
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:২১
যশোরের চৌগাছায় সড়ক দুর্ঘটনায় ছেলের মৃত্যুর গুজব শুনে স্ট্রোক করে মারা গেছেন এক বাবা। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার নিমতলা গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে নিমতলা গালিব তেল পাম্পের সামনে আলমসাধু (স্থানীয় স্যালো মেশিন চালিত যানবাহন) চালিয়ে যাওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা একটি বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন চালক ওবায়দুল ইসলাম।
এসময় তাকে উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তিনি সেখানে আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে দুর্ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই এলাকায় রটে যায় যে ওবায়দুল মারা গেছেন। ওবায়দুল চৌগাছা উপজেলার ফুলসারা নিমতলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় আলমসাধু গাড়ির চালক ছিলেন।
এদিকে ছেলের মৃত্যুর এই ভুল সংবাদ শুনে ওবায়দুলের পিতা রবিউল ইসলাম প্রচণ্ড মানসিক আঘাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনদের দাবি, মৃত্যু সংবাদ শোনার পর তিনি বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। পরে জানা যায় ওবায়দুল জীবিত আছেন, কিন্তু ততক্ষণে না ফেরার দেশে চলে গেছেন তার বাবা।
হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা সড়কে বেপরোয়া যান চলাচল বন্ধ এবং দায়ী বাসটিকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
যশোরের চৌগাছায় সড়ক দুর্ঘটনায় ছেলের মৃত্যুর গুজব শুনে স্ট্রোক করে মারা গেছেন এক বাবা। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার নিমতলা গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে নিমতলা গালিব তেল পাম্পের সামনে আলমসাধু (স্থানীয় স্যালো মেশিন চালিত যানবাহন) চালিয়ে যাওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা একটি বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন চালক ওবায়দুল ইসলাম।
এসময় তাকে উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তিনি সেখানে আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে দুর্ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই এলাকায় রটে যায় যে ওবায়দুল মারা গেছেন। ওবায়দুল চৌগাছা উপজেলার ফুলসারা নিমতলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় আলমসাধু গাড়ির চালক ছিলেন।
এদিকে ছেলের মৃত্যুর এই ভুল সংবাদ শুনে ওবায়দুলের পিতা রবিউল ইসলাম প্রচণ্ড মানসিক আঘাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনদের দাবি, মৃত্যু সংবাদ শোনার পর তিনি বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। পরে জানা যায় ওবায়দুল জীবিত আছেন, কিন্তু ততক্ষণে না ফেরার দেশে চলে গেছেন তার বাবা।
হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা সড়কে বেপরোয়া যান চলাচল বন্ধ এবং দায়ী বাসটিকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:১৯
রমজান এলে মুসলিম বিশ্বের বহু দেশে বাজারে স্বস্তির হাওয়া লাগে। সৌদি আরব, তুরস্ক, মালয়েশিয়া কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতে সরকার ও ব্যবসায়ীরা যৌথভাবে নিত্যপণ্যের দাম কমাতে উদ্যোগ নেয়—বিশেষ ছাড়, ভর্তুকি, ভ্রাম্যমাণ বাজার, কঠোর নজরদারি। অথচ আমাদের বাস্তবতা প্রায় উল্টো। চাঁদ দেখা যাওয়ার আগেই চাল, ডাল, তেল, চিনি, খেজুর, ছোলা, মাংস—প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, সরবরাহ ব্যবস্থায় ‘অতিরিক্ত খরচ’ যার বড় অংশই চাঁদাবাজি।
উৎপাদক থেকে পাইকার, পাইকার থেকে খুচরা—প্রতিটি ধাপে যদি জোরপূর্বক অর্থ আদায় হয়, তবে তার বোঝা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাঁধেই পড়ে। অর্থনীতির ভাষায় এটি ‘ট্রানজ্যাকশন কস্ট’; কিন্তু বাস্তবে এটি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আদায় করা অবৈধ টাকা।
দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে বাস, ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, টেম্পো-লেগুনা—সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি টাকার মতো চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায় ৩ হাজার স্পট থেকে এই আদায় চলে। কোথাও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার নামে, কোথাও পার্কিং ফি, কোথাও পৌর টোলের সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ, আবার কোথাও ‘লাইনম্যান’ খরচ বা ‘গেট পাস’—এভাবেই চলছে চাঁদাবাজি।
পরিসংখ্যান বলছে, সিটি বাস প্রায় ৮ হাজার; প্রতিটি থেকে দৈনিক গড়ে ৮০০ টাকা করে আদায় হলে ৬৪ লাখ টাকা। দূরপাল্লার বাস ৬০ হাজারের বেশি; প্রতিটি থেকে ৫০০ টাকা ধরলে প্রায় ৩ কোটি টাকা। ঢাকায় ১৮ হাজার সিএনজি অটোরিকশা থেকে দৈনিক ১৫০ টাকা করে ২৭ লাখ টাকা। ব্যাটারিচালিত রিকশা—ঢাকায় ১০ লাখ, সারা দেশে আরও প্রায় ৫০ লাখ; গড়ে ৮০-১৫০ টাকা করে দৈনিক কয়েক কোটি টাকা। ট্রাক প্রায় ৪ লাখ; প্রতিটি থেকে ১ হাজার টাকা ধরলে ৪০ কোটি টাকা। টেম্পো-লেগুনা মিলিয়ে আরও লক্ষ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে অঙ্কটি শতকোটি ছুঁয়ে যায়।
এই বিপুল পরিমাণ টাকা তারা কার কাছ থেকে তুলে নেয়? যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের ভাড়া বাড়িয়ে—অর্থাৎ সাধারণ মানুষ থেকে।
মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই টাকা আদায় হয় ইচ্ছার বিরুদ্ধে। নির্ধারিত অঙ্ক না দিলে গাড়ি আটকে দেওয়া, ভাঙচুর, এমনকি মারধরের ঘটনাও ঘটে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে ডিজিটাল ভাড়া পরিশোধ ও ক্যামেরাভিত্তিক মামলা পদ্ধতি চালু হলে সড়কে নগদ লেনদেন কমবে, চাঁদাবাজির সুযোগও সংকুচিত হবে। বর্তমানে সমঝোতার নামে যে অর্থ আদায় হচ্ছে, তা তদন্ত করে প্রকৃত সত্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত।
অন্যদিকে শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রহিম বক্স দুদু দাবি করেন, সরাসরি চাঁদা তোলা হয় না; তবে নানা নামে আদায় বন্ধ হয়নি। মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সাইফুল আলম বলেন, এটি ব্যবস্থাপনা খরচ, স্বেচ্ছায় দেওয়া ফি। প্রশ্ন হচ্ছে—স্বেচ্ছার সংজ্ঞা কী, যখন চাঁদা না দিলে রাস্তায় গাড়িই নামানো যায় না?
জেলা থেকে জেলায় একই চিত্র
চট্টগ্রামে গত ১৬ বছরে পরিবহণ খাতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠে এসেছে একটি মামলার এজাহারে। রাজশাহীতে বাসপ্রতি ৬২০ টাকা শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের নামে আদায় হলেও তার বড় অংশ তছরুপের অভিযোগ রয়েছে। খুলনায় টার্মিনালভিত্তিক প্রতিটি বাসকে ৩৫০-৫২০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। সিলেটে রসিদের রং বদলালেও চাঁদা বাণিজ্য থামেনি। বরিশালে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, কিন্তু টার্মিনাল নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন আসেনি। রংপুরে বছরে প্রায় ৭ কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে চাঁদা আদায় হয়।
এই চিত্র প্রমাণ করে—এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেওয়া এক অর্থনৈতিক ব্যাধি।
চাঁদাবাজির অর্থনৈতিক অভিঘাত
১. পরিবহণ ভাড়া বৃদ্ধি : ট্রাকচালক যদি প্রতিদিন ১ হাজার টাকা অতিরিক্ত দেয়, তা পণ্যের ভাড়ায় যোগ হবে।
২. সরবরাহ শৃঙ্খলে মূল্যস্ফীতি : উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ‘অদৃশ্য কর’ যুক্ত হয়।
৩. মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস : আয় স্থির, কিন্তু ব্যয় বাড়ে।
৪. বাজারে সিন্ডিকেট শক্তিশালী হওয়া : চাঁদার অর্থ দিয়ে প্রভাবশালী চক্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার করে।
৫. প্রতিযোগিতা কমে যাওয়া : ছোট মালিক বা নতুন উদ্যোক্তা বাজারে টিকতে পারে না।
