কুয়াকাটা সৈকত রক্ষায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা প্রকল্প দুই যুগেও বাস্তবায়ন হয়নি। শুধু পরিকল্পনা প্রস্তাবনায় ঘুরপাক খাচ্ছে। এছাড়া জরুরি মেরামতের নামে জিওব্যাগ, জিওটিউব স্থাপনসহ নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও এখন চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। কারণ এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সৈকতে বালু খনন করে ওই বালু জিওব্যাগ ও জিওটিউবে দেওয়ায় সৈকতে কুয়া হয়ে গেছে। বিচটি এবড়ো-থেবড়ো হয়ে গেছে।
জোয়ারের সময় এসব কুয়া এখন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। সবশেষ শূন্য পয়েন্টে সরদার মার্কেট ঘেঁষা সৈকতে বুধবার বেলা ১১টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে গোসলে নেমে পর্যটক মিয়া সামাদ সিদ্দিকী ওরফে পারভেজের (১৭) সলিল সমাধি ঘটে। ঘূর্ণিস্রোতে ভেসে যাওয়া ওই পর্যটককে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল প্রায় আড়াই ঘণ্টা পরে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
নিহত পর্যটক মাগুরা জেলার হাজীপুর পশ্চিম বাড়িয়াল এলাকার অলিউল ইসলামের ছেলে। তিনি খুলনার খালিশপুরে ‘সেভ আওয়ার সোল (এসওএস) ইয়ুথ হাউস’ নামের একটি বেসরকারি এতিমখানায় অফিস প্রোগ্রামার হিসাবে দায়িত্ব পালন করতেন।
এ বছরের ২৫ জুলাই ভেসে যাওয়ার প্রাক্কালে শূন্য পয়েন্টে তানভির (২৩) নামের এক পর্যটককে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এভাবে প্রতি বছর সৈকতে গোসলে ভেসে যাওয়ার খবর মিলছে।
স্থানীয়রা ও পর্যটকরা কুয়াকাটা সৈকতের শূন্য পয়েন্ট থেকে আশপাশ এলাকাকে জোয়ারের সময় গোসলের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক মনে করছেন। কেউ কেউ মৃত্যুকূপও মনে করছেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সৈকতটি এখন নদীর পাড়ের মতো হয়ে গেছে। জোয়ারের সময় ওয়াকিং জোন নেই। বিশেষ করে ট্যুরিজম পার্ক থেকে মিরাবাড়ি পর্যন্ত সৈকতটি জোয়ারের সময় পর্যটকের জন্য ঝুঁকি বহুগুণে বেড়েছে।
এই তিন কিলোমিটার এলাকার ভাঙন রক্ষার নামে গত এক যুগে যে যার মতো বালু উত্তোলন করে এবড়ো-থেবড়ো করে দিয়েছে। স্থানীয়রা বাধা দিলে বলা হয়েছে, জোয়ারের সময় লেভেল হয়ে যাবে। এছাড়া এই সৈকত থেকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বালু উত্তোলন করে ব্যবসা-বাণিজ্য করা হয়েছে। ফলে শূন্য পয়েন্টে গোসলের জন্য বিপজ্জনক হয়ে গেছে।
অপরদিকে সৈকতের মিরাবাড়ি থেকে পশ্চিম দিকের খাজুরা পর্যন্ত এবং ট্যুরিজম পার্ক থেকে গঙ্গামতি পর্যন্ত জোয়ারের সময় সৈকত অনেক কম ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। একই অবস্থা ঝাউবাগান থেকে পূর্ব দিকের সৈকতের। এখানটার স্লোপ এবড়ো-থেবড়ো নয়। স্লোপ লেভেল ভাটার সময় চোখে দেখলেই এই ব্যত্যয় দেখা যায়।
আব্দুর রশিদ নামের এক খুটা জেলে দাবি করেন, বালু উত্তোলন ছাড়াও ২০২১ সাল থেকে পায়রা বন্দরের চ্যানেলে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করার পর থেকে সাগরের ভাঙন বহুগুণে বেড়ে গেছে। স্রোতের তোড় এখন কিনার থেকে যায়।
ফলে ভাঙন বেড়েছে। তবে তার এই ধারণাভিত্তিক অভিযোগের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা। কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শাহ আলম জানান, জরুরি প্রটেকশনের জন্য সঠিকভাবেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখানে জিওব্যাগ ও জিওটিউবের কোনো বিকল্প নেই।
এছাড়া বিচের বেলাভূমিতে দেওয়া পুরনো জিওব্যাগ এখন অপসারণ করা হবে আত্মঘাতী। কেননা, বালুতে অর্ধেক দেবে যাওয়া জিওব্যাগ ঢেউয়ের ঝাপটা প্রতিরোধ করছে।
