ছবি:সংগ্রহীত
বরিশালের লোকাল বাসের টিকিট কাটাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে মাদারীপুরের কালকিনি ও বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভূরঘাটা সেতু এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ওপর চলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। এ সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। পরে মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হলে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। এতে সড়কের উভয় প্রান্তে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার সকালে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের এমারত ঘরামী বরিশালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভূরঘাটা এলাকার একটি বাস কাউন্টারে টিকিট কাটতে যান। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি সামনের আসনে বসার অনুরোধ জানান। কিন্তু কাউন্টারের সুপারভাইজার ওই আসন দিতে অসম্মতি জানালে শুরু হয় বাক্বিতণ্ডা। একপর্যায়ে কাউন্টারের কর্মচারী সবুজ ফকিরের সঙ্গে এমারতের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সবুজের চাচাতো ভাই আকাশ ফকির পাশের একটি মুদি দোকান থেকে এসে এমারতকে মারধর করেন।
ওই ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে এমারত পুনরায় ওই বাস কাউন্টারে যান। সেখানে সবুজ ও আকাশের সঙ্গে ফের বাগ্বিতণ্ডা বাধে। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারধরে গড়ায়। পরে উপস্থিত ব্যক্তিরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ভূরঘাটা সেতু এলাকায় দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। পরে মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে দেওয়া হলে যান চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এতে সেতুর দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়।
সংঘর্ষের সময় ভূরঘাটা এলাকার প্রায় ২০টি দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে আল আমিন, জান্নাত সরদার, শরীফ ও আকাশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে আহতদের মধ্যে কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে কালকিনি ও গৌরনদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ভূরঘাটা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, বাসের টিকিট কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কয়েকটি দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষের প্রায় ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মহাসড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়েছে। তবে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৩১
বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে হাত বাঁধা বাবাকে নিজের হাতে চা-রুটি খাওয়ানোর দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনার কেন্দ্রে আসা তুবা অবশেষে ফিরেছে বিদ্যালয়ে। চার মাসের শিক্ষাবিরতি কাটিয়ে বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজার হাত ধরে বামরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায় চতুর্থ শ্রেণির এই শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকায় তুবার বাড়িতে যান ইউএনও। সেখান থেকে তুবাকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছান তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর শ্রেণিকক্ষে ফিরে শিক্ষক ও সহপাঠীদের স্বাগত পায় শিশুটি।
তুবার মা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, আর্থিক সংকটসহ পারিবারিক নানা প্রতিকূলতার কারণে চার মাস ধরে মেয়েটির পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছিল। প্রশাসনের সহযোগিতায় আবার বিদ্যালয়ে ফিরতে পারায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ইউএনও মো. আলী সুজা বলেন, দীর্ঘ সময় একটি শিশুর শিক্ষাজীবন থমকে থাকা উদ্বেগের বিষয়। তুবার বিষয়টি জানার পর তাকে নিজেই বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। ভবিষ্যতে তার পড়াশোনায় যেন আর ছেদ না পড়ে, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
তুবার পরিবারের পরিস্থিতি সম্পর্কে ইউএনও বলেন, তার বাবা অনিককে ইতোমধ্যে চিকিৎসার জন্য পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে তাকে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি তুবার শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার বিষয়টিও প্রশাসনের নজরদারিতে থাকবে।
এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর উজিরপুরের বামরাইল এলাকায় কথিত চুরির অভিযোগে অনিক সরদারকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের ঘটনা ঘটে। ওই সময় বাবার কাছে যায় তুবা। হাত বাঁধা অবস্থায় থাকা বাবাকে নিজের হাতে চা ও রুটি খাওয়ায় সে। সেই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। পরে তুবার দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টিও সামনে আসে।
বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে হাত বাঁধা বাবাকে নিজের হাতে চা-রুটি খাওয়ানোর দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনার কেন্দ্রে আসা তুবা অবশেষে ফিরেছে বিদ্যালয়ে। চার মাসের শিক্ষাবিরতি কাটিয়ে বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজার হাত ধরে বামরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায় চতুর্থ শ্রেণির এই শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকায় তুবার বাড়িতে যান ইউএনও। সেখান থেকে তুবাকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছান তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর শ্রেণিকক্ষে ফিরে শিক্ষক ও সহপাঠীদের স্বাগত পায় শিশুটি।
তুবার মা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, আর্থিক সংকটসহ পারিবারিক নানা প্রতিকূলতার কারণে চার মাস ধরে মেয়েটির পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছিল। প্রশাসনের সহযোগিতায় আবার বিদ্যালয়ে ফিরতে পারায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ইউএনও মো. আলী সুজা বলেন, দীর্ঘ সময় একটি শিশুর শিক্ষাজীবন থমকে থাকা উদ্বেগের বিষয়। তুবার বিষয়টি জানার পর তাকে নিজেই বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। ভবিষ্যতে তার পড়াশোনায় যেন আর ছেদ না পড়ে, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
তুবার পরিবারের পরিস্থিতি সম্পর্কে ইউএনও বলেন, তার বাবা অনিককে ইতোমধ্যে চিকিৎসার জন্য পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে তাকে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি তুবার শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার বিষয়টিও প্রশাসনের নজরদারিতে থাকবে।
এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর উজিরপুরের বামরাইল এলাকায় কথিত চুরির অভিযোগে অনিক সরদারকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের ঘটনা ঘটে। ওই সময় বাবার কাছে যায় তুবা। হাত বাঁধা অবস্থায় থাকা বাবাকে নিজের হাতে চা ও রুটি খাওয়ায় সে। সেই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। পরে তুবার দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টিও সামনে আসে।

০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:৫২
বরিশাল নগরের ভাটিখানা এলাকায় একটি বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে আমেনা খানম (৬৫) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোরে রোকেয়া আজিম সড়কের খালপাড় এলাকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়সুত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে ওই বাসার পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়ারা আমেনা খানমের ঘর থেকে পচা গন্ধ পান। বিষয়টি তারা বাড়ির মালিকের স্ত্রী রিনা বেগমকে অবহিত করেন। পরে তিনি আমেনার ছেলে রিফাতকে ফোন করে বিষয়টি জানান। রিফাত পুলিশকে খবর দিলে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ।
পুলিশ সদস্যরা গিয়ে ঘরটির দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে তালা খুলে কক্ষে ঢুকে খাটের ওপর আমেনা খানমের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তাঁর হাত-পা কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল।
নিহত আমেনা খানমের বাড়ি মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায়। তিনি ওই উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর প্রায় এক বছর আগে ভাটিখানার ওই বাসার দ্বিতীয় তলা ভাড়া নেন। সেখানে তিনি একাই থাকতেন। তাঁর ছেলে রিফাত ঢাকার একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত।
বাড়ির মালিকের স্ত্রী রিনা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমেনা খানম তাঁদের বাসায় ভাড়া থাকতেন। বুধবার রাতে পাশের বাসিন্দাদের কাছ থেকে দুর্গন্ধের কথা জানতে পেরে তিনি আমেনার ছেলেকে বিষয়টি জানান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
বরিশাল মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, রিফাতের ফোন পেয়ে পুলিশ ওই বাসায় যায়। কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। পরে তালা খুলে ভেতরে আমেনা খানমের মরদেহ পাওয়া যায়। তাঁর হাত-পা কাপড় দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ছিল।
তিনি আরও বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বরিশাল নগরের ভাটিখানা এলাকায় একটি বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে আমেনা খানম (৬৫) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোরে রোকেয়া আজিম সড়কের খালপাড় এলাকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়সুত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে ওই বাসার পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়ারা আমেনা খানমের ঘর থেকে পচা গন্ধ পান। বিষয়টি তারা বাড়ির মালিকের স্ত্রী রিনা বেগমকে অবহিত করেন। পরে তিনি আমেনার ছেলে রিফাতকে ফোন করে বিষয়টি জানান। রিফাত পুলিশকে খবর দিলে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ।
