ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালসহ ছয়টি উপজেলার হাসপাতালগুলোতে নেই জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন। বাজারের ফার্মেসিগুলোতেও রয়েছে এর তীব্র সংকট। এতে দুশ্চিন্তায় জেলার প্রায় ২২ লাখ মানুষ।
বুধবার (৪ মার্চ) সকালে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সামনে ভিড় করছেন রোগীরা। কেউ এসেছেন কুকুরের কামড়ে শিকার হয়ে, আবার কেউ এসেছেন বিড়ালের আঁচড়ে শিকার হয়ে।
রোগীদের মধ্যে শিশুসহ নানা বয়সী নারী ও পুরুষ রয়েছেন। কিন্তু হাসপাতালে মিলছে না ভ্যাকসিন। এমনকি বাজারের ফার্মেসিগুলোতেও সচরাচর মিলছে না ভ্যাকসিন। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ রোগী ও স্বজনদের।
দৌলতখান উপজেলা থেকে আসা রোগী মাইনুর আক্তার জানান, আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার সময় একটি কুকুর কামড় দেয়। পরে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন দিতে গেলে সেখানে ভ্যাকসিন পাননি।
এরপর ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রেও এসে পাননি ভ্যাকসিন। এখানকার নার্স ও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেই। তাই বাইরে থেকে কিনে আনলে তারা ভ্যাকসিন দিয়ে দিতে পারবেন। বাজার থেকে ভ্যাকসিন কিনতে পারলে তো এখানে আসার দরকার ছিল না।
বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আসা রোগীর স্বজন মো. ফিরোজ আলম জানান, তার শিশু সন্তানকে বিড়াল আঁচড় দিয়েছে।
তিনি বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা ভ্যাকসিন না থাকায় তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠান। তিনি সদর হাসপাতালে আসলেও এখানেও ভ্যাকসিন পাননি।
তিনি জানান, এত দূর থেকে এসেও ভ্যাকসিন পাননি। সরকারি হাসপাতালে যদি ভ্যাকসিন না থাকে, তাহলে গরিবের চিকিৎসা হয় কীভাবে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে।
ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের শান্তিরহাট থেকে আসা রোগীর স্বজন জানান, সন্তানকে কুকুরে কামড় দেওয়ার পর ভ্যাকসিন দেওয়াতে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু ভ্যাকসিন নেই। পরে বাধ্য হয়ে চারজন মিলে টাকা তুলে একটি ভ্যাকসিন কিনেছি। ওই ভ্যাকসিন দিয়ে বাড়ি ফিরছি।
আরেক রোগীর স্বজন লিমা আক্তার জানান, ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভ্যাকসিন না পেয়ে ভোলার শহরের বেশ কয়েকটি ফার্মেসিতে খোঁজ করে তারপর ভ্যাকসিন পেয়েছেন। ফার্মেসিতেও ভ্যাকসিন সচরাচর পাওয়া যায় না। এ অবস্থায় আমাদের অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই।
ভোলার শহরের স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. হারুন অর রশিদ জানান, ভোলার শহর থেকে গ্রাম—সব রাস্তা ও বাড়ির আশপাশে বর্তমানে কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে।
সঙ্গে কুকুরের আক্রমণও বেড়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ভোলা সদর হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেই। এমনকি ভোলার ফার্মেসিগুলোতেও ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট। আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবো দ্রুত যেন এ সমস্যার সমাধান করেন।
ভোলা সদর রোডের ফার্মেসি ব্যবসায়ী মো. আরিফ ও মো. ইকবাল হোসেন জানান, বিগত দুই মাস ধরে কোম্পানিগুলো আমাদের ভ্যাকসিন চাহিদা অনুযায়ী দিতে পারছে না। আমাদের দৈনিক প্রয়োজন ৫০টি, সেখানে আমাদের সপ্তাহে দেয় ১০-২০টি। তাই আমরাও ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারছি না।
ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান জানান, দুই মাস ধরে ভ্যাকসিন নেই। এতে রোগীদের সেবা দিতে পারছেন না। তবে দ্রুত ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
এছাড়াও বাজারেও ভ্যাকসিনের সংকট রয়েছে। তাই সবাইকে কুকুর ও বিড়াল থেকে সাবধানে থাকার পাশাপাশি আঁচড় বা কামড় দিলে অন্তত ৩০ মিনিট সাবান-পানিতে ধুয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:০৮
ভোলার মনপুরায় উপজেলা পরিষদের সরকারি জমিতে নতুন বাজার নির্মাণের জন্য ভিটা বরাদ্দের উদ্যোগের প্রতিবাদে দোকানপাট বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করেছেন হাজীর হাট বাজারের ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
পরে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ ও ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম আহমেদের মনপুরায় আগমন উপলক্ষে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন ব্যবসায়ীরা। এ সময় তাঁরা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি ও অভিযোগপত্র দিতে চাইলে তিনি তা গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মনপুরা উপজেলা সদরের সবচেয়ে বড় বাজার হাজীর হাটে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যেও মন্দা চলছে। এর মধ্যে বাজার থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে উপজেলা পরিষদের সরকারি জমিতে নতুন বাজার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বর্তমান বাজারের চার শতাধিক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সরকারি জমি বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁরা এ বরাদ্দ বন্ধের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাঁকে বদলির দাবি জানান। দাবি মানা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রায় এক একর জমি দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে কেওড়া বাগান হিসেবে পরিত্যক্ত ছিল। প্রায় ২০ দিন আগে ওই জমিতে নতুন বাজার নির্মাণের জন্য ভিটা বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে কিছু ভিটার জন্য এক লাখ টাকা এবং কিছু ভিটার জন্য ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে পে-অর্ডার আহ্বান করা হয়।
