বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পুড়ে যাওয়া দলীয় কার্যালয়ে ঝুলছিল শোক দিবসের একটি ব্যানার। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় লাগানো হয়েছিল ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পোস্টার। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয়ের সৌজন্যে দেওয়া ওই ব্যানারে লেখা ছিল- 'শোক থেকে জাগরণ, জাগরণ থেকে প্রত্যাবর্তন।' এ লেখার সাথে বিশালাকৃতির ওই ব্যানারে ১৫ আগস্ট নিহত শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের সকল সদস্যদের ছবি যুক্ত ছিল। এর পাশাপাশি উপজেলা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় জায়গায় সাঁটানো হয়েছিল ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় হতাহতদের ছবি সম্বলিত পোস্টার। ব্যানার এবং পোস্টার পরে অপসারণ করা হলেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপজেলা কার্যালয়ে ব্যানার কীভাবে এলো আর পোস্টারগুলোই বা কে কখন লাগালো তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ব্যানার-পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে। পুলিশের দাবি ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে তারা।
জানা যায়, বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়টি পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা। উপজেলার কলেজ গেট এলাকার চৌরাস্তায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের নিজস্ব ওই দলীয় কার্যালয়ের পোড়া ভবনটি এরপর থেকেই পরিত্যক্ত ছিল। বুধবার ভোর থেকে সেই দলীয় কার্যালয়ে ১০ ফুট লম্বা এবং ৭ ফুট প্রস্থের একটি শোক দিবসের ব্যানার ঝুলতে দেখা যায়। দুপুর প্রায় দেড়টা পর্যন্ত ব্যানারটি দলীয় কার্যালয়ের সামনে ঝুলছিল। পরে খবর পেয়ে ছাত্রদল নেতারা সেটিকে অপসারণ করে। এদিকে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদ, স্কুলের তোরণ ও বিভিন্ন স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সাঁটানো হয় গ্রেনেড হামলার পোস্টার।
বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুর রহমান আল-আমিন বলেন, 'মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময়ে আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত অফিসে ওই ব্যানারটি কেউ ঝুলিয়ে দিয়ে গেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কলেজ গেট এলাকার ওই দলীয় অফিসের আশেপাশে তেমন কোনো দোকানপাট নেই। ওখানে কিছু গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়। তাই আমরা সাথেসাথে ঘটনাটি টের পাইনি। বেলা ১টায় দিকে আমি খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গিয়ে ব্যানারটি তাৎক্ষণিক অপসারণ করে।'
রহমতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মহসিন উদ্দিন শামীম বলেন, 'বুধবার ভোরে আলো ফোটার আগে কে বা কারা গোপনে এসে খানপুরা এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের দেয়ালসহ কিছু জায়গায় নিষিদ্ধ সংগঠনের পোস্টার লাগিয়ে যায়। সকালে বিষয়টি নজরে আসার পরে সকল পোস্টার সাথেসাথে অপসারণ করা হয়। এখন চুরি করে রাতের আঁধারে কেউ পোস্টার লাগালে সেখানে বিএনপির আর কী করার আছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটা সংগঠন কীভাবে পোস্টার লাগায় এর ব্যাখ্যা পুলিশ ভালো দিতে পারবে।'
বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, 'ঘটনাটি আমরা জানার পরে যখন ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি তখন সেখানে কিছুই ছিল না। পুলিশ যাওয়ার আগেই ব্যানার পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের যেহেতু কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে সেহেতু তাদের সবধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম করাই আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। এসব ব্যানার-পোস্টার কারা কখন লাগিয়েছে সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।'
এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যানার এবং পোস্টার সাঁটানোর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, 'আওয়ামী লীগের সাথে বাংলাদেশ জন্মের ইতিহাস জড়িত। যে দলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে সেই দলকে নির্বাহী আদেশ দিয়ে নিষিদ্ধ করা যায় না। যারা করেছে তারা অন্যায় করেছে। ইতিহাস একদিন তাদের বিচার ঠিকই করবে। বাঁধভাঙা জোয়ার কখনো বাঁধা দিয়ে আটকে রাখা যায় না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব প্রতিটি বাঙালির নেতা। তাকে মুছে ফেলার শক্তি পৃথিবীর কারো নেই। আমাদের শোক থেকে এবার হবে জাগরণ। আর সেই জাগরণ থেকে ডিসেম্বরের আগেই হবে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন। পৃথিবীর ইতিহাসে এক নজিরবিহীন প্রত্যাবর্তন দেখবে সমগ্র বিশ্ব। সেই বার্তাটাই দেওয়া হয়েছে।'
এদিকে থানার ৫০০ গজের মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে এই ব্যানার টাঙানো এবং উপজেলা সদর খানপুরাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পোস্টার সাঁটানো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় চলছে। বিএনপি এটাকে চোরাগোপ্তা কার্যক্রম হিসেবে দেখলেও কেউ কেউ বলছেন এটা আওয়ামী লীগের পুনর্জাগরণের আভাস। আওয়ামী লীগ ফুরিয়ে যায়নি। এর আগে গত ১৫ আগস্ট খানপুরা এলাকার বিসমিল্লাহ ডেইরি ফার্মের মাঠে শোক দিবসের সংক্ষিপ্ত র্যালি, আলোচনা সভা ও দোয়া-মোনাজাত কর্মসূচি পালন করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। এ ঘটনায় উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরদিন ১৬ আগস্ট এয়ারপোর্ট থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার খালেদ হোসেন স্বপনসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। #

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৫৭