পুলিশ সদস্যরা গিয়ে ঘরটির দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে তালা খুলে কক্ষে ঢুকে খাটের ওপর আমেনা খানমের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তাঁর হাত-পা কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল।
নিহত আমেনা খানমের বাড়ি মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায়। তিনি ওই উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর প্রায় এক বছর আগে ভাটিখানার ওই বাসার দ্বিতীয় তলা ভাড়া নেন। সেখানে তিনি একাই থাকতেন। তাঁর ছেলে রিফাত ঢাকার একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত।
বাড়ির মালিকের স্ত্রী রিনা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমেনা খানম তাঁদের বাসায় ভাড়া থাকতেন। বুধবার রাতে পাশের বাসিন্দাদের কাছ থেকে দুর্গন্ধের কথা জানতে পেরে তিনি আমেনার ছেলেকে বিষয়টি জানান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
বরিশাল মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, রিফাতের ফোন পেয়ে পুলিশ ওই বাসায় যায়। কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। পরে তালা খুলে ভেতরে আমেনা খানমের মরদেহ পাওয়া যায়। তাঁর হাত-পা কাপড় দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ছিল।
তিনি আরও বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০৩
বরিশালের বাবুগঞ্জে সুগন্ধা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের বাজারসংলগ্ন এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটি পুরোনো মসজিদ, দুটি বসতভিটা ও দুটি দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনের মুখে পড়েছে বাবুগঞ্জ খেয়াঘাটের গণশৌচাগারসহ আরও কিছু স্থাপনা।
ভাঙন অব্যাহত থাকায় এখন ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় দুই শ বছরের পুরোনো বাবুগঞ্জ বাজার, খেয়াঘাট, কয়েকটি মসজিদ এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ভাঙন আরও ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট এগিয়ে গেলে বরিশাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তাদেয়ালও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, সুগন্ধা নদীর তীরে বিভিন্ন স্থানে মাটি ধসে পড়ছে। পাড়ের বড় বড় অংশ নদীতে পড়ে যাচ্ছে। নদীর কাছাকাছি থাকা বসতঘর ও দোকান থেকে মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন বাসিন্দারা। কেউ ঘরের বারান্দা খুলে অন্যত্র রাখছেন, কেউ বাঁশের চাটাই, পাইলিং ও বালুর বস্তা দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
পশ্চিম ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক সরোয়ার হোসেনের বসতঘরও ভাঙনের মুখে। এরই মধ্যে তাঁর রান্নাঘর ও চুলা নদীতে চলে গেছে। ঘরের বারান্দা খুলে অন্যের বাড়িতে রেখে দিয়েছেন তিনি।
নদীর পাড়ে নতুন মাটির চুলা তৈরি করছিলেন সরোয়ারের স্ত্রী সুমি বেগম। তিনি বলেন, ‘পাঁচবার ভাঙনের পর এইহানে ঘর তুলছিলাম। তাও ভাঙনে নিতেছে। ঘরের বারান্দা খুইলা অন্য মানুষের বাড়িতে রাখছি। এহন আমাগো আর অন্য কোথাও যাওনের জায়গা নাই। বাচ্চা লইয়া আতঙ্কে নির্ঘুম রাইত কাডাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদার বলেন, তাঁদের গ্রামের শতাধিক পরিবার একাধিকবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ভাঙন আরও ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট এগোলে বরিশাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তাদেয়ালও নদীর ঝুঁকিতে পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর নদীভাঙনে একটি পুরোনো মসজিদ বিলীন হয়ে যায়। পরে সেখানে নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হলেও সেটিও এখন ভাঙনের মুখে। মসজিদটি রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশের চাটাই ও পাইলিং দিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন।
ভাঙনের কবলে পড়েছে বাবুগঞ্জ খেয়াঘাটে যাতায়াতের সংযোগ সড়কও। ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পন্টুন ও ঘাটসংলগ্ন স্থাপনা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে এসব স্থাপনার আরও কিছু অংশ নদীতে চলে যেতে পারে।
এক বছর আগে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলেছিল। তবে চলতি বছরের ভাঙনে সেগুলোর অনেকটাই নদীগর্ভে চলে গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লব মিস্ত্রি বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভাঙনের প্রভাব বাবুগঞ্জ বাজারেও পড়তে পারে। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কয়েক শ মানুষের বসতভিটা ঝুঁকিতে পড়বে।