আর তুলে ফেললে সৈকত আরও দ্রুত সাগরে বিলীন হবে। তবে পর্যটক-দর্শনার্থীকে গোসলের জন্য সতর্ক অবস্থান ও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। ব্যক্তিগতভাবে সৈকতের বালু কেউ তুললে এটি বন্ধ করতে হবে। আর স্থায়ীভাবে প্রতিরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।
সূত্র মতে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৮ নম্বর পোল্ডারের ১৭ দশমিক ২৫০তম কিলোমিটার থেকে ৩৭ দশমিক ২৫০তম কিমি পর্যন্ত বেড়িবাঁধের বাইরের দীর্ঘ ২০ কিলোমিটার মূলত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এলাকা নির্ধারণ করা রয়েছে।
এর মধ্যে গঙ্গামতি লেকের ২৪ দশমিক ২৫০তম কিমি থেকে আন্ধারমানিক নদী মোহনার ৩৪ দশমিক ৭৫০তম কিমি পর্যন্ত সাড়ে দশ কিলোমিটার সৈকত সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়। যেখানে মূলত পর্যটকরা বিচরণ করেন।
এই সাড়ে দশ কিলোমিটারের মধ্যে ২৭ দশমিক ৪০০ কিলোমিটার থেকে ৩২ দশমিক ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাঁচ দশমিক এক কিলোমিটার সাগরের তীব্র ভাঙন এলাকা। বর্তমানে সৈকতে ঝুঁকিপূর্ণ পাঁচ কিলোমিটার অংশের মধ্যে আড়াই কিলোমিটার খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু কখনোই ঝুঁকিপূর্ণ পুরো পাঁচ কিলোমিটার জরুরিভাবে প্রটেকশন দেওয়া হয়নি। মূলত শূন্য পয়েন্টের আশপাশের স্থাপনা রক্ষার নামে বর্ষা মৌসুমের আগে আগে এই জরুরি প্রটেকশন দেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এ বছরও বরাবরের মতো ট্যুরিজম পার্ক থেকে ২৯ দশমিক ৫০০ মিটার থেকে ৩০ দশমিক ৬০০তম অংশের এক কিলোমিটার একশ মিটার এলাকা খুবই বিধ্বস্ত দশায় রয়েছে।
কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড ট্যুরিজম পার্ক থেকে শূন্য পয়েন্ট পর্যন্ত দুই-তিন শ’ মিটার এলাকা জিওটিউব দিয়ে সাময়িক প্রটেকশন দিচ্ছে। যা নিয়েও স্থানীয়দের প্রশ্ন রয়েছে।
কারণ সাগরের বেলাভূমি থেকে ড্রেজার লাগিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এছাড়া কেন বর্ষা মৌসুমের আগেই এই প্রটেকশন দেওয়া হলো না, এ নিয়ে মানুষ ক্ষুব্ধ মনোভাব পোষণ করেন।
পরিবেশ ও উন্নয়ন কর্মী কেএম বাচ্চু জানান, বর্তমানে সীবিচটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে। প্রশস্ত বিচটি জোয়ারের সময় ব্যবহৃত হয় না, শুধু গোসল করতে পারে। ভাটায় পর্যটক বিচ ব্যবহার করতে পারে।
এই বিচকে পুঁজি করে অনেকে বালুর ব্যবসা করেছে। বর্তমানে ছেঁড়া, শ্যাওলা ধরা টিউব ও জিওব্যাগের মাঝখানে গর্ত হয়ে গেছে। জোয়ারের সময় ওই সমস্ত জায়গায় ঘূর্ণিস্রোত তৈরি হয়।
যেখানে পর্যটকরা ভেসে প্রাণহানির মতো দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটেই চলছে। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত রক্ষায় সরকারের আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে। স্থায়ী প্রটেকশন বাস্তবায়নের দাবি তার।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মোতালেব শরীফ জানান, সৈকতের শূন্য পয়েন্টে জিওব্যাগ দেওয়া হয়েছে সৈকতের বালু কেটে। সৈকত ঢালু হয়ে গেছে। ব্যাগের আশপাশে জোয়ারের সময় ঢেউয়ের তোড়ে ঘূর্ণিস্রোত হয়। সেখানে পর্যটকরা পড়ে যাচ্ছে, ভেসে যাচ্ছে। স্থায়ী প্রটেকশন না দিলে বড় ধরনের সর্বনাশ হবে সৈকতের।
পাথর কিংবা ব্লক দিয়ে স্থায়ী প্রটেকশন দেওয়া প্রয়োজন বলে তার দাবি। তারা বিষয়টি বারবার মৌখিক ও লিখিতভাবে সরকারের কাছে জানিয়েছেন। কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা হতাশা ব্যক্ত করেন ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, বিচ থেকে কেউ ব্যক্তিগতভাবে বালু তুললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া শূন্য পয়েন্টে গোসলে সতর্ক থাকার জন্য পর্যটক-দর্শনার্থীর জন্য সচেতনতামূলক বিলবোর্ড দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গোসলের জন্য শূন্য পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ থাকলে এটি এড়ানো যায় কি না, তা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

