পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ ও মাছের ঘের
মৌসুমি নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা ৭ দিনের ভারী বৃষ্টিতে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতায় প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল, তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা, সবজি ক্ষেত ও মাছের ঘের। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, কৃষক ও মৎস্যচাষিরা।
জেলা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় পটুয়াখালী জেলায় ৫৯ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে বাউফলের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার নিচু এলাকা ছাড়াও কালিশুরী, বগা, কালাইয়া, ধুলিয়া, দাসপাড়া, চন্দ্রদ্বীপ ও কনকদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পানি জমে গেছে। অনেক গ্রামীণ কাঁচা সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। টানা বৃষ্টির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা নেমে এসেছে।
অতিরিক্ত বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন মাছের ঘের ও পুকুরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অনেক চাষির মাছ বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পুকুর ও ঘেরের চারপাশে জাল দিয়ে সুরক্ষার ব্যবস্থা করছেন।
স্থানীয় মৎস্য চাষি ও মৃত্তিকা অ্যাগ্রোর মালিক এম এ হান্নান বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তার একাধিক পুকুরের পানি উপচে পড়ার মতো অবস্থায় রয়েছে। তাই চারপাশে নেট জাল লাগানো হয়েছে। বৃষ্টি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে মাছ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এ এম পারভেজ বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো মাছচাষি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েননি। তবে সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে পুকুর ও ঘেরের চারপাশে উঁচু করে নেট বসানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভারী বর্ষণে উপজেলার নিচু এলাকার আমন ধানের বীজতলা ও শরৎকালীন সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত পানি না নামলে বীজতলা পচে নষ্ট হতে পারে, যা আগামী আমন মৌসুমে উৎপাদনে প্রভাব ফেলবে।
শৌলা চর এলাকার কৃষক নুরহেসেন বলেন, তিনি ১২ শতক জমিতে আমনের বীজতলা তৈরি করেছিলেন। টানা বৃষ্টিতে পুরো বীজতলাই পানির নিচে চলে গেছে। আরও কয়েকদিন এ অবস্থা থাকলে বীজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিলন জানান, উপজেলায় ২ হাজার ৬০৮ হেক্টর জমিতে আউশ এবং ৫৮০ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা রয়েছে। এর বেশিরভাগই পানিতে ডুবে থাকলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কৃষকদের দ্রুত জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখি জানান, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবেব কারণে আরও কিছুদিন ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।’

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:২৫
পটুয়াখালীর বাউফলে গাছের ডাল মাথায় পড়ে মোসলেম উদ্দিন হাওলাদার (৬৫) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে বাউফল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মোসলেম উদ্দিন হাওলাদার ওই এলাকার মৃত আনালি হাওলাদারের ছেলে। তিনি পৌর বিএনপির সদস্য ছিলেন।
নিহতের ছেলে ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব মিজানুর রহমান জানান, কালাইয়ার এক ব্যক্তির কাছে তাঁদের বাড়ির কয়েকটি গাছ বিক্রি করা হয়েছিল। বুধবার দুপুরে এক কাঠুরিয়া গাছে উঠে একটি ডাল কাটেন। পরে আরেক কাঠুরিয়া রশি দিয়ে ডালটি বেঁধে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় গাছের অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর বাবা মোসলেম উদ্দিন হাওলাদারের মাথার ওপর ডালটি পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে তাঁকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইরফান উদ্দিন তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাউফল পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, মোসলেম উদ্দিন হাওলাদার পৌর বিএনপির সদস্য ছিলেন।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। পরিবারের কোনো আপত্তি না থাকায় এ ঘটনায় আইনি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
পটুয়াখালীর বাউফলে গাছের ডাল মাথায় পড়ে মোসলেম উদ্দিন হাওলাদার (৬৫) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে বাউফল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মোসলেম উদ্দিন হাওলাদার ওই এলাকার মৃত আনালি হাওলাদারের ছেলে। তিনি পৌর বিএনপির সদস্য ছিলেন।
নিহতের ছেলে ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব মিজানুর রহমান জানান, কালাইয়ার এক ব্যক্তির কাছে তাঁদের বাড়ির কয়েকটি গাছ বিক্রি করা হয়েছিল। বুধবার দুপুরে এক কাঠুরিয়া গাছে উঠে একটি ডাল কাটেন। পরে আরেক কাঠুরিয়া রশি দিয়ে ডালটি বেঁধে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় গাছের অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর বাবা মোসলেম উদ্দিন হাওলাদারের মাথার ওপর ডালটি পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে তাঁকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইরফান উদ্দিন তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাউফল পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, মোসলেম উদ্দিন হাওলাদার পৌর বিএনপির সদস্য ছিলেন।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। পরিবারের কোনো আপত্তি না থাকায় এ ঘটনায় আইনি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:১১
পটুয়াখালীর বাউফলে বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি, আসবাবপত্রসহ পুড়ে গেছে নিজের ও বোনের বিয়ের জন্য ১০ থেকে ১২ বছরে জমানো প্রায় সাত লাখ টাকা। এতে সর্বস্ব হারিয়ে পড়েছেন মোশাররফ হোসেনের (৩০) পরিবার।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলালিংক টাওয়ারসংলগ্ন এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ মোশাররফের বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও সফল হননি। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই ঘরের মালামাল, গবাদিপশু ও নগদ টাকা পুড়ে যায়।
মোশাররফ হোসেন জানান, কৃষিকাজের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে গরু-ছাগল পালন করে আসছেন তিনি। এর আগে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি হয়ে যাওয়ায় সেটি বিক্রি করে দেন। এরপর গবাদিপশু পালন শুরু করেন।
মোশাররফ বলেন, গত ১০ থেকে ১২ বছরে পাঁচটি গরু ও ৪০টির বেশি ছাগল বিক্রি করে প্রায় সাত লাখ টাকা জমিয়েছিলেন। নিজের ও বোনের বিয়ের খরচের জন্য টাকাগুলো ঘরে রেখেছিলেন। কিন্তু আগুনে তাঁর সব সঞ্চয় পুড়ে গেছে। প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের দুটি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি ও ঘরের আসবাবপত্রও আগুনে নষ্ট হয়েছে। এখন কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
বাউফল ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার ছাব্বির আহমেদ বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ১৮ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। পরে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের পর আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।
পটুয়াখালীর বাউফলে বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি, আসবাবপত্রসহ পুড়ে গেছে নিজের ও বোনের বিয়ের জন্য ১০ থেকে ১২ বছরে জমানো প্রায় সাত লাখ টাকা। এতে সর্বস্ব হারিয়ে পড়েছেন মোশাররফ হোসেনের (৩০) পরিবার।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলালিংক টাওয়ারসংলগ্ন এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ মোশাররফের বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও সফল হননি। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই ঘরের মালামাল, গবাদিপশু ও নগদ টাকা পুড়ে যায়।
মোশাররফ হোসেন জানান, কৃষিকাজের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে গরু-ছাগল পালন করে আসছেন তিনি। এর আগে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি হয়ে যাওয়ায় সেটি বিক্রি করে দেন। এরপর গবাদিপশু পালন শুরু করেন।
মোশাররফ বলেন, গত ১০ থেকে ১২ বছরে পাঁচটি গরু ও ৪০টির বেশি ছাগল বিক্রি করে প্রায় সাত লাখ টাকা জমিয়েছিলেন। নিজের ও বোনের বিয়ের খরচের জন্য টাকাগুলো ঘরে রেখেছিলেন। কিন্তু আগুনে তাঁর সব সঞ্চয় পুড়ে গেছে। প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের দুটি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি ও ঘরের আসবাবপত্রও আগুনে নষ্ট হয়েছে। এখন কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
বাউফল ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার ছাব্বির আহমেদ বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ১৮ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। পরে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের পর আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৫৬
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর ১০ মাস বয়সী শিশু রাইয়ানের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ঘুটাবাছা গ্রামে আল আমিনের বাড়ির পাশের একটি খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। রাইয়ান ওই গ্রামের রাসেল খানের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে বাবার সঙ্গে ঘরে ঘুমিয়ে ছিল রাইয়ান। এ সময় শিশুটির মা রুমানা বেগম ঘরের বাইরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে রাসেল ঘুম থেকে উঠে ঘরে তাঁর স্ত্রীর বোনের স্বামী আল আমিনকে দেখতে পান। এরপর তিনি আবার ঘুমিয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে আর খুঁজে পাননি।
এ ঘটনায় পারিবারিক বিরোধের জেরে আল আমিন শিশুটিকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেছে রাইয়ানের পরিবার। বৃহস্পতিবার রাতেই আল আমিনসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করে কলাপাড়া থানায় মামলা করেন রুমানা বেগম। এর আগে ওই দিন দুপুরে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে খাল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর ১০ মাস বয়সী শিশু রাইয়ানের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ঘুটাবাছা গ্রামে আল আমিনের বাড়ির পাশের একটি খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। রাইয়ান ওই গ্রামের রাসেল খানের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে বাবার সঙ্গে ঘরে ঘুমিয়ে ছিল রাইয়ান। এ সময় শিশুটির মা রুমানা বেগম ঘরের বাইরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে রাসেল ঘুম থেকে উঠে ঘরে তাঁর স্ত্রীর বোনের স্বামী আল আমিনকে দেখতে পান। এরপর তিনি আবার ঘুমিয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে আর খুঁজে পাননি।
এ ঘটনায় পারিবারিক বিরোধের জেরে আল আমিন শিশুটিকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেছে রাইয়ানের পরিবার। বৃহস্পতিবার রাতেই আল আমিনসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করে কলাপাড়া থানায় মামলা করেন রুমানা বেগম। এর আগে ওই দিন দুপুরে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে খাল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

২১ জুলাই, ২০২৬ ০০:৩২
পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ ও মাছের ঘের
মৌসুমি নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা ৭ দিনের ভারী বৃষ্টিতে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতায় প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল, তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা, সবজি ক্ষেত ও মাছের ঘের। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, কৃষক ও মৎস্যচাষিরা।
জেলা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় পটুয়াখালী জেলায় ৫৯ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে বাউফলের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার নিচু এলাকা ছাড়াও কালিশুরী, বগা, কালাইয়া, ধুলিয়া, দাসপাড়া, চন্দ্রদ্বীপ ও কনকদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পানি জমে গেছে। অনেক গ্রামীণ কাঁচা সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। টানা বৃষ্টির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা নেমে এসেছে।
অতিরিক্ত বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন মাছের ঘের ও পুকুরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অনেক চাষির মাছ বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পুকুর ও ঘেরের চারপাশে জাল দিয়ে সুরক্ষার ব্যবস্থা করছেন।
স্থানীয় মৎস্য চাষি ও মৃত্তিকা অ্যাগ্রোর মালিক এম এ হান্নান বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তার একাধিক পুকুরের পানি উপচে পড়ার মতো অবস্থায় রয়েছে। তাই চারপাশে নেট জাল লাগানো হয়েছে। বৃষ্টি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে মাছ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এ এম পারভেজ বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো মাছচাষি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েননি। তবে সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে পুকুর ও ঘেরের চারপাশে উঁচু করে নেট বসানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভারী বর্ষণে উপজেলার নিচু এলাকার আমন ধানের বীজতলা ও শরৎকালীন সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত পানি না নামলে বীজতলা পচে নষ্ট হতে পারে, যা আগামী আমন মৌসুমে উৎপাদনে প্রভাব ফেলবে।
শৌলা চর এলাকার কৃষক নুরহেসেন বলেন, তিনি ১২ শতক জমিতে আমনের বীজতলা তৈরি করেছিলেন। টানা বৃষ্টিতে পুরো বীজতলাই পানির নিচে চলে গেছে। আরও কয়েকদিন এ অবস্থা থাকলে বীজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিলন জানান, উপজেলায় ২ হাজার ৬০৮ হেক্টর জমিতে আউশ এবং ৫৮০ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা রয়েছে। এর বেশিরভাগই পানিতে ডুবে থাকলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কৃষকদের দ্রুত জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখি জানান, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবেব কারণে আরও কিছুদিন ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।’
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:২০
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৬
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:১১
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৫৮