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজকের পত্রিকা এ তথ্য জানিয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধান চলাকালে তিনি বিদেশে চলে গেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হবে।
দুদক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচার, সরকারি পদে নিয়োগ ও পদায়নে অর্থ লেনদেন, টেন্ডার-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অভিযোগের তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর মধ্যে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও অনুসন্ধানে এসেছে বলে জানিয়েছে দুদক। অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে অর্থ পাচার করে সম্পদ কেনা ও ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে এসব এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে; এর সত্যতা প্রমাণিত হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে আসিফ মাহমুদ এর আগে আপত্তি জানিয়েছেন। স্বাভাবিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় দুদকের অনুসন্ধান হলে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দুদকের কিছু বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে আইনি পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছেন।
দুদক জানিয়েছে, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটির সচিবও বলেছেন, এ অনুসন্ধান কোনো রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজকের পত্রিকা এ তথ্য জানিয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধান চলাকালে তিনি বিদেশে চলে গেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হবে।
দুদক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচার, সরকারি পদে নিয়োগ ও পদায়নে অর্থ লেনদেন, টেন্ডার-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অভিযোগের তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর মধ্যে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও অনুসন্ধানে এসেছে বলে জানিয়েছে দুদক। অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে অর্থ পাচার করে সম্পদ কেনা ও ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে এসব এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে; এর সত্যতা প্রমাণিত হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে আসিফ মাহমুদ এর আগে আপত্তি জানিয়েছেন। স্বাভাবিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় দুদকের অনুসন্ধান হলে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দুদকের কিছু বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে আইনি পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছেন।
দুদক জানিয়েছে, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটির সচিবও বলেছেন, এ অনুসন্ধান কোনো রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:০০
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সাত শীর্ষস্থানীয় নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) অপরাহ্ণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় দেন।
ওবায়দুল কাদের ছাড়া দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। ওবায়দুল কাদেরসহ মামলার সব আসামি পলাতক রয়েছেন।
এর আগে গতকাল সোমবার রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত চেয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। অপরদিকে ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত দুই আইনজীবী হাসান ইমাম ও ইসরাত জাহান অনি আসামিদের এ মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।
গত ১৭ আগস্ট উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়েছিল।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ আসামিদের অব্যাহতি আবেদন নাকচ করে চার্জ গঠন করেন। একই সঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। ওই অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেন। পরোয়ানা জারির পর ২৯ ডিসেম্বর আসামিদের গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে আনার কথা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কোনো ঠিকানায় খুঁজে পায়নি। এরপর ৩০ ডিসেম্বর তাদের হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।’
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সাত শীর্ষস্থানীয় নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) অপরাহ্ণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় দেন।
ওবায়দুল কাদের ছাড়া দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। ওবায়দুল কাদেরসহ মামলার সব আসামি পলাতক রয়েছেন।
এর আগে গতকাল সোমবার রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত চেয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। অপরদিকে ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত দুই আইনজীবী হাসান ইমাম ও ইসরাত জাহান অনি আসামিদের এ মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।
গত ১৭ আগস্ট উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়েছিল।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ আসামিদের অব্যাহতি আবেদন নাকচ করে চার্জ গঠন করেন। একই সঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। ওই অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেন। পরোয়ানা জারির পর ২৯ ডিসেম্বর আসামিদের গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে আনার কথা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কোনো ঠিকানায় খুঁজে পায়নি। এরপর ৩০ ডিসেম্বর তাদের হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।’

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৪৬
ট্রাস্টের নামে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ ও আত্মসাতের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিভিন্ন ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা ফান্ড (সিএসআর) থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে এই টাকা সংগ্রহ করা হয়।
