বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পুড়ে যাওয়া দলীয় কার্যালয়ে ঝুলছিল শোক দিবসের একটি ব্যানার। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় লাগানো হয়েছিল ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পোস্টার। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয়ের সৌজন্যে দেওয়া ওই ব্যানারে লেখা ছিল- 'শোক থেকে জাগরণ, জাগরণ থেকে প্রত্যাবর্তন।' এ লেখার সাথে বিশালাকৃতির ওই ব্যানারে ১৫ আগস্ট নিহত শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের সকল সদস্যদের ছবি যুক্ত ছিল। এর পাশাপাশি উপজেলা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় জায়গায় সাঁটানো হয়েছিল ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় হতাহতদের ছবি সম্বলিত পোস্টার। ব্যানার এবং পোস্টার পরে অপসারণ করা হলেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপজেলা কার্যালয়ে ব্যানার কীভাবে এলো আর পোস্টারগুলোই বা কে কখন লাগালো তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ব্যানার-পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে। পুলিশের দাবি ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে তারা।
জানা যায়, বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়টি পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা। উপজেলার কলেজ গেট এলাকার চৌরাস্তায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের নিজস্ব ওই দলীয় কার্যালয়ের পোড়া ভবনটি এরপর থেকেই পরিত্যক্ত ছিল। বুধবার ভোর থেকে সেই দলীয় কার্যালয়ে ১০ ফুট লম্বা এবং ৭ ফুট প্রস্থের একটি শোক দিবসের ব্যানার ঝুলতে দেখা যায়। দুপুর প্রায় দেড়টা পর্যন্ত ব্যানারটি দলীয় কার্যালয়ের সামনে ঝুলছিল। পরে খবর পেয়ে ছাত্রদল নেতারা সেটিকে অপসারণ করে। এদিকে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদ, স্কুলের তোরণ ও বিভিন্ন স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সাঁটানো হয় গ্রেনেড হামলার পোস্টার।
বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুর রহমান আল-আমিন বলেন, 'মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময়ে আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত অফিসে ওই ব্যানারটি কেউ ঝুলিয়ে দিয়ে গেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কলেজ গেট এলাকার ওই দলীয় অফিসের আশেপাশে তেমন কোনো দোকানপাট নেই। ওখানে কিছু গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়। তাই আমরা সাথেসাথে ঘটনাটি টের পাইনি। বেলা ১টায় দিকে আমি খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গিয়ে ব্যানারটি তাৎক্ষণিক অপসারণ করে।'
রহমতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মহসিন উদ্দিন শামীম বলেন, 'বুধবার ভোরে আলো ফোটার আগে কে বা কারা গোপনে এসে খানপুরা এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের দেয়ালসহ কিছু জায়গায় নিষিদ্ধ সংগঠনের পোস্টার লাগিয়ে যায়। সকালে বিষয়টি নজরে আসার পরে সকল পোস্টার সাথেসাথে অপসারণ করা হয়। এখন চুরি করে রাতের আঁধারে কেউ পোস্টার লাগালে সেখানে বিএনপির আর কী করার আছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটা সংগঠন কীভাবে পোস্টার লাগায় এর ব্যাখ্যা পুলিশ ভালো দিতে পারবে।'
বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, 'ঘটনাটি আমরা জানার পরে যখন ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি তখন সেখানে কিছুই ছিল না। পুলিশ যাওয়ার আগেই ব্যানার পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের যেহেতু কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে সেহেতু তাদের সবধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম করাই আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। এসব ব্যানার-পোস্টার কারা কখন লাগিয়েছে সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।'
এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যানার এবং পোস্টার সাঁটানোর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, 'আওয়ামী লীগের সাথে বাংলাদেশ জন্মের ইতিহাস জড়িত। যে দলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে সেই দলকে নির্বাহী আদেশ দিয়ে নিষিদ্ধ করা যায় না। যারা করেছে তারা অন্যায় করেছে। ইতিহাস একদিন তাদের বিচার ঠিকই করবে। বাঁধভাঙা জোয়ার কখনো বাঁধা দিয়ে আটকে রাখা যায় না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব প্রতিটি বাঙালির নেতা। তাকে মুছে ফেলার শক্তি পৃথিবীর কারো নেই। আমাদের শোক থেকে এবার হবে জাগরণ। আর সেই জাগরণ থেকে ডিসেম্বরের আগেই হবে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন। পৃথিবীর ইতিহাসে এক নজিরবিহীন প্রত্যাবর্তন দেখবে সমগ্র বিশ্ব। সেই বার্তাটাই দেওয়া হয়েছে।'
এদিকে থানার ৫০০ গজের মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে এই ব্যানার টাঙানো এবং উপজেলা সদর খানপুরাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পোস্টার সাঁটানো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় চলছে। বিএনপি এটাকে চোরাগোপ্তা কার্যক্রম হিসেবে দেখলেও কেউ কেউ বলছেন এটা আওয়ামী লীগের পুনর্জাগরণের আভাস। আওয়ামী লীগ ফুরিয়ে যায়নি। এর আগে গত ১৫ আগস্ট খানপুরা এলাকার বিসমিল্লাহ ডেইরি ফার্মের মাঠে শোক দিবসের সংক্ষিপ্ত র্যালি, আলোচনা সভা ও দোয়া-মোনাজাত কর্মসূচি পালন করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। এ ঘটনায় উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরদিন ১৬ আগস্ট এয়ারপোর্ট থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার খালেদ হোসেন স্বপনসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। #