বরাদ্দের এ উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদে সরব হন হাজীর হাট বাজারের ব্যবসায়ীরা। তাঁরা এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপিও দেন।
পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ওই জমির বরাদ্দ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন। এরপরও সরকারি জমিতে ভিটা বরাদ্দ বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবারের ধর্মঘট ও বিক্ষোভের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
ভোলার মনপুরায় উপজেলা পরিষদের সরকারি জমিতে নতুন বাজার নির্মাণের জন্য ভিটা বরাদ্দের উদ্যোগের প্রতিবাদে দোকানপাট বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করেছেন হাজীর হাট বাজারের ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
পরে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ ও ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম আহমেদের মনপুরায় আগমন উপলক্ষে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন ব্যবসায়ীরা। এ সময় তাঁরা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি ও অভিযোগপত্র দিতে চাইলে তিনি তা গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মনপুরা উপজেলা সদরের সবচেয়ে বড় বাজার হাজীর হাটে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যেও মন্দা চলছে। এর মধ্যে বাজার থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে উপজেলা পরিষদের সরকারি জমিতে নতুন বাজার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বর্তমান বাজারের চার শতাধিক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সরকারি জমি বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁরা এ বরাদ্দ বন্ধের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাঁকে বদলির দাবি জানান। দাবি মানা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রায় এক একর জমি দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে কেওড়া বাগান হিসেবে পরিত্যক্ত ছিল। প্রায় ২০ দিন আগে ওই জমিতে নতুন বাজার নির্মাণের জন্য ভিটা বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে কিছু ভিটার জন্য এক লাখ টাকা এবং কিছু ভিটার জন্য ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে পে-অর্ডার আহ্বান করা হয়।
বরাদ্দের এ উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদে সরব হন হাজীর হাট বাজারের ব্যবসায়ীরা। তাঁরা এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপিও দেন।
পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ওই জমির বরাদ্দ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন। এরপরও সরকারি জমিতে ভিটা বরাদ্দ বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবারের ধর্মঘট ও বিক্ষোভের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৪০
ভোলার গ্যাস ভোলার উন্নয়নে ব্যবহারের দাবি হাফিজ উদ্দিন আহমেদের
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই। বৃহস্পতিবার ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছিল, যেখানে যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও অনেক মানুষ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সাহস পেতেন না। অর্থ-সম্পদ, জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অযোগ্য ও অসৎ ব্যক্তিদের দাপটে সৎ ও যোগ্য মানুষেরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারতেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্পিকার বলেন, বিগত ১৭ বছরে মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচন দেখেনি। তাই নির্বাচন কমিশনকে এমন পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে, যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হয় এবং নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না থাকে।
ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাস প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে। বর্তমানে দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ভোলার গ্যাস ভোলার মানুষের কাজে লাগানো তাদের ন্যায্য অধিকার।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ভোলার গ্যাস স্থানীয় উন্নয়নে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত।
এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওসারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ভোলার গ্যাস ভোলার উন্নয়নে ব্যবহারের দাবি হাফিজ উদ্দিন আহমেদের
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই। বৃহস্পতিবার ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছিল, যেখানে যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও অনেক মানুষ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সাহস পেতেন না। অর্থ-সম্পদ, জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অযোগ্য ও অসৎ ব্যক্তিদের দাপটে সৎ ও যোগ্য মানুষেরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারতেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্পিকার বলেন, বিগত ১৭ বছরে মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচন দেখেনি। তাই নির্বাচন কমিশনকে এমন পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে, যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হয় এবং নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না থাকে।
ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাস প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে। বর্তমানে দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ভোলার গ্যাস ভোলার মানুষের কাজে লাগানো তাদের ন্যায্য অধিকার।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ভোলার গ্যাস স্থানীয় উন্নয়নে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত।
এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওসারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:১৯
সাইবার সুরক্ষা আইনসহ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইন সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। আইনগুলোকে যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে গণমাধ্যমের মালিক, সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, সাইবার সিকিউরিটিসহ প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমন একটি টেকসই নীতিমালা প্রণয়ন করতে চায় সরকার, যাতে গণমাধ্যমকর্মী, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ সমানভাবে সুরক্ষা পান। আইন সংশোধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অচিরেই এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সম্প্রতি নেত্রকোনায় এক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু সাংবাদিক বা নির্দিষ্ট কোনো পেশাজীবী নয়, রাষ্ট্রীয় আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অপরাধ সংঘটিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ীই তার বিচার হবে।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আনন্দ ও সম্প্রীতির পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন। হিন্দু-মুসলমানসহ দেশের সব নাগরিক পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পাচ্ছেন—এটি আনন্দের বিষয়। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
পূজা কমিটির নেতাদের বরাত দিয়ে তথ্যমন্ত্রী জানান, এবার পূজা চলাকালে ভোলায় কোথাও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে, ভোলা সদরের ২৯টি পূজামণ্ডপে ব্যক্তিগতভাবে মোট ২৯ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী। বুধবার রাতে তিনি জেলা শহরের বিকাশ মজুমদার বাড়ির পূজামণ্ডপ, অনুজকাহালী লেনের পূজামণ্ডপ, মদনমোহন মন্দির, শতদল বিকাশ ক্লাবসংলগ্ন পূজামণ্ডপ, মিহিরলাল সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপ, লক্ষ্মী গোবিন্দ মন্দির, বাপ্তা মহাজনের পোল পূজামণ্ডপ, বাপ্তা শক্তি সংঘ পূজামণ্ডপ ও সার্কুলার রোডের পূজামণ্ডপসহ মোট নয়টি মন্দির পরিদর্শন করেন।
এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
সাইবার সুরক্ষা আইনসহ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইন সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। আইনগুলোকে যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে গণমাধ্যমের মালিক, সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, সাইবার সিকিউরিটিসহ প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমন একটি টেকসই নীতিমালা প্রণয়ন করতে চায় সরকার, যাতে গণমাধ্যমকর্মী, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ সমানভাবে সুরক্ষা পান। আইন সংশোধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অচিরেই এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সম্প্রতি নেত্রকোনায় এক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু সাংবাদিক বা নির্দিষ্ট কোনো পেশাজীবী নয়, রাষ্ট্রীয় আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অপরাধ সংঘটিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ীই তার বিচার হবে।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আনন্দ ও সম্প্রীতির পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন। হিন্দু-মুসলমানসহ দেশের সব নাগরিক পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পাচ্ছেন—এটি আনন্দের বিষয়। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