মামলায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারকেও আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলা করেন। পরে দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর অনুকূলে সংগ্রহ করেন। এতে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ‘দ্য ট্রাস্টস অ্যাক্ট, ১৮৮২’-এর আওতায় শেখ হাসিনা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি এবং শেখ রেহানা ছিলেন সহ-সভাপতি। ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এজহারে দুদক জানায়, সংস্থাটি বাংলাদেশের ৪১টি তফসিলি ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে। এতে দেখা যায়, তৎকালীন বিএবি সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার তার প্রভাব খাটিয়ে বিএবির নির্বাহী কমিটির সভায় আলোচ্যসূচিতে না থাকা সত্ত্বেও ‘বিবিধ’ আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করেন। পরে নির্বাহী কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ট্রাস্টের অনুকূলে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়।
দুদকের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী ‘পলিসি গাইডলাইন অন করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ফর ব্যাংকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস’-এ সিএসআর অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে নির্দেশনা থাকলেও ট্রাস্টে এ ধরনের অনুদান দেওয়ার কোনো বিধান নেই।
এজাহারে আরও বলা হয়, দুদকের সরেজমিন পরিদর্শনে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর ঠিকানায় দাপ্তরিক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ট্রাস্টটি সমাজসেবা অধিদপ্তর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাস্টের প্রতিশ্রুত কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রমাণও অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ব্যক্তিগত লাভের অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলে বিএবির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ফান্ড থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, বিএবির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রভাব খাটিয়ে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখেন। এই ফান্ডের অর্থ ট্রাস্টে অনুদান দেওয়ার বিধান না থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংকগুলোকে অর্থ প্রদানে বাধ্য করার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতি করে রাজউকের আবাসন প্রকল্পে ১০ কাঠা করে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা করেছে দুদক।
ট্রাস্টের নামে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ ও আত্মসাতের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিভিন্ন ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা ফান্ড (সিএসআর) থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে এই টাকা সংগ্রহ করা হয়।
মামলায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারকেও আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলা করেন। পরে দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর অনুকূলে সংগ্রহ করেন। এতে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ‘দ্য ট্রাস্টস অ্যাক্ট, ১৮৮২’-এর আওতায় শেখ হাসিনা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি এবং শেখ রেহানা ছিলেন সহ-সভাপতি। ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এজহারে দুদক জানায়, সংস্থাটি বাংলাদেশের ৪১টি তফসিলি ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে। এতে দেখা যায়, তৎকালীন বিএবি সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার তার প্রভাব খাটিয়ে বিএবির নির্বাহী কমিটির সভায় আলোচ্যসূচিতে না থাকা সত্ত্বেও ‘বিবিধ’ আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করেন। পরে নির্বাহী কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ট্রাস্টের অনুকূলে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়।
দুদকের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী ‘পলিসি গাইডলাইন অন করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ফর ব্যাংকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস’-এ সিএসআর অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে নির্দেশনা থাকলেও ট্রাস্টে এ ধরনের অনুদান দেওয়ার কোনো বিধান নেই।
এজাহারে আরও বলা হয়, দুদকের সরেজমিন পরিদর্শনে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর ঠিকানায় দাপ্তরিক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ট্রাস্টটি সমাজসেবা অধিদপ্তর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাস্টের প্রতিশ্রুত কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রমাণও অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ব্যক্তিগত লাভের অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলে বিএবির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ফান্ড থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, বিএবির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রভাব খাটিয়ে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখেন। এই ফান্ডের অর্থ ট্রাস্টে অনুদান দেওয়ার বিধান না থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংকগুলোকে অর্থ প্রদানে বাধ্য করার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতি করে রাজউকের আবাসন প্রকল্পে ১০ কাঠা করে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা করেছে দুদক।

২৭ আগস্ট, ২০২৬ ০২:০৯