১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:০৭
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যে তাঁর এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। ইশরাকের দাবি, তাঁকে টার্গেট করে হেয় করা হয়েছে। দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চান না বলেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তাতে সম্মতি দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আজকের দিন থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি। পুরো সময়টা ঢাকা-৬ আসন ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাদক নির্মূল এবং অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, আমি পদত্যাগ করতে চাই। আমার জন্য যেন কাউকে বিব্রত হতে না হয়।’
সম্প্রতি অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামার ঘটনায় আলোচনায় আসেন ইশরাক হোসেন। তাঁর এই কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমেও আলোচিত হয়। এর পরপরই তাঁর মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি সামনে আসে।
এর আগে রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক নিজেই দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দেন।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইশরাক বলেন, গত দুই-তিন দিন ধরে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে কিছু সত্যের পাশাপাশি অতিরঞ্জিত তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। তাঁর ভাষ্য, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কল্পকাহিনি তৈরি করা হয়েছে এবং তাঁকে হেয় করার চেষ্টা হয়েছে।
ইশরাকের অভিযোগ, এসব আলোচনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন এবং এতে দলও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও ঢাকা-৬ আসন ও আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূল এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ইশরাক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মন্ত্রিত্বের বাইরে থেকে এসব বিষয়ে বেশি সময় দিতে চান তিনি।
ইশরাকের পদত্যাগের ঘোষণার মধ্য দিয়ে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল। এখন তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ঢাকা-৬ এলাকার সমস্যা সমাধানে ভূমিকা কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।’
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যে তাঁর এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। ইশরাকের দাবি, তাঁকে টার্গেট করে হেয় করা হয়েছে। দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চান না বলেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তাতে সম্মতি দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আজকের দিন থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি। পুরো সময়টা ঢাকা-৬ আসন ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাদক নির্মূল এবং অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, আমি পদত্যাগ করতে চাই। আমার জন্য যেন কাউকে বিব্রত হতে না হয়।’
সম্প্রতি অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামার ঘটনায় আলোচনায় আসেন ইশরাক হোসেন। তাঁর এই কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমেও আলোচিত হয়। এর পরপরই তাঁর মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি সামনে আসে।
এর আগে রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক নিজেই দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দেন।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইশরাক বলেন, গত দুই-তিন দিন ধরে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে কিছু সত্যের পাশাপাশি অতিরঞ্জিত তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। তাঁর ভাষ্য, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কল্পকাহিনি তৈরি করা হয়েছে এবং তাঁকে হেয় করার চেষ্টা হয়েছে।
ইশরাকের অভিযোগ, এসব আলোচনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন এবং এতে দলও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও ঢাকা-৬ আসন ও আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূল এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ইশরাক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মন্ত্রিত্বের বাইরে থেকে এসব বিষয়ে বেশি সময় দিতে চান তিনি।
ইশরাকের পদত্যাগের ঘোষণার মধ্য দিয়ে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল। এখন তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ঢাকা-৬ এলাকার সমস্যা সমাধানে ভূমিকা কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।’

১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:১৭
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ডেকে পাঠান। সেখানে তাঁকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনাটি নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্য নিয়ে আপত্তি না থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এদিকে, ইশরাকের অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিবি প্রধান জানিয়েছেন, ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন দিতে স্থানীয় জেলা প্রশাসককে বলা হয়েছে। আইনগত কোনো ব্যত্যয় পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে।
