নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: পুরো কলেজ মিলে মাত্র একজন পরীক্ষার্থী। সেই পরীক্ষার্থী চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য। ঘটনাটি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কান্দিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের। ওই কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় মাত্র একজন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দিনাজপুর বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে সেই একমাত্র শিক্ষার্থীটাও অকৃতকার্য। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে। অনেকেই বলছেন ওই প্রতিষ্ঠানের এমন করুণ অবস্থার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকরা দায়ী।
জানা যায়, কান্দিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজটি ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে স্কুল সেকশন এমপিওভুক্ত হলেও কলেজ সেকশন এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। ২০১১ সালে কলেজ শাখা চালু করা হয়। কলেজটিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ মিলে ১২ জন শিক্ষক থাকলেও এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় শুধু মানবিক বিভাগ থেকে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। বাকি দুই বিভাগে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি ছিল না। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, সেই একমাত্র পরীক্ষার্থীও অকৃতকার্য।
এ বিষয়ে কান্দিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ এ বি এম মিজানুর রহমান বলেন, কলেজটি দীর্ঘদিনেও মঞ্জুরিপ্রাপ্ত না হওয়ায় শিক্ষকরা কোনো বেতন পান না। এ জন্য শিক্ষকরা কেউ কলেজে আসে না। শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারে তারা কাজ করে না। আমি একাই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিবছর আমি নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করছি। এবারও ১ লাখ টাকা খরচ করে ১০৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়েছি। স্বীকৃতির আশায় এত কিছু করলাম তাও লাভ হচ্ছে না। তবে আমাদের স্কুল সেকশনের ফলাফল বরাবরই ভালো।
তিনি বলেন, এবারের এইচএসসির রেজাল্টের যে অবস্থা তা আমাদের জন্য সত্যিই লজ্জাজনক। তবে সামনের বছর থেকে আমরা অবশ্যই ভালো করবো। কেননা এবার আমরা অনেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করেছি। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও রেজাল্টের মান ভালো করতে যা যা করা দরকার তা করব। তবে কলেজটিকে যদি স্বীকৃতি প্রদান করা হয় তাহলে এ অবস্থা থেকে সহজেই উত্তরণ সম্ভব। শিক্ষকরাও বেতন না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। তারা বেতন পেলে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের বিষয়ে আন্তরিক হবেন।
বিশিষ্ট শিক্ষা ব্যক্তিত্ব নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, করোনার ভাইরাস, দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলন সংগ্রামের কারনে শিক্ষার্থীরা ট্রমাটাইজ ছিল। তারা পড়াশোনা থেকে দূরে ছিল। ক্লাসের গ্যাপ ছিল, সেই গ্যাপটা পূরণ হয়নি। এবারই প্রথম অটোপাসের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য এবার পাসের হার কম। এখান থেকে শিক্ষা নিতে। নিয়মিত ক্লাস করতে হবে। কান্দিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের এই অবস্থা দুঃখজনক। ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও এলাকাবাসীকে অ্যাক্টিভ হতে হবে, আন্তরিক হতে হবে। তাহলে এই অবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেল বলেন, এবার সারা দেশের পাসের হার কম। কেননা সরকার আগের অবস্থার চেয়ে একটা পরিবর্তন এনেছে। আগের মতে গণহারে পাস, এ বিষয়টি সরকার পছন্দ করছে না। মূলত মানসম্পন্ন নিয়ে সবাই পাস করুক, সেভাবে একটা মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন এসেছে। এটা ঠিক পড়াশোনার গুণগত মান উন্নত হয়নি। এগুলো নিয়ে আমরা কাজ করব।
তিনি বলেন, কান্দিরহাট কলেজটি যেহেতু মঞ্জুরি পায়নি, তাই হয়তো তারা শিক্ষার্থী পায় না। বেতন না পেলে শিক্ষকরা তো ভালো শিক্ষা দেবেন না এটাই স্বাভাবিক। তবুও তারা যেহেতু একটা ভিশন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে, তাদেরকে আমাদের সাহায্য করতে হবে। শিক্ষার মান উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠানটির এ সংকট থেকে উত্তরণে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ বছর দিনাজপুর বোর্ড থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় ১ লাখ ৫ হাজার ৯২১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৬০ হাজার ৮৮২ জন, ফেল করেছে ৪৫ হাজার ৩৯ জন। এ বছর পাসের হার ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ফেল ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ। এবার এ বোর্ডের অধীনে মোট ৬৬৬টি কলেজের মধ্যে ৪৩টি কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩০