সমাজসেবক মোয়াজ্জেম বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই বাবুগঞ্জ বাজার ও আশপাশের বসতবাড়ি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এবার ভাঙন আগের তুলনায় ভয়াবহ হয়েছে। বাজার ও বসতবাড়ি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, বাবুগঞ্জের সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, বাবুগঞ্জ লঞ্চঘাট এলাকার সুগন্ধা নদীর বাঁ তীরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে ভাঙন বেড়েছে। এ অংশের জন্য ইতিমধ্যে সমীক্ষা শেষ হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সমীক্ষার ভিত্তিতে সুগন্ধা নদীর বাঁ তীরের প্রায় ৩ হাজার ৬২৬ মিটার এলাকায় সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী তীর সংরক্ষণের জন্য একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশ পেয়েছে। এখন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চলতি মাসে প্রকল্পটি অনুমোদন হতে পারে বলে আশা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, ভাঙনের ছবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক বরাদ্দ বা নির্দেশনা পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্থায়ী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে সময় লাগবে। নদীভাঙন সে সময়ের অপেক্ষা করবে না। তাই স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ, বালুভর্তি বস্তাসহ সাময়িক প্রতিরোধব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে নদী আরও ভেতরের দিকে এগিয়ে আসবে। এতে বসতভিটা, মসজিদ, দোকান, খেয়াঘাটের পন্টুন ও সংযোগ সড়কের পর বাবুগঞ্জ বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ঝুঁকিতে পড়বে। একই সঙ্গে বরিশাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তাদেয়াল নিয়েও তৈরি হতে পারে নতুন উদ্বেগ।
বরিশালের বাবুগঞ্জে সুগন্ধা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের বাজারসংলগ্ন এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটি পুরোনো মসজিদ, দুটি বসতভিটা ও দুটি দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনের মুখে পড়েছে বাবুগঞ্জ খেয়াঘাটের গণশৌচাগারসহ আরও কিছু স্থাপনা।
ভাঙন অব্যাহত থাকায় এখন ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় দুই শ বছরের পুরোনো বাবুগঞ্জ বাজার, খেয়াঘাট, কয়েকটি মসজিদ এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ভাঙন আরও ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট এগিয়ে গেলে বরিশাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তাদেয়ালও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, সুগন্ধা নদীর তীরে বিভিন্ন স্থানে মাটি ধসে পড়ছে। পাড়ের বড় বড় অংশ নদীতে পড়ে যাচ্ছে। নদীর কাছাকাছি থাকা বসতঘর ও দোকান থেকে মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন বাসিন্দারা। কেউ ঘরের বারান্দা খুলে অন্যত্র রাখছেন, কেউ বাঁশের চাটাই, পাইলিং ও বালুর বস্তা দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
পশ্চিম ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক সরোয়ার হোসেনের বসতঘরও ভাঙনের মুখে। এরই মধ্যে তাঁর রান্নাঘর ও চুলা নদীতে চলে গেছে। ঘরের বারান্দা খুলে অন্যের বাড়িতে রেখে দিয়েছেন তিনি।
নদীর পাড়ে নতুন মাটির চুলা তৈরি করছিলেন সরোয়ারের স্ত্রী সুমি বেগম। তিনি বলেন, ‘পাঁচবার ভাঙনের পর এইহানে ঘর তুলছিলাম। তাও ভাঙনে নিতেছে। ঘরের বারান্দা খুইলা অন্য মানুষের বাড়িতে রাখছি। এহন আমাগো আর অন্য কোথাও যাওনের জায়গা নাই। বাচ্চা লইয়া আতঙ্কে নির্ঘুম রাইত কাডাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদার বলেন, তাঁদের গ্রামের শতাধিক পরিবার একাধিকবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ভাঙন আরও ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট এগোলে বরিশাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তাদেয়ালও নদীর ঝুঁকিতে পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর নদীভাঙনে একটি পুরোনো মসজিদ বিলীন হয়ে যায়। পরে সেখানে নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হলেও সেটিও এখন ভাঙনের মুখে। মসজিদটি রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশের চাটাই ও পাইলিং দিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন।
ভাঙনের কবলে পড়েছে বাবুগঞ্জ খেয়াঘাটে যাতায়াতের সংযোগ সড়কও। ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পন্টুন ও ঘাটসংলগ্ন স্থাপনা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে এসব স্থাপনার আরও কিছু অংশ নদীতে চলে যেতে পারে।
এক বছর আগে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলেছিল। তবে চলতি বছরের ভাঙনে সেগুলোর অনেকটাই নদীগর্ভে চলে গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লব মিস্ত্রি বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভাঙনের প্রভাব বাবুগঞ্জ বাজারেও পড়তে পারে। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কয়েক শ মানুষের বসতভিটা ঝুঁকিতে পড়বে।