পূজা কমিটির নেতাদের বরাত দিয়ে তথ্যমন্ত্রী জানান, এবার পূজা চলাকালে ভোলায় কোথাও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে, ভোলা সদরের ২৯টি পূজামণ্ডপে ব্যক্তিগতভাবে মোট ২৯ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী। বুধবার রাতে তিনি জেলা শহরের বিকাশ মজুমদার বাড়ির পূজামণ্ডপ, অনুজকাহালী লেনের পূজামণ্ডপ, মদনমোহন মন্দির, শতদল বিকাশ ক্লাবসংলগ্ন পূজামণ্ডপ, মিহিরলাল সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপ, লক্ষ্মী গোবিন্দ মন্দির, বাপ্তা মহাজনের পোল পূজামণ্ডপ, বাপ্তা শক্তি সংঘ পূজামণ্ডপ ও সার্কুলার রোডের পূজামণ্ডপসহ মোট নয়টি মন্দির পরিদর্শন করেন।
এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

০৪ মার্চ, ২০২৬ ১৬:২০
ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালসহ ছয়টি উপজেলার হাসপাতালগুলোতে নেই জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন। বাজারের ফার্মেসিগুলোতেও রয়েছে এর তীব্র সংকট। এতে দুশ্চিন্তায় জেলার প্রায় ২২ লাখ মানুষ।
বুধবার (৪ মার্চ) সকালে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সামনে ভিড় করছেন রোগীরা। কেউ এসেছেন কুকুরের কামড়ে শিকার হয়ে, আবার কেউ এসেছেন বিড়ালের আঁচড়ে শিকার হয়ে।
রোগীদের মধ্যে শিশুসহ নানা বয়সী নারী ও পুরুষ রয়েছেন। কিন্তু হাসপাতালে মিলছে না ভ্যাকসিন। এমনকি বাজারের ফার্মেসিগুলোতেও সচরাচর মিলছে না ভ্যাকসিন। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ রোগী ও স্বজনদের।
দৌলতখান উপজেলা থেকে আসা রোগী মাইনুর আক্তার জানান, আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার সময় একটি কুকুর কামড় দেয়। পরে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন দিতে গেলে সেখানে ভ্যাকসিন পাননি।
এরপর ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রেও এসে পাননি ভ্যাকসিন। এখানকার নার্স ও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেই। তাই বাইরে থেকে কিনে আনলে তারা ভ্যাকসিন দিয়ে দিতে পারবেন। বাজার থেকে ভ্যাকসিন কিনতে পারলে তো এখানে আসার দরকার ছিল না।
বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আসা রোগীর স্বজন মো. ফিরোজ আলম জানান, তার শিশু সন্তানকে বিড়াল আঁচড় দিয়েছে।
তিনি বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা ভ্যাকসিন না থাকায় তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠান। তিনি সদর হাসপাতালে আসলেও এখানেও ভ্যাকসিন পাননি।
তিনি জানান, এত দূর থেকে এসেও ভ্যাকসিন পাননি। সরকারি হাসপাতালে যদি ভ্যাকসিন না থাকে, তাহলে গরিবের চিকিৎসা হয় কীভাবে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে।
ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের শান্তিরহাট থেকে আসা রোগীর স্বজন জানান, সন্তানকে কুকুরে কামড় দেওয়ার পর ভ্যাকসিন দেওয়াতে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু ভ্যাকসিন নেই। পরে বাধ্য হয়ে চারজন মিলে টাকা তুলে একটি ভ্যাকসিন কিনেছি। ওই ভ্যাকসিন দিয়ে বাড়ি ফিরছি।
আরেক রোগীর স্বজন লিমা আক্তার জানান, ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভ্যাকসিন না পেয়ে ভোলার শহরের বেশ কয়েকটি ফার্মেসিতে খোঁজ করে তারপর ভ্যাকসিন পেয়েছেন। ফার্মেসিতেও ভ্যাকসিন সচরাচর পাওয়া যায় না। এ অবস্থায় আমাদের অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই।
ভোলার শহরের স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. হারুন অর রশিদ জানান, ভোলার শহর থেকে গ্রাম—সব রাস্তা ও বাড়ির আশপাশে বর্তমানে কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে।
সঙ্গে কুকুরের আক্রমণও বেড়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ভোলা সদর হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেই। এমনকি ভোলার ফার্মেসিগুলোতেও ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট। আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবো দ্রুত যেন এ সমস্যার সমাধান করেন।
ভোলা সদর রোডের ফার্মেসি ব্যবসায়ী মো. আরিফ ও মো. ইকবাল হোসেন জানান, বিগত দুই মাস ধরে কোম্পানিগুলো আমাদের ভ্যাকসিন চাহিদা অনুযায়ী দিতে পারছে না। আমাদের দৈনিক প্রয়োজন ৫০টি, সেখানে আমাদের সপ্তাহে দেয় ১০-২০টি। তাই আমরাও ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারছি না।
ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান জানান, দুই মাস ধরে ভ্যাকসিন নেই। এতে রোগীদের সেবা দিতে পারছেন না। তবে দ্রুত ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
এছাড়াও বাজারেও ভ্যাকসিনের সংকট রয়েছে। তাই সবাইকে কুকুর ও বিড়াল থেকে সাবধানে থাকার পাশাপাশি আঁচড় বা কামড় দিলে অন্তত ৩০ মিনিট সাবান-পানিতে ধুয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৩৭
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৩২
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:২২
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:১৩