দুর্গোৎসবে মদ পান করে নাচানাচি কিংবা মাতলামি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার। তিনি বলেছেন, মদ খেয়ে কেউ নাচানাচি করলে তাকে ঘাড় ধরে নিয়ে এসে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্গাপূজা উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, ফেনী সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে মদ ও হুইস্কির প্রাদুর্ভাব বেশি। পূজার সময় কেউ মদ পান করে নাচানাচি বা মাতলামি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তাকে ধরে পুলিশের মেডিকেল টিমের কাছে নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে দুই-একজন মদ খেয়ে মাতলামি করে পরিবেশ নষ্ট করে। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। এসব পুলিশ কঠোর হাতে দমন করবে।’
প্রত্যুষ কুমার মজুমদার আরও বলেন, নির্বিঘ্নে পূজা উদ্যাপনে পুলিশের দায়িত্ব রয়েছে এবং পুলিশ তা যথাযথভাবে পালন করবে। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হবে। বিশেষ করে শহরকেন্দ্রিক পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির সময়ও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি দাবি করেন, ফেনীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে ভালো। কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যও অনেকটা কমানো হয়েছে। কেউ বিশৃঙ্খলা করলে সে যে-ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, পূজায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। গুজব বা অতিরঞ্জিত তথ্য যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। পূজাকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকারের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফাতিমা সুলতানা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান, পূজা উদ্যাপন পরিষদের উপদেষ্টা হীরালাল চক্রবর্তী ও জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শান্তি চৌধুরীসহ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা।
দুর্গোৎসবে মদ পান করে নাচানাচি কিংবা মাতলামি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার। তিনি বলেছেন, মদ খেয়ে কেউ নাচানাচি করলে তাকে ঘাড় ধরে নিয়ে এসে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্গাপূজা উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, ফেনী সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে মদ ও হুইস্কির প্রাদুর্ভাব বেশি। পূজার সময় কেউ মদ পান করে নাচানাচি বা মাতলামি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তাকে ধরে পুলিশের মেডিকেল টিমের কাছে নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে দুই-একজন মদ খেয়ে মাতলামি করে পরিবেশ নষ্ট করে। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। এসব পুলিশ কঠোর হাতে দমন করবে।’
প্রত্যুষ কুমার মজুমদার আরও বলেন, নির্বিঘ্নে পূজা উদ্যাপনে পুলিশের দায়িত্ব রয়েছে এবং পুলিশ তা যথাযথভাবে পালন করবে। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হবে। বিশেষ করে শহরকেন্দ্রিক পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির সময়ও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি দাবি করেন, ফেনীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে ভালো। কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যও অনেকটা কমানো হয়েছে। কেউ বিশৃঙ্খলা করলে সে যে-ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, পূজায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। গুজব বা অতিরঞ্জিত তথ্য যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। পূজাকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকারের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফাতিমা সুলতানা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান, পূজা উদ্যাপন পরিষদের উপদেষ্টা হীরালাল চক্রবর্তী ও জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শান্তি চৌধুরীসহ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা।

০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:৫২
রাজধানীর মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১৩ বছর বয়সী মাহিমার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসপাতালের ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্বজনদের অভিযোগ, অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার পরও সময়মতো অস্ত্রোপচার না করায় মাহিমার মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালে আনার সময়ই তার অবস্থা গুরুতর ছিল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তীব্র পেটব্যথা নিয়ে মাহিমাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চললেও শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের অভিযোগ, মাহিমার মৃত্যুর পর রাতে শাহরিয়ার সবুজ নামে এক ব্যক্তি যুবদল নেতা পরিচয়ে হাসপাতালে এসে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে বিকেলে প্রায় ১০০ জনকে নিয়ে হাসপাতালে এসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