সমাজসেবক মোয়াজ্জেম বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই বাবুগঞ্জ বাজার ও আশপাশের বসতবাড়ি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এবার ভাঙন আগের তুলনায় ভয়াবহ হয়েছে। বাজার ও বসতবাড়ি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, বাবুগঞ্জের সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, বাবুগঞ্জ লঞ্চঘাট এলাকার সুগন্ধা নদীর বাঁ তীরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে ভাঙন বেড়েছে। এ অংশের জন্য ইতিমধ্যে সমীক্ষা শেষ হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সমীক্ষার ভিত্তিতে সুগন্ধা নদীর বাঁ তীরের প্রায় ৩ হাজার ৬২৬ মিটার এলাকায় সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী তীর সংরক্ষণের জন্য একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশ পেয়েছে। এখন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চলতি মাসে প্রকল্পটি অনুমোদন হতে পারে বলে আশা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, ভাঙনের ছবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক বরাদ্দ বা নির্দেশনা পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্থায়ী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে সময় লাগবে। নদীভাঙন সে সময়ের অপেক্ষা করবে না। তাই স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ, বালুভর্তি বস্তাসহ সাময়িক প্রতিরোধব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে নদী আরও ভেতরের দিকে এগিয়ে আসবে। এতে বসতভিটা, মসজিদ, দোকান, খেয়াঘাটের পন্টুন ও সংযোগ সড়কের পর বাবুগঞ্জ বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ঝুঁকিতে পড়বে। একই সঙ্গে বরিশাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তাদেয়াল নিয়েও তৈরি হতে পারে নতুন উদ্বেগ।

০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৩:৩৪
বরিশালের লোকাল বাসের টিকিট কাটাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে মাদারীপুরের কালকিনি ও বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভূরঘাটা সেতু এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ওপর চলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। এ সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। পরে মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হলে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। এতে সড়কের উভয় প্রান্তে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার সকালে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের এমারত ঘরামী বরিশালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভূরঘাটা এলাকার একটি বাস কাউন্টারে টিকিট কাটতে যান। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি সামনের আসনে বসার অনুরোধ জানান। কিন্তু কাউন্টারের সুপারভাইজার ওই আসন দিতে অসম্মতি জানালে শুরু হয় বাক্বিতণ্ডা। একপর্যায়ে কাউন্টারের কর্মচারী সবুজ ফকিরের সঙ্গে এমারতের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সবুজের চাচাতো ভাই আকাশ ফকির পাশের একটি মুদি দোকান থেকে এসে এমারতকে মারধর করেন।
ওই ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে এমারত পুনরায় ওই বাস কাউন্টারে যান। সেখানে সবুজ ও আকাশের সঙ্গে ফের বাগ্বিতণ্ডা বাধে। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারধরে গড়ায়। পরে উপস্থিত ব্যক্তিরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ভূরঘাটা সেতু এলাকায় দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। পরে মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে দেওয়া হলে যান চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এতে সেতুর দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়।
সংঘর্ষের সময় ভূরঘাটা এলাকার প্রায় ২০টি দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে আল আমিন, জান্নাত সরদার, শরীফ ও আকাশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে আহতদের মধ্যে কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে কালকিনি ও গৌরনদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ভূরঘাটা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, বাসের টিকিট কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কয়েকটি দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষের প্রায় ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মহাসড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়েছে। তবে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৩:৩৪
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১৬
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০১
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৩১