রমজানে চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বাড়ে। কিন্তু চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগে যদি পরিবহণ ব্যয়, গুদাম ব্যয়, টার্মিনাল ফি সব জায়গায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় হয়, তবে দাম কমার বদলে বাড়বেই। মুসলিম বিশ্বের বহু দেশে সরকার ভর্তুকি দেয়; আমাদের এখানে বাজারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, মালিক-শ্রমিক সংগঠনের একাংশ চাঁদার অর্থে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। সরকার বদলালেও আপসের রাজনীতি বদলায় না। ফলে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। চাঁদাবাজি একটি ফৌজদারি অপরাধ এ কথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও স্বীকার করেছেন।
সমাধানের রূপরেখা
১. স্বাধীন তদন্ত কমিশন : সড়ক, স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ কমিটি; প্রতিবেদন প্রকাশ বাধ্যতামূলক।
২. ডিজিটাল পেমেন্ট ও ই-টিকিটিং : নগদ লেনদেন কমালে অনিয়ম কমবে।
৩. টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা : আয়-ব্যয়ের অডিট প্রতিবছর প্রকাশ।
৪. হটলাইন ও হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা : চালক-শ্রমিক যেন ভয় ছাড়া অভিযোগ করতে পারেন।
৫. রমজানকেন্দ্রিক বিশেষ নজরদারি : চাহিদা বৃদ্ধির সময়ে কঠোর বাজার তদারকি।
৬. রাজনৈতিক সদিচ্ছা : দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।
চাঁদাবাজি এক ধরনের অদৃশ্য কর, যা জনগণের ঘামঝরা আয়ের ওপর আরোপিত হয়। রমজানের সংযম ও ন্যায়ের শিক্ষার সঙ্গে এই সংস্কৃতি সাংঘর্ষিক।
যদি সত্যিই বাজারে স্বস্তি আনতে হয়, তবে কেবল সিন্ডিকেট ভাঙার কথা বললেই হবে না—পরিবহণ খাতের প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় সরকার বদলাবে, মন্ত্রী বদলাবেন, রসিদের রং বদলাবে—কিন্তু বাজারে সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস কোনদিনই বদলাবে না।
বরিশাল টাইমস
রমজান এলে মুসলিম বিশ্বের বহু দেশে বাজারে স্বস্তির হাওয়া লাগে। সৌদি আরব, তুরস্ক, মালয়েশিয়া কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতে সরকার ও ব্যবসায়ীরা যৌথভাবে নিত্যপণ্যের দাম কমাতে উদ্যোগ নেয়—বিশেষ ছাড়, ভর্তুকি, ভ্রাম্যমাণ বাজার, কঠোর নজরদারি। অথচ আমাদের বাস্তবতা প্রায় উল্টো। চাঁদ দেখা যাওয়ার আগেই চাল, ডাল, তেল, চিনি, খেজুর, ছোলা, মাংস—প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, সরবরাহ ব্যবস্থায় ‘অতিরিক্ত খরচ’ যার বড় অংশই চাঁদাবাজি।
উৎপাদক থেকে পাইকার, পাইকার থেকে খুচরা—প্রতিটি ধাপে যদি জোরপূর্বক অর্থ আদায় হয়, তবে তার বোঝা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাঁধেই পড়ে। অর্থনীতির ভাষায় এটি ‘ট্রানজ্যাকশন কস্ট’; কিন্তু বাস্তবে এটি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আদায় করা অবৈধ টাকা।
দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে বাস, ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, টেম্পো-লেগুনা—সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি টাকার মতো চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায় ৩ হাজার স্পট থেকে এই আদায় চলে। কোথাও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার নামে, কোথাও পার্কিং ফি, কোথাও পৌর টোলের সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ, আবার কোথাও ‘লাইনম্যান’ খরচ বা ‘গেট পাস’—এভাবেই চলছে চাঁদাবাজি।
পরিসংখ্যান বলছে, সিটি বাস প্রায় ৮ হাজার; প্রতিটি থেকে দৈনিক গড়ে ৮০০ টাকা করে আদায় হলে ৬৪ লাখ টাকা। দূরপাল্লার বাস ৬০ হাজারের বেশি; প্রতিটি থেকে ৫০০ টাকা ধরলে প্রায় ৩ কোটি টাকা। ঢাকায় ১৮ হাজার সিএনজি অটোরিকশা থেকে দৈনিক ১৫০ টাকা করে ২৭ লাখ টাকা। ব্যাটারিচালিত রিকশা—ঢাকায় ১০ লাখ, সারা দেশে আরও প্রায় ৫০ লাখ; গড়ে ৮০-১৫০ টাকা করে দৈনিক কয়েক কোটি টাকা। ট্রাক প্রায় ৪ লাখ; প্রতিটি থেকে ১ হাজার টাকা ধরলে ৪০ কোটি টাকা। টেম্পো-লেগুনা মিলিয়ে আরও লক্ষ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে অঙ্কটি শতকোটি ছুঁয়ে যায়।
এই বিপুল পরিমাণ টাকা তারা কার কাছ থেকে তুলে নেয়? যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের ভাড়া বাড়িয়ে—অর্থাৎ সাধারণ মানুষ থেকে।
মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই টাকা আদায় হয় ইচ্ছার বিরুদ্ধে। নির্ধারিত অঙ্ক না দিলে গাড়ি আটকে দেওয়া, ভাঙচুর, এমনকি মারধরের ঘটনাও ঘটে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে ডিজিটাল ভাড়া পরিশোধ ও ক্যামেরাভিত্তিক মামলা পদ্ধতি চালু হলে সড়কে নগদ লেনদেন কমবে, চাঁদাবাজির সুযোগও সংকুচিত হবে। বর্তমানে সমঝোতার নামে যে অর্থ আদায় হচ্ছে, তা তদন্ত করে প্রকৃত সত্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত।
অন্যদিকে শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রহিম বক্স দুদু দাবি করেন, সরাসরি চাঁদা তোলা হয় না; তবে নানা নামে আদায় বন্ধ হয়নি। মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সাইফুল আলম বলেন, এটি ব্যবস্থাপনা খরচ, স্বেচ্ছায় দেওয়া ফি। প্রশ্ন হচ্ছে—স্বেচ্ছার সংজ্ঞা কী, যখন চাঁদা না দিলে রাস্তায় গাড়িই নামানো যায় না?
জেলা থেকে জেলায় একই চিত্র
চট্টগ্রামে গত ১৬ বছরে পরিবহণ খাতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠে এসেছে একটি মামলার এজাহারে। রাজশাহীতে বাসপ্রতি ৬২০ টাকা শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের নামে আদায় হলেও তার বড় অংশ তছরুপের অভিযোগ রয়েছে। খুলনায় টার্মিনালভিত্তিক প্রতিটি বাসকে ৩৫০-৫২০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। সিলেটে রসিদের রং বদলালেও চাঁদা বাণিজ্য থামেনি। বরিশালে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, কিন্তু টার্মিনাল নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন আসেনি। রংপুরে বছরে প্রায় ৭ কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে চাঁদা আদায় হয়।
এই চিত্র প্রমাণ করে—এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেওয়া এক অর্থনৈতিক ব্যাধি।
চাঁদাবাজির অর্থনৈতিক অভিঘাত
১. পরিবহণ ভাড়া বৃদ্ধি : ট্রাকচালক যদি প্রতিদিন ১ হাজার টাকা অতিরিক্ত দেয়, তা পণ্যের ভাড়ায় যোগ হবে।
২. সরবরাহ শৃঙ্খলে মূল্যস্ফীতি : উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ‘অদৃশ্য কর’ যুক্ত হয়।
৩. মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস : আয় স্থির, কিন্তু ব্যয় বাড়ে।
৪. বাজারে সিন্ডিকেট শক্তিশালী হওয়া : চাঁদার অর্থ দিয়ে প্রভাবশালী চক্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার করে।
৫. প্রতিযোগিতা কমে যাওয়া : ছোট মালিক বা নতুন উদ্যোক্তা বাজারে টিকতে পারে না।
রমজানে চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বাড়ে। কিন্তু চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগে যদি পরিবহণ ব্যয়, গুদাম ব্যয়, টার্মিনাল ফি সব জায়গায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় হয়, তবে দাম কমার বদলে বাড়বেই। মুসলিম বিশ্বের বহু দেশে সরকার ভর্তুকি দেয়; আমাদের এখানে বাজারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, মালিক-শ্রমিক সংগঠনের একাংশ চাঁদার অর্থে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। সরকার বদলালেও আপসের রাজনীতি বদলায় না। ফলে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। চাঁদাবাজি একটি ফৌজদারি অপরাধ এ কথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও স্বীকার করেছেন।
সমাধানের রূপরেখা
১. স্বাধীন তদন্ত কমিশন : সড়ক, স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ কমিটি; প্রতিবেদন প্রকাশ বাধ্যতামূলক।
২. ডিজিটাল পেমেন্ট ও ই-টিকিটিং : নগদ লেনদেন কমালে অনিয়ম কমবে।
৩. টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা : আয়-ব্যয়ের অডিট প্রতিবছর প্রকাশ।
৪. হটলাইন ও হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা : চালক-শ্রমিক যেন ভয় ছাড়া অভিযোগ করতে পারেন।
৫. রমজানকেন্দ্রিক বিশেষ নজরদারি : চাহিদা বৃদ্ধির সময়ে কঠোর বাজার তদারকি।
৬. রাজনৈতিক সদিচ্ছা : দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।
চাঁদাবাজি এক ধরনের অদৃশ্য কর, যা জনগণের ঘামঝরা আয়ের ওপর আরোপিত হয়। রমজানের সংযম ও ন্যায়ের শিক্ষার সঙ্গে এই সংস্কৃতি সাংঘর্ষিক।
যদি সত্যিই বাজারে স্বস্তি আনতে হয়, তবে কেবল সিন্ডিকেট ভাঙার কথা বললেই হবে না—পরিবহণ খাতের প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় সরকার বদলাবে, মন্ত্রী বদলাবেন, রসিদের রং বদলাবে—কিন্তু বাজারে সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস কোনদিনই বদলাবে না।
বরিশাল টাইমস

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৪৩
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের মিছিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গাইবান্ধা পৌর শহরের ৩৬ জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে ১ নম্বর রেলগেট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। এসময় শহরের ডিবি রোডের প্রধান সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন পথচারীরা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গাইবান্ধা জেলা শাখার আহ্বায়ক মোস্তাকিম জীম বলেন, ৫ অগাস্টের পর ২১ ফেব্রুয়ারি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ মিছিল করে।
দিনের বেলায় আ’লীগের অফিসে অবস্থান নিয়ে শহরে মিছিল করে শহীদ মিনারে যায় তারা। পুলিশের উপস্থিতিতে এমন কর্মকাণ্ড করার সাহস পায় কীভাবে? তিনি এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।
তিনি আরও বলেন, রাঘব বোয়ালদের আটক না করে চুনোপুঁটিদের গ্রেফতার করছে পুলিশ। তাদের আবার জামিনে ছেড়েও দেওয়া হচ্ছে। এর দায় প্রশাসনকে নিতে হবে। বিক্ষোভ মিছিলে চব্বিশের ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের মিছিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গাইবান্ধা পৌর শহরের ৩৬ জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে ১ নম্বর রেলগেট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। এসময় শহরের ডিবি রোডের প্রধান সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন পথচারীরা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গাইবান্ধা জেলা শাখার আহ্বায়ক মোস্তাকিম জীম বলেন, ৫ অগাস্টের পর ২১ ফেব্রুয়ারি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ মিছিল করে।
দিনের বেলায় আ’লীগের অফিসে অবস্থান নিয়ে শহরে মিছিল করে শহীদ মিনারে যায় তারা। পুলিশের উপস্থিতিতে এমন কর্মকাণ্ড করার সাহস পায় কীভাবে? তিনি এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।
তিনি আরও বলেন, রাঘব বোয়ালদের আটক না করে চুনোপুঁটিদের গ্রেফতার করছে পুলিশ। তাদের আবার জামিনে ছেড়েও দেওয়া হচ্ছে। এর দায় প্রশাসনকে নিতে হবে। বিক্ষোভ মিছিলে চব্বিশের ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:১৭
মৌলভীবাজারের রাজনগরে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো বাংলাদেশি যুবক ও চিনা তরুণীর বিয়ে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের বিষ্ণুপদ ধাম মন্দিরে হিন্দু ধর্মীয় রীতি মেনে সুকান্ত সেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয় এ যুগল।
এর আগে দীর্ঘদিনের প্রেমকে পরিণয়ে রূপ দিতে গত বৃহস্পতিবার চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন ক্রিস হুই। হেলিকপ্টারে চড়ে চিনা বধূর আগমন ও স্থানীয়দের উপচে পড়া ভিড়কে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে এই বিয়ে।
ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে কনে চীনা কন্যা ক্রিস হুইকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন সুকান্ত সেন। এরপর থেকে রীতিমতো স্থানীয় এলাকাবাসী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের নিয়ে হৈ চৈ শুরু হয়। চিনা কনে ক্রিসকে একনজর দেখার জন্য ভিড় করেন আত্মীয়স্বজনসহ উৎসুক জনতা।
জানা যায়, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর চীনা নাগরিক ক্রিস হুইকে বিয়ের উদ্দেশ্যে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন বর সুকান্ত। তারা ঢাকা থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় হেলিকপ্টারে করে বরের নিজ বাড়ি রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামে আসেন। হেলিকপ্টার থেকে নামার পরপরই চিনা কনেকে নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কমতি একটুও কম ছিল না। বিয়ে উপলক্ষে পুরো বাড়িকে সাজানো হয়েছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি তাদের বিয়ের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে বর ও চিনা কনেসহ সবাই নাচে গানে হলুদ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন।
২২ ফেব্রুয়ারি বিয়ের দিন কনে ক্রিস হুইকে লাল বেনারসি শাড়িতে সেজে কনের আসনে আনা হয়। বিষ্ণুপদ ধাম মন্দিরে শতশত মানুষের উপস্থিতিতে ধর্মীয় শাস্ত্রমতে সাত পাকে বাঁধা পড়েন বর ও কনে। পরে চিনা কনের সিঁথিতে সিঁদুর পড়িয়ে দেন বর। বিয়ের অনুষ্ঠানে চীন থেকে আসা ক্রীসের সঙ্গে তারা মা, বাবা ও চাচা উপস্থিত ছিলেন।
বর চীনপ্রবাসী টিকরপাড়ার সেন বাড়ির প্রয়াত স্বপন কুমার সেন ও শিল্পী রানি সেনের ছেলে সুকান্ত সেন এবং কনে চীনের সাংহাইয়ের বাসিন্দা ক্রিস হুই।
স্থানীয়রা বলেন, তাদের বিয়ে উপলক্ষে সবাই আনন্দ করেছে। চীনা কনের সঙ্গে আমাদের এলকার ছেলের বিয়ে, এজন্য সবাই দেখতে গিয়েছে। প্রথম হেলিকপ্টারে যখন কনেকে নিয়ে বর আসে গ্রামে তখন থেকেই আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত দুদিন ধরে শুধু চীনা কন্যা আর বরের ছবি দিয়ে অনেকেই শুভকামনা জানিয়েছেন। পুরো এলাকায় অন্যরকম একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একনজর এই দম্পতিকে দেখার জন্য স্থানীয়দের মাঝে আগ্রহের কমতি নেই।
এর আগে, ২০১৮ সালে সুকান্ত চীনে পাড়ি জমান। সেখানে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর পরিচয় হয় ক্রিসের সঙ্গে। পরে তারা একসঙ্গে ব্যবসা শুরু করেন। ২০২৫ সালে সেখানে তাঁরা বিয়ের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন।
কনে ক্রিস হুই বলেন, আমি বাংলাদেশিকে বিয়ে করে নিজেকে ধন্য মনে করছি। বিয়ের জন্য বাংলাদেশে এসেছি আমার জামাই সুকান্ত সেনের সাথে। সত্যি অসাধারণ মুহূর্ত এটি আমার জন্য। প্রথমে আমাদের ব্যাবসায়িক সম্পর্ক ছিল, এরপর ভালোবাসার সম্পর্ক ও সবশেষে বিয়েতে পরিপূর্ণ হয়েছে।
বর সুকান্ত সেন বলেন, আমাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। সবাই অনেক আনন্দ করছেন। ২০১৮ সালে আমি চায়নাতে যাই সেখানে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করি। ৩-৪ বছর পর ক্রিস এর সঙ্গে পরিচিত হই। এরপর একজনের অন্যজনের প্রতি ভালোলাগা তৈরি হয়। ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সেখানে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করি আমরা। এরপর পরিকল্পনা করি বাংলাদেশে এসে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবো। অবশেষে আমাদের বিয়ে হয়েছে।
মৌলভীবাজারের রাজনগরে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো বাংলাদেশি যুবক ও চিনা তরুণীর বিয়ে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের বিষ্ণুপদ ধাম মন্দিরে হিন্দু ধর্মীয় রীতি মেনে সুকান্ত সেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয় এ যুগল।
এর আগে দীর্ঘদিনের প্রেমকে পরিণয়ে রূপ দিতে গত বৃহস্পতিবার চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন ক্রিস হুই। হেলিকপ্টারে চড়ে চিনা বধূর আগমন ও স্থানীয়দের উপচে পড়া ভিড়কে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে এই বিয়ে।
ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে কনে চীনা কন্যা ক্রিস হুইকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন সুকান্ত সেন। এরপর থেকে রীতিমতো স্থানীয় এলাকাবাসী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের নিয়ে হৈ চৈ শুরু হয়। চিনা কনে ক্রিসকে একনজর দেখার জন্য ভিড় করেন আত্মীয়স্বজনসহ উৎসুক জনতা।
জানা যায়, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর চীনা নাগরিক ক্রিস হুইকে বিয়ের উদ্দেশ্যে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন বর সুকান্ত। তারা ঢাকা থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় হেলিকপ্টারে করে বরের নিজ বাড়ি রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামে আসেন। হেলিকপ্টার থেকে নামার পরপরই চিনা কনেকে নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কমতি একটুও কম ছিল না। বিয়ে উপলক্ষে পুরো বাড়িকে সাজানো হয়েছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি তাদের বিয়ের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে বর ও চিনা কনেসহ সবাই নাচে গানে হলুদ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন।
২২ ফেব্রুয়ারি বিয়ের দিন কনে ক্রিস হুইকে লাল বেনারসি শাড়িতে সেজে কনের আসনে আনা হয়। বিষ্ণুপদ ধাম মন্দিরে শতশত মানুষের উপস্থিতিতে ধর্মীয় শাস্ত্রমতে সাত পাকে বাঁধা পড়েন বর ও কনে। পরে চিনা কনের সিঁথিতে সিঁদুর পড়িয়ে দেন বর। বিয়ের অনুষ্ঠানে চীন থেকে আসা ক্রীসের সঙ্গে তারা মা, বাবা ও চাচা উপস্থিত ছিলেন।
বর চীনপ্রবাসী টিকরপাড়ার সেন বাড়ির প্রয়াত স্বপন কুমার সেন ও শিল্পী রানি সেনের ছেলে সুকান্ত সেন এবং কনে চীনের সাংহাইয়ের বাসিন্দা ক্রিস হুই।
স্থানীয়রা বলেন, তাদের বিয়ে উপলক্ষে সবাই আনন্দ করেছে। চীনা কনের সঙ্গে আমাদের এলকার ছেলের বিয়ে, এজন্য সবাই দেখতে গিয়েছে। প্রথম হেলিকপ্টারে যখন কনেকে নিয়ে বর আসে গ্রামে তখন থেকেই আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত দুদিন ধরে শুধু চীনা কন্যা আর বরের ছবি দিয়ে অনেকেই শুভকামনা জানিয়েছেন। পুরো এলাকায় অন্যরকম একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একনজর এই দম্পতিকে দেখার জন্য স্থানীয়দের মাঝে আগ্রহের কমতি নেই।
এর আগে, ২০১৮ সালে সুকান্ত চীনে পাড়ি জমান। সেখানে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর পরিচয় হয় ক্রিসের সঙ্গে। পরে তারা একসঙ্গে ব্যবসা শুরু করেন। ২০২৫ সালে সেখানে তাঁরা বিয়ের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন।
কনে ক্রিস হুই বলেন, আমি বাংলাদেশিকে বিয়ে করে নিজেকে ধন্য মনে করছি। বিয়ের জন্য বাংলাদেশে এসেছি আমার জামাই সুকান্ত সেনের সাথে। সত্যি অসাধারণ মুহূর্ত এটি আমার জন্য। প্রথমে আমাদের ব্যাবসায়িক সম্পর্ক ছিল, এরপর ভালোবাসার সম্পর্ক ও সবশেষে বিয়েতে পরিপূর্ণ হয়েছে।
বর সুকান্ত সেন বলেন, আমাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। সবাই অনেক আনন্দ করছেন। ২০১৮ সালে আমি চায়নাতে যাই সেখানে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করি। ৩-৪ বছর পর ক্রিস এর সঙ্গে পরিচিত হই। এরপর একজনের অন্যজনের প্রতি ভালোলাগা তৈরি হয়। ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সেখানে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করি আমরা। এরপর পরিকল্পনা করি বাংলাদেশে এসে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবো। অবশেষে আমাদের বিয়ে হয়েছে।
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২২:৫১
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:৩৯
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:৩৪
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:৩১