নেপাল ও চীনের স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়াল। এখনো নিখোঁজ সাড়ে চার হাজার মানুষ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুই দেশের দেওয়া সর্বশেষ এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা বলেছে, তাদের দেশে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৯৮৭ জনে। অপরদিকে তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছিল চীন। এতে দুই দেশ মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩ জনে পৌঁছেছে।
৯৮৭টি মরদেহের পাশাপাশি অনেককে জীবিত উদ্ধার করেছে নেপাল। এতে করে দেশটিতে এখন নিখোঁজের সংখ্যা কমে ৩ হাজার ৯১৬ জনে পৌঁছেছে। অপরদিকে তিব্বতে নিখোঁজ আছেন ৫৪৬ জন।
ফলে দুই দেশে মোট নিখোঁজ আছেন ৪ হাজার ৪৬২ জন। ভয়াবহ ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সপ্তম দিনের উদ্ধার কাজ চলছে আজ। এখনো যেহেতু সাড়ে চার হাজার মানুষ নিখোঁজ আছেন, তাই নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি। যারা বিশ্বের ৩০টি দেশ থেকে হিমালয়ের দেশটিতে ঘুরতে এসেছিলেন। অপরদিকে চীনে ২৩ দেশের ২৬১ বিদেশি নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদীতে গত বুধবার আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটে। কিন্তু ওই পানির শক্তি এত বেশি ছিল যে বন্যায় নিহত মানুষের মরদেহ ভেসে কয়েকশ মাইল দূরে চলে এসেছে। পর্যাপ্ত ফ্রিজার না থাকায় মরদেহগুলো নিয়ে হিমশিম খাচ্ছিল নেপাল। তাই আপাতত ডিএনএ সংগ্রহ করে সেগুলো গণকবরে সমাহিত করা হচ্ছে। পরবর্তীতে পরিচয় শনাক্ত হলে কবর থেকে তুলে সেগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

২৭ আগস্ট, ২০২৬ ২০:১৮
নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় পাহাড়ি নদীর আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬০ জনে। মর্মান্তিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও প্রায় এক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে অধিকাংশই বিদেশি পর্যটক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৩৬০ জনে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছেন নেপালি পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে। এ ছাড়া বহু বিদেশি পর্যটক ও স্থানীয় অধিবাসীর সঙ্গে এখনও সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
পুলিশ ও উদ্ধারকারী সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ভাটির জেলা চিতওয়ানে ১৩২টি, পূর্ব নওয়ালপরাসিতে ৮২টি, ধাডিংয়ে ৩৩টি, গোর্খায় ৩০টি, রাসুয়ায় ১৭টি, নুয়াকোটে ২৮টি তানাহুনে ২২টি এবং পশ্চিম নওয়ালপরাসিতে ১৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা, নিরাপত্তাকর্মী এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ অন্তত ৮২৬ জন সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।
তাদের মধ্যে উদ্ধার ও নিরাপত্তায় নিয়োজিত ৪৪ জন নেপালি সেনাবাহিনীর সদস্য, ২৮ জন নেপাল পুলিশের সদস্য এবং ১৩ জন সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। এ ছাড়া যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা পর্যটকদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক এবং ১২৭ জন নেপালি পর্যটক রয়েছেন।
তবে রয়টার্স জানিয়েছে, পাহাড়ি নদীর আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিখোঁজের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত এক হাজার জনে। তাদের মধ্যে নেপাল ও চীনের তিব্বত অংশ মিলে অন্তত ৭০০ জন বিদেশি পর্যটক রয়েছেন। নিখোঁজের তালিকায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের নাগরিকদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, অন্তত ১৭৭ জন।
নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় পাহাড়ি নদীর আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬০ জনে। মর্মান্তিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও প্রায় এক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে অধিকাংশই বিদেশি পর্যটক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৩৬০ জনে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছেন নেপালি পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে। এ ছাড়া বহু বিদেশি পর্যটক ও স্থানীয় অধিবাসীর সঙ্গে এখনও সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
