ট্র্যাকে উন্নীত করার বিষয়ে নোট বিনিময় করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেছেন, সফরসূচি অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টা মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে ক্যাথে প্যাসিফিকের একটি ফ্লাইটে হংকং হয়ে টোকিওর উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন।
স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে তিনি নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সেখানে জাপানের প্রটোকল প্রধান, ঊর্ধ্বতন জাপানি কর্মকর্তা এবং জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে অভ্যর্থনা জানাবেন।
টোকিওতে পৌঁছানোর পর প্রধান উপদেষ্টা বিকেল ৫টায় জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লীগের প্রেসিডেন্ট তারো আসোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
সন্ধ্যায় অধ্যাপক ইউনূস তার সম্মানে নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া আয়োজিত এক নৈশভোজে যোগ দেবেন। এরপর জাপানের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা করবেন।
নিক্কেই ফোরামের আগে ২৯ মে নিক্কেই ইনকর্পোরেটেডের ঊর্ধ্বতন নির্বাহীরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
এরপর তিনি ৩০তম নিক্কেই ফোরাম: এশিয়ার ভবিষ্যৎ-এর উদ্বোধনী পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে মূল বক্তৃতা দেবেন। সেখানে তিনি ‘অশান্ত বিশ্বে এশিয়ার চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক বক্তব্য দেবেন।
ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টার তার ভাষণে আরও টেকসই ও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য এশিয়ান দেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতামূলক পদক্ষেপের ওপর জোর দেবেন।
ফোরামে উচ্চপদস্থ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থাকবেন লাওস ও পালাউয়ের প্রেসিডেন্ট, জাপান ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরের উপ-প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, নীতি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা।
দিনের শেষে প্রধান উপদেষ্টা টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত একটি মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সেমিনারে যোগ দিবেন। সেমিনারে ৩০০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি জাপানের দক্ষ কর্মীবাহিনীর চাহিদা পূরণে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনা তুলে ধরে একটি বিশেষ ভাষণ দেবেন।
অধ্যাপক ইউনূস জাপানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন, যাদের মধ্যে জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোও থাকবেন। সেখানে বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন সহযোগিতা এবং জাইকার অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।
তিনি জাপানের শীর্ষস্থানীয় মিডিয়া হাউস, যেমন-নিক্কেই, এনএইচকে, আসাহি শিম্বুন, আসাহি টিভি এবং নিপ্পন টিভিকে একান্ত সাক্ষাৎকারও দেবেন।
২৯ মে সন্ধ্যায় তিনি সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট বক্তাদের সম্মানে নিক্কেই ফোরাম আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেবেন।
সফরের উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে ৩০ মে সকালে টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার মধ্যে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক।
বৈঠকের আগে অধ্যাপক ইউনূসকে লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে।
ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি সহযোগিতা, মানবসম্পদ এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিস্তৃত কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টা জাপানের বৃহত্তম সংবাদপত্র ইয়োমিউরি শিম্বুনকে একান্ত সাক্ষাতকারও দেবেন।
দিন শেষে ড. ইউনূস দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করতে জেট্রোর প্রেসিডেন্ট কিমুরা ফুকুনারির সঙ্গে বৈঠক করবেন।
তিনি জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে একটি গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন এবং ‘বাংলাদেশ বিজনেস সেমিনার’-এ যোগ দেবেন। সেখানে তিনি বিশ্বব্যাপী সিইও, সামাজিক ব্যবসা সার্কেলের সদস্য ও উভয় দেশের তরুণ পেশাদারদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
সামাজিক উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সোকা বিশ্ববিদ্যালয় বিকেলে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করবে। তিনি সেখানে বিশিষ্ট দর্শক-শ্রোতাদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।
সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত একটি কমিউনিটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলবেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ হাউসে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন।
প্রধান উপদেষ্টা তার সফর শেষ করে ৩১ মে সকালে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে টোকিও ত্যাগ করবেন এবং সিঙ্গাপুর হয়ে ওই রাতেই ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০৭
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:২০
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৪২
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:২৮