
২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:৪৪
১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই দেশের মাদক ব্যবহারকারীদের ৬০ শতাংশের বেশি প্রথমবার মাদক গ্রহণ করে। মাদক গ্রহণ শুরুর পেছনে বড় ভূমিকা রাখে বন্ধুদের প্রভাব। বর্তমানে দেশে মাদকসেবীর সংখ্যা প্রায় ৮২ লাখ। দেশে মাদক সমস্যা নিয়ে এক জাতীয় গবেষণায় এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অর্থায়নে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) ও রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট লিমিটেড।
গবেষণা মতে, এই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে আর সর্বনিম্ন বরিশাল বিভাগে। গবেষকরা জানান, তরুণদের পাশাপাশি কিশোরদের মধ্যেও মাদক ব্যবহারের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এই গবেষণায় সিগারেট সেবনকে মাদক ব্যবহার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
গতকাল রবিবার রাজধানীর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল বিএমইউর কনফারেন্স হলে ‘বাংলাদেশে মাদক অপব্যবহারকারী ব্যক্তিদের সংখ্যা, ধরন ও সংশ্লিষ্ট কারণগগুলো’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। গবেষণায় দেশের আট বিভাগের ১৩টি জেলা ও ২৬টি উপজেলা থেকে পাঁচ হাজার ২৮০ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এতে পরিমাণগত ও গুণগত উভয় পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৮২ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ। তাদের বড় একটি অংশ তরুণ বয়সী। গবেষণায় উঠে আসে, মাদক ব্যবহার এখন শুধু আইন-শৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিরোধের পাশাপাশি চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং সমাজে পুনঃ অন্তর্ভুক্তির ওপর সমান গুরুত্ব না দিলে এই সংকট আরো গভীর হবে। গবেষণার এই ফল এবং প্রস্তাবিত পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলো বাস্তবায়িত হলে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক মাদক নিয়ন্ত্রণ নীতি গ্রহণে সহায়ক হবে।
গবেষণাটির প্রধান গবেষক বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ডিন অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন, ‘দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদক হলো গাঁজা। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল ও কোডিনজাত কাশির সিরাপ।’
তিনি বলেন, ‘ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, যা এইচআইভি, হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিষয়টি এখন বড় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।’
গবেষণায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও গ্রামাঞ্চলেও এর বিস্তার দ্রুত বাড়ছে। বিভাগভিত্তিক হিসেবে ঢাকা বিভাগে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা সর্বাধিক এবং বরিশাল বিভাগে সর্বনিম্ন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা এবং বড় শহরের আশপাশের এলাকাগুলোতে মাদক ব্যবহার ও সরবরাহের ঝুঁকি বেশি বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণায় মাদক গ্রহণের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বন্ধুদের প্রভাব, কৌতূহল, পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক চাপ। অনেক ক্ষেত্রে কিশোররা সামাজিক পরিবেশ ও সঙ্গদোষে অল্প বয়সেই মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে বলে গবেষকরা জানান।
গবেষণায় আরো বলা হয়, মাদকাসক্তদের বড় একটি অংশ কখনোই চিকিৎসা বা পুনর্বাসন সেবা গ্রহণ করে না। যারা চিকিৎসা নেয়, তাদের অনেকেই ধারাবাহিক ও মানসম্মত সেবা পায় না। ফলে পুনরায় মাদক গ্রহণে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, মাদক সমস্যা শুধু আইন-শৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে দেখলে সমাধান আসবে না। এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতিরোধের পাশাপাশি চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং সমাজে পুনঃ অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে কিশোর ও তরুণদের লক্ষ করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা বিস্তারের লক্ষ্যে সরকার ঢাকার বাইরে আরো সাতটি বিভাগে ২০০ শয্যা করে সাতটি মাদকাসক্ত নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র চালুর প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফ।
তিনি বলেন, ‘দেশে মাদক ব্যবহার এখন আর বিচ্ছিন্ন কিছু মানুষের সমস্যা নয়, এটি একটি বিস্তৃত জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মাদকবিরোধী লড়াইকে একটি সামাজিক যুদ্ধ হিসেবে দেখতে হবে এবং পরিবার থেকেই এর প্রতিরোধ নিশ্চিত করতে হবে।’
ডিএনসি মহাপরিচালক বলেন, ‘শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। সমাজের সব স্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন, সবাইকে একসঙ্গে দায়িত্ব নিতে হবে। পরিবার থেকেই যদি প্রতিরোধ শুরু না হয়, তাহলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ একা কার্যকর হবে না।’
মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে হাসান মারুফ জানান, এই সংকট মোকাবেলায় ঢাকার বাইরে আরো সাতটি বিভাগে ২০০ শয্যা করে সাতটি মাদকাসক্ত নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে বর্তমান সরকার। এই কেন্দ্রগুলো চালু হলে বিভাগীয় পর্যায়ে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবার সুযোগ বাড়বে এবং মাদকাসক্তদের সমাজে পুনঃ অন্তর্ভুক্তির পথ সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলম বলেন, ‘মাদক প্রতিরোধে রাজনৈতিক কমিটমেন্ট এবং আরো গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।
এটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে, কিছুসংখ্যক খারাপ মানুষই শুধু মাদকাসক্ত এবং আমরা বা আমাদের সন্তানেরা নিরাপদ। প্রকৃতপক্ষে আমরা সবাই এবং আমাদের সন্তানরাও মাদকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে আছি। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠান নয়, সমাজের সব স্তরের মানুষকে সচেতন হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, ‘মাদক সমস্যার সমাধানে শুধু সরবরাহ বন্ধ করলেই হবে না, একই সঙ্গে চাহিদাও কমাতে হবে। বিশেষ করে শিশুরা ও তরুণরা জীবনকে ঠিকভাবে বুঝে ওঠার আগেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
সূত্র: কালের কণ্ঠ
১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই দেশের মাদক ব্যবহারকারীদের ৬০ শতাংশের বেশি প্রথমবার মাদক গ্রহণ করে। মাদক গ্রহণ শুরুর পেছনে বড় ভূমিকা রাখে বন্ধুদের প্রভাব। বর্তমানে দেশে মাদকসেবীর সংখ্যা প্রায় ৮২ লাখ। দেশে মাদক সমস্যা নিয়ে এক জাতীয় গবেষণায় এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অর্থায়নে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) ও রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট লিমিটেড।
গবেষণা মতে, এই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে আর সর্বনিম্ন বরিশাল বিভাগে। গবেষকরা জানান, তরুণদের পাশাপাশি কিশোরদের মধ্যেও মাদক ব্যবহারের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এই গবেষণায় সিগারেট সেবনকে মাদক ব্যবহার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
গতকাল রবিবার রাজধানীর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল বিএমইউর কনফারেন্স হলে ‘বাংলাদেশে মাদক অপব্যবহারকারী ব্যক্তিদের সংখ্যা, ধরন ও সংশ্লিষ্ট কারণগগুলো’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। গবেষণায় দেশের আট বিভাগের ১৩টি জেলা ও ২৬টি উপজেলা থেকে পাঁচ হাজার ২৮০ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এতে পরিমাণগত ও গুণগত উভয় পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৮২ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ। তাদের বড় একটি অংশ তরুণ বয়সী। গবেষণায় উঠে আসে, মাদক ব্যবহার এখন শুধু আইন-শৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিরোধের পাশাপাশি চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং সমাজে পুনঃ অন্তর্ভুক্তির ওপর সমান গুরুত্ব না দিলে এই সংকট আরো গভীর হবে। গবেষণার এই ফল এবং প্রস্তাবিত পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলো বাস্তবায়িত হলে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক মাদক নিয়ন্ত্রণ নীতি গ্রহণে সহায়ক হবে।
গবেষণাটির প্রধান গবেষক বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ডিন অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন, ‘দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদক হলো গাঁজা। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল ও কোডিনজাত কাশির সিরাপ।’
তিনি বলেন, ‘ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, যা এইচআইভি, হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিষয়টি এখন বড় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।’
গবেষণায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও গ্রামাঞ্চলেও এর বিস্তার দ্রুত বাড়ছে। বিভাগভিত্তিক হিসেবে ঢাকা বিভাগে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা সর্বাধিক এবং বরিশাল বিভাগে সর্বনিম্ন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা এবং বড় শহরের আশপাশের এলাকাগুলোতে মাদক ব্যবহার ও সরবরাহের ঝুঁকি বেশি বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণায় মাদক গ্রহণের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বন্ধুদের প্রভাব, কৌতূহল, পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক চাপ। অনেক ক্ষেত্রে কিশোররা সামাজিক পরিবেশ ও সঙ্গদোষে অল্প বয়সেই মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে বলে গবেষকরা জানান।
গবেষণায় আরো বলা হয়, মাদকাসক্তদের বড় একটি অংশ কখনোই চিকিৎসা বা পুনর্বাসন সেবা গ্রহণ করে না। যারা চিকিৎসা নেয়, তাদের অনেকেই ধারাবাহিক ও মানসম্মত সেবা পায় না। ফলে পুনরায় মাদক গ্রহণে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, মাদক সমস্যা শুধু আইন-শৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে দেখলে সমাধান আসবে না। এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতিরোধের পাশাপাশি চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং সমাজে পুনঃ অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে কিশোর ও তরুণদের লক্ষ করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা বিস্তারের লক্ষ্যে সরকার ঢাকার বাইরে আরো সাতটি বিভাগে ২০০ শয্যা করে সাতটি মাদকাসক্ত নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র চালুর প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফ।
তিনি বলেন, ‘দেশে মাদক ব্যবহার এখন আর বিচ্ছিন্ন কিছু মানুষের সমস্যা নয়, এটি একটি বিস্তৃত জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মাদকবিরোধী লড়াইকে একটি সামাজিক যুদ্ধ হিসেবে দেখতে হবে এবং পরিবার থেকেই এর প্রতিরোধ নিশ্চিত করতে হবে।’
ডিএনসি মহাপরিচালক বলেন, ‘শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। সমাজের সব স্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন, সবাইকে একসঙ্গে দায়িত্ব নিতে হবে। পরিবার থেকেই যদি প্রতিরোধ শুরু না হয়, তাহলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ একা কার্যকর হবে না।’
মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে হাসান মারুফ জানান, এই সংকট মোকাবেলায় ঢাকার বাইরে আরো সাতটি বিভাগে ২০০ শয্যা করে সাতটি মাদকাসক্ত নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে বর্তমান সরকার। এই কেন্দ্রগুলো চালু হলে বিভাগীয় পর্যায়ে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবার সুযোগ বাড়বে এবং মাদকাসক্তদের সমাজে পুনঃ অন্তর্ভুক্তির পথ সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলম বলেন, ‘মাদক প্রতিরোধে রাজনৈতিক কমিটমেন্ট এবং আরো গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।
এটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে, কিছুসংখ্যক খারাপ মানুষই শুধু মাদকাসক্ত এবং আমরা বা আমাদের সন্তানেরা নিরাপদ। প্রকৃতপক্ষে আমরা সবাই এবং আমাদের সন্তানরাও মাদকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে আছি। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠান নয়, সমাজের সব স্তরের মানুষকে সচেতন হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, ‘মাদক সমস্যার সমাধানে শুধু সরবরাহ বন্ধ করলেই হবে না, একই সঙ্গে চাহিদাও কমাতে হবে। বিশেষ করে শিশুরা ও তরুণরা জীবনকে ঠিকভাবে বুঝে ওঠার আগেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
সূত্র: কালের কণ্ঠ

১৭ জুন, ২০২৬ ১৩:২৪
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বরিশালে মশাল মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মিছিলে অংশ নেয়ার সবার মুখ ঢাকা ছিল।
দাবি করা হচ্ছে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর বর্ধিত এলাকা ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের টিয়াখালী সড়কে এই মশাল মিছিল বের করা হয়।
এমন একটি মিছিলের ১ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ এসেছে প্রতিবেদকের হাতে। ভিডিওতে দেখা যায় মিছিলে অংশ নেয়া অনেকের মুখে মাস্কপড়া। কারও মুখ খোলা। তারা মশাল হাতে আওয়ামী লীগের স্লোগান দিচ্ছেন।
তবে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মশাল মিছিলের এমন কোন খবর জানা নেই বলে দাবি করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আল মামুন উল ইসলাম।
টিয়াখালী এলাকায় খোঁজ নিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানাগেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের সময় হঠাৎ করে কয়েকজন লোক মশাল মিছিল বের করে। মিছিল থেকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর নাম নিয়ে স্লোগান দিতে শোনা যায়। মিছিলটি স্থায়ীত্ব ১০-১৫ মিনিট ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব হোসেন খানের অনুসারীরা মশাল মিছিলটি বের করে। মিছিল থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন অংশগ্রহণকারীরা।
বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আল মামুন উল ইসলাম জানিয়েছেন, বরিশাল নগরীতে নিষিদ্ধ সংগঠনের মশাল মিছিল হয়েছে এমন কোন খবর জানা নেই। এখন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও পুরানো কিনা সেটা বুঝতে পারছি না। বিষয়টি খোঁজ-খবর নিয়ে দেখবেন বলে তিনি।

১৭ জুন, ২০২৬ ১২:৫৭

১৭ জুন, ২০২৬ ১১:২৯
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল নেতাসহ দুই ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চারজনের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রমের নতুন ধাপ শুরু হচ্ছে আজ।
বুধবার (১৭ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, বিচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রথমে মামলার ওপেনিং স্টেটমেন্ট বা সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হবে। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শুরুর মধ্য দিয়েই মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারিক ধাপে অগ্রসর হবে।
মামলার চার আসামির মধ্যে বর্তমানে গ্রেফতার রয়েছেন উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও এএসআই জসিম উদ্দিন। অপরদিকে পলাতক রয়েছেন বরিশাল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এহসান উল্লাহ।
এর আগে গত ২০ মে ট্রাইব্যুনাল চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একইসঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৭ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়।
মামলার ভুক্তভোগী দুজন হলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং উপজেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা ছিলেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। তাদের সরিয়ে দিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তৎকালীন পুলিশ সুপার এহসান উল্লাহকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি টিপু ও কবিরকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপতার করে পুলিশ। এরপর আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের পাশে গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কে কথিত ‘ক্রসফায়ারের’ ঘটনা সাজিয়ে তাদের হত্যা করা হয়।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বরিশালে মশাল মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মিছিলে অংশ নেয়ার সবার মুখ ঢাকা ছিল।