পুলিশ ও উদ্ধারকারী সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ভাটির জেলা চিতওয়ানে ১৩২টি, পূর্ব নওয়ালপরাসিতে ৮২টি, ধাডিংয়ে ৩৩টি, গোর্খায় ৩০টি, রাসুয়ায় ১৭টি, নুয়াকোটে ২৮টি তানাহুনে ২২টি এবং পশ্চিম নওয়ালপরাসিতে ১৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা, নিরাপত্তাকর্মী এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ অন্তত ৮২৬ জন সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।
তাদের মধ্যে উদ্ধার ও নিরাপত্তায় নিয়োজিত ৪৪ জন নেপালি সেনাবাহিনীর সদস্য, ২৮ জন নেপাল পুলিশের সদস্য এবং ১৩ জন সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। এ ছাড়া যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা পর্যটকদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক এবং ১২৭ জন নেপালি পর্যটক রয়েছেন।
তবে রয়টার্স জানিয়েছে, পাহাড়ি নদীর আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিখোঁজের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত এক হাজার জনে। তাদের মধ্যে নেপাল ও চীনের তিব্বত অংশ মিলে অন্তত ৭০০ জন বিদেশি পর্যটক রয়েছেন। নিখোঁজের তালিকায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের নাগরিকদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, অন্তত ১৭৭ জন।

২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৩৩
গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিপর্যয় এখন আর আগের মতো সংবাদ শিরোনামে আসে না। আল-শিফা হাসপাতালে ২০২৩ সালের নভেম্বরের মতো সহিংস অভিযান, হাসপাতালের ওয়ার্ডে বোমা হামলা কিংবা হাসপাতাল চত্বরে গুলিতে মানুষ হত্যার খবরও তুলনামূলক কম শোনা যাচ্ছে। চিকিৎসাকেন্দ্রের নিচে গোপন সুড়ঙ্গ থাকার অভিযোগও এখন আলোচনার বাইরে। অথচ এর অর্থ এই নয় যে, গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বরং নীরবে আরও গভীর সংকটে পড়ছে পুরো চিকিৎসাব্যবস্থা।
এই সংকট সবচেয়ে স্পষ্ট বাস্তুচ্যুতি শিবিরগুলোতে। যুদ্ধের কারণে গৃহহীন ও দরিদ্র মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা এসব মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পৌঁছে দিতে পারছে না। একইভাবে অসুস্থ ও আহত ব্যক্তিদের পক্ষেও সীমিতসংখ্যক সচল চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পয়োনিষ্কাশনের দুরবস্থা, নিরাপদ পানীয় জলের সংকট এবং অসহনীয় গরম বা ঠান্ডার মধ্যে বসবাস পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
সম্প্রতি গাজা সিটির নাসর এলাকায় হাসান সালামা স্কুলের ধ্বংসাবশেষের ওপর গড়ে ওঠা একটি অনানুষ্ঠানিক শিবির পরিদর্শনে দেখা যায়, ওই স্কুলের মাঠ ও অবশিষ্ট ভবনে শত শত গৃহহীন মানুষ তাঁবু টাঙিয়ে বসবাস করছেন। কোনো সংস্থা শিবিরটি পরিচালনা করে না। ফলে চিকিৎসাসহ নিয়মিত কোনো সেবার ব্যবস্থাও নেই।
২০২৪ সালের আগস্টে পাশের নাসর স্কুলের সঙ্গে ওই স্কুলেও বোমা হামলা হয়। এতে অন্তত ৩০ জন নিহত হন।
স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকের কয়েকজন চিকিৎসাকর্মী সেখানে একদিন বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। ওই দিন অন্তত ১৫০ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। রোগীদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনির সমস্যার মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের পাশাপাশি হেপাটাইটিস ও স্ক্যাবিসের মতো সংক্রমণও পাওয়া যায়। অনেক শিশুর মধ্যে জলবসন্ত, গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস, ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ দেখা গেছে।
বাস্তুচ্যুতি শিবিরে বসবাসকারী অনেকের জন্য চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানো এখন প্রায় অসম্ভব। যাতায়াতের খরচ, দীর্ঘ পথ, বাস্তুচ্যুতির ক্লান্তি এবং প্রচণ্ড গরমের কারণে জরুরি প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অনেকে চিকিৎসা নিতে দেরি করছেন।
এমনই এক রোগী ৪৬ বছর বয়সি এক ব্যক্তি। গোলার টুকরার আঘাতে তার পা গুরুতরভাবে আহত এবং হাঁটার জন্য ক্রাচের প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। কাছের আল-রান্তিসি হাসপাতাল আংশিকভাবে চালু থাকলেও সেখানে মূলত শিশু ও ক্যানসার রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। ফলে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব হয়নি। অন্য হাসপাতালে যেতে হলে শুধু যাতায়াতেই অন্তত ৮ ডলার খরচ করতে হত।
বাস্তুচ্যুতি শিবিরে বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষের জন্য এই অর্থও অনেক বেশি। অনেকে যেখানে প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছেন, সেখানে চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা তাদের কাছে প্রায় অসম্ভব। ফলে চিকিৎসা নিতে দেরি হওয়া, ওষুধের সংকট ও কঠিন জীবনযাপনের কারণে রোগ আরও জটিল হয়ে উঠছে।