৩০ জুলাই, ২০২৬ ১৩:২৫
পটুয়াখালীর বাউফলে এক গৃহবধূকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে দাসপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ফারুক হোসেন প্যাদাকে (৪০) মারধর করার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নে খেজুরবাড়ীয়া গ্রমে এ ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ৮টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ফারুক হোসেন প্যাদার বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ এনে ওই গৃহবধূর স্বামী পারভেজ সহ কয়েকজন তাকে জিজ্ঞাসা করলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহত ফারুককে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফারুক হোসেন প্যাদা বলেন, স্থানীয় সাইদুল, পারভেজ মৃধা সহ তাদের বাড়ির ৪-৫ জন আমাকে মারধর করেছে। তারা আমার কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে। অতীতে তাদের সঙ্গে আমার বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে আমার বিরুদ্ধে এক নারীর সম্পর্ক রয়েছে বলে গুজব ছড়াচ্ছে। আমি তাদের এ ধরনের মিথ্যা অপবাদ না ছড়ানোর অনুরোধ করি। আমি কোনো নারীকে উত্ত্যক্ত করিনি। তারপরও কথিত অভিযোগে আমাকে মারধর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ওই গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, ফারুক দীর্ঘদিন ধরে আমার পুত্রবধূকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করত। তাকে টাকা-পয়সার প্রলোভন দিত। একপর্যায়ে সে আমাদের পরিবারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় কানাঘুষা চলছিল। প্রথমে আমরা তা বিশ্বাস করিনি। পরে কিছু ছবি দেখানোর পর বিষয়টি বিশ্বাস করি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশও হয়েছিল। এরপরও সে আমার পুত্রবধূকে কুপ্রস্তাব দিত।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, মারধরের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২৯ জুলাই, ২০২৬ ১৭:১৬
পটুয়াখালীর দুমকিতে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ফিরোজ খান এবং মিরাজ খান গং কর্তৃক সাবেক ছাত্রনেতা সাইফুল আলম শুভ খানসহ কয়েকজন যুবকের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দুমকি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন হামলার শিকার সাইফুল আলম।
জানা যায়, উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মৃত্যু সোলাইমান খানের ছেলে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ফিরোজ খান প্রায় এক যুগ ধরে দাপটের সাথে গাঁজা ইয়াবার ব্যবসা করে আসছে। ব্যবসা করতে গিয়ে তিনি বেশ কয়েকবার মাদকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মাদকসহ গ্রেফতার হন। কিছুদিন জেল খেটে বেরিয়ে পূনরায় বীরদর্পে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ফিরোজ খান ও মিরাজ খানের প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করেন একই এলাকার বাসিন্দা সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ সাইফুল আলম শুভ সহ কয়েকজন যুবক।এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থেকে গত ২৪ জুলাই রাতে ফিরোজ খান ও মিরাজ খানসহ তাদের সহযোগীদের নিয়ে সাইফুল আলম শুভ, মনির হোসেন,আবু তাহের সহ কয়েকজন যুবকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এবং এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সেলিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

২৯ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৫৩
বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী নারী। চলতি মাসের ২২ তারিখ পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে বাদি হয়ে মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে, মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় এজাহার পূর্বক আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৭ বছর আগে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মারা যান। এরপর তিনি একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বাবা বাড়ি ইটবাড়িয়া ইউনিয়নে চলে যান। সেখানে তাকে দেখার পর শহিদুল ইসলাম বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দেন। এতে রাজী না হলে শহিদুল তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেন।
চলতি বছরের ২৪ মার্চ ওই বিধবা ভুক্তভোগী নারীকে প্রলোভন দেখিয়ে শহরের শেরে বাংলা সড়কে শহীদুলের বোনের বাসায় নিয়ে গেলে কক্ষের মধ্যে আটকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত শহিদুল। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তিনি।
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শহরে নিয়ে আসা হয়। পরে শহিদুলের বোনের বাসায় নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়েছেন। পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা এজাহার পূর্বক আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান বলেন, যেহেতু তার (মো.শহিদুল) নামে আদালতে মামলা হয়েছে, এ বিষয়ে আমাদের কিছু বলা উচিত না। আদালত তার বিচার করবেন। আদালত দেখবেন সত্য নাকি মিথ্যা। দোষী হলে পরে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বরিশালটাইমসকে বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত মামলার কপি হাতে পাইনি। কপি হাতে পেলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আসামির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

০৮ আগস্ট, ২০২৫ ১২:৪৪
কুয়াকাটা সৈকত রক্ষায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা প্রকল্প দুই যুগেও বাস্তবায়ন হয়নি। শুধু পরিকল্পনা প্রস্তাবনায় ঘুরপাক খাচ্ছে। এছাড়া জরুরি মেরামতের নামে জিওব্যাগ, জিওটিউব স্থাপনসহ নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও এখন চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। কারণ এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সৈকতে বালু খনন করে ওই বালু জিওব্যাগ ও জিওটিউবে দেওয়ায় সৈকতে কুয়া হয়ে গেছে। বিচটি এবড়ো-থেবড়ো হয়ে গেছে।
জোয়ারের সময় এসব কুয়া এখন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। সবশেষ শূন্য পয়েন্টে সরদার মার্কেট ঘেঁষা সৈকতে বুধবার বেলা ১১টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে গোসলে নেমে পর্যটক মিয়া সামাদ সিদ্দিকী ওরফে পারভেজের (১৭) সলিল সমাধি ঘটে। ঘূর্ণিস্রোতে ভেসে যাওয়া ওই পর্যটককে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল প্রায় আড়াই ঘণ্টা পরে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
নিহত পর্যটক মাগুরা জেলার হাজীপুর পশ্চিম বাড়িয়াল এলাকার অলিউল ইসলামের ছেলে। তিনি খুলনার খালিশপুরে ‘সেভ আওয়ার সোল (এসওএস) ইয়ুথ হাউস’ নামের একটি বেসরকারি এতিমখানায় অফিস প্রোগ্রামার হিসাবে দায়িত্ব পালন করতেন।
এ বছরের ২৫ জুলাই ভেসে যাওয়ার প্রাক্কালে শূন্য পয়েন্টে তানভির (২৩) নামের এক পর্যটককে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এভাবে প্রতি বছর সৈকতে গোসলে ভেসে যাওয়ার খবর মিলছে।