ঘটনার পরদিনই প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। তবে পদত্যাগের নির্দেশ কার্যকর হয়েছে কি না, কিংবা এ বিষয়ে পরবর্তী কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সূত্র: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস, কালবেলা, প্রথম আলো ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন।
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ডেকে পাঠান। সেখানে তাঁকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনাটি নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্য নিয়ে আপত্তি না থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এদিকে, ইশরাকের অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিবি প্রধান জানিয়েছেন, ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন দিতে স্থানীয় জেলা প্রশাসককে বলা হয়েছে। আইনগত কোনো ব্যত্যয় পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে।
ঘটনার পরদিনই প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। তবে পদত্যাগের নির্দেশ কার্যকর হয়েছে কি না, কিংবা এ বিষয়ে পরবর্তী কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সূত্র: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস, কালবেলা, প্রথম আলো ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন।

১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৪৫
বরিশাল জেলা ও মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদকসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার, নদীভাঙন প্রতিরোধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠাসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ১০ দফা দাবিতে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। বরিশাল জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকারের হাতে রোববার ওই স্মারকলিপি তুলে দেন এবি পার্টির জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ। এসময় এবি পার্টির ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের জেলা ও মহানগর কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ওই স্মারকলিপিতে বরিশালের জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, মাদক ও অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা, নদীভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ এবং কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগরের সদস্য সচিব প্রকৌশলী জি.এম রাব্বী, যুগ্ম-আহ্বায়ক সাকিব হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব রাকিব সিকদার, শাকিল হাওলাদার, সদস্য জসিম উদ্দিন, বাহারুল গাজী, নারী নেত্রী নাজমুন নাহার বেবী ছাড়াও বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের বরিশাল জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ।
এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জি.এম রাব্বী বলেন, 'জনগণের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ, জবাবদিহিতা ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বরিশাল জেলা ও মহানগরের সার্বিক উন্নয়ন এবং জনস্বার্থ রক্ষায় এবি পার্টি সর্বদা দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।'
বরিশাল জেলা ও মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদকসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার, নদীভাঙন প্রতিরোধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠাসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ১০ দফা দাবিতে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। বরিশাল জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকারের হাতে রোববার ওই স্মারকলিপি তুলে দেন এবি পার্টির জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ। এসময় এবি পার্টির ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের জেলা ও মহানগর কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ওই স্মারকলিপিতে বরিশালের জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, মাদক ও অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা, নদীভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ এবং কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগরের সদস্য সচিব প্রকৌশলী জি.এম রাব্বী, যুগ্ম-আহ্বায়ক সাকিব হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব রাকিব সিকদার, শাকিল হাওলাদার, সদস্য জসিম উদ্দিন, বাহারুল গাজী, নারী নেত্রী নাজমুন নাহার বেবী ছাড়াও বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের বরিশাল জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ।
এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জি.এম রাব্বী বলেন, 'জনগণের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ, জবাবদিহিতা ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বরিশাল জেলা ও মহানগরের সার্বিক উন্নয়ন এবং জনস্বার্থ রক্ষায় এবি পার্টি সর্বদা দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।'

২৭ আগস্ট, ২০২৬ ০২:০৯