গাজায় মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা গেলে এই পরিস্থিতি অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশেষ করে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ সেবা ফিরিয়ে আনা জরুরি। যুদ্ধের আগে গাজাজুড়ে ইউএনআরডব্লিউএর ২২টি ক্লিনিক ছিল। বর্তমানে মাত্র ছয়টি সচল রয়েছে।
গাজার ৩৪টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১৯টি আংশিকভাবে কার্যকর। ধ্বংসযজ্ঞের কারণে এসব হাসপাতালের অধিকাংশ ওয়ার্ডই আর চালু নেই। বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ মানুষের জন্য পুরো গাজায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার শয্যা রয়েছে মাত্র ২ হাজার ২০০টি। যুদ্ধের আগে শুধু আল-শিফা হাসপাতালেই ছিল ৭০০ শয্যা।
পরীক্ষাগার, অস্ত্রোপচার ও বিভিন্ন চিকিৎসাসেবার অনেক কিছুই এখন আর পাওয়া যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ওষুধের অভাবের পাশাপাশি চিকিৎসাকর্মীর সংকটও রয়েছে।
চিকিৎসাকেন্দ্র ধ্বংস ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির কারণে গাজায় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার কার্যত বিশেষ সুবিধায় পরিণত হয়েছে। তাই শুধু হাসপাতাল পুনর্নির্মাণ নয়, প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু করা এবং বাস্তুচ্যুতি শিবিরে বসবাসকারী সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কাছে সরাসরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে জরুরি ভিত্তিতে বড় ধরনের স্বাস্থ্য উদ্যোগ প্রয়োজন।
সূত্র: আল জাজিরা
গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিপর্যয় এখন আর আগের মতো সংবাদ শিরোনামে আসে না। আল-শিফা হাসপাতালে ২০২৩ সালের নভেম্বরের মতো সহিংস অভিযান, হাসপাতালের ওয়ার্ডে বোমা হামলা কিংবা হাসপাতাল চত্বরে গুলিতে মানুষ হত্যার খবরও তুলনামূলক কম শোনা যাচ্ছে। চিকিৎসাকেন্দ্রের নিচে গোপন সুড়ঙ্গ থাকার অভিযোগও এখন আলোচনার বাইরে। অথচ এর অর্থ এই নয় যে, গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বরং নীরবে আরও গভীর সংকটে পড়ছে পুরো চিকিৎসাব্যবস্থা।
এই সংকট সবচেয়ে স্পষ্ট বাস্তুচ্যুতি শিবিরগুলোতে। যুদ্ধের কারণে গৃহহীন ও দরিদ্র মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা এসব মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পৌঁছে দিতে পারছে না। একইভাবে অসুস্থ ও আহত ব্যক্তিদের পক্ষেও সীমিতসংখ্যক সচল চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পয়োনিষ্কাশনের দুরবস্থা, নিরাপদ পানীয় জলের সংকট এবং অসহনীয় গরম বা ঠান্ডার মধ্যে বসবাস পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
সম্প্রতি গাজা সিটির নাসর এলাকায় হাসান সালামা স্কুলের ধ্বংসাবশেষের ওপর গড়ে ওঠা একটি অনানুষ্ঠানিক শিবির পরিদর্শনে দেখা যায়, ওই স্কুলের মাঠ ও অবশিষ্ট ভবনে শত শত গৃহহীন মানুষ তাঁবু টাঙিয়ে বসবাস করছেন। কোনো সংস্থা শিবিরটি পরিচালনা করে না। ফলে চিকিৎসাসহ নিয়মিত কোনো সেবার ব্যবস্থাও নেই।
২০২৪ সালের আগস্টে পাশের নাসর স্কুলের সঙ্গে ওই স্কুলেও বোমা হামলা হয়। এতে অন্তত ৩০ জন নিহত হন।
স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকের কয়েকজন চিকিৎসাকর্মী সেখানে একদিন বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। ওই দিন অন্তত ১৫০ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। রোগীদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনির সমস্যার মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের পাশাপাশি হেপাটাইটিস ও স্ক্যাবিসের মতো সংক্রমণও পাওয়া যায়। অনেক শিশুর মধ্যে জলবসন্ত, গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস, ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ দেখা গেছে।
বাস্তুচ্যুতি শিবিরে বসবাসকারী অনেকের জন্য চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানো এখন প্রায় অসম্ভব। যাতায়াতের খরচ, দীর্ঘ পথ, বাস্তুচ্যুতির ক্লান্তি এবং প্রচণ্ড গরমের কারণে জরুরি প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অনেকে চিকিৎসা নিতে দেরি করছেন।
এমনই এক রোগী ৪৬ বছর বয়সি এক ব্যক্তি। গোলার টুকরার আঘাতে তার পা গুরুতরভাবে আহত এবং হাঁটার জন্য ক্রাচের প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। কাছের আল-রান্তিসি হাসপাতাল আংশিকভাবে চালু থাকলেও সেখানে মূলত শিশু ও ক্যানসার রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। ফলে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব হয়নি। অন্য হাসপাতালে যেতে হলে শুধু যাতায়াতেই অন্তত ৮ ডলার খরচ করতে হত।
বাস্তুচ্যুতি শিবিরে বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষের জন্য এই অর্থও অনেক বেশি। অনেকে যেখানে প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছেন, সেখানে চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা তাদের কাছে প্রায় অসম্ভব। ফলে চিকিৎসা নিতে দেরি হওয়া, ওষুধের সংকট ও কঠিন জীবনযাপনের কারণে রোগ আরও জটিল হয়ে উঠছে।
গাজায় মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা গেলে এই পরিস্থিতি অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশেষ করে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ সেবা ফিরিয়ে আনা জরুরি। যুদ্ধের আগে গাজাজুড়ে ইউএনআরডব্লিউএর ২২টি ক্লিনিক ছিল। বর্তমানে মাত্র ছয়টি সচল রয়েছে।
গাজার ৩৪টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১৯টি আংশিকভাবে কার্যকর। ধ্বংসযজ্ঞের কারণে এসব হাসপাতালের অধিকাংশ ওয়ার্ডই আর চালু নেই। বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ মানুষের জন্য পুরো গাজায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার শয্যা রয়েছে মাত্র ২ হাজার ২০০টি। যুদ্ধের আগে শুধু আল-শিফা হাসপাতালেই ছিল ৭০০ শয্যা।
পরীক্ষাগার, অস্ত্রোপচার ও বিভিন্ন চিকিৎসাসেবার অনেক কিছুই এখন আর পাওয়া যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ওষুধের অভাবের পাশাপাশি চিকিৎসাকর্মীর সংকটও রয়েছে।
চিকিৎসাকেন্দ্র ধ্বংস ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির কারণে গাজায় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার কার্যত বিশেষ সুবিধায় পরিণত হয়েছে। তাই শুধু হাসপাতাল পুনর্নির্মাণ নয়, প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু করা এবং বাস্তুচ্যুতি শিবিরে বসবাসকারী সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কাছে সরাসরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে জরুরি ভিত্তিতে বড় ধরনের স্বাস্থ্য উদ্যোগ প্রয়োজন।
সূত্র: আল জাজিরা

২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:০৮
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ পাঁচজন কমান্ডারের বিষয়ে তথ্য দিলে বড় পুরস্কার দেবে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, কিছু শর্তের ওপর ভিত্তি করে ওই পুরস্কারের মূল্য সর্বোচ্চ ১ কোটি ডলার হতে পারে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি এ ঘোষণা দেয়। শুধু তাই নয়, তথ্য প্রদানকারীদের প্রয়োজনে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।
ওই কমান্ডারগুলো হলেন—আইআরজিসির কমান্ডার আহমাদ ভাহিদি, খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের প্রধান আলী আবদোল্লাহি, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের ড্রোন ইউনিটের কমান্ডার সাঈদ আগাজানি, আইআরজিসির সাইবার-ইলেকট্রনিক কমান্ডের প্রধান হামিদরেজা লাশগারিয়ান এবং আইআরজিসির গোয়েন্দা দপ্তরের কমান্ডার মাজিদ খাদেমি।
মার্কিন কর্মসূচিটির তথ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকর্তা আইআরজিসির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখার নেতৃত্ব দেন। ওয়াশিংটনের দাবি, তাদের নেতৃত্বাধীন ইউনিটগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও স্থাপনার বিরুদ্ধে হামলা এবং মার্কিন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে সাইবার কার্যক্রমে জড়িত।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি আরও জানিয়েছে, তথ্য এমন হতে হবে যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান শনাক্ত করতে সহায়তা করে। তথ্যের গুরুত্ব অনুযায়ী আর্থিক পুরস্কারের পাশাপাশি নিরাপত্তার কারণে তথ্যদাতাকে স্থানান্তরের সুবিধাও দেওয়া হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালে আইআরজিসিকে ‘ফরেন টেররিস্ট অর্গানাইজেশন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। ওয়াশিংটনের ভাষ্য, ইরানের পররাষ্ট্রনীতিতে আইআরজিসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এর বিভিন্ন শাখা ও নেটওয়ার্কের কার্যক্রম মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা ও পুরস্কার কর্মসূচি ব্যবহার করে আসছে।
নতুন এই পুরস্কার ঘোষণা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই এলো। একই সময়ে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে। ফলে আইআরজিসির শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে এই পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী চাপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ পাঁচজন কমান্ডারের বিষয়ে তথ্য দিলে বড় পুরস্কার দেবে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, কিছু শর্তের ওপর ভিত্তি করে ওই পুরস্কারের মূল্য সর্বোচ্চ ১ কোটি ডলার হতে পারে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি এ ঘোষণা দেয়। শুধু তাই নয়, তথ্য প্রদানকারীদের প্রয়োজনে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।
ওই কমান্ডারগুলো হলেন—আইআরজিসির কমান্ডার আহমাদ ভাহিদি, খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের প্রধান আলী আবদোল্লাহি, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের ড্রোন ইউনিটের কমান্ডার সাঈদ আগাজানি, আইআরজিসির সাইবার-ইলেকট্রনিক কমান্ডের প্রধান হামিদরেজা লাশগারিয়ান এবং আইআরজিসির গোয়েন্দা দপ্তরের কমান্ডার মাজিদ খাদেমি।
মার্কিন কর্মসূচিটির তথ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকর্তা আইআরজিসির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখার নেতৃত্ব দেন। ওয়াশিংটনের দাবি, তাদের নেতৃত্বাধীন ইউনিটগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও স্থাপনার বিরুদ্ধে হামলা এবং মার্কিন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে সাইবার কার্যক্রমে জড়িত।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি আরও জানিয়েছে, তথ্য এমন হতে হবে যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান শনাক্ত করতে সহায়তা করে। তথ্যের গুরুত্ব অনুযায়ী আর্থিক পুরস্কারের পাশাপাশি নিরাপত্তার কারণে তথ্যদাতাকে স্থানান্তরের সুবিধাও দেওয়া হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালে আইআরজিসিকে ‘ফরেন টেররিস্ট অর্গানাইজেশন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। ওয়াশিংটনের ভাষ্য, ইরানের পররাষ্ট্রনীতিতে আইআরজিসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এর বিভিন্ন শাখা ও নেটওয়ার্কের কার্যক্রম মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা ও পুরস্কার কর্মসূচি ব্যবহার করে আসছে।
নতুন এই পুরস্কার ঘোষণা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই এলো। একই সময়ে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে। ফলে আইআরজিসির শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে এই পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী চাপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৫৩
নেপাল ও চীনের স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়াল। এখনো নিখোঁজ সাড়ে চার হাজার মানুষ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুই দেশের দেওয়া সর্বশেষ এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা বলেছে, তাদের দেশে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৯৮৭ জনে। অপরদিকে তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছিল চীন। এতে দুই দেশ মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩ জনে পৌঁছেছে।
৯৮৭টি মরদেহের পাশাপাশি অনেককে জীবিত উদ্ধার করেছে নেপাল। এতে করে দেশটিতে এখন নিখোঁজের সংখ্যা কমে ৩ হাজার ৯১৬ জনে পৌঁছেছে। অপরদিকে তিব্বতে নিখোঁজ আছেন ৫৪৬ জন।
ফলে দুই দেশে মোট নিখোঁজ আছেন ৪ হাজার ৪৬২ জন। ভয়াবহ ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সপ্তম দিনের উদ্ধার কাজ চলছে আজ। এখনো যেহেতু সাড়ে চার হাজার মানুষ নিখোঁজ আছেন, তাই নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি। যারা বিশ্বের ৩০টি দেশ থেকে হিমালয়ের দেশটিতে ঘুরতে এসেছিলেন। অপরদিকে চীনে ২৩ দেশের ২৬১ বিদেশি নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদীতে গত বুধবার আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটে। কিন্তু ওই পানির শক্তি এত বেশি ছিল যে বন্যায় নিহত মানুষের মরদেহ ভেসে কয়েকশ মাইল দূরে চলে এসেছে। পর্যাপ্ত ফ্রিজার না থাকায় মরদেহগুলো নিয়ে হিমশিম খাচ্ছিল নেপাল। তাই আপাতত ডিএনএ সংগ্রহ করে সেগুলো গণকবরে সমাহিত করা হচ্ছে। পরবর্তীতে পরিচয় শনাক্ত হলে কবর থেকে তুলে সেগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২১
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৩০
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:১৯
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৫৫