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পুড়ে যাওয়া দলীয় কার্যালয়ে ঝুলছিল শোক দিবসের একটি ব্যানার। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় লাগানো হয়েছিল ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পোস্টার। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয়ের সৌজন্যে দেওয়া ওই ব্যানারে লেখা ছিল- 'শোক থেকে জাগরণ, জাগরণ থেকে প্রত্যাবর্তন।' এ লেখার সাথে বিশালাকৃতির ওই ব্যানারে ১৫ আগস্ট নিহত শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের সকল সদস্যদের ছবি যুক্ত ছিল। এর পাশাপাশি উপজেলা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় জায়গায় সাঁটানো হয়েছিল ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় হতাহতদের ছবি সম্বলিত পোস্টার। ব্যানার এবং পোস্টার পরে অপসারণ করা হলেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপজেলা কার্যালয়ে ব্যানার কীভাবে এলো আর পোস্টারগুলোই বা কে কখন লাগালো তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ব্যানার-পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে। পুলিশের দাবি ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে তারা।
জানা যায়, বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়টি পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা। উপজেলার কলেজ গেট এলাকার চৌরাস্তায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের নিজস্ব ওই দলীয় কার্যালয়ের পোড়া ভবনটি এরপর থেকেই পরিত্যক্ত ছিল। বুধবার ভোর থেকে সেই দলীয় কার্যালয়ে ১০ ফুট লম্বা এবং ৭ ফুট প্রস্থের একটি শোক দিবসের ব্যানার ঝুলতে দেখা যায়। দুপুর প্রায় দেড়টা পর্যন্ত ব্যানারটি দলীয় কার্যালয়ের সামনে ঝুলছিল। পরে খবর পেয়ে ছাত্রদল নেতারা সেটিকে অপসারণ করে। এদিকে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদ, স্কুলের তোরণ ও বিভিন্ন স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সাঁটানো হয় গ্রেনেড হামলার পোস্টার।
বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুর রহমান আল-আমিন বলেন, 'মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময়ে আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত অফিসে ওই ব্যানারটি কেউ ঝুলিয়ে দিয়ে গেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কলেজ গেট এলাকার ওই দলীয় অফিসের আশেপাশে তেমন কোনো দোকানপাট নেই। ওখানে কিছু গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়। তাই আমরা সাথেসাথে ঘটনাটি টের পাইনি। বেলা ১টায় দিকে আমি খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গিয়ে ব্যানারটি তাৎক্ষণিক অপসারণ করে।'
রহমতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মহসিন উদ্দিন শামীম বলেন, 'বুধবার ভোরে আলো ফোটার আগে কে বা কারা গোপনে এসে খানপুরা এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের দেয়ালসহ কিছু জায়গায় নিষিদ্ধ সংগঠনের পোস্টার লাগিয়ে যায়। সকালে বিষয়টি নজরে আসার পরে সকল পোস্টার সাথেসাথে অপসারণ করা হয়। এখন চুরি করে রাতের আঁধারে কেউ পোস্টার লাগালে সেখানে বিএনপির আর কী করার আছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটা সংগঠন কীভাবে পোস্টার লাগায় এর ব্যাখ্যা পুলিশ ভালো দিতে পারবে।'
বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, 'ঘটনাটি আমরা জানার পরে যখন ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি তখন সেখানে কিছুই ছিল না। পুলিশ যাওয়ার আগেই ব্যানার পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের যেহেতু কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে সেহেতু তাদের সবধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম করাই আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। এসব ব্যানার-পোস্টার কারা কখন লাগিয়েছে সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।'
এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যানার এবং পোস্টার সাঁটানোর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, 'আওয়ামী লীগের সাথে বাংলাদেশ জন্মের ইতিহাস জড়িত। যে দলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে সেই দলকে নির্বাহী আদেশ দিয়ে নিষিদ্ধ করা যায় না। যারা করেছে তারা অন্যায় করেছে। ইতিহাস একদিন তাদের বিচার ঠিকই করবে। বাঁধভাঙা জোয়ার কখনো বাঁধা দিয়ে আটকে রাখা যায় না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব প্রতিটি বাঙালির নেতা। তাকে মুছে ফেলার শক্তি পৃথিবীর কারো নেই। আমাদের শোক থেকে এবার হবে জাগরণ। আর সেই জাগরণ থেকে ডিসেম্বরের আগেই হবে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন। পৃথিবীর ইতিহাসে এক নজিরবিহীন প্রত্যাবর্তন দেখবে সমগ্র বিশ্ব। সেই বার্তাটাই দেওয়া হয়েছে।'
এদিকে থানার ৫০০ গজের মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে এই ব্যানার টাঙানো এবং উপজেলা সদর খানপুরাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পোস্টার সাঁটানো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় চলছে। বিএনপি এটাকে চোরাগোপ্তা কার্যক্রম হিসেবে দেখলেও কেউ কেউ বলছেন এটা আওয়ামী লীগের পুনর্জাগরণের আভাস। আওয়ামী লীগ ফুরিয়ে যায়নি। এর আগে গত ১৫ আগস্ট খানপুরা এলাকার বিসমিল্লাহ ডেইরি ফার্মের মাঠে শোক দিবসের সংক্ষিপ্ত র্যালি, আলোচনা সভা ও দোয়া-মোনাজাত কর্মসূচি পালন করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। এ ঘটনায় উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরদিন ১৬ আগস্ট এয়ারপোর্ট থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার খালেদ হোসেন স্বপনসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। #
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৩৩
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪০
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৩৩
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:২৪