স্থানীয়রা ও পর্যটকরা কুয়াকাটা সৈকতের শূন্য পয়েন্ট থেকে আশপাশ এলাকাকে জোয়ারের সময় গোসলের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক মনে করছেন। কেউ কেউ মৃত্যুকূপও মনে করছেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সৈকতটি এখন নদীর পাড়ের মতো হয়ে গেছে। জোয়ারের সময় ওয়াকিং জোন নেই। বিশেষ করে ট্যুরিজম পার্ক থেকে মিরাবাড়ি পর্যন্ত সৈকতটি জোয়ারের সময় পর্যটকের জন্য ঝুঁকি বহুগুণে বেড়েছে।
এই তিন কিলোমিটার এলাকার ভাঙন রক্ষার নামে গত এক যুগে যে যার মতো বালু উত্তোলন করে এবড়ো-থেবড়ো করে দিয়েছে। স্থানীয়রা বাধা দিলে বলা হয়েছে, জোয়ারের সময় লেভেল হয়ে যাবে। এছাড়া এই সৈকত থেকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বালু উত্তোলন করে ব্যবসা-বাণিজ্য করা হয়েছে। ফলে শূন্য পয়েন্টে গোসলের জন্য বিপজ্জনক হয়ে গেছে।
অপরদিকে সৈকতের মিরাবাড়ি থেকে পশ্চিম দিকের খাজুরা পর্যন্ত এবং ট্যুরিজম পার্ক থেকে গঙ্গামতি পর্যন্ত জোয়ারের সময় সৈকত অনেক কম ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। একই অবস্থা ঝাউবাগান থেকে পূর্ব দিকের সৈকতের। এখানটার স্লোপ এবড়ো-থেবড়ো নয়। স্লোপ লেভেল ভাটার সময় চোখে দেখলেই এই ব্যত্যয় দেখা যায়।
আব্দুর রশিদ নামের এক খুটা জেলে দাবি করেন, বালু উত্তোলন ছাড়াও ২০২১ সাল থেকে পায়রা বন্দরের চ্যানেলে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করার পর থেকে সাগরের ভাঙন বহুগুণে বেড়ে গেছে। স্রোতের তোড় এখন কিনার থেকে যায়।
ফলে ভাঙন বেড়েছে। তবে তার এই ধারণাভিত্তিক অভিযোগের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা। কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শাহ আলম জানান, জরুরি প্রটেকশনের জন্য সঠিকভাবেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখানে জিওব্যাগ ও জিওটিউবের কোনো বিকল্প নেই।
এছাড়া বিচের বেলাভূমিতে দেওয়া পুরনো জিওব্যাগ এখন অপসারণ করা হবে আত্মঘাতী। কেননা, বালুতে অর্ধেক দেবে যাওয়া জিওব্যাগ ঢেউয়ের ঝাপটা প্রতিরোধ করছে।
আর তুলে ফেললে সৈকত আরও দ্রুত সাগরে বিলীন হবে। তবে পর্যটক-দর্শনার্থীকে গোসলের জন্য সতর্ক অবস্থান ও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। ব্যক্তিগতভাবে সৈকতের বালু কেউ তুললে এটি বন্ধ করতে হবে। আর স্থায়ীভাবে প্রতিরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।
সূত্র মতে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৮ নম্বর পোল্ডারের ১৭ দশমিক ২৫০তম কিলোমিটার থেকে ৩৭ দশমিক ২৫০তম কিমি পর্যন্ত বেড়িবাঁধের বাইরের দীর্ঘ ২০ কিলোমিটার মূলত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এলাকা নির্ধারণ করা রয়েছে।
এর মধ্যে গঙ্গামতি লেকের ২৪ দশমিক ২৫০তম কিমি থেকে আন্ধারমানিক নদী মোহনার ৩৪ দশমিক ৭৫০তম কিমি পর্যন্ত সাড়ে দশ কিলোমিটার সৈকত সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়। যেখানে মূলত পর্যটকরা বিচরণ করেন।
এই সাড়ে দশ কিলোমিটারের মধ্যে ২৭ দশমিক ৪০০ কিলোমিটার থেকে ৩২ দশমিক ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাঁচ দশমিক এক কিলোমিটার সাগরের তীব্র ভাঙন এলাকা। বর্তমানে সৈকতে ঝুঁকিপূর্ণ পাঁচ কিলোমিটার অংশের মধ্যে আড়াই কিলোমিটার খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু কখনোই ঝুঁকিপূর্ণ পুরো পাঁচ কিলোমিটার জরুরিভাবে প্রটেকশন দেওয়া হয়নি। মূলত শূন্য পয়েন্টের আশপাশের স্থাপনা রক্ষার নামে বর্ষা মৌসুমের আগে আগে এই জরুরি প্রটেকশন দেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এ বছরও বরাবরের মতো ট্যুরিজম পার্ক থেকে ২৯ দশমিক ৫০০ মিটার থেকে ৩০ দশমিক ৬০০তম অংশের এক কিলোমিটার একশ মিটার এলাকা খুবই বিধ্বস্ত দশায় রয়েছে।
কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড ট্যুরিজম পার্ক থেকে শূন্য পয়েন্ট পর্যন্ত দুই-তিন শ’ মিটার এলাকা জিওটিউব দিয়ে সাময়িক প্রটেকশন দিচ্ছে। যা নিয়েও স্থানীয়দের প্রশ্ন রয়েছে।
কারণ সাগরের বেলাভূমি থেকে ড্রেজার লাগিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এছাড়া কেন বর্ষা মৌসুমের আগেই এই প্রটেকশন দেওয়া হলো না, এ নিয়ে মানুষ ক্ষুব্ধ মনোভাব পোষণ করেন।
পরিবেশ ও উন্নয়ন কর্মী কেএম বাচ্চু জানান, বর্তমানে সীবিচটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে। প্রশস্ত বিচটি জোয়ারের সময় ব্যবহৃত হয় না, শুধু গোসল করতে পারে। ভাটায় পর্যটক বিচ ব্যবহার করতে পারে।
এই বিচকে পুঁজি করে অনেকে বালুর ব্যবসা করেছে। বর্তমানে ছেঁড়া, শ্যাওলা ধরা টিউব ও জিওব্যাগের মাঝখানে গর্ত হয়ে গেছে। জোয়ারের সময় ওই সমস্ত জায়গায় ঘূর্ণিস্রোত তৈরি হয়।
যেখানে পর্যটকরা ভেসে প্রাণহানির মতো দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটেই চলছে। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত রক্ষায় সরকারের আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে। স্থায়ী প্রটেকশন বাস্তবায়নের দাবি তার।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মোতালেব শরীফ জানান, সৈকতের শূন্য পয়েন্টে জিওব্যাগ দেওয়া হয়েছে সৈকতের বালু কেটে। সৈকত ঢালু হয়ে গেছে। ব্যাগের আশপাশে জোয়ারের সময় ঢেউয়ের তোড়ে ঘূর্ণিস্রোত হয়। সেখানে পর্যটকরা পড়ে যাচ্ছে, ভেসে যাচ্ছে। স্থায়ী প্রটেকশন না দিলে বড় ধরনের সর্বনাশ হবে সৈকতের।
পাথর কিংবা ব্লক দিয়ে স্থায়ী প্রটেকশন দেওয়া প্রয়োজন বলে তার দাবি। তারা বিষয়টি বারবার মৌখিক ও লিখিতভাবে সরকারের কাছে জানিয়েছেন। কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা হতাশা ব্যক্ত করেন ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, বিচ থেকে কেউ ব্যক্তিগতভাবে বালু তুললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া শূন্য পয়েন্টে গোসলে সতর্ক থাকার জন্য পর্যটক-দর্শনার্থীর জন্য সচেতনতামূলক বিলবোর্ড দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গোসলের জন্য শূন্য পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ থাকলে এটি এড়ানো যায় কি না, তা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
পটুয়াখালীর বাউফলে এক গৃহবধূকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে দাসপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ফারুক হোসেন প্যাদাকে (৪০) মারধর করার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নে খেজুরবাড়ীয়া গ্রমে এ ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ৮টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ফারুক হোসেন প্যাদার বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ এনে ওই গৃহবধূর স্বামী পারভেজ সহ কয়েকজন তাকে জিজ্ঞাসা করলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহত ফারুককে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফারুক হোসেন প্যাদা বলেন, স্থানীয় সাইদুল, পারভেজ মৃধা সহ তাদের বাড়ির ৪-৫ জন আমাকে মারধর করেছে। তারা আমার কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে। অতীতে তাদের সঙ্গে আমার বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে আমার বিরুদ্ধে এক নারীর সম্পর্ক রয়েছে বলে গুজব ছড়াচ্ছে। আমি তাদের এ ধরনের মিথ্যা অপবাদ না ছড়ানোর অনুরোধ করি। আমি কোনো নারীকে উত্ত্যক্ত করিনি। তারপরও কথিত অভিযোগে আমাকে মারধর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ওই গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, ফারুক দীর্ঘদিন ধরে আমার পুত্রবধূকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করত। তাকে টাকা-পয়সার প্রলোভন দিত। একপর্যায়ে সে আমাদের পরিবারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় কানাঘুষা চলছিল। প্রথমে আমরা তা বিশ্বাস করিনি। পরে কিছু ছবি দেখানোর পর বিষয়টি বিশ্বাস করি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশও হয়েছিল। এরপরও সে আমার পুত্রবধূকে কুপ্রস্তাব দিত।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, মারধরের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়াখালীর দুমকিতে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ফিরোজ খান এবং মিরাজ খান গং কর্তৃক সাবেক ছাত্রনেতা সাইফুল আলম শুভ খানসহ কয়েকজন যুবকের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দুমকি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন হামলার শিকার সাইফুল আলম।
জানা যায়, উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মৃত্যু সোলাইমান খানের ছেলে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ফিরোজ খান প্রায় এক যুগ ধরে দাপটের সাথে গাঁজা ইয়াবার ব্যবসা করে আসছে। ব্যবসা করতে গিয়ে তিনি বেশ কয়েকবার মাদকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মাদকসহ গ্রেফতার হন। কিছুদিন জেল খেটে বেরিয়ে পূনরায় বীরদর্পে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ফিরোজ খান ও মিরাজ খানের প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করেন একই এলাকার বাসিন্দা সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ সাইফুল আলম শুভ সহ কয়েকজন যুবক।এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থেকে গত ২৪ জুলাই রাতে ফিরোজ খান ও মিরাজ খানসহ তাদের সহযোগীদের নিয়ে সাইফুল আলম শুভ, মনির হোসেন,আবু তাহের সহ কয়েকজন যুবকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এবং এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সেলিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী নারী। চলতি মাসের ২২ তারিখ পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে বাদি হয়ে মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে, মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় এজাহার পূর্বক আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৭ বছর আগে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মারা যান। এরপর তিনি একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বাবা বাড়ি ইটবাড়িয়া ইউনিয়নে চলে যান। সেখানে তাকে দেখার পর শহিদুল ইসলাম বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দেন। এতে রাজী না হলে শহিদুল তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেন।
চলতি বছরের ২৪ মার্চ ওই বিধবা ভুক্তভোগী নারীকে প্রলোভন দেখিয়ে শহরের শেরে বাংলা সড়কে শহীদুলের বোনের বাসায় নিয়ে গেলে কক্ষের মধ্যে আটকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত শহিদুল। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তিনি।
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শহরে নিয়ে আসা হয়। পরে শহিদুলের বোনের বাসায় নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়েছেন। পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা এজাহার পূর্বক আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান বলেন, যেহেতু তার (মো.শহিদুল) নামে আদালতে মামলা হয়েছে, এ বিষয়ে আমাদের কিছু বলা উচিত না। আদালত তার বিচার করবেন। আদালত দেখবেন সত্য নাকি মিথ্যা। দোষী হলে পরে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বরিশালটাইমসকে বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত মামলার কপি হাতে পাইনি। কপি হাতে পেলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আসামির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’