তবে টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহরিয়ার সবুজ। তিনি মাহিমার চাচাতো ভাই দাবি করে বলেন, চিকিৎসকদের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার বিচার চাইতে গেলে হাসপাতালের লোকজন তাদের ওপর হামলা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকা আরেক রোগীর স্বজন তৌফিক মেজবাহ বলেন, প্রথমে কয়েকজনকে মারধর করা হয়। পরে ভাঙচুর শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মাহিমার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা এবং হামলা-ভাঙচুরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
রাজধানীর মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১৩ বছর বয়সী মাহিমার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসপাতালের ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্বজনদের অভিযোগ, অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার পরও সময়মতো অস্ত্রোপচার না করায় মাহিমার মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালে আনার সময়ই তার অবস্থা গুরুতর ছিল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তীব্র পেটব্যথা নিয়ে মাহিমাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চললেও শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের অভিযোগ, মাহিমার মৃত্যুর পর রাতে শাহরিয়ার সবুজ নামে এক ব্যক্তি যুবদল নেতা পরিচয়ে হাসপাতালে এসে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে বিকেলে প্রায় ১০০ জনকে নিয়ে হাসপাতালে এসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
তবে টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহরিয়ার সবুজ। তিনি মাহিমার চাচাতো ভাই দাবি করে বলেন, চিকিৎসকদের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার বিচার চাইতে গেলে হাসপাতালের লোকজন তাদের ওপর হামলা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকা আরেক রোগীর স্বজন তৌফিক মেজবাহ বলেন, প্রথমে কয়েকজনকে মারধর করা হয়। পরে ভাঙচুর শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মাহিমার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা এবং হামলা-ভাঙচুরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:০৩
দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একলাফে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। তার আগে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা।
এদিকে সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ দেশের ১৬ জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। শনিবার (৩ অক্টোবর) ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান চালানো হয়।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ২৩টি দল একযোগে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা, এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধে এ তদারকি কার্যক্রম চালানো হয়।
অভিযানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও সরবরাহ, সিলিন্ডারের নিরাপত্তা বিধি মানা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হয়।
এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট তৈরি, অযৌক্তিকভাবে সিলিন্ডার মজুত এবং সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রিতে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে জানানো যাবে। বাজারে শৃঙ্খলা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান
দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একলাফে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। তার আগে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা।
এদিকে সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ দেশের ১৬ জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। শনিবার (৩ অক্টোবর) ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান চালানো হয়।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ২৩টি দল একযোগে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা, এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধে এ তদারকি কার্যক্রম চালানো হয়।
অভিযানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও সরবরাহ, সিলিন্ডারের নিরাপত্তা বিধি মানা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হয়।
এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট তৈরি, অযৌক্তিকভাবে সিলিন্ডার মজুত এবং সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রিতে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে জানানো যাবে। বাজারে শৃঙ্খলা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান

১৭ অক্টোবর, ২০২৫ ১৫:১৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: পুরো কলেজ মিলে মাত্র একজন পরীক্ষার্থী। সেই পরীক্ষার্থী চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য। ঘটনাটি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কান্দিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের। ওই কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় মাত্র একজন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দিনাজপুর বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে সেই একমাত্র শিক্ষার্থীটাও অকৃতকার্য। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে। অনেকেই বলছেন ওই প্রতিষ্ঠানের এমন করুণ অবস্থার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকরা দায়ী।
জানা যায়, কান্দিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজটি ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে স্কুল সেকশন এমপিওভুক্ত হলেও কলেজ সেকশন এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। ২০১১ সালে কলেজ শাখা চালু করা হয়। কলেজটিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ মিলে ১২ জন শিক্ষক থাকলেও এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় শুধু মানবিক বিভাগ থেকে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। বাকি দুই বিভাগে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি ছিল না। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, সেই একমাত্র পরীক্ষার্থীও অকৃতকার্য।
এ বিষয়ে কান্দিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ এ বি এম মিজানুর রহমান বলেন, কলেজটি দীর্ঘদিনেও মঞ্জুরিপ্রাপ্ত না হওয়ায় শিক্ষকরা কোনো বেতন পান না। এ জন্য শিক্ষকরা কেউ কলেজে আসে না। শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারে তারা কাজ করে না। আমি একাই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিবছর আমি নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করছি। এবারও ১ লাখ টাকা খরচ করে ১০৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়েছি। স্বীকৃতির আশায় এত কিছু করলাম তাও লাভ হচ্ছে না। তবে আমাদের স্কুল সেকশনের ফলাফল বরাবরই ভালো।
তিনি বলেন, এবারের এইচএসসির রেজাল্টের যে অবস্থা তা আমাদের জন্য সত্যিই লজ্জাজনক। তবে সামনের বছর থেকে আমরা অবশ্যই ভালো করবো। কেননা এবার আমরা অনেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করেছি। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও রেজাল্টের মান ভালো করতে যা যা করা দরকার তা করব। তবে কলেজটিকে যদি স্বীকৃতি প্রদান করা হয় তাহলে এ অবস্থা থেকে সহজেই উত্তরণ সম্ভব। শিক্ষকরাও বেতন না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। তারা বেতন পেলে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের বিষয়ে আন্তরিক হবেন।
বিশিষ্ট শিক্ষা ব্যক্তিত্ব নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, করোনার ভাইরাস, দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলন সংগ্রামের কারনে শিক্ষার্থীরা ট্রমাটাইজ ছিল। তারা পড়াশোনা থেকে দূরে ছিল। ক্লাসের গ্যাপ ছিল, সেই গ্যাপটা পূরণ হয়নি। এবারই প্রথম অটোপাসের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য এবার পাসের হার কম। এখান থেকে শিক্ষা নিতে। নিয়মিত ক্লাস করতে হবে। কান্দিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের এই অবস্থা দুঃখজনক। ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও এলাকাবাসীকে অ্যাক্টিভ হতে হবে, আন্তরিক হতে হবে। তাহলে এই অবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেল বলেন, এবার সারা দেশের পাসের হার কম। কেননা সরকার আগের অবস্থার চেয়ে একটা পরিবর্তন এনেছে। আগের মতে গণহারে পাস, এ বিষয়টি সরকার পছন্দ করছে না। মূলত মানসম্পন্ন নিয়ে সবাই পাস করুক, সেভাবে একটা মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন এসেছে। এটা ঠিক পড়াশোনার গুণগত মান উন্নত হয়নি। এগুলো নিয়ে আমরা কাজ করব।
তিনি বলেন, কান্দিরহাট কলেজটি যেহেতু মঞ্জুরি পায়নি, তাই হয়তো তারা শিক্ষার্থী পায় না। বেতন না পেলে শিক্ষকরা তো ভালো শিক্ষা দেবেন না এটাই স্বাভাবিক। তবুও তারা যেহেতু একটা ভিশন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে, তাদেরকে আমাদের সাহায্য করতে হবে। শিক্ষার মান উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠানটির এ সংকট থেকে উত্তরণে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ বছর দিনাজপুর বোর্ড থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় ১ লাখ ৫ হাজার ৯২১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৬০ হাজার ৮৮২ জন, ফেল করেছে ৪৫ হাজার ৩৯ জন। এ বছর পাসের হার ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ফেল ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ। এবার এ বোর্ডের অধীনে মোট ৬৬৬টি কলেজের মধ্যে ৪৩টি কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:০৭
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩২
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:২২
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:০৬