দাবি করা হচ্ছে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর বর্ধিত এলাকা ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের টিয়াখালী সড়কে এই মশাল মিছিল বের করা হয়।
এমন একটি মিছিলের ১ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ এসেছে প্রতিবেদকের হাতে। ভিডিওতে দেখা যায় মিছিলে অংশ নেয়া অনেকের মুখে মাস্কপড়া। কারও মুখ খোলা। তারা মশাল হাতে আওয়ামী লীগের স্লোগান দিচ্ছেন।
তবে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মশাল মিছিলের এমন কোন খবর জানা নেই বলে দাবি করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আল মামুন উল ইসলাম।
টিয়াখালী এলাকায় খোঁজ নিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানাগেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের সময় হঠাৎ করে কয়েকজন লোক মশাল মিছিল বের করে। মিছিল থেকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর নাম নিয়ে স্লোগান দিতে শোনা যায়। মিছিলটি স্থায়ীত্ব ১০-১৫ মিনিট ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব হোসেন খানের অনুসারীরা মশাল মিছিলটি বের করে। মিছিল থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন অংশগ্রহণকারীরা।
বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আল মামুন উল ইসলাম জানিয়েছেন, বরিশাল নগরীতে নিষিদ্ধ সংগঠনের মশাল মিছিল হয়েছে এমন কোন খবর জানা নেই। এখন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও পুরানো কিনা সেটা বুঝতে পারছি না। বিষয়টি খোঁজ-খবর নিয়ে দেখবেন বলে তিনি।
বরিশালসহ সারাদেশে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে দেশের ১৩ জেলার উপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বইছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমানের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া মানিকগঞ্জ, নীলফামারী ও রাজশাহী জেলাসহ খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজস্রহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজস্রহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
শনিবার (২০ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্র্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজস্রহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
রোববার (২১ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজস্রহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বরিশাল টাইমস
বরিশালসহ সারাদেশে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে দেশের ১৩ জেলার উপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বইছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমানের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া মানিকগঞ্জ, নীলফামারী ও রাজশাহী জেলাসহ খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজস্রহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজস্রহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
শনিবার (২০ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্র্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজস্রহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
রোববার (২১ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজস্রহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বরিশাল টাইমস
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল নেতাসহ দুই ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চারজনের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রমের নতুন ধাপ শুরু হচ্ছে আজ।
বুধবার (১৭ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, বিচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রথমে মামলার ওপেনিং স্টেটমেন্ট বা সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হবে। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শুরুর মধ্য দিয়েই মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারিক ধাপে অগ্রসর হবে।
মামলার চার আসামির মধ্যে বর্তমানে গ্রেফতার রয়েছেন উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও এএসআই জসিম উদ্দিন। অপরদিকে পলাতক রয়েছেন বরিশাল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এহসান উল্লাহ।
এর আগে গত ২০ মে ট্রাইব্যুনাল চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একইসঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৭ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়।
মামলার ভুক্তভোগী দুজন হলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং উপজেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা ছিলেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। তাদের সরিয়ে দিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তৎকালীন পুলিশ সুপার এহসান উল্লাহকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি টিপু ও কবিরকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপতার করে পুলিশ। এরপর আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের পাশে গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কে কথিত ‘ক্রসফায়ারের’ ঘটনা সাজিয়ে তাদের হত্যা করা হয়।
১৭ জুন, ২০২৬ ১৩:৪১
১৭ জুন, ২০২৬ ১৩:২৪
১৭ জুন, ২০২৬ ১৩:০২
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:৫৭