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পুড়ে যাওয়া দলীয় কার্যালয়ে ঝুলছিল শোক দিবসের একটি ব্যানার। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় লাগানো হয়েছিল ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পোস্টার। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয়ের সৌজন্যে দেওয়া ওই ব্যানারে লেখা ছিল- 'শোক থেকে জাগরণ, জাগরণ থেকে প্রত্যাবর্তন।' এ লেখার সাথে বিশালাকৃতির ওই ব্যানারে ১৫ আগস্ট নিহত শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের সকল সদস্যদের ছবি যুক্ত ছিল। এর পাশাপাশি উপজেলা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় জায়গায় সাঁটানো হয়েছিল ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় হতাহতদের ছবি সম্বলিত পোস্টার। ব্যানার এবং পোস্টার পরে অপসারণ করা হলেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপজেলা কার্যালয়ে ব্যানার কীভাবে এলো আর পোস্টারগুলোই বা কে কখন লাগালো তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ব্যানার-পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে। পুলিশের দাবি ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে তারা।
জানা যায়, বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়টি পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা। উপজেলার কলেজ গেট এলাকার চৌরাস্তায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের নিজস্ব ওই দলীয় কার্যালয়ের পোড়া ভবনটি এরপর থেকেই পরিত্যক্ত ছিল। বুধবার ভোর থেকে সেই দলীয় কার্যালয়ে ১০ ফুট লম্বা এবং ৭ ফুট প্রস্থের একটি শোক দিবসের ব্যানার ঝুলতে দেখা যায়। দুপুর প্রায় দেড়টা পর্যন্ত ব্যানারটি দলীয় কার্যালয়ের সামনে ঝুলছিল। পরে খবর পেয়ে ছাত্রদল নেতারা সেটিকে অপসারণ করে। এদিকে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদ, স্কুলের তোরণ ও বিভিন্ন স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সাঁটানো হয় গ্রেনেড হামলার পোস্টার।
বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুর রহমান আল-আমিন বলেন, 'মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময়ে আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত অফিসে ওই ব্যানারটি কেউ ঝুলিয়ে দিয়ে গেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কলেজ গেট এলাকার ওই দলীয় অফিসের আশেপাশে তেমন কোনো দোকানপাট নেই। ওখানে কিছু গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়। তাই আমরা সাথেসাথে ঘটনাটি টের পাইনি। বেলা ১টায় দিকে আমি খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গিয়ে ব্যানারটি তাৎক্ষণিক অপসারণ করে।'
রহমতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মহসিন উদ্দিন শামীম বলেন, 'বুধবার ভোরে আলো ফোটার আগে কে বা কারা গোপনে এসে খানপুরা এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের দেয়ালসহ কিছু জায়গায় নিষিদ্ধ সংগঠনের পোস্টার লাগিয়ে যায়। সকালে বিষয়টি নজরে আসার পরে সকল পোস্টার সাথেসাথে অপসারণ করা হয়। এখন চুরি করে রাতের আঁধারে কেউ পোস্টার লাগালে সেখানে বিএনপির আর কী করার আছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটা সংগঠন কীভাবে পোস্টার লাগায় এর ব্যাখ্যা পুলিশ ভালো দিতে পারবে।'
বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, 'ঘটনাটি আমরা জানার পরে যখন ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি তখন সেখানে কিছুই ছিল না। পুলিশ যাওয়ার আগেই ব্যানার পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের যেহেতু কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে সেহেতু তাদের সবধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম করাই আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। এসব ব্যানার-পোস্টার কারা কখন লাগিয়েছে সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।'
এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যানার এবং পোস্টার সাঁটানোর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, 'আওয়ামী লীগের সাথে বাংলাদেশ জন্মের ইতিহাস জড়িত। যে দলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে সেই দলকে নির্বাহী আদেশ দিয়ে নিষিদ্ধ করা যায় না। যারা করেছে তারা অন্যায় করেছে। ইতিহাস একদিন তাদের বিচার ঠিকই করবে। বাঁধভাঙা জোয়ার কখনো বাঁধা দিয়ে আটকে রাখা যায় না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব প্রতিটি বাঙালির নেতা। তাকে মুছে ফেলার শক্তি পৃথিবীর কারো নেই। আমাদের শোক থেকে এবার হবে জাগরণ। আর সেই জাগরণ থেকে ডিসেম্বরের আগেই হবে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন। পৃথিবীর ইতিহাসে এক নজিরবিহীন প্রত্যাবর্তন দেখবে সমগ্র বিশ্ব। সেই বার্তাটাই দেওয়া হয়েছে।'
এদিকে থানার ৫০০ গজের মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে এই ব্যানার টাঙানো এবং উপজেলা সদর খানপুরাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পোস্টার সাঁটানো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় চলছে। বিএনপি এটাকে চোরাগোপ্তা কার্যক্রম হিসেবে দেখলেও কেউ কেউ বলছেন এটা আওয়ামী লীগের পুনর্জাগরণের আভাস। আওয়ামী লীগ ফুরিয়ে যায়নি। এর আগে গত ১৫ আগস্ট খানপুরা এলাকার বিসমিল্লাহ ডেইরি ফার্মের মাঠে শোক দিবসের সংক্ষিপ্ত র্যালি, আলোচনা সভা ও দোয়া-মোনাজাত কর্মসূচি পালন করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। এ ঘটনায় উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরদিন ১৬ আগস্ট এয়ারপোর্ট থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার খালেদ হোসেন স্বপনসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। #
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৬
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:১১
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৫৮
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪৮